Wednesday, February 1, 2023

01.02.2023 BANGLA MURLI


                                          01.02.2023 BANGLA MURLI

"মিষ্টি বাচ্চারা - তোমাদের নজর কোনো দেহধারীর দিকে যেন না যায়, কেননা তোমাদের যিনি পড়ান তিনি হলেন স্বয়ং নিরাকার জ্ঞান সাগর বাবা"

প্রশ্নঃ -  উচ্চ পদের জন্য কোন্ একটি পরিশ্রম বাচ্চারা তোমরা গৃহস্থ ব্যবহারে থেকেও করতে পারো?

উত্তরঃ -গৃহস্থ ব্যবহারে থেকে কেবল জ্ঞান কাটারী চালাও। স্বদর্শন চক্রধারী হও আর শঙ্খধ্বনি করতে থাকো। চলতে ফিরতে অসীম জগতের বাবাকে স্মরণ করো আর সেই সুখে থাকো, তবে উচ্চ পদ প্রাপ্ত হবে। এটাই হলো পরিশ্রম ।

প্রশ্নঃ -  যোগের দ্বারা তোমাদের কোন্ ডবল লাভ হয়ে থাকে?

উত্তরঃ -            এক তো এই সময় কোনও বিকর্ম হয় না, দ্বিতীয়তঃ পাস্টে করা বিকর্ম বিনাশ হয়ে যায়।

গীতঃ-  মাতা তুমি হলে সকলের ভাগ্য বিধাতা...

