28.02.2023 BANGLA MURLI
"মিষ্টি বাচ্চারা
- এ হলো বাবার জ্ঞানের চমৎকারিত্ব যে তোমরা এই জ্ঞান এবং যোগবলের দ্বারা সম্পূর্ণ
পবিত্র হয়ে যাও, বাবা এসেছেন
তোমাদেরকে জ্ঞানের দ্বারা জ্ঞানপরী বানাতে"
*প্রশ্নঃ - বাবার চমৎকারের জন্য বাচ্চারা বাবাকে
ইন-অ্যাডভান্স কোন্ পুরস্কার দিয়ে থাকে?
*উত্তরঃ - বাবার কাছে সমর্পিত হয়ে যাওয়াই হলো তাঁকে
ইন-অ্যাডভান্স পুরস্কার দেওয়া। এমন নয় যে বাবা প্রথমে সুন্দর বানাবেন তারপর
সমর্পিত হয়ে যাবে। এখনই সম্পূর্ণ বলিপ্রদত্ত হতে হবে। শরীর নির্বাহ করে, সন্তানসন্ততি প্রতিপালন করেও শ্রীমতে চলাই হলো
সমর্পিত হয়ে যাওয়া। এই পুরানো দুনিয়ায় তো কেবল নুড়ি পাথর রয়েছে। এর থেকে
বুদ্ধি যোগ বের করে বাবা আর নতুন দুনিয়াকে স্মরণ করতে হবে।
*গীতঃ- তুমি প্রেমের সাগর....
ওম শান্তি ।
বাচ্চারা জানে যে বাবা সম্মুখে বসে রয়েছেন আর যারা দূরে রয়েছে, সকলের উদ্দেশ্যে বলে থাকেন, শুনতে তো তাদেরকেও হবে। বাচ্চারা জানে যে বাবা
হলেন জ্ঞানের সাগর, তাহলে অবশ্যই
ওঁনার মধ্যে জ্ঞান থাকবে, তাই না ! যেমন
সন্ন্যাসীরা বিদ্বান হয় তখন তারা মনে করে যে আমরা হলাম বিদ্বান। বাচ্চারা জানে
পরমপিতা পরমাত্মা, মাতা-পিতা
সম্মুখে বসে রয়েছেন। তিনি হলেন জ্ঞানের সাগর। জ্ঞানের দ্বারা সদ্গতি প্রাপ্ত হয়।
সেই জ্ঞানসাগর থেকে যেন ঘটি ভরে নিয়ে থাকে। সাগর তো সর্বদাই পরিপূর্ণ, তাইনা ! সাগরের থেকে কত জল সমগ্র দুনিয়ায়
প্রাপ্ত হতে থাকে। কখনো অভাব হয় না, অথৈ জল। তাহলে বাবাও হলেন জ্ঞানের সাগর, বাচ্চারা যতদিন পর্যন্ত জীবিত থাকে ওঁনার থেকে
জ্ঞান শুনতেই থাকে। তিনি হলেন সদা সম্পন্ন (ভরপুর)। সামান্য জ্ঞান রত্ন দিয়ে দেন
তাতেই সমগ্র সৃষ্টি সদগতি পায়। তিনি হলেন জ্ঞানের সাগর, শান্তির সাগর,
সুখের সাগর, ওঁনার সঙ্গের দ্বারা অপবিত্রও পবিত্র হয়ে
যায়। তোমরা হলে জ্ঞান গঙ্গা, মানস-সরোবর
রয়েছে, তাই না ! সরোবর হলো একটি
বড় জলাশয়। সেও কৈলাস পর্বতে দেখানো হয়ে থাকে। মনে করে বড় সাগর, সেখানে ডুব দিলে মানুষ পরী হয়ে যায়। পরীদের
অর্থ তো কেউ বুঝতে পারে না। পরীরা অত্যন্ত শোভনীয় হয়। বাচ্চারা, এখন তোমরা জানো যে বাবা আমাদের এই জ্ঞান স্নান
করিয়ে এইরকম সুন্দর সুশোভিত জ্ঞান পরীতে পরিণত করছেন। ওখানে তো ন্যাচারাল বিউটি
