15.03.2023 BANGLA MURLI
“মিষ্টি বাচ্চারা
- সার্ভিসে কখনও অলস হবে না, বাবা যাকিছু
শোনাচ্ছেন, বিচার সাগর মন্থন
করে তাকে অ্যাক্টে আনতে হবে”
প্রশ্নঃ - বাবা কোন্ বাচ্চাদের প্রতি সর্বদাই সন্তুষ্ট
থাকেন?
উত্তরঃ - যে নিজের সার্ভিস নিজেই করে। বাবাকে ফলো করে,
সুপুত্র হয় । বাবার বলা
রাস্তা দিয়েই চলতে থাকে। এইরকম বাচ্চাদের প্রতি বাবা সর্বদা সন্তুষ্ট থাকেন। বাবা
বলেন, বাচ্চারা কখনও নিজের উপর
অকৃপা করবে না। নিজে সাবধান থাকার জন্য নিজের এইম্ অবজেক্টের চিত্র পকেটে রাখো আর
বারে বারে দেখতে থাকো, তাহলে অনেক
খুশীতে থাকবে। রাজার মতো নেশায় থাকতে পারবে।
গীতঃ- ওম্ নমো শিবায়...
ওম্ শান্তি ।
বাচ্চারা, তোমরা যাঁর মহিমা
শুনছো, তিনি তোমাদের সম্মুখে বসে
তোমাদেরকে রাজযোগ শেখাচ্ছেন। জগতের কল্যাণার্থে যদি কেউ কিছু করে যায়, তবে পরবর্তী সময়ে তারই মহিমা গাওয়া হয়ে থাকে।
যেরকম শংকরাচার্য নিজের সন্ন্যাস ধর্ম স্থাপন করে গেছেন তাই তার মহিমা এখানে
অবশ্যই হবে। সন্ন্যাসীদের ডিনায়েস্টি বলা হবে না। অন্য ধর্মে তো ডিনায়েস্টি
রাজাদের চলে। সন্ন্যাসীদের মধ্যে রাজাদের ডিনায়েস্টি চলে না। যেরকম খ্রীষ্টানদের
রাজত্ব চলে। ধর্মও আছে, রাজত্বও আছে।
সেইরকম এই (দেবী-দেবতাদের) ধর্মও আছে আর রাজত্বও আছে, যাদের চিত্রও তৈরী হয়ে আছে। নীচে রাজযোগের
তপস্যা করছে আর উপরে রাজত্বের চিত্র আছে। রাজত্বে তোমাদের এখানকারই চিত্র দেওয়া
হয়ে থাকে। তোমাদের ভবিষ্যতের নাম ও রূপবিশিষ্ট চিত্র তো বর্তমানে তোমাদের হাতে
আসতে পারে না। তোমরা জানো যে এখন আমরা রাজযোগ শিখছি। এরপর রাজমুকুট ধারণ করে
রাজত্ব করবো। সেই নাম রূপ ইত্যাদি সব বদলে যাবে। এই চিত্রও বাচ্চাদেরকে নিজেদের
কাছে রাখা উচিত, যে বাচ্চারা মনে
করে যে ভবিষ্যতে আমরা রাজপদ প্রাপ্ত করবো, প্রত্যেকের কাছেই, যারা ব্রাহ্মণ
কুলভূষণ আর যাদের মধ্যে নিশ্চয় আছে। নিশ্চয় তো সকলেই আছে। বলে যে আমি শ্রী
নারায়ণকে বরণ করবো তো রাজযোগের চিত্র আর উপরে রাজত্বের চিত্র আর তার উপরে শিববাবার
চিত্র থাকবে। এই চিত্রের দ্বারা কনট্রাস্ট দেখানো যেতে পারে যে - উনি হলেন
শংকরাচার্য আর ইনি হলেন ভগবান শিবাচার্য। ইনি হলেন জ্ঞানের সাগর। শংকরাচার্য জ্ঞানবান,
কারণ তিনি জ্ঞান
শুনিয়েছিলেন। তিনি কি কারণে জ্ঞান শুনিয়েছিলেন? হঠযোগী কর্মসন্ন্যাসী বানানোর জন্য। তার
