02.02.2023 BANGLA MURLI
“মিষ্টি বাচ্চারা - এক ঈশ্বরের মত-ই হল শ্রেষ্ঠ মত, যে মত
অনুসারে চললেই তোমরা সত্যিকারের সোনা হতে পারবে, এটা ছাড়া বাকি সব মত মিথ্যা বানিয়ে
দেয়”
*প্রশ্নঃ - কোন্
পার্ট এক জ্ঞান সাগর বাবার মধ্যেই ভরা আছে, যেটা কোনও মনুষ্যাত্মার মধ্যে নেই?
*উত্তরঃ - বাবা বলছেন
- আমি আত্মার মধ্যে ভক্তদেরকে দেখাশোনা করার, সবাইকে সুখ দেওয়ার পার্ট ভরা আছে। আমি
জ্ঞান সাগর বাবা সকল বাচ্চাদের উপর অবিনাশী জ্ঞানের বর্ষণ করি, যে জ্ঞান রত্নের কেউ
মূল্য দিতে পারবে না। আমি হলাম মুক্তিদাতা, আত্মিক পান্ডা হয়ে আত্মারা তোমাদেরকে পুনরায়
শান্তিধামে নিয়ে যাই। এই সব হল আমার পার্ট। আমি কাউকে দুঃখ দিই না, এইজন্য সবাই আমাকে
চোখের পালকের উপরে রাখে। রাবণ শত্রু দুঃখ দেয়, এইজন্য তার কুশপুতুল পোড়ানো হয়।
*গীতঃ- যে পিয়ার
সাথে আছে...
ওম্ শান্তি । বাবা ওম্ শব্দের অর্থ তো বাচ্চাদেরকে বুঝিয়ে
দিয়েছেন। ওম্ অর্থাৎ অহম্ আত্মা। ব্যস্, অর্থই এতটাই ছোটো। এমন নয় যে - আই অ্যাম্ গড।
পন্ডিতের কাছে জিজ্ঞাসা করবে যে - ওম্ এর অর্থ কি? তো সে অনেক লম্বা চওড়া ভাষণ দিয়ে
দেবে আর যথার্থও শোনাবে না। যথার্থ আর অযথার্থ, সত্য আর মিথ্যা। সত্য তো হলেনই এক বাবা।
তাছাড়া এই সময় হলই তো অসত্যতার রাজ্য। রামরাজ্যকেই সত্যতার রাজ্য বলা হবে। রাবণ রাজ্যকে
অসত্যতার রাজ্য বলা হয়। তারা অযথার্থই শোনাতে থাকে। বাবা হলেন সত্য, তিনি সবকিছু সত্য
শুনিয়ে সবাইকে সত্যিকারের সোনা বানিয়েদেন। পুনরায় মায়া অসত্য বানিয়ে দেয়। মায়া প্রবেশের
কারণে মানুষ যা কিছু বলবে, সব অসত্যই বলবে, যাকে আসুরীক মত বলা যায়। বাবার হল ঈশ্বরীয়
মত। আসুরীক মতাদর্শীরা মিথ্যাই বলবে। জগতে অনেক আসুরীক মত আছে। গুরুও অনেক আছে। তাকে
শ্রীমত বলা হবে না। এক ঈশ্বরের মতকেই শ্রীমত বলা হবে। এখন বাচ্চার তোমরা বুঝতে পারো
যে আমরা শ্রীমত অনুসারে চলে শ্রেষ্ঠ হচ্ছি। সবথেকে শ্রেষ্ঠ হলেনই পরমপিতা পরমাত্মা।
যিনি থাকেনও সর্বোচ্চ স্থানে। সকল ভক্ত তাঁকে স্মরণ করে। ভক্তরা শ্রীমতকে স্মরণ করে,
তাহলে এটাই বোঝায় যে তারা আসুরীক মতে চলে। এখন তোমরা শ্রীমতে চলে শ্রেষ্ঠ হচ্ছো, এরপর
আর সেখানে ভগবান বলে স্মরণ করার দরকার হবে না। দেবী-দেবতাদের কোনও দুঃখ নেই যে স্মরণ
করতে হবে। ভক্তদের তো দুঃখের সীমা নেই। এখন তো অনেক দুঃখের পাহাড় ভেঙে পরবে। মহাযুদ্ধ,
এটাই হল দুঃখের পাহাড় - মানুষের জন্য। বাচ্চারা তোমাদের জন্য হল সুখের পাহাড়। দুঃখের
পর সুখ অবশ্যই আসবে। এই বিনাশের পর তোমাদেরই রাজত্ব হবে। অনেক ধর্মের বিনাশ হবে আর
যে ধর্ম এখন প্রায়লোপ হয়ে গেছে, তার স্থাপনা হবে। মানে এই মহাযুদ্ধের দ্বারা স্বর্গের
গেট খুলবে। এই গেট দিয়ে কে কে যাবে? যারা রাজযোগ শিখছে। শেখাচ্ছেন বাবা। যে পিয়ার সাথে
আছে তার জন্য জ্ঞানের বর্ষাও আছে। প্রিয়তম - বাবাকেই বলা হয়। সেই বর্ষা তো জলের সাগর
থেকে নির্গত হয়। এটা হলো অবিনাশী জ্ঞান রত্নের বর্ষা। যে প্রিয়তম জ্ঞান সাগরের সাথে
আছে, তার জন্য অবিনাশী জ্ঞান রত্নের বর্ষা আছে। এই অবিনাশী জ্ঞান রত্ন তোমাদের বুদ্ধি
রূপী ঝুলিতে ধারণ হয়। এডুকেশন (শিক্ষা) বুদ্ধিতে ধারণ করতে হয় তাই না। আত্মা মন বুদ্ধির
সাথেই আছে তাই আত্মাই ধারণ করে। যেরকম এটা হল আত্মার শরীর, সেইরকমই আত্মার মন বুদ্ধি
আছে। বুদ্ধির দ্বারা গ্রহণ করে। গ্রহণ (ধারণা) তখন হয়, যখন যোগযুক্ত থাকে। এই সব কথা
বাবা বসে খুব সহজ করে বোঝাচ্ছেন। জাগতিক মানুষ তো অনেক ডিফিকাল্ট কথা শুনিয়ে দেয়। শাস্ত্রতেও
