19.02.2023 BANGLA MURLI
"পবিত্রতার দৃঢ় ব্রতের দ্বারা বৃত্তির পরিবর্তন"
আজ, সর্বোচ্চ বাবা তাঁর নিজের সকল মহান বাচ্চাদের দেখছেন। সব বাচ্চা মহান আত্মা হয়েছে, কেননা মহান হওয়ার সর্বপ্রধান আধার 'পবিত্রতা'-কে ধারণ করেছে। পবিত্রতার ব্রত প্রতিজ্ঞা রূপে সবাই ধারণ করেছে। কোনো প্রকারের দৃঢ় সঙ্কল্পরূপী ব্রত নেওয়া অর্থাৎ বৃত্তির পরিবর্তন করা। দৃঢ় ব্রত বৃত্তিকে পরিবর্তন করে দেয়, সেইজন্যই ভক্তিতেও ব্রত নেয়ও আর ব্রত পালনও করে। ব্রত নেওয়া অর্থাৎ মনে সঙ্কল্প করা এবং পালন করা অর্থাৎ স্থূল রীতিতে সংযম পালন করা। হয় তা' ভোজনপানের অথবা আচার-আচরণের, উভয়তঃই কিন্তু লক্ষ্য বৃত্তি পরিবর্তনের। তোমরা সকলেই বৃত্তি পরিবর্তনের ব্রত নিয়েছ আর বৃত্তি শ্রেষ্ঠ বানিয়েছ। সকল আত্মার প্রতি কী বৃত্তি বানিয়েছ? আত্মা সবাই ভাই-ভাই। ব্রাদারহুড, এই বৃত্তি দ্বারাই ব্রাহ্মণ মহান আত্মা হয়েছে। সকলের এই ব্রত পাকা হয়েছে তো না?
ব্রাহ্মণ জীবনের অর্থই হলো পবিত্র আত্মা, আর এই পবিত্রতা ব্রাহ্মণ জীবনের ফাউন্ডেশন। ফাউন্ডেশন মজবুত তো না, নাকি নড়বড় করে? ফাউন্ডেশন সদা অটল-অনড় থাকাই ব্রাহ্মণ জীবনের সুখ প্রাপ্ত করা। কখনো কখনো বাচ্চারা বাবার সঙ্গে যখন অধ্যাত্ম বার্তালাপ করে প্রকৃত চার্ট দেয় তখন তোমরা কী বলো? বলো যে, যতটা অতীন্দ্রিয় সুখ, যতটা শক্তি অনুভব হওয়া উচিত ছিল ততটা হয় না, কিংবা অন্যভাবে বলে থাকো সদা হয় না। এর কারণ কী? বলার সময় তো বলো মাস্টার সর্বশক্তিমান, যদি জিজ্ঞাসা করা হয় তোমরা মাস্টার সর্বশক্তিমান? তখন কী বলবে? 'না' বলবে না তো। সর্বশক্তিমান যখন, তাহলে আবার শক্তি কোথায় চলে যায়? তাছাড়া, তোমরা হওই ব্রাহ্মণ জীবনধারী। নামধারী না, জীবনধারী। ব্রাহ্মণের জীবনে সম্পূর্ণ সুখ-শান্তির যদি অনুভূতি না হয় কিংবা ব্রাহ্মণ সর্বপ্রাপ্তিতে যদি সদা সম্পন্ন না হয়, তো ব্রাহ্মণ ব্যতীত আর কে হবে! অন্য কেউ হতে পারে? ব্রাহ্মণই হতে পারে, তাই না। তোমরা সবাই কী সাইন করো? বি.কে.অমুক, বি.কে. অমুক বলো তো না। পাকা, পাকা তো না? বি.কে.র অর্থ কী? 'ব্রাহ্মণ।' তাহলে ব্রাহ্মণের পরিভাষা হলো এটাই।
