Tuesday, February 28, 2023

01.03.2023 BANGLA MURLI

                                                       01.03.2023 BANGLA MURLI



"মিষ্টি বাচ্চারা - অনন্ত এই ড্রামার আদি মধ্য এবং অন্তকে বুঝতে হবে, যা অতীত হয়ে গিয়েছিল তাই আবার বর্তমান হতে চলেছে, এখন সঙ্গম যুগ হলো প্রেজেন্ট, পুনরায় সত্যযুগ আসবে"

প্রশ্নঃ - শ্রীমৎ অনুযায়ী, কোন্ বিধি পালন করলে নিজেকে পারফেক্ট (উপযুক্ত) করে তোলা যায়?

উত্তরঃ -    নিজেকে পারফেক্ট করে তোলার জন্য বিচার সাগর মন্থন করো । নিজের সাথে নিজে কথা বলো। বাবা! তুমি কত মিষ্টি মধুর, আমরাও তোমার মতই মধুর হবো। আমরাও তোমার মতনই মাস্টার জ্ঞানসাগর হয়ে সকলকে জ্ঞান প্রদান করবো। কাউকে অখুশি করবো না। শান্তি আমাদের স্বধর্ম, আমরা সর্বদা শান্ত থাকবো। আমরা অশরীরী হওয়ার অভ্যাস করবো - এমনিভাবে নিজের সাথে কথা বলে নিজেকে পারফেক্ট করে তুলতে হবে।

গীতঃ- ওগো মা, আমার জীবনদায়িনী মা...