ওম্ শান্তি । সৎসঙ্গ বা কলেজ ইত্যাদিতে দেখতে পাওয়া যায় যে - কে পড়াচ্ছে? দৃষ্টি চলে যায় শরীরের দিকে। কলেজের ক্ষেত্রে বলবে অমুক প্রফেসর পড়ান। সৎসঙ্গে বলবে অমুক বিদ্বান শুনিয়ে থাকেন। মানুষের দিকেই নজর যায়। এখানে তোমাদের নজর কোনো দেহধারীর প্রতি যায় না। তোমাদের বুদ্ধিতে আছে যে, নিরাকার পরমপিতা পরমাত্মা এই তন দ্বারা শোনান। বুদ্ধি চলে যায় মাতা-পিতা আর বাপদাদার দিকে। বাচ্চারা যখন অন্যদেরকে শোনায় - তখন বলা হবে জ্ঞান সাগর বাবার থেকে শুনে শোনাচ্ছে। তফাৎ হয়ে যায় তাতে তাই না? সৎসঙ্গ গুলিতেও যখন শোনানো হয়, তখন বুঝতে পারে যে অমুক ব্যক্তি বেদ শোনাচ্ছে। মানুষের পদমর্যাদার উপরে, জাতি-পাতির দিকে দৃষ্টি যায় যে, এ হিন্দু, এ মুসলিম, দৃষ্টি সেইদিকে চলে যায়। এখানে তোমাদের দৃষ্টি যায় শিব বাবার দিকে যে শিব বাবা পড়াচ্ছেন । এখন বাবা ভবিষ্যৎ নতুন দুনিয়ার জন্য উত্তরাধিকার প্রদান করতে এসেছেন আর এমন কেউ বলতে পারবে না যে হে বাচ্চারা তোমাদেরকে স্বর্গের জন্য রাজযোগ শেখাচ্ছি। এখন গীত তোমরা শুনলে। এই গীতটা তো হলো পাস্টের। এই রকম জগৎ অম্বা ছিলেন। অবশ্যই তিনি নিজের সৌভাগ্য বানিয়েছেন, যার মন্দিরও রয়েছে । কিন্তু তিনি কে ছিলেন, কীভাবে এসেছিলেন, কেমন ভাগ্য বানিয়েছেন, কিছুই মানুষ জানে না। তো এই পড়াশোনা আর সেই পড়াশোনার মধ্যে রাত দিনের পার্থক্য রয়েছে । এখানে তোমরা বুঝতে পারো যে, জ্ঞান সাগর পরমপিতা পরমাত্মা ব্রহ্মা মুখের দ্বারা পড়ান। বাবা এসেছেন। ভক্তদের কাছে ভগবানকে আসতেই হবে। নাহলে ভক্ত ভগবানকে কেন স্মরণ করে? সব কিছুই হলো ভগবান - এ'কথা তো রং হয়ে যায়। সর্বব্যাপীর জ্ঞানের যারা তারা নিজেদের বক্তব্যকে সিদ্ধ করবার জন্য নিজেদের বিশ আঙুলের জোর লাগিয়ে দেয়। তোমাদের বোঝানো হলো অন্য ধারার। অসীম জগতের বাবার থেকে বাচ্চাদের উত্তরাধিকার প্রাপ্ত হয় । সন্ন্যাসীদের হলোই বৈরাগ্য মার্গ, নিবৃত্তি মার্গ। তাদের থেকে কখনোই প্রপার্টির অধিকার পাওয়া যাবে না। তারা তো প্রপার্টি চায়-ই না। তোমরা তো সদাকালের সুখের প্রপার্টি চাও। নরকের ধন সম্পদে রয়েছে দুঃখ। ধনী ব্যক্তি হয়েও আচার আচরণ অত্যন্ত মন্দ, টাকা পয়সা ওড়াতে থাকে। তারপর বাচ্চারা না খেতে পেয়ে মরে। ফলে নিজেকে দুঃখী, বাচ্চাদেরকেও দুঃখী করে। ইনি হলেন অসীম জগতের বাবা, ইনি বসে বাচ্চাদেরকে বোঝান। জগতে তো ভিন্ন ভিন্ন অনেক বাবা রয়েছে, যার থেকে অল্প কালের উত্তরাধিকার প্রাপ্ত হয় । যদি সে রাজাও হয়, তবুও সে সীমিত ক্ষেত্রের। সীমিত অল্প কালের সুখ। এই অসীম জগতের বাবা অবিনাশী সুখ দিতে এসেছেন। তিনি বোঝান যে, ভারতবাসী দ্বি মুকুটধারী ছিল, এখন নরকের মালিক হয়ে গেছে । নরকে হলো দুঃখ, এছাড়া এমন কোনো নদী ইত্যাদি নেই যেরকম রৌরব নরক, বিষয় বৈতরনী নদী ইত্যাদির চিত্র গড়ুর পুরাণে দেখানো হয়েছে। এ তো শাস্তি ভোগ করতে হয়। তাই এই সব রৌরব নরকের কথা লিখে দিয়েছে। পূর্বে তো যে যেই অঙ্গ দিয়ে খারাপ কাজ করতো সেই অঙ্গ কেটে দেওয়া হতো। অত্যন্ত কড়া সাজা পেতে হতো। এখন এত কড়া সাজা পেতে হয় না। ফাঁসি কোনো কড়া সাজা নয়। এটা তো খুবই ইজি। মানুষ অপঘাতও স্বেচ্ছাতেই করে। শিবের উপরে দেবতাদের উপরে বলি চড়ে। তোমরা জানো যে, আত্মা দুঃখী হলে তখন চায় এক শরীর ত্যাগ করে অন্য শরীর নিই। যারা অপঘাত করে তারা এইরকম ভাবে না। তারা তো এখানেই এক শরীর ছেড়ে তারপর এখানেই খারাপ জন্ম নেয়। জ্ঞান তো তাদের নেই, কেবল শরীরকে শেষ করে দেয় - দুঃখের কারণে। তবুও দুঃখের জন্মই পায়। তোমরা জানো যে আমরা তো নতুন দুনিয়ার যোগ্য হয়ে উঠছি। জীবঘাত যারা করে তাদের মধ্যেও ভ্যারাইটি থাকে। যেমন কোনো কোনো স্ত্রী, স্বামী মারা গেলে সহমরণে যায়। সেটা অবশ্য আলাদা ব্যাপার। মনে করে আমি পতি লোকে যাব, কারণ সে শুনেছে বহু মানুষ তা করেছে। শাস্ত্রতেও রয়েছে পতি লোকে যায়। কিন্তু দেখা গেলো সেই পতি তো কামুক। তবুও তো এই মৃত্যুলোকেই আসতে হবে। এখানে তো জ্ঞান চিতাতে বসলে স্বর্গে চলে যাবে।

