11-02-2023 BANGLA MURLI
"মিষ্টি বাচ্চারা - সর্বদা নিজেকে রাজঋষি মনে করে চলো, তবে তোমাদের সব দিন সুখের সাথে অতিবাহিত হবে, মায়ার দমবন্ধ পরিস্থিতির থেকে সুরক্ষিত থাকবে"
*প্রশ্নঃ - কোন্ চান্স তোমাদের এখনই আছে, পরে আর পাবে না?
*উত্তরঃ - এখনও অল্প বিস্তর সময় বাকি আছে যার সাহায্যে পুরুষার্থ করে পঠন-পাঠনের দ্বারা উচ্চপদ প্রাপ্ত করতে পারবে, পরে আর এই চান্স পাবে না। এই জীবন হল বড়ই দুর্লভ অতএব কখনোই এই খেয়াল আসা উচিত নয় যে দ্রুত মৃত্যু হলে মুক্ত হবো। এই খেয়াল তাদেরই আসে যাদের মায়া বিরক্ত করে অথবা কর্মভোগ আছে। তোমাদের তো বাবার স্মরণের দ্বারা মায়াজীত হতে হবে।
*গীতঃ- ধৈর্য্য ধর রে মন.....
ওম্ শান্তি । বাচ্চারা গীত শুনেছো। কে বললেন আর কারা শুনলো? অসীম জগতের পিতা বললেন আর সকল সেন্টারের বাচ্চারা শুনলো। দেখো বাবার বুদ্ধিযোগ সকল বাচ্চাদের দিকেই যায়। সকল সেন্টারের যে সকল ব্রাহ্মণ কূল ভূষণ বা স্বদর্শন চক্রধারী অথবা রাজঋষি বাচ্চারা আছে সেই বাচ্চাদের এটাও স্মৃতিতে থাকা উচিত যে আমরা হলাম রাজঋষি। রাজত্বের জন্য পুরুষার্থ করছি, যে রাজ্যে দেখা যাবে সর্বদাই সুখে দিন অতিবাহিত হয়। কলিযুগে তো সুখে দিন অতিবাহিতই হয় না। তোমরা যারা রাজঋষি তোমাদেরও এখানে সুখে দিন অতিবাহিত হওয়া উচিত। যদি বাচ্চারা নিজেদের রাজঋষি মনে ক'রে আর নিশ্চয় অটল, অডোল বজায় থাকে। তা না হলে তো মুহূর্মুহূ ভুলে যাওয়ায় মায়ার দমবন্ধ পরিস্থিতি অনেক আসে। বাচ্চারা জানে যে আমরা বাবার থেকে রাজযোগ শিখে সর্বদা সুখের উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করছি অথবা নর থেকে নারায়ণ হচ্ছি। আর সেটা তো পরমপিতা পরমাত্মা ব্যতীত কেউই বানাতে পারেন না।পরমপিতা পরমাত্মা যখন বলা হয় তখন কোনো সকার বা আকারের দিকে বুদ্ধি যায় না, নিরাকার বাবাকে-ই স্মরণ করে। বাবা আশ্বস্ত করেন - বাচ্চারা অল্প বিস্তর সময়ই বাকি আছে। এই কলিযুগ নরকের পরিবর্তে স্বর্গ হবে। হেভেনের(স্বর্গ) স্থাপনা, হেল এর (নরক) বিনাশ তো গায়নে আছে। ভগবান স্বয়ং বসে রাজযোগ শেখান। যে কোনো মানুষ তা হেলের(নরকের) হোক অথবা হেভেনের(স্বর্গের) হোক রাজযোগ শেখাতে পারে না। বাচ্চারা জানে যে আমরা ব্রহ্মা মুখ বংশাবলী ব্রাহ্মণ কূলভূষণরাই হলাম স্বদর্শন চক্রধারী। আমরা আত্মাদেরই সৃষ্টি চক্রের নলেজ আছে। দেবতারা এটা জানে না। স্বদর্শন চক্র শ্রীকৃষ্ণকে অথবা বিষ্ণুকে কেন দেওয়া হয়েছে? কারণ তোমরা ব্রাহ্মণরা এখন সম্পূর্ণ হওনি। নিচে উপর হতে থাকো। এই স্বদর্শন চক্র প্রতীকী হল ফাইনালের। আজ তোমরা স্বদর্শন চক্র আবর্তিত করো, কাল মায়ার কাছে পরাজিত হয়ে নিচে নেমে যাও তাই তোমাদেরকে অলংকার