Wednesday, February 1, 2023

31.01.2023 BANGLA MURLI

                                                   31.01.2023 BANGLA MURLI



"মিষ্টি বাচ্চারা - তোমরা হলে মহান ভাগ্যশালী বাচ্চা, কারণ তোমাদের সম্মুখে স্বয়ং বাবা বসে আছেন, উঁনি তোমাদেরকে শোনাচ্ছেন"

প্রশ্নঃ - ভক্তি মার্গের কোন্ সংস্কার বাচ্চারা এখন তোমাদের মধ্যে থাকতে পারে না, কেন?

উত্তরঃ -ভক্তি মার্গে যে দেবী অথবা দেবতার কাছে যাবে তার থেকে কিছু না কিছু চাইতেই থাকো। কারোর কাছে ধন চাইবে, কারোর কাছে পুত্র চাইবে। এই চাওয়ার সংস্কার এখন বাচ্চারা তোমাদের সংস্কারে থাকতে পারে না। কারণ বাবা সঙ্গমে তোমাদেরকে কামধেনু বানিয়েছেন। তোমরা বাবার সমান সকলের মনস্কামনা পূর্ণ করো। তোমরা নিজের প্রতি কোনো আশা রাখতে পারো না। তোমরা জানো যে ফল প্রদানকারী হলেন এক দাতা বাবা-ই, যাকে স্মরণ করার ফলে সকল প্রাপ্তি সম্পূর্ণ হয়ে যায়, সেইজন্য চাওয়ার সংস্কার সমাপ্ত হয়ে যায়।

গীতঃ- ওম্ নমঃ শিবায়....


ওম্ শান্তি । ভগবানুবাচ । এখন ভালোভাবে বুঝে তারপর বোঝানোর জন্য এক গীতা শাস্ত্রই আছে। শাস্ত্র তো বানিয়েছে মানুষ। কিন্তু রাজযোগ মানুষ শেখায় না। বাবা বলেন আমি ৫ হাজার বছর পূর্বেও তোমাদের অর্থাৎ ভারতবাসী হারানিধি বাচ্চাদেরকে রাজযোগ শিখিয়েছিলাম। হারানিধির অর্থ তো বুঝিয়েছি যে তোমরাই সম্পূর্ণ ৮৪ জন্ম নিয়ে আবার এসে মিলিত হয়েছো। ৫ হাজার বছর পূর্বে তোমরা মিলিত হয়েছিলে আর তোমরা এসে ব্রহ্মা মুখ বংশাবলী অর্থাৎ ব্রাহ্মণ ব্রাহ্মণী হয়েছিলে। বাবা ডাইরেক্ট বলেন। ওই গীতা পাঠী ইত্যাদিরা এই কথা বলবে না। বাবা ডাইরেক্ট বুঝিয়ে গিয়েছিলেন তারপর ভক্তি মার্গ থেকে শাস্ত্র বানাতে শুরু করে। এখন ড্রামা সম্পূর্ণ হয়েছে। তারপর বাবা এসেছেন এ কথা বাচ্চাদেরকে বলেন। কোন্ বাচ্চাদের? বলেন বিশেষতঃ তোমাদের আর সাধারণ ভাবে সমগ্র দুনিয়াকে। এখন তোমরা সম্মুখে রয়েছো। বাবা বসে তোমাদেরকে নিজের পরিচয় দিয়েছেন। এই রাজযোগ তোমাদের আর কেউ শেখাতে পারবে না। বাবা-ই প্রথমে যোগ শিখিয়েছিলেন, এখন আবার শেখাচ্ছেন যার দ্বারা তোমরা আবারও রাজাদের রাজা হবে আর কেউই স্বর্গের মালিক বানাতে পারবে না। আমি তোমাদের বাবা এসেছি আবারও তোমাদের রাজযোগ শেখাতে। আচ্ছা এখন বাবা তোমাদের কল্পবৃক্ষের উপরে বোঝাছেন। এটা ব্যাখা করাও অনেক আবশ্যক। একে কল্প-বৃক্ষ বলা হয়। বাবা বলেন এই মনুষ্য সৃষ্টি রূপী বৃক্ষ হল কল্প বৃক্ষ। ওই গীতা শোনান যারা তারা বলে যে ভগবান এটা বলেছিলেন আর তোমরা বলবে ভগবান এটা বলছেন। এ হল মনুষ্য সৃষ্টির রূপী বৃক্ষ। এতে কোনো সবজি, ফল, আম ইত্যাদি থাকে না। ঐ সবজি, ফলের যে বৃক্ষ হয় তার বীজ থাকে নীচে, বৃক্ষ হয় উপরে। এর বীজ উপরে আর বৃক্ষ নীচে হয়। মানুষ বলেও থাকে যে ঈশ্বর আমাদেরকে জন্ম দিয়েছেন অর্থাৎ বাবা সন্তান দিয়েছেন। বাবা ধন সম্পদ দিয়েছেন। বাবা আপনি আমাদের সকল দুঃখ দূর করুন। বাবা, বাবা বলতেই থাকে। লক্ষ্মী-নারায়ণের সম্মুখে গিয়ে ওনাদের থেকেও চাইতে থাকে, মহালক্ষ্মী আমাকে ধন-সম্পদ দাও। এই সকল কিছুই হল চাওয়ার সংস্কার। জগৎ অম্বার থেকে কেউ পুত্র চাইবে তো কেউ বলবে আমাদের অসুখ দূর করো। লক্ষ্মীর সামনে এরূপ আশা রাখবে না, ওনার থেকে কেবল ধন সম্পদ চাইতে থাকে। এটা তো তোমরা জানো - জগৎ অম্বা-ই হলেন লক্ষ্মী, তাই আবারও ৮৪ জন্মের চক্র আবর্তিত করে আবার জগৎ অম্বা হন। বৃক্ষের চিত্রে দেখো জগৎ অম্বা বসে আছেন। তিনি আবার মহারানী হবেন অবশ্যই, তোমরা বাচ্চারাও রাজধানীতে আসবে। তোমরা কল্প বৃক্ষের নীচে বসে আছো। সঙ্গমে ফাউন্ডেশন তৈরি করছো। তোমরা কামধেনুর বাচ্চারা সকলের মনস্কামনা পূর্ণ করছো। তোমরা হলে ভারত মাতার শক্তি সেনা, এতে পান্ডবরাও আছে।