ওম্ শান্তি । শিব ভগবানুবাচ। ভগবানুবাচ - শুধুমাত্র এই কথা বললে মানুষ কিছুই বুঝতে পারে না। যিনি বলছেন তাঁর নাম অবশ্যই নিতে হয়। যারা গীতা পাঠ করে শোনান, তারা বলেন যে কৃষ্ণ ভগবানুবাচ। কিন্তু তিনি তো অতীত কালে ছিলেন। মানুষ ভাবে যে শ্রীকৃষ্ণ এসে গীতা শুনিয়েছিলেন এবং রাজযোগ শিখিয়েছিলেন। যা অতীতে ঘটে গেছে তা পুনরায় অবশ্যই হবে, যা এখন বর্তমান তাও একসময় অতীত হয়ে যাবে। যা ঘটে গেছে তাকে বলা হয় অতীত। এখন শিববাবা এসেছেন অর্থাৎ অতীতে নিশ্চয়ই তিনি একসময় এসেছিলেন। শিব ভগবানুবাচ - যিনি সকলের ওপরে তিনিই সকলের পিতা, যাকে সর্বশক্তিমান বলা হয়, তিনি এসে একথা বুঝিয়ে দেন। বাচ্চারা, তোমরা হলে তাঁরই সন্তান - শিবশক্তি। তোমরা শিবশক্তির মহিমা গান শুনেছো। শিবশক্তি জগদম্বা - যিনি একসময় অতীতে এখানেই ছিলেন, তার স্মরণিক রয়েছে । একসময় তারা এখানেই ছিলেন সুতরাং অবশ্যই আবার এখানেই আসবেন । ঠিক যেমনভাবে সত্যযুগ অতীতে ছিল, এখন কলিযুগ চলছে, পুনরায় সত্যযুগ আবার আসতে চলেছে। এখন পুরাতন দুনিয়া আর নতুন দুনিয়ার সঙ্গমযুগ চলছে। অবশ্যই এই জগৎ যা একসময় নতুন ছিল তা অতীত হয়ে গেছে, তাই এখন এ হলো পুরাতন জগৎ। যে সত্যযুগ এখন অতীত, তা ভবিষ্যতে পুনরায় আসবে। এই বিষয়টি খুব ভালোভাবে বুঝে নিতে হবে। জ্ঞান, অত্যন্ত ভালোভাবে বোঝার বিষয়। আগে ছিল ভক্তি, এখন এ হলো জ্ঞান। সৃষ্টিচক্র কিভাবে আবর্তিত হতে থাকে, তা বুঝতে হবে। সেসব না বুঝলে, মানুষ অন্য কোনো কিছুই বুঝতে পারবে না। ড্রামার আদি মধ্য এবং অন্তকে ভালো করে বুঝতে হবে। সীমাবদ্ধ জগতের ড্রামার আদি মধ্যকে তো তোমরা জানো। কিন্তু এ হলো অনন্তের ড্রামা - সাধারণ মানুষ এটা বুঝতে পারে না। বাবা, যিনি এই অনন্তের মালিক, তিনি নিজে এসে আমাদের বুঝিয়ে দেন। শিব ভগবানুবাচ, শ্রীকৃষ্ণ ভগবানুবাচ নয়। কৃষ্ণকে শ্রী বলা হয়, কারণ তাকে শিববাবাই শ্রেষ্ঠ বানিয়েছেন। বেচারা ভারতবাসীরা জানেনা যে, কৃষ্ণই পরবর্তীকালে নারায়ণ হন। এখন আমরা বলি যে - ওরা বেচারা অবুঝ, সকলেই গরিব দুঃখী এবং পতিত। এক সময় আমরাও ওইরকমই ছিলাম কিন্তু এখন আমরা পবিত্র হয়ে উঠছি। এখন আমরা পতিত-পাবন বাবাকে পেয়েছি। কৃষ্ণকে পতিত পাবন বলা হয় না। নতুন পবিত্র দুনিয়ার রচয়িতা হলেন একমাত্র বাবা - যাঁকে পরমপিতা পরমাত্মা সর্বশক্তিমান বলা হয়ে থাকে। তিনিই পতিত দুনিয়াকে পবিত্র করে তুলছেন, পতিত সৃষ্টিকে পবিত্র করে তুলছেন। এখন সমগ্র সৃষ্টি পতিত হয়ে গেছে, রাবণ এই সৃষ্টিকে পতিত করে দিয়েছে। একমাত্র ঈশ্বরই হলেন পতিত পাবন। মানুষ কোনো অবস্থাতেই কাউকে পতিত থেকে পবিত্র করে তুলতে পারে না। আর এ তো সমগ্র