10.02.2023 BANGLA MURLI
“মিষ্টি বাচ্চারা - বাবা তোমাদের সীমিত ও অসীম জগতের নলেজ প্রদান করে, এসবেরও ঊর্ধ্বে পরম ধামে নিয়ে যান, সত্যযুগ ত্রেতা হল সীমিত, দ্বাপর কলিযুগ হল অসীমিত ”
*প্রশ্নঃ - বাবার দ্বারা প্রাপ্ত নলেজের দৃঢ় (মজবুত) কে থাকতে
পারে?
*উত্তরঃ - যে সম্পূর্ণ পবিত্র হয়। পবিত্র নয় তো নলেজ
ধারণও হয় না। পবিত্র গোল্ডেন এজেড বুদ্ধিতেই সম্পূর্ণ নলেজ ধারণ হয়, তারাই বাবার সম
মাস্টার নলেজফুল হয়।
*প্রশ্নঃ - পুরুষার্থ করতে করতে বাচ্চারা তোমাদের কোন্ স্টেজ
তৈরি হয়ে যাবে?
*উত্তরঃ - এখনও পর্যন্ত যে অশুদ্ধ সঙ্কল্প বিকল্প চলে
সেসব সমাপ্ত হয়ে যাবে। বুদ্ধিযোগ এক বাবার সাথে যুক্ত থাকবে। বুদ্ধি সোনার পাত্রে পরিণত
হবে। বাবা যে রত্ন প্রদান করেন সেসব ধারণ হতে থাকবে।
ওম্ শান্তি
। মিষ্টি মিষ্টি আত্মা রূপী বাচ্চাদের, আত্মিক পিতা রোজ রোজ বসে বোঝান। এই কথা তো বাচ্চাদেরকে
বোঝানো হয়েছে যে, জ্ঞান, ভক্তি এবং বৈরাগ্যের এই সৃষ্টি চক্র বানানো রয়েছে । সীমিত
এবং অসীম জগতের ঊর্ধ্বে যেতে হবে। বলা হয় যে - সীমিত ও অসীম জগৎ ছাড়িয়ে। অতএব বুদ্ধিতে
এই জ্ঞান রাখতে হবে যে সীমিত জগৎ এবং অসীম জগতের ঊর্ধ্বে যেতে হবে। (ঈশ্বর) পিতার বিষয়েও
বলা হয় - সীমিত ও অসীম জগৎ ছাড়িয়ে। এই কথাটির অর্থও বোঝা উচিত। আত্মিক (রূহানী) পিতা
আত্মা রূপী (রূহানী) বাচ্চাদেরকে এই টপিকে বোঝান - জ্ঞান, ভক্তি পরে বৈরাগ্য। এই কথা
তো জানো জ্ঞান দিনকে বলা হয় যখন নতুন দুনিয়া হয়। সেখানে ভক্তি থাকে না। ওইটা হল সীমিত
দুনিয়া, সেখানে মানুষ থাকে খুব অল্প সংখ্যায়, পরে ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায়। অর্ধেক কল্প
পরে ভক্তি শুরু হয়। যখন জ্ঞান অর্থাৎ দিন থাকে তখন কোনও সন্ন্যাস ধর্ম নেই, বৈরাগ্য
নেই। সন্ন্যাস বা ত্যাগ সেখানে থাকে না, এই সব কথা বুদ্ধিতে থাকা উচিত যে, ধীরে ধীরে
সৃষ্টির বৃদ্ধি হতে থাকে। জীব আত্মাদের বৃদ্ধি হয়। আত্মারা পরম ধাম থেকে নেমে আসে।
সীমিত দুনিয়া থেকে আরম্ভ হয়, এই সময় হল অসীম দুনিয়া । অতএব বাবা হলেন সীমিত এবং অসীম
দুনিয়ার ঊর্ধ্বে। সীমিত দুনিয়ায় বাচ্চাদের সংখ্যা অনেক কম, পরে সৃষ্টিতে বৃদ্ধি হয়।
এখন এসব থেকে ঊর্ধ্বে যেতে হবে। একে বলে অসীম, প্রথমে আত্মারা সীমিত ছিল। সত্য যুগ,
ত্রেতায় পার্ট প্লে করেছে। কোথায় ৯ লক্ষ, কোথায় ৫-৬ শত কোটি, চলে যায় অসীমে। মানুষ
