10.03.2023 BANGLA MURLI
মিষ্টি আদরের বাচ্চারা - তোমাদের হলো আত্মিক (রূহানী) স্মরণের যাত্রা, তোমাদের শরীরকে কোনো কষ্ট দিতে হবে না, চলতে-ফিরতে, উঠতে-বসতে বুদ্ধির সাহায্যে বাবাকে স্মরণ করো”
প্রশ্নঃ - সদা খুশীর অনুভূতি কোন্ বাচ্চাদের থাকে? স্থায়ী খুশী না থাকার কারণ কি?
উত্তরঃ - যে পুরানো দুনিয়া, পুরানো শরীরের আসক্তি ছিন্ন করে বাবা আর উত্তরাধিকারকে (বর্সা) স্মরণ করে তাদেরই স্থায়ী খুশী থাকে। যাদের স্মরণের যাত্রায় মায়ার ঝড় আসে, অবস্থা শিথিল হয়ে যায় তাদের খুশী স্থায়ী থাকে না । ২ - যতক্ষণ ভবিষ্যতের রাজত্ব এই চোখে দেখবে না, ততক্ষণ খুশী বজায় থাকবে না।
*গীতঃ- আমাদের সেই পথে চলতে হবে...
ওম্ শান্তি । এই কথা বাবা বলেন বাচ্চাদের প্রতি, এ তো বোঝার মতো বিষয় । এত বাচ্চা প্রজাপিতা ব্রহ্মা ব্যতীত অন্য কারো হয় না । শ্রীকৃষ্ণকে কখনও প্রজাপিতা বলা যায় না। নাম গায়ন আছে না প্রজাপিতা ব্রহ্মা, যিনি এক সময় ছিলেন, তিনি আবার এই সময়ে প্রেজেন্ট আছেন। তো প্রজাপিতা ব্রহ্মার সন্তান ব্রহ্মাকুমার কুমারীরা অসংখ্য আছে। এরা হলো প্রজাপিতা ব্রহ্মার সন্তান। তো নিশ্চয়ই প্রজাপিতা ব্রহ্মারও পিতা থাকবেন। বাচ্চারা জানে আমাদের দাদা অর্থাৎ ঠাকুরদাদা হলেন পরমপিতা পরমাত্মা শিব। উনি এখন নতুন দুনিয়া রচনা করছেন অর্থাৎ পুরানো দুনিয়াকে নতুন দুনিয়ায় পরিণত করছেন। এই পুরানো দুনিয়ায় এই শরীরও হল পুরানো। নতুন দুনিয়ায় সতোপ্রধান নতুন দেহ থাকে। সেই দেহ কেমন হয়, দেখো এই লক্ষ্মী-নারায়ণকে। এ'হলো নতুন দুনিয়ার নতুন দেহ। এদের মহিমা ভারতবাসী জানে। এই স্বর্গ নতুন দুনিয়া, নতুন বিশ্বের মালিক। নতুন দুনিয়া যা ছিল সেই দুনিয়াই এখন পুরানো হয়েছে। ৮৪ জন্ম নিতে হয়, তাইনা। এর পুরোপুরি হিসেব আছে। কে সম্পূর্ণ ৮৪ জন্ম নেয়? সবাই তো নেবে না। ৮৪ জন্ম শুধু তারাই নেয় যাদের আদি থেকে অন্ত পর্যন্ত পার্ট আছে। যারা প্রথমে এই সৃষ্টিতে ছিল। প্রতিটি কথাকে আদরের বাচ্চাদেরকে ধারণ করতে হবে। এখানে কোনও মানুষ, মানুষকে বোঝাতে পারে না। এ'কথা তো নিরাকার পরমপিতা পরমাত্মা মনুষ্য দেহে বসে বোঝান। এটাই তাঁর মহানতা। উনি যদি না বোঝাতেন তাহলে তো কিছুই জ্ঞান থাকতো না। আমরা তো