12.02.2023 BANGLA MURLI
"প্রকৃত স্নেহী হয়ে এক বাবা দ্বারা সাকারে সর্ব সম্বন্ধের অনুভব করো"
আজ বিশ্ব স্নেহী বাপদাদা নিজের অতি স্নেহী আর সদা বাবার সাথী বা সহযোগী আত্মাদের দেখছেন। চতুর্দিকের সব ব্রাহ্মণ আত্মা অবশ্যই স্নেহী, স্নেহই ব্রাহ্মণ জীবনে পরিবর্তন করেছে। তবুও স্নেহী তিন প্রকারের - এক, যারা স্নেহ করে, দুই, যারা স্নেহের দায়িত্ব পূরণ করে এবং তিন হলো যারা স্নেহে সমাহিত হয়। সমাহিত হওয়া অর্থাৎ সমান হওয়া। যারা স্নেহ করে তারা কখনো কখনো স্নেহ করে, কিন্তু করতে করতে স্নেহ কখনো খন্ডিত হয়, কখনো জুড়ে যায় সেইজন্য সময় সময়তে তাদের স্নেহ জুড়তে পুরুষার্থ করতে হয়। কারণ, বাবার সাথে সাথে তাদের স্নেহ অন্য কোথাও, হতে পারে তা' ব্যক্তির সঙ্গে অথবা প্রকৃতির সাধনের সঙ্গেও থাকে। এমনকি, তাদের সঙ্কল্প মাত্রও স্নেহ যদি আর কোথাও জুড়ে আছে, তবে বাবার প্রতি 'যারা স্নেহ করে' সেই লিস্টে এসে যায়। স্নেহের নিদর্শন হলো বিনা কোনো পরিশ্রমে স্নেহীর দিকে আপনা থেকেই স্নেহ যায়। যে স্নেহ করে সেই আত্মার সব সময়, সব স্থিতি, সব পরিস্থিতিতে আধারের অনুভব হয়। যদি সাধনের সাথে স্নেহ থাকে তাহলে সেই সময় বাবার থেকে
ও বেশি সাধনের আধার অনুভব হয় অর্থাৎ অবলম্বন খোঁজে। ওই সময় সেই আত্মার সংকল্পে বাবার স্মরণ আসেও, ভাবেও যে, বাবার স্নেহ শ্রেষ্ঠ, কিন্তু তারা এটাও ভাবে এই সাধন কিংবা ব্যক্তির আধার থাকাও আবশ্যক, সেইজন্য তাদের স্নেহ দ্বিমুখী হওয়ায় অসম্পূর্ণ হয়ে যায় আর বারবার স্নেহ জুড়তে হয়। এক বল, এক ভরসার পরিবর্তে অন্য অবলম্বন দ্বারা অল্পকালের প্রাপ্তি তার নিজের দিকে আকর্ষণ করে নেয়। এত আকর্ষণ করে যে সেটাকেই আবশ্যক বলে মনে করতে থাকে। আকর্ষণ মনে করে না, বরং অবলম্বন মনে করে। যারা এমন তাদের জন্য বলা হয়ে থাকে শুধুই স্নেহ করে।
দ্বিতীয় হলো যারা স্নেহের দায়িত্ব পালন করে। স্নেহ করার সাথে সাথে পালন করার শক্তিও আছে। পালন করা অর্থাৎ স্নেহের রেসপন্স দেওয়া, রিটার্ন দেওয়া। স্নেহের রিটার্ন হলো স্নেহী বাবা বাচ্চাদের থেকে যে শ্রেষ্ঠ আশা রাখেন সেই সকল আশা প্র্যাকটিক্যালি পূরণ করা। তো যারা পালন করে তারা প্র্যাকটিক্যালি সবকিছু করার মাধ্যমে তাদের স্নেহ প্রদর্শন করে। কিন্তু সদা বাবা সমান অর্থাৎ সমাহিত হওয়ার সেই অনুভব কখনো হয় কখনো হয় না। যারা পালন করে তারা যদিও বা সমীপ হয়, কিন্তু সমান হয় না। পালনকারীর পালনের রিটার্নে পদম্ গুন সাহস আর উৎসাহ-উদ্দীপনার