Monday, February 20, 2023

21.02.2023 BANGLA MURLI

                                    21.02.2023 BANGLA MURLI



"মিষ্টি বাচ্চারা - কোনো জিনিসের প্রতি আসক্তি রাখা উচিত নয়, দেহ সহ সবকিছুর থেকে বেগার (ভিখারি) হতে হবে, শিবপুরী আর বিষ্ণুপুরীকে স্মরণ করতে হবে"

*প্রশ্নঃ -     দীনদয়াল বাবা গরিব বাচ্চাদেরও কোন্ বিষয়ে নিজের সমান তৈরি করে থাকেন?

*উত্তরঃ -   বাবা বলেন আমি যেমন উদার চিত্তের, অবগুণ নিয়ে তোমাদের বাদশাহী দিয়ে থাকি, তেমনি বাচ্চারা তোমাদেরও, যদিও তোমরা বাচ্চারা গরিব তবুও তোমরাও দরাজদিল হও। অল্প পয়সা দিয়েও এই গডলি ইউনিভার্সিটি খোলো, এতে কোনো খরচ নেই। ৩-৪ জনও যদি এই ইউনিভার্সিটি থেকে ভালো ফল পেয়ে থাকে তবে যে এটা খুলবে তার অহো সৌভাগ্য। কেবল সুপুত্র (আজ্ঞাকারী) হয়ে থাকতে হবে। কাম, ক্রোধের বশীভূত হয়ে কখনোই সদ্গুরুর নিন্দা করাবে না।