থাকে। এখানে কাজল, ক্রীম ইত্যাদি
লাগিয়ে শৃঙ্গার করতে হয়। এ হলো আর্টিফিশিয়াল বিউটি। তত্ত্বই তমোপ্রধান হয়ে
গেছে। ওখানে তত্ত্বও সতোপ্রধান হয়ে থাকে। দেবতাদের মতো সৌন্দর্যময় কেউ হতে পারে
না। এখানকার বিউটির সাথে হেল্থ তো থাকে না। ওখানে তোমাদের হেল্থও ভালো থাকে আর
বিউটিও থাকে। বাচ্চারাও মনে করে বাবা তো চমৎকার ঘটিয়ে থাকেন। মানুষ বড় বড়
মার্বেলের মূর্তি তৈরি করে অথবা সুন্দর সুন্দর আর্টের দ্বারা চিত্রাঙ্কন করে থাকে
তখন তারা অনেক পুরস্কার লাভ করে। এখন বিচার করে দেখো যে, বাবা জ্ঞান এবং যোগবলের দ্বারা আমাদের কি থেকে
কি বানিয়ে দেন। এ তো বাবা চমৎকার (কামাল) করে দেন। জ্ঞান আর যোগের কত বড়
চমৎকারিত্ব। কামাল হলো, বাবার জ্ঞানের
বলের দ্বারা আত্মা সম্পূর্ণরূপে পবিত্র হয়ে যায়। ৫ তত্ত্বও পবিত্র হয়ে যায়,
যার ফলে ন্যাচারাল বিউটিও
থাকে। নতুন দুনিয়া আর পুরোনো দুনিয়ার মধ্যে তফাৎ রয়েছে, তাই না ! প্রতিটি জিনিস সতোপ্রধান, সতঃ, রজঃ, তমঃ হয়ে থাকে।
দুনিয়াও এইরকম হয়ে থাকে। যেমন যেমন মানুষ তেমনই আবার তাদের জন্য বৈভবও
(প্রাচুর্য) থাকে। ধনবান দের কাছে বৈভবও কম থাকে না ! গরিবদের কাছে থাকে নুড়ি
পাথর । তাই এই পুরানো দুনিয়াতেও রয়েছে নুড়ি পাথর । নতুন দুনিয়ায় সবকিছু নতুন
থাকবে। তাহলে কতখানি মোস্ট বিলাভেড হলেন বাবা, ওঁনারই আমরা মহিমা করবো। বাবা নিজে তো বলবেন না
- আমি কত প্রিয়। বাচ্চারা বাবার মহিমা করে থাকে। বাবা বলেন - আমি তোমাদেরকে জ্ঞান,
যোগের দ্বারা কী বানিয়ে
দিই। তখন বাবার কি পুরস্কার প্রাপ্য হয় ! ইন-অ্যাডভান্স বাবাকে পুরস্কার দেওয়া
হয় অর্থাৎ ওঁনার কাছে বলিপ্রদত্ত হয়ে যায়। গায়নও করে থাকে যে তোমার কাছে
বলিপ্রদত্ত হয়ে যাব, তাহলে অবশ্যই
ইন-অ্যাডভান্স বলিপ্রদত্ত হয়ে যাবে, তাই না ! এইরকম থোড়াই হবে যে প্রথমে বাবা বিউটিফুল বানাবেন তারপর পরে তোমরা
বলিপ্রদত্ত হবে। সমর্পণও সম্পূর্ণরূপে হওয়া চাই। সেই রহস্যও বুঝিয়েছেন। এইরকম
নয় যে সব বাবার কাছে নিয়ে এসে বসে পড়তে হবে। তোমাদের শ্রীমতানুসারে চলতে হবে।
উনি হলেন সকল আত্মাদের পিতা। ওঁনাকে আত্মাদের রচয়িতা বলা হবে না। রচয়িতা অথবা
স্বর্গের রচয়িতা বলা হবে। এছাড়া আত্মা আর এই খেলা তো হলো অনাদি। কিন্তু এই সময়
