08.02.2023 BENGALI MURLI
ওম্ শান্তি । বাস্তবে এই গীত গাইবার দরকার নেই। কিন্তু চিত্ত-বিনোদনের জন্য এই সঙ্গীতের প্রয়োজন পড়ে । বাস্তবে আত্মার আওয়াজ করার দরকার নেই। আত্মা তো আওয়াজ থেকে দূরে নির্বাণ ধামে যেতে চায়। অনেক গান, বাজনা, কীর্তন, করতালি শুনে আত্মা ক্লান্ত হয়ে গেছে, এইজন্য এখন বাবাকে স্মরণ করতে থাকে - হে ভগবান আমাকে নিয়ে যাও। বাচ্চারা জানে যে এই বাবা আমাদেরকে বোঝাচ্ছেন। যেরকম ঘরে বাবা আর ঠাকুরদাদা দু'জনেই বাচ্চা-বাচ্চা বলে ডাকেন। ঠাকুরদাদা এমন বলবেন না যে পৌত্র এদিকে এসো। দুজনেই বলেন যে বাচ্চা এইদিকে এসো। এখানে তো বাবা আর দাদা, সাকার আর নিরাকার দু' জন একসাথে আছেন। বাস্তবে এঁনারা হলেন সকল মনুষ্যের বাবা আর ঠাকুর্দা। তো অবশ্যই পরমপিতা পরমাত্মাকে সৃষ্টি রচনা করতে আসতেই হয়। তোমাদের নাম খুব ভালো রাখা হয়েছে - ব্রহ্মাকুমার-কুমারী। আবুতেও অধর দেবী আর কুমারী কন্যার মন্দির আছে। তো একটি কন্যা তো হবে না , তাই না। অবশ্যই অনেক মন্দির হবে। দুজনের আলাদা আলাদা মন্দির হবে। অধর কুমারী কাদের বলা হয়, কুমারী কন্যা কাদের বলা হয় - এটা তো তোমরাই জানো। এরা হলেন শিবশক্তি। ভিতরে অনেক বড় মন্দির তৈরী আছে। অনেক কুঠির আছে। তো মন্দিরও সাক্ষী দেয় যে, কুমারী আর অধর কুমারী অনেক আছে। যা কিছু চিত্র বানায়, এসব হল তাদেরই স্মরণিক। যেমন দেবী-দেবতাদের চিত্র আছে, যারা এখানে ভুমিকা পালন করে গেছেন। তারা বিশ্বের মালিক ছিলেন। এখন নেই। বিশ্বের রচয়িতাই ভারতকে বিশ্বের মালিক বানিয়েছেন। কীভাবে? যেটা এখন প্র্যাক্টিকালে হচ্ছে। এখন হলো কলিযুগ। সত্যযুগে থাকে এক আদি সনাতন দেবী-দেবতা ধর্ম। কলিযুগে আছে অনেক ধর্ম আর অনেক প্রজার রাজ্য। বাচ্চারা তোমরা যখন শোনো তো বুঝতে পারো যে বাবা যথার্থই সঠিক কথাই বোঝাচ্ছেন। কিন্তু কোনো কারণবশতঃ আমদের ধারণা হচ্ছেনা, এইজন্য অন্যদেরকেও ধারণা করাতে পারছিনা। কোনো না কোনো বিঘ্ন এসে যাচ্ছে। আমরা হলাম ডাল (dull, নির্বোধ) স্টুডেন্ট। এছাড়া বাবা তো খুব ভালো করেই বোঝাচ্ছেন। এখন অনেক মানুষ, অনেক ধর্ম। ৫ হাজার বছর পূর্বে ভারত স্বর্গ ছিল। তখন খুব অল্প মানুষ ছিল। কেবল সূর্যবংশী চন্দ্রবংশী সেই আত্মারা পরমধাম থেকে এসেছিল, নিজেদের ভুমিকা পালন করতে। বাদবাকি অন্যান্য ধর্মের আত্মারা নির্বাণধামে ছিল। এখন অনেক ধর্ম হয়ে গেছে, কিন্তু দেবী-দেবতা ধর্ম প্রায়ঃলোপ হয়ে গেছে, তো অবশ্যই পুনরায় সত্যযুগ হবে। পরমপিতা পরমাত্মাকেই এসে স্বর্গ রচনা করতে হবে। যে ভক্তরা ভগবানকে স্মরণ করতো, তাদেরকে ভক্তির ফল প্রদান করতে তাঁকে এখানে আসতেই হয়। বাদবাকি সবাইকে পুনরায় মুক্তিধাম ফিরিয়ে নিয়ে যেতে হয়। আর তো কেউ বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যেতে পারবে না। একজন গুরুও যদি গতি-সদ্গতির রাস্তা জানতো তাহলে তাদের পিছনে লক্ষাধিক শিষ্যও যেত। লৌকিক তীর্থযাত্রাতে তো সবাই তীর্থ করে