চিত্রই হল আলাদা। তার আসনও আলাদা হয়, তো তারও চিত্র বানানো চাই। হঠযোগী আসন, গেরুয়া বস্ত্র, মুন্ডিত মস্তক... এইরকম চিত্র দেখানো চাই।
তাহলে কনট্রাস্ট প্রমাণ করা সম্ভব হবে। তাদের পুনর্জন্ম এখানেই হয়। এই সব কথাগুলির
উপরে বিচার সাগর মন্থন করে তোমরা অনেক কাজ বা সার্ভিস করতে পারো। কিন্তু বিরলই
কোনো পুরুষার্থী এইরকম করে। সার্ভিসে মায়া অত্যন্ত অলস বানিয়ে দেয়, অনেক ধোঁকা দেয়। তো সন্ন্যাস ধর্মেরও চিত্র
বানিয়ে লিখে দিতে হবে - শংকরাচার্যের দ্বারা স্থাপিত হওয়া হঠযোগ এবং কর্ম সন্ন্যাস
কবে শুরু হয়েছে, কবে সম্পূর্ণ
হবে। তোমরা যেকোনো ধর্মের তিথি, সম্বৎ সমেত আয়ু
কাল বের করতে পারো। সকলের মঠ পথ অথবা ধর্ম একই সময়ে হয়ে থাকে। তো এইরকম-এইরকম কথার
উপর বিচার সাগর মন্থন করে তারপর অ্যাক্ট আসতে হবে। কনট্রাস্ট দেখাতে হবে যে,
ওটা হল শংকরাচার্যের
স্থাপনা, এটা হল ভগবান
শিবাচার্যের স্থাপনা। এই রাজযোগ অর্ধেক কল্প ব্যাপী চলে। শিববাবা আসেনই তখন,
যখন হঠযোগের বিনাশ হয় আর
রাজযোগের স্থাপনা হয়। তো এইরকম যুক্তি দিয়ে চিত্র বানাতে হবে। সেই হঠযোগ দ্বাপর
থেকে কলির অন্ত পর্যন্ত চলে। রাজযোগের রাজধানী ২১ জন্ম পর্যন্ত চলে। তারপরে লিখতে
হবে - সেটা হল হঠযোগ, সেখানে ঘরবাড়ি
ত্যাগ করতে হয় আর এখানে সমগ্র পুরানো দুনিয়ার সন্ন্যাস করতে হয়। আমাদের তো প্রতিটি
চিত্রতে লেখা আছে। অন্যদের কোনও চিত্রে এই রকম লেখা থাকে না। তোমরা তিথি-তারিখ
সবকিছু জানতে পারো। তো ঘরেও নিজের রাজযোগ আর রাজত্বের চিত্র দেখে নেশা চড়বে।
তোমাদের তো দেবতাদের চিত্রের সামনে হাত জড়ো করার দরকার নেই। তোমরা স্বয়ং তো সেটা
তৈরী হচ্ছো। তাই সামনে চিত্র দেখে খুশীর পারদ ঊর্ধ্বগামী হবে আর হৃদয় রূপী দর্পণে
নিজের চেহারাও দেখবে যে, আমরা এইরকম
শ্রীনারায়ণকে বা শ্রীলক্ষ্মীকে বরণ করার যোগ্য হয়েছি? যদি না হয়ে থাকো, তাহলে লজ্জা আসবে। যে যোগে থেকে বিকর্ম বিনাশ
করে, সে-ই এতো উচ্চপদ প্রাপ্ত
করতে পারবে। এটা হল ভবিষ্যতের জন্য পড়াশোনা, অন্য সব পড়াশোনা হল এই পুরানো দুনিয়ার জন্য,
এই জন্মের জন্য। তোমাদের
হল ভবিষ্যতের জন্য পড়াশোনা। এটা বুদ্ধিতে রাখতে হবে। মানুষ যার ভক্তি করে, তার চিত্র পকেটে রেখে দেয়। যেরকম ব্রহ্মাবাবা
শ্রীনারায়ণের চিত্র রাখতেন। কিন্তু তখন এই জ্ঞান ছিলো না যে আমিই এটা হবো। এখন তো
