17.02.2023 BANGLA MURLI
"মিষ্টি বাচ্চারা - তোমরা ঘরে বসে ভগবান বাবাকে
পেয়েছো তাই তোমাদের অপার খুশিতে থাকতে হবে, বিকারের বশীভূত হয়ে খুশিকে দমন করে দেবে না"
*প্রশ্নঃ - বাচ্চারা তোমাদের মধ্যে কাদের লাকি (ভাগ্যবান)
বলবে আর আনলাকি (হতভাগ্য) কাদের বলবে?
*উত্তরঃ - লাকি তারাই যারা অনেককে নিজ সমান বানানোর সেবা ক'রে, সকলকে সুখ প্রদান
করে আর আনলাকি হল তারা যারা কেবল ঘুমায় আর খায়। একে অপরকে দুঃখ দিতে থাকে।
পুরুষার্থে কমতি হওয়ার কারণেই আনলাকি হয়ে যায়।
*প্রশ্নঃ - যে বাচ্চাদের তৃতীয় নেত্রের অপারেশন সাকসেসফুল
হয়, তাদের লক্ষণ কি
হবে?
*উত্তরঃ - তাদের মায়ার তুফানে মুহূর্মুহূ পতন হবে না, ঠোক্কর খাবে না।
তাদের দৈবী চলন হবে। ধারণা ভালো হবে।
*গীতঃ- ছেড়ে দাও ওই আকাশ সিংহাসন.....
ওম্ শান্তি । শিব ভগবানুবাচ অথবা এ'রকমও বলতে পারো
যে গীতার ভগবান শিব ভগবানুবাচ। গীতার নাম নেওয়া হয় কারণ গীতাকেই খন্ডন করে
দেওয়া হয়েছে। সবটাই নির্ভর করে এর উপরেই যে গীতা, শ্রীকৃষ্ণ (যে হলো) সাকার দেবতার দ্বারা গায়ন
করা হয়নি অর্থাৎ শ্রীকৃষ্ণ রাজযোগ শেখাননি বা শ্রীকৃষ্ণের দ্বারা আদি সনাতন দেবী
দেবতা ধর্মের স্থাপনা হয়নি। শ্রীকৃষ্ণকে নিরাকার ভগবান তো বলা যায় না।
শ্রীকৃষ্ণের চিত্র হলই সম্পূর্ণ পৃথক। নিরাকারের রূপ হল পৃথক, উঁনি হলেন পরম
আত্মা। ওঁনার কোনো শরীর নেই। আহ্বান করা হয় হে ভগবান রূপ বদল করে এসো। উঁনি তো
কোনো জন্তু-জানোয়ারের রূপ ধারণ করবেন না। মানুষ তো জন্তু জানোয়ারেরও রূপ
দিয়েছে। কচ্ছ অবতার, মৎস অবতার, বরাহ অবতার....
