13.02.2023 BANGLA MURLI
"মিষ্টি
বাচ্চারা - এ হলো গডফাদারলী ইউনিভার্সিটি -- মানুষ থেকে দেবতা, নর থেকে নারায়ণ বানানোর,
যখন এই নিশ্চয় সুদৃঢ (পাক্কা) হবে তবেই তোমরা এই পড়া পড়তে পারবে"
*প্রশ্নঃ - মানুষ থেকে দেবতা হওয়ার জন্য বাচ্চারা তোমরা এই সময় কি পরিশ্রম করে থাকো?
*উত্তরঃ - চোখকে ক্রিমিনাল থেকে সিভিল করার, তার সাথে
অত্যন্ত মিষ্টি হওয়ার। সত্যযুগে তো সকলেরই চোখ সিভিল থাকে। ওখানে এই পরিশ্রম করতে
হয় না। বাচ্চারা, এখানে পতিত শরীরে, পতিত দুনিয়ায় তোমরা হলে আত্মারূপী ভাই-ভাই
- এই নিশ্চয় করে চোখকে সিভিল (সুদৃষ্টি) বানানোর পুরুষার্থ করছো।
*প্রশ্নঃ - ভক্তির কোন্ একটি কথায় সর্বব্যাপীর কথাটি ভ্রান্ত
হয়ে যায়?
*উত্তরঃ - বলে থাকে যে বাবা তুমি যখন আসবে তখন আমরা
তোমার হয়ে যাব.... তাহলে আসা প্রমাণ করে যে তিনি এখানে নেই।
ওম্ শান্তি
। বাবা রুহানী বাচ্চাদের জিজ্ঞাসা করেন, নিজের আত্মার স্বধর্মে বসেছো? এ তো জানো যে
একজনই অসীম জগতের বাবা আছেন যাকে সুপ্রীম আত্মা বা পরম আত্মা বলা হয়ে থাকে। অবশ্যই
হলেন পরমাত্মা। তিনি হলেন পরমপিতা, তাই না? পরমপিতা মানে পরমাত্মা। এই কথা তোমরা বাচ্চারাই
বুঝতে পারো। ৫ হাজার বছর পূর্বেও এই জ্ঞান তোমরা সকলেই শুনেছিলে। তোমরা জানো আত্মা
অতি ক্ষুদ্র সূক্ষ্ম হয়, এই চোখের দ্বারা তাকে দেখতে পারা যায় না। এমন কোনো মানুষ
নেই যে আত্মাকে দেখেছে। হ্যাঁ দেখতে পারা যায় -- কিন্তু দিব্য দৃষ্টির দ্বারা আর সেও
ড্রামার প্ল্যান অনুসারে। ভক্তিমার্গেও এই চোখের দ্বারা কোনো সাক্ষাৎকার হয় না। দিব্য
দৃষ্টি প্রাপ্ত হয়, তখন চৈতন্যে দেখে থাকে। দিব্য দৃষ্টি অর্থাৎ চৈতন্যে দেখা। আত্মার
জ্ঞানের চক্ষু প্রাপ্ত হয়। বাবা বুঝিয়েছেন যে অনেক ভক্তি করে, যাকে নৌধা (নবধা, প্রগাঢ়)
ভক্তি বলা হয়ে থাকে। যেমন মীরার সাক্ষাৎকার হতো তখন নৃত্য করতে থাকতো। বৈকুন্ঠ তো
সেই সময় ছিল না, তাই না ! মীরার (সময়কাল) তো ৫-৬ শত বর্ষ হয়ে গেছে। যা পাস্ট হয়ে
গেছে তা দিব্যদৃষ্টিতে দেখা যায়। হনুমান গনেশ ইত্যাদির চিত্রগুলির অত্যন্ত ভক্তি করতে