বাড়ি ফিরে আসে। তাহলে মুক্তিধাম থেকে ফিরে এসেছো কেন? একজন যদি রাস্তা খুঁজে পায় তবে তো সবাইকে নিয়ে যাবে। এখন এক বাবা এসেছেন তাই তোমরা রাস্তা খুঁজে পেয়েছো তাই না! বাবা সবাইকে দুঃখের দুনিয়া থেকে মুক্তি করেন, এইজন্য তাঁকে মুক্তিদাতা বলা হয়। সেই নিরাকারকে আসার জন্য একটা শরীর চাই। তাই নতুন দুনিয়া রচনার জন্য প্রজাপিতাও চাই। রচনা এখানেই রচিত করতে হবে। তাই ব্রহ্মাকেও এখানকার মানুষ হতে হবে। সূক্ষ্ম বতন থেকে নিচে নেমে তো আসবে না। বলেও থাকে এখন হল ব্রহ্মার রাত, তো ব্রহ্মা মুখবংশাবলীদেরও রাত। এখন অন্তিম সময়ে বাবা এসেছেন দিনের আলো ফোটাতে। ব্রহ্মার রাত সম্পূর্ণ হয় তো ব্রহ্মাকুমার-কুমারীদেরও রাত সম্পূর্ণ হয়। প্রজাপিতা ব্রহ্মা তো ঠিক আছে। বাস্তবে সকল মনুষ্য আত্মাদের বাবা পরমাত্মাকে বলা হয়। সবাই তাঁকে গড ফাদার পরমপিতা পরমাত্মা বলে থাকে। সেন্সিবল মানুষ যখন গড ফাদার বলে তখন তো কোনও মানুষকে স্মরণ করে না। কেউ কেউ তো বলে তিনি হলেন জ্যোতি স্বরূপ, ব্রহ্ম। ব্রহ্মা, বিষ্ণু, শংকরকে তো ব্রহ্ম বলবে না। তাই সর্বপ্রথমে নিজের পরিচয় দিতে হবে যে আমরা হলাম বি. কে। ব্রহ্মাকেও পরমপিতা পরমাত্মা রচনা করেন তারপর ব্রহ্মার মুখ দ্বারা ব্রাহ্মণ রচনা করেন। প্রজাপিতা আছেন তো তাঁর অনেক সন্তানও থাকবে। এইভাবে বংশ লতিকা বৃদ্ধি হতে থাকে। ব্রাহ্মণ বর্ণ পরিবর্তিত হয়ে সত্যযুগী দেবতা হয়, কেননা বাবা বসে ব্রাহ্মণদেরকে রাজযোগ শেখাচ্ছেন। বাবা বলছেন - তোমরা আমার দ্বারা আমাকে আর আমার রচনাকে জানার ফলে সব কিছু জেনে গেছো। জানার জন্য আর কিছু বাকি থাকেনা। এতো বড় পরীক্ষায় পাশ হয়ে যাও অর্থাৎ মাস্টার জানি-জাননহার হয়ে যাও। গডলী স্টুডেন্ট কেবল ব্রাহ্মণেরাই হয়। দেবতা, বৈশ্য বা শূদ্র - কেউই গডলী স্টুডেন্ট হয় না। ভগবানুবাচ হয়েই থাকে ব্রাহ্মণদের প্রতি। যদি কৃষ্ণ ভগবানুবাচও হয়, তাহলে কাদের প্রতি? অবশ্যই ব্রাহ্মণ চাই। তো প্রজাপিতার দ্বারা ব্রাহ্মণ রচনা করেন। রুদ্র জ্ঞান যজ্ঞও ব্রহ্মাই রচনা করেন। কৃষ্ণ জ্ঞান যজ্ঞ তো কখনো বলে না। তাই সর্ব প্রথমে বোঝাতে হবে যে আমাদেরকে পড়াচ্ছেন স্বয়ং পরমপিতা পরমাত্মা, যিনি হলেন জ্ঞানের সাগর। তিনিই হলেন আমাদের বাবা, টিচার, সদ্গুরু, তারপর এখানে কোনো উল্টো পাল্টা প্রশ্ন ওঠার অবকাশই নেই । এতো এতো বি.কে আছে, একটা-দুটো নয়। সর্ব প্রথমে পড়াতেই হবে অল্ফ অর্থাৎ বাবা। অল্ফ ছাড়া মানুষ কিছুই জানতে পারবে না। তাদেরকে বোঝাতে হবে যে পরমপিতা পরমাত্মা শিব, ব্রহ্মা মুখ দ্বারা ব্রাহ্মণ রচনা করছেন। একা ব্রহ্মা তো রচনা করেন না। এই সব পয়েন্টস্ হলো ধারণ করার জন্য। বাবার কাছে জ্ঞান আছে তাই তোমাদেরকে ডেলিভারী (বিতরণ) করেন। তোমরা হলে জ্ঞান গঙ্গা। সাগর তো হলো একটাই। এই ব্রহ্মাও জ্ঞান কন্ঠস্থ করেন, তো ইনিও হলেন জ্ঞান গঙ্গা। যারা জ্ঞান কণ্ঠস্থ করে তাদের বলা হয় জ্ঞান গঙ্গা। তার মধ্যে মেল-ফিমেল