কিন্তু তিনি স্বয়ং বলেন যে আমি এই রূপ ধারণই করি না। আমাকে তো নতুন সৃষ্টি রচনা
করতে হয়। শ্রীকৃষ্ণকে তো সৃষ্টি রচনা করতে হয় না। ব্রাহ্মণ কূলকে রচনা করেন
ব্রহ্মা। ব্রহ্মা আর শ্রীকৃষ্ণের মধ্যে তো অনেক পার্থক্য আছে। ব্রহ্মার মুখ থেকে
ব্রাহ্মণের রচনা হয়েছে। শ্রীকৃষ্ণের মুখ থেকে দেবতাদের রচনা হয়েছে - এমনটা তো
কোথাও লেখা নেই। এখন তোমরা বাচ্চারা জানো যে দুনিয়াতে এমন কেউই নেই যার বুদ্ধিতে
এটা আছে যে নিরাকার পরমাত্মা সাকারে এসে আত্মাদের জ্ঞান প্রদান করেন। জ্ঞান
প্রাপ্তকারী আত্মাও যদি থাকে তাহলে প্রদানকারী আত্মাও আছে। এখন অর্ধকল্প থেকে
ভিন্ন ভিন্ন রূপে মাতা-পিতা, গুরু গোসাই ইত্যাদি সকল দেহধারী একে অপরকে কিছু না কিছু মত
প্রদান করতে থাকে। এখন এই সময় ত্বমেব মাতাশ্চ পিতা.... এর উপরেই বোঝানো হয়। এই
মহিমা এক এরই গায়ন করা হয়। বাবা বলেন তোমাদের যে লৌকিক মা-বাবা, বন্ধু, গুরু গোসাই আছে, এদের সকলের মত
পরিত্যাগ করো। আমি এসে তোমাদের বাপ টিচার গুরু বন্ধু ইত্যাদি হই। আমার মতেই সকলের
মত সমায়িত হয়ে আছে সেইজন্য আমার এই একের মতের আধারেই চলা ভালো। পরমপিতা পরমাত্মা
নিশ্চয় এখনই মত প্রদান করবেন তাই না। এই পরম আত্মা তোমাদের আত্মাদের মত প্রদান করে
আর ওই সকল মানুষ মত প্রদান করে থাকে। বাস্তবে তো ওইসব আত্মারাও অরগ্যান্স দ্বারা
মত প্রদান করে কিন্তু মনুষ্য নাম রূপে ফেঁসে আছে তাই তো এই রহস্যকে জানে না। যেমন
বলে যে বৌদ্ধ নির্বাণের ওপারে গেছেন। এখন বুদ্ধ তো হয়ে গেলো শরীরের নাম। ঐ শরীর তো
কোথাও যায় না অথবা বলবে অমুক বৈকুন্ঠে গেছে, ওরা তো শরীরের নাম নেবে। এ'রকম বলবে না যে তার শরীর পরিত্যাগ ক'রে তার আত্মা
গেছে। এভাবে কেউই যায় না। তোমরা জানো যে আত্মাকেই স্বর্গে যেতে হয়। কোনো আত্মাই
স্বর্গ থেকে এখানে আসে না,
সকলে আসে পরমধাম
থেকে। এই নলেজ বাচ্চারা তোমাদেরই বুদ্ধিতে আছে। তোমরা জানো যে এই সৃষ্টিতে প্রথমে
দেবী দেবতাদের আত্মারা ছিলেন, যারা সত্যযুগে পার্ট প্লে করেছেন। তোমাদের বুদ্ধিতে আত্মা
আর পরমাত্মার সম্পূর্ণ পরিচয় আছে। যদিও তোমরা মুহূর্মুহূ ভুলে যাও, দেহ অভিমানে এসে
যাও, সম্পূর্ণভাবে
কারোর দ্বারাই মেহনত হয় না। মায়া হল এমনই যে পুরুষার্থ করতে দেয় না। নিজে যদি
অলস হয় তাহলে মায়া আরও অলস বানিয়ে দেয়। বিশ্বের মালিক স্বয়ং বসে পড়ান, যার মধ্যে
মাতা-পিতা, বন্ধু সখা, গুরু ইত্যাদি সকল
