22.02.2023 BANGLA MURLI
২২-০২-২০২২ প্রাতঃ মুরলী ওম্ শান্তি "বাপদাদা" মধুবন
“মিষ্টি বাচ্চারা - তোমাদের জ্ঞানের স্যাকারিন
প্রাপ্ত হয়েছে, স্যাকারিনের একটি কণা হল মন্মনাভব, এই
খুরাক সবাইকে খাওয়াতে থাকো”
প্রশ্ন : -
সত্যিকারের আতিথেয়তা এবং কল্যাণকারী কার্য কী? তোমরা সবাইকে
কিরকম আত্মিক আতিথেয়তা করবে?
উত্তর : -
বাবার পরিচয় দেওয়া, এটাই হল সত্যিকারের আতিথেয়তা এবং
কল্যাণকার্য। তোমরা শ্রীমত অনুসারে সবাইকে খুশীর খুরাক খাওয়াতে থাকো। অসীম জগতের
বাবার দ্বারা তোমাদের যে জীবন্মুক্তির খুরাক প্রাপ্ত হয়েছে, সেটা সবাইকে
বিতরণ করতে থাকো। অতীন্দ্রিয় সুখে থেকে সবাইকে জ্ঞান যোগের ফার্স্ট ক্লাস খুরাক
খাওয়ানো, এটাই হল সবথেকে ভালো আধ্যাত্মিক আতিথেয়তা।
ওম্ শান্তি ।
জ্ঞানের তৃতীয় নেত্রের প্রদাতা আত্মিক বাবা বসে আত্মিক বাচ্চাদেরকে
বোঝাচ্ছেন। জ্ঞানের তৃতীয় নেত্র এক বাবা ছাড়া আর কেউ দিতে পারবে না। বাচ্চারা এখন
তোমাদের জ্ঞানের তৃতীয় নেত্র প্রাপ্ত হয়েছে। এখন তোমরা জানো যে এই পুরানো দুনিয়া
পরিবর্তন হয়ে যাবে। বেচারা মানুষ এটা জানে না যে এই পরিবর্তন কে করছেন আর কীভাবে
করছেন, কেননা তাদের কাছে জ্ঞানের তৃতীয় নেত্রই নেই। বাচ্চারা তোমাদের এখন
জ্ঞানের তৃতীয় নেত্র প্রাপ্ত হয়েছে যার দ্বারা তোমরা সৃষ্টির আদি মধ্য অন্তকে জেনে
গেছো। এটা হল জ্ঞানের স্যাকারিন। স্যাকারিনের একটা কণাও কতো মিষ্টি হয়! জ্ঞানেরও
একটাই শব্দ আছে - মন্মনাভব। সবথেকে মিষ্টি। নিজেকে আত্মা মনে করে বাবাকে স্মরণ
করো। বাবা শান্তিধাম আর সুখধামের রাস্তা বলে দিচ্ছেন। বাবা এসেছেন বাচ্চাদেরকে
স্বর্গের উত্তরাধিকার প্রদান করতে। তাই বাচ্চাদেরকে কতোইনা খুশীতে থাকতে হবে। বলেও
থাকে খুশীর মতো খুরাক নেই। যে সর্বদা খুশী মজাতে থাকে তার জন্য খুশী যেন খাবার হয়ে
যায়। ২১ জন্ম খুশীতে থাকার জন্য এটা হল শক্তিশালী খুরাক। এই খুরাক বা পুষ্টিকর
আহার সর্বদাই একে-অপরকে খাওয়াতে থাকো। একে-অপরকে সর্বোত্তম অআতিথেয়তা এটাই করতে
হবে। এই রকম আতিথেয়তা আর কোনও মানুষ মানুষকে করতে পারে না।
বাচ্চারা তোমরা সবাইকে শ্রীমৎ অনুসারে
আধ্যাত্মিক আতিথেয়তা করছো। সত্যিকারের আতিথেয়তা এবং কল্যাণকারী কার্যও হল এটা -
কাউকে বাবার পরিচয় দেওয়া। মিষ্টি বাচ্চারা জানে যে অসীম জগতের বাবার দ্বারা আমাদের
জীবন্মুক্তির খুরাক প্রাপ্ত হয়। সত্যযুগে ভারত জীবন্মুক্ত ছিল, পবিত্র