অনেক মত মতান্তর আছে। গীতা হলো বহুল প্রচারিত। কত সংখ্যক গীতা বানিয়ে দিয়েছে। আর অন্য
কোনও শাস্ত্র নেই যার জন্য বলা যাবে যে অমুকের বেদ, অমুকের শাস্ত্র। গীতার জন্যই বলে
- গান্ধী গীতা, টেগোর গীতা, জ্ঞানেশ্বর গীতা, অষ্টাবক্র গীতা... গীতার অনেক নাম রেখে
দিয়েছে, অন্যান্য বেদ শাস্ত্রের কখনও এত নাম শুনতে পাবে না। কিন্তু মানুষ বুঝতে কিছুই
পারে না। এই জ্ঞানই প্রায়লোপ হয়ে গেছে। এখন দৈবী সার্বভৌমত্ব কোথা থেকে আসবে? অবশ্যই
যিনি সত্যযুগ স্থাপনা করেছেন, তিনিই দেবেন। এখন বাবা এসে গেছেন, বাচ্চারা তোমাদেরকে
স্বর্গের রাজত্ব প্রদান করতে। সেটাও ২১ জন্মের জন্য। গাওয় হয় কুমারী সে, যে ২১ কুলের
উদ্ধার করে। এখন সেই কুমারী কারা? তোমরা সবাই হলে কুমার কুমারী। তোমরা যে কাউকে ২১
জন্মের জন্য রাজ্য ভাগ্য প্রাপ্ত করাতে পারো, শ্রীমতের দ্বারা বা বাবার মতানুসারে।
পাঠশালাতে যারা পড়াশোনা করে তারা জানে যে তারা হল স্টুডেন্ট। অন্যান্য সৎসঙ্গে নিজেদেরকে
স্টুডেন্ট মনে করে না। শিক্ষার্থীদের বুদ্ধিতে এইম্ অবজেক্ট থাকে। তোমরা হলে ঈশ্বরীয়
স্টুডেন্ট। ভগবানুবাচ - আমি তোমাদেরকে রাজযোগ শেখাই, মানুষ থেকে দেবতা তৈরী করি। দেবতাদের
রাজধানী ছিল। যথা রাজা-রানী দেবী দেবতা তথা প্রজা... এই এইম্ অবজেক্ট হল ফার্স্ট। এমন
নয় যে রাজা রাম বা রানী সীতা বানাবেন। এটা হলই রাজযোগ। রাজাদেরও রাজা বানাবেন। প্রতি
কল্পে আমি পুনরায় আসি, হারিয়ে যাওয়া রাজ্য ফিরিয়ে দিতে। তোমাদের রাজ্য কোনও মানুষ
ছিনিয়ে নেয়নি। মায়া ছিনিয়ে নিয়েছে। এখন মায়ার উপরে জয়ী হতে হবে। জাগতিক লড়াই হয় রাজাদের
মধ্যে। একে অপরের উপরে জয়ী হওয়ার লড়াই। এখন তো প্রজার উপরে প্রজার রাজ্য হয়ে গেছে।
পার্থিব জগতের রাজাদের অনেক অনেক যুদ্ধ করতে হয়েছে। তার দ্বারা পার্থিব রাজত্ব প্রাপ্ত
হয়েছে আর এই যোগবলের দ্বারা তোমরা বিশ্বের রাজধানী স্থাপন করছো, একে অহিংসক যুদ্ধ
বলা যায়। এখানে লড়াই বলতে মরে যাওয়া বা মেরে ফেলার কথা বলা হয়নি। এটা হল যোগবল। কত
সহজ। বাবার সাথে যোগ লাগালে আমরা বিকর্মাজিৎ হতে পারি। তারপর আর কখনও মায়ার আক্রমন
হবে না। হাতেমতাই-এর খেলা দেখানো হয়। সে মুহলরা (চুষিকাঠি) মুখে রাখলেই মায়া পালিয়ে
যেত। মুহলরা বের করলেই মায়া এসে যেত। আল্লাহ্ অবলদীনের নাটকও আছে। হাত তালি দেওয়ার
সাথে সাথেই স্বর্গে উপস্থিত হয়ে গেলো। সেটা হল বহিস্ত বা স্বর্গ। তো বাবা বসে ব্রহ্মার
দ্বারা বহিস্তের স্থাপনা করছেন। পরমপিতা পরমাত্মা কোনও নরকের স্থাপনা থোড়াই করবেন।
এইরকম হলে তো তারও কুশপুতুল দাহ করতো। কুশপুতুল তো রাবণের তৈরী করে, কেননা রাবণই হলো
সকলের শত্রু। বাবা, যিনি স্বর্গ স্থাপন করেন, তাঁকে তো চোখের উপরে রাখা হয়। বাবা বলছেন
আমাকে ভক্ত স্মরণ করে বলে - এসে আমাদের দুঃখ থেকে মুক্ত করো। এইজন্য আমি এসে মুক্তি
দিই। বাবা হলেন মুক্তিদাতাও আবার আধ্যাত্মিক পান্ডাও। তোমাদেরকে নিয়ে যাচ্ছেন নিজের
শান্তিধামে। যে পিয়ার সাথে আছে, তার জন্য অবিনাশী জ্ঞান রত্নের বর্ষা আছে, যে জ্ঞান
রত্নের মূল্য নির্ধারণ করা যায় না। বাবা হলেন জ্ঞান সাগর তো অবশ্যই আত্মার মধ্যে পার্ট
নিহিত আছে। পরমপিতা পরমাত্মা নিজেও বলেন আমি আত্মা, যাকে তোমরা পরমাত্মা বলো, আমার
মধ্যেও পার্ট নিহিত আছে। ভক্তদের দেখা, সবাইকে সুখ প্রদান করা। দুঃখ তো মায়া দেয়।
ভক্তদের অল্পকালের জন্য সুখ দেওয়ারও পার্ট আছে। আমিই সাক্ষাৎকার করাই আর দিব্য বুদ্ধি
প্রদান করি। যাকে জ্ঞানের তৃতীয় নেত্র বলা হয়। যার দ্বারা তোমাদের বুদ্ধির গোদরেজের
