Wednesday, February 22, 2023

23.02.2023 BANGLA MURLI

                                     23.02.2023 BANGLA MURLI



"মিষ্টি বাচ্চারা - তোমাদের কর্তব্য হলো, একে অপরকে বাবা আর তাঁর উত্তরাধিকারকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে সাবধান করা, এতেই সকলের কল্যাণ নিহিত আছে"

*প্রশ্নঃ - তোমরা বাচ্চারা কোন্ গুহ্য রহস্যকে বুঝতে পারো, যা কোনো বৈজ্ঞানিকরাও বুঝতে পারে না ?

*উত্তরঃ - তোমরা বুঝতে পারো যে, আত্মা এক অতি সূক্ষ্ম স্টার, তার মধ্যেই সমস্ত সংস্কার ভরা থাকে । আত্মাই শরীরের দ্বারা নিজের - নিজের পার্ট প্লে করছে । শরীর হলো জড়, আর আত্মা চৈতন্য । তেমনই পরমাত্মাও স্টার, তাঁর মধ্যে সম্পূর্ণ নলেজ আছে । তিনি হলেন মনুষ্য সৃষ্টির বীজরূপ, সত্য এবং চৈতন্য । তিনি কোনো হাজার সূর্যের থেকে তেজোময় নন । এই গুহ্য রহস্য তোমরা বাচ্চারাই বুঝতে পারো । বৈজ্ঞানিকরা এই বিষয় বুঝতে পারে না । তোমাদের সবাইকে সবার প্রথমে আত্মা আর পরমাত্মার পরিচয় প্রদান করতে হবে ।

*গীতঃ- মাতা ও মাতা, তুমি সকলের ভাগ্য বিধাতা...