সহায়তা বাবা দ্বারা বিশেষভাবে প্রাপ্ত হতে থাকে। তৃতীয়, যারা স্নেহে সমাহিত হয়ে আছে, সেই আত্মাদের নয়নে, মুখে, সংকল্পে, প্রতিটা কর্মে স্নেহী বাবার সাথ সহজভাবে আপনা থেকে সদাই অনুভব হয়। বাবা তাদের থেকে বিযুক্ত নন আর তারাও বাবার থেকে বিযুক্ত নয়। এই সময় বাবার স্নেহের রিটার্নে সর্বপ্রাপ্তিতে সম্পন্ন আর সন্তুষ্ট থাকে, সেইজন্য আর কোনো ধরনের অবলম্বন তাদেরকে আকর্ষণ করতে পারে না, কেননা, অল্পকালের কোনো না কোনো প্রাপ্তির আবশ্যকতা অন্য কাউকে অবলম্বন করে অর্থাৎ সম্পূৰ্ণ স্নেহের মধ্যে পার্থক্য গড়ে দেয়। স্নেহতে সমাহিত আত্মা সদা সর্বপ্রাপ্তি সম্পন্ন হওয়ার কারণে সহজেই 'এক বাবা দ্বিতীয় কেউ নয়' এই অনুভূতিতে থাকে। সুতরাং স্নেহী সবাই কিন্তু তিন ধরনের। এবারে নিজেকে নিজে জিজ্ঞাসা করো আমি কে? নিজেকে জানতে পারো তো না। স্নেহী আছেন তবেই স্নেহের কারণে ব্রাহ্মণ জীবনে চলছ। কিন্তু স্নেহের সাথ পালন করার শক্তির ক্ষেত্রে নম্বরক্রম হয়ে যায়। স্নেহের সাথে শক্তিও আবশ্যক। যার মধ্যে স্নেহ আর শক্তির ব্যালেন্স আছে, সেই বাবা সমান হয়। এই রকম সমাহিত হওয়া আত্মাদের এটাই অনুভব হবে যে, বাবার স্নেহ থেকে দূরে থাকা মুশকিল। সমাহিত হওয়া সহজ, দূরে হওয়া মুশকিল। কারণ সমাহিত আত্মাদের জন্য এক বাবাই সংসার।
সংসারে আকর্ষণ করে দুটো বিষয় - এক, ব্যক্তির সম্বন্ধ আর দুই বিভিন্ন বৈভব বা সাধনের দ্বারা প্রাপ্তি হওয়া। সুতরাং সমাহিত আত্মার সর্বসম্বন্ধের রসের অনুভব এক বাবা দ্বারা সদাই হয়। সর্বপ্রাপ্তির আধার এক বাবা, না বৈভব কিংবা সাধন। বৈভব অথবা সাধন রচনা আর বাবা রচয়িতা। যাদের আধার রচয়িতা, রচনা দ্বারা অল্পকালের প্রাপ্তি তাদের স্বপ্ন মাত্রও, এমনকি সঙ্কল্পেও হতে পারে না। বাচ্চাদের স্থিতি দেখে বাপদাদারও হাসি আসে, কেননা, আশ্চর্য তো কেউ বলতে পারবে না, ফুলস্টপ দিতে হবে। চলতে-চলতে বীজকে ছেড়ে ডালপালাতে আকৃষ্ট হয়ে যায়। কেউ অন্য আত্মাকে আধার বানিয়ে নেয়, কেউ সাধনকে আধার বানিয়ে নেয়। কারণ বীজের রূপ-রঙ সুন্দর হয় না আর ডালপালার রূপ-রঙ বড়ই মনোহারী হয়। দেহধারীর সম্বন্ধের আধার দেহবোধে সহজে অনুভব হয় আর বাবার আধার দেহবোধের ঊর্ধ্বে হ'লে অনুভব হয়। দেহবোধে আসার অভ্যাস তো আছেই, না চাইতেও এই বোধ হতে পারে সেইজন্য দেহধারীর সম্বন্ধের আধার অথবা অবলম্বন সহজে অনুভব হয়। বোঝেও এটা ঠিক নয়, তবুও অবলম্বন বানিয়েই নেয়। বাপদাদা দেখে মৃদু মৃদু হাসতে থাকেন। সেই সময়ের