তালা খুলে যায়। আমারও পার্ট আছে, তো যে বাবার সাথে থাকে তার জন্য জ্ঞানের বর্ষণ আছে।
এখন প্রশ্ন হলো এত সব বাচ্চা কীভাবে একসাথে থাকতে পারবে! তোমরা বাবাকে স্মরণ করতে থাকবে
তার মানে বাবার সাথেই থাকবেন। কেউ লন্ডন, কেউ অন্য কোনও জায়গায়, তাহলে একসাথে কোথায়
আছে? তাদের কাছেও মুরলী যায়। যে চালাক বুঝদার হয় সে এক সপ্তাহ যদি ভালো ভাবে বোঝে তাহলে
তাকেও স্বদর্শন চক্রধারী বানিয়ে দিই। ৮৪ জন্মের স্বদর্শন চক্রের রহস্য এখন তোমরা বুঝেছো।
যে স্বদর্শন চক্র ঘুরিয়ে মায়া রাবণের গলা কেটে দাও অর্থাৎ তার উপর জয়ী হও। এছাড়া সত্যিকারের
গলা কাটার কোনও কথা নেই। তারা তো আবার হিংসক অস্ত্র শস্ত্র দিয়ে দিয়েছে। বাস্তবে শঙ্খ
হল এই মুখ। চক্র ঘোরানো হলো বুদ্ধির কাজ। তো এই অলংকার ভক্তি মার্গে অনেক দিয়ে দিয়েছে।
শাস্ত্র ইত্যাদি যেগুলি ভক্তি মার্গে চলছে, ড্রামা অনুসারে পুনরায় সেগুলি বের হবে।
হতে পারে এই সত্য গীতাও কারো না কারো হাতে চলে আসে তো কিছু এর মধ্যেও লিখে দেবে। বাকি
সবকিছু সেখানেই বের হবে। কিছু কিছু শব্দ সেখানে, এখানকারও আছে। ভগবানুবাচ - ঠিক আছে।
রাজযোগও ঠিক আছে। বাবা বলছেন যে এখন বাড়ি ফিরে যেতে হবে। এই শরীরের সাথে সবকিছু ভুলতে
হবে, এর বদলে তোমাদের পিওর শরীর প্রাপ্ত হবে। আত্মাও পিওর হয়ে যাবে। ধনও তোমাদের কাছে
অগণিত থাকবে। তোমাদের মধ্যে অনেক লোভ আছে। কিন্তু একে শুদ্ধ লোভ বলা যায়, এর দ্বারা
সমগ্র ভারত শুদ্ধ হয়। ভারতবাসী রামরাজ্য চায়, ওয়ান গভর্নমেন্ট, ওয়ান নেশন হোক, এক মত,
অদ্বৈত মত হোক। অদ্বৈতের অর্থই হল দেবতা। এ হলো আসুরী মত। শ্রীমত ব্যতীত বাকি সবই
হল আসুরীক মত। যার কারণে একে অপরের মধ্যে যুদ্ধ লেগে যেত। ঈশ্বরের সন্তান না হওয়ার
কারণে অনাথ হয়ে গেছে । সত্যযুগে দেবতারা অনেক ধনী হবে। সেখানে জন্তু জানোয়ারও কখনও
নিজেদের মধ্যে যুদ্ধ করে না। এখানে তো সবাই যুদ্ধ করতে থাকে। সত্যযুগে সবাই অসীম সুখে
থাকবে।
বাচ্চারা এখন তোমরা জানো যে আমরা বাবার থেকে ঈশ্বরীয় জন্মসিদ্ধ
অধিকার নিচ্ছি। ঈশ্বর সম্মুখে আছেন তাই না। বলছেন - আমি প্রতি কল্পে আসি - স্বর্গ স্থাপন
করতে। বাচ্চারা তোমাদের জন্য আশ্চর্যমন্ডিত উপহার নিয় আসি। বাবা বলছেন আমার হারানিধি
বাচ্চারা, ৫ হাজার বছর পর তোমরা এসে আমার সাথে মিলিত হও। এইরকম আর কেউ বলতে পারবে না।
যদি নিজেকে ব্রহ্মা, বিষ্ণু, শংকর বলে পরিচয় দেয়, কিন্তু এইরকম কথা কেউ বলতে আসবে না।
এটা কেউ কপি করতে পারবে না। বাবা বলছেন আমার প্রিয় হারানিধি বাচ্চারা ৫ হাজার বছর পর
পুনরায় তোমরা এসে মিলন করছো। কেবল তোমরাই। অনেক বাচ্চারা এসে মিলিত হবে। রাজধানী স্থাপন
করতে অনেক পরিশ্রম লাগে। রাজা রাণী এক, তারপর তাদের বাচ্চা বৃদ্ধি প্রাপ্ত করবে। ভারতে
প্রিন্স প্রিন্সেজ কতো হবে। মনে করো ২ লাখ, প্রজা হবে ৪০-৫০ কোটি। তো গন্তব্য স্থল
অনেক উঁচু। এটা হল বাবার কলেজ। তাই কতো ভালো ভাবে পুরুষার্থ করতে হবে। বাবা তো বলবেন
রাজাদেরও রাজা হও, না কি প্রজা! হবে সে-ই, যে কল্প পূর্বেও হয়েছিল। আমি সাক্ষী হয়ে
দেখবো, কে কোন্ প্রকারের উত্তরাধিকার নেয়। কেউ তো একেবারে আঁকড়ে ধরে। অতি প্রিয় বাবা।
চুম্বকের প্রতি সূঁচ আকৃষ্ট হয়ে আসে। কারো মধ্যে জঙ বেশী থাকে, কারো মধ্যে কম। যারা
নিকটে থাকে, তারা তো এসে আঁকড়ে ধরবে, পরিস্কার সূঁচ শীঘ্রই আকৃষ্ট হবে। বাবা জঙ ছাড়িয়ে
এমন চমকপ্রদ করেদেন যে বাচ্চারা তোমরা সেখানে একসাথে থাকবে। তোমাদেরকে রুদ্র মালার
