07.02.2023 BANGLA MURLI
"মিষ্টি
বাচ্চারা - এখন তোমরা নিরাকারী মত প্রাপ্ত করছো, গীতা যে নিরাকারী মতের শাস্ত্র, সাকারী
মতের নয় - একথা প্রমাণিত করো"
*প্রশ্নঃ - কোন্ গূহ্য বিষয় অত্যন্ত যুক্তিসহকারে শুধুমাত্র
ফার্স্টক্লাস বাচ্চারাই বুঝিয়ে দিতে পারে?
*উত্তরঃ - এখন যিনি ব্রহ্মা, পরে তিনিই শ্রীকৃষ্ণ হয়ে
থাকেন। ব্রহ্মাকে প্রজাপিতা বলা হয় কিন্তু শ্রীকৃষ্ণকে নয়। নিরাকার ভগবান, ব্রাহ্মণদের
রচনা করেছেন ব্রহ্মার মুখের দ্বারা । শ্রীকৃষ্ণ তো ছোট শিশু মাত্র। গীতার ভগবান হলেন
নিরাকার পরমাত্মা। শ্রীকৃষ্ণের আত্মা পুরুষার্থ করে এই প্রালব্ধ পেয়েছে। এ হলো অত্যন্ত
গূহ্য বিষয় - যা শুধুমাত্র ফার্স্টক্লাস বাচ্চারাই যুক্তিসহকারে বুঝিয়ে দিতে পারে।
সর্বশক্তি প্রয়োগ করে (২০ নখের) জোর লাগিয়ে এই কথাটিকে প্রমাণিত করো, তবে সেবাতে সফলতা
পাবে।
*গীতঃ- কে এলো আজ আমার মনের দ্বারে...
ওম্ শান্তি
। বাচ্চারা এ'কথা শুনেছে যে এই চোখ তাকে জানতে পারে না, কাকে? ভগবানকে। এই (চর্ম) চোখ
তো শ্রীকৃষ্ণকে জানতে পারে। কিন্তু তা দিয়ে ভগবানকে জানা যায় না। শুধুমাত্র আত্মাই
পরমাত্মাকে চিনতে পারে, জানতে পারে। আত্মা এ'কথা স্বীকার করে যে আমাদের পরমপিতা পরমাত্মাও
নিরাকার। যেহেতু তিনি নিরাকার, এই চর্মচক্ষু দিয়ে তাঁকে দেখা যায় না, তাই তাঁর স্মৃতি
মনে স্থায়ী হয় না । নিরাকারী পিতা তাঁর নিরাকারী সন্তানদেরকে (আত্মাদেরকে) এ কথা
বলেন। তোমরা এখন নিরাকারী মত পেয়ে থাকো। গীতা হল নিরাকারী মতের শাস্ত্র, তা সাকারী
মত এর নয়। গীতা তো ধর্মশাস্ত্র। ইসলাম এবং অন্যান্য সকল ধর্মাবলম্বীদেরও ধর্মশাস্ত্র
আছে। ইব্রাহিম যে বাণী উচ্চারণ করেছিলেন, বুদ্ধ, খ্রাইস্ট - এরা সকলেই যে বাণী উচ্চারণ
করেছিলেন সে'সব লিপিবদ্ধ হয়েছে তাদের তাদের ধর্মশাস্ত্র গুলিতে। এঁদের সকলের চিত্র
রয়েছে। সর্বশাস্ত্রের শিরোমণি গীতার ক্ষেত্রে মানুষ শ্রীকৃষ্ণের চিত্র দেখিয়েছে।
কিন্তু বাবা বলেন এটা ঠিক নয়। বাবা বলেন - গীতা তো আমি উচ্চারণ করেছি, আমি রাজযোগ
শিখিয়েছি এবং স্বর্গের স্থাপনা করেছি, আমি নিরাকার পরমপিতা পরমাত্মা। আমি হলাম সমস্ত
আত্মাদের পিতা এবং এই মনুষ্য সৃষ্টির বীজরূপও আমিই। আমাকে বৃক্ষপতি বলা হয়, শ্রীকৃষ্ণকে
বৃক্ষপতি বলা হয় না। পরমপিতা পরমাতাই এই মনুষ্য সৃষ্টির বীজরূপ এবং ক্রয়েটর। শ্রীকৃষ্ণকে
ক্রয়েটর বলা যাবে না। তিনি তো শুধুমাত্র দৈবী গুণ সম্পন্ন এক মানব । ভগবান শুধুমাত্র