স্থিতি হাস্যকর। যেমন তোমরা ক্লাসের মধ্যে অথবা ভাষণে এক তোতার কাহিনী শুনিয়ে থাকো - তাকে মানা করা হয়েছিল কলের উপরে না বসতে, কিন্তু সে কলের উপরে বসেই বলছিল। ঠিক সেভাবে বাচ্চারাও সেই সময় নিজের মনের মধ্যে এটাই ভাবতে থাকে, 'এক বাবা, দ্বিতীয় কেউ নয়', বারবার নিজের সাথে নিজে রিপিটও করতে থাকে কিন্তু সেইসঙ্গে আবার এটাও ভাবে স্থূলভাবে তো অবলম্বন দরকার। তো সেই সময় হাসি আসবে তো না, আর সেই সময় আবার মায়া চান্স নেয়। বুদ্ধিকে এমনভাবে পরিবর্তন করবে যে মিথ্যা আশ্রয়কেই সত্য অনুভব হবে। যেমন আজকাল সত্যের থেকেও মিথ্যা ভালো লাগে। সেরকমই সেই সময় রং, রাইট বলে অনুভব হয়। আর সেই রং বিষয়, মিথ্যা আশ্রয়কে মজবুত করার জন্য অথবা মিথ্যাকে সত্য প্রমান করতে, যেভাবে কোনও দুর্বল স্থান হলে তাকে শক্তপোক্ত করার জন্য পিলার লাগানো হয়ে থাকে, তো মায়াও দুর্বল সঙ্কল্পকে মজবুত বানানোর জন্য অনেক রয়্যাল পিলার লাগায়। কোন পিলার লাগায়? মায়া এই সঙ্কল্পই দেয়, এই রকম তো হয়ই। অনেক বড়-বড়োরাও এমনই করে, এইভাবেই চলে, কিংবা বলে আমরা তো এখনও পুরুষার্থী, সম্পূর্ণ তো হইনি, সুতরাং অবশ্যই কোনো না কোনো দুর্বলতা থাকবেই, পরে আরও অগ্রগতিতে সম্পূৰ্ণ হয়ে যাবো - এরকম এরকম ব্যর্থ সঙ্কল্প রূপী পিলার দুর্বলতাকে শক্তিশালী করে তোলে। সুতরাং এইভাবে পিলারের আধার নেওয়া উচিত নয়। সময়কালে এই আর্টিফিশিয়াল পিলার ঠকিয়ে দেয়। এক বাবা সদা সর্ব সম্বন্ধের সহায় থাকবেন, এই অনুভব তোমরা কম করো। সর্ব সম্বন্ধের এই অনুভবকে বাড়াও। সর্ব সম্বন্ধের অনুভূতি কম হওয়ার কারণে কোথাও না কোথাও অল্পকালের সম্বন্ধ জুড়ে যায়। স্থূল জীবনেও স্থূল রূপের সহায়ক এবং সব পরিস্থিতিতে স্থূল রূপের সহযোগ দেওয়ার সহায়ক বাবা। এই অনুভব আরও বাড়াও। এরকম নয় যে, বাবা তো সূক্ষ্মভাবেই সহযোগ দিয়ে থাকেন। তিনি নিরাকার, আকার, সাকার তো হন না, কিন্তু সব সম্বন্ধকে সাকার রূপে অনুভব করতে পারো। সাকার স্বরূপে সাথের অনুভব করতে পারো। এই অনুভূতিকে গভীরভাবে বুঝতে হবে এবং নিজেকে এতে শক্তিশালী করো। তখন ব্যক্তি, বৈভব এবং সাধন নিজের দিকে আকর্ষণ করবে না। সমুদয় সাধনকে নিমিত্ত মাত্র কার্য-ব্যবহারে আনা অথবা সাক্ষী হয়ে সেবার জন্য কার্যে প্রয়োগ করা - এমন অনুভূতি বাড়াও। সেগুলোকে তোমাদের অবলম্বন বানিও না, নিমিত্ত মাত্র হোক। একে বলা হয়ে থাকে স্নেহে সমাহিত হওয়া সমান আত্মা। সুতরাং নিজে থেকে ভাবো আমি কে! বুঝেছ? আচ্ছা!