দানা হতে হবে। গায়নও আছে কিন্তু জানে না যে এই মালা কাদের স্মরণিক। বাবা বলছেন আমার
মালাতে যারা আসবে তারাই স্বর্গের মালিক হবে। ভক্তমালাকেও তোমরা বুঝে গেছো। সেটা হল
রাবণের মালা। প্রথমে রাবণের মালাতে কে আসে, পূজ্য থেকে পূজারী কে হয়? নিজেই পূজ্য দেবতা,
তারপর পূজারী হয়। এই সব কতোই না রহস্যযুক্ত কথা, বোঝার জন্য।
তোমরা হলে ফেলানথ্রফিস্ট (মহাদানী, পরোপকারী)। দেহ সহ সবকিছু
বাবাকে দিয়ে বলি চড়ে থাকো। সন্ন্যাসীরা ফেলানথ্রফিস্ট হয় না। তারা তো ঘর-বাড়ি ছেড়ে
জঙ্গলে চলে যায়। তোমরা সবকিছু ঈশ্বরকে অর্পণ করে থাকো। এভরিথিং ফর গড ফাদার
(Everything for God Father)। তাই বাবা বলেন - আমার সবকিছু বাচ্চারা তোমাদের জন্য।
মানুষ যখন মারা যায় তখন তার সবকিছু করণীঘোরকে (শ্মশানের ব্রাহ্মণ) দিয়ে দেয়। বাবা বলছেন
- আমিও হলাম করণীঘোর। তোমাদের কাছে পুরানো নোংরা যাকিছু আছে, সব দান করে দাও। বাবার
প্রতি সমর্পণ হয়ে যাও। এসব তো তোমাদেরই কাজে আসে। বাবা তো মহল ইত্যাদিও নিজের জন্য
তৈরী করেন না। শিববাবা তো হলেন দাতা। সমগ্র স্বর্গের রাজত্ব তোমাদেরকে দিয়ে দেন, এইজন্য
এঁনাকে সওদাগরও বলা হয়। কতইনা মিষ্টি মিষ্টি কথা। পরীক্ষা সম্পূর্ণ হতে চলেছে। বাবা
অবশেষে পরীক্ষা কবে সম্পূর্ণ হবে? বাবা বলেন - যখন তোমাদের মৃত্যুর সময় আসবে, জ্ঞান
সম্পূর্ণ হবে তখন এই বিনাশ আরম্ভ হবে। তারপর গোল্ডেন স্পুন ইন মাউথ (সোনার চামচ মুখে
নিয়ে জন্ম গ্রহণ করবে) । জন্ম নেবে আর চামচ পাবে। এখানে তো ৩০-৪০ বছর পড়াশোনা করে,
তাে এখানেই তার ফল ভোগ করে। তোমাদের তো হল ভবিষ্যতের জন্য। তোমাদের নতুন জন্মে তোমরা
প্রিন্স হবে। পরীক্ষা তখন সমাপ্ত হবে যখন বিনাশ শুরু হবে। একদিকে পড়া সম্পূর্ণ হবে
আর অন্যদিকে বিনাশ শুরু হবে। এছাড়া রিহার্সাল তো হতেই থাকবে। তোমাদের এই পড়ার ফল তোমাদের
নতুন দুনিয়ায় প্রাপ্ত হবে। সেখানে আত্মা, শরীর, রাজত্ব সবকিছু নতুন হবে। এসব হল অনেক
রহস্য যুক্ত ধারণা করবার মতো কথা। পড়াশোনা কখনো ছাড়বে না। বাবা বসে বোঝাচ্ছেন, আশ্চর্যের
বিষয়, তাই না। যারা দেরী করে আসছে তারাও যদি অতি শীঘ্র জ্ঞান যোগে লেগে পড়ে তাহলে
তারাও উচ্চপদ প্রাপ্ত করতে পারবে। আচ্ছা!
মিষ্টি-মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার
স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত। আত্মাদের পিতা ওঁনার আত্মা রূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন
নমস্কার।
*ধারণার জন্যে মুখ্য সারঃ-*
১ ) শরীর আর আত্মা দুটোকেই পবিত্র বানানোর জন্য এই পুরানো শরীরের সাথে সব কিছু ভুলে যেতে হবে। দেহ সহ বাবার উপর সম্পূর্ণ বলি (সমর্পন) চড়ে ফেলানথ্রফিস্ট (মহাদানী) হতে“মিষ্টি বাচ্চারা - এক ঈশ্বরের মত-ই হল শ্রেষ্ঠ মত, যে মত অনুসারে চললেই তোমরা সত্যিকারের সোনা হতে পারবে, এটা ছাড়া বাকি সব মত মিথ্যা বানিয়ে দেয়”
*প্রশ্নঃ - কোন্ পার্ট এক জ্ঞান সাগর বাবার মধ্যেই ভরা আছে, যেটা
কোনও মনুষ্যাত্মার মধ্যে নেই?
*উত্তরঃ - বাবা বলছেন - আমি আত্মার মধ্যে ভক্তদেরকে
দেখাশোনা করার, সবাইকে সুখ দেওয়ার পার্ট ভরা আছে। আমি জ্ঞান সাগর বাবা সকল বাচ্চাদের
উপর অবিনাশী জ্ঞানের বর্ষণ করি, যে জ্ঞান রত্নের কেউ মূল্য দিতে পারবে না। আমি হলাম
মুক্তিদাতা, আত্মিক পান্ডা হয়ে আত্মারা তোমাদেরকে পুনরায় শান্তিধামে নিয়ে যাই। এই সব
হল আমার পার্ট। আমি কাউকে দুঃখ দিই না, এইজন্য সবাই আমাকে চোখের পালকের উপরে রাখে।
রাবণ শত্রু দুঃখ দেয়, এইজন্য তার কুশপুতুল পোড়ানো হয়।
*গীতঃ- যে পিয়ার সাথে আছে...
