15.02.2023 BANGLA MURLI
"মিষ্টি বাচ্চারা
- তোমাদের জন্য যোগের ভাট্টি অতি মূল্যবান, কেননা এই ভাট্টিতেই তোমাদের বিকর্ম ভস্ম
হয়"
*প্রশ্নঃ - কোন্ বাচ্চাদের বুদ্ধিতে বীজ আর বৃক্ষের নলেজ
স্পষ্ট বসতে পারে?
*উত্তরঃ - যারা বিচার সাগর মন্থন করে । এই বিচার সাগর
মন্থন করার জন্য অমৃতবেলার সময় খুবই সুন্দর । অমৃতবেলায় উঠে বুদ্ধির দ্বারা এক
বাবাকে স্মরণ করো । তোমাদের অজপাজপ যেন চলতে থাকে । সূক্ষ্ম বা স্থূলভাবে 'শিববাবা - শিববাবা' বলার কোনো দরকার নেই । তোমাদের বুদ্ধির দ্বারা
স্মরণ করতে হবে ।
ওম্ শান্তি ।
আত্মাদের পিতা বসে আত্মাদের বোঝান অর্থাৎ বাচ্চাদের বোঝান । বাবা বলেন, আমিও দেহতে আসি তাই তো কথা বলতে পারি । তোমরাও
এমন মনে করো যে, আমি আত্মা,
এই দেহের দ্বারা শুনছি
।এই নলেজ খুব ভালোভাবে ধারণ করতে হবে । যেমন বাবা ধারণ করেছেন । আত্মার বুদ্ধিতেই
এই ধারণা হয় । তোমাদের বুদ্ধিতেও এমন ধারণা হওয়া উচিত যেমন বাবার বুদ্ধিতে আছে ।
বীজ আর বৃক্ষ সম্বন্ধে বোঝানো তো খুবই সহজ । মালির তো এই জ্ঞান থাকে যে, অমুক বীজ বপন করলে এতো বড় গাছ হবে । ব্যস্,
বাবাও এমনভাবেই বোঝান যে,
এই কথা বুদ্ধিতে ধারণ
করতে হবে । আমার বুদ্ধিতে যেমন আছে, তেমনই তোমাদের বুদ্ধিতেও থাকা উচিত । তা তখনই থাকবে, যখন তোমরা বিচার সাগর মন্থন করবে । ভোরের সময়
বিচার সাগর মন্থন করার জন্য খুবই সুন্দর । ওইসময় তেমন কোনো কাজকর্ম থাকে না ।
ভক্তিও মানুষ ভোরবেলাই করে । কেউ এখানে - ওখানে যায়, কেউ বা বসে নাম জপ করতে থাকে বা গান গাইতে থাকে,
আওয়াজ করে, কেউ আবার অন্তরে রাম - রাম করতে থাকে । এ হলো
ভক্তির অজপাজপ । কেউ আবার মালা ঘোরাতে থাকে । তোমাদের শিব - শিব বলতে হবে না ।
ভক্তিতে মানুষ যা করে তা জ্ঞানে হওয়া উচিত নয় । অনেকেরই অভ্যাস হয়ে গেছে,
তারা শিব - শিব জপ করতে
থাকে । তোমাদের শিব - শিব না স্থূলভাবে আর না সূক্ষ্মভাবে জপ করতে হবে । বাচ্চারা
তোমরা জানো যে, আমাদের বাবা এখন
এসেছেন । তিনি আসবেনও কোনো শরীরে । তাঁর তো কোনো নিজের শরীর নেই । তিনি হলেন
পুনর্জন্ম রহিত । পুনর্জন্ম মনুষ্য সৃষ্টিতেই হয় । বিষ্ণুর দুই রূপ হলো লক্ষ্মী -
নারায়ণ । মানুষ দেব - দেব মহাদেব বলে থাকে । ব্রহ্মা আর বিষ্ণুর নিজেদের মধ্যে
সম্বন্ধ আছে । শঙ্করের কোনো কানেকশন নেই, তাই তাঁকে বড় করে রাখে । তাঁর পুনর্জন্ম নেই, তাঁর সূক্ষ্ম শরীর হয় । শিববাবার কোনো সূক্ষ্ম
