Saturday, February 25, 2023

26.02.2023 BANGLA MURLI

                                      26.02.2023 BANGLA MURLI



"নতুন বছরে সদা উৎসাহ-উদ্দীপনায় ওড়ো আর সকলের প্রতি মহাদানী, বরদানী হয়ে ব্যর্থকে সমাপ্ত করো


আজ, নব যুগ নতুন সৃষ্টির রচয়িতা বাপদাদা নিজের নবযুগের আধারমূর্ত বাচ্চাদের দেখছেন।বাপদাদার সাথে সাথে তোমরা বাচ্চারা সবাই সদা সহযোগী হও, সেইজন্য তোমরাই আধারমূর্ত। লৌকিক দুনিয়ার হিসেবে আজকের দিন বছরের সঙ্গম। পুরানো বছর চলে যাচ্ছে আর নতুন বছর আসছে। এটা বছরের সঙ্গম দিন আর তোমরা বসে আছ অসীম সঙ্গমযুগে। তোমরা সবাই নতুন বছরের সাথে সাথে নব যুগের জন্য সবাইকে অভিনন্দিত করো। শুধু একদিনের অভিনন্দন নয়, বরং নবযুগের অনেক জন্মের অভিনন্দন জানিয়ে থাকো। এই সঙ্গমে ভালো ভাবে অনুভব করো যে, এই সময় আমরা-ব্রাহ্মণ আত্মাদের নতুন জীবন। নতুন জীবনে এসে গেছ তো না। ব্রাহ্মণদের সংসারই নতুন। অমৃতবেলা থেকে যদি দেখ তো নতুন রীতি, নতুন প্রীতি। পুরানো দুনিয়ার দিনচর্যা আর নতুন জীবন ব্রাহ্মণ জীবনের দিনচর্যাতে কত প্রভেদ! সব নতুন হয়ে গেছে - স্মৃতি নতুন, বৃত্তি নতুন, দৃষ্টি নতুন, সব বদলে গেছে, তাই না। আর নতুন জীবন কত প্রিয় লাগে! তাছাড়াও, নতুন জিনিস সবার প্রিয় লাগে। তোমরা পুরানো জিনিস ছেড়ে দিতে চাও আর নতুন জিনিস নিতে চাও। তাইতো, এই সময়ের এটা একটা ছোট নতুন সংসার। সংসারও নতুন আর সংস্কারও নতুন, সেইজন্য দুনিয়ার সকলেও নতুন বছর ধুমধামের সাথে পালন করে।

 