'যতটা' আর 'ততটা' এই শব্দ বের হয়ই বা কেন? তোমরা বলে থাকো সুখ-শান্তির জননী পবিত্রতা। যখনই অতীন্দ্রিয় সুখ অথবা সুইট সাইলেন্সের অনুভব কম হয় তো তার কারণ পবিত্রতার ফাউন্ডেশন দুর্বল। আগেও তোমাদের বলা হয়েছিল যে পবিত্রতা শুধু ব্রহ্মচর্যের ব্রত নয়, এই ব্রতও মহান, কারণ আজকে যাদের মহান আত্মা বলা হয়ে থাকে তারাও শুধু কঠিনই নয় অসম্ভব মনে করে। সুতরাং অসম্ভবকে নিজের দৃঢ় সঙ্কল্প দ্বারা সম্ভব করেছ আর সহজভাবে পালন করেছ, সেইজন্য এই ব্রত ধারণ করাও কম ব্যাপার নয়। এই ব্রত যারা পালন করে বাপদাদা তাদের হৃদয় থেকে আশীর্বাদ সহ অভিনন্দন জানান। কিন্তু বাপদাদা প্রত্যেক ব্রাহ্মণ বাচ্চাকে সম্পূর্ণ আর সম্পন্ন দেখতে চান। সুতরাং যেভাবে এই মুখ্য বিষয়কে তোমরা আপন করেছ, অসম্ভবকে সহজ করেছ তো অন্য সব ধরনের পবিত্রতাকে ধারণ করা কী বড় বিষয়! পবিত্রতার পরিভাষা সবাই খুব ভালো ভাবে জানো। যদি তোমাদের সবাইকে বলা হয়, "পবিত্রতা কি" এই টপিকে ভাষণ করো তবে ভালো ভাবে করতে পারো, তাই না? যখন তোমরা জানোই আর মানোও তখন আবার 'ততটা', 'যতটা' এই শব্দ কেন? পবিত্রতার কোন বিষয় দুর্বল হয়, যাতে সুখ, শান্তি আর শক্তির অনুভূতি কম হয়ে যায়? পবিত্রতা কোনো না কোনো স্টেজে অনড় থাকে না, সুতরাং চেক করো পবিত্রতার কোন বিষয়ে অস্থিরতা রয়েছে। বাপদাদা পবিত্রতার সব রূপকে স্পষ্ট করেন না, কারণ তোমরা জানো, অনেকবার শুনেছ, শুনিয়েও থাকো, নিজের সাথেও নিজে কথা বলতে থাকো, হ্যাঁ এটা, এটা পবিত্রতা....। তোমাদের মেজরিটির রেজাল্ট হিসেবে বাপদাদার কী প্রতীয়মান হয়? এটাই যে, তোমাদের অনেক জ্ঞান আছে, যোগের বিধিরও তোমরা বিধাতা হয়ে গেছ, ধারণার বিষয়ে বর্ণন করার ক্ষেত্রেও তোমরা খুব হুঁশিয়ার আর সেবায় তোমরা একে অপরের থেকে এগিয়ে, বাকি কী রইল? নম্বর ওয়ান জ্ঞাতা তো হয়ে গেছ, শুধু এক বিষয়ে অসতর্ক হয়ে যাও, সেটা হলো "ব্যর্থ ভাবা, দেখা, বলা, আর করা এতে ফুলস্টপ লাগিয়ে নিজেকে পরিবর্তন করা।" বুঝতেও পারো এই দুর্বলতা সুখের অনুভূতিতে দূরত্ব সৃষ্টি করে, শক্তিস্বরূপ হওয়াতে কিংবা বাবা সমান হওয়াতে বিঘ্নস্বরূপ হয়, তবুও কী হয় তোমাদের? নিজেকে পরিবর্তন করতে পারো না, ফুলস্টপ দিতে পারো না। সবকিছু ঠিক আছে, আমি বুঝি-এর কমা (,) লাগিয়ে দাও, কিংবা অন্যকে দেখে আশ্চর্যের চিহ্ন (!) লাগিয়ে দাও - এ'ভাবে হয় কী! এ' ভাবে হওয়া উচিত! অথবা কোশ্চেন মার্কের ক্যু (লাইন) লাগিয়ে দাও। ফুলস্টপ অর্থাৎ বিন্দু (.)