সম্বন্ধের শক্তি এসে যায়। এই মহিমা হল এক নিরাকার পরমাত্মার, কিন্তু মানুষ
বোঝে না। লক্ষ্মী-নারায়ণ ইত্যাদি সকলের সামনে গিয়ে মহিমা গায়ন করতে থাকে।
তোমরা জানো যে আমরা আত্মারা ৮৪ জন্মের চক্র আবর্তিত করে
এসেছি। এখন এটি হল অন্তিম জন্ম। এটা মুহূর্মুহূ বুদ্ধিতে স্মরণ থাকা উচিত। এই নলেজ
হল বড়ই খুশীর। এই অসীম জগতের পিতা স্বয়ং তোমরা বাচ্চারা ব্যতীত আর কারোর সাথেই
সাক্ষাৎ করে না। বিবেকও বলে যে পরমপিতা পরমাত্মার যারা বাচ্চা হয় তাদের খুশীর
সীমা থাকা উচিত না। কিন্তু লোভ, মোহ ইত্যাদি বিকার এসে যাওয়ায় খুশীকে দমিত করে দেয়। এই
বিকারগুলিই সমগ্র দুনিয়ার খুশীকে দমিত করে দিয়েছে। তোমরা তো ঘরে বসে বাবার সাথে
সাক্ষাৎ করছো। ভারতেই এসেছে। ভারতবাসীদের তো ভারতই হল ঘর তাই না। কিন্তু আসবে তো
হবে অবশ্যই একটা ঘরেই। এমন তো নয় যে ঘরে ঘরে আসবে। তাহলে তো সর্বব্যাপী হয়ে গেল।
উঁনি আসলে তো অবশ্যই এসে পতিতদের পবিত্র বানাবেন। দুনিয়া তো মনে করে যে শ্রীকৃষ্ণ
আসবেন। কিন্তু তোমরা তো জানো পরমপিতা পরমাত্মা এসেছেন, যিনি হলেন
পতিত-পাবন, জ্ঞানের সাগর, ওঁনার নাম
বাস্তবে হল রুদ্র। এটা হল সবথেকে বড় ভুল। যখন বুঝবে যে এই অসীম জগতের পিতা সমগ্র
সৃষ্টির হলেন রচয়িতা তখন খুশির পারদ ঊর্ধ্বমুখী হয়ে যাবে। এমন বাবার থেকে তো
অবশ্যই উত্তরাধিকার প্রাপ্ত হবে। শ্রীকৃষ্ণের থেকে তো উত্তরাধিকার প্রাপ্ত হতে
পারে না। এই বিষয়েও কারোর বুদ্ধি চলে না। সমগ্র দুনিয়াই তো হল শূদ্র
সম্প্রদায়ের। ব্রাহ্মণরাও হল কেবল নামমাত্র। তোমরা ব্রাহ্মণরা যখন বিচার সাগর
মন্থন করো তখন অন্যদেরও পরিচয় দিতে পারো। শ্রীকৃষ্ণকে তো সকলেই জানে। কেউ কেউ বলে
স্বর্গ কেবল রাধা কৃষ্ণের,
কেউ আবার দ্রাপরে
সংযুক্ত করে দিয়েছে, এটাই হতভম্ব করে
দেয়। ঈশ্বর তো হলেন জ্ঞানের সাগর। তোমাদের ঈশ্বরীয় সম্প্রদায়েই জ্ঞানের প্রাপ্তি
হয়। আসুরী সম্প্রদায়ে জ্ঞান প্রাপ্ত হবে কোথা থেকে? যদিও গায়ন করে পতিত-পাবন... কিন্তু নিজেকে
পতিত মনে করে না। স্বর্গকে তো একদমই জানে না। কেবল নামমাত্র বলে, এটাও জানে না যে
দেবতারা হলেন স্বর্গবাসী। তোমরা যখন বোঝাও তখন চোখ খুলে যায়। মায়া চোখও বন্ধ করে
দিয়েছে। প্রাচীন ভারত স্বর্গ ছিল। লক্ষ্মী-নারায়ণের রাজ্য ছিল এটাও জানে না।
আমরাও এটা মানতাম না। এটা তো বুঝতে পারবে যে অন্য ধর্ম গুলি পরবর্তীকালে এসেছে।