দুনিয়াকে পবিত্র করার কথা হচ্ছে। যদি মনে করা হয় যে ১-২ কোটি সন্ন্যাসীরা সকলেই পবিত্র, তবুও বাকি ৫০০-৬০০ কোটি পতিত তো দুনিয়াতে রয়েছে। সেই কারণেই এই দুনিয়াকে পতিত দুনিয়া বলা হয় । বাস্তবে শিব ভগবানুবাচ - পতিত দুনিয়াতে একজন পবিত্রও থাকতে পারে না। বাবা বলেন - বাচ্চারা, তোমাদেরকে পবিত্র করে তোলার জন্য, আমি সমগ্র সৃষ্টিকে পবিত্র করে তুলি। পতিত-পাবন কথার অর্থই হলো সমগ্র বিশ্বকে যিনি পবিত্র করে তোলেন। শিব বাবা, নিজেই বলেন যে - আমি পতিত থেকে পবিত্র করে তুলছি। তোমাদেরকেই এই পবিত্র দুনিয়ার মালিক হতে হবে। নতুন দুনিয়াতে হবে এক আদি সনাতন দেবী দেবতা ধর্ম। কিন্তু এ'কথাও কেউ জানে না। আর শিববাবাকেও কেউ জানে না। তোমরা সকলকে এ কথা জিজ্ঞাসা করো যে - তারা যে নিরাকার পরমপিতা পরমাত্মা শিবজয়ন্তী পালন করছে, তিনি কখন এসেছেন? যিনি নিরাকার তিনি কীভাবে আসতে পারেন? যিনি নিরাকার তাঁকে অবশ্যই দেহ ধারণ করে আসতে হবে তবেই তো তিনি কোনো কর্ম করতে পারবেন। শরীর ব্যতীত আত্মা কি করে কর্ম করবে? পরমাত্মা এসে অবশ্যই অনেক উচ্চস্তরের কর্ম করবেন। সমগ্র বিশ্বকে পবিত্র করে তোলা, তা শুধুমাত্র একজনেরই হাতে আছে। মানুষ তো দুঃখী হয়েই রয়েছে। ভক্তরা যখন ভগবানকে আহ্বান করে তাহলে অতি অবশ্যই ভগবান এক হওয়া উচিত। পৃথিবীতে ভক্তের সংখ্যা অনেক। শিব ভগবানুবাচ - আমি শিব ভগবান এসে বাচ্চারা তোমাদেরকে রাজযোগ এবং সৃষ্টি চক্রের জ্ঞান বুঝিয়ে দিই অর্থাৎ এখন আত্মারা তোমাদের মধ্যে সৃষ্টি চক্রের জ্ঞান রয়েছে। ঠিক যেমনভাবে আমি তোমাদের পিতা, আমার মধ্যে এই সৃষ্টি চক্রের সম্পূর্ণ জ্ঞান রয়েছে, তাই আমি এসেছি তোমাদেরকে তা শিখিয়ে দিতে। সৃষ্টি চক্র তো অবশ্যই আবর্তিত হতে হবে। পতিত থেকে পবিত্র হয়ে উঠতে হবে। এই কাজে কেউ তো নিমিত্ত হবে, তাই না। ৫ বিকাররূপী কয়েদখানা থেকে মুক্ত করতে আমি আসি। আমি শিব, এখন এই দেহে অবস্থান করছি। তোমরা বলো যে - আমি আত্মা, এই শরীরে এখন বসে আছি, আমার শরীরের নাম অমুক। শিববাবা বলেন - আমার নিরাকারী শরীর তো নেই। আমি পরমপিতা, আমার নামই হলো শিব। আমি পরমপিতা পরমাত্মা, একটা স্টারের মতো। আমার একটিই নাম - শিব। তোমরাই হলে শালগ্রাম । কিন্তু ৮৪ জন্মে তোমাদের নাম পাল্টাতে থাকে। আমার তো কেবলমাত্র একটিই নাম, আমি কখনো পুনর্জন্ম গ্রহণ করি না। গীতাতে যার নাম বলা হয়েছে তিনি তো পুরোপুরি ৮৪ টি জন্ম গ্রহণ করেন। শ্রীকৃষ্ণ যে গীতা শুনিয়েছেন - এ কথা সঠিক নয়। এ'কথা খুব ভালোভাবে বোঝার বিষয়। মানুষের হাতে কিছুই নেই, যা কিছু করেন তা পরমপিতা পরমাত্মাই করেন। মানুষকে সুখ শান্তি প্রদান করা - এটাই বাবার