এখন তোমরা জানো যে, এই জগৎ অম্বা, জগৎ পিতা যারা স্থাপনার জন্য নিমিত্ত হয়েছেন, এরাই পরে স্বর্গে পালনকর্তা হবেন। মানুষ তো জানে না যে বিষ্ণু কুল কাকে বলে। বিষ্ণু তো হলো সূক্ষ্মলোকনিবাসী, তার কুল কীভাবে হতে পারে? এখন তোমরা জানো যে, বিষ্ণুর দুই রূপ লক্ষ্মী-নারায়ণ হয়ে সৃষ্টির পালন করেন, রাজত্ব করেন। এ হলো জ্ঞান চিতা। তোমরা যোগ লাগিয়ে থাকো সেই এক পতিদেরও পতির সাথে। তিনি হলেন শিব বাবা, তিনিই হলেন পতিদেরও পতি, পিতাদেরও পিতা। তিনিই হলেন সবকিছু। তাঁর মধ্যেই সর্ব সম্বন্ধ এসে যায়। বাবা বলেন, এই সময় তোমাদের যে সব কাকা মামা চাচা ইত্যাদি রয়েছে, তারা সবাই তোমাকে দুঃখের মতামতই দেবে। উল্টো রাস্তার আসুরিক মতই দেবে। অসীম জগতের বাবা এসে বাচ্চাদেরকে সোজা মত দেবেন। মনে করো লৌকিক বাবা বললেন কলেজে পড়ে ব্যারিস্টার ইত্যাদি হও। সেটা কি কখনো উল্টো মত হতে পারে? শরীর নির্বাহের জন্য সেটা তো একদম রাইট মত। এই পুরুষার্থ তো করতেই হবে। তার সাথে সাথে তারপর ভবিষ্যতের ২১ জন্মের শরীর নির্বাহের জন্যও পুরুষার্থ করতে হবে। পড়াশোনা করাই হয় শরীর নির্বাহের জন্য। শাস্ত্র অধ্যয়নও হয় নিবৃত্তি মার্গের লোকেদের শরীর নির্বাহের জন্য। তারা নিজের শরীর নির্বাহের জন্যই শাস্ত্র পাঠ করে থাকে। সন্ন্যাসীও শরীর নির্বাহার্থে কেউ ৫০, কেউ ১০০, কেউ হাজার টাকাও রোজগার করে। এক কাশ্মীরের রাজার মৃত্যুর পরে আর্য সমাজই তো কতো কতো টাকা পেয়েছিল। সুতরাং এ সব করেই পেটের জন্যই। সম্পত্তি ছাড়া তো সুখ হয় না । ধন থাকলে তবে মোটর গাড়ি ইত্যাদিতে ঘুরতে পারবে। আগে সন্ন্যাসীরা টাকা পয়সা নিত না। তারা জঙ্গলে চলে যেত। এই জগৎ সংসার থেকে বিরক্ত হয়েই নিজেকে সব কিছুর থেকে দূরে নিয়ে যায় । কিন্তু দূর তো হয় না। বাকি পবিত্র অবশ্যই থাকে। পবিত্রতার বল এর দ্বারাই তারা ভারতকে ধরে রাখে। এরাও ভারতকে সুখ দেয়। এরা যদি পবিত্র না থাকতো তাহলে ভারতবর্ষ টু মাচ্ বেশ্যালয় হয়ে যেত। পবিত্রতা শেখাতে পারে একমাত্র এই নিবৃত্তি মার্গের লোকেরা আর দ্বিতীয় হলো বাবা। সেটা হলো নিবৃত্তি মার্গের পবিত্রতা। এ হলো প্রবৃত্তি মার্গের পবিত্রতা। ভারতে পবিত্র প্রবৃত্তি মার্গ ছিল। আমরা দেবী-দেবতারা পবিত্র ছিলাম। এখন অপবিত্র হয়ে গেছি। পুরো অর্ধ কল্প ৫ বিকারের দ্বারা আমরা অপবিত্র হই। মায়া একটু একটু করে পুরোপুরি অপবিত্র, পতিত বানিয়ে দিয়েছে। জগতের কোনো মানুষই জানে না যে আমরা পবিত্র থেকে পতিত কীভাবে হয়ে যাই। মনে করে যে, এটা হলো পতিত দুনিয়া । মনে করো কোনো বাড়ির আয়ু হলো ১০০ বছর, তখন বলা হবে ৫০ বছর নতুন, ৫০ বছর পুরানো, ধীরে ধীরে পুরানো হতে থাকে। এই সৃষ্টিরও সেই রকমই। একদম নতুন দুনিয়া তো সুখ থাকে, তারপর অর্ধ কালে পুরানো হয়। বলাও হয়ে থাকে যে, সত্যযুগে অগাধ সুখ। এরপর পুরানো দুনিয়া হতে থাকে, তখন দুঃখ শুরু হয়। রাবণ দুঃখ দেয়। পতিত রাবণই করেছে, যার কুশপুত্তলিকাকে দহন করা হয়। এ হলো অনেক বড় শত্রু । কেউ কেউ গভর্নমেন্টের কাছে অ্যাপ্লিকেশন করেছে যে, রাবণ দহন যেন না করা হয়, অনেকের তার ফলে দুঃখ হয়। বলা হয়ে থাকে রাবণ বিদ্বান ছিল। মিনিস্টার ইত্যাদিরা কিছুই বোঝে না। এখন তোমরা জানো যে, রাবণ রাজ্য দ্বাপর থেকে শুরু হয় । ভারতেই রাবণ দহন করা হয়। বাবা বোঝান যে, দ্বাপর থেকে এই ভক্তি, অজ্ঞান মার্গ শুরু হয়। জ্ঞানের দ্বারা দিন, ভক্তির দ্বারা রাত।