দেবতাদের সময় এই ধর্ম ছিল না। তাহলে অবশ্যই ওখানে সুখই সুখ থাকবে। বাবা বাচ্চাদের
রচনা করেনই সুখের জন্য। এমন নয় সুখ দুঃখ উভয়ই প্রদান করেন। লৌকিক বাবাও বাচ্চা
চায় তাদের ধন সম্পত্তি প্রদান করার জন্য, না দুঃখ প্রদানের জন্য। এটা তো এখন আমরা বোঝাই যে দ্বাপর
থেকে লৌকিক বাবাও দুঃখই দিয়ে থাকে। সত্যযুগ ত্রেতাতে তো দুঃখ দেয় না। এখানে
মা-বাবা ভালো তো বাসে অনেকই, কিন্তু তাদের আবার কাম কাটারির দিকে ঠেলে দেয়। তাই দুঃখ
আরম্ভ হয়ে যায়। সত্যযুগে তো এ'রকম হয় না। ওখানে তো দুঃখের কোনো বিষয়ই নেই। এটা বাবা বসে
বোঝান। তোমাদের মধ্যেও সংখ্যার ক্রমানুসারে বোঝে।তোমাদের এই জ্ঞান যোগের দ্বারা
অপারেশন হচ্ছে। কিন্তু কারোর সাকসেসফুল হয়, কারোর হয় না। যেমন যখন চোখের অপারেশন করায় তখন কারোর ঠিক
হয়ে যায়, কারোর
অল্প-বিস্তর খারাপ থেকে যায়, কারোর চোখ একদমই খারাপ হয়ে যায়। তোমাদের এখন জ্ঞানের
তৃতীয় নেত্র প্রাপ্ত হচ্ছে। যখন বুদ্ধি রূপী নেত্র খুলে যায় তখন ভালোভাবে
পুরুষার্থ করতে থাকে। কারোর সম্পূর্ণভাবে খোলে না, ধারণা হয় না, দৈবী চলনও থাকে না। মায়ার তুফানে মুহূর্মহূ
হোঁচট খেতে থাকে। একদিকে আছে ২১ জন্মের সুখ প্রদানকারী ওস্তাদ আর অন্যদিকে আছে
দুঃখ প্রদানকারী রাবণ। তাকেও ওস্তাদ বলা হয়। বাবা তো বলেন যে আমি তো কাউকে দুঃখ
দিই না। আমি তো হলাম সুখ প্রদানকারী সবচেয়ে নামী। সত্যযুগ ত্রেতাতে সকলেই হল সুখী, সুখ প্রদানকারী
হলেন অন্য কেউ। এটাও কেউই জানে না যে রাবণ রাজ্য কখন শুরু হয়। অর্ধ-কল্প হল
রামরাজ্য, অর্ধকল্প হল
রাবণরাজ্য। এটা হল রাম রাজ্য আর রাবণ রাজ্যের কাহিনী। কিন্তু এটাও কারোর কারোর
বুদ্ধিতে অতি কষ্টেই বসে। কেউ তো আবার একদমই জরাজীর্ণ অবস্থাতে থাকে, যারা কিছুই বোঝে
না। যত মানুষ পড়াশোনা করতে থাকে ততই ম্যানার্স তৈরী হতে থাকে, উৎকর্ষ বাড়তে
থাকে। আর আমাদের হল গুপ্ত দীপ্তি । আন্তরিক নারায়ণী নেশা উর্ধ্বমুখী হলে বর্ণনাও
করবে, আর বোঝাবেও। এই
পঠন-পাঠন তো রাজাদের রাজা বানায়। কংগ্রেসরা তো রাজাদের নাম শুনলেই বিরক্তি বোধ
করতো কারণ পরবর্তীকালে রাজারা আরামপ্রিয় হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু এটা ভুলে গিয়েছিল
আদি সনাতন দেবী দেবতারা রাজা রানী ছিল। এখন তোমরা আবার বাবার থেকে শক্তি প্রাপ্ত
করে ২১ জন্মের রাজ্য ভাগ্য প্রাপ্ত করছো। এই সত্য নারায়ণের কথা তো তাই এতো
