Saturday, February 4, 2023

04.02.2023 BANGLA MURLI

                                               04.02.2023 HINDI MURLI



মিষ্টি বাচ্চারা - বাবার থেকে সকল সম্বন্ধের সুখ প্রাপ্ত করতে হলে বাকি সমস্ত কিছুর থেকে বুদ্ধি যোগ উঠিয়ে নিয়ে শুধু আমাকে স্মরণ করো, এটাই হলো মূল লক্ষ্য"

*প্রশ্নঃ -    বাচ্চারা তোমরা এই সময় কোন্ ভালো কাজ করে থাকো, যার রিটার্নে (প্রতিদানে) তোমরা অগাধ বিত্তশালী হয়ে যাও?

*উত্তরঃসর্বোত্তম কর্ম হলো - জ্ঞান রত্নের দান করা এই অবিনাশী জ্ঞান ভান্ডারই পরে ২১ জনমের জন্য বিনাশী ধন সম্পত্তি তে ট্রান্সফার হয়, এতেই তোমরা অগাধ সম্পত্তির মালিক হও যে যত জ্ঞানরত্নকে ধারণ করে অন্যদেরকে ধারণ করায় সে ততো ধনসম্পত্তির মালিক হয় অবিনাশী জ্ঞান রত্নের দান করা - এটাই হলো সর্বোত্তম সেবা