ছিল। বাবা অনেক বড় এবং শ্রেষ্ঠ খুরাক দেন, তাই তো গায়ন আছে - অতীন্দ্রিয় সুখ
জানতে হলে গোপ-গোপীদের জিজ্ঞেস করো। এটা জ্ঞান আর যোগের কতইনা ফার্স্ট ক্লাস খুরাক
আর এই খুরাক এক-ই আধ্যাত্মিক সার্জেনের
কাছে আছে, অন্যকেউ এই খুরাকের বিষয়ে জানেই না। বাবা বলছেন মিষ্টি বাচ্চারা
তোমাদের জন্য হাতে করে উপহার নিয়ে এসেছি।মুক্তি-জীবন্মুক্তির এই উপহার আমার কাছেই
থাকে। প্রতি কল্পে আমিই এসে তোমাদেরকে প্রদান করি। পুনরায় রাবণ ছিনিয়ে নেয়। তো এখন
বাচ্চারা তোমাদের কতখানি খুশীর পারদ ঊর্ধ্বগামী হওয়া চাই। তোমরা জানো যে আমাদের
একটাই বাবা, টিচার আর সত্যিকারের সদ্গুরু, যিনি
আমাদেরকে সাথে করে বাড়ি নিয়ে যান। অতিপ্রিয় বাবার থেকে বিশ্বের বাদশাহী প্রাপ্ত
হচ্ছে। এটা কম কথা কি? তাই সর্বদা হর্ষিত থাকতে হবে। গডলী স্টুডেন্ট
লাইফ ইজ দ্য বেস্ট (Godly student life is the best). এটা হল এখানকারই
গায়ন, তাই না। তারপর নতুন দুনিয়াতে তোমরা সর্বদাই খুশী পালন করতে থাকবে।
দুনিয়ার মানুষ এটা জানে না যে সত্যিকারের খুশী কখন পালন করা হয়। সাধারণ মানুষের
কাছে তো সত্যযুগের জ্ঞানই নেই। তাই এখানেই খুশী পালন করতে থাকে। কিন্তু এই তমোপ্রধান
দুনিয়াতে খুশী কোথা থেকে আসবে। এখানে তো ত্রাহি-ত্রাহি করতে থাকে। কতোই না দুঃখের
দুনিয়া।
বাচ্চারা, বাবা তোমাদেরকে
খুবই সহজ রাস্তা বলে দিয়েছেন। ঘর-গৃহস্থে থেকে কমল ফুলের সমান হয়ে থাকো। ধান্দা
ব্যবসা ইত্যাদি করেও আমাকে স্মরণ করো। যেরকম প্রেমিক আর প্রেমিকা হয়। তারা তো একে
অপরকে স্মরণ করতে থাকে। সে তার প্রেমিক আর সে তার প্রেমিকা। এখানে এসব কথা নেই,
এখানে
তো তোমরা সবাই এক প্রেমিকের জন্ম-জন্মান্তরের প্রেমিকা হয়ে থাকো। বাবা কখনও
তোমাদের প্রেমিকা হন না। তোমরা সেই প্রেমিকের সাথে মিলন করার জন্য স্মরণ করে
এসেছো। যখন বেশী দুঃখ হয় তখন বেশী করে স্মরণ করে। গায়নও আছে দুঃখে স্মরণ সবাই করে,
সুখের
সময় করে না কেউ। এই সময় বাবাও হলেন সর্ব শক্তিবান, তো দিন প্রতিদিন
মায়াও সর্ব শক্তিবান তমোপ্রধান হয়ে যাচ্ছে এখন বাবা বলছেন মিষ্টি বাচ্চারা
দেহী-অভিমানী হও। নিজেকে আত্মা মনে করে আমাকে অর্থাৎ এক বাবাকে স্মরণ করো আর সাথে
সাথে দৈবীগুণও ধারণ করো, তাহলে তোমরা এইরকম (লক্ষ্মী-নারায়ণ)
হয়ে যাবে। এই পড়াতে মুখ্য কথা হল স্মরণ।