শরীর নেই, তাই তিনি উঁচুর
থেকেও উঁচু, সবথেকে উঁচু ।
তিনি হলেন অসীম জগতের পিতা । বাচ্চারা জানে যে, অসীম জগতের বাবার কাছ থেকে আমরা অসীম জগতের
সুখের উত্তরাধিকার গ্রহণ করি । তোমাদের বাবার শ্রীমৎ অনুযায়ী সম্পূর্ণ চলতে হবে ।
যে নিজে স্মরণ করে, অন্যদেরও স্মরণ
করায়, তারা যেন বাবার
সাহায্যকারী । তোমাদের বাবাকে আর তাঁর উত্তরাধিকারকে স্মরণ করতে হবে । বাবা
বাচ্চাদের বোঝাতে থাকেন - তোমাদের এখন ৮৪ জন্ম সম্পূর্ণ হয়েছে । আর অল্প সময়
বাকি আছে । নাটকে অভিনেতারা বুঝতে পারে -- আর আধ ঘণ্টা সময় বাকি আছে, তারপর আমরা বাড়ি চলে যাবো। তারা সময় দেখতে
থাকে। তোমাদের তো অসীম জগতের অনেক বড় ঘড়ি অর্থাৎ সময়। বাবা বুঝিয়েছেন যে - এখন
ঘরে ফিরে যেতে হবে। বাবাকে স্মরণ করলে তোমাদের বিকর্ম বিনাশ হবে, বাকি অন্য কোনো শাস্ত্রে এমন সহজ যোগ আর নেই।
ওরা তো অনেক হঠযোগ করে, অনেক পরিশ্রম করে,
তোমরা মাতারা এমন করতে
পারবে না। তোমাদের হঠযোগীদের মতো আসন করতে হবে না। হ্যাঁ, সভাতে ঠিক হয়ে বসতে হবে। তোমাদের রাজযোগ হলো -
পায়ের উপর পা তুলে বসা। এমন রাজযোগে বসলে নেশা চড়ে যাবে। হঠযোগে দুই পা উপরে তুলে
রাখা হয়। বাবা তোমাদের কোনো কষ্ট দেন না। কেবল তোমাদের সাধারণ ভাবে বসাতে আর যোগে
বসাতে কিছু ফারাক রাখা উচিত। তোমরা রাজযোগ শিখছো । তাই তোমাদের এমনভাবে বসা উচিত
যাতে মানুষ মনে করে যে, এরা রাজযোগে
বসেছে। এ হলো আমাদের রাজত্বের কায়দা। তোমরা অসীম জগতের বাবার দ্বারা রাজার রাজা
তৈরী হচ্ছো। এমন বাবাকে তোমাদের প্রতি মুহূর্তে স্মরণ করা উচিত। সত্যযুগে কেউ
বাবাকে স্মরণ করে না। নিজের কথাই স্মরণে থাকে । কলিযুগে মানুষ না বাবাকে জানে,
আর না নিজেকে জানে।
বাবাকে কেবল ডাকতে থাকে। তোমরা এখন খুব ভালোভাবে জেনে গেছো। আর কেউ এমনভাবে বুঝতে
পারে না যে, বাবা হলেন
বিন্দু। তারা অতি সূক্ষ্মও বলে থাকে, আবার বলে হাজার সূর্যের থেকেও তীব্র। তাই এই দুই কথা মেলে না। যখন বলে থাকে যে,
তিনি নাম - রূপ থেকে পৃথক,
তারপর হাজার সূর্যের
থেকেও তীব্র কেন বলে? প্রথমে তোমরাও
এমনই মনে করতে। বাবা বলেন - ড্রামাতে এই বোঝানো দেরীতে প্রাপ্ত হওয়ার। সূক্ষ্মর
থেকেও সূক্ষ্ম কথা নিজে বুঝে বোঝানো হয়। এই রকম ভাবা উচিত নয় যে, আগে হাজার সূর্যের থেকেও তেজোময় বলতো, এখন বিন্দু কেন বলে? যখন আই. সি. এসের পড়া পড়বে তখন আই. সি. এসের
কথাই বলা হবে, আগে কেন বলবে?