পালন করার অর্থ হলো উৎসাহ-উদ্দীপনা থাকা। উৎসাহ থাকে, সেইজন্য উদযাপনের দিনকে উৎসব বলা হয়ে থাকে। উৎসাহের সাথেই একে অপরকে শুভেচ্ছা বা অভিনন্দন অথবা গ্রিটিংস জানাও। তোমরা-ব্রাহ্মণ আত্মাদের জন্য প্রতিদিন উৎসব। সদা উৎসব অর্থাৎ উৎসাহ-উদ্দীপনায় থাকো। এই উৎসাহ-উদ্দীপনাই ব্রাহ্মণ জীবন। দুনিয়ার রেওয়াজ অনুসারে বিশেষ দিনকে উদযাপন করো, আজ উদযাপনের জন্য একত্রিত হয়েছ তো না। কিন্তু তোমাদের নবযুগ নতুন জীবনের উৎসাহ-উদ্দীপনা সদাই থাকে। এমন নয় যে ২ তারিখ হয়ে যাবে তো উৎসাহ-উদ্দীপনা শেষ হয়ে যাবে, একমাস হয়ে গেল তো একেবারে নিঃশেষ হয়ে যাবে। প্রতিদিন উৎসাহ-উদ্দীপনা বেড়ে যেতে থাকে, কম হয় না। এই রকমই তো তাই না? নাকি নিজের নিজের স্থানে ফিরে যাবে তো উৎসাহ-উদ্দীপনা শেষ হয়ে যাবে? প্রতি মুহূর্ত উৎসাহ-উদ্দীপনার কারণ উৎসাহ-উদ্দীপনাই তোমরা সব ব্রাহ্মণের উড়তি কলার পাখা। এই উৎসাহ-উদ্দীপনার পাখায় সদা উড়তে থাকো। কার্যার্থে যদি কর্ম করতেও হয়, তখনও উড়তি কলার স্থিতি দ্বারা কর্মযোগী হয়ে কর্মে এসো। তোমরা তো উড়তি কলার, তাই না, সুতরাং পাখা ব্যতীত তো উড়তে পারবে না, তাইতো, উড়তি কলার এই উৎসাহ-উদ্দীপনার পাখা সদা তোমাদের সাথে থাকে। এই উৎসাহ-উদ্দীপনা তোমরা সব ব্রাহ্মণের জন্য সর্বাধিক শক্তি। নীরস জীবন নয়। দুনিয়ার লোকে তো বলবে, কী করবো, মধুরতা নেই, একেবারে নীরস, রসকষহীন আর তোমরা কী বলবে, সদাই উৎসাহ-উদ্দীপনার রস বিদ্যমান। তোমরা কখনো হতোদ্যম হতে পারো না। সদা আনন্দিত মন। যে কোনো সমস্যাসঙ্কুল বিষয় হোক না কেন, উৎসাহ-উদ্দীপনা কঠিন সমস্যাকে সহজ করে দেয়। উৎসাহ তুফানকেও তোহ্ফা (উপহার) বানিয়ে দেয়, পাহাড়কেও সর্ষে নয়, বরং তুলোতে রূপান্তর করে দেয়। উৎসাহ কোনও পরীক্ষা কিংবা সমস্যাকে মনের প্রসন্নতার অনুভব করায়। সেইজন্য উৎসাহ-উদ্দীপনায় থাকা তোমরা নবযুগের আধারমূর্ত, নব জীবনপ্রাপ্ত ব্রাহ্মণ আত্মা। তোমরা নিজেদেরকে জানো। দৃঢ় প্রত্যয়ও আছে, নাকি শুধুই জানো? কী বলবে? তোমরা জানোও, মানোও আর সেইমতো অগ্রচালিত হও। সদা এই উৎসাহ থাকে যে, পূর্ব কল্পেও আমিই ছিলাম, এখনও আছি আর অনেকবার আমিই হবো। তাহলে, অবিনাশী উৎসাহ হলো তো না। ছিলাম, আছি আর সদা হবো - তিনকালের হয়ে গেল, তাই না। পাস্ট, প্রেজেন্ট আর ফিউচার তিনকাল তোমরাই হয়েছ। সুতরাং অবিনাশী হয়ে গেল, গেল তো না। বাপদাদা দেখছিলেন যে অবিনাশী উৎসাহ-উদ্দীপনায় থাকা আত্মারা নম্বরক্রমে আছে, নাকি সবাই নম্বর ওয়ান? যখন তোমরা নিশ্চয়বুদ্ধি বিজয়ী হয়েই আছ, তাহলে বিজয়ী তো অবশ্যই নম্বর ওয়ান হবে তো না, থোড়াই নম্বরক্রমে হবে!

 

অতএব, সদা এই নব জীবনের এই উৎসাহে উড়ে চলো কেননা, তোমরা আধারমূর্ত। শুধু নিজের জীবনের জন্য নও, বরং বিশ্বের সকল আত্মার জন্য তোমরা আধারমূর্ত। তোমাদের শ্রেষ্ঠ বৃত্তি দ্বারা বিশ্বের বাতাবরণ পরিবর্তন হচ্ছে। তোমাদের পবিত্র দৃষ্টিতে বিশ্বের আত্মা আর প্রকৃতি - উভয়ই পবিত্র হচ্ছে। তোমাদের দৃষ্টিতে সৃষ্টি পরিবর্তন হচ্ছে। তোমাদের শ্রেষ্ঠ কর্মের দ্বারা শ্রেষ্ঠাচারী দুনিয়া তৈরি হচ্ছে। তাহলে, কত দায়িত্ব তোমাদের! বিশ্বের দায়িত্বের মুকুট পরে আছ, আছ না? নাকি কখনও ভারী মনে হয় ব'লে নামিয়ে দাও? কী করো? যারা ডবল লাইট থাকে তাদের এই দায়িত্বের মুকুটও সদা লাইট (হালকা) অনুভব হবে, ভারী লাগবে না। এই সময়ের মুকুটধারী ভবিষ্যতের মুকুটধারী হয়। সুতরাং নতুন বছরে কী বলবে তোমরা? অব্যক্ত বছর উদযাপন করেছ, অব্যক্ত বছর অর্থাৎ ফরিস্তা হয়ে গেছ, নাকি এখনও হতে হবে? ফরিস্তা কী করে?