ওম্ শান্তি । শিববাবা তাঁর শালগ্রাম বাচ্চাদেরকে বুঝিয়ে থাকেন। এ হলো পরমাত্মার নিজের সন্তানদের অর্থাৎ আত্মাদের জন্য জ্ঞান । এক আত্মা কখনো অন্য আত্মাকে জ্ঞান দিতে পারে না। পরমাত্মা শিব এসে, ব্রহ্মা সরস্বতী এবং তোমাদের মতো লাকি স্টার বাচ্চাদের উদ্দেশ্যে বোঝান। সেইজন্য একে পরমাত্ম জ্ঞান বলা হয়। পরমাত্মা তো একজনই আছেন বাদবাকি সবই হলো ক্রিয়েশন (রচনা), ক্রিয়েটরের (রচয়িতা) । ঠিক যেমনভাবে লৌকিক বাবা কখনো এমন বলবে না যে, আমার সন্তানেরা হলো আমারই রূপ । না, তিনি বলবেন এরা আমারই রচনা। এখন শিব বাবা হলেন আত্মিক পিতা, তিনিও তাঁর নিজের ভূমিকা পালন করছেন । তিনিই হলেন প্রধান অ্যাক্ট, ক্রিয়েটর আর ডায়রেক্টর । আত্মাকে কখনো ক্রিয়েটর (রচয়িতা) বলা যায় না। পরমাত্মার বিষয়েই বলা হয় যে, তোমার মতিগতি তুমিই জানো। জাগতিক গুরুদের তো নিজ নিজ পৃথক মতাদর্শ আছে। সেই কারণে পরমাত্মা এসে এক মত প্রদান করেন। তিনি তো মোস্ট বিলাভেট (সকলের সবচেয়ে প্রিয়) । সেই এক এর সাথে বুদ্ধিযোগ যুক্ত করতে হবে আর বাকি যাদের সাথে তোমাদের প্রীতি আছে, তারা শুধু ধোঁকা দেবে, সেই কারণেই সেই সমস্ত কিছুর থেকে বুদ্ধি সরিয়ে নাও। আমি তোমাদেরকে সকল সম্বন্ধের সুখ দেবো, শুধুমাত্র মামেকম্ (স্মরণ করো) - এটাই হলো লক্ষ্য। আমি সকলের প্রিয় পিতাও, শিক্ষকও আবার গুরুও । এখন তোমরা জানো যে সেই জ্ঞানের দ্বারাই তোমরা জীবনমুক্তি পাবে। এটাই সেই অবিনাশী জ্ঞানের রত্ন ভান্ডার । এই রত্ন ভান্ডার পরিবর্তিত হয়ে পড়ে ২১ জন্মের জন্য জাগতিক ধনসম্পত্তি হয়ে যায় । ২১ জন্ম ধরে আমরা ভরপুর হয়ে যাই। রাজার রাজা হয়ে যাই। এই অবিনাশী ধনের দান করতে হবে। আগে যখন পূর্বে যখন বিনাশী অর্থ সম্পত্তি দান করতে, তার ফল স্বরূপ পরবর্তী জন্মে অল্পকালের ক্ষণভঙ্গুর সুখ প্রাপ্ত হত। বলা হয় যে পূর্বজন্মে নিশ্চয় কিছু দান ধ্যান করে পূণ্য অর্জন করেছিল, তারই ফল এখন পাচ্ছে। কিন্তু সেই ফল শুধুমাত্র এক জন্মের জন্যই প্রাপ্ত হয়। জন্ম জন্মান্তরের প্রাপ্তি নয়। এখন আমরা যা করব তার প্রাপ্তি আমরা জন্ম জন্মান্তর ধরে পাবো। সুতরাং এ হলো অনেক জন্মের বাজি ধরা। পরমাত্মার কাছ থেকে অনন্তের উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করতে হবে। সর্বোত্তম কর্ম হলো অবিনাশী জ্ঞানের ভান্ডার দান করা। যতটা নিজে ধারণ করে অন্যকে ধারণ করাবে ততোই নিজেও অগাধ সম্পত্তির মালিক হবে আর অন্যকেও তাই বানাবে। এ হলো সর্বোত্তম সেবা, যার দ্বারা সদগতি প্রাপ্ত হয়। দেবতাদের রীতিনীতি দেখো কেমন - সম্পূর্ণ নির্বিকারী, অহিংসা পরম ধর্ম। পিউরিফিকেশন (সম্পূর্ণ পবিত্রতা) সত্য যুগ এবং ত্রেতা যুগেই শুধু থাকে। দেবতারাই স্বর্গের অধিবাসী, অত্যন্ত উচ্চ হিসেবেই তাদেরকে স্মরণ করা হয়। সত্যযুগে সূর্যবংশে যারা জন্মগ্রহণ করে তারাই হলেন সম্পূর্ণ । তারপর থেকে একটু একটু করে খাদ্য পড়তে থাকে। এখন তোমরা জানো যে, দেবতারা কোন্ বেহস্তের (স্বর্গের) নিবাসী। বৈকুণ্ঠ হল ওয়ান্ডারফুল দুনিয়া, সেখানে অন্যান্য ধর্মের লোকেরা যেতে পারবে না। এই সমস্ত ধর্মের রচয়িতা হলেন উঁচুর থেকেও উঁচু ভগবত (ভগবান) । ব্রহ্মা, এই দেবী-দেবতা ধর্ম স্থাপন করেন না। ব্রহ্মাবাবা বলেন আমি তো ইম্পিওর ছিলাম, আমার মধ্যে এই জ্ঞান কোথা থেকে এলো। বাকি সমস্ত পবিত্র আত্মারা ওপর থেকে আসে নিজ নিজ ধর্ম স্থাপন করার জন্য। এখানে স্বয়ং পরমাত্মা ধর্ম স্থাপন করেন । যখন তিনি এঁনার মধ্যে আসেন তখন এঁনার নাম রাখেন ব্রহ্মা। বলা হয় ব্রহ্মাদেবতায় নমঃ, বিষ্ণুদেবতায় নমঃ.... এখন প্রশ্ন ওঠে যে তাহলে এই সকল দেবতাদের থেকে মনুষ্য সৃষ্টি রচিত হয়েছে কি ? না। পরমাত্মা বলেন - আমি যে সাধারণ দেহে প্রবেশ করি তার নাম রেখেছি ব্রহ্মা। উনি হলেন সূক্ষ্ম ব্রহ্মা সুতরাং দু'জন ব্রহ্মা হয়ে গেল। এনার নাম ব্রহ্মা রাখা হয়েছে, কারণ ঈশ্বর বলেন যে - আমি সাধারণ দেহে আসি। ব্রহ্মার মুখকমল থেকে ব্রাহ্মণ রচনা করি। আদি দেব থেকে হিউম্যানিটি রচিত হলো, ইনি হলেন হিউম্যানিটির (মনুষ্য) প্রথম বাবা, অতঃপর ক্রমশ বৃদ্ধি পেতে থাকে।