এতে দ্বিধাগ্রস্ত হওয়ার
কোনো কথাই নেই। ড্রামাতে বাবার যখন বোঝানোর কথা, তখনই তিনি বোঝান, এর পরেও আর কি কি বোঝাবেন! কেননা বাবার প্রভাবও
তো আগে বেরোতে হবে, তাই না। তোমাদের
যেমন আত্মা আছে, তেমনই তিনিও
আত্মা। তিনি পরমধামে থাকেন। তাঁকে পরম আত্মা বলা হয়। এখানে যখন আসেন, তখন তিনি এই জ্ঞান প্রদান করেন।
বাবা বলেন -
দুনিয়া যখন পতিত হবে তখনই আমি পাবন দুনিয়া বানাতে আসবো। মানুষ ডাকতেও থাকে,
হে পতিত পাবন, হে দুঃখহর্তা - সুখকর্তা, এসো। তিনি তো সঙ্গম যুগেই আসবেন। রাত যখন
সম্পূর্ণ হবে তখনই দিন আসবে। পুরানো দুনিয়ার অন্ত হবে। তোমাদের কর্মাতীত অবস্থা
অন্তিমে হবে। তোমাদের গৃহস্থ জীবনে থাকতে হবে, ছেড়ে যাওয়া যাবে না। শরীর নির্বাহের কারণে
কর্মব্যবহারে থেকেও কমল ফুল সমান পবিত্র থাকতে হবে। দেবতা তো হলেনই পূর্ণ পবিত্র,
কিন্তু তাঁরা কবে এবং
কিভাবে হয়েছিলেন ? অবশ্যই তাঁরা
পুরুষার্থ করেছিলেন, তাই প্রালব্ধ
পেয়েছিলেন । পুরুষার্থ অনুসারে প্রালব্ধ তৈরী হয়েছিলো। যেমন কর্ম, তেমন প্রালব্ধ, এ তো চলতেই থাকে । এখন তো তোমরা কর্ম শেখানোর
জন্য বাবাকে পেয়েছো। তাঁকে খুব ভালোভাবে স্মরণ করা উচিত। তোমরা হলে দত্তক সন্তান।
মাড়োয়ারিরা অনেক দত্তক নেয় । তোমাদেরও দত্তক নেওয়া হয়েছে । তোমরা এনার গর্ভ
থেকে নির্গত হওনি । অ্যাডপশনে দুই বাবাই স্মরণে থাকে । অন্ত পর্যন্ত জানতে পারে,
আমরা প্রকৃতপক্ষে কার
ছিলাম। এখন এনার কোলের সন্তান হয়েছি। তোমরাও জানো যে, আমরা কার ছিলাম এবং এখন কার হয়েছি। আমি
পরমপিতা পরমাত্মার কাছে অ্যাডপ্ট হয়েছি, তিনি হলেন স্বর্গের রচয়িতা । তাঁর রচনা কতো সময় ধরে চলে? অর্ধেক কল্প। নরকের রচয়িতা হলো রাবণ, তার রাজত্বও অর্ধেক কল্প ধরে চলতে থাকে। আত্মা
সতোপ্রধান থেকে তমোপ্রধান হয়। এ হলো বোঝার মতো কথা । কিছু বুঝতে না পারলে জিজ্ঞেস
করা উচিত। সূর্য এবং চন্দ্রগ্রহণ যখন হয়, তখন বলে থাকে - দান করলে গ্রহণ দূর হবে। সূর্য - চন্দ্রকে মা - বাবা বলা হয় ।
এখানেও মেল - ফিমেল উভয়েরই গ্রহণ লাগে, তাই তো বাবা বলেন, তোমরা পাঁচ
বিকারের দান করে দাও । ওখানে তো বছরে এক বা দুইবার গ্রহণ লাগে । আর এ তো হলো
কল্পের কথা । বাবা এসে একবারই দান গ্রহণ করেন । মানুষ সম্পূর্ণ কালো হয়ে গিয়েছে।
এ হলো আয়রন এজ বা লৌহ যুগ । খাঁটি সোনায় খাদ মেশালে কালো হয়ে যায় । নতুন ঘর আর
পুরানো ঘর । নতুন বাচ্চা আর বৃদ্ধদের মধ্যে তফাৎ তো থাকে, তাই না । ছোটো বাচ্চাদের কতো মিষ্টি আর প্রিয়
মনে হয় । সবাই তাদের নিয়ে ঘোরাতে ভালোবাসে । কোলেও বসায় । বৃদ্ধদের অবস্থা
জরাগ্রস্ত হয়ে যায়, তখন বলে - মৃত্যু