করতে তাতে যেন বিলয় (বিলিন) হয়ে যায়। অবশ্যই সাক্ষাৎকার হবে কিন্তু তাতে কেউই মুক্তি
পেতে পারেনা। মুক্তি-জীবনমুক্তির রাস্তা সম্পূর্ণ আলাদা। ভারতে ভক্তি মার্গের অনেক
মন্দির হয়ে থাকে। সেখানে শিবলিঙ্গও রাখে। কেউ ছোট তৈরী করে, কেউ বড় তৈরী করে। এখন
তোমরা বুঝতে পারো যে যেমন তোমরা আত্মারা তেমনই উনি হলেন সুপ্রীম আত্মা। সাইজ একই। বলেও
থাকে আমরা সকলেই হলাম ভাই, আত্মারা সকলেই হলো ভাই ভাই। জগতের বাবা একজনই। বাকি সকলেই
হলো ভাই ভাই, (নিজেদের) ভূমিকা পালন করে। এ হলো, বুঝবার মতন কথা। এ হলো জ্ঞানের কথা
যা একমাত্র বাবাই বুঝিয়ে থাকেন। যাদের বুঝিয়ে থাকেন তারা আবার অন্যদের বোঝাতে পারে।
সর্ব প্রথম অদ্বিতীয় নিরাকার বাবাই বুঝিয়ে থাকেন। ওঁনার উদ্দেশ্যেই আবার বলে দেয়
তিনি সর্বব্যাপী আছেন, পাথর-মাটির টুকরোয় রয়েছেন। এ তো সঠিক নয়, তাই না ! একদিকে
বলে যে বাবা যখন তুমি আসবে তখন আমরা তোমার হয়ে যাব। এমন থোড়াই বলে যে তুমি সর্বব্যাপী
! বলে যে তুমি এলে আমরা সমর্পিত হয়ে যাব। তাহলে এর মানে হলো এখানে নেই, তাই না ! আমার
তো তুমি, দ্বিতীয় কেউ নয়। তাহলে অবশ্যই ওঁনাকে স্মরণ করতে হবে, তাই না ! এ'কথা বাবা-ই
বসে বাচ্চাদেরকে বোঝান, একে বলা হয় আধ্যাত্মিক জ্ঞান। এই যে গাওয়া হয়ে থাকে - আত্মা
পরমাত্মা পৃথক রয়েছে বহুকাল.... তার হিসেবও বোঝানো হয়েছে। বহুকাল ধরে আলাদা তোমরা
আত্মারা থাকো। এখন বাবার কাছে এসেছো - রাজযোগ শিখতে। বাবা তো হলেন সেবক। গণ্যমান্য
ব্যক্তিরা যখন সই করে তখন নিচে লেখে -- ওবিডিয়েন্ট সার্ভেন্ট.... বাবা হলেন সব বাচ্চাদের
সেবক(সার্ভেন্ট)। তিনি বলেন - বাচ্চারা, আমি তোমাদের সেবক। তোমরা কতো সম্ভ্রমের সাথে
আমাকে আহ্বান করে থাকো যে ভগবান এসো এসে আমাদের পতিতদের পবিত্র করো। পবিত্র হয়ই পবিত্র
দুনিয়ায়। এ হলো বুঝবার মতন কথা। বাকি সব হল কান রস (শুনতে ভালো লাগা)। এ হলো গডফাদারলী
ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি। এইম অবজেক্ট কি? মানুষ থেকে দেবতা হওয়া। বাচ্চাদের এই নিশ্চয়ই
রয়েছে যে আমরা এইরকম হতে হবে। যার নিশ্চয় হবে না, সে কি স্কুলে বসে থাকবে নাকি !