ওম্ শান্তি । বাবা বাচ্চাদের বলেন যে - বাচ্চারা, স্বদর্শন চক্রধারী ভব । বাবা বাচ্চাদের এই সাবধান বাণী দিয়েছেন । বাচ্চাদেরও একে অপরকে সাবধান করতে হবে । বাবাকে স্মরণ করলে চট্ করে সেই নেশা চড়ে যায় । স্মৃতি মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য একে অপরকে সাবধান করতে হবে । নিজেদের মধ্যে মিলিত হলে যেমন একে অপরকে নমস্কার ইত্যাদি করে, তাই না, কিন্তু তাতে কোনো কল্যাণ হয় না । কল্যাণ তখনই হবে যখন তোমরা বাচ্চারা একে অপরকে সাবধান করবে । স্বদর্শন চক্রধারী শব্দে সবকিছুই এসে যায় । বাবার পরিচয়, পদের পরিচয়, চক্রেরও পরিচয় এসে যায় । তাই প্রথম কর্তব্য হলো, একে অপরকে সাবধান করে দেওয়া । স্মরণ করিয়ে দিলে সাবধান হয়ে যাবে । তোমাদের প্রতি মুহূর্তে একে অপরকে সাবধান করতে হবে । তোমরা বাবা আর তাঁর উত্তরাধিকারকে স্মরণ করতে থাকো । তোমরা হলে স্বদর্শন চক্রধারী নিজেকে অশরীরী মনে করে অশরীরী বাবাকে স্মরণ করো । স্মরণ অর্থাৎ যোগ । যোগের দ্বারাই তোমাদের নিরোগী কায়া তৈরী হয় । এ হলো এখানকার পুরুষার্থ । অন্তে যখন একদম কর্মাতীত অবস্থা প্রাপ্ত হবে তখনই নিরোগী হবে । এখন তো তোমরা পুরুষার্থী । বাবা এখন বসে বাচ্চাদের বোঝান, কেননা তিনি জানেন, সকলেই এখন অবুঝ । যখন দেবতা ইত্যাদির পূজা করে তখন তাদের অক্যুপেশন বা কর্তব্য - কর্ম সম্বন্ধে কেউই জানে না, তাই তোমাদের বোঝাতে হবে যে, আমরা সকলের বায়োগ্রাফি বলতে পারি । প্রথমে তো তোমাদের মুখ্য পরমপিতা পরমাত্মাকে জানতে হবে । এতেও অনেক মানুষ দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়ে । তারা বলে - পরমাত্মার কোনো নাম - রূপ নেই । তাই প্রাথমিক মুখ্য কথা হলো - আত্মা - পরমাত্মার প্রভেদ আর জ্ঞান বলে দেওয়া । এ তো তোমরা জানো যে, সকলেই হলো আত্মা । পুণ্য আত্মা, পাপ আত্মা এমন বলা হয় । পাপ পরমাত্মা কখনো বলা হবে না । পতিত দুনিয়া তো আছেই, তাই না । পরমাত্মা তো আর পতিত হন না । তাই মানুষকে প্রথম - প্রথম আত্মাকে জানতে হবে কেননা আত্মার জ্ঞান কোনো মানুষের মধ্যেই নেই । আত্মাই শোনে, আত্মাই খাওয়াদাওয়া করে, সবকিছুই আত্মা করে এই অর্গ্যান্সের দ্বারা । আত্মার রূপ কি ? বলা হয় -- ভ্রুকুটির মধ্যে ঝলমলে এক আজব নক্ষত্র । তাই আত্মার রূপ তো বোঝাতে হবে, তাই না । আত্মার রূপ তো এতো বড় কিছু নয় । আত্মা অতি সূক্ষ্ম । আত্মার রূপ হলো জিরো অথবা বিন্দুও বলা হয় । এখন এর উপরও বিচার করা উচিত যে, আত্মা কতো সূক্ষ্ম । মানুষ জিজ্ঞেস করে যে, আত্মা শরীর থেকে কিভাবে নির্গত হয় ? কোথা থেকে নির্গত হয় ? কেউ বলে মাথা থেকে নির্গত হয়, কেউ আবার বলে, চোখ থেকে নির্গত হয় - কেননা দরজা তো অনেক আছে, তাই না কিন্তু আত্মা কি জিনিস, এ জানা খুবই আশ্চর্যের । তাই জিজ্ঞেস করে, আত্মা কিভাবে নির্গত হয়, একথা বলে না যে, আত্মা কিভাবে আসে, কিন্তু প্রথমে তো এই কথা জানতে হবে যে, আত্মা কি জিনিস । কতো ছোটো আত্মার মধ্যে ৮৪ জন্মের পার্ট ভরা আছে । এই কথা খুবই আশ্চর্যের । আত্মা তো বরাবর স্টারের মতো । তাকে বড় বলা হবে না । এরোপ্লেন উপরে গেলে তা খুব ছোটো দেখা যায় । আত্মা কিন্তু বড় হয় না । তার তো একই রূপ । তাই প্রথম - প্রথম আত্মাকে জানা উচিত । আমি আত্মা কিভাবে এই শরীরে প্রবেশ করি । যদিও কারোর কারোর সাক্ষাৎকার হয় যেন স্টারের মতো । ওই ছোটো আত্মার মধ্যে সম্পূর্ণ নলেজ ভরা আছে । আত্মা হলো এক । এ বড় আশ্চর্যের । পরমাত্মার রূপও কেউ জানে না । বাস্তবে আত্মা যেমন, পরমপিতা পরমাত্মাও তেমনই । তিনি হলেন বাবা । এখানে যদিও বাবা আর বাচ্চা ছোটো - বড় হয়, আত্মা কিন্তু ছোটো - বড় হতে পারে না । আত্মা আর পরমাত্মার রূপের মধ্যে কোনো প্রভেদ নেই । বাকি দুইয়ের পার্টে আর সংস্কারে প্রভেদ আছে । বাবা বোঝান, আমার মধ্যে কি সংস্কার আছে । তোমাদের অর্থাৎ আত্মার মধ্যে কি সংস্কার আছে ? মানুষ আত্মা আর পরমাত্মার রূপ না জানার কারণে আত্মা - পরমাত্মা এক বলে দেয় । সবকিছু গুলিয়ে দিয়েছে । একথা জানা খুবই জরুরী । পরমাত্মাও আছেন, ব্রহ্মা - বিষ্ণু - শঙ্করও আছেন, এঁদের সকলের মধ্যে আত্মা আছে । জগদম্বা সরস্বতীকে গডেজ অফ নলেজ বলা হয় । তাহলে অবশ্যই সরস্বতীর আত্মার মধ্যে নলেজ থাকবে, কিন্তু তাঁর মধ্যে কি নলেজ আছে, একথা কেউই জানে না । তারা কেবল বলে দেয় - গডেজ অফ নলেজ । খবরের কাগজে আর্টিকেলস ইত্যাদি পড়ে, তাই তার উপর বোঝানো উচিত । তোমরা বলো, সরস্বতী গডেজ অফ নলেজ কিন্তু তিনি কোন্ নলেজ দিয়েছিলেন ? কখন দিয়েছিলেন ? তিনি অবশ্যই গডের কাছ থেকে নলেজ পেয়েছিলেন, তাই না । গডের রূপ কি ? গডেজ অফ নলেজ, এই নাম কিভাবে হয়েছিলো ? গড তো নলেজফুল । তিনি কিভাবে সরস্বতীকে নলেজফুল বানিয়েছিলেন ? এই একটি বিষয়ের উপর কাউকে সঙ্গমে দাঁড় করিয়ে দেওয়া উচিত ।


