27.03.2023 BENGALI MURLI
ত্রিকালদর্শী
স্থিতির শ্রেষ্ঠ আসন দ্বারা সদা বিজয়ী হও আর অন্যদের শক্তির সহযোগ দাও"
আজ ত্রিকালদর্শী
বাপদাদা নিজের সকল মাস্টার ত্রিকালদর্শী বাচ্চাদের দেখছেন। বাপদাদা সব বাচ্চাকে
ত্রিকালদর্শী হওয়ার সাধন দিব্য বুদ্ধির বরদান এবং ব্রাহ্মণ জন্মের উপহার দিয়েছেন।
কারণ, দিব্য বুদ্ধির দ্বারাই
বাবাকে, নিজেকে নিজে এবং তিনকালকে
স্পষ্টভাবে জানতে পারো। দিব্য বুদ্ধি তথা স্মরণ দ্বারাই সর্বশক্তি ধারণ করতে পারো।
সেইজন্য প্রথম বরদান দিব্য বুদ্ধি। এই বরদান বাপদাদা সব বাচ্চাকে দিয়েছেন। কিন্তু
এই বরদানকে নম্বরক্রমে প্রত্যক্ষ জীবনে প্রয়োগ করে থাকো। দিব্য বুদ্ধি
ত্রিকালদর্শী স্থিতির অনুভব করায়। চার সাবজেক্ট ধারণ করার আধারই দিব্য বুদ্ধি। চার
সাবজেক্টই সব বাচ্চা ভালোভাবে জানে, বর্ণনও করে। এক্ষেত্রে, নতুন বাচ্চা হোক
বা পুরানো, জানা আর বর্ণন
করায় সবাই একেবারে দক্ষ, কিন্তু ধারণ করার
ক্ষেত্রে তাদের নম্বর তৈরি হয়ে যায়। দিব্য বুদ্ধির বিশেষত্ব এটাই, দিব্য বুদ্ধির আত্মারা কোনও সঙ্কল্পকে কর্ম বা
বাণীতে প্রয়োগ করার আগে প্রতিটা বোল আর প্রতিটা কর্মের তিনকাল জেনে
প্র্যাকটিক্যালে আনে। সাধারণ বুদ্ধির আত্মারা অনেক চেষ্টায় বর্তমানকে স্পষ্টভাবে
জানতে পারে, কিন্তু ভবিষ্যৎ
আর অতীতকাল সম্বন্ধে স্পষ্ট জানতে পারে না। দিব্য বুদ্ধির আত্মার পাস্ট আর ফিউচারও
এতই স্পষ্ট হয় যেমন প্রেজেন্ট স্পষ্ট। তিনকালই একসাথে স্পষ্ট অনুভব হয়। সাধারণতঃ,
সবাই বলেও যা ভাববে,
যা বলবে, যা করবে, অগ্রপশ্চাৎ বিবেচনা করে করো। কর্মের আগে
পরিণামকে সামনে রাখো, পরিণাম হলো
ভবিষ্যৎ। তো ত্রিকালদর্শী বুদ্ধি হলো নম্বর ওয়ান। ত্রিকালদর্শী বুদ্ধি কখনো
অসফলতার অনুভব করবে না। কিন্তু বাচ্চারা তিন প্রকারের বুদ্ধির। যারা সদা
ত্রিকালদর্শী বুদ্ধির তারা নম্বর ওয়ান। দ্বিতীয় নম্বর কখনো ত্রিকালদর্শী আর কখনো
এককালদর্শী। তৃতীয় নম্বর অমনোযোগী বুদ্ধির, যারা সদা বর্তমানকে দেখে এটাই ভাবে যে, যা এখন হচ্ছে কিংবা যা তারা পাচ্ছে অথবা যেভাবে
তারা চলছে তা'তেই তারা ঠিক আছে,
ভবিষ্যৎ কি হবে সেটা কেন
ভাববে ! কিন্তু অমনোযোগী বুদ্ধি আদি-মধ্য-অন্তকে না ভাবার কারণে সদা সফলতা প্রাপ্ত