পরীক্ষা করে আকাশের পরিধি কত দূর, সমুদ্রের সীমা কত দূর, এর অন্ত নেই। ঊর্ধ্বে যাওয়ার
অনেক চেষ্টা করে। এতখানি অয়েল বা ইন্ধন রাখতে হয় যাতে ফিরে আসতে পারে। অসীমের পারে
তো যেতে পারে না, সীমা পর্যন্তই যাবে। সীমিত এবং অসীম দুনিয়ার ঊর্ধ্বের রহস্য বাবা
তোমাদেরকে বোঝান। সর্বপ্রথমে নতুন দুনিয়া হয় সীমিত দুনিয়া। সংখ্যা অনেক কম । রচনার
আদি মধ্য অন্তের নলেজ তোমাদের থাকা চাই। এই নলেজ কারো নেই। বাবার পরিচয় জানেনা। এই
সব রহস্য বোঝান বাবা, উনি হলেন সীমিত ও অসীম দুনিয়ার ঊর্ধ্বে। তো বাবা বসে তোমাদেরকে
রচনার আদি মধ্য অন্তের রহস্য বুঝিয়ে দেন। তারপরে বাবা বলেন বাচ্চারা এসবের ঊর্ধ্বে
যাও। সেখানে তো কিছুই নেই। আকাশ শুধু আকাশ, জলই জল। জমি ইত্যাদি কিছু নেই, একেই বলে
সীমিত ও অসীম দুনিয়ার ঊর্ধ্বে। এর অন্ত কেউ প্রাপ্ত করে না। অনন্ত, অনন্ত বলে কিন্তু
অর্থ জানেনা। সম্পূর্ণ বোধ বাবা প্রদান করেন কারণ উনি হলেন শ্রেষ্ঠ অর্থাৎ অত্যন্ত
বোধসম্পন্ন। ভালোভাবে বুঝে শুনে বোধসম্পন্ন হয়েছে যারা তারাই মালার দানা হয়েছে। কোনও
মানুষ রচয়িতা এবং রচনার আদি মধ্য অন্তের রহস্য বোঝে না। একমাত্র বাবা বোঝান। উনি বলেন
আমি সীমিত জগৎও দেখছি, অসীমেও যাই। এই যে এত সব ধর্ম আছে, এইভাবে এইভাবে স্থাপনা হয়।
সত্য যুগ হল সীমিত সৃষ্টি, পরে কলিযুগে হল অসীম। তারপরে সীমিত ও অসীমের ঊর্ধ্বে যেখানে
আমাদের শান্তিধাম আছে, সুইট হোম আছে। সত্যযুগও হল সুইট হোম। সেখানে শান্তিও আছে তার
সঙ্গে রাজ্য ভাগ্যও আছে। সেখানে সুখ ও শান্তি দুইই আছে। ঘরে যাব অর্থাৎ পরম ধামে কেবলমাত্র
শান্তি থাকবে, সুখের নাম নেই। এখন তোমরা শান্তি ও সুখ দুইই স্থাপন করছো। সেখানে অশান্তির
নাম নেই। অশান্তি হল ৫ বিকারের, এ'কথা দুনিয়ায় কেউ জানেনা। অর্ধেক কল্পের পরে পুনরায়
রাবণের রাজ্য হয়। তারা কল্পের আয়ু লক্ষ বছর বলে দেয়। কিছুই বুঝতে পারে না, তাই ভ্রষ্টাচারী,
দুঃখী, পতিত হয়েছে। একটুও সভ্যতা নেই। যে দৈবী সভ্যতা ছিল, তার পরিবর্তে অসভ্যতা, আসুরিক
গুণে পরিপূর্ণ হয়েছে।
এ হল অসীমের
ড্রামা। বলা হয় সীমিত ও অসীমের ঊর্ধ্বে এখন তোমরা বহু দূর আরও দূরে যাও। মানুষ তো খেলার
কথা কিছু জানেনা যে সবচেয়ে বড়ো কে? উঁচু থেকে উঁচু হলেন ভগবান, তখন বলা হয় তোমার মতি
গতি তুমিই জানো। বাচ্চারা, এখন তোমরা সব কিছু বুঝেছো। কিন্তু তোমাদের মধ্যেও নম্বর
ক্রমে রয়েছে। বাবা বসে বোঝান যে আমার বুদ্ধি কত দূর পর্যন্ত যায়। সীমিত ও অসীমের ঊর্ধ্বে....