একজনই। শ্রীকৃষ্ণকে সকলের পরমাত্মা বলা হয় না। বাবা বলেন আমি ৫ হাজার বছরের পর কল্পের
সঙ্গমে আসি। আমিই এই সমগ্র সৃষ্টির পিতা, আমাকে গডফাদার বলা হয়। শ্রীকৃষ্ণের নাম থাকলে
পরমপিতা পরমাত্মাকে জানতে পারবেনা - এখানেই সবচেয়ে বড় ভুলটা করেছে। গীতার মাধ্যমে
আদি সনাতন দেবী-দেবতা ধর্ম আমিই স্থাপন করেছি। আমাকেই বলা হয়ে থাকে রুদ্র ভগবান বা
শিব ।আর কোনো সূক্ষ্ম দেহ ধারণকারী দেবতাকে অথবা মানুষকে ভগবান বলা যায় না। লক্ষ্মী-নারায়ণাদি
কোনো দেবতাকে কখনো পরমাত্মা বলা যায় না। বলা হয় পরমাত্মা তো একজনই। যখন বলা আছে,
ভগবানুবাচ - তবে অবশ্যই ভগবান এসেছিলেন এবং এসে রাজযোগ শিখিয়েছিলেন। বাবা বলেন - পূর্বকল্পেও
আমি বাচ্চাদেরকে এ'কথা বলেছিলাম । শ্রীকৃষ্ণ কখনোই বাচ্চা বাচ্চা বলে আহ্বান করতে পারে
না। পরমপিতা পরমাত্মাই সকলকে বাচ্চা বলে সম্বোধন করেন। বাচ্চারা, তোমাদেরকে আমি পূর্বকল্পেও
বলেছিলাম যে - দেহী অভিমানী হও, আমি নিরাকার, আমাকে নিজের পিতা তথা ভগবান জেনে নাও।
প্রজাপিতা ব্রহ্মা হলেন পিতা, কারণ ভগবান এসে ব্রহ্মার দ্বারা এই ব্রাহ্মণ ব্রাহ্মণীদের
রচনা করেন। শ্রীকৃষ্ণ প্রজাপিতা নয়। ভগবান বলেন, আমি ব্রহ্মার মুখের মাধ্যমে ব্রাহ্মণ
ব্রাহ্মণীদেরকে রচনা করি। এই ব্রহ্মাই পরে শ্রীকৃষ্ণ হিসেবে জন্মগ্রহণ করেন, এ কতখানি
গূঢ় বিষয়! এ'কথা বোঝানোর জন্য অত্যন্ত যুক্তির প্রয়োজন। ফার্স্টক্লাস ব্রাহ্মণীরাই
এই কথা বোঝাতে পারে। বাবা বলেন খুব ভালো কোনো ছেলে বা মেয়ে এ কথা প্রমাণিত করতে পারে
যে, গীতার ভগবান হলেন নিরাকার পরমাত্মা। যিনি গীতার রচনা করেছেন, তিনি বাচ্চাদেরকে
রাজযোগ শিখিয়েছেন আর স্বর্গের রচনা করেছেন। নিশ্চয়ই উঁচুর থেকেও উঁচু বাবাই এসে সকলকে
রাজযোগ শিখিয়েছেন। শ্রীকৃষ্ণ তো প্রালব্ধ প্রাপ্ত করেছিল। পরমপিতা পরমাত্মা হলেন প্রালব্ধ
প্রদানকারী । শ্রীকৃষ্ণ তো তাঁরই সন্তান। শ্রীকৃষ্ণের আত্মা পুরুষার্থ করে এই প্রালব্ধ
প্রাপ্ত করেছে। যিনি পুরুষার্থ করিয়েছেন, তাঁর নাম গীতা থেকে সরিয়ে দিয়ে বরং পুরুষার্থ
করে প্রালব্ধ প্রাপ্তকারী শ্রীকৃষ্ণের নাম রেখে গীতাকে খন্ডন করে দিয়েছে।
সার্ভিসকে বাড়ানোর
জন্য বাচ্চাদেরকে তাদের সর্বশক্তি প্রয়োগ করতে হবে। গীতা কার বাণী? গীতার মাধ্যমে
কে, কোন্ ধর্ম স্থাপন করেছিলেন? এই একটি কথার মাধ্যমে যখন তোমরা সবাইকে ভালোভাবে বোঝাবে,
তখন তোমাদের জয়লাভ হবে। পরমপিতা পরমাত্মার দ্বারাই তোমরা স্বর্গের মালিক হও, শ্রীকৃষ্ণের
দ্বারা নয়। অতএব এই বিষয়ের ওপরে ভালোভাবে চর্চা করতে হবে। সমস্ত শাস্ত্র গ্রন্থ ইত্যাদি