 

অব্যক্ত হওয়ার অর্থই হলো ফরিস্তা। পুরানো বছর যখন সম্পূর্ণ করেছ তো ফরিস্তা হয়েছ তো না? নাকি হওনি? তবে কী এখন অব্যক্ত বছর লম্বা করা উচিত? দুই বছরে এক বছর বানানো উচিত? তোমাদের এখন আরও এগিয়ে যেতে হবে, হবে তো না। অব্যক্ত বছর উদযাপন করেছ, এখন ফরিস্তা হয়ে কী করবে?

 

সদা প্রতিদিন, প্রতিটা মুহূর্ত মহাদানী আর বরদানী হতে হবে। সুতরাং এই বছর মহাদানী বরদানী বছর হিসেবে উদযাপন করো। সম্পর্ক-সম্বন্ধে যে আসবে মহাদানী হয়ে সেই আত্মাকে কোনো না কোনো শক্তির, জ্ঞানের, গুণের দান দিতেই হবে। তিন ভাণ্ডার কত পরিপূর্ণ হয়ে গেছে! জ্ঞানের ভাণ্ডার পূর্ণ হয়েছে, নাকি একটু কম আছে? মাস্টার নলেজফুল তোমরা, তাই না। তাইতো তোমাদের জ্ঞানের ভাণ্ডারও আছে, শক্তির ভাণ্ডারও আছে আর গুণের ভাণ্ডারও। এই তিন ভাণ্ডারে সম্পন্ন তোমরা নাকি একটা ভাণ্ডারে, অন্য দুটোতে নও? বর্তমান সময়ে আত্মাদের এই তিনের খুবই আবশ্যকতা রয়েছে। সারাদিনে কোনো না কোনো দান দিতেই হবে, হয় তা' জ্ঞানের, নয়তো শক্তির অথবা গুণের, কিন্তু দিতেই হবে। মহাদানী আত্মাদের যেন কোনও দিন বিনা দানে না অতিবাহিত হয়। এমন নয়, বছর পুরিয়ে যাবে আর তখন বলবে আমি তো চান্সই পাইনি। চান্স নেওয়াও নিজের উপরে, নাকি চান্স দেবেন যিনি, তিনি চান্স দিলে তবেই নিতে পারবে! নাকি নিজেও চান্স নিতে পারো, নিতে জানো? নাকি কেউ দিলে তবেই নিতে জানো? কেউ চান্স না দিলে তবে কী করবে? দেখতে থাকবে আর ভাবতে থাকবে? সারাদিনে হয় ব্রাহ্মণ আত্মাদের, অথবা অজ্ঞানী আত্মাদের সম্বন্ধ-সম্পর্কে আসতে তো হচ্ছেই, তাই না। যাদের সম্বন্ধ-সম্পর্কেই আসো তাদের কোনো না কোনো দান অর্থাৎ সহযোগ দাও। দান শব্দের রূহানী অর্থ সহযোগ দেওয়া। তো প্রতিদিন মহাদানী কিংবা বরদানী হয়ে বরদান কীভাবে দেবে? বরদান দেওয়ার বিধি কী? তোমাদের জড় চিত্র তো এখনও বরদান দিচ্ছে। সুতরাং বরদান দেওয়ার বিধি হলো - যে আত্মারাই সম্বন্ধ-সম্পর্কে আসবে তাদেরকে নিজের স্থিতির বায়ুমন্ডল দ্বারা এবং নিজের বৃত্তির ভাইব্রেশন দ্বারা সহযোগ দেওয়া অর্থাৎ বরদান দেওয়া। যেমনই আত্মা হোক, এমনকি সে যদি তোমায় কটু কথাও বলে, নিন্দা করে, তবুও কিন্তু তোমার নিজের শুভ ভাবনা, শুভ কামনা দ্বারা, বৃত্তি দ্বারা, স্থিতি দ্বারা এমন আত্মাকেও গুণ দান কিংবা সহনশীলতার শক্তির বরদান দাও। ক্রোধাগ্নিতে জ্বলছে এমন কেউ যদি তোমাদের সামনে আসে, তাহলে সেই অগ্নিতে তেল দেবে নাকি জল দেবে? জল দেবে নাকি একটু তেলের ছিঁটে দেবে? ক্ৰোধীর সামনে নিজের বোল দ্বারা ক্রোধ হয়তো করলে না, কথা না ব'লে শান্ত থাকলে কিন্তু চোখ দ্বারা, চেহারা দ্বারা ক্রোধের ভাবনা যদি রাখো তবে সেটাও তেলের ছিঁটে দেওয়া হলো। ক্ৰোধী আত্মা পরবশ হয়, দয়ার শীতল জল দ্বারা তাদের বরদান দাও। তো এমন বরদানী হয়েছ? নাকি প্রয়োজনের সময় সহনশক্তির তির কাজ করে না? যদি সময়মতো কোনও অমূল্য বস্তু কার্যকরী না হয় তাহলে তাকে অমূল্য বলা যাবে? অমূল্য অর্থাৎ যেটা যে কার্যের জন্য সেটা সঠিক সময়ে কার্যে প্রয়োগ হলে তবেই তার মূল্য। সুতরাং এই বছরে কী করবে? মহাদানী, বরদানী হও।

