Monday, February 13, 2023

14.02.2023 BANGLA MURLI

                                             14.02.2023 BANGLA MURLI



"মিষ্টি বাচ্চারা, সকাল সকাল উঠে বাবাকে গুড মর্নিং করো, জ্ঞানের চিন্তনে থাকো, তাহলে খুশির পারদ সদাই ঊর্ধ্বে থাকবে"

*প্রশ্নঃ - যথার্থ স্মরণ কাকে বলে? তার লক্ষণ গুলি কি?

*উত্তরঃ -          অত্যন্ত ধৈর্য, গম্ভীরতা এবং বুদ্ধি যুক্ত হয়ে বাবাকে স্মরণ করাই হলো অ্যাক্যুরেট (যথার্থ) স্মরণ । যারা অ্যাক্যুরেট (যথার্থ ভাবে) স্মরণে থাকে তারা বাবার থেকে অনেক বেশী কারেন্ট (শক্তির তরঙ্গ) প্রাপ্ত করে, পাপের বোঝা নেমে যায়। আত্মা সতোপ্রধান হতে থাকে, তাদের আয়ু বৃদ্ধি পেতে থাকে, তারা বাবার সার্চলাইট প্রাপ্ত করে।

ওম্ শান্তি । বাবা বলেন মিষ্টি বাচ্চারা ততত্বম্ অর্থাৎ তোমরা আত্মারা সকলেই শান্ত স্বরূপ। তোমাদের অর্থাৎ সকল আত্মাদের স্বধর্মই হলো শান্তি। শান্তিধাম থেকে পুনরায় এখানে এসে ব্যক্ত রূপ ধারণ করো। তোমরা এই সকল কর্মেন্দ্রিয় পেয়ে থাকো নিজের নিজের ভূমিকা পালন করার জন্য। আত্মা কখনো ছোট বড় হয় না, শরীর ছোট বড় হয়। বাবা বলেন - আমি তো শরীরধারী নই, আমাকে আসতে হয় সব বাচ্চাদের সাথে দেখা করার জন্য । যখন লৌকিক পিতার থেকে সন্তান জন্মগ্রহণ করে, তখন সেই সন্তান কখনো এমন বলবে না যে - আমি পরমধাম থেকে এসে এখানে জন্মগ্রহণ করে মাতা পিতার সাথে দেখা করতে এসেছি। যদি কোনো নতুন আত্মা কারো শরীরে আসে অথবা কোনো পুরানো আত্মা কারো শরীরে প্রবেশ করে তো কখনোই সে বলে না যে, আমি মাতা পিতার সাথে দেখা করতে এসেছি। তারা স্বাভাবিকভাবেই মাতা পিতা পেয়েই যায়। এখানে এ হল এক নতুন কথা। বাবা বলেন যে - আমি পরমধাম থেকে এসে বাচ্চাদের সম্মুখে এসেছি। বাচ্চাদেরকে পুনরায় জ্ঞান দিয়ে থাকি, কারণ আমি জ্ঞানে পরিপূর্ণ, জ্ঞানের সাগর, আমি এখানে আসিই বাচ্চারা, তোমাদেরকে পড়ানোর জন্য, রাজযোগ শেখানোর জন্য। রাজযোগ শেখাতে পারেন ভগবান। শ্রীকৃষ্ণের আত্মার এইরকম ঈশ্বরীয় পার্ট নেই। প্রত্যেকের পার্ট ভিন্ন, ঈশ্বরেরও নিজস্ব পার্ট আছে।

 