ওম্ শান্তি । বাপদাদা আর মাম্মা। মাম্মা দুইজন হয়ে থাকেন - দাদী আর মা। ইনি তোমাদের বড় মা (ব্রহ্মা)। কিন্তু বাচ্চাদের দেখাশোনা (সামলানো) করার জন্য জগৎ অম্বা নিমিত্ত হয়েছেন। শিববাবা হলেন বহুরূপী, তিনি তোমাদের সাথে খেলাধুলাও করেন। যেমন আনন্দানুষ্ঠান হয় না! বিয়েতে যখন বাগদান হয় তখনও আনন্দানুষ্ঠান হয় এবং বিয়ের অনুষ্ঠানের আগে দু'জনেই ছেঁড়া পোষাক পড়ে এবং তাদের গায়ে তেল মাখিয়ে দেওয়া হয় (গায়ে হলুদ) । এই রীতি এখান থেকেই নেওয়া হয়েছে। বাচ্চারা তোমাদেরকেও বাবা বুঝিয়ে থাকেন সম্পূর্ণ রূপে বেগার (ভিখারি) হতে হবে। কোনো কিছুই যখন থাকবে না তখনই সবকিছু পাবে। দেহ সমেত কিছুই যেন না থাকে। শিবপুরী, বিষ্ণুপুরীর দিকেই বুদ্ধিযোগ লাগিয়ে রাখতে হবে আর কোনো জিনিসের প্রতিই যেন আসক্তি না থাকে। অবশ্যই পবিত্র হতে হবে। মীরাকে দেখো তার কত গায়ন আছে। লোকলাজ এর (সমাজের মতামত) প্রতি কোনো পরোয়া ছিল না। শুধু পবিত্রতার জন্যই তার এতো নাম। জ্ঞানের অমৃতও মীরা পায়নি। তার শুধুই শ্রী কৃষ্ণের প্রতি ভালোবাসা ছিল। কৃষ্ণপুরীতে যাওয়ার জন্য বিষ ত্যাগ করেছিল, ঠিক যেমন একজন স্ত্রী তার স্বামীর চিতায় আত্মাহূতি দিয়ে সতী হয়। এমন তো নয় যে মীরা স্মরণ করতে-করতে কৃষ্ণপুরীতে গেছে। ঐ সময় কৃষ্ণপুরী তো ছিল না। মীরা ৫-৭ শো বছর আগে বিদ্যমান ছিল। মীরা খুব ভক্ত ছিল, সেইজন্যই কোনো ভালো ভক্তের ঘরে তার জন্ম হয়েছে। তার নাম কতভাবে চলে আসছে। সেটা তো মীরার ভক্তি ছিল। তোমরা এখন হলে জ্ঞানের মীরা । তোমরা এসেছো সূর্যবংশীয়, চন্দ্রবংশীয়তে মহারানী হওয়ার জন্য। যদিও প্রথমে অশিক্ষিত, শিক্ষিতদের কাছে মাথা নত করে, তবুও তারা মহারানি তো হবে তাইনা। যদি কেউ শৈশবকে ভুলে গিয়ে বাবার হাত ছেড়ে দেয় তবে সে কখনো মহারানী হবে না আর প্রজার মধ্যে তার পদ মর্যাদাও কমে যাবে। বৈকুন্ঠে তো আসবে কিন্তু পদ কম হয়ে যাবে। বাবা বুঝিয়েছেন - যারা ভক্তি করে তাদের জিজ্ঞাসা করা উচিত যে তোমরা কি চাও? কেন কৃষ্ণের ভক্তি করো? নিশ্চয়ই অন্তর চায় যে তার রাজধানীতে যাই। কিন্তু সেখানে যাবে কীভাবে? অসংখ্য মানুষ বলে থাকে শান্তি চাই। কিন্তু অশান্তি তো সম্পূর্ণ দুনিয়াতে। তুমি একা শান্তি পেলে কি করে হবে। আমি তোমাদেরকে ২১ জন্মের জন্য সুখী করে তুলতে পারি। দেবতারা এই ভারতেই সবসময়ই সুখী ছিল। পুনরায় সেই রাজধানী