এখন দেখো জগৎ অম্বার গীত গাওয়া হয়। কিন্তু তারা বুঝতে পারে না যে, তিনি সৌভাগ্য বিধাতা কীভাবে হন? (তাঁর) কত বড় মেলা বসে। কিন্তু জগদম্বা কে সেটাও তারা জানে না। বাংলায় কালীকে খুব মানে। কিন্তু জানে না যে কালী আর জগৎ অম্বার মধ্যে পার্থক্য কোথায়? জগদম্বাকে গৌর বর্ণের দেখায়, কালীকে কালো বানিয়ে দিয়েছে। জগদম্বাই লক্ষ্মী হন, তখন তিনি গৌর বর্ণের। তারপর ৮৪ জন্ম নিতে নিতে কালো হয়ে যান। তো মানুষ কতখানি বিভ্রমে রয়েছে। বাস্তবে কালী অথবা অম্বা তো একই। মানুষ কিছুই জানে না - একে বলা হয় অন্ধশ্রদ্ধা। এখন তোমরা বাচ্চারা জানো যে পাস্টে জগৎ অম্বা ছিলেন - তিনি ভারতের ভাগ্য নির্মাণ করেছিলেন। তোমরাও ভারতের সৌভাগ্য নির্মাণ করছো। মাতাদেরই মুখ্য নাম রয়েছে। সন্ন্যাসীদেরও মাতাদেরকেই উদ্ধার করতে হবে। এও নির্ধারিত রয়েছে। পরমপিতা পরমাত্মা ডায়রেক্শন দিয়েছেন এদেরকে (জ্ঞান) বাণ নিক্ষেপ করো। তোমরা হলে সীমিত জগতের সন্ন্যাসী, আমরা হলাম অসীম জগতের । আমাদেরকে বাবা রাজযোগ শেখানই তখন যখন তোমাদের হঠযোগ সম্পূর্ণ হয়। হঠযোগ আর রাজযোগ দুটোই একসাথে থাকতে পারে না। তো টাইম এখন আর বেশী বাকি নেই, খুব অল্প টাইম বাকি রয়েছে। বাবা বলেন বাচ্চারা গৃহস্থ ব্যবহারে থেকে পদ্ম ফুলের মতো হও। ব্রাহ্মণদেরকেই পদ্ম ফুলের মতো থাকতে হবে। কুমারীরা তো হলোই পবিত্র, পদ্ম ফুলের মতো। প্রত্যেকে স্বদর্শন চক্রধারী হও। (জ্ঞান) শঙ্খ বাজাও। জ্ঞান কাটারী চালাও, তাহলে তরী পার হয়ে যাবে। পরিশ্রম রয়েছে, পরিশ্রম ছাড়া এতখানি উচ্চ পদ পাওয়া সম্ভব নয়। চলতে ফিরতে সেই সুখের মাঝে থাকো। বাবাকে স্মরণ করো। অনেক সুখ দেয় যে, তারই তো স্মরণ বেশী থাকে, তাই না! এখন তোমাদেরকে স্মরণ করতে হবে অসীম জগতের বাবাকে। তাঁর পরিচয়ই (সবাইকে) দিতে হবে। বোঝাতে হবে, বলো, তুমি রাজবিদ্যা এই জন্মে পড়ে ব্যারিস্টার ইত্যাদি হবে। আচ্ছা মনে করো, পড়তে পড়তে কিম্বা পরীক্ষা পাশ করার সাথে সাথেই যদি তোমার আয়ু শেষ হয়ে যায় (মৃত্যু