ওম্ শান্তি
। বাবা ওম্ শব্দের অর্থ তো বাচ্চাদেরকে বুঝিয়ে দিয়েছেন। ওম্ অর্থাৎ অহম্ আত্মা। ব্যস্,
অর্থই এতটাই ছোটো। এমন নয় যে - আই অ্যাম্ গড। পন্ডিতের কাছে জিজ্ঞাসা করবে যে - ওম্
এর অর্থ কি? তো সে অনেক লম্বা চওড়া ভাষণ দিয়ে দেবে আর যথার্থও শোনাবে না। যথার্থ আর
অযথার্থ, সত্য আর মিথ্যা। সত্য তো হলেনই এক বাবা। তাছাড়া এই সময় হলই তো অসত্যতার রাজ্য।
রামরাজ্যকেই সত্যতার রাজ্য বলা হবে। রাবণ রাজ্যকে অসত্যতার রাজ্য বলা হয়। তারা অযথার্থই
শোনাতে থাকে। বাবা হলেন সত্য, তিনি সবকিছু সত্য শুনিয়ে সবাইকে সত্যিকারের সোনা বানিয়েদেন।
পুনরায় মায়া অসত্য বানিয়ে দেয়। মায়া প্রবেশের কারণে মানুষ যা কিছু বলবে, সব অসত্যই
বলবে, যাকে আসুরীক মত বলা যায়। বাবার হল ঈশ্বরীয় মত। আসুরীক মতাদর্শীরা মিথ্যাই বলবে।
জগতে অনেক আসুরীক মত আছে। গুরুও অনেক আছে। তাকে শ্রীমত বলা হবে না। এক ঈশ্বরের মতকেই
শ্রীমত বলা হবে। এখন বাচ্চার তোমরা বুঝতে পারো যে আমরা শ্রীমত অনুসারে চলে শ্রেষ্ঠ
হচ্ছি। সবথেকে শ্রেষ্ঠ হলেনই পরমপিতা পরমাত্মা। যিনি থাকেনও সর্বোচ্চ স্থানে। সকল ভক্ত
তাঁকে স্মরণ করে। ভক্তরা শ্রীমতকে স্মরণ করে, তাহলে এটাই বোঝায় যে তারা আসুরীক মতে
চলে। এখন তোমরা শ্রীমতে চলে শ্রেষ্ঠ হচ্ছো, এরপর আর সেখানে ভগবান বলে স্মরণ করার দরকার
হবে না। দেবী-দেবতাদের কোনও দুঃখ নেই যে স্মরণ করতে হবে। ভক্তদের তো দুঃখের সীমা নেই।
এখন তো অনেক দুঃখের পাহাড় ভেঙে পরবে। মহাযুদ্ধ, এটাই হল দুঃখের পাহাড় - মানুষের জন্য।
বাচ্চারা তোমাদের জন্য হল সুখের পাহাড়। দুঃখের পর সুখ অবশ্যই আসবে। এই বিনাশের পর তোমাদেরই
রাজত্ব হবে। অনেক ধর্মের বিনাশ হবে আর যে ধর্ম এখন প্রায়লোপ হয়ে গেছে, তার স্থাপনা
হবে। মানে এই মহাযুদ্ধের দ্বারা স্বর্গের গেট খুলবে। এই গেট দিয়ে কে কে যাবে? যারা
রাজযোগ শিখছে। শেখাচ্ছেন বাবা। যে পিয়ার সাথে আছে তার জন্য জ্ঞানের বর্ষাও আছে। প্রিয়তম
- বাবাকেই বলা হয়। সেই বর্ষা তো জলের সাগর থেকে নির্গত হয়। এটা হলো অবিনাশী জ্ঞান রত্নের
বর্ষা। যে প্রিয়তম জ্ঞান সাগরের সাথে আছে, তার জন্য অবিনাশী জ্ঞান রত্নের বর্ষা আছে।
এই অবিনাশী জ্ঞান রত্ন তোমাদের বুদ্ধি রূপী ঝুলিতে ধারণ হয়। এডুকেশন (শিক্ষা) বুদ্ধিতে
ধারণ করতে হয় তাই না। আত্মা মন বুদ্ধির সাথেই আছে তাই আত্মাই ধারণ করে। যেরকম এটা হল
আত্মার শরীর, সেইরকমই আত্মার মন বুদ্ধি আছে। বুদ্ধির দ্বারা গ্রহণ করে। গ্রহণ (ধারণা)
তখন হয়, যখন যোগযুক্ত থাকে। এই সব কথা বাবা বসে খুব সহজ করে বোঝাচ্ছেন। জাগতিক মানুষ
তো অনেক ডিফিকাল্ট কথা শুনিয়ে দেয়। শাস্ত্রতেও অনেক মত মতান্তর আছে। গীতা হলো বহুল
প্রচারিত। কত সংখ্যক গীতা বানিয়ে দিয়েছে। আর অন্য কোনও শাস্ত্র নেই যার জন্য বলা যাবে
যে অমুকের বেদ, অমুকের শাস্ত্র। গীতার জন্যই বলে - গান্ধী গীতা, টেগোর গীতা, জ্ঞানেশ্বর
গীতা, অষ্টাবক্র গীতা... গীতার অনেক নাম রেখে দিয়েছে, অন্যান্য বেদ শাস্ত্রের কখনও
এত নাম শুনতে পাবে না। কিন্তু মানুষ বুঝতে কিছুই পারে না। এই জ্ঞানই প্রায়লোপ হয়ে গেছে।
এখন দৈবী সার্বভৌমত্ব কোথা থেকে আসবে? অবশ্যই যিনি সত্যযুগ স্থাপনা করেছেন, তিনিই দেবেন।
এখন বাবা এসে গেছেন, বাচ্চারা তোমাদেরকে স্বর্গের রাজত্ব প্রদান করতে। সেটাও ২১ জন্মের
জন্য। গাওয় হয় কুমারী সে, যে ২১ কুলের উদ্ধার করে। এখন সেই কুমারী কারা? তোমরা সবাই
হলে কুমার কুমারী। তোমরা যে কাউকে ২১ জন্মের জন্য রাজ্য ভাগ্য প্রাপ্ত করাতে পারো,