বাবা বলেন, আমি বোঝাই - আত্মা হলো স্টার । তার মধ্যে সম্পূর্ণ নলেজ কিভাবে ভরপুর হয়ে আছে । কোনো সায়েন্টিস্টও এই কথা বুঝতে পারবে না । আত্মার মধ্যেই সমস্ত সংস্কার থাকে । এখন আত্মা হলো স্টার । আচ্ছা, পরমাত্মার রূপ কেমন ? সেও পরম আত্মাই । তফাৎ কিছু নেই । এই যে মহিমা গাওয়া হয়, হাজার সূর্যের থেকেও তেজোময়, এমন কিছু নয় । বাবা বলেন - কেবল তোমাদের আত্মার মধ্যেই নলেজ নেই, আমি পরমাত্মা নলেজফুল - ব্যস, এই হলো তফাৎ । মায়া তোমাদের আত্মাকে পতিত বানিয়ে দিয়েছে । বাকি কোনো প্রদীপ নয়, যে নিভে গিয়েছে । কেবল আত্মার মধ্যে থেকে নলেজ বের হয়ে গেছে - বাবা আর রচনার । তাঁকে আর সরস্বতীকেও নলেজফুল বলা হয় । এখন তিনি এই নলেজ কখন পেয়েছেন ? সরস্বতী কার সন্তান ? এ কেউই জানে না । তাই এই কথা মনে আসা উচিত যে, ওদের কিভাবে বোঝাবো । বাবা পরমাত্মা কে, তাও বোঝাতে হবে যে, তিনিও হলেন স্টার, তাঁর মধ্যে সম্পূর্ণ নলেজ আছে । গড ফাদার হলেন মনুষ্য সৃষ্টির বীজ রূপ । সকলেরই অসীম জগতের পিতা । তিনি সৎ - চৈতন্য, তাঁর মধ্যে প্রকৃত নলেজ আছে । তাঁকে সত্যও বলা হয় । আর কারোর মধ্যে সত্য জ্ঞান নেই । রচয়িতা হলেন একমাত্র বাবা । তাই সমস্ত রচনার নলেজও তাঁর মধ্যেই আছে । তিনি ঝাড়ের বীজরূপ তো, তাই না । আত্মা তো হলো চৈতন্য । শরীর হলো জড় । আত্মা যখন প্রবেশ করে তখন এই শরীর চৈতন্য হয় । তাই বাবা বোঝান যে, আমিও তেমনই । আত্মা ছোটো - বড় হতে পারে না । তোমরা যেমন আত্মা, তেমনই পরম আত্মা অর্থাৎ পরমাত্মা হলেন পরম । তাঁর মহিমা সবথেকে উঁচু । তিনি মনুষ্য সৃষ্টির বীজ রূপ । মনুষ্যই তাঁকে স্মরণ করে । মানুষ তো এ কথা জানে যে, বাবা উপরে থাকেন । আত্মা এই অর্গ্যান্সের দ্বারা বলে - হে পরমপিতা পরমাত্মা । মনুষ্য একথা জানেই না কারণ তারা দেহ বোধ সম্পন্ন । তোমরা এখন দেহি অভিমানী হয়েছো । তোমরা নিজেকে আত্মা নিশ্চিত করেছো । তোমরা জানো যে, নিরাকারকেই গড বলা হয় । আমরা তাঁর সন্তান । ওই গড এসেই নলেজ দান করেন । তাঁকে নলেজফুল, ব্লিসফুল বলা হয় । দয়ার সাগর, সুখের সাগর, শান্তির সাগর -- তাঁর এই মহিমা গাওয়া হয়। তাহলে অবশ্যই বাচ্চাদের বাবার থেকে উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করা উচিত । তিনি কখনো কোনো সময় এসে উত্তরাধিকার দিয়েছিলেন, তাই তো তাঁর মহিমা করা হয় । দেবতাদের মহিমা আলাদা । বাবার মহিমা আলাদা । তিনি সমস্ত আত্মাদের পিতা । সৃষ্টিকর্তা হওয়ার কারণে তাঁকে বীজ রূপ বলা হয় । প্রথম প্রথম তোমাদের বাবার পরিচয় দান করতে হবে । শাস্ত্রে দেখানো হয় -- অঙ্গুষ্ঠের মতো । আমরা বলি, তিনি হলেন জ্যোতির্বিন্দু । চিত্রও তো বানানো হয়েছে, কিন্তু তিনি তো এতো বড় নন । তিনি হলেন অতি সূক্ষ্ম । তাহলে তোমরা কি বোঝাবে ? তোমাদের জিজ্ঞাসা করবে, চিত্রে এতো বড় রূপ কেন দেখানো হয়েছে ? বলো, না হলে কিভাবে দেখাবে ? তিনি তো এক বিন্দু, তাহলে তাঁর পূজা কিভাবে করবে ? তাঁর উপর দুধ কিভাবে চড়াবে ? পূজা করার জন্য এই রূপ বানানো হয়েছে । বাকি একথা বুঝতে পারে যে, তিনি হলেন পরমপিতা পরমাত্মা, যিনি পরমধামে থাকেন । ওই পরমধাম হলো আমাদের সুইট হোম । নিরাকারী দুনিয়া, মূলবতন, সূক্ষ্মবতন তারপর স্থূলবতন । বাবা নিরাকারী দুনিয়াতে থাকেন । আত্মা বলে যে, আমি নির্বাণধামে যাবো । যেখানে এই অর্গ্যান্স থাকবে না । আত্মা এই ধরণীতে এসেই শরীর ধারণ করে । এখন একথা কিভাবে বোঝানো যায় যে, আত্মা কোথা থেকে চলে যায় । এ তো জানো যে, মাংসপিণ্ডে আত্মা প্রবেশ করলেই চৈতন্য অর্থাৎ প্রাণসঞ্চার হয় । এই জিনিস কতো সূক্ষ্ম । এই আত্মার মধ্যেই সমস্ত সংস্কার ভরপুর আছে । তারপর এক - এক জন্মে সংস্কার প্রকট হতে থাকবে । তাই বাবা বোঝান, তোমাদের এক একটি কথা খুব ভালোভাবে বুঝিয়ে বলতে হবে । সরস্বতীর বিষয়েও তোমরা বোঝাতে পারো । তিনি কার সন্তান ? এই সময় তোমাদের তো আর দেব - দেবী বলা যাবে না । সরস্বতী হলেন ব্রহ্মার সন্তান । তাহলে তিনিই জ্ঞানের দেবী হলেন । ব্রহ্মার মুখ কমল দ্বারা জ্ঞান দান করেছিলো, এমন দেখানো হয় । তাহলে ব্রহ্মারও তো নাম আছে, তাই না । এই সময় তোমরা হলে ব্রাহ্মণ । যদিও আত্মা পবিত্র হতে থাকে, কিন্তু শরীর তো আর পবিত্র হতে পারে না । এ হলো তমোপ্রধান শরীর । বাবা তাই বোঝান - বাচ্চারা, তোমাদের একে অপরকে সাবধান করে দিয়ে উন্নতি প্রাপ্ত করতে হবে । তোমরা বাবা আর তাঁর উত্তরাধিকারকে স্মরণ করো কি ? স্বদর্শন চক্রকে স্মরণ করো কি ? বাবা বলেন, একজনও এভাবে সাবধান করে না । তোমাদের বাবাকে স্মরণ করতে করতে নিদ্রাজিৎ হতে হবে, এতে তো অনেক উপার্জন । উপার্জনের সময় কোনো পরিশ্রম হয় না, কিন্তু তোমাদের স্থূল কাজও করতে হয় তাই পরিশ্রমও হয় ।