সেখানে কিছুই নেই। বাচ্চারা, তোমাদের নিবাস স্থান হল ব্রহ্মান্ড, ব্রহ্ম মহাতত্ত্ব
। যেমন আকাশ তত্ত্বে এখানে বসে আছো, কিছুই দৃশ্যমান নয়। পোলারই পোলার। রেডিওতে বলে
আকাশ বাণী। এবারে আকাশ তো হল বিশাল, তার অন্ত পাওয়া সম্ভব নয়। আকাশের বাণী মানুষ কি
বুঝবে। এই যে আকাশ তত্ত্ব রয়েছে, এই মুখের দ্বারা, মহাকাশ (ether) থেকে বাণী নিঃসৃত
হয়, একেই বলে আকাশবাণী। বাণী মুখ দ্বারা (আকাশ থেকে) বেরোয়। বাণী নাক বা কান দিয়ে বের
হবে না। তো বাচ্চারা, শিববাবাও এই দেহে বিরাজিত হয়ে এই মুখের দ্বারা তোমাদেরকে জ্ঞান
বুঝিয়ে দেন। তোমরা বাচ্চারাই জানো যে বাবা কে। যেমন আমরা হলাম আত্মা ঠিক বাবাও হলেন
উঁচু থেকে উঁচু আত্মা। সবারই পার্ট রয়েছে নম্বর অনুসারে। উঁচু থেকে উঁচুতে হলেন শিব
বাবা, তারপরে নীচে এসো, নম্বর ক্রমে খেলায় সবাই আসে। নতুন দুনিয়ায় সর্ব প্রথমে হলেন
লক্ষ্মী-নারায়ণ, পরে ওনাদের সঙ্গে যারা নতুন দুনিয়ায় বাস করে, মালা দেখো। উপরে ফুল
উঁচু থেকে উঁচুতে হলেন ভগবান পরে হল মেরু যুগল ( ব্রহ্মা সরস্বতী) । তারপরে মালা দেখো
কীভাবে বৃদ্ধি পায়।
এই সবই হল পড়াশোনা,
তাইনা। সম্পূর্ণ পড়াশোনা বা জ্ঞান বুদ্ধিতে থাকে। বীজ এবং বৃক্ষ। বীজ থাকে উপরে। রচয়িতা
বাবা বসে রচনার আদি মধ্য অন্তের রহস্য তোমাদেরকে বুঝিয়েছেন। এ'হল সৃষ্টি রূপী কল্পবৃক্ষ,
যার আয়ুও অ্যাক্যুরেট, তাতে এক সেকেন্ডেরও তফাৎ হওয়া সম্ভব নয়। তোমরা কতখানি নলেজ প্রাপ্ত
করেছো, এতে মজবুত সে থাকতে পারবে যে পবিত্র হবে। তা নাহলে নলেজ ধারণ করতে পারবে না।
পবিত্র পাত্র, গোল্ডেন এজেড বুদ্ধি হবে তবেই নলেজ এমনভাবে সহজ ভাবে ধারণ হবে যেন বাবার
কাছে রয়েছি। নম্বর ক্রমে মাস্টার নলেজফুল হয়ে যাবে। বাবা নলেজ শোনান, তাও এই জ্ঞান
তোমরা সঙ্গম যুগেই শুনছো। বাবা এক বারই পিতা, টিচার, সদ্গুরু হন। পার্ট প্লে করেন,
তারপরে ৫ হাজার বছর পরে সেম (একইরকম) পার্ট প্লে করবেন। প্রলয় তো হয় না। অতএব প্রথমে
হলেন বাবা, উঁচু থেকে উঁচুতে হলেন শিব তারপরে মেরু, উঁচু থেকে উঁচু মহারাজা মহারানী।
তারপর শেষে গিয়ে আদি দেব, আদি দেবী হবেন। সম্পূর্ণ জ্ঞান তোমাদের বুদ্ধিতে রয়েছে, কিন্তু
নম্বর অনুযায়ী পুরুষার্থ অনুসারে। এই নলেজ তোমরা যাকে শোনাবে সে আশ্চর্য হবে। বাবা
হলেন নলেজফুল, উনি ব্যতীত এই জ্ঞান অন্য কেউ প্রদান করতে পারে না। এই কথাটি বাচ্চারা,