জেনে গেছে - আমি এটাই (শ্রী নারায়ণ) হবো। বাবা বলছেন যে তোমরা নর থেকে নারায়ণ হতে
পারো। তো এই চিত্র পকেটে রাখতে হবে। আত্মীয় পরিজনকে এই চিত্রের উপরে বোঝালে তারা
খুব খুশী হবে। তাদের উপরেও করুণা করতে হবে। তারপর কেউ বুঝুক বা না বুঝুক। তোমাদের
কাজ হলো প্রত্যেককে বোঝানো। আমাদেরকে ভগবান রাজযোগ শেখাচ্ছেন, তিনি ছাড়া আর কেউ রাজযোগের দ্বারা
লক্ষ্মী-নারায়ণ বানাতে পারবে না। তাই চিত্র দেখলে খুশীর পারদ ঊর্ধ্বগামী হবে।
সাধারণ মানুষ
কর্মক্ষেত্রে যাওয়ার পথে কোথাও মন্দির দেখতে পেলে হাত জড়ো করে নমস্কার করে। সেটা
হলো ভক্তি। তোমাদের কাছে তো জ্ঞান আছে, এরা হলাম আমরা। আমরা হলাম জগদম্বার সন্তান। জগদম্বা নর থেকে নারায়ণ বানানোর
কর্তব্য করেন। তোমরাও করছো তাই না। তোমরাও হলে মাস্টার জগদম্বা, তাই না। তোমাদের স্মরণিক মন্দিরও আছে। তোমরা
চৈতন্য রূপে এখানে বসে আছো। এতটাই ক্লিয়ারলি বোঝাতে হবে যে সাধারণ মানুষ যাতে
বুঝতে পারে। দিলওয়ারা মন্দিরেও কত সুন্দর স্মরণিক তৈরী হয়ে আছে, নিচে তপস্যার চিত্র, উপরে বৈকুণ্ঠ বানিয়েছে। কতসুন্দর মন্দির বানিয়েছে।
তো এই চিত্র বানিয়ে নিজেদের কার্যালয়েও রাখতে পারো, যার ফলে তোমাদের স্মৃতিতেও থাকবে। মন্মনা ভব আর
স্বদর্শন চক্রেরও স্মৃতি আসবে। শিববাবা আমাদেরকে এই জ্ঞান শোনাচ্ছেন, পুনরায় আমরা এই রাজা রাণী হবো। নিজেরই চিত্র
বানিয়ে নিজেকে সাবধান করতে থাকো যে, আমরা ২১ জন্মের জন্য পূজারী থেকে পূজ্য হচ্ছি। তাহলে চিত্রের দ্বারা নিজেদেরও
সেবা হবে, অন্যদেরকে
বোঝানোরও সেবা হবে। এই রকম বাচ্চাদের প্রতি বাবাও সন্তুষ্ট থাকেন। বাচ্চারা ফলো না
করলে, সুপুত্র না হলে তো বাবা
অসন্তুষ্ট হবেন। বলবেন - বাচ্চারা নিজের উপরে অকৃপা করছে। বাবার দেখানো রাস্তা
দিয়ে না চললে পদ ভ্রষ্ট হয়ে যাবে। তো এই রকম চিত্রের দ্বারাও তোমাদের অনেক
সহায়তা প্রাপ্ত হবে। তোমরা খুব ভালো ভাবে কাউকে বোঝাতে পারবে। সেটা হলো হঠযোগ আর
এটা হলো রাজযোগ। সেখানকার গুরু তো এই রাজযোগ শেখাতে পারবে না। আমরা হলাম অসীম
জগতের সন্ন্যাসী। সন্ন্যাসের অর্থই হলো পাঁচ বিকারের সন্ন্যাস। তারা জঙ্গলে গিয়ে
পবিত্র থাকে। আমরা ঘর-গৃহস্থে থেকে পদ্ম ফুলের মতো পবিত্র থাকি, সেইজন্য এই অলংকার বিষ্ণুকে দেখানো হয়েছে। আমরা