বাচ্চাদের বোঝানো হয়েছে যে স্মরণ এক বাবাকেই করতে হবে। দাতা হলেন এক বাবা-ই। যদি তোমরা কারোর ভক্তিও করো বা কাউকে স্মরণ করো কিন্তু ফল প্রদানকারী হলেন এক দাতাই। তিনিই সবকিছু প্রদান করেন। ভক্তিমার্গে তোমরা শ্রী নারায়ণের, শ্রীকৃষ্ণের পূজা করো, কৃষ্ণকে দোলায় দোলাতে থাকো, ভালোও বাসো। ওনার থেকে তোমরা কি চাইবে। তোমরা চাও আমরা ওনার রাজধানীতে যাবো অথবা আমাদের শ্রীকৃষ্ণের মতো সন্তান যেন হয় । গায়নও করে ভজো রাধে গোবিন্দ চলো বৃন্দাবন। যেখানে রাজ্য ভাগ্য প্রাপ্ত করেছিলে, বৈকুন্ঠে। সে সময়ে কোনো অপ্রাপ্তি ছিল না। শ্রীকৃষ্ণের রাজ্যকে অনেক স্মরণ করে।ভারতে যখন শ্রীকৃষ্ণের রাজ্য ছিল তখন আর অন্য কোনো রাজ্য ছিল না। এখন বাবা এসেছেন, বলেন চলো কৃষ্ণপুরীতে, গিয়ে শ্রীকৃষ্ণের পত্নী হও অথবা রাধার স্বামী হও। বিষয়টি হল একই। ওখানে বিষ পাওয়া যায় না। ওখানে হলই সম্পূর্ণ নির্বিকারী দুনিয়া। এখন তোমরা হলে স্টুডেন্ট, পঠন-পাঠন করছো নর থেকে নারায়ণ, বেগার থেকে প্রিন্স হওয়ার জন্য। যদি এখানে কেউ কোটিপতি হয়, ৫০ কোটি থাকে, কিন্তু তোমাদের সামনে ওরা হল গরীব। কারণ ওদের এইসব ধন-সম্পত্তি মাটিতে মিশে যাবে। কিছুই সাথে যাবে না। খালি হাতে যাবে। তোমরা তো হাত ভর্তি করে যাও ২১ জন্মের জন্য। এখন তোমরা রাজযোগ শিখছো। তারপর সত্যযুগে গিয়ে রাজত্ব করবে। তোমরা পুনর্জন্ম নিয়ে বর্ণ গুলির মধ্যে আসতে থাকো। সত্যযুগে ১৬ কলা, ত্রেতাতে ১৪ কলা। এরপর ভক্তি মার্গ শুরু হয়, তখন ইব্রাহিম, বুদ্ধি আসতে থাকে। খ্রাইস্টের ৩ হাজার বছর আগে দেবী-দেবতাদের রাজত্ব ছিল। এখন সম্পূর্ণ বৃক্ষ জরাজীর্ণ অবস্থা প্রাপ্ত করেছে। এখন তোমরা কল্পবৃক্ষের নীচে বসে আছো। একে বলা হয় কল্পের সঙ্গম বা কলিযুগ আর সত্যযুগের সঙ্গম। সত্যযুগের পরে ত্রেতা, তারপর ত্রেতার পরে দ্বাপর আর কলিযুগে সঙ্গম। কলিযুগের পরে আবার সত্যযুগ অবশ্যই আসবে। মাঝে সঙ্গম অবশ্যই চাই। কল্পের সঙ্গমযুগে বলে বা আসেন। তারা কল্প শব্দটিকে বদলে দিয়ে যুগে-যুগে লিখে দিয়েছে। বাবা বলেন আমি নিরাকার পরমপিতা পরমাত্মা হলাম জ্ঞানের সাগর । ভারতেই শিব জয়ন্তীর এত খ্যাতি। শ্রীকৃষ্ণ তো জ্ঞান প্রদান করতে পারে না। তোমার বলো আমরা স্বর্গে শ্রীকৃষ্ণের সাথে মিলিত হবো। বাবা বলেন, ভক্তি মার্গে শ্রীকৃষ্ণের সাক্ষাৎকার আমি তোমাদেরকে করাই। কৃষ্ণ জয়ন্তীতে অত্যন্ত ভালবাসার সাথে তাকে দোলনায় দোলনায়, পূজা করে থাকে । তারা যেন সত্যি সত্যি শ্রীকৃষ্ণকে দেখে। সাক্ষাৎকার হবে, কৃষ্ণের চিত্র থাকলে সেটাকে বুকে টেনে নেবে। ভক্তিমার্গেও আমি (ভক্তদেরকে) সহায়তা করি। আমি হলাম দাতা। লক্ষ্মীর পূজা করে, সেটা তো হলো পাথরের মূর্তি। পাথরের মূর্তি কি দেবে? দিতে তো সেই আমাকেই হবে। সাক্ষাৎকারও আমিই করাই। ও ড্রামাতে নির্ধারিত রয়েছে। যেমন বলা হয়ে থাকে যে, পরমপিতা পরমাত্মার আদেশে প্রতিটি পাতা নড়ে, কেননা তারা মনে করে যে প্রতিটি পাতায় পাতায় ভগবান রয়েছেন। ভগবান কি প্রতিটি পাতায় পাতায় বসে হুকুম করবেন? এ তো হলো একটা রচিত হওয়া ড্রামা। এখন তোমরা যেমন অ্যাক্ট করছো, সেই রকমই পরের কল্পেও করবে। যা কিছু শ্যুটিং শ্যূট হয়েছে সেটাই চলবে। হাতে এতটুকুও এদিক ওদিক হওয়ার নয়। ড্রামা কেও খুব ভালো ভাবে বুঝতে হবে। বাবা বোঝান যে, অসীম সুখ কল্প কল্প ধরে ভারত পেয়ে আসছে। কিন্তু যরা ব্রাহ্মণ হবে তারাই বর্ণের আসবে। ৮৪ জন্ম নিয়ে থাকে। তারপর অন্যদের জন্ম পরপর ক্রমান্বয়ে হতে থাকে। কতো ছোট ছোট মঠ পথ পন্থা রয়েছে। তাদেরও হয়ত মহিমা রয়েছে, কারণ তারা পবিত্র থাকে। স্বর্গের রচয়িতা তো হলেন বাবাই, আর অন্য কোনো মানুষ স্বর্গ রচনা করবে নাকি! আর তারপর রাজযোগই বা কে শেখাবে?