 

তোমরা সাকার রূপে মহাদানী বরদানী হওয়ার সংস্কারে নিজেদের পরিপূর্ণ করো, তবেই তো জড় চিত্র দ্বারাও বরদানী মূর্ত হও। সংস্কার তো এখনই ভরতে হবে, তাই না। নাকি যে সময়ে মূর্তি হবে সেই সময় ভরবে? মহাদানী-বরদানী মূর্ত হওয়াতে ব্যর্থ আপনা থেকেই শেষ হয়ে যাবে, কারণ যে মহাদানী, বরদানী হয় সে দাতা, অন্যকে দেয়। দাতা হওয়ার অর্থই হলো সমর্থ হওয়া। সমর্থ হবে তবে তো দেবে! সুতরাং যেখানে সমর্থ সেখানে আপনা থেকেই ব্যর্থ শেষ হয়ে যায়। সমর্থ স্থিতি হলো সুইচ অন হওয়া। যেমন, এই স্থূল লাইটের সুইচ অন করা অর্থাৎ অন্ধকারকে সমাপ্ত করা, ঠিক তেমনই সমর্থ স্থিতি অর্থাৎ সুইচ অন করা। তো তোমাদের সুইচ অন আছে নাকি কখনো ঠিক, কখনো লুজ্ হয়ে যায় নাকি ফিউজ হয়ে যায়? অন করতে জানো তো না! আজকাল তো ছোট ছোট বাচ্চারাও সুইচ অন করতে পারদর্শী। তারা টিভির সুইচ অন করে দেয়, দেয় না? তো সুইচ অন করায় প্রত্যেক ব্যর্থ সঙ্কল্পকে সমাপ্ত করার পরিশ্রম থেকে রেহাই পেয়ে যাবে। অব্যক্ত ফরিস্তাদের এটাই শ্রেষ্ঠ কার্য। আর কী নতুনত্ব করবে? অব্যক্ত বছরে নিজেদের চার্ট রেখেছিলে নাকি কখনো রেখেছিলে, কখনো রাখনি? যারা কখনো-কখনো রাখে সেরকম হয়েছ, নাকি যারা সদা রাখে তেমন হয়েছ? কখনো কখনো যারা রাখে তাদের সংখ্যা বেশি।

