Saturday, February 4, 2023

05.02.2023 BANGLA MURLI

 05.02.2023 BANGLA MURLI



"একাগ্রতার শক্তিতে দৃঢ়তার দ্বারা সহজ সফলতার প্রাপ্তি"


আজ ব্রাহ্মণ সংসারের রচয়িতা চতুর্দিকে নিজের ব্রাহ্মণ পরিবারকে দেখে উৎফুল্ল হচ্ছেন। এটা 'অভিনব ও অনুপম' (স্বতন্ত্র) এবং অতি প্রিয় ছোট একটা অলৌকিক ব্রাহ্মণ সংসার। সমগ্র ড্রামাতে অতি শ্রেষ্ঠ সংসার, কারণ ব্রাহ্মণ সংসারের সব গতিবিধি অনুপম এবং অভিনব ও বিশেষ। এই ব্রাহ্মণ সংসারের ব্রাহ্মণ আত্মারা এই বিশ্বের মধ্যেও বিশেষ আত্মা। সেইজন্যই এটা বিশেষ আত্মাদের সংসার। প্রত্যেক ব্রাহ্মণ আত্মার শ্রেষ্ঠ বৃত্তি, শ্রেষ্ঠ দৃষ্টি আর শ্রেষ্ঠ কৃতি বিশ্বের সকল আত্মাকে শ্রেষ্ঠ বানানোর নিমিত্ত। এই বিশেষ দায়িত্ব তোমরা সব আত্মার উপরে ন্যস্ত, তো সকলে তোমরা নিজেদের এই দায়িত্ব অনুভব করো? কত বড় দায়িত্ব! সমগ্র বিশ্বের পরিবর্তন! না শুধু আত্মাদের পরিবর্তন করো, বরং প্রকৃতিরও পরিবর্তন করো। কিন্তু এই স্মৃতি সদা বজায় থাকবে তা'তে নম্বর ক্রমে রয়েছে। সব ব্রাহ্মণ আত্মার ভিতরে সদা সঙ্কল্প থাকে যে, আমি বিশেষ আত্মা যেন নম্বর ওয়ান হই, কিন্তু সঙ্কল্প আর কর্মে প্রভেদ হয়ে যায়। এর কারণ কী? কর্মের সময় নিজের স্মৃতিকে সদা অনুভাবী স্থিতিতে নিয়ে আসে না। যা কিছু তোমাদের শোনা, জানা সে' দুটো তোমাদের মনে থাকে, কিন্তু নিজেকে সেই স্থিতিতে মেনে নিয়ে এগিয়ে চলাতে মেজরিটি কখনো অনুভাবী আর কখনো তোমাদের কেউ কেউ শুধু মানে আর জানে। এই অনুভবকে বাড়ানোর জন্য দুটো বিষয়ের বিশেষ মহত্ত্বকে জানো। এক, নিজের মহত্ত্বকে, দুই, সময়ের মহত্ত্বকে। নিজের সম্পর্কে তোমরা অনেক জানো। যদি তোমাদের যে কোনো কাউকে জিজ্ঞাসা করা হয় যে, তুমি কী ধরনের আত্মা? অথবা, এমনকি যদি তুমি নিজেকে জিজ্ঞাসা করো যে, আমি কে, তবে কত কথা স্মৃতিতে আসবে? এক মিনিটের মধ্যেই কত স্বমান স্মরণে এসে যায়। অনেক কিছু স্মরণ হয়, তাই না। কত লম্বা লিস্ট নিজের মহত্ত্বের! তো জানার সময় তো খুব হুঁশিয়ার হও, হও তো না? তাহলে অনুভব করতে কেন তফাৎ হয়ে যায়? কারণ সময়কালে সেই স্থিতির সীটে সেট থাকো না। যখন তোমরা সীটে সেট থাকো তখন কোনও কিছু, তা' দুর্বল সংস্কার হোক বা কোনো আত্মা, প্রকৃতি হোক বা কোনও রকমের রয়্যাল মায়া তোমাদের আপসেট করতে অপারগ। যেমন, অনেক আত্মার শারীরিক ভাবেও এক সীটে বা এক জায়গায় একাগ্র হয়ে বসার অভ্যাস যদি না হয় তাহলে তারা কী করবে? নড়তে থাকবে তো না। ঠিক তেমনই, মন আর বুদ্ধি যদি অনুভবের সীটে সেট হওয়া না জানে তবে এই মুহূর্তে সেট হবে, পর-মুহূর্তে আপসেট। শরীরকে বসানোর জন্য থাকে স্থূল স্থান আর মন-বুদ্ধিকে বসানোর স্থান শ্রেষ্ঠ স্থিতি। তো বাপদাদা বাচ্চাদের এই খেলা দেখতে থাকেন – এই মুহূর্তে ভালো স্থিতির অনুভবে স্থিত থাকে আর পরমুহূর্তে নিজের স্থিতি থেকে দোলাচলে এসে যায়। যেমন ছোট বাচ্চারা চঞ্চল হয়, তো তারা এক জায়গায় বেশি সময় টিকে থাকতে পারে না। কিছু বাচ্চা শৈশবের এই খেলা খুব খেলে। এক্ষুনি দেখবে খুব একাগ্র আর পরক্ষণেই একাগ্রতার পরিবর্তে ভিন্ন ভিন্ন স্থিতিতে রাস্তা ভুলে যেতে থাকে। তো এইরকম সময়ে বিশেষ অ্যাটেনশন প্রয়োজন যাতে মন আর বুদ্ধি একাগ্র থাকে।