এখন আমি তোমাদেরকে রাজার রাজা বানাই। কিন্তু যখন দেহ সহ দেহের সমস্ত সম্বন্ধের থেকে মোহ ত্যাগ করতে পারবে তবেই হতে পারবে। বাবা, আমি শুধু তোমারই, ব্যস্। এই দৃঢ় নিশ্চয় তো অবশ্যই আছে যে তোমরা রাজকুমার হবে। চতুর্ভুজ এর সাক্ষাৎকার হয়, তাইনা। চতুর্ভুজ হলো যুগল মূর্তি। ছবিতে ব্রহ্মাকে ১০, ২০ ভুজ বিশিষ্ট দেখানো হয়। মা কালকে বহুভুজা দেখানো হয়েছে, কখনো কারোর এতগুলি হাত হয় না। এ সমস্তই হল অস্ত্রশস্ত্র। আমাদের এই পথ হল প্রবৃত্তি মার্গ। সুতরাং ব্রহ্মার যে এতগুলি হাত দেখানো হয় - এই ভেবে যে এই যে ব্রহ্মার এতগুলি সন্তান, তারা যেন তাঁর হাত। এছাড়া এই কালী ইত্যাদি বলে কিছু নেই, যেমন শ্রীকৃষ্ণকে কালো দেখানো হয়েছে, তেমনভাবে মা কালীর চিত্রকেও কালো করে দেওয়া হয়েছে। এই জগদম্বাও ব্রাহ্মণী। আমরা নিজেদেরকে ভগবান অথবা অবতার বলি না। বাবা বলেন - শুধুমাত্র মামেকম্ স্মরণ করো। বাস্তবে সকল শিবকুমারই হল শালগ্রাম। তারপর যখন তোমরা মানব তনে আসো, তখন তোমরা ব্রহ্মাকুমার ব্রহ্মাকুমারী নামে পরিচিত হও। ব্রহ্মাকুমার, ব্রহ্মাকুমারীরা তারপর সত্যযুগে গিয়ে বিষ্ণুকুমার বিষ্ণুকুমারী হবে। বাবা ক্রিয়েট করেন তারপর তাদের লালন-পালনও করতে হয়। এই রকম ডিয়ারেস্ট ড্যাড এর উত্তরাধিকারী তোমরা। তাঁর সাথে তোমরা সওদা করে থাকো। ইনি (ব্রহ্মাবাবা) তো এর মাঝখানে দালাল মাত্র।

বাবা হলেন হোলি গভর্মেন্ট । তিনি এসেছেন এই গভর্মেন্টকেও পাণ্ডব গভর্মেন্ট বানাতে । আমাদের এই সার্ভিস হলো অত্যন্ত উচ্চ এবং মহান। গভর্নমেন্টের প্রজাকে আমরা মানুষ থেকে দেবতা করে তুলি, বাবার সহায়তায়। সুতরাং আমরা তো তাদের সার্ভেন্ট, তাই না। আমরা ওয়ার্ল্ড সার্ভেন্ট, আমরা বাবার সাথে এসেছি সমগ্র দুনিয়ার সেবা করতে। আমরা এর পরিবর্তে কিছু নিই না। বিনাশী ধনসম্পত্তি মহল ইত্যাদি নিয়ে আমরা কি করব? আমাদের তো শুধুমাত্র ৩ পদ ভূমি (তিন পা পৃথিবী) চাই।