তোমাদের ধারণ করা সহজ, কঠিন নয়। কিন্তু স্মরণের যাত্রা হল মুখ্য। সোনার পাত্রেই ভালো
রত্নকে রাখা হয় । উঁচু থেকে উঁচু হল এই রত্ন। বাবা হলেন রত্নের ব্যবসায়ীও, তাইনা।
ভালো ভালো রত্ন এলে রুপোর কৌটোতে তুলোর মধ্যে যত্ন করে রাখতেন। পরে খুলে খুলে এমন ভাবে
দেখাতেন যেন কতো ফাস্টক্লাস জিনিস! ভালো জিনিস, ভালো পাত্রে রাখলে শোভা পায় ।
তোমাদের এই
কান হল পাত্র (বাসন), যার দ্বারা তোমরা শুনছো। ধারণ করতে হলে এই পাত্রটি সোনার পাত্র
(পবিত্র) হওয়া উচিত অর্থাৎ বুদ্ধিযোগ বাবার সঙ্গে পুরোপুরি যুক্ত হওয়া চাই। বুদ্ধি
যোগ ঠিক না থাকলে কোনও কথা টিকবে না। উল্টো পাল্টা সঙ্কল্পও চলা উচিত নয়। তুফান (সংকল্পের
ঝড়) শান্ত। পুরুষার্থ করতে করতে এমন স্টেজ হবে। বুদ্ধিকে সব দিক থেকে সরিয়ে আমার সঙ্গে
যুক্ত করতে করতে পাত্রটি সোনায় পরিণত হয়ে যাবে, অন্যদেরও দান করতে থাকো। ভারত হল মহাদানী,
ভারতে ধন ইত্যাদি অনেক দান করা হয়। এসব হল আবার অবিনাশী জ্ঞান রত্নের দান, যা বাচ্চাদেরকে
শিববাবা প্রদান করেন। দেহ সহ, দেহের সব আত্মীয় পরিজনদের স্মরণ ত্যাগ করে বুদ্ধি একের
সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। আমরা তো হলাম বাবার। ব্যস্। বাবা এইম অবজেক্ট বলে দিয়েছেন। পুরুষার্থ
করা বাচ্চাদের কাজ তবেই উঁচু পদ প্রাপ্ত করবে। কোনো রকম উল্টো সঙ্কল্প চলা উচিত নয়।
বাবা হলেন নলেজের সাগর। সীমিত ও অসীমের ঊর্ধ্বে, সব রহস্য বোঝাতে থাকেন। আমি সীমিত
ও অসীমের ঊর্ধ্বে চলে যাই, তোমরাও হলে সীমিত ও অসীমের ঊর্ধ্বে। সঙ্কল্প ইত্যাদি কিছুই
নেই। তারপরে তোমরাও ঊর্ধ্বে চলে যাবে। গৃহস্থে থেকে কমল পুষ্প সম হতে হবে। হাত দিয়ে
কাজকর্ম করে যাবে আর মন শিববাবাকে স্মরণ করে যাবে....(হাথ কার ডে দিল শিব বাবা কো দে)
চলতে চলতে অনেক বাচ্চারা ভেঙে পড়ে অর্থাৎ হতাশ হয়ে পড়ে। ফেল হয়ে যায়। তোমরা সব জানতে
পারবে। ভালো-ভালো মহারথীদের মায়া গ্রাস করেছে। আজ নেই। বাবাকে পরিত্যাগ করে চলে গিয়ে
মায়ার আশ্রয় নিয়েছে। যারা পড়াশোনা করে তারা উঁচুতে উঠে যায় এবং যারা পড়াচ্ছে টিচারেরা
মায়াবী হয়ে যায়। ট্রেটর যেমন অন্যের কাছে আশ্রয় নেয় বা শরণ নেয়। যাকে পাওয়ারফুল দেখে
তাদের দিকে চলে যায়। তোমরা জানো সর্ব শক্তিশালী তো হলেন একমাত্র বাবা, উনিই হলেন সর্বশক্তিমান।