একাগ্রতার শক্তি সহজে নির্বিঘ্ন বানায়, সেইজন্য পরিশ্রম করার আবশ্যকতা নেই। একাগ্রতার শক্তি আপনা থেকেই 'এক বাবা দ্বিতীয় কেউ নেই' - সদা এই অনুভূতি করায়। একাগ্রতার শক্তি সহজ ভাবে একরস স্থিতি বানায়। একাগ্রতার শক্তি সদা সকলের প্রতি একই কল্যাণ-বৃত্তি সহজে বানায়।


একাগ্রতার শক্তি সকলের প্রতি ভ্রাতৃত্বের দৃষ্টি আপনা থেকেই তৈরি করে দেয়। একাগ্রতার শক্তি প্রত্যেক আত্মার সাথে তোমার সম্বন্ধের মধ্যে স্নেহ, সম্মান, স্বমানের কর্ম সহজভাবে অনুভব করায়।


অতএব, এখন কী করতে হবে? কোন অ্যাটেনশন দিতে হবে? 'একাগ্রতা'। স্থিত তো হও, অনুভবও করো কিন্তু একাগ্র অনুভাবী হও না। অনুভবে কখনো শ্রেষ্ঠ, কখনো মধ্যম, কখনো সাধারণ ― এই তিনের মধ্যে ঘুরপাক খেতে থাকো। এতটা সমর্থ হও যাতে মন-বুদ্ধি সদা তোমার অর্ডার অনুসারে চলে। স্বপ্নেও সেকেন্ড মাত্রও যাতে তারা দোলাচলে না আসে। মন যেন মালিককে পরবশ না বানায়।


পরবশ আত্মার নিদর্শন - সেই আত্মা বশীভূত অবস্থায় সুখ, নিশ্চিন্ততা, আনন্দের অনুভূতি চাইলেও করতে পারবে না। ব্রাহ্মণ আত্মা কখনো কারও পরবশ হতে পারে না, এমনকি, নিজের দুর্বল স্বভাব আর সংস্কারের বশেও নয়। বাস্তবে, 'স্বভাব' শব্দের অর্থ 'স্ব-এর ভাব।' স্ব-এর ভাব তো ভালোই হয়, খারাপ হয় না। 'স্ব' বললে কী স্মরণে আসে? আত্মিক স্বরূপ স্মরণে আসে তো না। সুতরাং স্ব-ভাব অর্থাৎ স্ব-এর প্রতি এবং সর্ব প্রতি আত্মিক ভাব থাকবে। যখনই দুর্বলতার বশবর্তী হয়ে ভাবো যে, আমার স্বভাব কিংবা আমার সংস্কারই এরকম, কী করবো, আমি এরকমই...এগুলো কোন ধরনের আত্মা বলে? এই শব্দ বা সঙ্কল্প পরবশ আত্মার। সুতরাং, যখনই এই ধরনের সঙ্কল্প আসবে যে, আমার স্বভাব এরকম, তো শ্রেষ্ঠ অর্থে স্থিত হয়ে যাও। সংস্কার সামনে যদি আসে যে, আমার সংস্কার..., তো তৎক্ষণাৎ ভাবো যে, এই সংস্কার কি আমি-বিশেষ আত্মার! যাকে আমার সংস্কার বলছি? আমার সংস্কার বলছ, তাইতো, আমিত্বভাবের কারণে দুর্বল সংস্কারও ছাড়ে না, কারণ এটা নিয়মই যেখানে আমিত্বভাব থাকে সেখানে 'আমার' বোধ থাকে আর যেখানে 'আমার' বোধ থাকে সেখানে দেহ অন্তর্গত সবকিছুতে অধিকার বোধ থাকে। সুতরাং দুর্বল সংস্কারকে যদি নিজের বানিয়ে নাও, তাহলে সেই দুর্বল সংস্কারগুলো তাদের নিজের অধিকার ছাড়বে না, সেইজন্য পরবশ হয়ে বাবার সামনে আর্জি পেশ করো কি ছাড়িয়ে দাও ছাড়িয়ে দাও। 'সংস্কার' শব্দ বলার সাথে সাথে স্মরণ করো, অনাদি সংস্কার, আদি সংস্কারই আমার সংস্কার। এটা মায়ার সংস্কার, আমার নয়। সুতরাং একাগ্রতার শক্তি দ্বারা পরবশ স্থিতিকে পরিবর্তন করে মালিক ভাবের স্থিতির সীটে সেট হয়ে যাও।