এই ড্রামা যে কত সুন্দর এবং আশ্চর্যজনক ভাবে তৈরি হয়ে রয়েছে তা তোমরা এখন বুঝতে পারো। যদি শুধু এটুকুও স্মরণে থাকে যে - এই যুগ হলো পুরুষোত্তম সঙ্গমযুগ, তাহলেও আমাদের সত্যযুগে যাওয়া নিশ্চিত হয়ে যায়। এখন আমরা সঙ্গম যুগে রয়েছি, এরপর আমাদেরকে নিজেদের ঘরে ফিরে যেতে হবে, সেই কারণেই আমাদেরকে অতি অবশ্যই পবিত্র হয়ে উঠতে হবে। হৃদয়ে অত্যন্ত আনন্দ থাকা উচিত। আহা! অসীম জগতের বাবা বলেন - মিষ্টি মিষ্টি বাচ্চারা আমাকে স্মরণ করো, তবেই তো তোমরা সতোপ্রধান হতে পারবে, বিশ্বের মালিক হতে পারবে। বাবা বাচ্চাদেরকে কতো ভালোবাসেন। এমন তো নয় যে, বাবা শুধুমাত্র শিক্ষক রূপে এসে আমাদেরকে পড়িয়ে আবার ঘরে ফিরে যান। ইনি তো বাবাও আবার শিক্ষকও। তোমাদেরকে পড়াতেও তো থাকেন আবার স্মরণের যাত্রাও শেখাতে থাকেন।

 

এমন প্রিয় বাবা, যিনি আমাদের বিশ্বের মালিক করে তোলেন, পতিত থেকে পবিত্র করে তোলেন - এমন বাবার প্রতি আমাদের কতো না ভালোবাসা থাকা উচিত। সকাল সকাল উঠে সর্বপ্রথম শিব বাবাকে গুড মর্নিং করা উচিত। তোমরা যতটা ভালোবেসে তাঁকে স্মরণ করবে, ততই আনন্দে ভরপুর হয়ে থাকবে। নিজেই নিজের অন্তঃকরণকে যাচাই করতে হবে যে - সত্যি সত্যি আমরা সকালে উঠে কতটা অসীম জগতের বাবাকে স্মরণ করে থাকি? ভক্তি মার্গেও তো মানুষ সকাল সকাল ভক্তি করে থাকে। ভক্তরা কতো প্রেমপূর্ণ ভাবে ভক্তি করে থাকে। কিন্তু বাবা জানেন যে, কিছু কিছু বাচ্চারা অন্তরের অন্তঃকরণ থেকে ভালোবাসায় পরিপূর্ণ হয়ে বাবাকে স্মরণ করে না। সকালে উঠে বাবাকে গুড মর্নিং বললে, জ্ঞানের চিন্তনে থাকলে, খুশির পারদ সদাই ঊর্ধ্বমুখী থাকবে। বাবাকে গুড মর্নিং না করলে, তোমাদের পাপের বোঝা কীভাবে নামবে ? প্রধান বিষয়টাই হলো স্মরণ করা। এর মাধ্যমেই ভবিষ্যতের জন্য তোমাদের অনেক উপার্জন সঞ্চিত হয়ে যায়, কল্প-কল্পান্তর ধরে এই সঞ্চয় কাজে লাগবে। অত্যন্ত ধৈর্য সহকারে গম্ভীরতা এবং বুদ্ধিমত্তার সাথে তাঁকে স্মরণ করতে হয়। অনেকে উপর উপর বলে দেয় যে - আমরা তো বাবাকে অনেক স্মরণ করি, কিন্তু অ্যাক্যুরেট স্মরণ করতে মেহনত করতে হয়। যারা বাবাকে অনেক স্মরণ করে তারা বাবার থেকে অনেক বেশী যোগের কারেন্ট প্রাপ্ত করে, কারণ স্মরণ করলে স্মরণ প্রাপ্ত হবে। যোগ এবং জ্ঞান দুটি ভিন্ন বিষয়। যোগের বিষয় ভিন্ন, এটি অত্যন্ত কঠিন বিষয়। যোগের মাধ্যমে আত্মা সতোপ্রধান হয়ে ওঠে। স্মরণ না করে সতোপ্রধান হওয়া অসম্ভব। খুব ভালোভাবে ভালোবেসে বাবাকে স্মরণ করলে স্বাভাবিকভাবেই তাঁর থেকে যোগের কারেন্ট প্রাপ্ত হবে, হেল্দী হয়ে যাবে। এর ফলে আয়ু বৃদ্ধি হয়, বাচ্চারা যখন বাবাকে স্মরণ করে, বাবাও তখন তাদের ওপর সার্চলাইট ফেলেন । বাচ্চারা, বাবা কত বিশাল খাজানা তোমাদেরকে দিয়ে দেন।