। সুতরাং ফুলস্টপ তখনই লাগতে পারে যখন বিন্দু স্বরূপ বাবা আর বিন্দু স্বরূপ আত্মা - উভয়ের স্মৃতি থাকবে। এই স্মৃতি ফুলস্টপ অর্থাৎ বিন্দু লাগানোতে তোমাদের সমর্থ বানায়। সেই সময় কেউ কেউ আন্তরিক ভাবে ভাবেও যে, আমাকে আত্মিক স্থিতিতে স্থিত হতে হবে, কিন্তু মায়া তার নিজের স্ক্রিন (পর্দা) দ্বারা আত্মার পরিবর্তে ব্যক্তি বা বিষয়কে বারবার তোমাদের সামনে নিয়ে আসে, যার ফলে আত্মা অদৃশ্য হয়ে যায় আর বারবার ব্যক্তি এবং বিষয় সামনে স্পষ্টভাবে আসে। মূল কারণ, স্ব-এর উপরে কন্ট্রোল করার কন্ট্রোলিং পাওয়ার তোমাদের কম। অন্যকে কন্ট্রোল করতে তোমরা খুব ভালো জানো কিন্তু স্ব-এর উপর কন্ট্রোল অর্থাৎ পরিবর্তন শক্তিকে কার্যে কীভাবে প্রয়োগ করতে হয় জানো না।
বাপদাদা কোনো কোনো বাচ্চাদের কথায় স্মিতহাসি হাসতে থাকেন। যখন নিজের পরিবর্তনের সময় আসে কিংবা সহন করার সময় আসে অথবা 'অভ্যন্তরে ভরে নেওয়ার' সময় আসে তখন তোমরা কী বলো? অনেক করে কী বলো, বলো যে, 'আমাকেই মরতে হবে', 'আমাকেই পরিবর্তন হতে হবে', আমাকেই 'সহন করতে হবে', যতই হোক, এই মরে যাওয়া সেই মরে যাওয়ার মতো নয়, যেমন কেউ মারা গেলে লোকে বলে তো না যে, স্বর্গে গেছে। ওই মরে যাওয়াতে কেউ স্বর্গে তো যায় না কিন্তু এই মরণে তো স্বর্গে শ্রেষ্ঠ সীট প্রাপ্ত হয়। সুতরাং এটা মরে যাওয়া নয় বরং স্বর্গে স্বরাজ্য নেওয়া। তাহলে মরণ ভালো তো না? কী, কঠিন কিছু আছে? সেই সময় কঠিন লাগে। আমি ভুল নইই, সে ভুল, কিন্তু ভুলটাকে আমি কীভাবে রাইট করবো সেটা তোমরা জানো না। যারা ভুল তাদের পরিবর্তন হওয়া উচিত নাকি যারা রাইট তাদের পরিবর্তন হওয়া উচিত? কা'কে পরিবর্তন হতে হবে? উভয়কেই পরিবর্তন হতে হবে। 'পরিবর্তন' শব্দটাকে আধ্যাত্মিক ভাষায় এগিয়ে যাওয়া মনে করো, 'পরিবর্তন' না মনে করে, মানো 'অগ্রগতি'। ভুল উপায় মানে পরিবর্তন নয়, বরং সঠিক উপায় মানে পরিবর্তন। নিজেকে পরিবর্তন করার শক্তি আছে? নাকি মনে করো কখনও তো পরিবর্তন হবেই।