সদা স্নেহে সমাহিত হওয়া সমান আত্মাদের, সদা এক বাবার সাথে সর্ব সম্বন্ধের অনুভবকারী আত্মাদের, সদা এক বাবাকে আধারমূর্ত, প্রকৃত সহায় অনুভবকারী আত্মাদের, সদা রচয়িতা বাবা দ্বারা সর্বপ্রাপ্তি অনুভবকারী আত্মাদের, সদা সহজভাবে আপনা থেকে 'এক বল, এক ভরসা' অনুভবকারী প্রকৃত স্নেহী আত্মাদের বাপদাদার স্মরণ-স্নেহ আর নমস্কার।
দাদীদের সাথে সাক্ষাৎকার:-
সদা সমাহিত হয়ে আছ নাকি স্মরণ করার পরিশ্রম করতে হয়? এক বাবা ব্যতীত আর কাউকে তোমরা দেখতে পাও না। যখন কাহিনী শোনো, হাসি আসে তো না। কাহিনী যতক্ষণ চলে ততক্ষণ তাদের বোধগম্য হয় না, আর যখন কাহিনী সমাপ্ত হয় তারা ভাবে এটা কি হলো? এমনকি, তারা এটাও ভাবে আমি ছিলাম নাকি আর কেউ ছিল, কারণ সেই সময় তারা পরবশ হয়, তাই না। যে পরবশ হয় তখন তার নিজের হুঁশ থাকে না। যখন নিজের হুঁশ আসে তখন আবার এগিয়ে যাওয়ার উৎসাহ আসে। আচ্ছা, সংগঠন বর্ধিত হচ্ছে আর বর্ধিত হতেই থাকবে। আর তোমরা নিমিত্ত আত্মারা এই সব খেলা দেখে উৎফুল্ল হতে থাকো। সবাই চলছে, কেউ চলছে কেউ উড়ছে আর তোমরা কী করো? উড়তে উড়তে তোমাদের সাথে অন্যদেরও উড়াচ্ছ, কেননা দয়াময় বাবার দয়াময় আত্মা হয়ে গেছ, তো দয়া হয় তো না। ঘৃণা আসে না বরং দয়া হয়। আর এই দয়াই হৃদয়ের ভালোবাসার কাজ করে। আচ্ছা, যা চলছে ভালো থেকেও ভালো চলছে। অক্লান্তভাবে সেবা করছ তো না। নিমিত্ত আত্মাদের অক্লান্তভাব দেখে সবার মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা থাকে, তাই না।
অব্যক্ত বাপদাদার পার্সোনাল সাক্ষাৎকার -
"সাধারণ হওয়া সমাপ্ত করে বিশেষত্বের সংস্কার ন্যাচারাল আর তোমাদের নেচার বানাও"
যারা সদা সঙ্গমযুগের রূহানী আনন্দে থাকে তেমন অনুভব করো নিজেকে? আনন্দে থাকো নাকি কখনো আনন্দে কখনো বিভ্রান্তিতেও থাকো নাকি সদা পরমানন্দে থাকো? তোমাদের অবস্থা কি? কখনো এমন কোনো পরিস্থিতি যদি এসে যায় কিংবা কোনো পরীক্ষা যদি এসে যায় তাহলে বিভ্রান্ত হও? (অল্প টাইমের জন্য) আর সেই অল্প টাইমে যদি তোমার মৃত্যু এসে যায় তাহলে তখন কী হবে? অকালে মৃত্যুর সময় তো না! সুতরাং অল্প সময়তেও যদি আনন্দের পরিবর্তে বিভ্রান্ত হও আর সেই সময় অন্তিম মুহূর্ত এসে যায় তবে 'অন্তিম কালে যেমন মতি তেমনই গতি' কী হবে? এইজন্যই, নিরন্তর শুনতে থাকো তো না - সদা এভাররেডি! এভাররেডির অর্থ কী? প্রতিটা মুহূর্ত এরকম এভাররেডি কি হয়েছ? কোনোও সমস্যা তোমাদের সম্পূর্ণ হওয়ার ক্ষেত্রে যেন বিঘ্নরূপ না হয়! অন্ত যদি ভালো হয় তাহলে ভবিষ্যৎ আদিও