 

মিষ্টি বাচ্চাদেরকে এ কথা নিশ্চিত স্মরণে রাখতে হবে যে, শিববাবা আমাদেরকে পড়াচ্ছেন। শিববাবা পতিতপাবনও । আবার সদগতি দাতাও । সৎগতি অর্থাৎ স্বর্গের রাজত্ব প্রদান করেন। বাবা কতো মধুর স্বভাবের, কতো ভালোবেসে এসে বাচ্চাদেরকে পড়াতে থাকেন। বাবা, দাদার মাধ্যমে আমাদেরকে পড়ান, বাবা কত মধুর। তিনি আমাদের কতো ভালবাসেন, কখনো কোনো কষ্ট দেন না, শুধু বলেন - আমাকে স্মরণ করো আর চক্রকে স্মরণ করো। হৃদয় যেন শুধুমাত্র এক বাবার স্মৃতিতেই একেবারে স্থির থাকা চাই । এক বাবার স্মৃতিই যেন আমাদের মনকে উতলা করে তোলে, কারণ বাবার থেকে কতো সুউচ্চ উত্তরাধিকার প্রাপ্ত হয়। নিজেদেরকে যাচাই করে নিতে হবে যে - সত্যি সত্যি আমরা বাবাকে কতটা ভালোবাসি, কতটা আমাদের মধ্যে দৈবী গুণ ধারণ হয়েছে। কারণ বাচ্চারা, এখন তোমরা সকলেই কাঁটা থেকে ফুল হয়ে ফুটে উঠছো। যত যোগযুক্ত হয়ে থাকবে ততই কাঁটা থেকে ফুল হয়ে ফুটে উঠবে আর সতোপ্রধান হয়ে উঠবে। যখন ফুল হয়ে ফুটে উঠবে তখন এখানে আর থাকতে পারবে না। ফুলের বাগান রয়েছে স্বর্গে। যে অনেক কাঁটাকে ফুলে রূপান্তরিত করে, তাকেই সত্যকারের সুগন্ধি ফুল বলা হয়। কখনো কাউকে কাঁটা ফুটিয়ে দেবে না, ক্রোধও হল এক বড় কাঁটা যা অনেককে দুঃখ দেয়। বাচ্চারা এখন তোমরা কাঁটার দুনিয়া থেকে সরে কিনারায় চলে এসেছো, এখন তোমরা আছো সঙ্গমে। যেমন ভাবে মালি ফুলের গাছগুলিকে আলাদা টবে সাজিয়ে রাখে, ঠিক তেমনভাবেই বাচ্চারা, তোমাদের মত সুন্দর ফুলদেরকেও এখন এই সঙ্গম যুগের আলাদা টবে রাখা আছে । এরপর তোমরা ফুলেরাও স্বর্গের বাগানে চলে যাবে। কলিযুগের কাঁটা ভষ্ম হয়ে যাবে।

 