পবিত্রতার অর্থই হলো সদা সঙ্কল্প, বোল, কর্ম, সম্বন্ধ আর সম্পর্কে তিন বিন্দুর মহত্ত্ব ধারণ করা। এমন কোনও পরিস্থিতি যদি আসে তো সেকেন্ডে ফুলস্টপ লাগানোতে নিজেকে সদা অফার করো "আমাকে করতে হবে।" এভাবে যারা অফার করে তাদের তিন রকমের আশীর্বাদ প্রাপ্ত হয়। ১) নিজেরও আশীর্বাদ নিজের প্রাপ্ত হয়, খুশি অনুভূত হয়। ২) বাবার থেকে এবং ৩) ব্রাহ্মণ পরিবারের যারাই শ্রেষ্ঠ আত্মা তাদের থেকেও আশীর্বাদ প্রাপ্ত হয়। তাহলে, মরণ হলো নাকি পাওনা হলো, কী বলবে? পেয়েছ, তাই না। সুতরাং ফুলস্টপ লাগানোর পুরুষার্থকে কিংবা কন্ট্রোলিং পাওয়ার দ্বারা পরিবর্তন শক্তিকে তীব্রগতিতে বাড়াও। কর্মবিমুখ হয়ো না এ' তো হয়ই, এ' তো চলতেই থাকে... এটা দায়িত্ববোধহীনের সঙ্কল্প। অসতর্কমূলক ভাবের পরিবর্তন করে অ্যালার্ট হয়ে যাও। আচ্ছা!
চতুর্দিকের মহান আত্মাদের, পবিত্রতার সর্বশ্রেষ্ঠ ব্রত ধারণকারী আত্মাদের, সদা সেকেন্ডে ফুলস্টপ লাগিয়ে স্ব-পরিবর্তক হওয়া শ্রেষ্ঠ আত্মাদের, সদা নিজেকে শ্রেষ্ঠ কার্যের জন্য নিমিত্ত বানানোর অফার করে তেমন আত্মাদের, সদা তিন বিন্দুর মহত্ত্ব প্র্যাকটিক্যালি ধারণকারী বাবা সমান আত্মাদের বাপদাদার স্মরণ-স্নেহ আর নমস্কার।
দাদীদের সাথে সাক্ষাৎকার -
তোমাদের দেখে সবাই খুশি হয়। কেন খুশি হয়? (বাপদাদা সবাইকে জিজ্ঞাসা করছেন) দাদীদের দেখে খুশি হও, হও তো না? কেন খুশি হও? কারণ নিজের ভাইব্রেশন বা কর্ম দ্বারা খুশি দেন, সেইজন্য খুশি হও। যখনই এমন শ্রেষ্ঠ আত্মাদের সাথে তোমরা মিলিত হও তখন খুশি অনুভব তো করো, তাই না। (টিচারদের প্রতি) ফলোও করো তো না। কেউ কেউ ভাবে বাবা তো বাবা, কীভাবে তাঁর সমান হতে পারি? কিন্তু যারা নিমিত্ত আত্মা তারা তো তোমাদের সমান না? তো তাঁরা যদি হতে পারেন তাহলে তোমরা হতে পারবে না? লক্ষ্য তো সকলের সম্পূর্ণ আর সম্পন্ন হওয়ার। বাবা যদি তোমাদের হাত উঠাতে বলেন যে, তোমরা ১৬ কলা হতে চাও নাকি ১৪ কলা তো কোনটাতে হাত উঠাবে? ১৬ কলা। তাহলে, ১৬ কলার অর্থ কী? সম্পূর্ণ, তাই তো না? যখন লক্ষ্যই এমন তখন হতেই হবে। মুশকিল হবে তা' না, হতেই হবে। ছোট ছোট বিষয়ে ঘাবড়ে যেও না। মূর্তি হতে চলেছ তো কিছু তো হ্যামারিং হবেই, তাই না, তা' নয়তো কীভাবে তুমি মূর্তি হবে! যে যত আগে হয় তাকে তুফানও (প্রবল ঝঞ্ঝা) বেশি ক্রস করতে হয়, কিন্তু সেই তুফান তাদের কাছে তুফান বলে মনে হয় না, তোহ্ফা (উপহার) মনে হয়। সেই তুফানও গিফ্ট হয়ে যায় তোমাদের