24.02.2023 BANGLA MURLI
"মিষ্টি বাচ্চারা - এখন এটা হলো তোমাদের অন্তিম জন্ম, খেলা সম্পূর্ণ হয়েছে সেইজন্য পবিত্র হয়ে ঘরে যেতে হবে, তারপর সত্যযুগ থেকে হিস্ট্রি রিপিট হবে"
*প্রশ্নঃ - ঘর গৃহস্থ সামলেও কোন্ অসাধ্য সাধন তোমরা বাচ্চারাই করতে পারো?
*উত্তরঃ - ঘর গৃহস্থ সামলে, পুরাতন দুনিয়াতে থেকেও সকলের থেকে মমত্ব দূর করে দিতে হবে, দেহ সহ যা কিছু পুরানো জিনিস রয়েছে সে'সব ভুলে যেতে হবে.... এটাই হলো বাচ্চারা তোমাদের অসাধ্য সাধন, একেই সতোপ্রধান সন্ন্যাস বলা হয়, যা বাবা তোমাদের শেখান। তোমরা এই অন্তিম জন্মে পবিত্র থাকার প্রতিজ্ঞা করো তারপর ২১ জন্মের জন্য এই পবিত্রতা বজায় রাখা হয়, এই রকম অসাধ্য সাধন আর কেউ করতে পারে না।
*গীতঃ- তুমিই মাতা পিতা...
ওম্ শান্তি । বাচ্চাদের ওম্ শান্তির অর্থ একেবারেই সহজভাবে বোঝানো হয়। প্রতিটি কথাই হল সহজ। সহজেই রাজত্ব প্রাপ্ত করে থাকে। কোথাকার জন্য? সত্যযুগের জন্য। তাকে জীবনমুক্তি বলা হয়। সেখানে রাবণের এই ভূত থাকে না। কারোর ক্রোধ এলে বলা হয় তোমার মধ্যে এই ভূত আছে। ভালো ভালো বাচ্চাদেরকে বোঝানো হয়, ওম্ এর অর্থ হল আমি আত্মা তারপর আমার শরীর। প্রত্যেকের শরীর রূপী রথে আত্মা রথী বসে আছে।আত্মার শক্তি দ্বারা এই রথ চলে। আত্মাকে বারেবারে এই শরীর নিতে হয় আর ছাড়তে হয়। এটা তো বাচ্চারা জানে যে ভারত এখন হলো দুঃখধাম। অর্ধকল্প পূর্বে সুখধাম ছিল। অলমাইটি গভর্নমেন্ট ছিল, কারণ অলমাইটি অথরিটি ভারতের দেবতাদের রাজ্য স্থাপনা করেছিলেন। ওখানে এক ধর্ম ছিল। আজ থেকে পাঁচ হাজার বর্ষ পূর্বে অবশ্যই লক্ষ্মী-নারায়ণের রাজ্য ছিল। সেই রাজ্য স্থাপনকারী অবশ্যই বাবাই হবেন। বাবার থেকে তাদের উত্তরাধিকার প্রাপ্ত হয়েছিল। তাদের আত্মা ৮৪ জন্মের চক্র পরিক্রমা করেছিল ভারতবাসীরাই এই বর্ণতে আসে। এখন হলো শূদ্র বর্ণে। শূদ্র বর্ণের পরে সর্বোত্তম ব্রাহ্মণ বর্ণ আসে। ব্রাহ্মণ বর্ণ অর্থাৎ ব্রহ্মার মুখা বংশাবলী । অবশ্যই প্রজাপিতা ব্রহ্মার অ্যাডাপ্টেড বাচ্চাই হবে। বাচ্চারা জানে যে ভারত পূজ্য ছিল এখন পূজারী হয়েছে। বাবা তো হলেন সদা পূজ্য। তিনি আসেন অবশ্যই - পতিতদের পবিত্র বানানোর জন্য। সত্যযুগ হল পবিত্র দুনিয়া। সত্যযুগে পতিত-পাবনী গঙ্গা, এই নাম ওখানে থাকবেই না, কেননা ওটা হল পবিত্র দুনিয়া। সকলেই হলো পুণ্য আত্মা। নো পাপাত্মা। কলিযুগে হল আবার নো পূণ্যাত্মা। সব হলো পাপ আত্মারা। পুণ্য আত্মা পবিত্রদের বলা হয় । ভারতেই অনেক দান পূণ্য করে থাকে। এই সময় যখন বাবা আসেন তখন তাঁর উপরে বলী চড়ে। সন্ন্যাসীরা তো ঘর গৃহস্থ ছেড়ে চলে যায়। এখানে তো বলা