 

এই নতুন বছরে নতুন চার্ট রাখো। কী নতুন চার্ট রাখবে? চার সাবজেক্ট তো ভালোভাবে জানো। তো এই বছরে চার সাবজেক্টেই এই চার্ট রাখতে হবে - জ্ঞানে যোগে ধারণায় সেবায়, প্রতিটা সাবজেক্টে প্রতিদিন কোনো না কোনো নবীনত্ব আনতে হবে। জ্ঞান অর্থাৎ বুঝদার হওয়া, জ্ঞান-বুদ্ধি দেওয়া এবং বিচক্ষণ হয়ে চলা। জ্ঞানে নবীনত্বের অর্থ হলো নিজের মধ্যে যেটা খামতি রয়েছে তা' ধারণ করা অর্থাৎ নিজের ঘাটতি পূরণ করা, তাহলেই তো নবীনত্ব হলো, তাই না। নেই থেকে আছে হলো, তো নতুনই হলো, হলো না! এই রীতিতে যোগের প্রয়োগে প্রতিদিন কোনো না কোনো নতুন কিছু অনুভব করো। খুব ভালো ভাবে যোগে বসেছ, খুব ভালো যোগ হয়েছে, কিন্তু নবীনত্ব কী হয়েছে? পার্সেন্টেজ বর্ধিত হওয়াও নবীনত্ব। আজ যদি তোমার যোগের পার্সেন্টেজ হয় শতকরা ৫০ ভাগ আর কাল ৫০ থেকে বৃদ্ধি হয়ে যায় তবে সেটাই নতুনত্ব। এমন নয় যে, এক মাসে ৫০% ৫০% পর্যন্তই যোগ লাগাও। চার সাবজেক্টের মধ্যে স্ব-প্রগতিতে নবীনত্ব, বিধিতে নবীনত্ব, প্রয়োগে নবীনত্ব, অন্যদের সহজ যোগী বানানোতে নবীনত্ব হতে দাও, পার্সেন্টেজ বেড়ে যাওয়া মানেই নবীনত্ব। কা'কে দুঃখ দিয়েছ, কা'র প্রতি ক্রোধ করেছ এটা বলা তো কমন চার্ট। এই চার্ট তো যারা তোমাদের রয়্যাল প্রজা তারাও রাখে। তোমরা রয়্যাল প্রজা নাকি রাজা? তো নবীনত্বের দ্বারা আপনা থেকেই তীব্র পুরুষার্থের সমীপতার অনুভূতি হতে থাকবে। বুঝেছ, কোন চার্ট রাখতে হবে? আর প্রতি তিন মাসের রোজকার চার্ট এখানে পাঠিও না, কাজ বেড়ে যাবে। এই বছর তোমাদের ইকনমিক্যাল হতে হবে তো না। এই বছর বিশেষ ইকনমি বছর। একনামি আর ইকনমি। জ্ঞান সরোবর বানাচ্ছ তো সবকিছু তোমাদের ইকনমিক্যাল করতে হবে। সমগ্র ভাণ্ডারের সাথে ইকনমিক্যাল হও - সময়ের সাথেও, সঙ্কল্পে, সম্পত্তিতে সবকিছুতে। সুতরাং প্রতি তিন মাসের চার্ট নিজেই সাক্ষী হয়ে চেক করে শর্টে নিজের সমাচার দিও। প্রতি তিন মাসে দেখ প্রগতি হয়েছে নাকি যেমন ছিল তেমনই আছে? অধোগতি কলায় তো যেতে চাও না। কিন্তু এমনও হতে দিও না যে, যেমনকার তেমনই থাকবে। পুরুষার্থে মিজেট (বামন/লিলিপুট) হয়ো না। মিজেট ভালো লাগবে! এমন ব'লো না যে, চেয়েছিলাম তো কিন্তু কী করব... ! কী কী বলা উচিত নয়। ব্রাহ্মণদের ভাষা এটা নয় কী করবো, কীভাবে করবো, এভাবে করবো, ওভাবে করবো... বরং অন্যকেও সহযোগ দেবে এভাবে করো। বুঝেছ, কোন চার্ট রাখতে হবে? তারপরে দেখব কে কে কী কী করে!