মিষ্টি বাচ্চারা জানে যে, পারলৌকিক বাবার থেকে আমাদের অবিনাশী উত্তরাধিকার প্রাপ্ত হয়। যারা সত্যিকারের বাবার সন্তান, যারা বাপ-দাদাকে হৃদয় থেকে ভালোবাসে, তাদের মনে অপার আনন্দ থাকবে। আমরা বিশ্বের মালিক হতে চলেছি, হ্যাঁ পুরুষার্থের দ্বারাই বিশ্বের মালিক হওয়া সম্ভব। শুধু মুখে বললেই হবে না। যারা বাবার অনন্য সন্তান তাদের মনে সদা সর্বদা এই স্মৃতি থাকবে যে, আমরা নিজেদের জন্য পুনরায় সেই সূর্যবংশী চন্দ্রবংশী রাজধানী স্থাপন করছি। বাবা বলেন - মিষ্টি বাচ্চারা, তোমরা যত অন্যদের কল্যাণ করবে, ততো তোমরা তার প্রতিদান পাবে। যতজনকে সঠিক পথের সন্ধান দেবে ততজনের কাছ থেকে আশীর্বাদ প্রাপ্ত করবে। জ্ঞান রত্ন দিয়ে ঝোলা ভরে নিয়ে তারপর তা সকলকে বিলিয়ে দিতে হবে। জ্ঞানের সাগর তোমাদেরকে রত্নভরা থালা দেন। যে সে সকল রত্ন অন্যদেরকে দান করে সে-ই সকলের প্রিয় হয়। বাচ্চাদের হৃদয় কতো কতো খুশিতে ভরে থাকা উচিত। বুদ্ধিমান বাচ্চারা বলবে যে, আমরা বাবার থেকে সম্পূর্ণ উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করবো। তারা বাবাকে আঁকড়ে ধরে থাকবে। বাবার প্রতি তাদের অসীম ভালোবাসা থাকবে, কারণ তারা জানে যে জীবনদাতা বাবাকে পেয়েছি। বাবা নলেজের এমন বরদান দেন যার ফলে আমরা কি থেকে কি হয়ে যাই! ইনসলভ্যান্ট থেকে সলভেন্ট হয়ে যাই! বাবা এতটাই ভান্ডার ভরপুর করে দিয়ে দেন। যত বাবাকে স্মরণ করবে ততই বাবার প্রতি ভালোবাসার টান থাকবে। সুঁচ যখন পরিষ্কার থাকে তখন তা চুম্বকের দিকে আকৃষ্ট হয়। বাবার স্মরণের দ্বারা সমস্ত অশুদ্ধি ধুয়ে যেতে থাকবে । এক বাবা ছাড়া যেন আর কেউ স্মৃতিতে না আসে। যেমন স্ত্রী তার স্বামীকে কতো ভালোবাসে। তোমাদেরও তো বাগদান (সগাই) হয়ে গেছে তাই না! বাগদান এর খুশি কখনো কম হয় নাকি? শিববাবা বলেন - মিষ্টি বাচ্চারা, তোমাদের বাগদান আমার সাথে হয়েছে, ব্রহ্মার সাথে হয়নি। যার সাথে বাগদান হয়ে গেছে শুধু তারই স্মৃতি তোমাদের মনকে উতলা করবে।

 

বাবা বোঝাতে থাকেন যে - মিষ্টি বাচ্চারা, তোমরা গাফিলতি করোনা। স্বদর্শন চক্রধারী হও, লাইট হাউস হও। যখন স্বদর্শন চক্রধারী হওয়ার প্র্যাক্টিস ভালোভাবে হয়ে যাবে, তখন তোমরা জ্ঞানের সাগরের মতো হয়ে যাবে। যেমন ভাবে ছাত্ররা পড়াশুনা করে শিক্ষক হয়ে যায়, সেই রকম তোমাদেরও সেই একই কাজ। সকলকে স্বদর্শন চক্রধারী বানাও তবেই চক্রবর্তী রাজা রানী হতে পারবে। সেই কারণেই বাবা সব সময় বাচ্চাদেরকে জিজ্ঞাসা করতে থাকেন যে - বাচ্চারা, স্বদর্শন চক্রধারী হয়ে বসেছো তো? বাবাও তোর স্বদর্শন চক্রধারী, তাই না। বাবা এসেছেন তোমাদের মতো মিষ্টি বাচ্চাদেরকে আবার ঘরে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে। বাচ্চারা তোমাদেরকে ছাড়া আমারও স্বস্তি হয় না। যখন সেই সময় আসে তখন আমার অস্বস্তি অনুভব হয়। ব্যস্ এখন আমাকে যেতে হবে, বাচ্চারা অত্যন্ত দুঃখী হয়ে আছে, তারা পরিত্রাণের জন্য কাতর প্রার্থনা করছে। তাদের দেখে আমার করুণা হয়। এখন বাচ্চারা, তোমাদেরকে ঘরে ফিরে যেতে হবে। তারপর সেখান থেকে তোমরা আপনা থেকেই সুখধামে চলে যাবে। সেখানে আমি আর তোমাদের সাথী হবো না, নিজের নিজের অবস্থা অনুযায়ী তোমাদের আত্মা চলে যাবে।