আমাদেরকে উঁচু শিক্ষা প্রদান করিয়ে বিশ্বের মালিক বানিয়ে দেন। কোনও অপ্রাপ্ত বস্তু
নেই যার জন্য পুরুষার্থ করতে হয়। এমন কোনও জিনিস নেই যা তোমাদের কাছে নেই। তাও নম্বর
ক্রমে পুরুষার্থ অনুসারে। অসীম জগতের পিতা ব্যতীত এ'কথা কেউ জানেনা। তোমরা ই পূজ্য
ছিলে তোমরাই পূজারী হয়েছো। এখন পুনরায় পূজ্য রূপে পরিণত হওয়ার জন্য পুরুষার্থ করছো।
যত বাবার স্মরণে থাকবে ততই মায়ার ঝড় শেষ হতে থাকবে। হাতিমতাই এর খেলা দেখানো হয়। চুষিকাঠি
(মূহলরা) মুখে রাখলে মায়া পালিয়ে যেত। চুষিকাঠি বের করলেই মায়া চলে আসতো। বাবা বোঝান
বাচ্চারা, নিজেদেরকে আত্মা ভাই-ভাই ভাবো। শরীরই নেই তবে দৃষ্টি যাবে কোথায়। এতখানি
পরিশ্রম করতে হবে। কল্প-কল্প তোমাদের পুরুষার্থই চলে। পুরুষার্থের দ্বারা তোমরা নিজের
ভাগ্য নির্মাণ করো।
বাবা, বাচ্চাদেরকে
মুখ্য এই কথাই বলছেন যে, নিজেকে আত্মা ভেবে আমি পিতা, আমাকে স্মরণ করো। এই কথা তোমরাই
জানতে পারো। যদিও তারা বলে গড ফাদার, আমরা সবাই ব্রাদার্স। কিন্তু বুঝতে পারে না। গানও
গেয়ে থাকে - সকলের সদগতি দাতা রাম...। সবাইকে সুখ প্রদান করেন একমাত্র বাবা। রামকে
বাবা বলবে না। বাবা, এক দেহধারীকে দ্বিতীয় অশরীরীকে বলা হয়। সর্ব প্রথমে অশরীরী তারপরে
শরীরী হন। প্রথমে আমরা বাবার সঙ্গে থাকি পরে পার্ট প্লে করার জন্য লৌকিক দেহধারী পিতার
কাছে আসি। এই সবই হল রূহানী কথা (আত্মাদের কথা)। ওই লৌকিক দেহের জগতের পড়াশোনা ভুলে
যেতে হবে। চক্র পুরোপুরি বুদ্ধিতে আছে। এখন হলো সঙ্গম যুগ, আমাদের এখন নতুন দুনিয়ায়
যেতে হবে। পুরানো দুনিয়া শেষ হবে। এখন নতুন দুনিয়ায় যাওয়ার জন্য দৈবী গুণ অবশ্যই ধারণ
করতে হবে, পবিত্র হতে হবে। বাবাকেও অবশ্যই স্মরণ করতে হবে এবং সম্পূর্ণ ভাবে স্মরণ
করতে হবে যাতে পাপ ভস্ম হয়। শিববাবা বলেন আমাকে স্মরণ করো তবে পবিত্র হবে, একেই বলে
যোগ অগ্নি। বাবার শ্রীমৎ অনুসরণ করে চলতে হবে। বাকি তো সমগ্র দুনিয়া রাবণের মত অনুসরণ
করে চলছে। ও'সব হলো বিকারী মত। এ হলো নির্বিকারী মত। পাঁচ বিকার আছে, তাইনা। সর্ব প্রথম
হলো দেহ অহংকার তারপরে কাম, ক্রোধ...। মানুষ অহংকারকে শেষে রাখে। বাস্তবে অহংকার তো
সবচেয়ে প্রথমে থাকা উচিত। পরে পরে আরও অনেক বিকার আসে। বাচ্চারা, বাবা তোমাদেরকে বোঝান