পুরানো দুনিয়াকে নতুন করে দেন। চেঞ্জ করেন। শরীর হলো বিনাশী। বাবা এখন আমাদের
আয়ু কত বাড়িয়ে দেন। অসীম জগতের আয়ু হয়ে যায়। ওখানে গড় আয়ু ১৫০ বছর থাকে।
এখানে তো কারোর এক বছরও আয়ু হয়ে থাকে, কারোর আবার একমাসও থাকে না। জন্মালো আর মৃত্যু। ওখানে এইরকম হয়না, সকলের আয়ু দীর্ঘ থাকে। নিয়ম অনুসারে
তাড়াতাড়ি বাসন ভেঙ্গে যেতে পারে না। তাই বাবা বুঝিয়ে থাকেন এখন প্রচুর পরিশ্রম
করতে হবে। তোমরা শিবশক্তি সেনারা হলে বাবার সহযোগী। তোমরা বোঝো যে এই সময় হলো
রাবণ রাজ্য। সকলেই হলো বিকারী। ওই বিকারীদের থেকে সন্ন্যাসীরা দূরে সরে যায় তারপর
আর তাদের দ্বারা সৃষ্টি রচিত হয় না। সন্ন্যাসীরা সন্ন্যাস সৃষ্টি রচনা করবে
অর্থাৎ মুখের দ্বারা নিজেদের সমান সন্ন্যাসী বানাবে, তাকে বংশবলী বলা হবে না। বংশাবলী গৃহস্থ আশ্রমে
থাকে। সত্যযুগে বংশাবলী ফুলের মতন হয়। সন্ন্যাসীদের বংশাবলী হতে পারেনা। লিমিটেড
হয়। এ তো আনলিমিটেড হয়, তাই না ! একে
গৃহস্থ আশ্রম বলা হয়ে থাকে। বাস্তবে আশ্রম তো হলো অনেক উচ্চ। আশ্রম পবিত্র হয়।
বিকারী গৃহস্থকে আশ্রম বলতে পারো না। বাবা পবিত্র গৃহস্থ আশ্রম-ধর্মীয় বানান।
মায়া-রাবণ অধর্মীয় বানিয়ে দেয়। মানুষ অধর্মীয় হয়ে গেছে। ধর্মীয়, অধর্মীয় মানুষকেই বলা হবে। জানোয়ারকে থোড়াই
বলা হবে। তাহলে বাবা এসে ধর্মীয় বানান। মায়া অধর্মীয় বানিয়ে দেয়। কিন্তু
মানুষ তাঁকে জানেই না। যেমন ঈশ্বরকে জানে না, তেমন মায়াকেও জানে না। পরমাত্মার উদ্দেশ্যে
বলে দেয়, তিনি সর্বব্যাপী।
কিন্তু সর্বব্যাপী তো হলো ৫ বিকার। এই সময় ভক্তরা সকলেই বাবাকে স্মরণ করে অর্থাৎ
সকলের মধ্যেই ভগবানের স্মরণ রয়েছে। এইরকম নয় যে তিনি সর্বব্যাপী। ৫ বিকারই দুঃখ
দিয়ে থাকে। অত্যন্ত দুঃখী হয়ে পড়েছে মানুষ, সেইজন্য ভক্ত ভগবানকে স্মরণ করে থাকে।তারপর বলে
দেয় দুঃখ সুখ ভগবানই দিয়ে থাকেন। রাবণের নামই ভুলে যায় আর সম্পত্তিকে মায়া মনে
করে নেয়। সম্পত্তি তো ধন-দৌলতকে বলা হয়ে থাকে। এই সময়ে সকল মানুষই মায়া রাবণের
দাস। তোমরা এসে ঈশ্বরের দাস হয়েছো। ওরা রাবণের দুঃখের উত্তরাধিকার নিয়ে থাকে।
তোমরা বাবার থেকে সুখের উত্তরাধিকার নিয়ে থাকো। বাবা এসে মাতাদের গুরুপদ দিয়ে
থাকেন। এখানে বলা হয় যে স্বামী হলো স্ত্রী-র গুরু। কিন্তু সে তো আরোই অপবিত্র