কাজ। সর্বদা এক বাবারই মহিমা করতে হবে, কারণ আর কারোরই মহিমা নেই। লক্ষ্মীনারায়ণের ও মহিমা নেই। কিন্তু যেহেতু তাঁরা এখানে রাজত্ব করে গেছেন, তাই মানুষ ভাবে যে তাঁরা স্বর্গের মালিক ছিলেন। আশ্চর্য এটাই যে সে'গুলো হলো জড় চিত্র আর তোমরা এখানে চৈতন্য স্বরূপে বসে আছো। শিব ভগবানুবাচ - তোমরা রাজার রাজা হয়ে পূজনীয় হয়ে ওঠো, পরে আবার তোমরা পূজারীতে পরিণত হবে। পূজনীয় লক্ষ্মীনারায়ণ পরবর্তীকালে নিজেরাই পূজারীতে পরিণত হবে। যারা একসময় অতীতে ছিলেন, এখন তাঁদের মন্দির নির্মাণ করে পুজা করা হয়। এ'কথা প্রমাণিত করে বলতে হবে । এমন নয় যে ঈশ্বর নিজেই পূজনীয় থেকে আবার নিজেরাই পূজারী হয়ে যায় - না, তা নয় । মানুষ তো এটাও জানে না যে, আমি অর্থাৎ পরমাত্মা কোথায় নিবাস করি। আমার যে বাচ্চারা শালগ্রাম, তারাও এটা জানে না যে আমি কোথাকার বাসিন্দা। পরমাত্মা এবং সকল আত্মাদের একটি ঘর আর তা হল সুইট হোম, কিন্তু তাকে কেবল সুইট ফাদার'স হোম বলা হয় না। এখন তোমরা জানো যে নির্বাণধাম হলো আমাদেরও ঘর, ওখানে আমাদের পিতা থাকেন। শুধু ঘরকে স্মরণ করলে তাহলে ব্রহ্মতত্ত্বের সাথে যোগযুক্ত হয়ে যাবে, এর ফলে কোনো প্রকারের বিকর্ম বিনাশ হবে না। যদি কেউ ব্রহ্মযোগী, তত্ত্বযোগীও থাকে কিন্তু তাদের বিকর্ম বিনাশ হওয়া সম্ভব নয়। তবে হ্যাঁ মনের শুদ্ধ ভাবের দ্বারা স্বল্পকালের সুখ অবশ্য প্রাপ্ত হয়। যত স্মরণ করবে তত শান্তি পাবে। এখন বাবা বলেন যে, ওদের এই যোগ পদ্ধতি ভুল। তোমাদেরকে স্মরণ করতে হবে শুধুমাত্র এক বাবাকে। বাবা বলেন যে - আমাকে স্মরণ করলে তবেই তোমাদের বিকর্ম বিনাশ হবে। শ্রীকৃষ্ণ তা বলতে পারেন না, তিনি তো বৈকুন্ঠের মালিক। তিনি কখনোই বলবেন না যে - অশরীরী হয়ে শিববাবাকে স্মরণ করো অথবা আমাকে স্মরণ করো। সব কিছুই নির্ভর করছে গীতা গ্রন্থকে কারেক্ট করার ওপরে। গীতা খন্ডিত হয়ে যাওয়ার জন্যই ভগবানের অস্তিত্ব বিলুপ্ত হয়ে গেছে। সেই কারণেই বলে দিয়েছে যে ঈশ্বরের কোন নাম রূপ নেই। নাম, রূপ, কাল - এ সকল তো আত্মারও থাকে। আত্মার নাম তো আত্মাই আর তিনি তো পরম পিতা পরমাত্মা। পরম অর্থাৎ সুপ্রিম, সর্বোচ্চ। তিনি জন্ম-মৃত্যু রহিত, অবতার ধারণ করেন। ড্রামাতে যার পার্ট রয়েছে তাঁর দেহে প্রবেশ করেন আর তাঁর নামকরণ করেন - ব্রহ্মা। ব্রহ্মা - এই নাম কখনোই পরিবর্তিত হয় না। ব্রহ্মার দ্বারাই স্থাপনার কার্য তিনি করে থাকেন। সুতরাং তিনি শ্রীকৃষ্ণের দেহে কখনোই আসবেন না। যদি তিনি অন্য দেহে আসেন তাহলে তার নাম ব্রহ্মা রাখতে হবে। মানুষ জিজ্ঞাসা করে যে - অন্য কারোর দেহে কেন তিনি আসেন না? আরে তিনি আর কার দেহে আসবেন? তিনি তো