দুইই এসে যায়। জ্ঞান সাগর তো হলেন এক বাবা। এখানে দেখো, জলের সাগরকেও টুকরো-টুকরো করে দিয়েছে। সত্যযুগে যখন একটাই সূর্য বংশী রাজত্ব ছিল তখন সাগরের টুকরো ছিল না। যেখানে খুশী ঘুরতে যেতে পারতে। সেখানে কেউ বলবে না যে আমার জায়গায় আসবে না বা আমার ভাগের সাগরের জল নেবে না। এখানে তো একে-অপরের জলই বন্ধ করে দেয়। কতো টুকরো হয়ে গেছে। এখন আমরা একটাই সত্য খণ্ড স্বর্গের স্থাপনা করছি। বাবারও বিচার সাগর মন্থন হয় তবেই তো বোঝাতে পারেন। ব্রহ্মাও বলবেন যে সকল জীবাত্মারা হল আমার বাচ্চা। আদি দেব বা আদম হলেন সকলের বাবা। এমন নয় যে সেই সময় কোন মানুষ ছিলনা, তাই আদম আদমী (মনুষ্য) রচনা করলেন। না, নিরাকার বাবাকে প্রথমে অবশ্যই আদমের মধ্যে আসতে হয়, তারপর তো মুখবংশাবলী রচনা করেন। তা বলে এটা নয় যে মুখ থেকে বেরিয়ে আসবে বা নাক অর্থাৎ বায়ু থেকে জন্ম হবে। এই সব হল ভক্তির কথা। সাধারণ মানুষ তো কচ্ছ-মচ্ছকেও পূজা করতে থাকে। তো সর্ব প্রথম কথাটি হল আত্মাদের বাবা কে? তিনি নিশ্চয়ই স্বর্গ রচনা করে থাকবেন। এখন তো হলো নরক। পরমপিতা পরমাত্মার দ্বারা এখন আমরা স্বর্গের জন্য রাজযোগ শিখছি। ব্রহ্মাও তাঁর কাছে পড়ছেন। পরমপিতা পরমাত্মা হলেন সকল আত্মাদের বাবা। ব্রহ্মা হলেন জীবাত্মাদের বাবা। আমরা হলাম তাঁর মুখ বংশাবলী ব্রহ্মাকুমার আর ব্রহ্মাকুমারীরা। তথাপি জ্ঞান সাগর বাবা-ই আমাদের জ্ঞান প্রদান করেন। আমরা শ্রীমতানুসারে চলি, তিনি তো হলেন সুপরিচিত। ব্রহ্মার মত সুবিখ্যাত। এইরকম কখনও বলা হয় না যে উপর থেকে বিষ্ণু নেমে এলেও তোমরা মানবে না। এটা ব্রহ্মার জন্যই বলা হয়। তাঁকে জ্ঞান দান করেন শিব। তোমরাও শ্রীমতে চলে শ্রেষ্ঠ হও। বাবা বোঝাচ্ছেন আমি এসে দেবতা ধর্মের স্থাপনা করি। এই যে আর্য-সমাজীরা এতো বিরক্ত করে তাদেরকে বলো যে তোমরা তো দেবতাদেরকে মান্য করো না, তোমরা তাদের অস্তিত্ব খণ্ডিত করো। নিজের ধর্মে কিছু করার জন্য প্রত্যেকের স্বাধীনতা আছে। মুসলমানদের ধর্ম হল আলাদা। তারা অনেক তর্ক-বিতর্ক করে, বলে যে তোমরা এইরকম কেন করো।সেদিক থেকে বলা যায় যে আমাদের ধর্মই হল আদি সনাতন দেবী-দেবতা ধর্ম, আমরা তারই প্রচার করি। তোমরা হস্তক্ষেপ কেন করছো? তারদেরকেও যুক্তি দিয়ে বোঝাতে হবে। তাদেরকে বিস্তারিত ভাবে বোঝানোর দরকার নেই। তারা এতো কিছু বুঝবে না। যে-ই আসুক, তাকে বাবার পরিচয় দাও। আমরা বাবার থেকে উত্তরাধিকার নিচ্ছি। তুমিও যদি নিতে চাও তাহলে এসো। বাবা অমরলোক স্থাপন করছেন, এইজন্য তোমাদের অবশ্যই পবিত্র হতে হবে। বাবা বলছেন এই রাবণের বিরুদ্ধে জয়ী হতে হবে। আমরা শক্তি সেনারা জয় প্রাপ্ত করেছি। আমাদের ওস্তাদ কিভাবে আমাদেরকে জয়ী হতে শেখাচ্ছেন, সেটা এখানে এসো তাহলে বোঝাতে পারি। যদি তুমিও জয়ী হতে চাও তাহলে শক্তি দলে সম্মিলিত হও। এছাড়া ফালতু কথা বলো না। কিন্তু এটা নেশার সাথে সে-ই বলতে পারবে যার কাছে জ্ঞানের পুঁজি থাকবে। আচ্ছা!