হলো গীতার সন্তান। সুতরাং সন্তানদের থেকে কখনো উত্তরাধিকার প্রাপ্ত হয় না, উত্তরাধিকার
তো অবশ্যই পিতাই দেবেন। কাকা, চাচা, মামা, গুরু ইত্যাদি কারোর থেকেই উত্তরাধিকার পাওয়া
যায় না। অসীম জগতের পিতার কাছ থেকেই অসীম উত্তরাধিকার প্রাপ্ত হয়। এ কথা এত স্পষ্ট
রূপে লিখতে হবে যাতে প্রত্যেকেই উপলব্ধি করতে পারে যে গীতার খন্ডন করা হয়েছে। গীতার
মান খন্ডিত হয়েছে, সেইজন্যই ভারত কাঙাল হয়ে গেছে। এখন তার কানাকড়িরও দাম নেই। এমন
ভাবে লেখো - ভারতকে স্বর্গ কে বানিয়েছে? স্বর্গ কোথায় আছে? কলিযুগের পরে যদি সত্যযুগ
আসবে, তাহলে সেই যুগের স্থাপনা অবশ্যই সঙ্গমেই হওয়া উচিত। শিব ভগবানুবাচ - আমি কল্প
কল্প ধরে শুধুমাত্র এই সঙ্গম যুগেই আসি, পবিত্র দুনিয়া গড়ে তুলতে । এমনভাবে প্রমাণ
করো, যাতে সকলেই বুঝতে পারে যে - শ্রীকৃষ্ণ নয়, শিব পরমাত্মাই সকলকে দুঃখ থেকে লিবারেট
করতে এসেছেন। যে বুঝে যাবে যে গীতার ভগবান প্রকৃতপক্ষে কে, সেই এসে পুষ্প বর্ষণ করবে।
সকলে বুঝবে না, যে বুঝতে পারবে সে ফুলের মতো ফুটে উঠে নিজেকে সমর্পণ করবে। বাবাকে যখন
কোনো ফুল দেওয়া হয়, তখন বাবা বলেন, আমার এমন ফুলের মতো সন্তান চাই। যারা কাঁটা হয়ে
এসে আমার কাছে নিজেদেরকে সম্পূর্ণ সঁপে দেয়, তখন আমি তাদেরকে ফুলের মতো সুন্দর করে
তুলি। বাবুলনাথ তো আমারই নাম। বাবলা গাছের কাঁটাকে সুন্দর ফুলে রূপান্তরিত তো আমিই
করে থাকি। শ্রীকৃষ্ণ তো নিজেই একটি সুন্দর ফুল। ওখানে রয়েছে গার্ডেন অফ আল্লাহ আর
এখানে রয়েছে ডেভিল'স ভরেস্ট। বাবা একে ডীটি গার্ডেন করে তোলেন । তোমরাই নতুন দুনিয়ার
মালিক হও। লক্ষ্মী-নারায়ণের দৈবী রাজত্বের কথা কথিত আছে। কখনো বলা হয় না যে - ব্রাহ্মণ
বংশের রাজত্ব। এ হলো ব্রাহ্মণ বংশ। পরমপিতা পরমাত্মা প্রজা রচনা করেছেন, ব্রহ্মার মাধ্যমে
- তাই ব্রহ্মাকে প্রজাপিতা বলা হয়। শিব বাবাকে অথবা শ্রীকৃষ্ণকে প্রজাপিতা বলা হয়
না। কৃষ্ণের উপরে কলঙ্ক লেপন করা হয়েছে যে - তাঁর ১৬১০৮ জন রানী ছিল। সে তো প্রজাপিতা
ব্রহ্মা এত সংখ্যক সন্তান সন্ততীদের (ব্রাহ্মণ এবং ব্রাহ্মণী) জন্ম দিয়েছেন।
এক পরমপিতা
পরমাত্মাই হলেন জ্ঞানের সাগর। পাপের দন্ড ধর্মরাজ দেন। প্রেসিডেন্টকেও প্রধান বিচারপতির
সামনে শপথ গ্রহণ করতে হয়। রাজাকে কখনো কারোর কাছে শপথ নিতে হয় না, কারণ রাজা বানান
স্বয়ং ভগবান । সেখানে হলো স্বল্পকালের জন্য। এখানে তো বাবা আমাদেরকে ২১ জন্মের জন্য
রাজ্য-ভাগ্য দেন। ওখানে শপথ গ্রহণ করার কোনো ব্যাপারই নেই। এই বৃক্ষ হল মনুষ্য সৃষ্টি