স্থাপন হচ্ছে। এখানে তো শুধুই মায়ার রাজ্য, শান্তি পাওয়া সম্ভব নয়। শান্তির জন্য আলাদা জায়গা আছে, সুখের জন্য আলাদা জায়গা আছে। সুখধামে সবাই সুখী হয়। কোনো একজনও সেখানে দুঃখী হয়না আর দুঃখধামে একজনও সুখী হতে পারে না। এখানে যেমন রাজা রানী তেমনই প্রজা সবাই দুঃখী থেকে দুঃখী। সুখধামে কোনো জানোয়ারও দুঃখ ভোগ করে না। শান্তির দুনিয়াই সম্পূর্ণ আলাদা, যাকে নির্বাণধাম বলা হয়। শরীর ত্যাগ করলে বলে থাকে অমুকে নির্বাণধামে চলে গেছে। কিন্তু কেউ-ই যায় না। যদি কেউ গিয়ে থাকে, যাওয়ার আগে কী করে গেছে? সবাই এখানে দুঃখীই দুঃখী, কত লড়াই-ঝগড়া হয়। কেউ বলে আমাদের দেশ থেকে হিন্দুরা চলে যাক, কেউ বলে অমুক চলে যাক। একে অপরকে সহ্য করতে পারে না। বাবাও দেখছেন এখন অনেক ধর্ম হয়ে গেছে সুতরাং লড়াই করতেই থাকে, সেইজন্যই সমস্ত দেহের ধর্মকে বাদ দিয়ে দেন। বাবা বলেন যে যেই ধর্মেরই হোক না কেন, আমি তাদের শরীরের ধর্ম থেকে বের করে দেব। সত্যযুগে শুধুমাত্র এক দেবতা ধর্ম থাকে। এইসব জ্ঞান তোমরা বাচ্চাদের বুদ্ধিতে আছে। হাতে চিত্র নিয়ে তোমাদের বাণপ্রস্থীদের (অবসর গ্রহণের পর্যায়ে থাকা) বোঝানো উচিত। তোমাদের মন্দিরে যাওয়া উচিত। তাদের জিজ্ঞাসা করা উচিত যে শঙ্করের সামনে শিবকে দেখানো হয়েছে সুতরাং নিশ্চয়ই শঙ্করের থেকে বড় (শ্রেষ্ঠত্বে) হবেন। যদি শঙ্করই ভগবানের রূপ হবে তবে তার সামনে শিবলিঙ্গ রাখার কি দরকার। সন্ন্যাসী নিজেকে ব্রহ্ম জ্ঞানী, তত্ত্ব জ্ঞানী বলে থাকে। শিব সম্পর্কে তারা জানেই না। তত্ত্ব তো বলা হয় থাকার স্থানকে। ওরা ব্রহ্ম আর তত্ত্বকে এক বলে মানেই না। আচ্ছা ব্রহ্ম জ্ঞানী, তত্ত্ব জ্ঞানী হলে তারপর আবার নিজেকে শিব বলে কেন? ওরা তো মনে করে শিব এবং ব্রহ্ম এক ও অভিন্ন। ব্রহ্ম হলো নিবাস স্থান। মানুষ খুব বিভ্রান্তিতে পড়ে যায় । বাচ্চারা তোমাদের এখন বুদ্ধিমান হতে হবে। তোমরা সন্ন্যাসীদেরও বোঝাতে পারো। তাদের মধ্যে যারা সত্যিকারের দেবতা ধর্মের হবে তারাও বেরিয়ে আসবে, আর তারা দ্রুত এই জ্ঞান বুঝতে পারবে। যারা ৩-৪ জন্ম আগে কনভার্ট হয়েছিল তারা এতো তাড়াতাড়ি সেই ধর্ম থেকে বেরিবে আসবে না। যারা সম্প্রতি ধর্মান্তরিত হয়েছে তারা দ্রুত বেরিয়ে আসবে। বাবারও প্রচেষ্টা থাকে। বাবা হলেন চুম্বক। আত্মারা ছুঁচ । এখন ছুঁচের মধ্যে জং পড়ে গেছে। জং পড়া ছুঁচ উপরে কীভাবে