আসেনই এখানে জ্ঞান প্রদান করার জন্য। যত দিন যাবে ক্রমে মানুষ এ'কথা বুঝতে পারবে। তোমাদের সংখ্যা ক্রমশ বাড়তেই থাকবে। তবে তোমাদের স্থিতি অত্যন্ত উচ্চ স্টেজের হওয়ার প্রয়োজন। ঠিক যেমন ভাবে ড্রামার অভিনেতা অভিনেত্রীদের সর্বদাই এটা মনে থাকে যে, আমরা নিজেদের বাড়ি থেকে এসেছি এই স্টেজের ওপরে পার্ট প্লে করার জন্য। ঠিক তেমনভাবেই আমরা আত্মারা এই শরীররূপী বস্ত্র পরিধান করে নিজের নিজের পার্ট প্লে করে চলেছি। শেষে পুনরায় ফিরে যেতে হবে, এই শরীর এখানেই ছেড়ে যেতে হবে। এই কথায় তোমাদের অপার খুশি হওয়া উচিত, ভয় পাওয়া উচিত নয়। তোমরা অনেক উপার্জন করছো। যখন শরীর ত্যাগ করার সময় আসে তখন তারা প্রত্যেকেই বুঝতে পারে যে তারা কতটা উপার্জন করতে পেরেছে। তোমরা বুঝতে পারো যে যারা শরীর ত্যাগ করে চলে গেছে তাদের অনেক উচ্চ স্থিতি ছিল, অনেক সেবা করে তারা এখন হয়তো অন্য দেহ ধারণ করেছে। তারা আগেই চলে গেছে, তাদের শুধুমাত্র ততটুকুই ভূমিকা এখানে ছিল। তবুও কিছু না কিছু জ্ঞান নেওয়ার জন্য হয়তো তাঁরা এসেছেন - তাও হতে পারে। বাবার উত্তরাধিকারী তো হয়েই গেছে। কারো সাথে হিসাব-নিকাশ মেটানোর ছিল, তা মেটাতে গেছে। আত্মার মধ্যে জ্ঞানের সংস্কার তো রয়েছে, সংস্কার আত্মাতেই থাকে, তা কখনো লুপ্ত হতে পারে না। হয়তো কোনো ভালো জায়গায় সেবা করছে। নলেজের সংস্কার নিয়ে থাকলে কিছু না কিছু সেবা অবশ্যই করবে। এমন নয় যে সকলেই এইভাবে যেতে থাকবে, না। তবে হ্যাঁ, যোগযুক্ত হয়ে থাকলে অবশ্যই আয়ু বৃদ্ধি হয়। তাদের ব্যবহারও অত্যন্ত ভালো হওয়া উচিত। তারা বলে যে - বাবা তুমি কত মিষ্টি মধুর, আমরাও তোমারই মত মধুর হবো । আমরাও জ্ঞানের সাগর হয়ে উঠবো। বাবা বলেন - নিজেকে দেখো যে, আমি মাস্টার জ্ঞান সাগর হতে পেরেছি কি? মাতা পিতার মতো অন্যদেরকে জ্ঞান প্রদান করি কি? আমাদের ওপরে কেউ অখুশি নয় তো? শান্তিকে ধারণ করেছো কি ? আমাদের সধর্মই তো হলো শান্তি। নিজেকে দেখো যে - আমার মধ্যে কোনো বিকার অবশিষ্ট নেই তো? যদি কোনো রকমের বিকার থেকে থাকে তাহলে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারবে না। এইভাবে নিজের সাথে কথা বলতে হবে। এ হল শ্রীমতের সাহায্যে, বিচার সাগর মন্থন করে নিজেকে পারফেক্ট করে তোলা। বাকি সকলেই আসুরিক মতের পথে চলে আন-পারফেক্ট (un-perfect) হয়ে যায়। আমরাও কতটা অনুপযুক্ত (un-perfect) ছিলাম, কোনো গুণই ছিল না। গায়ন রয়েছে যে আমি নির্গুণ, আমার মধ্যে কোনো গুণ নেই। গানের কথাগুলি খুব ভালো । একমাত্র মহিমা সেই পরম পিতা পরমাত্মার রয়েছে। গুরু নানকও তাঁর মহিমা কীর্তন করতেন। অতএব মানুষকেও তা বোঝাতে হবে।