বাচ্চারা এখন তোমরা প্রকৃত জ্ঞান প্রাপ্ত করছো, শাস্ত্রের জ্ঞানকে জ্ঞান বলা হয় না, সে তো ভক্তি মাত্র। জ্ঞানের অর্থই হলো সদগতি। সদগতির অর্থ হল মুক্তি-জীবনমুক্তির প্রাপ্তি। যতক্ষণ পর্যন্ত না জীবনমুক্ত হবে ততক্ষণ পর্যন্ত মুক্তও হতে পারবে না। আমরা জীবনমুক্ত হয়ে যাই, বাকি সকলে মুক্ত হয়। তাইতো বলে যে তোমার মতি গতি তুমিই জানো। পরমাত্মা যে সর্বব্যাপী - এই কথা প্রমাণিত হয় না। পরমাত্মা বলেন যে, আমি কল্প-কল্প ধরে এসে নিজের মত এর দ্বারা সকলের সদগতি করি। সদ্গতির সাথে গতিও এসেই যায়। নতুন দুনিয়াতে খুব অল্পসংখ্যকই থাকবে । আগে আমরা বলতাম যে - এই জগতে এখানেই সূর্য এখানেই চাঁদ আর এখানেই ৯ লক্ষ নক্ষত্র রয়েছে... প্রকৃতপক্ষে সূর্য এখন এই সময় এখানেই রয়েছে। শিব এই জগতে এসেছেন, যখন এত বিস্তার হয়েছে। এখন এখানে মাম্মা, বাবা আর তোমরা বাচ্চারা সৌভাগ্যবান নক্ষত্র মন্ডলী রয়েছো। বিবেকও বলে যে সত্যযুগে নিশ্চয়ই খুব কম সংখ্যক জন থাকবে। তারপর জনসংখ্যা বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়। এ সমস্তই ভালো করে বুঝে নেওয়ার বিষয়। যে যত পবিত্র হবে সে ততটা ধারণ করতে পারবে। অপবিত্রতা থাকলে ধারণ কম হবে। পবিত্রতা সর্বপ্রথম প্রয়োজন। ক্রোধের ভূত যদি থেকে যায় তবে মায়ার সাথে যুদ্ধে হেরে যাবে। এ তো যুদ্ধ, তাই না? ওস্তাদের হাতে নিজের হাত দিয়ে তাঁকে সম্পূর্ণ দায়িত্ব দিয়ে দিতে হবে। না হলে এই প্রবল মায়া ভাসিয়ে নিয়ে যাবে। যাদের হাত তাঁর হাতে সম্পূর্ণভাবে দেওয়া আছে এই জ্ঞানের রিমঝিম বর্ষা, শুধু তাদেরই জন্য রয়েছে। বাবা সাক্ষী হয়ে নিজের পার্টও পালন করেন আর দেখতেও থাকেন। এখন এটা তো তোমরা বুঝতেই পারো যে মা বাবা আর লাকি স্টার্স, অনন্য যারা তাঁদেরকে ফলো করতে হবে। বাবা তো বুঝিয়েছেন যে মুরলী পড়া কখনো ছেড়ো না। আচ্ছা!

মিষ্টি মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা পিতা বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত। আত্মাদের পিতা ওঁনার আত্মারূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।