নিশ্চয় হলে ব্যারিস্টারের কাছে শিখবে, সার্জেনের কাছে শিখবে। এইম অবজেক্টই জানা না
হলে আসবেও না। বাচ্চারা, তোমরা বোঝো যে আমরা মানুষ থেকে দেবতা, নর থেকে নারায়ণ হই।
এ হলো সত্যিকারের নর থেকে নারায়ণ হওয়ার কাহিনী (কথা)। কথা কেন বলা হয়ে থাকে ? কারণ
৫ হাজার বছর পূর্বে এই নলেজ শিখেছিল। সেইজন্য পাস্টকে (অতীতকে) কথা (কাহিনী) বলে দেয়,
এ হলো নর থেকে নারায়ণ হওয়ার প্রকৃত শিক্ষা। নতুন দুনিয়ায় দেবতারা, পুরানো দুনিয়ায়
মানুষেরা থাকে। দেবতাদের মধ্যে যে দৈবীগুণ আছে, তা মানুষের মধ্যে নেই। মানুষ তাদের
দেবতা বলে আর গায় 'তোমরা হলে সর্বগুণসম্পন্ন, ১৬ কলা সম্পূর্ণ, সম্পূর্ণ নির্বিকারী।
নিজেকে বলে আমি পাপী নীচ বিকারী। দেবতারা কখন ছিল? অবশ্যই বলবে সত্যযুগে ছিল। এইরকম
বলবে না যে কলিযুগে ছিল। আজকাল মানুষের বুদ্ধি তমোপ্রধান হওয়ার কারণে বাবার টাইটেলও
নিজের (নামে) উপর রেখে দেয়। বাস্তবে শ্রেষ্ঠ বানাতে পারেন একমাত্র শ্রী শ্রী, আর তিনি
হলেন একমাত্র বাবাই। শ্রেষ্ঠ দেবতাদের মহিমা হলো আলাদা। এখন হলো কলিযুগ। সন্ন্যাসীদের
উদ্দেশ্যেও বাবা বুঝিয়েছেন যে এক হলো সসীমের (জাগতিক) সন্ন্যাস, দ্বিতীয় হলো অসীমের
সন্ন্যাস। তারা বলে আমরা ঘর-পরিবার ইত্যাদি সবকিছু ত্যাগ করেছি। কিন্তু এখন তো দেখো
লক্ষপতি হয়ে বসে আছে। সন্ন্যাস মানেই সুখকে ত্যাগ করা। বাচ্চারা, তোমরা অসীমের সন্ন্যাস
নাও কারণ বোঝো যে এই পুরোনো দুনিয়া সমাপ্ত হয়ে যাবে, সেইজন্য এর প্রতি বৈরাগ্য। ওরা
তো ঘর-পরিবার ত্যাগ করে পুনরায় ভিতরে (প্রবৃত্তিতে) ঢুকে পড়েছে। এখন পাহাড় ইত্যাদির
গুহাগুলিতে থাকে না। কুটির নির্মাণ করে, তাতেও কত খরচ করে। বাস্তবে কুটির তৈরি করতে
থোড়াই কোনো খরচা হয়। বড় বড় মহল (অট্টালিকা) তৈরি করে বসবাস করে। আজকাল তো সবই তমোপ্রধান
হয়ে গেছে। এখন হলোই কলিযুগ। সত্যযুগী দেবতাদের চিত্র যদি না থাকলে তবে স্বর্গের নাম-নিশান
বিলুপ্ত হয়ে যেতো। তোমাদের বোঝানো হয়ে থাকে যে এখন মানুষ থেকে দেবতা হতে হবে। অর্ধেককল্প
ধরে রয়েছে ভক্তিমার্গের গল্পকথা। শুনে সিঁড়িতে নিচেই নেমে এসেছো, পুনরায় ৫ হাজার
বছর পর অ্যাকিউরেটলী (হুবহু) সেই ড্রামাই রিপিট হবে। বাবা বুঝিয়েছেনও, কাউকে এইরকম
বলা উচিত নয় যে ভক্তি ছাড়ো। জ্ঞান এসে গেলে তখন আপনা থেকেই ভক্তি ছেড়ে যায়। বোঝে
যে আমরা হলাম আত্মা। এখন অসীম জগতের বাবার থেকে আমাদের উত্তরাধিকার নিতে হবে। প্রথমে
অসীম জগতের বাবার পরিচয় চাই। সেই নিশ্চয় হয়ে গেলে তখন লৌকিক বাবার থেকে বুদ্ধি সরে
যায়। গৃহস্থ ব্যবহার থেকে বুদ্ধির যোগ বাবার সাথে যুক্ত হয়ে যাবে। স্বয়ং বাবা বলেন