উচ্চ থেকেও উচ্চতম বাবাকে অনেক প্রেম, স্নেহের সাথে স্মরণ করা চাই। সেই উচ্চ
থেকে উচ্চতম বাবা-ই হলেন নতুন দুনিয়ার স্থাপন কর্তা। বাবা বলছেন যে বাচ্চারা,
আমি
আসিই তোমাদের মালিক বানানোর জন্য এইজন্য এখন আমাকে স্মরণ করো তো তোমাদের অনেক
জন্মের পাপ কেটে যাবে। পতিত-পাবন বাবা বলছেন তোমরা অনেক পতিত হয়ে গেছো এইজন্য
তোমরা এখন আমাকে স্মরণ করো তো তোমরা পবিত্র হয়ে পবিত্র দুনিয়ার মালিক হয়ে যাবে।
পতিত-পাবন বাবাকেই আবাহন করে তাই না। এখন বাবা এসেছেন, তো অবশ্যই
পবিত্র হতেই হবে। বাবা হলেন দুঃখ হরণকারী, সুখ প্রদানকারী। অবশ্যই সত্যযুগে
পবিত্র দুনিয়া ছিল, তখন সবাই সুখী ছিল। এখন বাবা পুনরায় বলছেন
বাচ্চারা শান্তিধাম আর সুখধামকে স্মরণ করতে থাকো। এখন হল সঙ্গম যুগ। মাঝি
তোমাদেরকে এইপার থেকে ওইপারে নিয়ে যাচ্ছেন। নৌকা কোনো একটা নয়, সমগ্র
দুনিয়াই যেন একটা বড় জাহাজ, তাকে ওপারে নিয়ে যাচ্ছেন।
মিষ্টি বাচ্চারা, তোমাদের কতোইনা
খুশী হওয়া চাই। তোমাদের জন্য তো সর্বদা খুশীই খুশী। অসীম জগতের বাবা আমাদেরকে
পড়াচ্ছেন। বাঃ! এটা তো কখনও শুনিনি, পড়িনি। ভগবানুবাচ, আত্মিক
বাচ্চারা... আমি তোমাদেরকে রাজযোগ শেখাচ্ছি, তাই সম্পূর্ণ
রীতি শিখতে হবে। ধারণা করতে হবে। সম্পূর্ণ রীতি পড়তে হবে। পড়াতে নম্বরের ক্রম তো
সর্বদা হতেই থাকে। নিজেকে দেখতে হবে যে আমি উত্তম, মধ্যম নাকি
কনিষ্ঠ? বাবা বলছেন নিজেকে দেখো যে আমি উচ্চ পদ পাওয়ার যোগ্য হয়েছি? আধ্যাত্মিক
সার্ভিস করছি? কেননা বাবা বলছেন যে বাচ্চারা সেবাধারী হও,
ফলো
করো। আমি এসেইছি সেবা করার জন্য। প্রতিদিন সেবা করি এইজন্যই তো এই রথ নিয়েছি। এই
রথ যখন অসুস্থ হয় তখন এই রথে বসে আমি মুরলী লিখি। মুখ দিয়ে তো তখন বলতে পারিনা তাই
আমি লিখে দিই, যাতে বাচ্চাদের জন্য মুরলী মিস না হয়ে যায়,
আমিও
সেবাতে আছি তাই না। এটা হল আধ্যাত্মিক সেবা। তোমরাও বাবার সেবাতে তৎপর হয়ে যাও। অন
গড ফাদারলি সার্ভিস (On God fatherly Service). বাবা-ই
তোমাদেরকে সমগ্র দুনিয়ার মালিক বানাতে এসেছেন। যে ভালো পুরুষার্থ করে, তাকে
মহাবীর বলা হয়। দেখা হয়ে থাকে যে, কে মহাবীর, যে বাবার
নির্দেশ অনুসারে চলে। বাবার নির্দেশ হল নিজেকে আত্মা মনে করে ভাই-ভাইকে দেখো। এই
শরীরকে ভুলে যাও। বাবাও শরীরকে দেখেন না। বাবা বলছেন আমি আত্মাদেরকে দেখি। বাকি
এটা তো হল জ্ঞান যা আত্মা শরীর ছাড়া বলতে পারে না। আমিও এই শরীরে এসেছি, লোন