বাবা বোঝান, তোমাদের রাতে জেগেও বাবার সঙ্গে কথা বলতে, জ্ঞান সাগরে ডুব লাগাতে হয় । যেমন এক পশু আছে, কেবল জলে ডুব দেয় । তাই এমন ডুব দিলে, বিচার সাগর মন্থন করলে দেখা যায় যে, মাথায় অনেক পয়েন্টস আসে । কোথাও না কোথাও থেকে বের হয়ে আসে । একেই বলা হয়, রাত জেগে জ্ঞানের বিচার সাগর মন্থন করা । মানুষ একদমই জানে না, তাদের বোঝাতে হবে । বাবা হলেন জ্ঞানের সাগর, তাঁর থেকে উত্তরাধিকার প্রাপ্ত হয় । যারা আদি সনাতন দেবী - দেবতা ধর্মের অর্থাৎ সত্যযুগে ছিলেন, তাঁরা অবশ্যই এই উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করেছিলেন, তাই না । এখন সম্পূর্ণ রাজধানী কিভাবে উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করেছিলো ? কলিযুগ থেকে সত্যযুগ হওয়াতে তো দেরী লাগে না । রাত সম্পূর্ণ হয়ে দিন হয় । কোথায় আয়রন এজ পৃথিবী দুঃখধাম, কোথায় সেই সুখধাম । ব্রহ্মার দিন আর ব্রহ্মার রাত.... কতো তফাৎ ! এখন তোমরা গড ফাদারের কাছ থেকে জ্ঞান প্রাপ্ত করছো । সরস্বতী কি করতো ? কেউই জানে না । ব্যস, জ্ঞানের দেবী সরস্বতীর চিত্র পেয়ে গেলো আর খুশী হয়ে গেলো । তাই তাদের সাবধান করতে হয় । পরমাত্মার পরিচয় দান করতে হবে । তারপর ব্রহ্মা, বিষ্ণু, শঙ্করের পরিচয়ও দান করতে হবে । বাবা এসে এই জ্ঞান দান করে নর থেকে নারায়ণ বানিয়েছেন । খুব যুক্তির সাথে প্রত্যেকেরই কর্তব্য বলে দিতে হবে । সরস্বতীও ব্রহ্মা মুখ বংশাবলী । তাহলে অবশ্যই পরমপিতা পরমাত্মা এসেছিলেন, তিনিই ব্রহ্মার দ্বারা মুখ বংশাবলীর রচনা করেছিলেন । প্রথম - প্রথম তিনি নলেজ কাকে দিয়েছিলেন? বলা হয় কলস সরস্বতীকে দেওয়া হয়েছিলো । মাঝখান থেকে ব্রহ্মাকে লুকিয়ে দেওয়া হয়েছিলো । এ তো কেউই জানে না যে, পরমাত্মা ব্রহ্মা তনে এসে মাতাদের কলস দান করেছিলেন, তাহলে অবশ্যই ব্রহ্মাও শুনে থাকবে, তাই না । ব্রহ্মার হাতে শাস্ত্রও দেখানো হয় । ব্রহ্মার মত বিখ্যাত । ব্রহ্মা কোথা থেকে এলো ? এই রথ কোথা থেকে বের হলো ? কেউই জানে না । বাবা তা এখনই বলেছেন, যা তোমরাই বুঝতে পারো । আচ্ছা ।