কি করে দেওয়া হবে? স্বদর্শন চক্র তো স্থায়ীভাবে দরকার, সেজন্যই বিষ্ণুকে দেখানো হয়েছে। এটি হল অনেক গূহ্য বিষয়। যে কোনো বিষ্ণুর মন্দির হোক অথবা কোনো স্বদর্শন চক্রধারীর মন্দির হোক সেখানে গিয়ে তোমরা বোঝাতে পারবে। শ্রীকৃষ্ণকেও স্বদর্শন চক্র দেওয়া হয়। রাধা কৃষ্ণ যুগলের চিত্রে স্বদর্শন চক্র দেওয়া হয় না। স্বদর্শন চক্রধারী তো হলে তোমরা ব্রাহ্মণ কূলভূষণরাই, যাদের পরমপিতা পরমাত্মা স্বদর্শন চক্রধারী অথবা ত্রিকালদর্শী বানান। তারাই যখন দেবতা হয় তখন তাদেরকে ত্রিনেত্রী, ত্রিকালদর্শী, ত্রিলোকীনাথ বলা যায় না কারণ এখন তো আমরা স্বর্গের সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠতে থাকি। সত্যযুগ থেকে তো সিঁড়ির নিচের দিকে নামতে থাকে। ওখানে এই জ্ঞান থাকে না। ওখানে তো এটা জানলে তোমরা রাজত্ব করতে পারবে না, এটাই চিন্তা লেগে থাকবে।
এখন বাবা বাচ্চাদেরকে ধৈর্য প্রদান করেন যে, ঘাবড়ে যেও না। মায়ার উপরে বিজয় প্রাপ্ত করতে হবে। মায়া তুফান আসবে অবশ্যই, বিঘ্নও পড়বে। এর উপশম হল যোগে থাকো। মায়া যোগও ছিন্ন করে দেয়। কিন্তু পুরুষার্থ করে যোগে থাকতে হবে। যারা যোগে থাকবে তাদের আয়ুও বাড়বে। যত আয়ু বড়ো হবে ততই অন্তিমকাল পর্যন্ত বাবার সাথে যোগযুক্ত হয়ে উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করতে পারবে। যোগের দ্বারা নিজের স্বাস্থ্যকেও ঠিক রাখতে হবে, সেইজন্যই বাবা বলেন যোগী ভব। আমাকে নিরন্তর স্মরণ করো। যত পুরুষার্থ করবে ততই স্বর্গে প্রালব্ধ প্রাপ্ত করবে। তাই বাবা বলেন যে বাচ্চারা যোগে থাকলে তোমাদের বিকর্ম বিনাশ হবে। বাকি অল্প সময়ই বাকি আছে। তোমরা এ'রকম বলবে না যে বিনাশ দ্রুত হলে আমরা স্বর্গে যাবো কারণ এই জীবন হল বড়ই দুর্লভ। এ'রকম নয় যে এখন শরীর ত্যাগ করে আবার নতুন শরীর নিয়ে পঠন-পাঠন করতে পারবে। বাল্য অবস্থাতেই বিনাশ আরম্ভ হয়ে যাবে। সাবালকও হতে পারবে না, কারণ এতে ছোট বড় সকলেরই বিনাশ হয়ে যাবে। দ্রুত মৃত্যু হোক, এটা তারাই বলবে যাদের মায়া অনেক বিরক্ত করে অথবা কোনো কর্মভোগ আছে, সেটা থেকে মুক্ত হতে চাইছে। কিন্তু এই চান্স আর পাওয়া যাবে না, সেইজন্য পুরুষার্থে যুক্ত হয়ে পড়ো। বাকি তো যখন সময় আসবে তখন না চাইলেও সকলকে যেতেই হবে। কারণ বাবা সকলকে রূহানী যাত্রায় নিয়ে যাবেন। এমন নয় যে কেবল ১০-২০ লক্ষকেই নিয়ে যাবেন। যেমন কুম্ভের মেলায় ১০-১৫ লক্ষ যায়। এটা তো হল আত্মা পরমাত্মার মেলা। বাবা স্বয়ং পান্ডা হয়ে নিতে এসেছেন, এঁনার পিছু পিছু তো অগণিত আত্মারা যাবে। কিন্তু এমনও নয় যে সকলে দ্রুত যাবে। প্রলয় হলে তো এই ভারতখন্ড থাকবেই না। কিন্তু এই ভারত হল