ভালো হয়। সুতরাং এভাররেডির পাঠ সেইজন্য পড়ানো হচ্ছে। এমন ভেবো না যে, অল্প সময়ের জন্য হয়, কিন্তু অল্প সময়ও এমনকি, এক সেকেন্ডও তোমাদের ঠকিয়ে দিতে পারে। সাধারণতঃ, তোমরা ভাবো বেশি টাইম চলে না, এরকম দু'-চার মিনিটই চলে কিন্তু এক সেকেন্ডও ধোঁকাবাজ হতে পারে, সুতরাং মিনিটের কথা তো ভেবোই না। কেননা, তোমরা সবচাইতে ভ্যাল্যুয়েবল আত্মা, তোমরা অমূল্য! অমূল্য আত্মাদের তুল্যমূল্য দুনিয়ার কোনও আত্মার সাথে হতে পারে না। দুনিয়ার লোকে তো তোমাদের সাধারণ মনে করবে। কিন্তু তোমরা সাধারণ নও, বিশেষ আত্মা। বিশেষ আত্মার অর্থই হলো তারা যে কর্ম করবে, যে সঙ্কল্পই করবে, যে বোলই বলবে, সেই প্রতিটা বোল আর প্রতিটা সঙ্কল্প বিশেষ, সাধারণ হবে না। সময়ও যেন সাধারণ নিয়মানুসারে অতিবাহিত না হয়। প্রতিটা সেকেন্ড আর প্রতিটা সঙ্কল্প বিশেষ হোক। একে বলা হয়ে থাকে বিশেষ আত্মা। তো বিশেষ করতে করতে সাধারণ না হয়ে যায়, সেটা চেক করো। কেউ কেউ ভাবে যে, কোনো ভুল করিনি, কোনো পাপকর্ম করিনি, বাণী দ্বারাও এমন কোনো
ভুল বা তুচ্ছ শব্দ বলিনি, কিন্তু ভবিষ্যৎ আর বর্তমান কী শ্রেষ্ঠ বানিয়েছ? খারাপ করনি, কিন্তু ভালো করেছ? শুধু এটা চেক ক'রো না যে খারাপ কিছু করনি, কিন্তু খারাপের জায়গায় ভালো থেকেও ভালো করেছ নাকি সাধারণ হয়ে গেছে? তো এইরকম বৈশিষ্ট্যবর্জিত হতে দিও না, শ্রেষ্ঠ হোক। লোকসান হয়নি, কিন্তু সঞ্চয় হয়েছে? কেননা, সঞ্চয় করার সময় এখন তো না। এখনের সঞ্চয় ভবিষ্যত অনেক জন্ম খেতে থাকবে। তো যত সঞ্চয় হবে ততই খাবে, তাই না। যদি কম জমা করো তো কম খেতে হবে অর্থাৎ প্রালব্ধ কম হবে। কিন্তু লক্ষ্য হলো শ্রেষ্ঠ প্রালব্ধ পাওয়ার, নাকি সাধারণ যদি হয়েও যায় তো কোনও ক্ষতি নেই? স্বর্গে তো এসেই যাবো, দুঃখ তো সেখানে থাকবে না, সাধারণ যদি বা হই ক্ষতি কী....? ক্ষতি হবে, নাকি এইরকম চলবে? সুতরাং চেক করো, প্রতিটা সেকেন্ড, প্রতিটা সঙ্কল্প বিশেষ হবে। যেমন, অর্ধ কল্পের দেহবোধের অভ্যাস না চাইতেও ন্যাচারালি চলতে থাকে, দেহ অভিমানে আসা ন্যাচারাল হয়ে গেছে, তেমনই দেহী অভিমানী অবস্থা যেন ন্যাচারাল আর নেচার হয়ে যায়। সুতরাং যা নেচার হয় তা' আপনা থেকেই নিজের কাজ করে, ভাবতে হয় না, তৈরি করতে হয় না, কোনকিছু করতে হয় না, বরং আপনা থেকেই হয়ে যায়। অতএব, এমন বিশেষত্বের সংস্কার যেন তোমাদের নেচার হয়ে যায় এবং প্রত্যেকের হৃদয় থেকে যেন বের হয়। এমন নয় যে, এটা আমার নেচার; এটা আমার নেচার নয়। প্রত্যেকের মুখ থেকে, মন থেকে এটাই যেন