 

বাপদাদা স্নেহের কারণে নাম অ্যানাউন্স করেন না। কে কী করেছে, তিনি জানেন তো না। আজকাল টিভি থাকা একটা ফ্যাশন, বাপদাদার কাছেও টিভি আছে। বাপদাদা জানেন, বিগত বছরে যে কাজ দিয়েছিলেন সেটা কে কতটা করেছে ! যতই হোক, তিনি কি নাম অ্যানাউন্স করবেন, কত হাফ কাস্ট থেকেছে, কত ফুল কাস্ট থেকেছে?

 

সুতরাং এই বছরে নিজেদের জন্যও মহাদানী-বরদানী মূর্ত হও এবং অন্য সকলের জন্যও। আর প্রতিদিন কোনো না কোনো নবীনত্ব অর্থাৎ প্রোগ্রেস অবশ্য করো। তো এটাই হলো নিজের জন্য পুরুষার্থ। সেবাতে কী করবে? সেবাতেও নতুনত্ব আনতে হবে তো না ! মেলাও অনেক করেছ, অগণিত প্রদর্শনী করেছ, সেমিনার-কনফারেন্সও অনেক করে নিয়েছ, এখন তোমাদের মাইক প্রস্তুত করতেই হবে যাঁর আওয়াজ অতি মহত্ত্বপূর্ণ, কিন্তু তার বিধি কী? আগেই তোমাদের বলা হয়েছিল, কিন্তু সেটা তোমরা কম করেছ। সেবার রেজাল্টেও দেখা গেছে যে, নেতা হোক বা কোনো বড় ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্ট হোক, কিংবা কোনো বড় অফিসার, এই নিমিত্ত আত্মাদের কাছে আনার সাধন হলো, আগে তাদের সেক্রেটারীদের বুদ্ধি করে কাছে নিয়ে এসো। তোমরা কর্তাব্যক্তিদের ক্ষেত্রে টাইম দিয়ে থাকো, তাঁরাও ভালো ভালো ব'লে ঘুমিয়ে পড়ে। তারপরে আবার তাদের জাগানোর জন্য তোমাদের কাছে পর্যাপ্ত সময় থাকে না, না তারা সময় দেয়, না তোমরা যেতে পারো। সেক্রেটারি যারা হয় তারা বদলায় না, বড় মাথারা সব বদলেও যায়। আজ তোমরা এক মিনিস্টারের সেবা করো আর কাল সে প্রজা (সাধারণ লোক) হয়ে যায়। সেক্রেটারি যথেষ্ট সহযোগী হতে পারে। যে কোনো শ্রেণীবর্গের সেবাতে এই বছর বিশেষভাবে সেক্রেটারি, ম্যানেজার, কিংবা প্রাইভেট অ্যাসিস্টেন্ট অর্থাৎ যারাই প্রভাবশালী কর্তাব্যক্তিদের কাছাকাছি হবে, সেই আত্মাদের বিশেষ সেবা করো।

 