রূপী বৃক্ষ, কোনো বুনো গাছ নয়। পরম পিতা পরমাত্মাকে বৃক্ষপতি বলা হয়ে থাকে, শ্রীকৃষ্ণ
এই বৃক্ষের রহস্য বলতে পারেন না। শুধুমাত্র বৃক্ষপতিই নিজে তা বুঝিয়ে দিতে পারেন।
নর থেকে নারায়ণ বানাতে পারেন একমাত্র বাবা, শ্রীকৃষ্ণ নয়। প্রধানত ৪টি ধর্ম শাস্ত্র
রয়েছে, বাকি সবই হল লোকগল্পকথা। সর্বপ্রথম কোন্ ধর্ম স্থাপন হয়েছিল আর কার দ্বারা
স্থাপন হয়েছিল ? স্বর্গে ছিল দেবী দেবতা ধর্ম, অবশ্যই তা বাবাই রচনা করেছেন। বাবা,
পুরাতন দুনিয়া থেকে লিবারেট (মুক্ত, উদ্ধার) করেন কারণ এই পুরাতন দুনিয়া দুঃখে ভরা।
এখানে সকলে ত্রাহী ত্রাহী করতে থাকে। বাবার থেকে স্বর্গের উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করতে
হলে তা এখনই নাও। কোনো সাধারণ মানুষ এই উত্তরাধিকার দিতে পারে না। বাচ্চাদের সর্বপ্রাপ্তি
করাতে পারেন একমাত্র পিতা। অসীম জগতের বাবাই বাচ্চাদেরকে স্বর্গের মালিক করে তুলতে
পারেন। এরকমভাবে সকলকে বোঝাতে হবে। যেমন শিকারীরা যখন কাউকে শিকার করায়, তখন শিকার
করবার সকল প্রস্তুতি তৈরী করে শিকারকে সামনে নিয়ে আসে তারপর সেই ব্যক্তি শিকার করে।
এখানেও তেমন মাতাদেরকে দিয়ে শিকার করাতে হবে। বাবা বলেন মাতাদের সামনে শিকারকে নিয়ে
এসো । মাতারা তো অনেকেই আছেন । শুধু একটি নাম চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ে যে, তোমরা হলে
শক্তি সেনা । শক্তি রাজত্ব বা শক্তি বংশ বলা হয় না। শক্তিসেনার প্রধান হলেন জগদম্বা,
কালী, সরস্বতী। এছাড়া চন্ডিকা ইত্যাদি অনেক রকম উল্টোপাল্টা নাম রাখা হয়েছে। সুতরাং
বাচ্চারা, তোমাদেরকে এই সমস্ত বিষয় স্পষ্ট রূপে বুঝিয়ে দিতে হবে যে, সবার উপরে হলেন
ভগবান, তারপর ব্রহ্মা বিষ্ণু শংকর। প্রজাপতি ব্রহ্মার কন্যা হলেন সরস্বতী। তাঁকে বলা
হয় বিদ্যার দেবী। সুতরাং তাঁর সন্তানদেরকেও নিশ্চয়ই বিদ্যার দেবী বলা হবে। অন্তিমে
তোমাদেরই বিজয় হবে। কেউ কেউ গীতার থেকেও বেদ গ্রন্থকে অধিক সম্মান করে। তা সত্ত্বেও
গীতার প্রভাব অনেক বেশি। বাবা বলেন আমি তো আসি এই সঙ্গম যুগেই। শ্রীকৃষ্ণের এই চিত্র
হল সঙ্গম যুগেরই। তারপর ৮৪ জন্মে রূপ পরিবর্তিত হতে থাকে। জ্ঞানী আত্মা তখনই হতে পারবে
যখন পরমপিতা পরমাত্মা এসে আত্মার জ্ঞান দেবেন। পরমপিতা পরমাত্মা হলেন জ্ঞানের সাগর।
তাঁর দ্বারাই তোমরা জ্ঞানী আত্মা হয়ে ওঠো। বাকি সকলেই ভক্ত আত্মা। বাবা বলেন - জ্ঞানী
তু আত্মাই আমার প্রিয়। সকল মহিমা হলো গীতারই । ধ্যানীর থেকে জ্ঞানী শ্রেষ্ঠ। ট্রান্সকে