 

বাচ্চারা তোমাদের এই নেশা থাকা উচিত যে আমরা আত্মিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করছি । আমরা গডলী স্টুডেন্ট । আমরা মানুষ থেকে দেবতা হওয়ার জন্য এবং বিশ্বের মালিক হওয়ার জন্য পড়াশোনা করছি। এখান থেকে আমরা সমস্ত ডিগ্রী প্রাপ্ত করি। হেল্থ এর এডুকেশনও পড়ি, ক্যারেক্টার সংশোধনের জন্যও নলেজ আয়ত্ত করি। স্বাস্থ্যমন্ত্রক, খাদ্যমন্ত্রক, ভূমিমন্ত্রক, গৃহমন্ত্রক সবকিছু এরই মধ্যে চলে আসে। তোমরা বড় খাজাঞ্চিও বটে। তোমাদের কাছে যেমন অমূল্য খাজানা আছে আর কারো কাছে থাকতে পারে না। বাচ্চারা তোমাদেরকে এইভাবে বিচার সাগর মন্থন করে আত্মিক নেশায় থাকতে হবে।

 

মিষ্টি মিষ্টি বাচ্চাদেরকে বাবা বোঝাতে থাকেন যে, যখন কোনো সভাতে ভাষণ করো অথবা কাউকে কোনো কিছু বোঝাতে থাকো, তখন বলো যে - ক্ষণে ক্ষণে নিজেকে আত্মা ভেবে পরমপিতা পরমাতাকে স্মরণ করো। এই স্মরণের দ্বারাই তোমাদের বিকর্ম বিনাশ হবে, তোমরা পবিত্র হয়ে উঠবে। ক্ষণে ক্ষণে তাঁকে স্মরণ করতে হবে। কিন্তু তোমরা এটা তখনই বলতে পারবে যখন নিজেরা প্রতি মুহূর্তে স্মরণে থাকবে। এই বিষয়ে বাচ্চারা অনেক দুর্বলতা । নিজে স্মরণে থাকলে তবেই অন্যদেরকে বোঝানোর প্রভাব পড়বে। তোমাদের বেশি কথা বলার প্রয়োজন নেই। আত্ম-অভিমানী হয়ে অল্প কথায় বোঝাবে, তো তা মনে গেঁথে যাবে। বাবা বলেন বাচ্চারা যা হয়ে গেছে তা অতীত। এখন প্রথমে নিজেকে শোধরাও। নিজে স্মরণ করবে না অথচ অন্যদেরকে স্মরণ করার কথা বলবে, এইরকম লোক ঠকানো চলবে না। ভেতরে ভেতরে বিবেক দংশন অবশ্যই হবে। বাবার প্রতি সম্পূর্ণ ভালোবাসা না থাকলে শ্রীমতে চলতে পারবে না। অসীম জগতের বাবার মতো এমন শিক্ষা আর কেউ দিতে পারে না। বাবা বলেন মিষ্টি বাচ্চারা এই পুরাতন দুনিয়াকে সম্পূর্ণ রূপে ভুলে যাও। পরে তো এ সকল ভুলতেই হবে। বুদ্ধি