বের হয় যে, আমার নেচারই বিশেষ আত্মার বিশেষত্বের। এরকমই তো, নাকি পরিশ্রম করতে হয়? যেটা নেচার হয় তা'তে পরিশ্রম হয় না। কারও নেচার মনোমুগ্ধকর, তো আপনা থেকেই তারা মনকে মুগ্ধ করে, তাই না। সে জানতেও পারবে না যে সে কি করেছে! কেউ যদি বলে তবুও বলবে যে, আমি কী করবো, এটা আমার নেচার। তো এমন বিশেষত্বেরও নেচার যেন হয়ে যায়। কেউ যদি জিজ্ঞাসা করে তোমার নেচার কী? তখন সবার হৃদয় থেকে যেন বের হয় আমার নেচারই বিশেষত্বের। সাধারণ কর্মের সমাপ্তি হয়ে গেছে, কেননা, তোমরা মরজীবা হয়ে গেছ তো না। সাধারণত্ব থেকে তোমরা মরে গেছ, আর বিশেষত্বে বেঁচে আছ ( বিশেষ বৃত্তিকে বহন করছ) মানে নতুন জন্ম হয়ে গেছে। সুতরাং সাধারণত্ব পাস্ট জন্মের নেচার, এখনের নয় কারণ নতুন জন্ম নিয়ে নিয়েছ। অতএব, নতুন জন্মের নেচার হলো বিশেষ বৃত্তি (বিশেষত্ব), এই রকম অনুভব হবে। তাহলে, এখন কী করবে? সাধারণ-সাধারণের সমাপ্তি। সঙ্কল্পেও সাধারণত্ব নয়।
মাতারা আনন্দে থাকো? যতই কেউ বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করুক তোমরা আনন্দে থাকো। বিভ্রান্তকারী বিভ্রান্ত হয়ে যাবে, কিন্তু তোমরা বিভ্রান্ত হয়ো না, কারণ অ-জ্ঞানীদের কাজই হলো বিভ্রান্ত করা আর জ্ঞানীদের কাজ হলো আনন্দে থাকা। সুতরাং তারা নিজের কাজ করুক আর তোমরা নিজের কাজ করো। সদা আনন্দের অনুভব করো, তবেই তো গর্বের সাথে বলতে পারবে। হ'লে তবেই তো বলতে পারবে, তাই না? হবে না তো বলতেও পারবে না। চ্যালেঞ্জ করতে পারো বিভ্রান্ত যে হয় সে আমি নই, আমি বিশেষ আত্মা। কী স্মরণ করবে? পরমানন্দে থাকা আমি বিশেষ আত্মা। এমনই মনোবলের তুমি, তাই তো না। মানসিক বলবানদের আপনা থেকেই সহায়তা লাভ হয়। আচ্ছা।
*বরদানঃ-* সহজ বিধির দ্বারা বিধাতাকে আপন বানিয়ে ভাগ্যের সমুদয় ভান্ডারে ভরপুর ভব
ভাগ্যবিধাতাকে আপন বানানোর বিধি - বাবা আর দাদা উভয়ের সাথে সম্বন্ধ। কোনো কোনো বাচ্চা বলে, আমাদের তো ডাইরেক্ট নিরাকারের সাথে কানেকশন, সাকারও তো নিরাকারের থেকে পেয়েছেন, আমরাও তাঁর থেকে সবকিছু প্রাপ্ত করবো। কিন্তু এটা খন্ডিত চাবি, ব্রহ্মাকুমার ব্রহ্মাকুমারী হওয়া ব্যতীত ভাগ্য তৈরি হতে
পারে না। সাকার বিনা ভাগ্যের সমুদয় ভান্ডারের মালিক হতে পারবে না, কারণ ভাগ্যবিধাতা ভাগ্য বিলি করেনই ব্রহ্মা দ্বারা। সুতরাং বিধি জেনে ভাগ্যের সমগ্র ভাণ্ডারে পরিপূর্ণ হও।
*স্লোগানঃ-* নিজের কাছ থেকে, সেবা থেকে, সকলের থেকে সন্তুষ্টতার সার্টিফিকেট নাও, তবেই সিদ্ধিস্বরূপ হবে।
No comments:
Post a Comment