হলে সেও ভালো । বেশী দুঃখ - কষ্ট কেন সহন করবে । আত্মা এক শরীর ত্যাগ করে অন্য
শরীর ধারণ করে । এখানে আমরা রোগীকেও মৃত্যুবরণ করতে দিই না, যতটা শুনবে ততটাই তার উন্নতি । শিব বাবা আর
তাঁর উত্তরাধিকারকে স্মরণ করতে থাকুক । অসুস্থ অবস্থায় যখন খুব বেশী কষ্ট হয় তখন
সব ভুলে যায় । বাকি যার যার প্রতি ভাবনা থাকে, সে চিন্তায় সামনে এসে যায় । তোমাদের
প্রতিজ্ঞা হলো - আমার তো এক শিব বাবা, দ্বিতীয় আর কেউ নয় । তাহলে আবার অন্য কাউকে কেন স্মরণ করো । বাবা বলেন --
আমি ছাড়া কারোর স্মৃতি ফিরে আসবে না । এমন গায়নও আছে যে -- অন্তকালে যে স্ত্রীকে
স্মরণ করে... মানুষ সব শ্লোক বলেই যায়, অর্থ কিছুই বুঝতে পারে না । এ সমস্তই এই সঙ্গমের গায়ন, ভক্তিতে যার মহিমা গাওয়া হয়, এই সময় তোমাদের কেবল বাবা আর তাঁর
উত্তরাধিকারকে স্মরণ করতে হবে। শ্রী নারায়ণ তোমাদের প্রালব্ধ, এর অর্থ সম্পূর্ণভাবে তোমাদের বুদ্ধিতে থাকা
উচিত। অর্থ না বুঝে তো অনেকেই স্মরণ করতে থাকে । পরের দিকে তো যার সাথে বেশী
প্রীতির সম্পর্ক, সেই স্মরণে আসতে
থাকে । তোমাদের খুবই সাবধান থাকা উচিত । তোমাদের এক বাবাকেই স্মরণ করা উচিত ।
বাবা বলেন -
মন্মনাভব । বাচ্চারা তোমরা বলো - বাবা, আমরা কল্প - কল্প তোমার সাথে মিলিত হতাম । মধুবনে এসে তোমার থেকে এই জ্ঞান
শুনতাম । এ হলো বশীকরণ মন্ত্র । সদ্গুরু হলে তোমাকে এমন মন্ত্র দান করবেন, যাতে তুমি অমর হয়ে যাও । এ হলো মায়াকে জয়
করার মন্ত্র । এর উপরে গাওয়া হয় তুলসীদাস চন্দন ঘসে... এও এখানকার কথা, যা পরে গাওয়া হয়েছিলো । বাচ্চারা, বাবা আর তাঁর উত্তরাধিকারকে স্মরণ করাতে তোমরা
রাজতিলক পাচ্ছো । বাবা আর বাদশাহীকে স্মরণ করে দেহত্যাগ করলে তোমরা রাজতিলক
প্রাপ্ত করবে । কেবল একজন তো পাবে না । মালা হলো ১০৮ এর । ১৬১০৮ এরও আছে ।
তোমাদের তো এখন
সঠিকভাবে বাবাকে স্মরণ করতে হবে । বাবার উদ্দেশ্যে বলা হয় - তোমার গতি - মতি তুমি
জানো । সেটা তো ঠিকই । সেই সদ্গতিদাতা, সে-ই সব জানে। আগে তো তোমরা অর্থ রহিত গান গাইতে । তাকে বলা হয় অনর্থ ।
প্রাপ্তি কিছুই নেই । মানুষ দান - পুণ্য ইত্যাদি করতে করতে নেমেই এসেছে । কিছুই
প্রাপ্তি নেই । আসুরী মতে চলে সব অনর্থ হয়ে গিয়েছে । ইনিও নারায়ণের পূজা করতেন,
এখন আবার প্রত্যক্ষ রূপে
পূজারী থেকে পূজ্য আত্মায় পরিণত হচ্ছেন । বাচ্চারা, তোমরা এখন জানো যে, শিব বাবা আমাদের পড়ান । এই কথা তো দৃঢ়ভাবে
স্মরণ রাখতে হবে । না হলে বিকর্ম বিনাশ হবে না । যোগের এই ভাট্টি খুবই মূল্যবান ।
মুক্তিও তো প্রাপ্ত হয়, তাই না । কেউ বলে,
আমার মনের শান্তি চাই,
কিন্তু প্রথমে এই কথা বলো,
তোমাকে অশান্ত কে করলো?