যোগে বসো তো ঠিকই, বসো সবাই আগ্রহের সাথে, কিন্তু যতটা সময়, যে স্থিতিতে স্থিত হতে চাও, ততটা সময়ই একাগ্র স্থিতি থাকবে, তার আবশ্যকতা রয়েছে। তাহলে, কী করতে হবে? কোন বিষয়কে আন্ডারলাইন করবে? (একাগ্রতা) একাগ্রতাতেই দৃঢ়তা। আর যেখানে দৃঢ়তা সেখানে সফলতা গলার হার। আচ্ছা!


চতুর্দিকের অলৌকিক ব্রাহ্মণ সংসারের বিশেষ আত্মাদের, যারা সদা শ্রেষ্ঠ স্থিতির অনুভবের সীটে সেট থাকে এমন আত্মাদের, যারা সদা নিজের মহত্ত্ব অনুভব করে, সদা একাগ্রতার শক্তি দ্বারা মন-বুদ্ধিকে একাগ্র করে, সদা একাগ্রতার শক্তি দিয়েই দৃঢ়তা দ্বারা সহজে সফলতা প্রাপ্তকারী সর্বশ্রেষ্ঠ, সর্বাপেক্ষা বিশেষ, সর্বস্নেহী আত্মাদের বাপদাদার স্মরণ-স্নেহ আর নমস্কার।


অব্যক্ত বাপদাদার পার্সোনাল সাক্ষাৎকার -


উড়তি কলায় যাওয়ার জন্য ডবল লাইট হও, কোনও আকর্ষণ যেন আকৃষ্ট না করে :