- শরীর নির্বাহের জন্য কর্ম করেও বুদ্ধিতে যেন অদ্বিতীয় বাবার স্মরণ থাকে। দেহধারীদের
স্মরণ যেন না থাকে। ওটা হলো শরীরের (জিস্মানী) যাত্রা। এ হল তোমাদের রুহানী যাত্রা,
এতে ধাক্কা খেতে হবে না। ভক্তিমার্গ হলোই রাত। ধাক্কা খেতে হয়। এখানে ধাক্কার কথাই
নেই। স্মরণ করার জন্য কেউ বসে না। ভক্তিমার্গে কৃষ্ণের ভক্তরা চলতে-ফিরতে কৃষ্ণকে স্মরণ
করতে পারে না কি ? হৃদয়ে তো তার স্মরণ রয়ে যায়, তাই না! একবার যে জিনিসের দর্শন
হয়ে যায় তখন সেই জিনিস স্মরণে থাকে। তাহলে তোমরা ঘরে বসে শিববাবাকে স্মরণ করতে পারো
না? এ হলো নতুন কথা। কৃষ্ণকে স্মরণ করা, সে তো পুরোনো কথা হয়ে গেল। শিববাবাকে তো কেউ
জানেই না যে ওঁনার নাম রূপ কি? সর্বব্যাপীই বা কি? কেউ বলে দিক, তাই না ! বাচ্চারা,
তোমরা জানো যে আমাদের অর্থাৎ আত্মাদের বাবা হলেন পরমপিতা পরমাত্মা। আত্মাকে পরমাত্মা
বলতে পারো না। ইংরেজীতে আত্মাকে সোল বলা হয়। একজন মানুষও নেই যে পারলৌকিক বাবাকে জানে।
ওই বাবাই হলেন জ্ঞানের সাগর, ওঁনার মধ্যেই মানুষ থেকে দেবতায় পরিণত করার নলেজ রয়েছে।
বাবা বলেন প্রতিদিন রহস্যপূর্ণ কথা শোনাই । মুখ্য কথাই হলো স্মরণের। স্মরণই ভুলে যায়।
বাবা রোজ বলেন, নিজেকে আত্মা মনে করে বাবাকে স্মরণ করো। আমি আত্মা হলাম বিন্দু। বলাও
হয়ে থাকে, জ্বলজ্বল করে আশ্চর্য নক্ষত্র। আত্মা এই শরীর থেকে বেরিয়ে যায় তখন এই
চোখের দ্বারা তা দেখতে পাওয়া যায় না। বলা হয় যে আত্মা বেরিয়ে গেছে। গিয়ে অন্য
শরীরে প্রবেশ করেছে। তোমরা জানো যে আমরা আত্মারা কিভাবে পুনর্জন্ম নিয়ে এখন অপবিত্র
হয়ে গেছি। প্রথমে তোমরা আত্মারা পবিত্র ছিলে, তোমাদের গৃহস্থ ধর্ম পবিত্র ছিল। এখন
দুই-ই অপবিত্র হয়ে গেছে। যখন দুই-ই পবিত্র হয়, তখন তাদের পুজো করা হয়.... তোমরা
পবিত্র, আমরা হলাম অপবিত্র। ওখানে দুই-ই পবিত্র, এখানে দুই-ই অপবিত্র। তবে কি প্রথমে
পবিত্র ছিলে তারপর অপবিত্র হয়েছো নাকি অপবিত্রই জন্ম হয়েছে ? বাবা বসে বোঝান যে প্রথমে
তোমরা আত্মারা স্বয়ং পবিত্র পূজ্য ছিলে। তারপর নিজেরাই পূজারী অপবিত্র হয়েছো। ৮৪
জন্ম নিয়েছো। সমগ্র ওয়ার্ল্ডের হিস্ট্রি-জিওগ্রাফি তোমরা জানো। কারা কারা রাজ্য করতো
? কিভাবে রাজত্ব প্রাপ্ত করেছে ? এই হিস্ট্রিও তোমরাই জানো আর কেউ জানে না। তোমরাও
এখন জেনেছো, পূর্বে জানতে না, প্রস্তরবুদ্ধিসম্পন্ন ছিলে। রচয়িতা এবং রচনার আদি, মধ্য,
অন্তের নলেজ ছিল না, নাস্তিক ছিলে। এখন আস্তিক হওয়ায় কত সুখী হয়ে যাও। তোমরা এখানে
এসেছোই এরকম দেবতা হওয়ার জন্য। এইসময় অত্যন্ত মিষ্টি হতে হবে। তোমরা এক পিতার সন্তান