এখন তোমরা শ্রীকৃষ্ণপুরীতে যাওয়ার জন্য তোমরা রাজযোগ শিখছো। পুরুষার্থ সব সময় লক্ষ্যকে উঁচু রেখে করা উচিত। তোমরা বলে থাকো যে, শ্রীকৃষ্ণের মতো যেন সন্তান হয়, শ্রীকৃষ্ণের মতো যেন পতি হয়। শ্রীকৃষ্ণই নারায়ণ হয়, তারপর শ্রীকৃষ্ণের মতো কেন বলে? তোমাদের তো বলা উচিত নারায়ণের মতো যেন পতি হয়। নারদও বলেছিল যে আমি লক্ষ্মীকে বরণ করবো। রাধার কথা তো বলে না। বাবা বোঝান যে, তোমাদেরকে কৃষ্ণপুরীতে যেতে হবে। তাই খুব পুরুষার্থ করো। সেটা হলো শ্রীকৃষ্ণের দৈবী কুল। কংসের হলো আসুরিক কুল। তোমরা এখন হলে সঙ্গমে। শূদ্র সম্প্রদায়কে তো ব্রাহ্মণ ব্রাহ্মণী বলা যাবে না। যাদেরকে ব্রাহ্মণ বলা যাবে না তারা হলো শূদ্র বর্ণের। এ'সব হলো ভারতের কথা। ভারতই স্বর্গ হয় তারপর ভারতই নরকে পরিণত হয়। লক্ষ্মী-নারায়ণকেও ৮৪ জন্ম নিয়ে রজঃ তমঃ-তে আসতেই হবে। যখন কিনা তাদেরকেও চক্রে আসতে হয় তাহলে বুদ্ধ ইত্যাদিরা কীভাবে নির্বাণধামে ফিরে যেতে পারে? কেউ কেউ তো বলে দেয় যে, কৃষ্ণ হলো সর্বব্যাপী, যে দিকেই তাকাই কৃষ্ণই কৃষ্ণ। রামের ভক্ত বলবে রাম সর্বব্যাপী। তারা কৃষ্ণকে মানবে না। বাবার কাছে একজন রাধাপন্থী আসতেন। বলতেন - রাধেই রাধে... রাধে সর্বত্র বিরাজমান (হাজিরাহুজুর)। তোমার মধ্যে আমার মধ্যে রাধাই রাধা। গণেশ এর পূজারী বলবে তোমার মধ্যে আমার মধ্যে গণেশই গণেশ রয়েছে । খ্রীষ্টানরা আবার বলবে খ্রাইস্ট হলেন গড অফ সন। আরে খ্রাইস্ট নিজেই যখন সন ছিলেন তাহলে তোমরা কার সন? অনেক রকমের মত মতান্তর। কেউই তার ফলে রাস্তা খুঁজে পায় না। কেবল মাথা ছোঁয়াতে থাকে, বিভ্রান্ত হয়ে ঘুরতে থাকে। মুক্তি আর জীবনমুক্তি ভগবানই তো দেবেন তাই না? তাদের (অন্যদের) থেকে আমরা কী চাইব? কারোরই তা জানা নেই। বাবাকে না জানার কারণে নির্ধন (অনাথ) হয়ে গেছে। তারপর ধনী (পিতা) এসে তাঁর বানান। মানুষ কত ধাক্কা খেতে থাকে। মনে করে ভক্তির দ্বারা ভগবানকে পাওয়া যাবে। বাবা বলেন, আমি আসি নিজের সময় মতো। তা সে যে যতই ডাকুক না কেন, আমি আসিই সঙ্গমে। একবারই ভারতকে স্বর্গ বানিয়ে সবাইকে শান্তিতে পাঠিয়ে দিই। তারপর নম্বর ক্রমান্বয়ে নিজের নিজের সময় মতো আসতে থাকে। যারা দেবী-দেবতা ছিল, সেই সব আত্মারাই বসে আছে, পুনরায় তারা রাজ্য ভাগ্য নিচ্ছে। এখন তো দেবী-দেবতা ধর্ম নেই। সবাই নিজেদেরকে হিন্দু বলতে শুরু করে দিয়েছে। ড্রামা অনুসারে এই রকমই হওয়ার। যা কিছু হয়ে গেছে সে'সবই আবার রিপিট হবে। তারপর এই রকম ভাবে আমরা চক্রে আসবো, এতগুলো জন্ম নেবো। হিসাব করো। কোন্ ধর্মের লোকেরা কত জন্ম নেবে? কল্প বৃক্ষের উপরে বোঝানো খুব সহজ। আপনিই মানুষের মনে টাচ্ হবে যে, কারো প্রেরণাতেই এই বিনাশ অগ্নি প্রজ্বলনের জন্য প্রস্তুতি হচ্ছে। ইউরোপবাসী যাদব বম্বস্ বানাতে থাকে। তারাও বলে আমাদেরকে কোথাও কেউ একটা প্রেরণা দিচ্ছে যেন। আমরা জানি যে, এর দ্বারা আমরা আমাদেরই কুলের বিনাশ করবো। তা না চাইলেও মৃত্যুর সরঞ্জাম তারা বানিয়ে চলেছে। ধীরে-ধীরে প্রভাব পড়বে। ধীরে-ধীরে গাছ বড় হতে থাকে না? কেউ আবার কাঁটার থেকে কলি, কেউ আবার ফুল হয়ে ওঠে। কোনো কোনো ফুলও আবার ঝড় ঝাপটার কবলে পড়ে, তখন নুইয়ে পড়ে। বাবা বলেন প্রত্যেক কল্পেই এই রকমই আশ্চর্যবৎ শান্তি, কান্তি...। এখন বাবা স্বয়ং বলছেন, আমার কাছে আসন্তি, ব্রহ্মাকুমারী বনন্তি, কথন্তি আর তারপর অহো মম মায়া... ভালো ভালো বাচ্চাদেরকে খেয়ে ফেলন্তি। যত দিন যাবে দেখবে কীভাবে ভালো ভালো বাচ্চারা শেষ হয়ে যায় ।