অবিনাশী খন্ড। এখানে অনেকেই থেকে যায়। তারপর সত্যযুগে একটাই সূর্যবংশী রাজধানীর স্থাপন হবে। কলিযুগের বিনাশ, সত্যযুগ স্থাপনা হওয়ার মধ্যবর্তী সময়ে অল্প বিস্তর সময় থেকে যায়, এতে অল্প বিস্তর থেকে যায় যারা নতুনভাবে নিজো রাজধানী বানায়। বাকি পুরুষার্থের জন্য এই অল্প বিস্তর সময় বাকি আছে, একেই কল্যাণকারী যুগ বলা হয়। অন্যরা সঙ্গমকে কল্যাণকারী বলবে না, কারণ নিচে নামতে থাকে। এখন সম্পূর্ণ সুখ থেকে সম্পূর্ণ দুঃখে এসে গেছি। এই নলেজ অন্য কারোর বুদ্ধিতে নেই। পূর্বে আমরাও কিছু জানতাম না, অন্ধশ্রদ্ধায় সকলের পূজা করতাম। এখন তো সকল প্রকারের শ্রীমত প্রাপ্ত হয়। কারবারও সেটাই করে যেমনটা কোনো ধনী ব্যবসায়ী করে থাকে। যেমন কলাকৌশল শিখে থাকে। এটা হল মনুষ্য থেকে দেবতা হওয়ার কলাকৌশল। এর প্রতিই মনোযোগ দিতে হবে।
বাবা রোজ অমৃত বেলায় এসে পড়ান তাই সেই সময় বাবার সামনে প্রত্যেক সেন্টারের বাচ্চারা থাকে। বাবা বলেন যে আমি তোমাদের সকল বাচ্চাদের স্মরণ করি এতে মায়া আমায় কোনো বিঘ্ন দিতে পারে না। তোমরা বাচ্চারা আমাকে মুহূর্মুহূ ভুলে যাও, মায়া তোমাদের বিঘ্ন দেয়। কেউ কেউ লেখে যে বাবা আমরা বাচ্চাদের ভুলো না। কিন্তু আমি তো কখনোই ভুলি না। আমাকে তো সকলকে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে হবে। আমি তো রোজ স্মরণের স্নেহ-সুমন দিই। বাচ্চাদের খাজানা পাঠিয়ে দিই। সকলকে ধিক্কার জানাতে থাকি যে বাবার শ্রীমতের আধারে অসীম জগতের উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করার পুরুষার্থ করো। এতে গাফিলতি বা বাহানা দিও না। বলেন যে কর্মবন্ধন আছে। এটা তো হল তোমাদের, বাবা কি করবেন। বাবা বলেন যে যোগে থাকো তাহলে কর্মবন্ধন থেকে মুক্ত হতে পারবে। তোমাদের দ্বারা বিকর্ম হবে না। অর্ধ-কল্প তোমরা বিকর্ম থেকে মুক্ত হয়ে যাবে। তারপর উচ্চ পদ প্রাপ্ত করার জন্য সার্ভিসও করতে হবে। মাম্মা বাবা কিভাবে ভালোভাবে বোঝাতেন। কোনো কোনো বাচ্চাও ভালো সার্ভিস করে। তোমাদের কেউ জিজ্ঞাসা করলে তোমাদের এইম অবজেক্ট কি, এই কার্ড হাতে দিয়ে দাও। তার দ্বারা সকলে বুঝে যাবে যে এরা কোন্ কারবারে আছে। (তারা তখন বলবে) এরা তো বড় ব্যবসায়ী। প্রত্যেকের নাড়ি দেখে নিতে হবে। সবথেকে ভালো হল চক্রের উপর বোঝানো। যেমনই মানুষ হোক না কেন, চক্র দেখে বুঝে যাবে যে এটা হল প্রকৃতভাবেই কলিযুগ এখন সত্যযুগ আসতে চলেছে। খ্রীস্টানদেরও তোমরা বোঝাতে পারবে যে এটা হলো হেল, এখন হেভেন স্থাপন হতে চলেছে। তা তো অবশ্যই হেভেনলী গডফাদারই করতে পারেন। কিন্তু মানুষের বুদ্ধি এমনই হয়ে গেছে যে নিজেকে নরকবাসীও মনে করে না। বলে যে অমুকে স্বর্গবাসী হয়েছে, তাহলে