করার ক্ষেত্রে ধোঁকা খেয়ে যায়। সুতরাং তোমাদের ত্রিকালদর্শী বুদ্ধি হতে হবে।
ত্রিকালদর্শী
স্থিতি এমন শ্রেষ্ঠ আসন যে, আসন অর্থাৎ
স্থিতি দ্বারা নিজেও সদা বিজয়ী আর অন্যদেরও বিজয়ী হওয়ার শক্তি বা সহযোগ দেয়। দিব্য
বুদ্ধি বিশাল বুদ্ধি। দিব্য বুদ্ধি অসীম জগতের বুদ্ধি। সুতরাং চেক করো যে নিজের
বুদ্ধি কোন নম্বরের বানানো হয়েছে? বাপদাদা
বাচ্চাদের রেজাল্টে যা দেখেছেন তা'তে জ্ঞান,
গুণ, শক্তির ভান্ডার সব বাচ্চার কাছে সঞ্চিত আছে।
কিন্তু সঞ্চিত হওয়া সত্ত্বেও তোমরা বাচ্চারা সবাই নম্বরক্রমে কেন? এমন কাউকে দেখা যায়নি যার কাছে ভান্ডারের সঞ্চয়
নেই। সবার কাছে সঞ্চিত আছে, আছে না! তারপরও
কেন নম্বরক্রমে? তোমাদের যে কোনো
কাউকে যদি জিজ্ঞাসা করা হয়, তোমার
স্বয়ং-জ্ঞান, বাবার জ্ঞান,
চক্রের জ্ঞান, কর্মের গতির জ্ঞান আছে? সবার কাছে সর্বশক্তি আছে? নাকি কিছু আছে কিছু নেই? জ্ঞানের ব্যাপারে সবাই তোমরা হ্যাঁ করেছ আর
শক্তিগুলোর বিষয়ে কেন হ্যাঁ করনি? আচ্ছা, সব গুণ আছে? সর্বগুণ, বুদ্ধিতে আছে? বুদ্ধিতে জ্ঞানও আছে, শক্তিও আছে তাহলে নম্বরক্রমে কেন? ভিন্নতা কেন? অবিনাশী রত্নভান্ডার বিধিপূর্বক কীভাবে কার্যে
ব্যবহার করতে হয় তা' তোমরা জানো না,
সময় চলে যায় তার পরে
তোমরা ভাবো, এইভাবে যদি করতাম,
এই বিধিতে যদি চলতাম তো
সিদ্ধি প্রাপ্তি (সফলতা) হয়ে যেতো। সুতরাং সময়কে জানা আর সময় অনুসারে শক্তি কিংবা
গুণ অথবা জ্ঞান কার্যে প্রয়োগ করার জন্য দিব্য বুদ্ধির বিশেষত্ব আবশ্যক। সাধারণতঃ,
জ্ঞানের পয়েন্টস্ অনেক
ভাবতে থাকো, শোনাতেও থাকো,
কপিগুলোও সব ভরে থাকে,
সবার কাছে কত ডায়েরী
একত্রিত হয়েছে, অনেক স্টক হয়ে
গেছে, তাই না, তাইতো বাবার জন্য যেমন গাওয়া হয়েছে যে আমি যেমন,
যেরকম সেভাবে আমাকে জানে
কোটির মধ্যে কতিপয় মাত্র। জানে তো সবাই কিন্তু 'যেমন, যেরকম'-এ যে আন্ডারলাইন
আছে তা'তে ফারাক হয়ে যায়। আর এই
ফারাক হওয়ার কারণে নম্বর তৈরি হয়। তাহলে, কারণ বুঝেছ? এক তো সময়
অনুসারে বিধিতে ভিন্নতা এসে যায়, দ্বিতীয়তঃ,
কোনও কর্ম বা সঙ্কল্প
ত্রিকালদর্শী হয়ে করে না, সেইজন্য নম্বর
হয়ে যায়। বুদ্ধিতে কোনও সঙ্কল্প উৎপত্তি হলে সেই সঙ্কল্প হলো বীজ, বাচা আর কর্মণা হলো বীজের বিস্তার, যদি সঙ্কল্প অর্থাৎ বীজকে ত্রিকালদর্শী