ধ্যান বলা হয়, কিন্তু যোগ হলো বাবার সাথে যোগযুক্ত হওয়া। ধ্যানে বসলে কোনো লাভ নেই।
বাবা বলেন
- আমি রাজযোগ শিখিয়েছিলাম। শ্রীকৃষ্ণকে আমিই প্রালব্ধ দিয়েছিলাম। নিশ্চয়ই পূর্ব
জন্মে অনেক পুরুষার্থ করেছিল। সমগ্র সূর্যবংশী রাজধানীর সকলে আমার দ্বারাই প্রালব্ধ
পেয়েছে। দিলওয়াড়া মন্দিরের সম্বন্ধে এমনভাবে লেখো যাতে, যে পড়বে তার খুব সহজে মনে
গেঁথে যাবে। ফর্মে লিখিয়ে নিও যে অসীম জগতের বাবা হলেন জ্ঞানের সাগর, তিনি অত্যন্ত
মধুর, যিনি আমাদের রাজযোগ শেখাচ্ছেন। সেই সদ্গুরুকে ছাড়া সমস্ত জগতই অন্ধকার। যখন
এমন ভাবে বাবার মহিমা গুনগান করবে তবেই তো বুদ্ধিতে তাঁর প্রতি ভালোবাসা জেগে উঠবে।
বাবা সম্মুখে এসে তোমাদেরকে অলৌকিক জন্ম দেন, সেই কারণেই তো তোমরা তাঁকে ভালোবাসো।
তোমাদেরকে জন্ম দিয়েছেন বলেই না তাঁকে তোমরা এতো ভালোবাসো । বাবা বললেই স্বর্গের কথা
মনে পড়ে যায়। বাবা স্বর্গ স্থাপন করেন, আমরা তাঁর কাছ থেকে উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করছি।
বিশ্বাস করো বা নাই করো - অসীম জগতের বাবা তো সকলেরই পিতা, তাঁর কাছ থেকে অবশ্যই স্বর্গের
উত্তরাধিকার প্রাপ্ত হবে। বাবা হলেনই এই নতুন দুনিয়ার রচয়িতা। সুতরাং তিনি অবশ্যই
নতুন দুনিয়ার উত্তরাধিকার দেবেন। আচ্ছা।
মিষ্টি মিষ্টি
হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা পিতা বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত। আত্মাদের
পিতা ওঁনার আত্মারূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।
*ধারণার জন্যে
মুখ্য সারঃ-*
১ ) বাবার প্রিয়
হয়ে ওঠার জন্য বুদ্ধিতে জ্ঞান ধারণ করে জ্ঞানী আত্মা হতে হবে। বাবার সাথে যোগযুক্ত
হতে হবে, ধ্যানের আশা কখনো রেখো না।
২ ) মাতাদেরকে
অগ্রভাগে রেখে তাদের নাম চতুর্দিকে ছড়িয়ে দিতে হবে। অথরিটির সাথে (দায়িত্ব নিয়ে)
গীতার ভগবানকে প্রমাণ করতে হবে। নিজের সর্বশক্তি প্রয়োগ করে সেবাকে আরো বাড়াতে হবে।
*বরদানঃ-* শ্রেষ্ঠ জীবনের স্মৃতির দ্বারা বিশাল স্টেজে
বিশেষ পার্ট পালনকারী হিরো পার্টধারী ভব
বাচ্চারা, তোমাদেরকে
ব্রহ্মাবাবা যখন দিব্য জন্ম দিয়েই - পবিত্র ভব, যোগী ভব'র বরদান দিয়েছেন। জন্মানোর
পরেই বড়মা এর রূপে পবিত্রতার ভালোবাসা দিয়ে লালন পালন করেছেন। সদা খুশির দোলনায়
দুলিয়েছেন, সর্বগুণের প্রতিমূর্তি, জ্ঞানের প্রতিমূর্তি, সুখ-শান্তি স্বরূপ হয়ে ওঠার
জন্য প্রত্যেকদিন মিষ্টি সুমধুর লোরী (বাচ্চাদের জন্য গান, মুরলী) দিয়েছেন। এমন মাতা