বাবা বোঝাচ্ছেন যে, যা পাস্ট হয়ে গেছে সেটাই এখন প্রজেন্ট । তারপর ভক্তিমার্গে শাস্ত্র বানাবে। এই ড্রামা এই রকমই বানানো হয়েছে। এখন বাবা এসে ব্রহ্মার দ্বারা সকল বেদ শাস্ত্রের সার বোঝাচ্ছেন। যে ধর্ম স্থাপন করে তার নামেই শাস্ত্র বানানো হয়। তাকে ধর্মশাস্ত্র বলা হয়। দেবী-দেবতা ধর্মের শাস্ত্র হলো একমাত্র গীতা। প্রত্যেক ধর্মের একটি শাস্ত্র থাকা উচিত। শ্রীমৎ ভাগবত গীতা সেই অর্থে একেবারে ঠিক। ভগবানুবাচ (ভগবানের উক্তি বা বাণী) এটি। ভগবান আদি সনাতন দেবী-দেবতা ধর্ম স্থাপন করেন। এটা হলো সবথেকে প্রাচীন ধর্ম। প্রত্যেক ধর্মের নিজের নিজের শাস্ত্র রয়েছে আর তারা তা পড়েও থাকে । এখন তোমরা দেবতা হতে এসেছো, কিন্তু তোমাদের শাস্ত্র পড়ার দরকার নেই, সেখানে (সত্যযুগে) শাস্ত্র থাকে না। এই সব কিছু শেষ হয়ে যাবে। তাহলে গীতা কোথা এলো? দ্বাপরে বসে বসে মানুষ রচনা করেছে। যে গীতা এখন আছে সেই গীতা আবার খোঁজ করে বের করা হবে। যেমন কল্প পূর্বে বানানো হয়েছিল, সেই রকমই এই শাস্ত্র তৈরী হবে। ভক্তিমার্গের সব সামগ্রী তৈরী হতে থাকবে।