মিষ্টি - মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা - পিতা, বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত । আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মারূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার ।


*ধারণার জন্যে মুখ্য সারঃ-*


১ ) রাত জেগে জ্ঞানের বিচার সাগর মন্থন করতে হবে । জ্ঞান সাগরে ডুব দিতে হবে । বাবাকে স্মরণ করে নিদ্রাজয়ী হতে হবে ।


২ ) স্বদর্শন চক্র ঘোরাতে হবে । নিজেদের মধ্যে বাবা আর তাঁর উত্তরাধিকারকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে একে অপরকে সাবধান করে উন্নতি প্রাপ্ত করতে হবে ।


*বরদানঃ-* নিজেকে সঙ্গমযুগী মনে করে ব্যর্থকে সমর্থতে পরিবর্তন করে সমর্থ আত্মা ভব

এই সঙ্গম যুগ হলো সমর্থ যুগ । তাই সদা এই স্মৃতি রাখো যে, আমরা সমর্থ যুগের অধিবাসী, সমর্থ বাবার সন্তান, সমর্থ আত্মা, তাহলে ব্যর্থ সমাপ্ত হয়ে যাবে । কলিযুগ হলো ব্যর্থ, কলিযুগের থেকে যখন পৃথক হয়ে গেছো, যখন সঙ্গম যুগী হয়ে গেছো, তখন ব্যর্থর থেকেও দূরে চলে গেছো । যদি কেবল সময়েরও স্মরণ থাকে তাহলেও সময় অনুযায়ী কর্ম সততই চলতে থাকবে । অর্ধেক কল্প ব্যর্থ চিন্তা করেছো, ব্যর্থ কর্ম করেছো, কিন্তু এখন যেমন সময়, যেমন বাবা, তেমন বাচ্চারা ।

*স্লোগানঃ-* যে সদা ঈশ্বরীয় বিধানে চলে, সে-ই ব্রহ্মা সমান মাস্টার বিধাতা হয়ে যায় ।


No comments:

https://bkrajyogpathshala.blogspot.com/

01-04-2026 Bengali Murli

 মিষ্টি বাচ্চারা - বাচ্চারা, বাবা যা, বাবা ঠিক যেমন, তোমরা বাচ্চারাও তাঁকে নম্বর ক্রমানুসারেই চিনেছো, যদি সকলেই তাঁকে চিনে গেলে তবে তো অত্যন...