প্রসিদ্ধ। কিন্তু বিদ্বান,
আচার্যরাও জানে
না। গীতার কত আড়ম্ভর বানিয়েছে। লক্ষ লক্ষ জন শোনে, কিন্তু বোঝে না কিছুই। এখন এই বেচারাদের কারা
সজাগ করবে। এটা তো হলো বাচ্চারা তোমাদের কাজ। কিন্তু অল্প বিস্তর বাচ্চারাই আছে
যারা অন্যদের সজাগ করতে পারে, যারা যত নিজে সম বানাবে তারা ততই উচ্চ পদ প্রাপ্ত করবে।
বাবা বলেন যেটা অতিবাহিত হয়ে গেছে অতীত হিসাবেই দেখো। ড্রামাতে এ'রকমই ছিল।
পরবর্তী সময়ের জন্য পুরুষার্থ করো। নিজের চার্ট দেখো - এত দিন ধরে কি ধারণ করেছো? কেউ ২৫ - ৩০ বছর
আছে। কেউ ১মাস, কেউ ৭ দিনের
বাচ্চা। কিন্তু ১৫ - ২০ বছরের থেকেও গ্যালপ (দ্রুত লাফিয়ে ছুটে) করে চলেছে।
আশ্চর্যের বিষয় তাই না। হয় বলবে মায়া প্রবল নাহলে ড্রামার উপরে চাপিয়ে দেবে।
কিন্তু ড্রামার উপরে চাপিয়ে দিলে পুরুষার্থ স্তিমিত হয়ে যায়। মনে করে আমার
ভাগ্যে নেই।
তোমরা হলে লাকী স্টার্স। তোমাদের তুলনা আকাশের স্টারের সাথে
করা হয়। তোমরা হলে এই সৃষ্টির নক্ষত্র। আকাশের নক্ষত্র তো আলো দেয়, তোমরা তো মানুষকে
জাগানোর সেবা করে থাকো। দুঃখীদের সুখী বানিয়ে থাকো। মানুষ আকাশের নক্ষত্রকে দেবতা
বলে থাকে, সত্যিকারের দেবতা
তো তোমরা হয়ে যাও। ওই নক্ষত্র গুলিকে দেবতা বলে, কারণ সে'গুলো উপরে থাকে। কিন্তু দেবতারা উপরে থাকে না। থাকে তো এই
সৃষ্টিতেই, যদিও অবশ্য
মানবের থেকে উপরেই। দেবতারা সকলকে সুখ দেয়, যারা একজন আরেকজনকে দুঃখ দেয় তাদেরকে কখনো কি লাকি স্টার
বলবে? লাকি আর আনলাকি
হলো এই সময়ই ।যারা অন্যকে নিজ সম বানায় তাদেরকে লাকি বলা হয় । যাকে কেবল খায়
আর ঘুমায় তাদেরকে আনলাকি বলা হবে । স্কুলে এই রকমই হয়। এটাও হহো পড়াশোনা। বুদ্ধি
দিয়ে কাজ করতে হয়। রাধা-কৃষ্ণকে ১৬ কলা লাকি বলা হবে। রাম-সীতার দুই কলা কম হয়ে
যায়। সবথেকে নম্বর ওয়ান লাকি হলো লক্ষ্মী-নারায়ণ । তারাও এই পড়াশোনার দ্বারাই
এই রকম হয়েছে। পুরুষার্থ কম করলে আনলাকি হয়ে যায়। তোমাদেরকে তো স্বয়ং বাবা
পড়ান। তোমরা স্টুডেন্টরাই হলে গোপ-গোপী। বাস্তবে এই শব্দ সত্যযুগ থেকে এসেছে।
সেখানে প্রিন্স প্রিন্সেস খেলাধুলা করে তাই প্রিয় নাম গোপ গোপী রাখা হয়েছে।
শ্রীকৃষ্ণের সাথে তাদেরকে দেখায়। বড় হয়ে গেলে তখন আর গোপ গোপী বলা হয় না। তারা
সকলে তো প্রিন্স। কোনো দাস দাসী বা বাইরের গ্রামবাসীর সাথে তো খেলবে না। মহলের
বাইরের লোকেরা প্রবেশ করতে পারবে না। শ্রীকৃষ্ণ বাইরে যমুনা ইত্যাদিতে যায় না।