হয়), শরীর ত্যাগ হয়ে গেলে তখন তো পড়াশোনা এখানেই শেষ হয়ে যাবে। কেউ পরীক্ষায় পাশ করে লন্ডনে গেলো, সেখানে তার মৃত্যু হলো, তাহলে তো তার পড়াশোনারও ইতি হয়ে গেলো। সে'সব হলোই বিনাশী পড়াশোনা। এ হলো অবিনাশী পড়াশোনা। এর কখনো বিনাশ হয় না। তোমরা জানো যে, নতুন দুনিয়াতে এসে আমাদেরকে রাজত্ব করতে হবে। ওখানে হলো অল্প কালের সুখ, সেও যদি ভাগ্যে থাকে তবেই। বলা যায় না কার সময় কখন শেষ হয়ে যায়। কিন্তু এখানে হলো সার্টেন (নিশ্চিত)। পরীক্ষা শেষ হলো আর তোমরা গিয়ে ২১ জন্মের রাজ্য ভাগ্য নেবে। জাগতিক বাবা, টিচার, গুরুর থেকে সীমিত সম্পদের উত্তরাধিকারই প্রাপ্ত হয় । মনে করে গুরুর কাছ থেকে শান্তি পেলাম। আরে এখানে কখনো কি শান্তি পাওয়া যেতে পারে? অরগ্যান্স এর দ্বারা কাজ করতে করতে ক্লান্ত হয়ে যায়, তখন আত্মা শরীরের থেকে ডিট্যাচ হয়ে যায়। বাবা বলেন, শান্তি হলো তোমাদের স্বধর্ম । এগুলো হলো অরগ্যান্স, কাজ যদি করতে ইচ্ছে না হয় তবে চুপ করে বসে পড়ো। আমরা হলাম অশরীরী, বাবার সাথে যোগ যুক্ত হলে বিকর্ম বিনাশ হয়ে যায় । যদি কোনো সন্ন্যাসীর কাছ থেকে শান্তি পেলে কিন্তু তার দ্বারা তো বিকর্ম বিনাশ হবে না। এখানে বাবাকে স্মরণ করলে বিকর্মাজিত হয়ে যাবে । আচ্ছা তারা যদি শান্তিতে বসে তবে তাদের বিকর্ম বিনাশ হবে। ডবল লাভ। পুরানো বিকর্মও বিনাশ হবে। এই যোগবল ছাড়া পুরানো বিকর্ম কোনো মতেই কারো বিনাশ হওয়া সম্ভব নয়। প্রাচীন যোগ ভারতের বিষয়েই প্রখ্যাত। এর দ্বারাই জন্ম-জন্মান্তরের বিকর্ম বিনাশ হয়ে থাকে, আর কোনো উপায়েই হয় না । এখন এই লোক সংখ্যার বৃদ্ধিও বন্ধ হতে হবে। গভর্নমেন্টও চায় যাতে বেশী বৃদ্ধি না হয়। আমরা তো বৃদ্ধি এত কম করি যে, সেখানে লোক সংখ্যাও কম থাকবে, বাকি সবাই চলে যাবে। মানুষ মনেও করে যে, বিনাশ হবে কিন্তু যুদ্ধ বিবাদ বন্ধ হয়ে গেলে ভাবে কি জানি, হবে কি হবে না ভেবে নিশ্চুপ হয়ে যায়। বাবা বোঝান যে - বাচ্চারা সময় আর অল্পই বাকি, সেইজন্য গাফিলতি ক'রো না।