পিতার শ্রেষ্ঠ সন্তানরা হলো ব্রহ্মাকুমার ও ব্রহ্মাকুমারী - এই জীবনের মহত্ত্বকে স্মৃতিতে
রেখে বিশ্বের বিশাল স্টেজে সদা সর্বদা নিজের বিশেষ পার্ট, হিরো পার্ট পালন করে চলো।
*স্লোগানঃ-* বিন্দু শব্দের গুরুত্ব জেনে, বিন্দু হয়ে বিন্দু
বাবাকে স্মরণ করাই হলো যোগী হওয়া।
মাতেশ্বরী জীর
অমূল্য মহাবাক্য -
সর্বপ্রথমে
এটা জেনে নেওয়া অত্যন্ত প্রয়োজনীয় যে নিজের প্রকৃত লক্ষ্য কি? আর সেটাও খুব ভালোভাবে
বুদ্ধিতে ধারণ করতে হবে তবেই সম্পূর্ণ রীতিতে সেই লক্ষ্যে উপনীত হতে পারবে। নিজের প্রকৃত
লক্ষ্য হলো - আমি আত্মা, সেই পরমাত্মার সন্তান। প্রকৃতপক্ষে আমি কর্মাতীত, নিজেই নিজেকে
ভুলে যাওয়ার কারণে কর্মবন্ধনে এসে গেছি, এখন পুনরায় সেই কথা মনে পড়ার ফলে, এই ঈশ্বরীয়
যোগে যুক্ত হয়ে থাকার জন্য, নিজের দ্বারা কৃত বিকর্ম বিনাশ করছি। সুতরাং আমার লক্ষ্য
হলো, আমি আত্মা পরমাত্মার সন্তান। কিন্তু যদি কেউ নিজেকে আমিই সেই দেবতা মনে করে সেই
লক্ষ্যেই স্থিত হয়ে থাকে, তাহলে পরমাত্মার থেকে যে শক্তি পাওয়ার কথা তা পাবে না।
আর তখন তোমাদের বিকর্ম বিনাশ হবে না। এখন এই যে সম্পূর্ণ জ্ঞান - আমি আত্মা, পরমাত্মার
সন্তান কর্মাতীত হয়ে ভবিষ্যতে গিয়ে জীবনমুক্ত দেবী-দেবতা পদ প্রাপ্ত করবো - এই লক্ষ্যে
স্থিত হয়ে থাকলে তবেই শক্তি প্রাপ্ত হয়। এখন এই যে মানুষ যে সুখ শান্তি পবিত্রতা
চায়, সেও যখন পূর্ণ যোগ হবে তখনই তা প্রাপ্ত হবে। বাকি দেবতা পদ প্রাপ্ত করা তো আমাদের
ভবিষ্যতের প্রালব্ধ। আমাদের পুরুষার্থ আলাদা আর আমাদের প্রালব্ধ হলো আলাদা। সুতরাং
এই লক্ষ্যটাও আলাদা। নিজেকে কখনো এই লক্ষ্যে রেখো না যে - আমি পবিত্র আত্মা, অবশেষে
পরমাত্মা হয়ে যাবো, না। বরং আমাদেরকে পরমাত্মার সাথে যোগ যুক্ত হয়ে পবিত্র আত্মা
হয়ে উঠতে হবে, কারণ আত্মা কখনো পরমাত্মা হতে পারে না।
২ ) এই অবিনাশী
ঈশ্বরীয় জ্ঞানের অনেক নাম রাখা হয়েছে। কেউ এই জ্ঞানকে অমৃত বলে, আবার কেউ এই জ্ঞানকে
অঞ্জনও বলে। গুরু নানক বলেছেন - জ্ঞান অঞ্জন গুরু দিয়েছেন। কেউ কেউ একে আবার জ্ঞান
বর্ষাও বলে থাকে, কারণ এই জ্ঞানের দ্বারাই সমগ্র সৃষ্টি শ্যামলীমায় ভরে যায়। তমোপ্রধান
মানুষ সতোগুণী মানুষ হয়ে যায় আর জ্ঞান অঞ্জন এর দ্বারা অন্ধকার দূর হয়ে যায়। এই
জ্ঞানকে আবার অমৃতও বলা হয় যার দ্বারা ৫ বিকারের অগ্নিতে দগ্ধ হয়ে যাওয়া মানুষ শীতল
শান্তির অনুভব করে। দেখো গীতাতে পরমাত্মা স্পষ্ট রূপে বলেছেন যে কামেষু ক্রোধেষু....