 

বাচ্চারা এটাও জানে যে - পূর্বকল্পে যাদের মধ্যে এই জ্ঞানের স্যাপলিং (চারা রোপণ) হয়েছিল তারাই পুনরায় আসবে এবং এই জ্ঞানকে ধারণ করবে। তা না হলে তারা এখানে আসবে আবার বুঝতে না পেরে চলেও যাবে। এখন তোমরা জানো যে, আমাদেরকে নলেজফুল বাবা এসে যে নলেজ দিয়েছেন তা আর কারোর মধ্যে নেই। আমরা সকলে গুপ্ত ভাবে ছদ্মবেশ ধারণ করে রয়েছি। পুনরায় আমরা ভবিষ্যতে স্বর্গের মালিক হবো। কর্ম তো সকলেই করছে কিন্তু এখন মানুষের সকল কর্মই বিকর্ম । কারণ তারা সেই কর্ম রাবণের মত অনুযায়ী করে। আমরা কর্ম করি শ্রীমৎ অনুযায়ী। শ্রীমৎ দাতা হলেন বাবা।

 

বাবা বুঝিয়েছেন যে, তোমরা হলে স্যালভেশন আর্মি (উদ্ধারকারী সেনা) । স্যালভেশন আর্মি তাদেরকে বলা হয় যারা কারোর ডুবন্ত নৌকোকে পাড়ে নিয়ে আসে, দুঃখীকে সুখী করে। এখন তোমরা শ্রীমৎ অনুযায়ী চলে সকলের তরী পার করছো। সকল কৃতিত্ব তো একমাত্র শিব বাবারই । আমরা তো মূর্খ ছিলাম । বাবার মত পেয়ে আমরা অন্য সকলকে এই মত প্রদান করি। বাবা সম্মুখে এসে এই শ্রীমৎ দেন । রাবণ কোনো ব্যক্তি অথবা বস্তু নয় যে আসবে। মায়া আমাদেরকে বিকারের মধ্যে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে আসে। যেমন ভাবে স্কুলে টিচার (ছাত্র-ছাত্রীদের) পড়ান, ঠিক তেমনভাবেই এখন এখানে বাবা আমাদের শ্রীমৎ প্রদান করেন। রাবণ কোনো ব্যক্তি নয় যে সে আমাদেরকে উল্টো কিছু পড়াবে। বাবা হলেন জ্ঞানের সাগর। রাবণকে জ্ঞানের সাগর অথবা নলেজফুল কখনোই বলা যায় না। তোমরা এখন শ্রীমৎ এর পথে চলছো। তোমরা ব্রাহ্মণ হয়ে এই যজ্ঞের সেবা করছো, তোমাদেরকে এখন রাজযোগ আর জ্ঞান শেখাতে হবে। লৌকিকে যখন কোনো যাগযজ্ঞের অনুষ্ঠান হয় তখন তার সাথে শাস্ত্র ইত্যাদিও রাখা হয়। রুদ্রযজ্ঞের অনুষ্ঠান করা হয় কিন্তু রুদ্র কোথায় তা কেউ জানে না। এখানে তো রুদ্র শিব বাবা প্র্যাকটিক্যালে রয়েছেন। বর্তমানে এখন রুদ্র জ্ঞান যজ্ঞই রচিত হয়েছে। যা অতীত ছিল তা এখন বর্তমান। মানুষ অতীতকেই স্মরণ করতে থাকে আর তোমরা এখন প্র্যাকটিক্যাল উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করছে। যা অতীত ছিল, তা এখন বর্তমান, পরে তাও অতীত হয়ে যাবে। এইভাবে চক্র ঘুরতেই থাকে। কলিযুগও পাস্ট হয়ে পুনরায় সত্যযুগের আসা উচিত। বর্তমানে এখন হলো সঙ্গম যুগ। যা অতীত হয়ে গেছে এখন তার স্মরণ-চিহ্ন রয়েছে। যাদের জড় চিত্র গুলিকে স্মরণ করা হয় এখন তারা বর্তমানে চৈতন্য স্বরূপে রয়েছে। যারা উচ্চপদ প্রাপ্ত করেন, তাদেরকে নিয়েই মালা তৈরি হয়। এ হলো রুদ্রমালা। এ সকল হল জড়ো চিত্র। নিশ্চয়ই তাঁরা কোন কীর্তি স্থাপন করেছিলেন, তবেই তো তাদের মালাকে রুদ্রমালা বলা হয়। তোমরা চৈতন্য স্বরূপে শিববাবার মালায় ক্রম অনুযায়ী স্থান গ্রহণ করছো। যত যোগযুক্ত হয়ে থাকবে তত তাঁর সমীপে গিয়ে রুদ্রের গলার হার হয়ে যাবে। এখন আমরা সঙ্গম যুগে রয়েছি - এই ভাবে নিজের সাথে কথা বলতে হবে। তোমাদের তো জ্ঞান হয়েছে তোমাদের অন্তরে এই জ্ঞানের অনুরণন যেন সদাই বাজতে থাকে যে - আমরা প্রকৃতপক্ষে শিববাবার সন্তান। আমরা বিশ্বের মালিক হবো, তারপর এই চক্রে আসবো। একে স্বদর্শন চক্র বলা হয়। অনেকেই বলে যে - তোমরা অন্যদের নিন্দা কেন করো। তখন তাদেরকে বলো যে, ভগবানুবাচ লেখা হয়ে রয়েছে, আমরা তাই মানি, এছাড়া আমরা কারোর নিন্দা করি না। আচ্ছা!