মিষ্টি-মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত। আত্মাদের পিতা ওঁনার আত্মা রূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।
*ধারণার জন্যে মুখ্য সারঃ-*
১ ) জ্ঞানকে কণ্ঠস্থ করে মাস্টার জ্ঞানের সাগর জ্ঞান গঙ্গা হয়ে পতিতদেরকে পবিত্র বানানোর সেবা করতে হবে।
২ ) প্রত্যেককে অনেক যুক্তি দিয়ে বোঝাতে হবে, কারো সাথেই ডিসকাসে যাবেনা। সবাইকে বাবার পরিচয় দিতে হবে।
যেরকম
শরীরের পার্সোনালিটি আত্মাদেরকে দেহ বোধে নিয়ে
আসে, এইরকমই পিওরিটির পার্সোনালিটি দেহী-অভিমানী বানিয়ে
বাবার নিকটে নিয়ে আসে। পিওরিটির
পার্সোনালিটি আত্মাদেরকে পিওরিটির দিকে আকৃষ্ট করে।
পিওরিটির রয়্যালটি ধর্মরাজ পুরীর
রয়্যাল্টি দেওয়া থেকে মুক্ত করে
দেয়। এই রয়্যাল্টি অনুসারে
ভবিষ্যতের রয়্যাল ফ্যামিলিতে আসতে পারবে। দেহী-অভিমানী বাচ্চারা এই পার্সোনালিটির দ্বারা
বাবার সাক্ষাৎকার করানোর আধ্যাত্মিক (রুহানী) দর্পণ হয়ে যায়।
*স্লোগানঃ-* প্রত্যেকের
বিশেষত্ত্বকে দেখার চশমা সদা লাগিয়ে
রাখলে বিশেষ আত্মা হয়ে যাবে।
মাতেশ্বরী জীর অমূল্য মহাবাক্য -
১ ) তোমাদের এই যে ঈশ্বরীয় সৎসঙ্গ, এটা কোনো সাধারণ সৎসঙ্গ নয়। এটা হলো ঈশ্বরীয় স্কুল বা কলেজ। যে কলেজে তোমাদেরকে রেগুলার পড়াশোনা করতে হবে, বাকিরা তো কেবল সৎসঙ্গ করা, অল্প সময় সেখানকার কথা শোনা তারপর যেমন ছিল তেমনই হয়ে যায়। কেননা সেখানে কোনও রেগুলার পড়াশোনা হয় না, যেখান থেকে কোনও প্রালব্ধ পাওয়া যাবে। এইজন্য তোমাদের সৎসঙ্গ কোনও সাধারণ সৎসঙ্গ নয়। এটা তো তোমাদের ঈশ্বরীয় কলেজ, যেখানে পরমাত্মা বসে তোমাদেরকে পড়াচ্ছেন আর তোমরা সেই পড়া পুরোপুরি ধারণ করে উচ্চ পদ প্রাপ্ত করো। যেরকম লৌকিক স্কুলে মাস্টারমশাই পড়িয়ে ডিগ্রি প্রদান করেন, সেইরকম এখানেও স্বয়ং পরমাত্মা গুরু, পিতা, শিক্ষকের রূপে আমাদেরকে পড়িয়ে সর্বোত্তম দেবী-দেবতা পদ প্রদান করেন। এইজন্য এই স্কুলে জয়েন্ট হওয়া খুব জরুরী। এখানে আগতদের এই জ্ঞান বোঝানো খুব জরুরী, এখানে কি রকম শিক্ষা পাওয়া যায়, এই শিক্ষাকে জীবনে ধারণ করলে আমাদের কি কি প্রাপ্তি হবে! আমরা তো এটা জেনে গেছি যে আমাদেরকে পরমাত্মা নিজে এসে ডিগ্রি প্রদান করেন আর একই জন্মে সমগ্র কোর্স সম্পূর্ণ করতে হয়। তো যারা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এই জ্ঞানের কোর্সকে সম্পূর্ণ ভাবে ধারণ করে তারা ফুল পাস হয়ে যাবে, বাকি যারা কোর্সের মাঝে আসবে তারা তো এত জ্ঞান ধারণ করতে পারবে না, তারা কি করে জানবে যে আগে কোর্সে কি হয়েছে? এইজন্য এখানে রেগুলার পড়তে হবে, এই নলেজকে ধারণ করলেই উন্নতি করতে থাকবে। এইজন্য রেগুলার স্টাডি করতে হবে।