স্থিতিতে স্থিত হয়ে চেক করো, শক্তিশালী বানাও
তবে বাণী আর কর্মে সহজ সফলতা আপনা থেকেই হয়ে আছে। সঙ্কল্পকে যদি চেক না করো অর্থাৎ
বীজ শক্তিশালী না হয় তাহলে বাণী আর কর্মতেও সফলতার শক্তি থাকে না। সকলের লক্ষ্য
সিদ্ধিস্বরূপ হওয়ার, তাই তো না,
সুতরাং সদা সিদ্ধিস্বরূপ
হওয়ার বিধি যেটা তোমাদের বলেছি, সেটা চেক করো।
মাঝে মাঝে তোমাদের বুদ্ধি অসতর্ক হয়ে যায়, সেইজন্য সফলতা কখনো অনুভব করো আর কখনো পরিশ্রম অনুভব করো।
সকল বাচ্চার
প্রতি বাপদাদার ভালোবাসার নিদর্শন ― বাচ্চারা সবাই সহজভাবে সিদ্ধিস্বরূপ হোক। তোমাদের জড় চিত্রের দ্বারা ভক্ত আত্মারা সিদ্ধি প্রাপ্ত করতে থাকে, কারণ তোমরা চৈতন্য রূপে সিদ্ধিস্বরূপ হয়েছ তবে
তো জড় চিত্র দ্বারাও অন্যান্য আত্মারা সিদ্ধিপ্রাপ্ত করতে থাকে। তোমরা
ত্রিকালদর্শী স্থিতিতে স্থিত থাকলে সেই ত্রিকালদর্শী স্থিতিই সমর্থ স্থিতি। যারা
এই সমর্থ স্থিতির তারা ব্যর্থকে এমন সহজভাবে সমাপ্ত করে দেয় যে স্বপ্নেও ব্যর্থ
সমাপ্ত হয়ে যায়। যদি ত্রিকালদর্শী বুদ্ধি দ্বারা কর্ম না করো তবে ব্যর্থের বোঝা
বারবার উঁচু নম্বরে অধিকারী হতে দেয় না। সুতরাং দিব্য বুদ্ধির বরদান সদা সবসময়
কার্যে লাগাও।
বাপদাদা আগেও
ইঙ্গিত দিয়েছেন যে তোমরা জ্ঞানী-যোগী আত্মা হয়েছ, এখন জ্ঞান আর যোগের শক্তিকে প্রয়োগ করে
প্রয়োগশালী আত্মা হও। যেমন, সায়েন্সের শক্তির
প্রয়োগ দেখা যায়, কিন্তু সায়েন্সের
শক্তির প্রয়োগের ভুল আধার কী? প্রয়োগের মাধ্যমে
সায়েন্স আজ যে সাধনই দিয়েছে, সেই সব সাধনের
আধার কী? সায়েন্সের
প্রয়োগের আধার কী? মনোযোগ সহকারে যদি
দেখা যায় তাহলে দেখা যাবে মেজরিটিই (অধিকাংশই) লাইট। লাইট দ্বারাই প্রয়োগ করা হয়।
যদি কম্পিউটারও কাজ করে তো তার আধার কী? লাইটই তো না। প্রকৃতির লাইট, সুতরাং এই এক
লাইট দ্বারা অনেক রকমের প্রয়োগ প্র্যাকটিক্যালি করে দেখায়, আর তোমাদের তো অবিনাশী পরমাত্ম-লাইট, আত্মিক লাইট আর সেইসঙ্গে রয়েছে তোমাদের
প্র্যাকটিক্যাল স্থিতি লাইট, তাহলে এইসবের
দ্বারা কী না প্রয়োগ হতে পারে ! তোমাদের স্থিতিও লাইট আর মূল স্বরূপও লাইট
বিদ্যমান। সুতরাং যখনই তোমরা কেউ কোনো প্রয়োগ করতে চাও, তখন প্রথমে নিজের মূল আধার চেক করো। যে কেউই,