যাবে। ডানা ভেঙে গেছে। জং পড়া জিনিস কেরোসিন তেলে ঢালা হয়। বাবাও এই জ্ঞান অমৃতের দ্বারা সবার জং পরিষ্কার করছেন। তারপর আমরা সত্যিকারের সোনা হয়ে যাবো। তোমরা এখন পাথরনাথ থেকে পারসনাথ হচ্ছো। ভারত পারসপুরী ছিল। এখন দেখো সোনার মূল্য কত বৃদ্ধি পেয়েছে। ওখানে সস্তা হয়ে যাবে। ভারত, যা এখন পাথরের ভূমিতে পরিণত হয়েছে পুনরায় দেবত্বের ভূমি হবে। আমাদের বুদ্ধিতে এই চক্র ঘুরতেই থাকে। সারাদিন চক্র বুদ্ধিতে ঘুরলে তবেই চক্রবর্তী রাজা রাণী হবে। দুনিয়াতে এই বিষয়ে কেউ-ই কিছু জানে না। তোমরা জানো সত্যযুগে যারা রাজত্ব করে, তাদের ৮৪ জন্ম হয়। তারপর ত্রেতায় আসবে যারা তাদের জন্ম নিশ্চয়ই কম হবে। কোথায় ৮৪ জন্ম, কোথায় ৮৪ লক্ষ বলে থাকে। তবে তো প্রতিটি চক্রের সময়কালও এতো দীর্ঘ হওয়া উচিত, যাতে তারা এতোগুলো জন্ম নিতে পারে। এসবই গল্প কথা। সবসময় তাদের প্রথমে চিত্র দেওয়া উচিত। এর জন্য কখনও তোমরা পয়সা চাইবে না। তোমাদের কাজ হচ্ছে দেওয়া। তারা যদি কিছু দিতে চায় স্বেচ্ছায় দেবে। তোমাদের কাছে দাম জিজ্ঞেস করলে বলবে বাবা তো গরিবের প্রভু। গরিবদের জন্যই বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়। ধনী ব্যক্তিরা যা দেবে সেটা দিয়ে আমরা আরও প্রিন্ট করব। আমরা আমাদের ব্যক্তিগত প্রয়োজনে থোড়াই অর্থ ব্যবহার করি! যা পাওয়া যায় মানুষের সেবার কাজে লাগানো হয়। বিত্তবান হলে ধর্মশালা ইত্যাদি তৈরী করে থাকে । এখানে গরিবও সেন্টার তৈরি করতে পারে, এতে কোনো খরচ নেই। মনে করো যদি কেউ বলে আমি সেন্টার খুলব অথবা গডলি ইউনিভার্সিটি খুলব। তারপর সেই গডলি ইউনিভার্সিটি থেকে যদি তিন-চারজনও ভালো ফল পায়, তবে সেই সেন্টার যারা খুলেছে তাদের জন্য অহো সৌভাগ্য। এরজন্য উদার হৃদয় হতে হবে। দেখো বাবা কত উদার! বাবা তোমাদের সমস্ত অবগুণ নিয়ে বাদশাহী দিয়ে থাকেন। সপুত (আজ্ঞাকারী) বাচ্চারাই বাবার সার্ভিস করতে পারে। কপুত (আজ্ঞা অমান্যকারী) বাচ্চারা কি করবে ! কপুত্রদেরকে বাবা থোড়াই উত্তরাধিকার দেবেন ! তোমাদের সদ্গুরুকে দেখাতে হবে। কাম অথবা ক্রোধ করা অর্থাৎ সদ্গুরুর নিন্দা করা, তারপর পদও ভ্রষ্ট হয়ে যাবে। খুব সাবধানে চলতে হবে। বাবা বলেন বিষের উত্তরাধিকার তো লৌকিক বাবার কাছ থেকে, স্বামীর কাছ থেকে নিয়ে আসছো। এখন এই পারলৌকিক পিতা, স্বামী অমৃতের উত্তরাধিকার তোমাদের দিচ্ছেন।