নিজেদের মহলের ভিতরেই খেলাধুলা করে। ভাগবতে তো অনেক ফালতু কথা লিখে দিয়েছে যে, মাটির কলসী ভেঙে
দিয়েছে.... এই সব কিছুই হয়নি। সেখানে তো সবকিছু অত্যন্ত নিয়মনিষ্ঠ ভাবে চলে।
তাই বাবা কতো বোঝান, বলেন শ্রীমৎ
অনুসারে চলোষ বলেন মামেকম্ স্মরণ করো। এই বাবা এসে না পড়ালে আমরা কি এ'সব পড়তে পারতাম? না। ইনি হলেন
মোস্ট লাভলী বাবা। সবথেকে ভালো মত ইনি দেন - মন্মনাভব। আমাকে স্মরণ করো, স্বর্গকে স্মরণ
করো, চক্রকে স্মরণ
করো। এতেই সমগ্র জ্ঞান এসে যায়। তারা তো কেবল বিষ্ণুর হাতে স্বদর্শন চক্র দেখায়, কিন্তু এর অর্থ
তাদের জানা নেই। আমরা এখন জানি যে, শঙ্খ হলো জ্ঞানের, যা নিরাকার বাবা দেন। বিষ্ণু দিতে পারে নাকি? আর দেন মানুষকে।
যারা তারপর দেবতা বা বিষ্ণু হয়। কত মিষ্টি মধুর এই জ্ঞান। তাহলে কতখানি আনন্দের
সাথে বাবাকে স্মরণ করা উচিত। আচ্ছা!
মিষ্টি মিষ্টি হারানিধি ব্রাহ্মণ কুল ভূষণ স্বদর্শন
চক্রধারী বাচ্চাদেরকে স্মরণের স্নেহ-সুমন । কিন্তু বাচ্চারা স্বদর্শন চক্র খুব
কমজনই চালায়। কেউ কেউ তো একেবারেই ঘোরায় না। বাবা তো রোজ বলেন স্বদর্শন চক্রধারী
বাচ্চারা... এও আশীর্বাদ রূপে প্রাপ্ত হয় । আচ্ছা - মিষ্টি মিষ্টি আত্মা রূপী
বাচ্চাদেরকে আত্মাদের পিতার নমস্কার।
*ধারণার জন্যে
মুখ্য সারঃ-*
১ ) এক বাবার মত এ বাবা, টিচার, গুরু, বন্ধু প্রমুখ সবার মত মিশে রয়েছে। সেইজন্য তাঁর মত অনুসারেই
চলতে হবে। মানুষের মত এ নয়।
২ ) যা ঘটে গেছে তা অতীত করে দিয়ে পুরুষার্থে গ্যালপ
(লাফিয়ে ছোটো) করতে হবে। ড্রামা বলে দিয়ে নিস্তেজ হয়ে যেও না। নিজ সম বানানোর
সেবা করতে হবে ।
*বরদানঃ-* শান্তির শক্তির দ্বারা সকলকে আকর্ষণকারী মাস্টার
শান্তি দেব ভব
বাণীর দ্বারা সেবা করতে যেমন তোমরা শিখে গেছো, সেই রকমই এখন
শান্তির তীর চালাও। এই শান্তির শক্তির দ্বারা বালিয়ারীতেও শ্যামল করতে পারৈ। যত
কঠিন পাহাড়ই হোক না কেন,
তার থেকেও জল বের
করাতে পারো। এই শান্তির মহান শক্তিকে সংকল্প, উচ্চারিত শব্দ আর কর্মে প্র্যাকটিক্যালে নিয়ে এসো, তাহলেই মাস্টার
শান্তি দেব হয়ে যাবে । তখন শান্তির কিরণ বিশ্বের সকল আত্মাদেরকে শান্তির অনুভূতির
দিকে আকৃষ্ট করবে আর তোমরা শান্তির চুম্বক হয়ে যাবে।
স্লোগানঃ-আত্ম-অভিমানী স্থিতির ব্রত ধারণ করে নাও, তবে বৃত্তি গুলিও
পরিবর্তিত হয়ে যাবে।
No comments:
Post a Comment