ভাই-বোন হয়ে গেলে, তাই না ! ক্রিমিনাল দৃষ্টি পড়তে পারে না। এই সময় পরিশ্রম করতে
হয়। চোখই সবথেকে বেশি ক্রিমিনাল হয়ে থাকে। অর্ধেক-কল্প ক্রিমিনাল থাকে, অর্ধেক-কল্প
সিভিল থাকে। সত্যযুগে দেবতাদের চোখ সিভিল (সুদৃষ্টি সম্পন্ন) থাকে। এখানে ক্রিমিনাল
থাকে। এই বিষয়ে সুরদাসের কথা শোনানো হয়ে থাকে। বাবা বলেন আমাকে আসতেই হয়, এই পতিত
দুনিয়ায়, পতিত শরীরে। যারা অপবিত্র হয়েছে তাদেরকেই পবিত্র করতে হবে।
তোমরা জানো
কৃষ্ণ আর রাধা দুজনেই পৃথক পৃথক রাজ্যের ছিলেন। প্রিন্স-প্রিন্সেস ছিলেন। পরে স্বয়ংবরের
পর লক্ষীনারায়ণ হয় তখন আবার তাদের ডিনায়েস্টির গায়ন করা হয়ে থাকে। ওনাদের থেকেই
সন গণনা শুরু বলা হয়ে হবে। সত্যযুগের আয়ুই লক্ষ লক্ষ বছরের বলে দেয়। বাবা বলেন ১২৫০
বছর। রাত দিনের পার্থক্য হয়ে যায়। অর্ধেক-কল্প ব্রহ্মার রাত তারপর অর্ধেক-কল্প ব্রহ্মার
দিন। জ্ঞানী আসে সুখ, ভক্তিতে হয় দুঃখ। এসব কথা বাবা বসে বোঝান। তথাপি বলে থাকেন
-- মিষ্টি বাচ্চারা, নিজেকে আত্মা মনে করো। স্বধর্মে স্থির হও, বাবাকে স্মরণ করো। তিনিই
হলেন পতিত-পাবন। স্মরণ করতে করতে তোমরা পবিত্র হয়ে যাবে। অন্তিমে যেমন মতি তেমনই গতি
হবে। বাবা হলেন স্বর্গের রচয়িতা, তাই না ! সেইজন্য স্মরণ করান যে তোমরা স্বর্গের মালিক
ছিলে। এখন অপবিত্র সেই জন্য ওখানে যাওয়ার উপযুক্ত নও, সেইজন্য পবিত্র হও। আমায় একবারই
আসতে হয়। ঈশ্বর এক, দুনিয়াও হলো এক। মানুষের তো অনেক মত, অনেক কথা, যত মুখ ততো কথা।
এখানে হলোই একমত, অদ্বৈত মত। বৃক্ষে দেখো কত মত-মতান্তর। বৃক্ষ কত বড় হয়ে গেছে। ওখানে
একমত এক রাজ্য ছিল। তোমরা জানো যে আমরাই বিশ্বের মালিক ছিলাম। ভারত কত ঐশ্বর্য্যশালী
ছিল। ওখানে অকাল মৃত্যু হয় না। এখানে তো দেখো বসে বসে এ চলে গেল। একদিকে হলো মৃত্যু।
ওখানে আয়ু দীর্ঘ ছিল। এখন তোমরা ঈশ্বরের সঙ্গে যোগ যুক্ত হয়ে মানুষ থেকে দেবতায়
পরিণত হচ্ছো। তাহলে তোমরা হলে যোগেশ্বর-যোগেশ্বরী তারপরে হবে রাজ-রাজেশ্বরী, এখন হলে
জ্ঞান-জ্ঞানেশ্বরী। পুনরায় রাজ-রাজেশ্বরী কিভাবে হয়েছো ? ঈশ্বর বানিয়েছেন। এখন তোমরা
জানো যে এনাদের রাজযোগ কে শিখিয়েছেন ? ঈশ্বর। ওখানে তাদের ২১ প্রজন্ম রাজত্ব চলে।
ওরা তো এক জন্মে দান-পূণ্য করে রাজা হয়ে যায়। মারা গেলে শেষ। অকালমৃত্যু তো সকলের
আসতে থাকে। সত্যযুগে এরকম নিয়ম-কানুন নেই। ওখানে এরকম বলবেনা যে কাল গ্রাস করে নিয়েছে।
এক চামড়া (শরীর) ত্যাগ করে দ্বিতীয় নিয়ে থাকে। যেমনভাবে সাপ খোলস বদল করে। ওখানে
সর্বদাই খুশীই খুশী বিরাজ করে। সামান্যতম দুঃখের কথা নেই। তোমরা সুখধামের মালিক হওয়ার
জন্য এখন পুরুষার্থ করছো। আচ্ছা!