বানিয়ে দেয়। দ্রৌপদীও বলেছিল না -- আমার সম্ভ্রম রক্ষা করো! এখন বাবা বলেন,
এই কন্যাদের দ্বারাই
উদ্ধার করবো। কন্যাদের গায়ন রয়েছে। কুমারী সে-ই যে পিতা এবং শ্বশুরকুলকে ২১
জন্মের জন্য উদ্ধার করে। এই সময় তোমরা কন্যা হয়ে যাও, তাইনা ! মাতারাও কুমারী হয়ে যায়।
ব্রহ্মাকুমারী হও, তাই না ! সেইজন্য
এই সময়ে তোমাদের মহিমা কীর্তন চলে আসছে। কুমারীরা কামাল করে দিয়েছে। বাবা-ই
কুমারীদের আপন করে নিয়েছেন। তাহলে নাম সুপ্রসিদ্ধ করতে হবে। মাতারাও ঈশ্বরীয়
কোলে এসে কুমারী হয়ে যায়। কন্যাদের মহিমা এমনিতে কেবল গায়ন মাত্রেই রয়েছে। এখন
আবার প্র্যাকটিক্যালে তোমাদের বাবা জাগ্রত করেন। বাবা কুমারীদের আপন করে নিয়েছেন।
সিঁড়ি চড়ে তারপর নামা মুশকিল হয়ে যায়। এখনও দেখো না বলে, বিয়ে না করলে ভালো করতাম। তারপর বাচ্চার জন্ম
হলে মোহের তার জুড়ে যায়। সেইজন্য বাবা বুঝিয়ে থাকেন অর্ধেক-কল্প কন্যাকে বিবাহ
করিয়ে বিকারী বানানো হয়েছে। এখন বাবা এসেছেন বলেন পবিত্র হও। তোমরা দেখেছোও যে
পবিত্রতায় সুখও রয়েছে, তো সম্মানও
রয়েছে। সন্ন্যাসীদের কত সম্মান। বন্ধনমুক্ত হয়ে যায়। ওটা হলো পবিত্রতার বল,
ওটা কোনো যোগের বল নয়।
যোগবল কেবল তোমাদের কাছেই রয়েছে। ওদের হলো তত্ত্বের সাথে যোগ, যেখানে বসবাস করে। যেমন পঞ্চতত্ব রয়েছে তেমনি
ওটা আবার হলো ষষ্ঠ তত্ত্ব, তাকেই ব্রহ্ম
ঈশ্বর বলে দেয়, সেইজন্য ওদের যোগ
হলো আর্টিফিশিয়াল। সেই যোগের দ্বারা বিকর্ম বিনাশ হয় না, সেইজন্য গঙ্গাস্নান করতে যায়। যদি নিশ্চয় হতো
যে যোগের দ্বারা পবিত্র হওয়া যায় তাহলে গঙ্গাস্নান করতো না। এর দ্বারা প্রমাণিত
হয় যে তাদের যোগ নিয়মের বিরুদ্ধে। যেমন হিন্দু কোনো ধর্ম নয় তেমনই ব্রহ্মও
ঈশ্বর নয়।বসবাসের স্থানকে ঈশ্বর মনে করে নিয়েছে। একথা বাবা এসে বুঝিয়ে থাকেন।
তাহলে কুমারীরাও বোঝাতে পারে। আমরা বি.কে-রা এই ভারতকে স্বর্গে পরিণত করি।
ওয়ার্ল্ড অলমাইটি অথরিটি রাজ্য নির্মাণ করে থাকি। বাবা বলেন -- মাতাদের নাম
অত্যন্ত সুপ্রসিদ্ধ করতে হবে। পুরুষদের এতে সহায়তা করা উচিত। এরা পবিত্র থাকতে
চায় তো পবিত্র থাকতে দাও। সে'জন্য বাবা এসে
প্রথমে মাতাদের এবং কুমারীদের জ্ঞান প্রদান করে আপন করে নেন। সকলেই তো হলো
শিববংশীয়, তারপরে