 

তোমরা সব ধর্মাবলম্বীদের রচয়িতা আর রচনার নলেজ দিতে পারো। ঐ রচয়িতা থাকেন শান্তিধামে। তাঁকে স্মরণ করে তোমরা শান্তির বর্সা নিতে পারো। বর্সা নিতে-নিতে বিকর্ম বিনাশ হয়ে যাবে আর তোমরা তাঁর কাছে চলে যেতে পারবে। এই জ্ঞান সমস্ত ধর্মাবলম্বীদের জন্য। এই জ্ঞান সম্পূর্ণ নতুন। শাস্ত্র হচ্ছে ভক্তি মার্গের জন্য। দরজায়-দরজায় ধাক্কা খাওয়া, ব্রাহ্মণকে খাওয়ানো, তীর্থে যাওয়া। এখানে শুধুমাত্র একটা জ্ঞানের মাধ্যমেই তরী পার করা যায়। আর কোথাও যাওয়ার প্রয়োজন নেই। সুতরাং মিষ্টি-মিষ্টি বাচ্চারা এখন তোমরা স্বর্গে যাচ্ছো। যারা বিষ পান করে তারা বিঘ্ন তো অবশ্যই সৃষ্টি করবে কেননা সম্পূর্ণ দুনিয়া প্রতারণায় ভরে গেছে। দেখো ভারতে পবিত্রতা নেই সেইজন্যই ধাক্কা খেতে থাকে। এখানে হাঙ্গামা, স্ট্রাইক করতেই থাকে। গভর্নমেন্টের জন্য অনেক সমস্যা সৃষ্টি করে। গভর্নমেন্ট তাদের স্পষ্টভাবে বলে যে এতো খরচ মেটানোর জন্য এতো টাকা কোথায় পাব? মানুষ বলে তোমরা আনন্দ করছো, পয়সা ওড়াচ্ছো। ধন একত্রিত করছ, আমরা কি অপরাধ করেছি। আমাদের মাইনে চাই। স্ট্রাইক করলে কাজকর্ম বন্ধ হয়ে যায়। এ'সব হবেই। কোথাও সবজি পাওয়া যাবে না, কোথাও বা দুধ পাওয়া যাবে না, যত্রতত্র গন্ডগোল হয়ে চলেছে। এসব হাঙ্গামা হওয়ার পর তারপর শান্তি আসবে। বিনাশ এবং তারপর বিষ্ণুপুরীর সাক্ষাতকার তো অর্জুনকেও করিয়েছিল তাইনা। তোমরাও এখন দেখছো। দেখো, কোথাও বৃষ্টি হচ্ছে না তখন তার জন্য যজ্ঞ রচনা হচ্ছে। কোথাও খুব অশান্তি হচ্ছে শান্তির জন্য যজ্ঞ করা হচ্ছে। কিন্তু পীসফুল তো হলেন একজনই, ভগবান। তিনি যখন আসেন শান্তি প্রদান করেন। দাতা তো হলেন একজনই । দেখো তোমরা কতো আদরের বাচ্চারা। অনেক জন্ম পরে অন্তিমে এসে তাঁর সাথে মিলিত হয়েছো। সুতরাং সম্পূর্ণ সৌভাগ্য প্রাপ্ত করে নাও। বাচ্চাদের টোলপুট বলা হয়, (টোলির মতো মিষ্টি)। এক হলো জাগতিক মিষ্টি, এ হলো রূহানী মিষ্টি যা আত্মিক পিতা দিয়ে থাকেন। দেহী-অভিমানী হয়ে থাকতে হবে- লক্ষ্য অনেক বড়। এতেই পরিশ্রম করতে হয়। বাবা বলেন ৮ ঘন্টা দেহী-অভিমানী হয়ে থাকো তারপর শরীর নির্বাহের জন্য কাজকর্ম করো। রাতে জেগে থাকলে খুব ভালো প্রভু প্রেম অনুভব করতে পারবে। এর মধ্যে উপার্জন আছে না ! হে নিদ্রা বিজয়ী বাচ্চারা, আমি বাবাকে প্রতিটি নিঃশ্বাসে-নিঃশ্বাসে স্মরণ করো। বিচার সাগর মন্থন করো। দিবারাত্র যত যোগযুক্ত হয়ে থাকবে ততই বিকর্ম বিনাশ হবে আর জ্ঞানের সাগর মন্থন করলে ততই উপার্জন হবে। বাদবাকি সার্ভিস তো অনেক আছে। বাবাকে জিজ্ঞাসা করলে বাবা বলবেন বসে থাকো, আরাম করো, জিজ্ঞাসা করার দরকার নেই। বাবা কি সমাজ ও মানুষের কথা কিছু ভেবেছেন? আর বাদশাহী পেতে চলেছো সুতরাং এ'সব একপাশে সরিয়ে দেওয়া উচিত। তবে হ্যাঁ, প্রত্যেকের নিজের নিজের পার্ট আছে। প্রত্যেকের কর্মবন্ধন আলাদা-আলাদা। পয়সা থাকলে অলৌকিক সার্ভিসে ব্যবহার করে সফল করে তোলো। বাচ্চারা তো বুঝতে পেরেছে যে এই জ্ঞান মার্গে বিঘ্ন অবশ্যই পড়বে কেননা পবিত্রতার প্রশ্ন। যে-ই ধর্ম স্থাপন করতে আসুক না কেন তাকে পবিত্র অবশ্যই হতে হবে। এই সময় মানুষ তো খুব নোংরা (স্বভাব, আচরণে) হয়ে গেছে। অনেক বিঘ্ন তৈরি করবে, মিথ্যা কলঙ্ক দেবে। এ'সব বিষয়ে ভয় পাওয়া উচিত নয়। যা কিছু ঘটুক না কেন ঘাবড়ে যাওয়া উচিত নয়। ৫ হাজার বছর আগেও কলঙ্ক লেগেছে। এখনও কলঙ্ক হবে। বানিয়ে মিথ্যা-মিথ্যা কথাও বলবে। কারো রেসপন্ড ঠিক মতো না পেলেও গন্ডগোল করে থাকে। ধীরে-ধীরে সন্ন্যাসী উদাসী ইত্যাদি ধর্মাবলম্বীরাও আসবে। সবাইকে বাবার নলেজ অবশ্যই নিতে হবে। এই চিত্রও সম্পূর্ণ দুনিয়াতে যাবে। কখনও ক্রোধের বশীভূত হয়ে তর্ক-বিতর্ক করা উচিত নয়। যতই কেউ নিন্দা করুক, ক্রোধ করা উচিত নয়। বাচ্চাদের রিফ্রেশ হয়ে সার্ভিস করতে হবে। দিন-দিন কায়দা কানুন সংশোধন হতে থাকবে। দুনিয়ার কায়দা কানুন তো বিগড়াতেই থাকবে কেননা তমোপ্রধান হয়ে গেছে। আমরা তো সতোপ্রধান হচ্ছি। আচ্ছা।