যখনই সায়েন্সের সাধন ইউজ
করবে তখন প্রথমে চেক করবে তো না যে লাইট আছে কি নেই! ঠিক সেভাবেই যখন যোগের,
শক্তির, গুণের প্রয়োগ করো তখন প্রথমে এটা চেক করো,
মূল আধার আত্মিক শক্তি,
পরমাত্ম-শক্তি তথা লাইট
(হালকা) স্থিতি রয়েছে? যদি স্থিতি আর
স্বরূপ ডবল লাইট থাকে তবে প্রয়োগের সফলতা খুব সহজেই করতে পারো, আর সবার আগে এই অভ্যাসকে শক্তিশালী বানানোর
জন্য প্রথমে নিজের উপরে প্রয়োগ করে দেখ। প্রতি মাসে অথবা প্রতি ১৫ দিনের জন্য কোনো
না কোনো বিশেষ গুণ কিংবা কোনো না কোনো বিশেষ শক্তির প্রয়োগ স্ব-এর প্রতি করে দেখ,
কেননা, সংগঠনে বা সম্বন্ধ-সম্পর্কে পেপার তো আসেই,
সেইজন্য প্রথমে নিজের
উপরে প্রয়োগে চেক করো, কোনো পেপার এলে
যে শক্তি বা যে গুণের প্রয়োগ করার লক্ষ্য রেখেছ, তা'তে কতটা সফলতা প্রাপ্ত হয়েছে? আর কত সময়ে সফলতা
লাভ হয়েছে? সায়েন্সের প্রয়োগ
দিন-দিন অল্প সময়ের মধ্যে প্রত্যক্ষ রূপ অনুভব করানোতে যেমন এগিয়ে যাচ্ছে তেমন
সময়ও কম নিচ্ছে। অল্প সময় সফলতা বেশি - সায়েন্সের লোকেরও এই লক্ষ্য। এভাবেই,
যে লক্ষ্যই রেখেছ তা'তে সময়কেও চেক করো আর সফলতাও চেক করো। যখন
স্ব-এর ক্ষেত্রে প্রয়োগে সফল হয়ে যাবে তখন অন্য আত্মাদের জন্যও প্রয়োগ করা সহজ হয়ে
যাবে এবং যখন স্ব-ক্ষেত্রে সফলতা অনুভব করবে তখন তোমার হৃদয়ে অন্যদের জন্য প্রয়োগ
করার উৎসাহ-উদ্দীপনা আপনা থেকেই বেড়ে যাবে। যখন তুমি অন্য আত্মাদের সঙ্গে
সম্বন্ধ-সম্পর্কে থাকবে, তখন তোমার নিজের
উপরে প্রয়োগ করায় ওই আত্মাদের উপরেও তোমার প্রয়োগের প্রভাব আপনা থেকেই পড়তে থাকবে।
এক্ষেত্রে, একটা দৃষ্টান্ত
নিজের সামনে রাখো যে, আমাকে সহনশক্তির
প্রয়োগ করতে হবে, তো যখন নিজের
মধ্যে সহনশক্তি প্রয়োগ করবে তখন যে অন্য আত্মারা তোমার সহনশক্তিকে নড়ানোর নিমিত্ত
হয় তারাও রক্ষা পাবে তো না, তারাও তো এর থেকে
সরে যাবে। তারপর, তোমরা তোমাদের
নিজেদের মধ্যে থাকছ, সেন্টার হলে তবে
সেন্টারে, তোমাদের নিজেদের
মধ্যে যে ছোট ছোট গ্রুপ রয়েছে প্রথমে নিজের উপরে ট্রায়াল করো তারপর নিজের ছোট
সংগঠনে ট্রায়াল করো। সংগঠিতভাবে যে কোনও গুণ কিংবা শক্তির প্রয়োগের প্রোগ্রাম
বানাও। তা'তে কী হবে?