ব্রহ্মাকুমার এবং কুমারী হয়। কিন্তু কুমারও রয়েছে অল্পসংখ্যক। কুমারীরা বেশি।
তোমাদের স্মৃতি-স্মারক মন্দিরও এখানে অ্যাকিউরেট রয়েছে। মানুষ মনে করে বিকার
ব্যতীত বিশ্বে সৃষ্টি (জন্ম) হবে কীভাবে? বাবা বলেন এখন এই দুঃখ প্রদানকারী পতিত সৃষ্টি চাই না। সেইজন্য অবশ্যই পবিত্র
থাকতে হবে। গভর্নমেন্টও বলে জন্ম কম হোক কারণ মনে করে এত অন্ন (খাদ্য) কোথা থেকে
আসবে! তারা পবিত্রতার কথা বোঝে না। তোমরা জানো এখন শিবালয় স্থাপিত হয়। অসীমের
দুনিয়া শিবালয় হয়ে যায়। ওরা তো একটি মন্দিরের নাম রেখে দিয়েছে শিবালয়। সে তো
হয়ে গেল জাগতিক শিবালয়। এ হলো অসীম জগতের শিবালয়। সমগ্র স্বর্গকেই শিবালয় বলা
হবে। শিব দেবী-দেবতাদের রচনা করেছেন। ওঁনার মন্দির নির্মিত রয়েছে। ও'টা (স্বর্গ) হলো চৈতন্য শিবালয়। তারপর এটা
বেশ্যালয় হয়ে যায়। চৈতন্য দেবতাদের আবার জড় মন্দির নির্মাণ করে তাদের আবার
বিকারী লোকেরা পূজা করে। শিবালয় শিববাবা রচনা করেন। সহযোগী হলো শিবশক্তি পান্ডবসেনা।
মেজরিটি শক্তিরা হওয়ার কারণে তাদের নাম প্রসিদ্ধ হয়। কন্যারা হলো সংখ্যায় অধিক।
শিববাবা তোমাদের আপন করে নেয়। শ্রীকৃষ্ণ হলো ছোট প্রিন্স, সে কিভাবে আপন করে নেবে। সে তো স্বয়ং-ই
স্বয়ংবর করে মহারাজা হয়। তাই এখানে শিববাবা তোমাদের কংসপুরী থেকে বের করে শ্রীকৃষ্ণপুরী,
সত্যযুগে নিয়ে চলেন। এ
হলো কংসপুরী। এখন সমগ্র দুনিয়া হলো একদিকে আর তোমরা কন্যারা হলে অন্যদিকে।
অর্ধেক-কল্প ধরে মানুষ উল্টো বুঝিয়েছে। বাবা এসে সঠিক বুঝিয়েছেন। পূর্বে
কন্ট্রাস্টের (তুলনা করে বোঝানোর) অত্যন্ত ভালো বই ছিল। এখন তো পয়েন্টস্ও আরো আরো
ভালো বেরোচ্ছে। বাবা বলেন, প্রতিদিন তোমাদের
অনেক গুপ্ত কথা শুনিয়ে থাকি। সমস্ত জ্ঞান একসাথেই তো দেবো না! প্রথমে হাল্কা করে
শোনাতাম। দিনে দিনে রহস্যপূর্ণ হয়ে যেতে থাকে। সমস্ত রহস্যপূর্ণ কথা একসময়ে
কীভাবে শোনাবো। যা কিছু বোঝাচ্ছি সেগুলোই কল্পপূর্বেও বুঝিয়েছিলাম। এর মাঝে
সংশয়ের কোনো কথা নেই। এইরকম নয় যে পূর্বে তো বাবা এ'রকম বলতেন। এখন আবার এইরকম বলেন।
আরে পূর্বে তো
প্রথম ক্লাস ছিল। এখন অনেক পয়েন্টস্ রয়েছে যা আরো বেরিয়ে আসতে থাকবে। যতদিন
পর্যন্ত বাঁচবে, বাবা শোনাতে
থাকবেন। বাবা কিছু গুপ্ত রহস্য শুনিয়েছেন যা পুনরায় বলবেন। এখন আমরা অধ্যয়ন