এইরকম তৈরী হচ্ছি। বোঝানোর জন্য সুচতুর হওয়া চাই, বাবাও হলেন সুচতুর, তাই না! তোমাদেরকে আবার দিব্যগুণও ধারণ করতে
হবে। তোমাদের মেজাজ (টেম্পার) অতি মিষ্টি হতে হবে। বাবার মেজাজ দেখো কতো প্রেমময়।
যদিও তাঁকে কালেরও কাল বলা হয়, কিন্তু তিনি তো
উগ্র মেজাজের নন। তিনি তো বলেন যে আমি এসে সবাইকে সাথে করে নিয়ে যাই, এতে ভয় পাওয়ার কোনও কথাই নেই। বাচ্চারা তোমাদেরকে
শ্রীমতে চলে অত্যন্ত সুন্দর ফুলের মতো হতে হবে। তোমাদের সব আত্মাদেরকেও পুরানো
শরীর ত্যাগ করিয়ে বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যাবো। ড্রামা অনুসারে তোমাদেরকে যেতেই হবে।
তোমাদেরকে এখন এমন কর্ম শেখাচ্ছি, যে কর্ম করে
তোমাদের অনুশোচনা না করতে হয়, তারপর তোমাদের
সবাইকে নিয়ে যাবো। এটাও বলবো যে - কীভাবে যাবে, কে থাকবে। সময় যখন নিকটে আসবে তখন সব বলবো।
যতক্ষণ সময় আছে, নতুন নতুন যুক্তি
বলতে থাকবো। বাবার নির্দেশ মেনে চললে সফল হবে, তখন বাবাও খুশী হবেন। সেবাতে সবাই সাহায্য
প্রাপ্ত করবে। খুশীর পারদ ঊর্ধ্বগামী হবে। বাবা যুক্তি তো অনেক বলে দেন। বড় বড়
চিত্র তৈরী করে তোমরা সেন্টারে রাখতে পারো, তাহলে সাধারণ মানুষ কনট্রাস্ট দেখতে পারবে।
আচ্ছা!
মিষ্টি-মিষ্টি
হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত।
আত্মাদের পিতা ওঁনার আত্মা রূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।
রাত্রি ক্লাস -
২৮-০৩-১৯৬৮
বাবা বুঝিয়েছেন
এমন প্র্যাক্টিস করো, এখানে সবকিছু
দেখেও, ভূমিকা পালন করেও বুদ্ধির
যোগ যেন বাবার সাথেই লেগে থাকে। তোমরা জানো যে এই পুরানো দুনিয়ার বিনাশ হয়ে যাবে।
এই দুনিয়াকে ছেড়ে এখন আমাদেরকে ঘরে যেতে হবে। এই চিন্তন আর কারো বুদ্ধিতে আসবে না।
অন্য কেউ এটা বুঝতেও পারবে না। তারা তো মনে করে এই দুনিয়া এখনও অনেক দিন চলবে।
বাচ্চারা তোমরা জানো যে আমরা এখন নিজেদের নতুন দুনিয়াতে যাচ্ছি অথবা অমরপুরীতে
যাচ্ছি। এখন তোমরা তোমাদের সংস্কার পরিবর্তন করছো। অআসুরিক মানুষ থেকে পরিবর্তিত
হয়ে দৈবী মানুষ তৈরী হচ্ছো। বাবা মানুষ থেকে দেবতা তৈরী করছেন। দেবতাদের মধ্যে
দৈবীগুণ থাকে। তারাও মানুষ, কিন্তু তাদের
মধ্যে দৈবীগুণ থাকে। এখানকার মানুষের মধ্যে আসুরীক গুণ আছে। তোমরা জানো যে এই
আসুরিক রাবণ রাজ্য আর থাকবে না। এখন আমরা দৈবীগুণ ধারণ করছি। নিজেদের জন্ম-জন্মান্তরের