সংগঠনের শক্তি দ্বারা সেই
গুণ বা শক্তির বায়ুমন্ডল প্রস্তুত হয়ে যাবে, ভাইব্রেশন ছড়াবে, আর বায়ুমন্ডল তথা ভাইব্রেশনের প্রভাব অনেক
আত্মার উপরে পড়েই। অতএব, এমনই প্রয়োগশালী
আত্মা হও। প্রথমে নিজের মধ্যে সন্তুষ্টতার অনুভব করো, তারপর অন্যদের মধ্যেও সহজ হয়ে যাবে, কারণ বিধি জানা হয়ে যাবে। যেমন, সায়েন্সের যে কোনও সাধনকে প্রথমে স্যাম্পল
হিসেবে প্রয়োগ করে, তারপরে বৃহৎ রূপে
প্রয়োগ করে, ঠিক সেভাবেই
তোমরা প্রথমে নিজেকে স্যাম্পল হিসেবে ইউজ করো। যত এটা প্রয়োগ করার ইচ্ছা বাড়তে
থাকবে, বুদ্ধি-মন এতে বিজি থাকবে,
তো তুচ্ছ যে সব বিষয়ে সময়
ব্যয় করো, শক্তি ব্যয় করো
তা' বেঁচে যাবে। সহজেই
অন্তর্মুখিতার স্থিতি নিজের দিকে আকৃষ্ট করবে, কারণ কোনও জিনিসের প্রয়োগ এবং প্রয়োগের সফলতা
আপনা থেকেই অন্য সব দিক থেকে সরিয়ে দেয়। এই প্রয়োগ সবাই করতে পারো তো না, নাকি কঠিন? এই বছর প্রয়োগশালী আত্মা হও। বুঝেছ, কী করতে হবে? তাছাড়া, প্রত্যেকে নিজের প্রতি প্রয়োগে যদি ব্যাপৃত হয়
তাহলে প্রয়োগশালী আত্মাদের সংগঠন কত পাওয়ারফুল হয়ে যাবে! সেই সংগঠনের কিরণ অর্থাৎ
ভাইব্রেশনস্ অনেক কাজ করে দেখাবে। এতে শুধু দৃঢ়তা চাই - 'আমাকে করতেই হবে'। অন্যদের ঢিলেমি ভাবের প্রভাব পড়া উচিত নয়।
তোমার দৃঢ়তার প্রভাব অন্যদের উপরে পড়বে, কারণ দৃঢ়তার শক্তি শ্রেষ্ঠ, নাকি ঢিলেমি-র
শক্তি শ্রেষ্ঠ? বাপদাদার বরদান
রয়েছে, যেখানে দৃঢ়তা সেখানে
সফলতা আছেই। সুতরাং কী হবে তোমরা? প্রয়োগশালী,
ত্রিকালদর্শী আসনধারী। আর
তৃতীয়তঃ কী করবে? যেমন সময় তেমন
বিধিতে সিদ্ধিস্বরূপ। সুতরাং বছরের এটা হোমওয়ার্ক। এই হোমওয়ার্ক আপনা থেকেই বাবার
কাছে নিয়ে আসবে। ব্রহ্মাবাবাকে যেমনটা দেখেছ ― যে কোনও কর্ম করার আগে আদি-মধ্য-অন্তকে বুঝেসুঝে কর্ম করেছেন এবং করিয়েছেন। অমনোযোগী হননি যে, যা হয়েছে ঠিক আছে, চালাতে হবে, চালিয়ে নেব। না। সুতরাং ফলো ব্রহ্মাবাবা। ফলো
করা তো সহজ, তাই না! কপি করতে
হবে তো না, কপি করার বুদ্ধি
আছে তো তোমাদের না!
আচ্ছা, এই গ্রুপের সবাই চান্স নেয়। এক্সট্রা লটারী
প্রাপ্ত হয়েছে। হঠাৎ করেই যখন লটারী লাভ হয় তখন সেই খুশি বেশিই হয়। তাহলে, এটা লাকি গ্রুপ হলো তো না, চান্স নেওয়া লাকি গ্রুপ। অন্যেরা ভাবতে থাকে,
আর তোমরা পৌঁছে গেছ। এখন
ডবল বিদেশিদের টার্ন শুরু হবে। ভারতবাসী নিজেদের লটারী নিয়ে নিয়েছে। চতুর্দিকের
ডবল বিদেশি বাচ্চারা রিট্রিটের যে প্রোগ্রাম বানিয়েছে সেটার জন্য তারা ভালো
পরিশ্রম করেছে। বিশেষতঃ নিমিত্ত আত্মাদের কাছে নিয়ে আসার বিধি ভালো। তাছাড়াও,
যত সাহস বজায় রেখে এগিয়ে
যাচ্ছে, প্রতি বছর শ্রেষ্ঠ থেকে
শ্রেষ্ঠ সফলতা ততই প্রাপ্তি হচ্ছে। এমন অনুভব হয় তো না! একটা সময় ছিল যখন নিমিত্ত
বিশেষ আত্মাদের সাথে যোগাযোগ করাও কঠিন লাগত আর এখন কী মনে হয়? তোমরা যতটা ভেবেছিলে তার থেকে আরও বেশি আসে,
তাই না! সুতরাং এটা
সাহসেরই প্রত্যক্ষফল। ভারতেও যোগাযোগ বাড়ছে। আগে তোমরা নিমন্ত্রণ দেওয়ার পরিশ্রম
করতে আর এখন তারা নিজেরা আসার অফার করে। ফারাক তো হয়েই গেল, তাই না! তারা বলে, আমরা আসব আর তোমরা বলো নম্বর নেই। এ' হলো 'সাহসী বাচ্চা, সহায় বাবা'-র প্রত্যক্ষ স্বরূপ! আচ্ছা!