সবাই তোমরা নিজেদেরকে বর্তমান সময় অনুসারে তীব্র গতিতে উড়ছ, অনুভব করো? সময়ের গতি তীব্র নাকি আত্মাদের পুরুষার্থের গতি তীব্র? সময় তোমাদের পিছনে পিছনে আছে নাকি তোমরা সময় অনুসারে চলছ? সময়ের অপেক্ষায় তোমরা নেই তো না যে অন্তে সব ঠিক হয়ে যাবে, সম্পূর্ণ হয়ে যাবে, বাবা সমান হয়ে যাবে? এরকম নয় তো না! কেননা ড্রামার হিসেবে বর্তমান সময় খুব তীব্রগতিতে চলে যাচ্ছে, অতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। কাল যা ছিল তার থেকে আজ আরও অতি-তে যাচ্ছে। এটা জানো তো না? সময় যেমন অতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে ঠিক তেমনই তোমরা সব শ্রেষ্ঠ আত্মাও পুরুষার্থের অতি তীব্র অর্থাৎ ফাস্ট গতিতে যাচ্ছ? নাকি কখনো ঢিলা কখনো তেজগতি? এমন হতে দিও না যে, নিচে এসে আবার উপরে যাবে। যাদের উপর-নিচে হয় তাদের গতি কখনো একরস ফাস্ট হতে পারে না। সুতরাং তোমরা সদা সর্ব বিষয়ে শ্রেষ্ঠ বা তীব্রগতিতে উড়ে থাকো। এমনিতে গায়ন আছে - 'উত্তরণ কলা সবার জন্য ভালো' কিন্তু এখন কী বলবে? 'উড়তি কলা সবার জন্য ভালো।' এখন উত্তরণ কলার সময়ও সমাপ্ত হয়েছে, এখন উড়তি কলার সময়। সুতরাং উড়তি কলার সময় যদি কেউ উত্তরণ কলা দ্বারা পৌঁছাতে চায় তাহলে পৌঁছাতে পারবে? না। তো সদা উড়তি কলা হতে হবে। উড়তি কলার নিদর্শন হলো সদা ডবল লাইট। ডবল লাইট না হলে উড়তি কলা হতে পারে না। সামান্যতম বোঝাও তোমাদের নিচে নিয়ে আসে। যেমন, প্লেন যখন যায়, ওড়ে, কিন্তু যদি মেশিনারীতে কিংবা পেট্রোলে সামান্যতম নোংরা জিনিস যদি থাকে তবে কী অবস্থা হয়? উড়তি কলা থেকে পতন কলায় এসে যায়। তো এখানেও যদি কোনো ধরনের বোঝা আছে, তা' নিজের সংস্কারের হোক বা বায়ুমন্ডলের হোক, অথবা কোনো আত্মার সম্বন্ধ-সম্পর্কের, কোনও বোঝা আছে তবে উড়তি কলা থেকে দোলাচলে (অস্থিরসঙ্কল্প) এসে যায়। বলবে, এমনিতে আমি তো ঠিকই আছি, কিন্তু এইসব কারণ আছে তো না, সেইজন্য এই বন্ধন; সংস্কারের, ব্যক্তির, বায়ুমন্ডলের বন্ধন! কিন্তু কারণ যাই হোক, যেমনই হোক তীব্র পুরুষার্থী সব বিষয় এমনভাবে ক্রস (পার হয়ে যাওয়া) করে যেন কিছুই নেই। পরিশ্রম নয়, বরং মনোরঞ্জন অনুভব করবে। তখনই এমন স্থিতিকে বলা হয়ে থাকে উড়তি কলা। তাহলে, উড়তি কলায় আছ তোমরা? নাকি কখনো কখনো মন চায় নিচে আসতে, চক্কর দিতে। কোনকিছুর প্রতি যেন আকর্ষণ বোধ না হয়। আকর্ষণীয় কোনকিছুই সামান্যতম যেন আকর্ষণ না করে। রকেট তখনই উড়তে পারে, যখন পৃথিবীর আকর্ষণের ঊর্ধ্বে উঠে যায়। নয়তো উপরে উড়তে পারে না। না চাইতেও নিচে এসে যাবে। তাইতো কোনো আকর্ষণ উপরে নিয়ে যেতে পারে না। সম্পূর্ণ হতে দেবে না। অতএব, চেক করো সঙ্কল্পেও যেন আকর্ষণীয় কোনকিছু আকর্ষণ না করে! বাবা ব্যতীত আর কোনো আকর্ষণ যেন না হয়। পাণ্ডব কী ভাবছ? এই রকম পুরুষার্থী হও। হতে তো হবেই, তাই না! কতবার এই রকম হয়েছ? অনেকবার হয়েছ। তোমরাই হয়েছ নাকি অন্য কেউ হয়েছে? তোমরাই হয়েছ। তাহলে, নম্বরক্রমে তো যাচ্ছ না, তাই না, নম্বর ওয়ানে যেতে হবে। মাতারা কী করবে? নম্বর ওয়ান নাকি নম্বর ক্রমানুসার হলেও চলবে? ১০৮ নম্বর চলবে? ১০৮ নম্বর হবে নাকি প্রথম নম্বর হবে? যদি বাবার হয়েছ, অধিকারী হয়েছ তবে উত্তরাধিকার পুরোপুরি নিতে হবে, নাকি সামান্য কম? তো তোমরা নম্বর ওয়ান হবে, হবে তো না। দাতা ফুল দিচ্ছেন আর যে নেবে সে যদি কম নেয় তো কী বলবে? সেইজন্য নম্বর ওয়ান হতে হবে। হতে পারে একমাত্র নম্বর ওয়ান একই হবে, কিন্তু নম্বর ওয়ান ডিভিশন অনেক আছে তো না। সুতরাং সেকেন্ডে এসো না। নিতে হয় তো পুরো নাও। যারা পূর্ণরূপে নেবে না তারা তো পিছনে পিছনে অনেক আসবে। কিন্তু তোমাদের পুরো নিতে হবে। সবাই তোমরা পূর্ণরূপে নিতে চলেছ, নাকি অল্পতেই সন্তুষ্ট হও? যখন খোলা-ভান্ডার আছে, আর অফুরন্ত আছে তখন কম কেন নেবে? অসীম তো না, যদি সীমিত হতো তাহলে কেউ ৮ হাজার পেতো, কেউ ১০ হাজার পেতো, তখন কী বলা হতো! ভাগ্যে এতটাই ছিল, কিন্তু বাবার খোলা-ভান্ডার, অশেষ, যত নিতে চাও নিতে পারো, তবুও তা' অশেষ, অফুরান। অনন্ত ভান্ডারের মালিক তোমরা। বালক তথা মালিক। তো সবাই সদা খুশি থাকো নাকি অল্প অল্প কখনো দুঃখের তরঙ্গ আসে? দুঃখের তরঙ্গ স্বপ্নেও আসতে পারে না। সঙ্কল্প তো বাদই দাও, এমনকি স্বপ্নেও আসতে পারে না। একেই বলা যায় নম্বর ওয়ান। সুতরাং, কী চমৎকার করে দেখাবে? সবাই তোমরা নম্বর ওয়ানে এসে দেখাবে তো না?