পাপও যোগবলের দ্বারা ভষ্ম করছি। করছো, নাকি করছো না সেটা প্রত্যেকে নিজেদের গতিকে দেখে বুঝতে পারছো। প্রত্যেককে
দূর্গতি থেকে সদ্গতিতে নিয়ে আসতে হবে। অর্থাৎ সত্যযুগে যাওয়ার জন্য পুরুষার্থ করতে
হবে। সত্যযুগে আছে বিশ্বের বাদশাহী। একটাই রাজ্য হবে। এই লক্ষ্মী-নারায়ণ হলেন
বিশ্বের মহারাজন, তাই না। দুনিয়ার মানুষ এই কথাগুলিকে জানে না।
ওয়ান ওয়ান ওয়ান থেকে এনাদের রাজত্ব শুরু হয়। তোমরা জানো যে আমরা এইরূপ তৈরী
হচ্ছি। বাবা নিজের থেকেও বাচ্চাদেরকে উঁচুতে নিয়ে যাচ্ছেন, এইজন্য বাবা নমস্কার করছেন। জ্ঞান সূর্য,
জ্ঞান চন্দ্রমা, জ্ঞান লাকি নক্ষত্র। তোমরা হলে লাকি তাই না।
বুঝতে পারো যে বাবা একদম সঠিক অর্থের সাথে নমস্কার করছেন। বাবা এসে অনেক সুখ
প্রদান করেন। এই জ্ঞান হল বড়ই ওয়ান্ডারফুল। তোমাদের রাজত্বও হল ওয়ান্ডারফুল। তোমরা
আত্মারাও হলে ওয়ান্ডারফুল। রচয়িতা আর রচনার আদি-মধ্য-অন্তের সমস্ত জ্ঞান তোমাদের
বুদ্ধিতে আছে। তোমাদের নিজের সমান বানানোর জন্য কত পরিশ্রম করতে হয়। যদিও
প্রত্যেকেই কল্প পূর্বের মতো ভাগ্য নিয়েই এসেছে, তথাপি বাবা পুরুষার্থ করাতে থাকেন। এটা বলতে
পারা যাবে না যে আট রত্ন কারা হবেন। আগে থেকে বলে দেওয়ার পার্টই নেই। পরবর্তীকালে
তোমরা তোমাদের পার্টকেও জেনে যাবে। যে যেরকম পুরুষার্থ করবে, সেইরকম তার ভাগ্য তৈরী হবে। বাবা কেবল রাস্তা
বলে দেন। যে যতটা বাবার কথা মতো চলবে। এনাকে তো সূক্ষ্ম বতনে দেখেছো, প্রজাপিতা ব্রহ্মা এখানে তোমাদের সাথে বসে
আছেন। ব্রহ্মা থেকে বিষ্ণু হওয়া এক সেকেণ্ডের কাজ। বিষ্ণু থেকে ব্রহ্মা হতে ৫
হাজার বছর লেগে যায়। বুদ্ধিও বলে এই কথাই সঠিক । মানুষ যদিও ত্রিমূর্তি তৈরী করে -
ব্রহ্মা-বিষ্ণু-শংকর। কিন্তু কেউই কিছুই বুঝতে পারে না। এখন তোমরা বুঝতে পারছো।
তোমরা হলে পদ্মাপদম ভাগ্যশালী বাচ্চা। দেবতাদের পায়ে পদ্ম ফুল দেখানো হয়, তাই না। পদমপতি নামও সর্বজনবিদিত। পদমপতি হয়ও
গরীব সাধারণ মানুষ। কোটিপতি তো কেউ এখানে আসেনা। ৫-৭ লাখ টাকা উপার্জনকারীদের
সাধারণ বলা হবে। এই সময় ২০-৪০ হাজার তো কিছুই নয়। এখানে পদমপতি কেউ থাকলেও থাকতে
পারে, কিন্তু সেটা এক জন্মের
জন্য। হয়তো কিছু জ্ঞান নেবে। সবকিছু স্বাহা তো করবে না, তাই না। সবকিছু স্বাহা তারাই করেছিল, যারা প্রথমে এসেছিল। শীঘ্রই তাদের সব অর্থ