চারদিকের মাস্টার
ত্রিকালদর্শী আত্মাদের, যারা, সদা সময়ের মহত্ত্বকেজেনে এবং সময় অনুসারে
রত্নভান্ডারকে কার্যে প্রয়োগ করে সেই দিব্য বুদ্ধিমান আত্মাদের, যারা সদা অন্তর্মুখিতার প্রয়োগশালায় প্রয়োগ করে
সেই প্রয়োগশালী আত্মাদের, যারা সদা সাহস
দ্বারা বাবার সহায়তা প্রত্যক্ষভাবে অনুভব করে সেই আত্মাদের বাপদাদার স্মরণ-স্নেহ
আর নমস্কার।
দাদীদের সাথে
সাক্ষাৎকার - তোমরা নিমিত্ত আত্মাদের কোন প্রয়োগশালায় থাকো? সারাদিন কোন ধরনের প্রয়োগশালা চলে? নতুন নতুন ইনভেনশন করছ, তাই না! নিরন্তর নতুন নতুন অনুভব করছ আর নতুন
নতুন বিধিও টাচিং হতে থাকে, কেননা যারা
নিমিত্ত তাদের নতুন নতুন বিশেষ বিষয় টাচিং হওয়ার বিশেষ বরদান রয়েছে। অল্প সময়ের
মধ্যেই তোমাদের চিন্তন শুরু হয়, তাই না, টাচিং আসে, আসে তো না যে, এখন এটা হবে, এখন এটা হবে, এখন এটা হওয়া উচিত। তো নিমিত্ত আত্মাদের বিশেষ
উৎসাহ-উদ্দীপনা বাড়ানোর কিংবা পরিবর্তন শক্তি বাড়ানোর প্ল্যানিং আবশ্যক। এটা করা
ব্যতীত তোমরা থাকতে পারো না। এই বিষয়ে তোমাদের বুদ্ধি চলতে থাকে তো না। দেখে দেখে
আশ্চর্যবৎ হও না, বরং
উৎসাহ-উদ্দীপনার সাথে এগিয়ে নিয়ে যেতে তোমাদের প্ল্যানিং বুদ্ধি সম্প্রসারিত হয়।
মায়া সংগঠনকে নড়ানোর নতুন নতুন প্ল্যান বানায়, তোমরা নতুন নতুন বিষয় শোনো, তাই না, আর তোমরা সবার মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা জাগাতে
প্ল্যান বানিয়ে থাকো। কখনো আশ্চর্য মনে হয়? মনে হয় না তো না? মায়াও পুরানো বিধিতে থোড়াই আপন বানাবে! সেও তো
নবীনত্ব আনবে, তাই না। আচ্ছা!
*বরদানঃ-* শুদ্ধ মন আর দিব্য বুদ্ধির বিমান দ্বারা
সেকেন্ডে সুইট হোমের যাত্রা করে মাস্টার সর্বশক্তিমান ভব
সায়েন্টিস্টরা
ফাস্ট গতির যন্ত্র বের করতে সচেষ্ট হয়। তার জন্য কতো খরচ করে, কতো সময় আর এনার্জি ব্যয় করে, কিন্তু তোমাদের কাছে এত তীব্রগতির যন্ত্র আছে
তা' দিয়ে তোমরা ভাবার সাথে
সাথে বিনা খরচে পৌঁছে যাও, তোমাদের শুভ
সঙ্কল্পের যন্ত্র প্রাপ্ত হয়েছে, দিব্য বুদ্ধি
প্রাপ্ত হয়েছে। এই শুদ্ধ মন আর দিব্য বুদ্ধির বিমান দ্বারা তোমরা যখন চাও তখনই চলে
যেতে পারো আর যখন চাও তখন ফিরে আসতে পারো। মাস্টার সর্বশক্তিমানকে কেউ আটকাতে পারে
না।
*স্লোগানঃ-* হৃদয় যদি প্রকৃত স্বচ্ছ হয় তাহলে হৃদয়নিধি
(দিলারাম) বাবার আশীর্বাদ প্রাপ্ত হতে থাকবে।
No comments:
Post a Comment