এমনিও দিল্লিকে তো দিল (হৃদয়) বলা হয়। সুতরাং যেমন হৃদয় হবে তেমনভাবেই শরীর চলবে। হৃদয়ই তো আধার, তাই না! হৃদয় হলো দিলারামের হৃদয়। তো হৃদয়ের আসন যথার্থ চাই তো না, নড়বড়ে চাই না। সুতরাং নেশা আছে তো না যে, আমি দিলারামের হৃদয়। তো এখন নিজের শ্রেষ্ঠ সঙ্কল্প দ্বারা নিজের এবং বিশ্বের পরিবর্তন করো। সঙ্কল্প করা মাত্র কর্মে পরিণত করতে হবে। এমন নয়, ভেবেছিলাম তো অনেক; তোমরা ভাবো তো অনেক, কিন্তু ঘটে অনেক কম, তারা তীব্র পুরুষার্থী নয়। তীব্র পুরুষার্থী অর্থাৎ সঙ্কল্প আর কর্ম সমান হবে, তখনই বাবা সমান বলা যাবে। তোমরা খুশি আর সদা খুশি থাকবে। এই দৃঢ় নিশ্চয় আছে তো না। খুশিতে যারা থাকে তারাই সৌভাগ্যবান। এটা পাকা নাকি অল্প অল্প কাঁচা হয়ে যায়? কাঁচা জিনিস ভালো লাগে? পাকাই পছন্দ হয়ে থাকে। সুতরাং সম্পূর্ণ পাকা থাকতে হবে।


প্রতিদিন অমৃতবেলায় এই পাঠ পাকা করো, যা কিছু হয়ে যাক খুশি থাকতে হবে এবং অন্যদের খুশি করতে হবে। আচ্ছা, আর কোনো খেলা দেখিও না। শুধু এই খেলাই দেখাও, অন্যান্য খেলা ক'রো না। আচ্ছা!


*বরদানঃ-* ভাগ্য আর ভাগ্যবিধাতা বাবার স্মৃতিতে থেকে ভাগ্য বন্টন করে দরাজদিল মহাদানী ভব

ভাগ্যবিধাতা বাবা আর ভাগ্য উভয়ই যেন স্মরণে থাকে, তবে অন্যদেরও ভাগ্যবান বানানোর উৎসাহ-উদ্দীপনা থাকবে। যেভাবে ভাগ্যবিধাতা বাবা ব্রহ্মা দ্বারা ভাগ্য বন্টন করেন, তোমরা দাতার বাচ্চারা, ঠিক সেভাবেই ভাগ্য বন্টন করে এগিয়ে চলো। লোকে কাপড় বিতরণ করবে, শস্য বিলি করবে, কোনো গিফ্ট দেবে... কিন্তু সেই সব থেকে কেউ তৃপ্ত হতে পারে না। তোমরা ভাগ্য বন্টন করো, তো যেখানে ভাগ্য সেখানে সর্বপ্রাপ্তি। এইভাবে ভাগ্য বণ্টনে দরাজদিল, শ্রেষ্ঠ মহাদানী হও। সদা দিতে থাকো।

*স্লোগানঃ-* যে একনামি থাকে এবং ইকোনমিক্যালি (সাশ্রয়কররূপে) চলে সে-ই প্রভু প্রিয় হয়।

No comments:

https://bkrajyogpathshala.blogspot.com/

01-04-2026 Bengali Murli

 মিষ্টি বাচ্চারা - বাচ্চারা, বাবা যা, বাবা ঠিক যেমন, তোমরা বাচ্চারাও তাঁকে নম্বর ক্রমানুসারেই চিনেছো, যদি সকলেই তাঁকে চিনে গেলে তবে তো অত্যন...