বুঝতে হবে অবশ্যই আমরা নরকেই আছি। এখন হল কলিযুগ, পূর্নজন্মও অবশ্যই কলিযুগেই নেবে। স্বর্গ কোথায়? বাবা তো বলেন যে শ্মশানে গিয়েও বোঝাও। কিন্তু বাচ্চারা দ্রুতই ক্লান্ত হয়ে যায়। বোঝাতে হবে যে এখন তো হল কলিযুগ। যদি স্বর্গে পুনর্জন্ম নিতে চাও তাহলে এসে বোঝো। আমরাও পুরুষার্থ করছি, যা আর নরকও থাকবে না। স্বর্গে যেতে চাও? ওখানে বিষ পাওয়া যাবে না। সেটা এখানেই পরিত্যাগ করতে হবে। কিভাবে? এই বাবা যুক্তি বলে দেন।
নেপালে বিজয়া অষ্টমীর দিন ছোট বড় সকলে শিকার করে। তোমাদের সকলকে বোঝাতে হবে, ঘরে-ঘরে শিবের এবং লক্ষ্মী-নারায়রণের চিত্র অবশ্যই রাখতে হবে। চাকরদের, মিস্ত্রীদেরকেও বোঝাতে হবে মৃত্যু সামনে উপস্থিত । বাবাকে স্মরণ করো তাহলে উত্তরাধিকার প্রাপ্ত হবে। বাবা সকলের মনস্কামনা স্বর্গের জন্য পূরণ করেন। যোগযুক্ত হওয়ায় বাবা সাক্ষাৎকারও করাতে পারেন। বাবা হলেনই কল্যাণকারী তাই বাচ্চাদেরও এইরূপ কল্যাণকারী হতে হবে। গরিবরাই নিজেদের কল্যাণ করে। ধনীরা খুব কমই করে। বড় বড় সন্ন্যাসীরাও অন্তিমে আসবে। এখন বেশিরভাগই গরিব সাধারণরাই জ্ঞান ধারণ করে। বাবাও সাধারণ তনে আসেন, গরিবের মধ্যে নয়। যদি ইনিও গরিব হতেন তাহলে কিছুই করতে পারতেন না। গরিব কিভাবে এতজনকে সামলে রাখতে পারতো! তাই যুক্তি দেখো কীভাবে সব রক্ষা করেছেন। সাধারণরাই সমর্পিতও হয় আর এতো সকলের লালন পালনও হতে থাকে। এনার সাথে সাথে অনেকেও সমর্পিত হয়ে উত্তরাধিকার হয়ে গেছে। আচ্ছা!
মিষ্টি-মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত। আত্মাদের পিতা ওঁনার আত্মা রূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।
*ধারণার জন্যে মুখ্য সারঃ-*
১ ) বাবা মানুষ থেকে দেবতা বানানোর যে কলাকৌশল শিখিয়েছেন, তাতেই সংযুক্ত হতে হবে।
২ ) শ্রীমত অনুসরণ করাতে গাফিলতি অথবা বাহানা করবে না। কর্মবন্ধন থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য স্মরণের যাত্রায় থাকতে হবে।
*বরদানঃ-* শ্রেষ্ঠ কর্মধারী হয়ে উচ্চ ভাগ্য নির্মাণকারী পদ্মপদম ভাগ্যশালী ভব
যার শ্রেষ্ঠ কর্ম যত তার ভাগ্যের রেখাও ততই লম্বা আর স্পষ্ট। ভাগ্য বানানোর সাধন হলই শ্রেষ্ঠকর্ম। তাই শ্রেষ্ঠ কর্মধারী হও আর পদ্মপদম ভাগ্যশালীর ভাগ্য প্রাপ্ত করো। কিন্তু শ্রেষ্ঠ কর্মের আধার হল শ্রেষ্ঠ স্মৃতি। শ্রেষ্ঠ থেকে শ্রেষ্ঠ বাবার স্মৃতিতে থাকাতেই শ্রেষ্ঠকর্ম হবে, সেইজন্য যত চাও ততো লম্বা ভাগ্যের রেখা টেনে নাও। এই এক জন্মে অনেক জন্মের ভাগ্য তৈরী হতে পারে।
*স্লোগানঃ-* নিজের সন্তুষ্টতার পার্সোনালিটির দ্বারা অনেককে সন্তুষ্ট করাই হল সন্তুষ্টমণি হওয়া।
মাতেশ্বরী জীর অমূল্য মহাবাক্য -