করছি। ওই শাস্ত্রজ্ঞদেরও শাস্ত্র কণ্ঠস্থ থাকে। তবে ১৮ অধ্যায় তো নেই না। ইনি তো
হলেন জ্ঞানসাগর। শোনাতেই থাকেন। ওই বাবা-ই হলেন জ্ঞানের সাগর, আনন্দের সাগর, শান্তির সাগর। এই দুনিয়ায় তো কিছুই নেই। না
ভালোবাসা আছে, না সার আছে। তারা
তো সবাই হলো কথার সাগরই সাগর।
মানুষ বলে যে
তিনি সর্বব্যাপী। আমরাও তাই, কিন্তু ওঁনার
মহিমা তো অতি মহান। সকল ভক্ত, সাধু ইত্যাদিগণ
ওঁনাকে স্মরণ করে থাকে। দুঃখী হয়ে গেছে তাই তো বলে থাকে পুনরায় নির্বাণধামে
যাবো। সে তো যখন নির্বাণধামের মালিক আসবেন তখনই নিয়ে যাবেন। বাচ্চাদের জন্য
স্বর্গের উপহার বাবা-ই নিয়ে আসেন। স্বয়ং স্বর্গের মালিক হন না। বাবা দিয়ে থাকেন
স্বর্গের উপহার। পুনরায় রাবণ এসে দুঃখ দিয়ে থাকে। দুঃখকে উপহার বলা যাবে না।
স্বর্গের সওগাতের চাবি দিয়েছেন কন্যাদেরকে। কন্যারা ভারতকে স্বর্গ বানিয়ে থাকে।
কন্যারা নিজেদের মিত্র-পরিজনেদেরকেও বোঝাতে পারে - আমরা পারলৌকিক মাতা-পিতার কোলে
গিয়েছি (দত্তক নিয়েছেন)। আচ্ছা !
মিষ্টি মিষ্টি
হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত।
আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মারূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।
ধারণার জন্যে
মুখ্য সারঃ-
১ ) গৃহস্থকে
আশ্রম অর্থাৎ পবিত্র বানাতে হবে। পবিত্রতাতেই বল রয়েছে, পবিত্রতাতেই মান, সে'জন্য যোগবল আর পবিত্রতার বল জমা করতে হবে।
২ ) মোস্ট
বিলাভেড (সর্বপেক্ষা প্রিয়তম) হলেন একমাত্র বাবা, ওঁনার উপর সম্পূর্ণরূপে বলিপ্রদত্ত হয়ে পুরানো
দুনিয়ার থেকে বুদ্ধি বের করে দিতে হবে।
বরদানঃ-রুহানী
আকর্ষণের দ্বারা সেবা আর সেবাকেন্দ্রকে উত্তরণ কলায় এগিয়ে নিয়ে চলা যোগী তু
আত্মা ভব
যে যোগী তু
আত্মারা আত্মিকতায় থাকে, তাদের রুহানী
আকর্ষণ স্বতঃই সেবা এবং সেবাকেন্দ্রকে উত্তরণ (চড়তি) কলায় নিয়ে যায়। যোগযুক্ত
হয়ে আত্মিকতার সঙ্গে আত্মাদের আহ্বান করলে জিজ্ঞাসু স্বতঃই বৃদ্ধি পায়। তারজন্য
মনকে সদা হাল্কা রাখো, কোনো প্রকারের
বোঝা যেন না থাকে। হৃদয়কে স্বচ্ছ রেখে ইচ্ছে গুলো পূর্ণ করতে থাকো, তবেই প্রাপ্তিগুলি তোমাদের সামনে স্বততঃই চলে
আসবে। তোমাদেরই অধিকার রয়েছে।
স্লোগানঃ-পরমাত্ম
জ্ঞানী সে-ই, যে সর্ববন্ধন এবং
আকর্ষণ থেকে মুক্ত।
No comments:
Post a Comment