নিয়েছি। শরীরের সাথেই আত্মা পড়তে পারে। বাবার বৈঠকস্থান হল এটা। এটা হল অকাল
সিংহাসন। আত্মা হল অকালমূর্তি। আত্মা কখনও ছোটো বড় হয় না, শরীর ছোটো বড়
হয়। যেসব আত্মারা আছে তাদের সকলের সিংহাসন হল এই ভ্রকুটির মধ্যস্থল। শরীর তো সকলের
ভিন্ন-ভিন্ন হয়। কারো অকাল সিংহাসন হল পুরুষের, কারো অকাল
সিংহাসন হল স্ত্রীর। কারো অকাল সিংহাসন হল বাচ্চার। বাবা বসে বাচ্চাদেরকে আত্মিক
ড্রিল শেখাচ্ছেন। যখন কারো সাথে কথা বলো তো প্রথমে নিজেকে আত্মা মনে করো। আমি
আত্মা অমুক ভাইয়ের সাথে কথা বলছি। বাবার পরিচয় দিচ্ছি যে শিববাবাকে স্মরণ করো।
স্মরণের দ্বারাই জংক্ ছাড়বে। সোনার মধ্যে যখন খাদ পরে তখন সোনার ভ্যালু কম হয়ে
যায়। তোমাদের আত্মার মধ্যেও জং ধরলে তোমরা ভ্যালুলেস হয়ে যাও। এখন পুনরায় পবিত্র
হতে হবে। আত্মারা এখন তোমাদের জ্ঞানের তৃতীয় নেত্র প্রাপ্ত হয়েছে। সেই নেত্র দিয়ে
নিজের ভাইদের দেখো। ভাই-ভাইকে দেখলে কর্মেন্দ্রিয় কখনও চঞ্চল হবে না। রাজ্য ভাগ্য
নিতে হবে, বিশ্বের মালিক হতে হবে তাহলে এই পরিশ্রম করো। ভাই-ভাই মনে করে সবাইকে
জ্ঞান প্রদান করো। তাহলে এই অভ্যাস পাক্কা হয়ে যাবে। তোমরা সবাই হলে সত্যিকারের
ব্রাদার্স। বাবাও উপর থেকে এসেছেন, তোমরাও এসেছো। বাবা বাচ্চাদের সাথে
সার্ভিস করছেন। সার্ভিস করার জন্য বাবা সাহস প্রদান করেন। সাহসী জওয়ান, সহায়তায়
ভগবান। তাই এই প্র্যাক্টিস করতে হবে - আমি আত্মা ভাইকে পড়াচ্ছি। আত্মা পড়ছে তাই
না। একে আধ্যাত্মিক জ্ঞানও বলা হয়, যা আত্মিক বাবার কাছ থেকেই প্রাপ্ত হয়।
সঙ্গমেই বাবা এসে এই জ্ঞান প্রদান করেন যে নিজেকে আত্মা মনে করো। তোমরা নগ্ন (না
অঙ্গ) অর্থাৎ অশরীরী এসেছিলে তারপর এখানে শরীর ধারণ করে তোমরা ৮৪ জন্ম ভূমিকা
পালন করেছো। এখন পুনরায় বাড়ি ফিরে যেতে হবে। এইজন্য নিজেকে আত্মা মনে করে
ভাই-ভাইয়ের দৃষ্টি দিয়ে দেখতে হবে। এই পরিশ্রম করতে হবে। নিজে পরিশ্রম করতে হবে,
অন্য
কেউ করলে আমার কি আসে যায়। চ্যারিটি বিগিন্স অ্যাট হোম (Charity begins at
home) অর্থাৎ প্রথমে নিজেকে আত্মা মনে করো তারপর ভাইদেরকে বোঝাও তাহলে
ভালো ভাবে তীর লেগে যাবে। জ্ঞান তলোয়ারে এই বিষ লাগাতে হবে। পরিশ্রম করবে তবেই
উঁচু পদ পাবে। বাবা এসেইছেন ফল দেওয়ার জন্য, তাই পরিশ্রম
করতেই হবে। কিছু সহ্যও করতে হবে।
তোমাদের যদি কেউ উল্টোপাল্টা কথা বলে তাহলে