বাবা বোঝান যে, আমার হারানিধি বাচ্চারা আমি তোমাদের পিতা, আমার শ্রীমৎ অনুসারে চলে শ্রেষ্ঠ হয়ে ওঠো। তোমরা এখন সঙ্গমযুগে রাজযোগ শিখছো, যার দ্বারা কলিযুগকে সত্যযুগ বানাতে হবে। তারা তো কল্পের আয় অনেক লম্বা বানিয়ে ঘোর অন্ধকারে ফেলে দিয়েছে। মানুষ তার ফলে বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছে। ড্রামা অনুসারে বাচ্চারা তোমাদেরকেই অসীম জগতের বাবার কাছ থেকে অবিনাশী উত্তরাধিকার নিতে হবে। বাবা অনেক যুক্তি বলে দিয়েছেন, কেবল বাবাকে স্মরণ করো, চার্ট রাখো। খাবার প্রস্তুত করার সময়ও স্মরণে থাকো। রান্না করার সময় স্বামী বা সন্তানের কথা যদি মনে পড়ে, তাহলে বাবার স্মরণ হতে পারবে না! এ হলো তোমাদের কাজ। বাবা বুদ্ধির সিঁড়ি দেন, তারপর তুমি চড়ো বা না চড়াও, এ হলো তোমার কর্ম। যত স্মরণ করবে ততই সিঁড়ি চড়ে থাকবে। নাহলে তো এত সুখ পাবে না। আচ্ছা!