হয় বাবা এ'সব কিছু তোমার। সত্যযুগে আমাদেরকে তুমি অগাধ ধনসম্পদ দিয়েছিলেন। তারপর মায়া কড়ি তুল্য বানিয়ে দিয়েছে। এখন এই আত্মাই পতিত হয়ে গেছে। তন - মন - ধন সব পতিত। আত্মা প্রথমে পবিত্র থাকে, তারপর পার্ট প্লে করতে করতে পতিত হয়ে যায় । গোল্ডেন, সিলভার... এই স্টেজেস্ এ মানুষকে অবশ্যই আসতে হয় । সমগ্র চক্র আবর্তিত করে পরবর্তীতে তমোপ্রধান মিথ্যা অলংকার হতে হয়। সব আত্মাই ঈশ্বরের বিষয়ে মিথ্যা বলতে থাকে, কারণ তাদের শেখানো হয়েছে যে ঈশ্বর হলেন সর্বব্যাপী। গায়নও করে তুমি মাতা পিতা... লক্ষ্মী নারায়ণের সামনে গিয়ে এই মহিমা করে। কিন্তু তাদের তো নিজেদের একটি পুত্র, একটি কন্যা থাকে। যেমন সুখী রাজা রানী হয় সেইরকমই সুখ বাচ্চাদেরও থাকে। সকলের গহন সুখ থাকে। এখন তো তারা ৮৪ তম অন্তিম জন্মে রয়েছে । গভীর দুঃখ রয়েছে।
বাবা বলেন, এখন পুনরায় তোমাদেরকে রাজযোগ শেখাচ্ছি। বাচ্চাদেরকে বোঝানো হয়েছে যে, এই রথে রথী আত্মা বসে আছে। সেই রথী প্রথমে ১৬ কলা সম্পূর্ণ ছিল। এখন নো কলা। বলাও হয় - আমি নির্গুণ, আমার মধ্যে এখন কোনো গুণ নেই। আমাকে কৃপা করো... অর্থাৎ দয়া করো। কারো মধ্যেই গুণ নেই। একেবারেই দুঃখী, পতিত এখন, তবেই তো গঙ্গাতে পবিত্র হতে যায়। সত্যযুগে যায় না। নদী তো সেটাই থাকে, তাই না! বাকি হ্যাঁ, এই রকম বলা যেতে পারে যে এই সময় সব কিছুই হলো তমোপ্রধান । সত্যযুগে নদীও অত্যন্ত পরিস্কার স্বচ্ছ হবে। নদীতে আবর্জনাও পড়ে না। এখানে তো দেখো নোংরা আবর্জনা পড়তেই থাকে। সাগরে সেইসব নোংরা গিয়ে পড়ে। সত্যযুগে এই রকম হতে পারে না। ল' নেই। সব জিনিস পবিত্র থাকে। তাই বাবা বোঝাচ্ছেন এখন হলো সকলের অন্তিম জন্ম। খেলা এখন শেষ হবে। এই খেলার লিমিটই হলো ৫ হাজার বছর। এ'কথা নিরাকার শিববাবা বোঝাচ্ছেন । তিনি হলেন নিরাকার, সবচেয়ে উচ্চ পরমধামের বাসিন্দা তিনি । পরমধাম থেকে তো আমরা সবাই এসেছি। এখন কলিযুগের অন্তিমে ড্রামা শেষ হয়, তারপর আবার হিস্ট্রি রিপিট হতে থাকে। মানুষ গীতা ইত্যাদি যা কিছু শাস্ত্র পড়ে এসেছে, সে'সব রচিত হয় দ্বাপরে। সেই জ্ঞান প্রায় লোপ হয়ে যায়। রাজযোগ কেউই শেখাতে পারে না। তাদের স্মরণ চিহ্ন রাখার জন্য গ্রন্থাদি রচনা করে। তারা নিজেরাই তো পুনর্জন্ম আসতে থাকে। তাদের স্মরণ চিহ্ন পুস্তক গুলিতে থাকতে থাকে। দেবী-দেবতা ধর্ম স্থাপন হয় সঙ্গমে। বাবা এসে এই রথে বিরাজিত হন। ঘোড়া গাড়ির ব্যাপার নেই। এই রথে, সাধারণ বৃদ্ধ তনে প্রবেশ করেন। তিনি হলেন রথী। গাওয়াও হয় যে ব্রহ্মার দ্বারা ব্রাহ্মণ রচিত হয়েছে। এ হলো মুখ বংশাবলী ব্রাহ্মণ। সব বাচ্চারা বলে আমরা