 

তোমরা বাচ্চারা হলে রাজঋষি। তোমরা বলে থাকো আমরা তপস্যা করছি - বাণপ্রস্থে যাওয়ার জন্য। এমন উত্তর দেওয়ার মতো কোনো মানুষের বুদ্ধি নেই। ওরা তো বাণপ্রস্থ সম্পর্কে জানেই না। তোমরা বলবে আমরা হলাম রাজযোগী। জীবনমুক্তির জন্য তপস্যা করছি। শেখাচ্ছেন পারলৌকিক পরমপিতা পরমাত্মা, যিনি জ্ঞানের সাগর। মাতা'রা এইভাবে বসে বোঝালে সবাই অবাক হয়ে যাবে। তাদের বলো, আমাদের পারলৌকিক পরমপিতা পরমাত্মা পড়াচ্ছেন। ভবিষ্যতের উচ্চ পদ প্রাপ্ত করানোর জন্য। আচ্ছা!

 

মিষ্টি-মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত। আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মা রূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।

 

*ধারণার জন্যে মুখ্য সারঃ-*

 

১ ) যদিও কেউ অপমান করে, আমাদের ক্রোধ করা উচিত নয়। কারো সাথে তর্ক বিতর্ক করা উচিত নয়। রিফ্রেশ হয়ে সার্ভিস করতে হবে।

 

২) নিদ্রাকে জয় করতে হবে। রাত জেগে বাবাকে স্মরণ করতে হবে আর জ্ঞান মন্থন করতে হবে। দেহী-অভিমানী হয়ে থাকার অভ্যাস করতে হবে।

 

*বরদানঃ-* অপেক্ষা করা ছেড়ে ব্যবস্থা করতে পারা বিয়োগীর পরিবর্তে সহযোগী এবং সহজযোগী ভব

কিছু বাচ্চারা অপেক্ষা করে, এটা দূর হলে তবে মুক্ত হবো। এই দ্বন্দ্ব বিরোধিতা যখন থামবে তখন আমি মুক্ত হব। কিন্তু এমনটা হয়না। মায়ার বিঘ্ন তথা পরীক্ষার প্রশ্নপত্র সময়ে-সময়ে বিভিন্ন রূপে আসবেই। সুতরাং এমন অপেক্ষা করবে না অমুক ব্যক্তি (বিরোধিতা করা থেকে) সরে যাক, অমুক পরিস্থিতি চলে যাক... না, আমাকেই সরতে হবে। এমনই ব্যবস্থা করো। সবসময় শ্রীমতের আঙুলকে আধার করে চলে, সহযোগী থেকে সহজযোগী হও। কখনও সহযোগী কখনও অসহযোগী নয়।

*স্লোগানঃ-*               নিজের উৎসাহ-উদ্দীপনার দ্বারা অনেক আত্মাদের উৎসাহকে বৃদ্ধি করা - এই হলো প্রকৃত সেবা।


No comments:

https://bkrajyogpathshala.blogspot.com/

01-04-2026 Bengali Murli

 মিষ্টি বাচ্চারা - বাচ্চারা, বাবা যা, বাবা ঠিক যেমন, তোমরা বাচ্চারাও তাঁকে নম্বর ক্রমানুসারেই চিনেছো, যদি সকলেই তাঁকে চিনে গেলে তবে তো অত্যন...