মিষ্টি মিষ্টি
হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা পিতা বাপ-দাদার স্মরণের স্নেহ সুমন আর সুপ্রভাত। আত্মাদের
পিতা তাঁর আত্মারূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।
*ধারণার জন্যে
মুখ্য সারঃ-*
১ ) এই পুরোনো
দুনিয়ার থেকে অসীম জগতের সন্ন্যাস নিতে হবে। শরীর নির্বাহের জন্য কর্ম করেও রুহানী
যাত্রায় থাকতে হবে।
২ ) পুরুষার্থ
করে চোখকে সিভিল (সুদৃষ্টি সম্পন্ন) অবশ্যই বানাতে হবে। এইম অবজেক্টকে বুদ্ধিতে রেখে
অত্যন্ত মিষ্টি হতে হবে।
*বরদানঃ-* প্রতিটি পদক্ষেপে পদমগুণ উপার্জন সঞ্চয়কারী
সুবুদ্ধিসম্পন্ন জ্ঞানী তু আত্মা ভব
সমঝদার জ্ঞানী
তু আত্মা সে-ই যে প্রথমে ভাবে (চিন্তা করে) তারপর (কর্ম) করে। যেমন বড় বড় মানুষেরা
প্রথমে খাবার পরীক্ষা করিয়ে নিয়ে তারপর ভোজন করে। তাহলে এই সংকল্পও হলো বুদ্ধির ভোজন,
একে প্রথমে চেক করো তারপর কর্মে নিয়ে এসো। সঙ্কল্পকে চেক করে নিলে বাণী আর কর্ম স্বততঃ-ই
সমর্থ হয়ে যাবে। যেখানে সমর্থতা রয়েছে সেখানে আমদানিও রয়েছে। সেইজন্য সমর্থ হয়ে
প্রতিটি পদক্ষেপ অর্থাৎ সঙ্কল্প, বাণী এবং কর্মে পদমগুণ উপার্জন জমা করো, এটাই হলো
জ্ঞানী তু আত্মার নিদর্শন।
*স্লোগানঃ-* বাবা আর সর্বজনের দোয়ার (আশীর্বাদের) বিমানে
উড্ডয়নকারীই হলো উড়ন্ত যোগী।
নোট : নৌধা
ভক্তি - নয় প্রকারের ভক্তি । শ্রবণ (যেমন পরীক্ষিত করেছিলেন), কীর্তন (যেমন শূকদেব
করেছিলেন), স্মরণ (প্রহ্লাদ), পাদসেবন (লক্ষ্মী), অর্চন (পৃথুরাজা), বন্দনা (অক্রুর),
দাস্য (হনুমান), সখ্য (অর্জুন) এবং আত্ম নিবেদন (বলি রাজা) । এই নয় রূপ ভক্তির সমন্বয়কে
নবধা বা নৌধা ভক্তি বলে।
No comments:
Post a Comment