সেখানেও সর্বপ্রথম কাম বিকারের কথাই বলা হয়েছে, যা ৫ বিকারের মধ্যে সর্ব প্রধান বীজ।
বীজের অস্তিত্ব থাকলে তারপর ধীরে ধীরে তার থেকে ক্রোধ, লোভ, মোহ, অহংকার ইত্যাদির ডালপালা
সৃষ্টি হয় - আর তার ফলে মানুষের বুদ্ধি ভ্রষ্ট হয়ে যায়। সেই বুদ্ধিতেই জ্ঞানের ধারণা
হতে পারে, যখন জ্ঞানের ধারণা সম্পূর্ণরূপে বুদ্ধিতে হয়ে যায় তবেই বিকারের বীজ বিনষ্ট
হয়ে যায়। সন্ন্যাসীরা মনে করে বিকারকে বশীভূত করা অত্যন্ত কঠিন ব্যাপার। এই জ্ঞান
তো সন্ন্যাসীদের কাছে নেই। তাই এইরকম শিক্ষাই বা তাঁরা কীভাবে দেবেন? তারা এমনিই বলতে
থাকেন যে মর্যাদার মধ্যে থাকো। কিন্তু প্রকৃত মর্যাদা কি ? এককালে যে সত্যযুগে ত্রেতাযুগে
দেবী দেবতাদের যে দৈবীগুন সম্পন্ন মর্যাদা ছিল, যার জন্য তাঁরা ঘর-গৃহস্থে থেকেও কেমন
সহজে নির্বিকারী প্রবৃত্তিতে বসবাস করতেন। এমন সত্য মর্যাদা আজ আর কোথায় আছে? আজকাল
তো উল্টো বিকারী মর্যাদা সকলেই পালন করছে, একে অপরকে এমনি শেখাতে থাকে যে মর্যাদা পালন
করো। মানুষের প্রথম কর্তব্য কি, তা তো কেউই জানে না। তারা শুধু এটাই প্রচার করতে থাকে
যে মর্যাদা পালন করো কিন্তু এটাও জানে না যে মানুষের প্রথম মর্যাদা কী ? মানুষের প্রথম
মর্যাদা হল নির্বিকারী হওয়া । যদি কাউকে জিজ্ঞাসা করো যে, তুমি কি এই মর্যাদা পালন
করো? তার উত্তরে সে বলবে, আজকালকার এই কলিযুগী দুনিয়াতে নির্বিকারী হয়ে থাকার সাহস
কারো নেই। এখন কেবল মুখে বলা যে - মর্যাদার মধ্যে থাকো, নির্বিকারী হও - তো এভাবে কেউ
নির্বিকারী হবে না । নির্বিকারী হওয়ার জন্য প্রথমে এই জ্ঞান রূপী তরবারি দিয়ে এই
পাঁচ বিকারের বীজকে সমূলে নষ্ট করে দিতে হবে, তবেই বিকর্ম ভস্ম হতে পারবে। আচ্ছা ।
ওম্ শান্তি ।
No comments:
Post a Comment