যুক্ত হয়ে যায় নিজের শান্তিধাম এবং সুখধামে। বাবাকে স্মরণ করতে করতে বাবার কাছে চলে যেতে হবে। সেখানে পতিত আত্মারা তো যেতে পারবে না। কারণ সেটা হলই পবিত্র আত্মাদের ঘর। এই শরীর ৫ তত্ত্ব দ্বারা গঠিত হয়েছে। তাই এই পাঁচ তত্ত্ব এখানে থাকার জন্য আকর্ষণ করে, কারণ আত্মা যেন প্রপার্টি নিয়ে নিয়েছে, তাই শরীরের প্রতি মমত্ব হয়ে গেছে। এখন এর প্রতি মোহ ত্যাগ করে নিজের ঘরে ফিরে যেতে হবে, সেখানে এই ৫ তত্ত্ব নেই। সত্যযুগেও যোগ বলের দ্বারা শরীর তৈরি হয়, প্রকৃতি সতোপ্রধান হয়, সেই কারণে তা নিজের প্রতি আকর্ষণ করে না, দুঃখ হয় না। এ সকল অত্যন্ত সূক্ষ্ম বিষয় যা ভালোভাবে বুঝতে হবে। এখানে পাঁচ তত্ত্বের বল আত্মাকে আকর্ষণ করে, তাই শরীর ত্যাগ করার ইচ্ছা হয় না। তা না হলে এতে তো খুশি হওয়ার কথা। পবিত্র হয়ে যখন শরীর ত্যাগ করবে এত মসৃণ ভাবে, যেন মাখন থেকে চুল তুলে ফেলে দেওয়ার মতো। সুতরাং শরীরের প্রতি এবং অন্য সকল বস্তুর প্রতি মোহ একেবারেই ত্যাগ করতে হবে। এ সবের সাথে আমাদের কোনো কানেকশন নেই। আমাদেরকে তো শুধু যেতে হবে এক বাবার কাছে। এই দুনিয়ার থেকে তোমরা নিজেদের ব্যাগ ব্যাগেজ (জিনিসপত্র) গুছিয়ে আগে থেকেই পাঠিয়ে দিয়েছো। সেসব সাথে তো যেতে পারবে না। কেবল আত্মাদেরকেই যেতে হবে। শরীরকেও এখানেই ছেড়ে যেতে হবে। বাবা নতুন শরীরের সাক্ষাৎকার করিয়ে দিয়েছেন। হিরে জহরতের মহল প্রাপ্ত হবে। এমন সুখধামে যাওয়ার জন্য কত মেহনত করা উচিত, ক্লান্ত হয়ে যেও না। দিনরাত অনেক উপার্জন করতে হবে। সেইজন্য বাবা বলেন নিদ্রাজিৎ বাচ্চারা, মামেকম্ স্মরণ করো আর বিচার সাগর মন্থন করো। ড্রামার রহস্যকে বুদ্ধিতে রাখলে বুদ্ধি একেবারে শীতল হয়ে যায়। মহারথী বাচ্চারা কখনো নিজের স্থিতি থেকে বিচ্যুত হবে না। শিববাবাকে স্মরণ করলে তিনিই সামলাবেন।

 