তোমরা চুপ থাকবে। তোমরা চুপ থাকলে তারা কি করবে? তালি দুই হাত দিয়ে
বাজে। একজন চুপ করে গেলে তো অন্যজন নিজে থেকেই চুপ করে যাবে। তালির সাথে তালি
বাজলে আওয়াজ হয়। বাচ্চাদেরকে সবাইকে কল্যাণ করতে হবে। বাবা বোঝাচ্ছেন যে বাচ্চারা
সর্বদাই খুশীতে থাকতে চাও তো মন্মনা ভব।
নিজেকে আত্মা মনে করে বাবাকে স্মরণ করো। আত্মা ভাইদেরকে দেখো। ভাইদেরকেও এই
জ্ঞান দাও। এই অভ্যাস দৃঢ় হয়ে গেলে ক্রিমিনাল দৃষ্টি কখনও ধোকা দেবে না। জ্ঞানের
তৃতীয় নেত্রের দ্বারা তৃতীয় নেত্রকে দেখো। বাবাও তোমাদের আত্মাকেই দেখেন। এই
প্রয়াস করতে হবে সর্বদা আত্মাকেই দেখবে। শরীরকে দেখবেই না। যোগ করানোর সময়ও নিজেকে
আত্মা মনে করে ভাইদেরকে দেখতে থাকবে তাহলে সেবা ভালো হবে। বাবা বলছেন ভাইদের
বোঝাও। সকল ভাই বাবার থেকে উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করে। এই আধ্যাত্মিক জ্ঞান একই বার
তোমাদের, ব্রাহ্মণ বাচ্চাদের প্রাপ্ত হয়। তোমরা হলে ব্রাহ্মণ, পুনরায়
দেবতা তৈরী হচ্ছ। এই সঙ্গম যুগকে থোড়াই পরিত্যাগ করবে! তাহলে ওপারে কি করে যাবে?
বিষয়
সাগরে থোড়াই ঝাঁপ মারবে? এটা হল ওয়ান্ডারফুল সঙ্গম যুগ। তাই
বাচ্চাদেরকে আত্মিক যাত্রাতে থাকার অভ্যাস করতে হবে। এতে তোমাদেরই লাভ হবে। বাবার
শিক্ষা ভাইদেরকে দিতে হবে। বাবা বলছেন আমি তােমাদেরকে জ্ঞান প্রদান করছি। আত্মাকেই
দেখি। মানুষ মানুষের সাথে কথা বললে তো তার মুখ দর্শন করে তাই না। তোমরা আত্মার
সাথে কথা বলো তাই আত্মাদেরকেই দেখতে হবে। যদিও শরীরের দ্বারা জ্ঞান শোনাও কিন্তু
এতে শরীরের ভান ভুলতে হবে। তোমাদের আত্মা বুঝতে পারে যে পরমাত্মা বাবা আমাকে জ্ঞান
প্রদান করছেন। বাবাও বলেন - আমি আত্মাদেরকে দেখি, আত্মারাও বলে -
আমি পরমাত্মা বাবাকে দেখছি। তাঁর থেকে জ্ঞান শুনছি। একে বলা যায় আধ্যাত্মিক
জ্ঞানের আদান-প্রদান, আত্মার সাথে আত্মার। আত্মার মধ্যেই জ্ঞান আছে।
আত্মাকেই জ্ঞান দিতে হবে। এটা যেন বিষ সম। তোমাদের জ্ঞানে বিষ থাকলে, যে
কাউকে বোঝালে শীঘ্রই তীর লেগে যাবে। বাবা বলেন প্র্যাক্টিস করে দেখো, তীর
লাগছে কি লাগছে না। এই নতুন অভ্যাস শুরু করলে শরীরের ভান কেটে যাবে। মায়ার তুফান
কম আসবে। খারাপ সংকল্পও আসবে না। ক্রিমিনাল দৃষ্টিও থাকবে না। আমরা আত্মারা ৮৪ বার
চক্র লাগিয়েছি। এখন নাটক সম্পূর্ণ হচ্ছে। এখন বাবার স্মরণে থাকতে হবে। স্মরণের