মিষ্টি মিষ্টি হারানিধি অর্থাৎ ৫ হাজার বছর পরে আবার এসে মিলিত হওয়া বাচ্চাদেরকে নম্বর ক্রমানুসারে পুরুষার্থ অনুসারে মাতা-পিতা বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর নমস্কার । মিষ্টি মিষ্টি আত্মাদের পিতার আত্মা রূপী বাচ্চাদেরকে নমস্কার।

*ধারণার জন্যে মুখ্য সারঃ-*

১ ) কৃষ্ণপুরীতে যাওয়ার জন্য খুব ভালো পুরুষার্থ করতে হবে। শূদ্রত্বের সংস্কার গুলিকে পরিবর্তন করে পাক্কা ব্রাহ্মণ হতে হবে।

২ ) বুদ্ধিবলের দ্বারা স্মরণের সিঁড়িতে চড়ে হবে। সিঁড়ি চড়লেই অপার সুখের অনুভব হবে ।

বরদানঃ-* অ্যাটেনশন আর চেকিং এর বিধির দ্বারা ব্যর্থের খাতাকে সমাপ্তকারী মাস্টার সর্বশক্তিমান ভব

ব্রাহ্মণ জীবনে ব্যর্থ সংকল্প, ব্যর্থ বোল, ব্যর্থ কর্ম অনেক সময়কে ব্যর্থ নষ্ট করে দেয়। যতখানি উপার্জন করতে চাও, করতে পারো না। ব্যর্থের খাতা সমর্থ বানাতে দেয় না। সেইজন্য সর্বদা এই স্মৃতিতেa থাকো যে, আমি হলাম মাস্টার সর্বশক্তিমান । শক্তি যদি থাকে তবে যে কর্ম করতে চাও করতে পারো। কেবল বারে বারে অ্যাটেনশন দাও। যেমন ক্লাসের সময় বা অমৃতবেলার স্মরণের সময় অ্যাটেনশন দিয়ে থাকো, সেই রকমই মাঝে মাঝে অ্যাটেনশন আর চেকিং এর বিধিকে গ্রহণ করে নাও, তাহলে ব্যর্থের খাতা সমাপ্ত হয়ে যাবে।

*স্লোগানঃ-* রাজঋষি হতে হলে তবে ব্রাহ্মণ আত্মাদের আশীর্বাদের দ্বারা নিজের স্থিতিকে নির্বিঘ্ন বানাও।

No comments:

https://bkrajyogpathshala.blogspot.com/

01-04-2026 Bengali Murli

 মিষ্টি বাচ্চারা - বাচ্চারা, বাবা যা, বাবা ঠিক যেমন, তোমরা বাচ্চারাও তাঁকে নম্বর ক্রমানুসারেই চিনেছো, যদি সকলেই তাঁকে চিনে গেলে তবে তো অত্যন...