অনুভাবী বানানোর। তো তোহ্ফা হয়ে গেছে, গেছে না? সুতরাং গিফ্ট নেওয়া ভালো লাগে নাকি কঠিন লাগে? তো এটাও নেওয়া, দেওয়া নয়। দেওয়া কঠিন, নেওয়া তো সহজ হয়। এমন ভেবো না এটা কী শুধু আমারই পার্ট - অনুভব করার জন্য সব বিঘ্ন আমারই কাছে আসতে হবে! ওয়েলকাম করো - এসো। এটা গিফ্ট। সবচাইতে বেশি গিফ্ট লাভ হয়, তা'তে কী হয়? বেশি অ্যাক্যুরেট মূর্তি হওয়া অর্থাৎ হ্যামার লাগা। হ্যামার দিয়েই তো ঠুকে ঠুকে ঠিক করে। তোমরা তো অনুভাবী হয়ে গেছ, নাথিং নিউ। খেলা মনে হয়। দেখতে থাকো আর হাসতে থাকো, আশীর্বাদ (শুভ কামনা-শুভ ভাবনা) দিতে থাকো। টিচার্স, তোমরা 'বাহাদুর' নাকি কখনো কখনো ঘাবড়ে যাও? এটা তো ভাবিইনি এ'রকম হবে! যদি জানতাম এ' বিষয়ে আগেই ভাবতাম...। ডবল ফরেনার্স তোমরা কি ভাবো - এটা তো ভাবিনি যে ব্রাহ্মণ হলেও এ'রকম হয়? বিচার-বিবেচনা করে এসেছ তো না, নাকি এখন ভাবতে হচ্ছে? আচ্ছা!
যে যতই যেমনই হোক কিন্তু বাপদাদা ভালোকেই দেখেন। সেইজন্য বাপদাদা সবাইকে ভালোই বলবেন, খারাপ বলবেন না। হতে পারে ন'টাই খারাপ আর একটা ভালো, তবুও বাবা কী বলবেন? ভালো বলবেন নাকি বলবেন এ' তো খুব খারাপ, এ' তো খুব দুর্বল? আচ্ছা। এই গ্রুপ বড় হয়ে গেছে। (২১ টি দেশের লোক এসেছে। ) ভালো, হাউসফুল হবে তবেই তো আর একটা তৈরি হবে। যদি ফুল না হয় তাহলে আরেকটা হওয়ার মার্জিন হবে না। আবশ্যকতাই সাধন সামনে নিয়ে আসে।
অব্যক্ত বাপদাদার পার্সোনাল সাক্ষাৎকার :
প্রতি কদমে পদম্-পদমের উপার্জন সঞ্চয় করার যুগ - সঙ্গমযুগ -
নিজেকে পদ্মাপদম ভাগ্যবান মনে করো? প্রতি কদমে পদম্-পদম্ এর উপার্জন সঞ্চয় হচ্ছে? তো কত পদম্ জমা করেছ? অগণিত হয়েছে? কেননা, তোমরা জানো যে জমা করার সময় এখন। সত্যযুগে জমা হবে না। সেখানেও কর্ম হবে। কিন্তু তা' হবে অকর্ম, কারণ ওখানের কর্মের সম্বন্ধও এখানের সমস্ত কর্মের ফল হিসেবে হয়। সুতরাং এখানে হলো করার সময় আর ওখানে খাওয়ার সময়। তো এতটা অ্যাটেনশন থাকে তোমাদের? কত জন্মের জন্য সঞ্চয় করতে হবে? (৮৪) জমা করতে খুশি হয় তো না ? পরিশ্রম মনে হয় না তো? কারণ প্রত্যক্ষ ফলও প্রাপ্ত হয়। প্রত্যক্ষ ফল প্রাপ্ত হয় নাকি ভবিষ্যতের আধারে চলেছ? ভবিষ্যতের থেকেও প্রত্যক্ষফল অতি শ্রেষ্ঠ। সদাই শ্রেষ্ঠ কর্ম আর