১ ) মানুষ এই যে গীত গায় ও গীতার ভগবান তোমার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে এসো! এখন সেই স্বয়ং তিনি গীতার ভগবান, নিজের কল্প পূর্বের দেওয়া প্রতিশ্রুতি পালন করার জন্য এসেছেন আর বলছেন হে বাচ্চারা, যখন ভারতে ধর্মের অত্যন্ত গ্লানি হয় তখনই, সেই সময়ই আমি আমার প্রতিশ্রুতি পালন করবার জন্য অবশ্যই আসি। তবে আমার আসার অর্থ এটা নয় যে আমি প্রত্যেক যুগে আসি। সকল যুগে তো ধর্মের গ্লানি হয় না, ধর্মের গ্লানি হয়ই কলিযুগে । তাই এটা মানতেই হবে যে পরমাত্মা কলিযুগের সময়ে আসেন। আর কলিযুগ প্রত্যেক কল্পে আসে। তাই এটা মানতেই হবে যে আমি কল্পে কল্পে আসি। কল্পের মধ্যে রয়েছে চার যুগ, একেই কল্প বলা হয় । অর্ধ কল্প সত্যযুগ ত্রেতাতে হলো সতোগুণ সতোপ্রধান, সেখানে পরমাত্মার আসার কোনো প্রয়োজন হয় না। আর তারপর তৃতীয় হলো দ্বাপর যুগ থেকে তো তারপর অন্য ধর্ম গুলি শুরু হয়। সেই সময়ও ধর্মের অতি গ্লানি হয় না । এতে প্রমাণিত হয় যে দ্বাপরের পরে তো এখন সত্যযুগ হওয়া উচিত ছিল, তাহলে কলিযুগ কেন? এই রকম তো বলা যাবে না যে, পরমাত্মা ঘোর কলিযুগের স্থাপনা করেছেন। এটা তো হতে পারে না। সেইজন্য পরমাত্মা বলেন - আমি হলাম এক আর একবারই এসে অধর্মের, কলিযুগের বিনাশ করে সত্যযুগের স্থাপনা করি, সুতরাং আমার আসার সময় হলো সঙ্গমযুগ।
২ ) মানব আত্মাদের ভাগ্য কে গড়েন আর তার ভাগ্যকে কে নষ্ট করে দেয়? আমরা এই রকম কখনোই বলবো না যে ভাগ্য গড়েন পরমাত্মা আবার বিগড়েও দেন তিনিই। অবশ্যই এটা বলবো যে, আমাদের ভাগ্য নির্মাণকারী হলেন পরমাত্মা আর ভাগ্যকে তছনছকারী হলো মানুষ নিজেই। তাহলে এই ভাগ্য নির্মাণ হয়েছিল কীভাবে? আর ভেঙে গিয়েছিল কীভাবে? এই বিষয়েই বোঝানো হয়ে থাকে । মানুষ যখন নিজেকে জানতে পারে আর পবিত্র হয়, তখন তার বিগড়ে যাওয়া ভাগ্যকে সে আবার গড়ে নেয়। এখন যখন আমরা বিগড়ে যাওয়া ভাগ্য বলে থাকি, এর দ্বারা প্রমাণ হয় যে, কোনও সময় আমাদের ভাগ্য গঠিত হয়েছিল নিশ্চয়ই, যা আবার বিগড়ে গেছে। এখন সেই বিগড়ে যাওয়া ভাগ্যকে পরমাত্মা এসে স্বয়ং তৈরী করে দেন। এখন কেউ কেউ বলে পরমাত্মা নিজে তো নিরাকার, তিনি ভাগ্যকে কীকরে তৈরী করবেন? এই বিষয়ে বোঝানো হয়েছে যে, নিরাকার পরমাত্মা কীভাবে তাঁর সাকার ব্রহ্মার তন এর দ্বারা, অবিনাশী নলেজ এর দ্বারা আমাদের বিগড়ে যাওয়া ভাগ্যকে বানিয়ে দেন। এই নলেজ দেওয়া হলো পরমাত্মার কাজ, এছাড়া মানব আত্মারা কারোরই ভাগ্যকে জাগাতে পারে না। ভাগ্যকে জাগাতে পারেন একমাত্র পরমাত্মাই। সেই কারণেই তো তাঁর স্মরণ চিহ্ন রূপে মন্দির পরিলক্ষিত হয় । আচ্ছা । ওম্ শান্তি ।
No comments:
Post a Comment