দ্বারাই তমোপ্রধান থেকে সতোপ্রধান হয়ে, সতোপ্রধান দুনিয়ার মালিক হয়ে যাবে। কতো
সহজ ব্যাপার। বাবা জানেন যে বাচ্চাদেরকে এই শিক্ষা দেওয়াও আমার পার্ট। কোনও নতুন
কথা নয়। প্রত্যেক ৫ হাজার বছর পর আমাকে আসতেই হয়। আমি দায়িত্বের বন্ধনে আবদ্ধ, বাচ্চাদেরকে বসে বোঝাচ্ছি - মিষ্টি
বাচ্চারা আত্মিক স্মরণের যাত্রাতে থাকো তো অন্তিম মত অনুসারে গতি প্রাপ্ত হয়ে
যাবে। এটা হল অন্তিম সময়। এক আমাকে স্মরণ করো তো তোমাদের সদগতি হয়ে যাবে। স্মরণের
যাত্রায় থাকলে পিলার মজবুত হয়ে যাবে। এই
দেহী-অভিমানী হওয়ার শিক্ষা একই বার তোমাদের প্রাপ্ত হয়। কতোই না ওয়ান্ডারফুল এই
জ্ঞান। বাবা ওয়ান্ডারফুল তাই বাবার জ্ঞানও ওয়ান্ডারফুল। কখনও কেউ বলতে পারে না।
এখন বাড়ি ফিরে যেতে হবে এইজন্য বাবা বলছেন মিষ্টি বাচ্চারা এই অভ্যাস করো। নিজেকে
আত্মা মনে করে আত্মাদেরকে জ্ঞান শোনাও। তৃতীয় নেত্র দিয়ে ভাই ভাইকে দেখো। এটাই হল
পরিশ্রম। আচ্ছা!
মিষ্টি-মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি
মাতা-পিতা বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত। আত্মাদের পিতা ওঁনার আত্মা
রূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।
ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ )
প্রত্যেক আত্মাকে ভাই রূপে দেখার অভ্যাস করতে হবে। নিজেকে আত্মা মনে করে
ভাই ভাইকে জ্ঞান শোনাতে হবে। মহাবীর হয়ে এই নির্দেশ পালন করতে হবে।
২ )
তোমাদের যদি কেউ উল্টোপাল্টা বলে, তাহলে তোমরা চুপ থাকবে। তালি দুই হাতে
বাজে, একজন মুখের তালি বাজালেও অন্যজন যদি চুপ থাকে তাহলে সে নিজে থেকেই
চুপ হয়ে যাবে।
বরদান : -
অমৃতবেলার ফাউন্ডেশনের দ্বারা সারাদিনের দিনচর্যাকে ঠিক রেখে সহজ
পুরুষার্থী ভব
যেরকম ট্রেনকে রেল লাইনের উপর রেখে দিলে সে
অটোমেটিক লাইন দিয়ে চলতে থাকে, এইরকমই প্রতিদিন অমৃতবেলায় স্মরণের
রেখার উপর দাঁড়িয়ে যাও। অমৃতবেলা ঠিক হলে সারাদিন ঠিক থাকবে। অমৃতবেলার ফাউন্ডেশন
পাক্কা হলে সারাদিন স্বতঃতই সহযোগ প্রাপ্ত হতে থাকবে আর পুরুষার্থও সহজ হয়ে যাবে।
যারা এইরকম সর্বদা বাবার স্মরণ আর শ্রীমতের রেখার মধ্যে থাকে, এইরকম
সত্যিকারের সীতাদের শিরায় শিরায় সদা এক রামের স্মৃতির আওয়াজ হতে থাকে।
স্লোগান : -
বাবার সহায়তাকে ক্যাচ করতে হলে বুদ্ধিকে একাগ্র করে নাও।
No comments:
Post a Comment