আরেকটা বিষয়, তোমাদের আগেই বলা হয়েছে যে, বর্তমান সময় 'খরচ কম, অথচ সুপ্রসিদ্ধি' - এই বিধিতে যে সমস্ত ছোট বা বড় সংস্থা আছে, অ্যাসোসিয়েশন আছে তাদের সঙ্গে সম্বন্ধ-সম্পর্ক রাখো, প্রস্তুত করা স্টেজে নাম খ্যাতিসম্পন্ন করো। কম খরচ, সুপ্রসিদ্ধ। করছ, কিন্তু আরও তীব্রগতিতে করো। প্রতিটা দেশে কিংবা প্রতিটা গ্রামে অথবা প্রতিটা জেলায় বিভিন্ন ধরনের যে যে অ্যাসোসিয়েশন আছে বা বিভিন্ন শ্রেণীর কার্যে যুক্ত, যারা কনফারেন্স করে বা সম্মেলন করে, প্রস্তুত করা সেই স্টেজে বার্তা দাও। তবেই সময় আর পরিশ্রম দুইই বেঁচে যাবে। এখন এটা তীব্রগতিতে করো। চেক করো, যে দেশের কিংবা যে স্থানের তোমরা নিমিত্ত হয়েছ, সেই স্থানের কোনও সংস্থা যেন বঞ্চিত না থেকে যায়, কারণ বর্তমান সময়ে বায়ুমন্ডল পরিবর্তন হয়ে গেছে। লোকের এখন ভয় কম, স্নেহ বেশি। তারা বিশ্বাস করে এটা ভালো। তারা ভালো হয় না, কিন্তু ভালো হিসেবে মান্যতা দেয়। সেইজন্য দু'রকমের সেবাকে আরও আন্ডারলাইন করো তবে সহজে মাইক তৈরি হয়ে যাবে। নতুন বছর শুরু করেছ তো নতুন বিধি আর বিধানও চাই তো না।

 

এই নতুন বছরের অমৃতবেলা সদা এই স্লোগান ইমার্জ করো, "সদা উৎসাহ-উদ্দীপনায় উড়তে হবে আর অন্যকেও উড়াতে হবে।" মাঝে মাঝে চেক করো, ইমার্জ করো, উৎসাহ-উদ্দীপনার পরিবর্তে অন্য কোনো রাস্তায় তোমরা চলে যাওনি তো? উড়তি কলার পরিবর্তে আর কোনো কলা নিজের দিকে আকর্ষণ করেনি তো? আচ্ছা !

 

চতুর্দিকের নব জীবন অনুভবকারী সকল ব্রাহ্মণ বাচ্চাকে, সদা নব যুগের আধারমূর্ত শ্রেষ্ঠ আত্মাদের, সদা সঙ্কল্প, বোলের কর্ম দ্বারা মহাদানী বরদানী আত্মাদের, সদা নিজের স্থিতি দ্বারা অন্যদের পরিস্থিতিকেও সহজ বানানো সমর্থ আত্মাদের, সদা প্রতিদিন নিজের মধ্যেকার প্রগতি অর্থাৎ নবীনত্ব অনুভব করে এমন সমীপ আত্মাদের, যারা সদা একনামি এবং ইকনমি করে সেই সমীপ আত্মাদের বাপদাদার স্মরণ-স্নেহ আর নমস্কার।

বরদানঃ-তনকে আত্মার মন্দির মনে করে তাকে স্বচ্ছ বানিয়ে নম্বর ওয়ান শ্রেষ্ঠ ব্রাহ্মণ আত্মা ভব

আমরা ব্রাহ্মণ আত্মারা সারা কল্পে নম্বর ওয়ান শ্রেষ্ঠ আত্মা, হীরে তুল্য, এই স্মৃতি দ্বারা তনকে আত্মার মন্দির মনে করে স্বচ্ছ রাখতে হবে। মূর্তি যত শ্রেষ্ঠ হয় ততই মন্দিরও শ্রেষ্ঠ হয়। সুতরাং এই শরীর রূপী মন্দিরের আমি ট্রাস্টি, এই ট্রাস্টি বোধ নিজেই স্বচ্ছতা এবং পবিত্রতা নিয়ে আসে। এই বিধিতে তনের পবিত্রতা সদা রূহানী সুগন্ধির অনুভব করাতে থাকবে।

স্লোগানঃ-রূহানিয়তে থাকার ব্রত নেওয়াই জ্ঞানী তু আত্মা হওয়া।

No comments:

https://bkrajyogpathshala.blogspot.com/

01-04-2026 Bengali Murli

 মিষ্টি বাচ্চারা - বাচ্চারা, বাবা যা, বাবা ঠিক যেমন, তোমরা বাচ্চারাও তাঁকে নম্বর ক্রমানুসারেই চিনেছো, যদি সকলেই তাঁকে চিনে গেলে তবে তো অত্যন...