মিষ্টি-মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত। আত্মাদের পিতা ওঁনার আত্মা রূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।

*ধারণার জন্যে মুখ্য সারঃ-*

১ ) শরীরের থেকে ডিট্যাচ হয়ে, অশরীরী হয়ে সত্যিকারের শান্তির অনুভব করতে হবে। বাবার স্মরণের দ্বারা নিজেকে বিকর্মাজিত বানাতে হবে।

২ ) অবিনাশী প্রালব্ধ বানানোর জন্য অবিনাশী পড়াশোনার উপরে পুরোপুরি ধ্যান দিতে হবে। উল্টো মত গুলিকে বর্জন করে সঠিক মত এর উপরে চলতে হবে।


বরদানঃ-উচ্চ স্টেজে থেকে প্রকৃতির অস্থিরতার প্রভাব থেকে ঊর্ধ্বে থাকা প্রকৃতিজিৎ ভব

মায়াজিৎ তো হয়ে উঠছোই, কিন্তু এখন প্রকৃতিজিতও হও। কেননা এখন অত্যধিক প্রকৃতির অস্থিরতা হতে থাকবে। কখনো সমুদ্রের জল নিজের প্রভাব দেখাবে, তো কখনো ধরিত্রী নিজের প্রভাব দেখাবে। যদি প্রকৃতিজিৎ হবে, তবে প্রকৃতির কোনও অস্থিরতাই নাড়াতে পারবে না । সদা সাক্ষী হয়ে সব খেলাকে দেখবে। ফরিস্তাকে যেমন সদা উঁচু পাহাড়ের উপরে দেখায়, সেই রকমই তোমরা ফরিস্তারা সদা উচ্চ স্টেজে থাকো, তবে যত উঁচুতে থাকবে ততই অস্থিরতার থেকে স্বভাবতঃই উপরে উঠে যাবে।

স্লোগানঃ-নিজের শ্রেষ্ঠ ভাইব্রেশনের দ্বারা সকল আত্মাদেরকে সহযোগের অনুভূতি করানোও হলো তপস্যা।

এই মাসের সকল মুরলী (ঈশ্বরীয় মহাবাক্য) নিরাকার পরমাত্মা শিব বাবা ব্রহ্মা মুখকমল এর দ্বারা তাঁর ব্রহ্মাবৎসদেরকে অর্থাৎ ব্রহ্মাকুমার এবং ব্রহ্মাকুমারীদের সম্মুখে ১৮-০১-১৯৬৯ এর পূর্বে উচ্চারণ করেছিলেন। এগুলি হলো কেবল ব্রহ্মাকুমারীজ এর অধীকৃত টিচার বোনেদের দ্বারা নিয়মিত বি. কে. বিদ্যার্থীদেরকে শোনানোর জন্য।

No comments:

https://bkrajyogpathshala.blogspot.com/

01-04-2026 Bengali Murli

 মিষ্টি বাচ্চারা - বাচ্চারা, বাবা যা, বাবা ঠিক যেমন, তোমরা বাচ্চারাও তাঁকে নম্বর ক্রমানুসারেই চিনেছো, যদি সকলেই তাঁকে চিনে গেলে তবে তো অত্যন...