ব্রহ্মা মুখ বংশাবলী, আমরা হলাম বি. কে. । এই ব্রহ্মাকেও অ্যাডপ্ট করা হয়েছে। বাবা স্বয়ং বলেন আমি এই রথের রথী হয়ে এনাকে জ্ঞান প্রদান করি। শুরু এনাকে দিয়ে করি। কলস দিয়ে থাকি মায়েদেরকে। মাতা তো ইনিও। সবার প্রথমে ইনি হন তারপর তোমরা। এনার মধ্যে তো তিনি বিরাজমান, কিন্তু সামনে কাকে শোনাবেন। তারপর আত্মাদেরকে বসে বোঝান। কোনো বিদ্বান ইত্যাদি কেউই এইভাবে আত্মাদের সাথে কথা বলবেন যে, আমি হলাম তোমাদের পিতা। তোমরা আত্মারা হলে নিরাকার। আমিও নিরাকার। আমি জ্ঞান সাগর, স্বর্গের রচয়িতা। আমি নরক রচনা করি না। এটা তো হলো মায়া, যে নরক বানায়। বাবা বলেন আমি তো হলামই রচয়িতা, তাহলে নিশ্চয়ই স্বর্গই রচনা করবো। তোমরা ভারতবাসীরা স্বর্গবাসী ছিলে এখন নরকবাসী হয়েছো। নরকবাসী বানিয়েছে রাবণ। কারণ আত্মা রাবণের মতে চলে। এই সময় তোমরা আত্মারা রাম শিববাবা, শ্রী শ্রী-র শ্রীমতে চলছো।
বাবা বোঝান যে, এখন সকলের পার্ট সম্পূর্ণ হয়েছে, সব আত্মারা একত্রিত হবে। যখন সবাই এসে যাবে তখন ফিরে যাওয়া শুরু হবে। তখন বিনাশ শুরু হয়ে যাবে। ভারতে এখন অনেক ধর্ম রয়েছে। কেবল মাত্র আদি সনাতন দেবী-দেবতা ধর্মটাই নেই। কেউই নিজেকে দেবতা বলতে পারবে না। দেবতাদের মহিমাও এইরূপ গাওয়া হয়েছে - সর্বগুণ সম্পন্ন
...। তারপর মানুষ নিজেকে বলবে আমরা নীচ পাপী...। যারা সতোপ্রধান পূজ্য ছিল তারা তমোপ্রধান পূজারী হয়ে যায় । দ্বাপর থেকে রাবণ রাজ্য শুরু হয়। রাম রাজ্য হলো ব্রহ্মার দিন, রাবণ রাজ্য হলো ব্রহ্মার রাত। এখন তবে বাবা কখন আসবেন? যখন ব্রহ্মার রাত শেষ হবে, তখনই তো আসবেন, তাই না? আর এই ব্রহ্মার তনে আসবেন, তবেই না ব্রহ্মার থেকে ব্রাহ্মণের উৎপত্তি হবে। সেই ব্রাহ্মণদের রাজযোগ শেখান। বাবা বলেন, যে যে আকারীবা সাকারী অথবা নিরাকারী চিত্র রয়েছে, সেগুলোকে তোমরা স্মরণ করবে না। তোমাদেরকে তো লক্ষ্য দেওয়া হয়, মানুষ তো চিত্র দেখে স্মরণ করে। বাবা বলেন, চিত্রকে দেখা বন্ধ করো। এটা হলো ভক্তি মার্গ । এখন তো তোমাদের অর্থাৎ আত্মাদেরকে আমার কাছে ফিরে আসতে হবে । মাথার ওপরে অনেক পাপের বোঝা রয়েছে। এমন নয় যে, গর্ভ জেলে প্রত্যেক জন্মের পাপ নষ্ট হয়ে যায়। কিছু নষ্ট হয়ে যায়, কিছু রয়ে যায়। এখন আমি পান্ডা হয়ে এসেছি। এই সময় সব আত্মারা মায়ার মত অনুসারে চলে। পরমাত্মা হলেন সর্বব্যাপী এ'কথা বলা হলো মায়ার মতে চলা। কখনো বলে তিনি সর্বব্যাপী, কখনো বলে ২৪ অবতার নেন। বাবা বলেন, আমি কোথায় সর্বব্যাপী? আমি তো হলামই পতিত পাবন, স্বর্গের রচয়িতা। আমার কাজই হলো নরককে স্বর্গ বানানো। গান্ধী চাইতেন - রাম রাজ্য