অবশ্যই তাহলে প্রথমে
শান্তি ছিলো । এখন অশান্ত হয়েছো, তাই তো শান্তি
কামনা করো। সম্পূর্ণ দুনিয়ার তো শান্তির প্রয়োজন । একজন শান্তি পেলে তো কিছুই
হবে না। একজন শান্তি পেলে তো আর সম্পূর্ণ দুনিয়া শান্তি পেতেই পারে না। কে অশান্ত
করেছে? সবাই ঝিমিয়ে গেছে ।
তোমাদের বোঝানো হয়, শান্তিধাম,
সুখধাম আর এ হলো দুঃখধাম।
সুখধামে খুব অল্পসংখ্যক মনুষ্য ছিলো । সেই সময় বাকি সব আত্মারা শান্তিধামে ছিলো।
তোমরা শান্তি সেখানেই পাবে । এখানে তো আর পাবে না। এখানে তো হলোই দুঃখধাম । দুঃখে
মানুষের অশান্তি হয়। কাউকে বোঝানোর জন্য এ তো খুবই সহজ। সুখ - শান্তির
উত্তরাধিকার একমাত্র বাবাই দান করেন । সত্যযুগে সুখ - শান্তি দুইই ছিলো । এখানে
আত্মা চায়, আমার মন যেন
শান্ত হয় । তাহলে তোমরা তোমাদের ঘর পরমধামে যাও, কিন্তু পতিত তো সেখানে যেতেই পারে না, তাই বাবা বোঝান, আমাকে স্মরণ করো তাহলে অন্তিম কালে যেমন মতি
তেমন গতি হয়ে যাবে । বাবা আর তাঁর উত্তরাধিকারকে স্মরণ করো কিন্তু মায়া এমনই যে,
পবিত্র থাকতে দেয় না ।
অবলাদের উপর দেখো কতো অত্যাচার হয় । বিষ ছাড়া থাকতে পারে না । বাবার কাছে অনেক
প্রকারের খবর আসে । সবথেকে বড় হিংসা হলো কাম মহাশত্রুর । বাবা বলেন - বাচ্চারা,
তোমরা বিষ ত্যাগ করো,
মুখ কালো করো না । তখন
বলে যে, চেষ্টা করবো । এ হলো বিষ,
আদি - মধ্য - অন্ত
দুঃখদানকারী কিন্তু ভাগ্যে না থাকলে শোনেই না । বাবা বসে আত্মাদের বোঝান - আজ থেকে
বিকারে যেও না, তখন মুখ নিচু করে
দেয় । আরে, কাম হলো মহাশত্রু
। এ তো ভালোই নয় । এ হলোই বিকারী দুনিয়া, সবাই পতিত । সত্যযুগে সবাই সম্পূর্ণ নির্বিকারী
। আচ্ছা ।
মাতা - পিতা,
বাপদাদার কল্প বা ৫ হাজার
বছর পরে মিলিত হওয়া মিষ্টি - মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের স্মরণের স্নেহ-সুমন আর
সুপ্রভাত । আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মারূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।
*ধারণার জন্যে
মুখ্য সারঃ-*
১ ) সময় খুবই
অল্প, তাই বাবার সম্পূর্ণ
সাহায্যকারী হয়ে চলতে হবে । বাবা এবং তাঁর উত্তরাধিকারকে স্মরণ করতে হবে আর
অন্যদেরও করাতে হবে ।
২ ) অন্তিম সময়ে
এক বাবার যাতে স্মরণ থাকে তারজন্য হৃদয়ের প্রীতি এক বাবার সাথে রাখতে হবে । বাবা
ব্যতীত আর কারোর স্মৃতি যেন না আসে, এরজন্য সাবধান থাকতে হবে ।
*বরদানঃ-* ভাবা, বলা আর করা এই তিনকে সমান করে বাবার সমান সম্পন্ন ভব
বাপদাদা এখন
সমস্ত বাচ্চাদের সমান এবং সম্পন্ন দেখতে চান । সম্পন্ন হওয়ার জন্য ভাবা, বলা আর করা, এই তিন যেন সমান হয় । এরজন্য সবাই তৈরীও হচ্ছো,
সঙ্কল্পও আছে আর ইচ্ছাও
এমনই। কিন্তু এই ইচ্ছা তখনই পূর্ণ হবে যখন আর সমস্ত ইচ্ছা থেকে ইচ্ছা মাত্ৰম্
অবিদ্যা হতে পারবে । ছোটো ছোটো অনেকপ্রকারের ইচ্ছাই এই এক ইচ্ছাকে পূর্ণ করতে দেয়
না ।
*স্লোগানঃ-* অব্যক্ত এবং কর্মাতীত স্থিতির অনুভব করতে হলে
বলা, করা আর জীবনযাত্রাকে সমান
বানাও ।
নোট : তুলসীদাস
চন্দন ঘষে...
চিত্রকূটের ঘাটে
তুলসীদাস চন্দন ঘষছেন, রামচন্দ্র স্বয়ং
উপস্থিত হয়ে সেই চন্দনের তিলক পরিয়ে দিয়ে তার স্মৃতি জাগালেন। অর্থাৎ স্বয়ং
পরমাত্মা রাম আমাদেরকে স্মৃতির তিলক পরিয়ে দেন।
No comments:
Post a Comment