শ্রীমতের দ্বারা বা বাবার মতানুসারে। পাঠশালাতে যারা পড়াশোনা করে তারা জানে যে তারা
হল স্টুডেন্ট। অন্যান্য সৎসঙ্গে নিজেদেরকে স্টুডেন্ট মনে করে না। শিক্ষার্থীদের বুদ্ধিতে
এইম্ অবজেক্ট থাকে। তোমরা হলে ঈশ্বরীয় স্টুডেন্ট। ভগবানুবাচ - আমি তোমাদেরকে রাজযোগ
শেখাই, মানুষ থেকে দেবতা তৈরী করি। দেবতাদের রাজধানী ছিল। যথা রাজা-রানী দেবী দেবতা
তথা প্রজা... এই এইম্ অবজেক্ট হল ফার্স্ট। এমন নয় যে রাজা রাম বা রানী সীতা বানাবেন।
এটা হলই রাজযোগ। রাজাদেরও রাজা বানাবেন। প্রতি কল্পে আমি পুনরায় আসি, হারিয়ে যাওয়া
রাজ্য ফিরিয়ে দিতে। তোমাদের রাজ্য কোনও মানুষ ছিনিয়ে নেয়নি। মায়া ছিনিয়ে নিয়েছে। এখন
মায়ার উপরে জয়ী হতে হবে। জাগতিক লড়াই হয় রাজাদের মধ্যে। একে অপরের উপরে জয়ী হওয়ার লড়াই।
এখন তো প্রজার উপরে প্রজার রাজ্য হয়ে গেছে। পার্থিব জগতের রাজাদের অনেক অনেক যুদ্ধ
করতে হয়েছে। তার দ্বারা পার্থিব রাজত্ব প্রাপ্ত হয়েছে আর এই যোগবলের দ্বারা তোমরা বিশ্বের
রাজধানী স্থাপন করছো, একে অহিংসক যুদ্ধ বলা যায়। এখানে লড়াই বলতে মরে যাওয়া বা মেরে
ফেলার কথা বলা হয়নি। এটা হল যোগবল। কত সহজ। বাবার সাথে যোগ লাগালে আমরা বিকর্মাজিৎ
হতে পারি। তারপর আর কখনও মায়ার আক্রমন হবে না। হাতেমতাই-এর খেলা দেখানো হয়। সে মুহলরা
(চুষিকাঠি) মুখে রাখলেই মায়া পালিয়ে যেত। মুহলরা বের করলেই মায়া এসে যেত। আল্লাহ্ অবলদীনের
নাটকও আছে। হাত তালি দেওয়ার সাথে সাথেই স্বর্গে উপস্থিত হয়ে গেলো। সেটা হল বহিস্ত বা
স্বর্গ। তো বাবা বসে ব্রহ্মার দ্বারা বহিস্তের স্থাপনা করছেন। পরমপিতা পরমাত্মা কোনও
নরকের স্থাপনা থোড়াই করবেন। এইরকম হলে তো তারও কুশপুতুল দাহ করতো। কুশপুতুল তো রাবণের
তৈরী করে, কেননা রাবণই হলো সকলের শত্রু। বাবা, যিনি স্বর্গ স্থাপন করেন, তাঁকে তো চোখের
উপরে রাখা হয়। বাবা বলছেন আমাকে ভক্ত স্মরণ করে বলে - এসে আমাদের দুঃখ থেকে মুক্ত করো।
এইজন্য আমি এসে মুক্তি দিই। বাবা হলেন মুক্তিদাতাও আবার আধ্যাত্মিক পান্ডাও। তোমাদেরকে
নিয়ে যাচ্ছেন নিজের শান্তিধামে। যে পিয়ার সাথে আছে, তার জন্য অবিনাশী জ্ঞান রত্নের
বর্ষা আছে, যে জ্ঞান রত্নের মূল্য নির্ধারণ করা যায় না। বাবা হলেন জ্ঞান সাগর তো অবশ্যই
আত্মার মধ্যে পার্ট নিহিত আছে। পরমপিতা পরমাত্মা নিজেও বলেন আমি আত্মা, যাকে তোমরা
পরমাত্মা বলো, আমার মধ্যেও পার্ট নিহিত আছে। ভক্তদের দেখা, সবাইকে সুখ প্রদান করা।
দুঃখ তো মায়া দেয়। ভক্তদের অল্পকালের জন্য সুখ দেওয়ারও পার্ট আছে। আমিই সাক্ষাৎকার
করাই আর দিব্য বুদ্ধি প্রদান করি। যাকে জ্ঞানের তৃতীয় নেত্র বলা হয়। যার দ্বারা তোমাদের
বুদ্ধির গোদরেজের তালা খুলে যায়। আমারও পার্ট আছে, তো যে বাবার সাথে থাকে তার জন্য
জ্ঞানের বর্ষণ আছে। এখন প্রশ্ন হলো এত সব বাচ্চা কীভাবে একসাথে থাকতে পারবে! তোমরা
বাবাকে স্মরণ করতে থাকবে তার মানে বাবার সাথেই থাকবেন। কেউ লন্ডন, কেউ অন্য কোনও জায়গায়,
তাহলে একসাথে কোথায় আছে? তাদের কাছেও মুরলী যায়। যে চালাক বুঝদার হয় সে এক সপ্তাহ যদি
ভালো ভাবে বোঝে তাহলে তাকেও স্বদর্শন চক্রধারী বানিয়ে দিই। ৮৪ জন্মের স্বদর্শন চক্রের
রহস্য এখন তোমরা বুঝেছো। যে স্বদর্শন চক্র ঘুরিয়ে মায়া রাবণের গলা কেটে দাও অর্থাৎ
তার উপর জয়ী হও। এছাড়া সত্যিকারের গলা কাটার কোনও কথা নেই। তারা তো আবার হিংসক অস্ত্র
শস্ত্র দিয়ে দিয়েছে। বাস্তবে শঙ্খ হল এই মুখ। চক্র ঘোরানো হলো বুদ্ধির কাজ। তো এই অলংকার