বাচ্চারা, বাবা তোমাদেরকে দুঃখ থেকে মুক্ত করে শান্তির দান দেন। তোমাদেরকেও শান্তির দান দিতে হবে। তোমাদের এই অসীম শান্তি অর্থাৎ যোগবল অন্যদেরকেও একদম শান্ত করে দেবে । দ্রুতই বুঝতে পারবে যে এ আমাদের ঘরের কিনা। আত্মা টান অনুভব করবে যে ইনি আমাদের বাবা । নাড়িও দেখতে হয়, বাবার স্মৃতিতে থেকে তারপর দেখো যে এই আত্মা আমাদের বংশের কিনা। যদি হয় তাহলে সে একেবারেই শান্ত হয়ে যাবে, যে এই বংশের হবে সে সকল কথার মধ্যে রস খুঁজে পাবে। বাচ্চারা স্মরণ করলে বাবাও তাদের ভালোবাসেন। আত্মাকে ভালবাসেন। বাবা জানেন যে, যারা অনেক ভক্তি করেছে তারাই এসে এখন অধিক পড়াশোনা করবে। তাদের চেহারা দেখলেই বোঝা যাবে যে বাবাকে তারা কত ভালোবাসে। আত্মা বাবাকে দেখে। বাবা আমাদেরকে অর্থাৎ আত্মাদেরকে পড়াচ্ছেন। বাবাও জানেন যে তিনি এত ছোট্ট ছোট্ট বিন্দু স্বরূপ আত্মাদেরকে পড়াচ্ছেন। পরবর্তী সময়ে তোমরাও এই অবস্থা প্রাপ্ত করবে, এই বোধ থাকবে যে আমরা ভাই ভাইদেরকে পড়াচ্ছি। চেহারা বোনের হলেও দৃষ্টি আত্মার দিকেই যাবে, শরীরের প্রতি দৃষ্টি যাবেই না, এতে অনেক মেহনত করতে হবে। এ বড় সূক্ষ্ম কথা, অনেক উচ্চ পড়াশোনা। যদি ওজন মাপা হয় তাহলে এই পড়াশুনার পাল্লা অত্যন্ত ভারী হয়ে যাবে । আচ্ছা!

 

মিষ্টি মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা পিতা বাপ-দাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত। আত্মাদের পিতা ওঁনার আত্মারূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।

 

*ধারণার জন্যে মুখ্য সারঃ-*

 

১ ) যা হয়ে গেছে তা অতীত এই ভাব ধারণ করে প্রথমে নিজেকে শুধরাতে হবে।

 

আত্ম অভিমানী হয়ে থাকার মেহনত করতে হবে, বেশি কথা বলার প্রয়োজন নেই।

 

২ ) নিজের ঝোলা, জ্ঞান রত্নে ভরে নিয়ে তারপর তা অন্যদের মধ্যে দান করে দিয়ে সকলের কল্যাণের নিমিত্ত হয়ে উঠতে হবে। সকলের প্রিয় হয়ে উঠতে হবে। অপার খুশিতে থাকতে হবে।

 

*বরদানঃ-*       কর্মক্ষেত্রে কমল পুষ্পের মতো থেকে মায়ার আবর্জনা থেকে সুরক্ষিত থাকা কর্মযোগী ভব

কর্মযোগীকেই আরেক অর্থে কমল পুষ্প বলা হয়। কর্মযোগী অর্থাৎ কর্ম এবং যোগ উভয়ই কম্বাইন্ড হবে, কোনো কর্মের বোঝা অনুভব হবে না। কোনো প্রকারের আবর্জনা অর্থাৎ মায়ার ভাইব্রেশন যেন তাকে টাচ্ করতে না পারে । আত্মার দুর্বলতায় মায়া জন্ম নেয়। দুর্বলতাকে সমাপ্ত করার উপায় হলো প্রতি দিনের মুরলী। এটাই হলো শক্তিশালী তাজা ভোজন। মনন শক্তির দ্বারা এই ভোজনকে হজম করে নাও তবেই মায়ার আবর্জনা থেকে সুরক্ষিত থাকবে।

*স্লোগানঃ-*      সফলতার চাবি দিয়ে সকল খাজানাকে সফল করাই হলো মহাদানী হয়ে ওঠা।


No comments:

https://bkrajyogpathshala.blogspot.com/

01-04-2026 Bengali Murli

 মিষ্টি বাচ্চারা - বাচ্চারা, বাবা যা, বাবা ঠিক যেমন, তোমরা বাচ্চারাও তাঁকে নম্বর ক্রমানুসারেই চিনেছো, যদি সকলেই তাঁকে চিনে গেলে তবে তো অত্যন...