২ ) ভগবানুবাচ বাচ্চাদের প্রতি, যখন পরমাত্মা নিজে এই সৃষ্টিতে অবতীর্ণ করেছেন, তো সেই পরমাত্মাকে আমাদের হাত সম্পূর্ণ রূপে সমর্পণ করতে হবে। কিন্তু পরিপক্ক সত্য বাচ্চাই বাবাকে নিজের হাত দিতে পারবে। এই বাবার হাত কখনও ছাড়বে না। আর যদি ছেড়েও দাও তাহলে অনাথ হয়ে কোথায় যাবে! যখন পরমাত্মার হাত ধরে নিয়েছো তখন সূক্ষ্ম ভাবেও এই হাত ছেড়ে দেওয়ার সংকল্প বা সংশয় প্রকাশ করবে না। জানিনা তিনি আমাকে পার করবেন কি না! এমনও অনেক বাচ্চা হয় যারা পিতাকে না জানার কারণে পিতারও সামনে পড়ে গেলে এমনও বলে দেয় যে আমি কাউকে পরোয়া করি না। যদি এইরকম চিন্তা আসে তবে এমন অযোগ্য বাচ্চার দেখাশোনা পিতা কীভাবে করবেন? তো মনে করো সে পড়ে গেলো তো গেলো, কেননা মায়া তো ফেলে দেওয়ার অনেক চেষ্টা করবে। কেননা সে পরীক্ষা তো অবশ্যই নেবে যে যোদ্ধা কতটা শক্তিশালী বীর হয়েছে! এখন এটাও খুব জরুরী, যত যত আমরা প্রভুর সাথে সমর্থ হতে থাকবো তত মায়াও শক্তিশালী হয়ে আমাকে ফেলে দেওয়ার প্রচেষ্টা করবে। যুদ্ধ সমান সমান শক্তিশালী যোদ্ধার মধ্যে হয়। যত প্রভু বলবান হবে তত মায়াও তার শক্তি দেখাবে। কিন্তু নিজের মধ্যে তো পাক্কা নিশ্চয় আছে যে, নিশ্চিত পরমাত্মাই হলেন মহান বলবান, অবশ্যই তাঁরই জয় হবে। প্রতি শ্বাসে এই বিশ্বাসে স্থিত হতে হবে, মায়াকে নিজের শক্তি দেখাতে হবে, মায়া প্রভুর কাছে নিজের দুর্বলতা দেখাবে না, যদি একবার দুর্বল হয়ে যায় তো শেষ হয়ে যাবে। এইজন্য যদি মায়া নিজের তেজও দেখায় কিন্তু তোমরা মায়াপতির হাত ছাড়বে না, সেই হাত যদি চেপে ধরে রাখো তবে তোমাদের বিজয় নিশ্চিত। যেখানে পরমাত্মা হলেন আমাদের মালিক তখন হাত ছেড়ে দেওয়ার সংকল্পও আনবে না। যদি হাত ছেড়ে দেয় তাহলে সে বড় মূর্খতার পরিচয় দেবে। এইজন্য পরমাত্মা বলেন, বাচ্চারা আমি স্বয়ং সমর্থ (সর্বশক্তিমান) সাথে আছি, তো আমার সাথে থাকার কারণে তোমাদেরকেও অবশ্যই সমর্থ হতে হবে। বুঝেছো, বাচ্চারা। আচ্ছা। ওম্ শান্তি।
No comments:
Post a Comment