 

মিষ্টি মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা পিতা বাপ-দাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত। আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মারূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।

 

*ধারণার জন্যে মুখ্য সারঃ-*

 

১ ) শ্রীমৎ অনুসারে প্রতিটি কর্মই শ্রেষ্ঠ করতে হবে। সকলের ডুবন্ত নৌকাকে শ্রীমৎ অনুসারে পাড়ে নিয়ে আসতে হবে। দুঃখীদের সুখ দিতে হবে।

 

২ ) মনে মনে স্বদর্শন চক্র ঘোরাতে থাকতে হবে আর রুদ্রমালাতে বাবার সমীপে আসার জন্য তাঁর স্মরণে থাকতে হবে। জ্ঞানের মন্থন করতে হবে, নিজের সাথে নিজে অবশ্যই কথা বলতে হবে।

 

*বরদানঃ-*   ব্রাহ্মণ জীবনে সর্বদা আনন্দ বা মনোরঞ্জনের অনুভবকারী সৌভাগ্যশালী ভব

সৌভাগ্যশালী (খুশীর ভাগ্যশালী) বাচ্চারা সর্বদাই খুশীর দোলনায় দুলতে থাকে। আর ব্রাহ্মণ জীবনে আনন্দ বা মনোরঞ্জনের অনুভব করে। যখন স্মরণ এবং সেবার দুই দিকের দড়ি শক্তভাবে বাঁধা থাকবে, তখনই এই খুশীর দোলনা সর্বদা একরস স্থিতিতে থাকতে পারবে। একদিকের দড়ি যদি আলগা থাকে তাহলে দোলনা নড়তে থাকবে আর যে দোলনায় বসেছিল সে পড়ে যাবে। সেই কারণেই, যদি দুইদিকের দড়ি মজবুত ভাবে থাকে তবেই মনোরঞ্জনের অনুভব করতে পারবে। সর্বশক্তিমান যদি তোমাদের সাথী হয়ে থাকে আর খুশীর দোলনায় তোমরা দুলতে থাকো তাহলে এর থেকে বড় সৌভাগ্য (খুশীর কথা) আর কি হতে পারে।

*স্লোগানঃ-*   সকলের প্রতি যার দয়াভাব আর কৃপা দৃষ্টি থাকে, তিনিই হলেন মহান আত্মা।

এই মাসের সকল মুরলী (ঈশ্বরীয় মহাবাক্য) নিরাকার পরমপিতা শিব, ব্রহ্মা মুখকমল দ্বারা নিজের ব্রহ্মা বৎস্যদের অর্থাৎ ব্রহ্মাকুমার এবং ব্রহ্মাকুমারীদের সম্মুখে ১৮-১-১৯৬৯ এর পূর্বে উচ্চারণ করেছিলেন। এ'গুলি কেবল ব্রহ্মাকুমারিজ এর অধিকৃত টিচার বোনেদের দ্বারা নিয়মিত বি. কে. বিদ্যার্থীদেরকেই শোনানোর জন্য।


No comments:

https://bkrajyogpathshala.blogspot.com/

01-04-2026 Bengali Murli

 মিষ্টি বাচ্চারা - বাচ্চারা, বাবা যা, বাবা ঠিক যেমন, তোমরা বাচ্চারাও তাঁকে নম্বর ক্রমানুসারেই চিনেছো, যদি সকলেই তাঁকে চিনে গেলে তবে তো অত্যন...