রাত্রি ক্লাস ২৩-১২-৫৮

দেখো সর্বশক্তিমান বাবার কত আত্মিক কারখানা (সেন্টার) এখানে রয়েছে। যেখান থেকে প্রত্যেকে আত্মিকরত্ন প্রাপ্ত করে। সব কারখানার শেঠ হলেন বাবা। ম্যানেজাররা সামলাচ্ছে আর দোকান চলছে। একে দোকানই বলো আর হোস্টেলই বল... এইসব তোমাদের অর্থাৎ ব্রাহ্মণদের পরিবারও বটে। তোমাদেরকে নিজেদের জীবন তৈরী করতে হবে এডুকেশন এর দ্বারা । এখানে আত্মিক এবং শারীরিক দুটোই রয়েছে । দুইই হলো অসীম জগতের। আর ওখানে হলো আত্মিক এবং শারীরিক উভয়ই জাগতিক এর। গুরু গন যে সকল শাস্ত্র ইত্যাদির শিক্ষা প্রদান করেন সে সবই সীমিত বা জাগতিক । আমরা কোনো মানুষকে গুরু হিসেবে মানি না। আমাদের তো কেবল এক সদ্গুরু, যিনি একটিই রথে চেপে আসেন। ক্ষণে ক্ষণে তাকে স্মরণে রাখলে তবেই তো বিকর্ম বিনাশ হবে। তোমরা এই সমস্ত ধন সেই গ্র্যান্ডফাদারের কাছ থেকে পাও, সেই কারণেই তাকে স্মরণ করতে হবে। এমন কোনো কর্ম কখনো করোনা যা, বিকর্ম হয়ে যায়। সত্যযুগে সমস্ত কর্মই অকর্ম হয়, এখানে সকল কর্মই বিকর্ম হয়ে যায়, কারণ ৫ ভুতের প্রভাব পড়ে। আমরা সম্পূর্ণ সেফ। বাবা বলেন বিকর্ম দান করে দিলে পুনরায় যদি তা ফেরত নিয়ে নাও তাহলে লোকসান হয়ে যাবে। কখনো এটা ভেবো না যে লুকিয়ে গোপনে করলে বাবা জানতে পারবে না। ধর্মরাজ তো সবই জানতে পারবে। এই সময় বাবাকে অন্তর্যামী বলা হয়, প্রত্যেক বাচ্চার রেজিস্টার শুধু বাবাই দেখতে পান। যেহেতু তিনি বাচ্চাদের অন্তরের অন্তস্থল অব্দি জানতে পারেন তাই তাঁর কাছ থেকে কোনো কিছু লুকিয়ে রেখো না। বাচ্চারা বাবাকে চিঠি লেখে যে, বাবা আমাদের ভুল হয়ে গেছে, ক্ষমা করে দাও, ধর্মরাজের দরবারে সাজা দিও না। যেন সরাসরি শিব বাবাকে চিঠি লেখে। বাবার নামে এই পোস্ট বক্সে চিঠি দিয়ে দেয়। বাবার কাছে ভুল স্বীকার করে বলে দিলে অর্ধেক সাজা মাফ হয়ে যায়। এখানে অত্যন্ত পবিত্রতার প্রয়োজন। সর্বগুণ সম্পন্ন, ১৬ কলা সম্পন্ন এখানেই হয়ে উঠতে হবে। এখানে তো রিহার্সাল হবে তারপর ওখানে সত্যযুগে প্র্যাকটিক্যালে পার্ট করতে হবে। নিজেকে যাচাই করে নিতে হবে, কোনো বিকর্ম করি না তো? সংকল্প অনেক আসবে, মায়া অনেক পরীক্ষা নেবে, কিন্তু ভয় পেয়ো না। অনেক লোকসান হবে, ব্যবসা চলবে না, পা ভেঙে যেতে পারে, অসুস্থ হয়ে পড়বে..... যাই হয়ে যাক না কেন, বাবার হাত কখনো ছেড়ো না। অনেক রকমের পরীক্ষা আসবে। সবার প্রথমে তা বাবার সামনে আসে। তাই বাবা বলে দেন যে, সাবধান থেকো, দুর্বল না হয়ে পালোয়ান হয়ে ওঠো।