ভক্তি মার্গে অনেক দিয়ে দিয়েছে। শাস্ত্র ইত্যাদি যেগুলি ভক্তি মার্গে চলছে, ড্রামা
অনুসারে পুনরায় সেগুলি বের হবে। হতে পারে এই সত্য গীতাও কারো না কারো হাতে চলে আসে
তো কিছু এর মধ্যেও লিখে দেবে। বাকি সবকিছু সেখানেই বের হবে। কিছু কিছু শব্দ সেখানে,
এখানকারও আছে। ভগবানুবাচ - ঠিক আছে। রাজযোগও ঠিক আছে। বাবা বলছেন যে এখন বাড়ি ফিরে
যেতে হবে। এই শরীরের সাথে সবকিছু ভুলতে হবে, এর বদলে তোমাদের পিওর শরীর প্রাপ্ত হবে।
আত্মাও পিওর হয়ে যাবে। ধনও তোমাদের কাছে অগণিত থাকবে। তোমাদের মধ্যে অনেক লোভ আছে।
কিন্তু একে শুদ্ধ লোভ বলা যায়, এর দ্বারা সমগ্র ভারত শুদ্ধ হয়। ভারতবাসী রামরাজ্য চায়,
ওয়ান গভর্নমেন্ট, ওয়ান নেশন হোক, এক মত, অদ্বৈত মত হোক। অদ্বৈতের অর্থই হল দেবতা।
এ হলো আসুরী মত। শ্রীমত ব্যতীত বাকি সবই হল আসুরীক মত। যার কারণে একে অপরের মধ্যে যুদ্ধ
লেগে যেত। ঈশ্বরের সন্তান না হওয়ার কারণে অনাথ হয়ে গেছে । সত্যযুগে দেবতারা অনেক ধনী
হবে। সেখানে জন্তু জানোয়ারও কখনও নিজেদের মধ্যে যুদ্ধ করে না। এখানে তো সবাই যুদ্ধ
করতে থাকে। সত্যযুগে সবাই অসীম সুখে থাকবে।
বাচ্চারা এখন
তোমরা জানো যে আমরা বাবার থেকে ঈশ্বরীয় জন্মসিদ্ধ অধিকার নিচ্ছি। ঈশ্বর সম্মুখে আছেন
তাই না। বলছেন - আমি প্রতি কল্পে আসি - স্বর্গ স্থাপন করতে। বাচ্চারা তোমাদের জন্য
আশ্চর্যমন্ডিত উপহার নিয় আসি। বাবা বলছেন আমার হারানিধি বাচ্চারা, ৫ হাজার বছর পর তোমরা
এসে আমার সাথে মিলিত হও। এইরকম আর কেউ বলতে পারবে না। যদি নিজেকে ব্রহ্মা, বিষ্ণু,
শংকর বলে পরিচয় দেয়, কিন্তু এইরকম কথা কেউ বলতে আসবে না। এটা কেউ কপি করতে পারবে না।
বাবা বলছেন আমার প্রিয় হারানিধি বাচ্চারা ৫ হাজার বছর পর পুনরায় তোমরা এসে মিলন করছো।
কেবল তোমরাই। অনেক বাচ্চারা এসে মিলিত হবে। রাজধানী স্থাপন করতে অনেক পরিশ্রম লাগে।
রাজা রাণী এক, তারপর তাদের বাচ্চা বৃদ্ধি প্রাপ্ত করবে। ভারতে প্রিন্স প্রিন্সেজ কতো
হবে। মনে করো ২ লাখ, প্রজা হবে ৪০-৫০ কোটি। তো গন্তব্য স্থল অনেক উঁচু। এটা হল বাবার
কলেজ। তাই কতো ভালো ভাবে পুরুষার্থ করতে হবে। বাবা তো বলবেন রাজাদেরও রাজা হও, না কি
প্রজা! হবে সে-ই, যে কল্প পূর্বেও হয়েছিল। আমি সাক্ষী হয়ে দেখবো, কে কোন্ প্রকারের
উত্তরাধিকার নেয়। কেউ তো একেবারে আঁকড়ে ধরে। অতি প্রিয় বাবা। চুম্বকের প্রতি সূঁচ আকৃষ্ট
হয়ে আসে। কারো মধ্যে জঙ বেশী থাকে, কারো মধ্যে কম। যারা নিকটে থাকে, তারা তো এসে
আঁকড়ে ধরবে, পরিস্কার সূঁচ শীঘ্রই আকৃষ্ট হবে। বাবা জঙ ছাড়িয়ে এমন চমকপ্রদ করেদেন যে
বাচ্চারা তোমরা সেখানে একসাথে থাকবে। তোমাদেরকে রুদ্র মালার দানা হতে হবে। গায়নও আছে
কিন্তু জানে না যে এই মালা কাদের স্মরণিক। বাবা বলছেন আমার মালাতে যারা আসবে তারাই
স্বর্গের মালিক হবে। ভক্তমালাকেও তোমরা বুঝে গেছো। সেটা হল রাবণের মালা। প্রথমে রাবণের
মালাতে কে আসে, পূজ্য থেকে পূজারী কে হয়? নিজেই পূজ্য দেবতা, তারপর পূজারী হয়। এই সব
কতোই না রহস্যযুক্ত কথা, বোঝার জন্য।
তোমরা হলে ফেলানথ্রফিস্ট
(মহাদানী, পরোপকারী)। দেহ সহ সবকিছু বাবাকে দিয়ে বলি চড়ে থাকো। সন্ন্যাসীরা ফেলানথ্রফিস্ট
হয় না। তারা তো ঘর-বাড়ি ছেড়ে জঙ্গলে চলে যায়। তোমরা সবকিছু ঈশ্বরকে অর্পণ করে থাকো।
এভরিথিং ফর গড ফাদার (Everything for God Father)। তাই বাবা বলেন - আমার সবকিছু বাচ্চারা
তোমাদের জন্য। মানুষ যখন মারা যায় তখন তার সবকিছু করণীঘোরকে (শ্মশানের ব্রাহ্মণ) দিয়ে