হোক। এখন বলা হয় - অলমাইটি রাজ্য হোক। ওয়ান রিলিজিয়ন হোক। স্বর্গে তো হলোই এক ধর্ম, এক রাজ্য। সেখানে কোনো পার্টিশন ছিল না। বাবা বলেন, আমি ইউনিভার্সের মালিক হই না। তোমাদেরকে বানাই। এরপর রাবণ এসে তোমাদের রাজত্বকে ছিনিয়ে নেয়। এখন তো সব কিছু তমোপ্রধান, পাথরবি। সত্যযুগে হলো পরসবুদ্ধি। এ'কথা বাবা বোঝান, রথী বসে আছেন। আত্মাই কথা বলে, তো এনার আত্মাও শোনে। তিনি বলেন, বাচ্চারা কোনো প্রকারের চিত্রকেই দেখো না। মামেকম্ স্মরণ করো, বুদ্ধিযোগ উপরে আটকে রাখো। যেখানে যেতে হবে তাকেই স্মরণ করতে হয়। এক বাবা দ্বিতীয় আর কাউকে নয়। তিনিই হলেন সত্যিকারের পাতশাহ (গুরু গ্রন্থ, অর্থ বাদশাহ), সত্য যিনি শোনান। অতএব তোমরা কোনো চিত্রকেই স্মরণ করবে না। এই যে শিবের চিত্র রয়েছে, এরও ধ্যান করবে না। কেননা শিব তো এই রকম নন। আমরা যেমন আত্মা, সেই রকমই তিনি হলেন পরম আমা। আত্মা যেমন ভ্রুকুটির মাঝখানে থাকে, সেরকমই বাবাও বলেন আত্মার পাশে একটু জায়গায় আমাও বসে যাই। রথী হয়ে এনাকে বসে জ্ঞান প্রদান করি। এনার আত্মার মধ্যেও জ্ঞান ছিল না, পতিত ছিল। যেমন এনার আত্মা রথী কথা কলে শরীরের দ্বারা, সেই রকমই ওনার এই অরগ্যান দিয়ে আমি বলি। না হলে কী করে বোঝাবো। ব্রাহ্মণ রচনা করার জন্য ব্রহ্মাকে তো অবশ্যই চাই। যে ব্রহ্মা তারপর নারায়ণ হবে। এখন তোমরা হলে ব্রহ্মার সন্তান। এরপর সূর্যবংশী শ্রী নারায়ণের ঘরানাতে চলে যাবে। বাচ্চাদেরকে বোঝানো হয়েছে যে, এই সব শাস্ত্র ইত্যাদি হলো ভক্তি মার্গের। আবারও এগুলোই রচিত হবে, যেগুলো পড়তে পড়তে মানুষ তমোপ্রধান হয়ে যায়। সত্যযুগ থেকে ত্রেতা হয়েছে, ত্রেতা থেকে দ্বাপর, কলিযুগ হয়েছে। পতিত হয়েছে তবেই তো পতিত-পাবন এসে পবিত্র বানাবেন, তাই না! শাস্ত্র কাউকেই পবিত্র বানাতে পারবে না । এখন তো একেবারেই কাঙাল হয়ে গেছে। লড়াই ঝগড়া করতে থাকে। বানরের থেকেও খারাপ। বানরের মধ্যে ৫ বিকার বেশী পরিমাণে থাকে। দেহ অহংকারও বানরের মতো আর কারো হয় না। কাম, ক্রোধ, মোহ সব বিকার এত পরিমাণে থাকে যে আর বোলো না। সন্তান মরে গেলে তার হাড়টুকুকেও পর্যন্ত ছাড়তে চায় না। মানুষও তো আজকাল এই রকমই হয়ে গেছে। সন্তান মারা গেলে ৬ মাস - ৮ মাস কাঁদতে থাকে। সত্যযুগে তো অকালে মৃত্যু হয় না। না কেউ হাহাকার করে। সেখানে কোনো শয়তান নেই। বাবা এই সময় বাচ্চাদের সাথে কথা বলছেন। ঘর সংসার সামলাও, সংসারে থেকেও এমন কামাল করে দেখাও যা সন্ন্যাসীরাও করতে পারে না। এই সতোপ্রধান সন্ন্যাস পরমাত্মাই শেখান। বলেন, এই পুরানো দুনিয়ার এখন অবসান হবে, সেইজন্য এর প্রতি মমতা রেখো না। সবাইকে