দেখো ভারতে যত ছুটি থাকে আর কোথাও তা পাওয়া যায় না। কিন্তু এখানে আমাদের এক সেকেন্ডও ছুটি নেই, কারণ বাবা বলেন প্রতিটি শ্বাস-প্রশ্বাসে বাবার স্মরণে থাকো । এক একটি শ্বাস অত্যন্ত মূল্যবান, তাহলে তা নষ্ট কি করে করবে? যে অপচয় করে সে পদভ্রষ্ট হয়ে যায়। এই জন্মের এক একটি শ্বাস অত্যন্ত মূল্যবান। দিনরাত বাবার সেবায় নিযুক্ত থাকতে হবে। তোমরা সর্বশক্তিমান বাবার প্রেমী নাকি তিনি যে রথে আরোহন করে আসেন তার প্রেমী? নাকি উভয়েরই? অবশ্যই দু'জনেরই প্রেমী হতে হবে। বুদ্ধিতে এটা থাকবে যে বাবা এই রথে আছেন। তার জন্যই তোমরা এই রথকেও ভালবাসো। শিবের মন্দিরে ষাঁড়ের মূর্তি রয়েছে। শিবের সাথে তারও পূজা হয়। কতখানি গূঢ় রহস্য এ' সব। যারা রোজ শোনে না, তারা অনেক পয়েন্ট মিস করে ফেলে । যারা রোজ শোনে তারা কখনও পয়েন্টস্ এ ফেল হবে না । তাদের ম্যানার্সও খুব ভালো থাকবে। বাবার স্মরণে থাকলে অনেক প্রফিট। তারপর হলো বাবার নলেজকে স্মরণে রাখা । তখন যোগেও লাভ হবে, জ্ঞানেও লাভ হবে। বাবাকে স্মরণ করলে তাতে সবচেয়ে বেশি লাভ, কারণ তার দ্বারা বিকর্ম বিনাশ হয় আর উচ্চপদ প্রাপ্ত হয়। আচ্ছা!

মিষ্টি মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা পিতা বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর শুভরাত্রি। আত্মাদের পিতা ওঁনার আত্মারূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।

*ধারণার জন্যে মুখ্য সারঃ-*

১ ) প্রতিটি শ্বাসে-প্রশ্বাসে বাবাকে স্মরণ করতে হবে, একটিও শ্বাস যেন ব্যর্থ না যায়। কখনো এমন কর্ম করবে না যা বিকর্মে পরিণত হয়।

২) ওস্তাদের হাতে নিজের হাত দিয়ে সম্পূর্ণ পবিত্র হয়ে উঠতে হবে। কখনো ক্রোধের বশবর্তী হয়ে মায়ার সাথে যুদ্ধে হেরে যেও না। পালোয়ান হয়ে উঠতে হবে।

*বরদানঃ-*সমর্থ স্থিতির আসনে বসে ব্যর্থ আর সমর্থের নির্ণয়কারী স্মৃতি স্বরূপ ভব
এই জ্ঞানের এসেন্স (সারমর্ম) হলো স্মৃতি স্বরূপ হওয়া। প্রতিটি কাজ কাজ করার আগে এই বরদানের দ্বারা সমর্থ স্থিতির আসনে বসে নির্ণয় করো যে - এটা ব্যর্থ নাকি সমর্থ, তারপর তা কর্মে নিয়ে এসো। কর্ম করার পরে চেক করো যে কর্মের আদি মধ্য এবং অন্ত - এই তিনকাল সমর্থ ছিল তো ? এই সমর্থ স্থিতির আসনই হল হংস আসন - এর বিশেষত্বই হলো নির্ণয়শক্তি। নির্ণয় শক্তির দ্বারাই সর্বদাই মর্যাদা পুরুষোত্তম স্থিতিতে অগ্রসর হতে থাকবে।
*স্লোগানঃ-*অনেক রকমের মানসিক অসুস্থতাকে দূর করবার সাধন হলো - সাইলেন্সের শক্তি।

No comments:

https://bkrajyogpathshala.blogspot.com/

01-04-2026 Bengali Murli

 মিষ্টি বাচ্চারা - বাচ্চারা, বাবা যা, বাবা ঠিক যেমন, তোমরা বাচ্চারাও তাঁকে নম্বর ক্রমানুসারেই চিনেছো, যদি সকলেই তাঁকে চিনে গেলে তবে তো অত্যন...