দেয়। বাবা বলছেন - আমিও হলাম করণীঘোর। তোমাদের কাছে পুরানো নোংরা যাকিছু আছে, সব দান
করে দাও। বাবার প্রতি সমর্পণ হয়ে যাও। এসব তো তোমাদেরই কাজে আসে। বাবা তো মহল ইত্যাদিও
নিজের জন্য তৈরী করেন না। শিববাবা তো হলেন দাতা। সমগ্র স্বর্গের রাজত্ব তোমাদেরকে দিয়ে
দেন, এইজন্য এঁনাকে সওদাগরও বলা হয়। কতইনা মিষ্টি মিষ্টি কথা। পরীক্ষা সম্পূর্ণ হতে
চলেছে। বাবা অবশেষে পরীক্ষা কবে সম্পূর্ণ হবে? বাবা বলেন - যখন তোমাদের মৃত্যুর সময়
আসবে, জ্ঞান সম্পূর্ণ হবে তখন এই বিনাশ আরম্ভ হবে। তারপর গোল্ডেন স্পুন ইন মাউথ (সোনার
চামচ মুখে নিয়ে জন্ম গ্রহণ করবে) । জন্ম নেবে আর চামচ পাবে। এখানে তো ৩০-৪০ বছর পড়াশোনা
করে, তাে এখানেই তার ফল ভোগ করে। তোমাদের তো হল ভবিষ্যতের জন্য। তোমাদের নতুন জন্মে
তোমরা প্রিন্স হবে। পরীক্ষা তখন সমাপ্ত হবে যখন বিনাশ শুরু হবে। একদিকে পড়া সম্পূর্ণ
হবে আর অন্যদিকে বিনাশ শুরু হবে। এছাড়া রিহার্সাল তো হতেই থাকবে। তোমাদের এই পড়ার ফল
তোমাদের নতুন দুনিয়ায় প্রাপ্ত হবে। সেখানে আত্মা, শরীর, রাজত্ব সবকিছু নতুন হবে। এসব
হল অনেক রহস্য যুক্ত ধারণা করবার মতো কথা। পড়াশোনা কখনো ছাড়বে না। বাবা বসে বোঝাচ্ছেন,
আশ্চর্যের বিষয়, তাই না। যারা দেরী করে আসছে তারাও যদি অতি শীঘ্র জ্ঞান যোগে লেগে পড়ে
তাহলে তারাও উচ্চপদ প্রাপ্ত করতে পারবে। আচ্ছা!
মিষ্টি-মিষ্টি
হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত। আত্মাদের
পিতা ওঁনার আত্মা রূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।
*ধারণার জন্যে
মুখ্য সারঃ-*
১ ) শরীর আর
আত্মা দুটোকেই পবিত্র বানানোর জন্য এই পুরানো শরীরের সাথে সব কিছু ভুলে যেতে হবে। দেহ
সহ বাবার উপর সম্পূর্ণ বলি (সমর্পন) চড়ে ফেলানথ্রফিস্ট (মহাদানী) হতে হবে।
২ ) বাবার শ্রীমতে
চলে অসীম সুখ নিতে হবে। এই শুদ্ধ লোভ রাখতে হবে, যার দ্বারা সমগ্র বিশ্ব সুখী হবে।
এটা ছাড়া বাকি সব অশুদ্ধ লোভ ত্যাগ করতে হবে।
*বরদানঃ-* অমৃতবেলার মহত্ত্বকে জেনে মহান হয়ে বিশেষ সেবাধারী
ভব
সেবাধারী অর্থাৎ
চোখ খোলা আর সর্বদা বাবার সাথে বাবার সমান স্থিতি অনুভব করা। যে বিশেষ বরদানের সময়কে
জানে আর বরদানগুলিকে অনুভব করে সে-ই হল বিশেষ সেবাধারী। আর যদি এমন অনুভব না হয় তাহলে
হলো সাধারণ সেবাধারী, বিশেষ নয়। যার মধ্যে অমৃতবেলার, সংকল্পের, সময়ের আর সেবার মহত্ত্বের
জ্ঞান আছে, এইরকম সকল মহত্ত্বের জ্ঞাতা মহান হয় আর অন্যদেরকেও এই মহত্ত্বকে জানিয়ে
মহান বানায়।
*স্লোগানঃ-* জীবনের মহানতা হলো সত্যতার শক্তি, যাতে সকল আত্মারা
স্বভাবতঃই নত হয় । হবে।
২ ) বাবার শ্রীমতে চলে অসীম সুখ নিতে হবে। এই শুদ্ধ লোভ রাখতে
হবে, যার দ্বারা সমগ্র বিশ্ব সুখী হবে। এটা ছাড়া বাকি সব অশুদ্ধ লোভ ত্যাগ করতে হবে।
*বরদানঃ-* অমৃতবেলার
মহত্ত্বকে জেনে মহান হয়ে বিশেষ সেবাধারী ভব
সেবাধারী অর্থাৎ চোখ খোলা আর সর্বদা বাবার সাথে বাবার সমান
স্থিতি অনুভব করা। যে বিশেষ বরদানের সময়কে জানে আর বরদানগুলিকে অনুভব করে সে-ই হল বিশেষ
সেবাধারী। আর যদি এমন অনুভব না হয় তাহলে হলো সাধারণ সেবাধারী, বিশেষ নয়। যার মধ্যে
অমৃতবেলার, সংকল্পের, সময়ের আর সেবার মহত্ত্বের জ্ঞান আছে, এইরকম সকল মহত্ত্বের জ্ঞাতা
মহান হয় আর অন্যদেরকেও এই মহত্ত্বকে জানিয়ে মহান বানায়।
*স্লোগানঃ-* জীবনের
মহানতা হলো সত্যতার শক্তি, যাতে সকল আত্মারা স্বভাবতঃই নত হয় ।
No comments:
Post a Comment