সেবার কাজে লেগে গিয়েছিল। গরীবদের অর্থ তো সবার কাজে লেগেই যায়। ধনবানদের বলা হবে,
এখন সেবা করো। ঈশ্বরীয়
সার্ভিস করতে চাইলে সেন্টার খোলো, পরিশ্রমও করো।
দৈবীগুণও ধারণ করো। বাবা হলেন গরীবের ভগবান। এইসময় ভারত হল সবথেকে গরীব। ভারতেরই
সবথেকে বেশী আদমসুমারী আছে, কেননা শুরু থেকে
এসেছে তাই না। যারা গোল্ডেন এজ-এ ছিলেন তারাই আয়রন এজ-এ এসেছে। একদম গরীব হয়ে
গেছে। খরচা করতে করতে সব শেষ করে দিয়েছে। বাবা বোঝাচ্ছেন এখন তোমরা পুনরায় দেবতা
তৈরী হচ্ছো। নিরাকার গড তো হলেন এক বাবা। সবকিছু হল বাবার জন্যই। অন্যদেরকে
বোঝানোর জন্য তোমরা অনেক পরিশ্রম করো। কত চিত্র তৈরী করো। পরবর্তী কালে সবাই
সবকিছু বুঝতে পারবে। ড্রামার টিক টিক তো চলতেই থাকবে। এই ড্রামার টিক টিক-কে তোমরা
জানো। সমগ্র দুনিয়ার অ্যাক্ট অবিকল অ্যাক্যুরেট কল্প-কল্প রিপিট হতে থাকে। সেকেণ্ড
বাই সেকেণ্ড চলতে থাকে। বাবা এই সব কথা বোঝাচ্ছেন, তবুও বলছেন মন্মনা ভব। বাবাকে স্মরণ করো। কেউ
কেউ আবার জলের উপর দিয়ে বা আগুনের উপর দিয়ে হেঁটে পার হয়ে যায়, এতে লাভ কিছু হয় না। এরদ্বারা কারো আয়ু থোড়াই
বেড়ে যায়। আচ্ছা!
মিষ্টি-মিষ্টি
হারানিধি আত্মিক বাচ্চাদেরকে বাপদাদার স্মরণের স্নেহ সুমন গুডনাইট।
*ধারণার জন্যে
মুখ্য সারঃ-*
১ ) নিজের মেজাজ
(টেম্পার) অত্যন্ত সুইট বানাতে হবে। শ্রীমতে চলে বাবার সমান প্রিয় হয়ে নিজেকে
সুন্দর ফুলের মতো বানাতে হবে।
২ ) নিজেকে নিজেই
কৃপা করতে হবে। নিজেকে সাবধান করার জন্য নিজের এইম্ অবজেক্টকে সামনে রাখতে হবে।
আত্মীয় পরিজনদেরও কল্যাণ করতে হবে।
*বরদানঃ-* তীর্থ স্থানের স্মৃতির দ্বারা সর্ব পাপ থেকে
মুক্ত হওয়া পূণ্য আত্মা ভব
মধুবন হলো মহান
তীর্থ। ভক্তি মার্গে সবাই মনে করে যে তীর্থ স্থানে গেলে পাপ থেকে মুক্ত হওয়া যায়।
কিন্তু এর প্র্যাক্টিক্যাল অনুভব বাচ্চারা তোমরা এখন করছো। এই মহান তীর্থ স্থানে
এসে তোমরা পূণ্য আত্মা হয়ে যাও। এই তীর্থ স্থানের স্মৃতি অনেক সমস্যার সমাধান করে
দেয়। এই স্মৃতিও এক (তাবিজ) রক্ষা কবচের কাজ করে। যে কোনও পরিস্থিতি আসুক না কেন,
এখানকার বাতাবরণকে স্মরণ
করলে সুখ শান্তির দোলায় দুলতে থাকবে। তো এই স্থানে আসাও হল অনেক বড় ভাগ্য।
*স্লোগানঃ-* রমতা (ভ্রাম্যমান) যোগী হওয়ার জন্য জ্ঞান আর
অনুভবের ডবল অথোরিটি সম্পন্ন হও।
No comments:
Post a Comment