শ্রেষ্ঠ প্রত্যক্ষফল প্রাপ্তির সাধন হলো - সদা এটা স্মরণে রাখতে হবে "এখন নয় তো কখনো নয়।" যেমন তোমাদের নাম ডবল ফরেনার্স, তো ডবলের টাইটেল খুব ভালো। তাইতো তোমরা সবকিছুতে ডবল - খুশিতে, নেশাতে, পুরুষার্থে সবেতেই ডবল। সেবাতেও ডবল। আর তোমরা থাকও সদা ডবল, কম্বাইন্ড, সিঙ্গল নয়। কখনো ডবল হওয়ার সঙ্কল্প আসে না তো? কম্প্যানী চাই নাকি কম্প্যানিয়ন চাই? চাই তো বলে দাও। এরকম ক'রো না, ওখানে গিয়ে বলবে কম্প্যানিয়ন চাই। যতই কম্প্যানিয়ন করো কিন্তু এমন কম্পিয়ানিয়ন পাবে না। যতই ভালো কম্প্যানিয়ন হোক কিন্তু সবাই নেবে, দেবে না। এই ওয়ার্ল্ডে এমন কম্প্যানিয়ন কেউ আছে? আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, আফ্রিকা ঘুরে এসো, দেখো যদি কাউকে খুঁজে পাও! কারণ মনুষ্যাত্মা যতই দেওয়ার হোক, তবুও দিতে দিতে অবশ্যই নেবে। সুতরাং যখন দাতা কম্প্যানিয়নকে পেয়ে যাচ্ছো তো কী করা উচিত? যেখানেই তোমরা যাও, আবার ফিরে আসতেই হবে। এরা সব যাওয়ার নয়। কোনো দুর্বলতা নেই তো? ফটো তোলা হচ্ছে। পরে তোমাদের ফটো পাঠানো হবে দেখাতে যে, তোমরা কথা দিয়েছিলে। বলো, এটা কখনো হবেই না। বাপদাদাও তোমাদেরকে ছাড়া একলা থাকতে পারেন না। আচ্ছা।
*বরদানঃ-* মহাবীর হয়ে বাবার সাক্ষাৎকার করানো বাহনধারী তথা অলঙ্কারধারী ভব
মহাবীর অর্থাৎ সস্ত্রধারী। শক্তি বা পাণ্ডবদের সদা বাহনের উপরে দেখানো হয় তাদের সস্ত্র সমেত। সস্ত্র অর্থাৎ অলঙ্কার। বাহন হলো শ্রেষ্ঠ স্থিতি আর অলঙ্কার হলো সর্বশক্তি। এমন বাহনধারী এবং অলঙ্কারধারীই সাক্ষাৎকার মূর্তি হয়ে বাবার সাক্ষাৎকার করাতে পারে। এটাই মহাবীর বাচ্চাদের কর্তব্য। মহাবীর তাকেই বলা হয়ে থাকে যে নিজের উড়তি কলা দ্বারা সবরকম পরিস্থিতিকে পার করে নেয়।
*স্লোগানঃ-* একরস পুরুষার্থের দ্বারা উঁচু স্থিতি বানিয়ে নিলে হিমালয়ের মতন বড় পেপারও তুলো হয়ে যাবে।
সূচনা : - আজ মাসের তৃতীয় রবিবার, সকল রাজযোগী তপস্বী ভাই-বোনেরা সন্ধ্যা ৬:৩০ মিনিট থেকে ৭:৩০ পর্যন্ত, বিশেষ যোগ অভ্যাসের সময় অনুভব করবেন যেন জ্ঞানসূর্য সর্বশক্তিমান পরমাত্মার কিরণ আমার উপরে পড়ছে এবং আমার থেকে সারা সংসারে যাচ্ছে, যার দ্বারা সংসার থেকে অজ্ঞান-অন্ধকার দূর হয়ে যাচ্ছে
No comments:
Post a Comment