কল্প-কল্প বহু বার বুঝিয়েছেন। প্রতি ৫ হাজার বছর পরে বোঝান। বুদ্ধির দ্বারা বুঝতে পারো
বাবা আমাদের ঈশ্বরে বিশ্বাসী বানাচ্ছেন অর্থাৎ রচয়িতা এবং রচনার নলেজ বলে দিচ্ছেন তাই
তাঁকে ক্রিয়েটর বলা হয়। যদিও অনাদি রচনা (অনাদি ক্রিয়েশন) তবুও উনিই একমাত্র বুঝিয়ে
দেন, তাঁর মধ্যে সম্পূর্ণ জ্ঞান আছে। এ হলো অনাদি পূর্ব থেকে রচিত ড্রামা, কেউ তৈরি
করেনি। লৌকিকে ড্রামা শ্যুট করা সহজ। এ'হল বিশাল অসীম জগতের ড্রামা। এই ড্রামা অনাদি
শ্যুট করা, পূর্ব রচিত। এই ড্রামায় একটুও তফাৎ হতে পারে না। অসীম জগতের ড্রামার চক্র
চলতেই থাকে। আমরা তমোপ্রধান থেকে সতোপ্রধান আবার সতোপ্রধান থেকে তমোপ্রধান হই। পবিত্রতার
কথাই হল মুখ্য কথা। পবিত্র দুনিয়ায় অনেক সুখ আছে, পতিত দুনিয়ায় কত দুঃখ । অর্ধেক কল্প
সুখধাম, অর্ধেক কল্প দুঃখধাম এই রহস্যও তোমাদের বুদ্ধিতে আছেই, দ্বিতীয় কেউ জানেনা।
আচ্ছা!
মিষ্টি - মিষ্টি
হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা - পিতা, বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত ।
আত্মাদের পিতা ওঁনার আত্মারূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার ।
*ধারণার জন্যে
মুখ্য সারঃ-*
১ ) অশুদ্ধ
সংকল্প থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য বুদ্ধিযোগ সীমিত ও অসীমের ঊর্ধ্বে পরমধামের প্রতি যুক্ত
করতে হবে। দৈহিক দৃষ্টি সমাপ্ত করার জন্য আত্মা-আত্মা ভাই ভাই - এই প্র্যাক্টিস পাকা
করতে হবে।
২ ) অবিনাশী
জ্ঞান রত্নের দান করতে হবে। বুদ্ধিকে সোনায় পরিণত করার জন্য অন্য সব দিক থেকে বুদ্ধিকে
সরিয়ে এক বাবার সাথে যুক্ত করতে হবে।
*বরদানঃ-* নিজেকে বাবার কাছে অর্পণ করে বুদ্ধির দ্বারা
স্যারেন্ডার হওয়া ডবল লাইট ভব
নিজের দায়িত্ব
বাবাকে দিয়ে, নিজেকে বাবার কাছে অর্পণ করে দাও অর্থাৎ নিজের সব বোঝা বাবাকে দিয়ে দাও
তো ডবল লাইট হয়ে যাবে। বুদ্ধির দ্বারা স্যারেন্ডার হয়ে যাও অন্য কোনও কথা বুদ্ধিতে
আসবে না। ব্যস্ সব কিছু বাবার। সব কিছু বাবার মধ্যে আছে তাই অন্য কিছু থাকলোই না, যখন
থাকলই না তো বুদ্ধি কোথায় যাবে। এক বাবা, একটাই স্মরণের পথ, এই পথ দিয়ে সহজ লক্ষ্যে
পৌঁছে যাবে।
*স্লোগানঃ-* অটল স্থিতির সিংহাসনে বিরাজমান হয়ে, সাক্ষী দ্রষ্টার
পার্ট প্লে করে যে সে-ই হলো শ্রেষ্ঠ পার্টধারী।
No comments:
Post a Comment