ফিরে আসতে হবে। দেহ সহ যা কিছু পুরানো জিনিস রয়েছে, সে'গুলিকে ভুলে যাও। এই ৫ বিকার আমাকে দিয়ে দাও। অপবিত্র যদি হও তবে পবিত্র দুনিয়াতে আসতে পারবে না। বাবার কাছে প্রতিজ্ঞা করো, এই অন্তিম জন্মের জন্য । তারপরে তো পবিত্রতাই কায়েম হয়ে যাবে। ৬৩ জন্ম তোমরা বিকার গুলোর মধ্যে গুঁতো খেয়ে খেয়ে একেবারে নোংরা হয়ে গেছো। নিজের ধর্মকে, কর্মকে ভুলে গেছো। হিন্দু ধর্ম বলতে থাকো। বাবা বলেন তোমরা তো অবুঝ হয়ে গেছো। কেন বুঝতে পারছি না যে, ভারতই স্বর্গ ছিল, আমরাই দেবতা ছিলাম। আমি তোমাদেরকে রাজযোগ শিখিয়েছি। তারপর তোমরা বলো শ্রীকৃষ্ণ হলো সকলের পিতা স্বর্গের রচয়িতা । বাবা তো হলেন নিরাকার, সব আত্মাদের পিতা। তারপরেও তাঁকে তোমরা বলে দাও যে তিনি সর্বব্যাপী।তোমরা তোমাদের বাবাকে গালি দিচ্ছো। শিব আর শংকরকে মিশিয়ে দিয়েছে, কতো গ্লানি করে ফেলছে। শিব তো হলেন পরমাত্মা। তিনি বলেন, আমি আসিই দেবী-দেবতা ধর্ম স্থাপন করতে। এরপর বিষ্ণুর দুই রূপ লক্ষ্মী-নারায়ণ রাজত্ব করবে। সত্যখন্ড রচনাকারী হলেন একমাত্র সদ্গুরু। তিনি এই রথের রথী। একে নন্দীগণও বলা হয়, ভাগীরথও বলা হয়। তোমাদের অর্থাৎ অর্জুনদেরকে তিনি বলেন, আমি এই রথে এসেছি, যুদ্ধের ময়দানে তোমাদেরকে মায়ার ওপরে বিজয়ী বানাতে। সত্যযুগে না রাবণ থাকে, না তাকে দহন করা হয়। এখন তো রাবণকে দহন করতেই থাকে। আচ্ছা!
মিষ্টি-মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত। আত্মাদের পিতা ওঁনার আত্মা রূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।
*ধারণার জন্যে মুখ্য সারঃ-*
১ ) কোনো চিত্রকেই স্মরণ করবে না। বিচিত্র বাবাকে বুদ্ধিতে স্মরণ করতে হবে। বুদ্ধি যোগ যেন উপরে আটকে থাকে।
২ ) ঘরে ফিরে যেতে হবে, সেইজন্য দেহ সহ সব পুরানো জিনিসের থেকে মমতা দূর করতে হবে। সম্পূৰ্ণ পবিত্র হতে হবে।
*বরদানঃ-* বাবার রাইট হ্যান্ড হয়ে সকল কার্যে সদা এভাররেডি থাকা মাস্টার ভাগ্য বিধাতা ভব
যে বাচ্চারা রাইট হ্যান্ড হয়ে বাবার প্রতিটি কাজে সদা সহযোগী, সদা এভাররেডি থাকে, আজ্ঞাকারী হয়ে সর্বদা বলে হ্যাঁ বাবা আমরা প্রস্তুত। বাবাও এই রকম সহযোগী বাচ্চাদেরকে সদা দায়িত্ববান বাচ্চা (মুরব্বী), সুসন্তান, বিশ্বের শৃঙ্গার বাচ্চা বলে মাস্টার বরদাতা আর ভাগ্য বিধাতার বরদান দিয়ে থাকেন। এই রকম বাচ্চারা প্রবৃত্তিতে থেকেও প্রবৃত্তির বৃত্তি থেকে ঊর্ধ্বে থাকে, লৌকিক ব্যবহারে থেকেও অলৌকিক ব্যবহারের প্রতি সদা খেয়াল রাখে।
*স্লোগানঃ-* প্রতিটি বোল আর কর্মে সততা আর সচ্ছতা থাকলে তবে প্রভুর প্রিয় রত্ন হয়ে যাবে ।
No comments:
Post a Comment