তুচ্ছ বুদ্ধির ছিলাম। এখন রচয়িতা আর রচনার আদি মধ্য অন্তের কথা জেনেছি। হু ইজ হু... এই অসীম জগতের ড্রামার সবচেয়ে মুখ্য পার্টধারী কে কে । এ'হল অবিনাশী পূর্ব নির্ধারিত ড্রামা। গায়নও আছে পূর্বে রচিত যেটা সেটাই পুনরায় নির্মিত হচ্ছে.... এই গায়ন ভক্তিমার্গে করে। কিন্তু এই কথা এখন বোঝানো হয় যে এই ড্রামার খেলা কীভাবে রচনা হয়ে আছে।
বাবা বসে বোঝান আদরের বাচ্চারা, এই কথা তো তোমরা জেনেছো যে তোমাদের (আধ্যাত্মিক) যাত্রায় যেতে হবে। মানুষ (তীর্থ) যাত্রায় অনেক কষ্ট সহ্য করে যায়। এখন তো এরোপ্লেন, ট্রেন ইত্যাদি অনেক সহজ যানবাহন আছে। আগেকার দিনে তো মানুষ পদব্রজে যাত্রা করতো। চলতে চলতে ঝড়ের সম্মুখীন হতো। মানুষ ক্লান্ত হয়ে যেত। তখন কেউ কেউ ফিরেও আসত। তো অর্ধেক কল্প, দ্বাপর থেকে দৈহিক যাত্রা শুরু হয়। ভক্তিমার্গে মানুষ তীর্থযাত্রা করতে কেন যায়? ভগবানকে খুঁজতে। ভগবান তো কোথাও বসে নেই। ভগবানের জড চিত্রের পূজা হয়। যারা সৃষ্টি থেকে ফিরে গেছে তাদের জড চিত্র তৈরি হয়। চৈতন্য রূপে তো ভগবানের সঙ্গে মিলন হয় না। শিবলিঙ্গ ইত্যাদি সবই হল জড় চিত্র। জড় চিত্র গুলি দেখার জন্য যাত্রা করে। এ হল ভক্তিমার্গের রেওয়াজ । তারা সেটা জানে কিন্তু কারোর বায়োগ্রাফি জানে না যে তারা কে, কবে এসেছিলেন ? শিব জয়ন্তী উৎসব পালন করা হয়, কিন্তু তাঁকেও তারা জানে না। আজকাল তো এই উৎসবকেও (শিব জয়ন্তীর) বাদ দিয়ে দিয়েছে, কারণ তাঁর নাম রূপ ইত্যাদি প্রায় লুপ্ত হওয়ারই। এখন তোমরা জানো উঁচুর থেকেও উঁচু হলেন জ্ঞানের সাগর, সুখের সাগর । সাগরের কাছে এখন আমরা জ্ঞান প্রাপ্ত করি। উনি অসীম জগতের পিতা এখন প্রাক্টিক্যালে আছেন। অমরনাথও হলেন শিববাবা, তাইনা। দেখানো হয় বরফের লিঙ্গ নির্মাণ হয়ে যায়। মানুষকে ভ্রমিত করার জন্য অনেক রকমের গালগল্প সংযোজন করে গেছে। তাই দৈহিক যাত্রায় কষ্টও অনেক হয়। এ'হল রূহানী যাত্রা, এতে শরীরের কোনও কষ্ট নেই। তোমরা বাচ্চারা বুঝেছো আমরা অসীম জগতের পিতার সন্তান। ভক্তিমার্গে জন্ম-জন্মান্তর স্মরণ করে এসেছি। এখন স্মৃতি জাগ্রত হয়েছে। বাবা বলেন তোমরা ৬৩ জন্ম খোঁজ করতে করতে নীচে নেমেছো। প্রথমে একেবারে কঠিন নবধা ভক্তি করে। তবুও দুনিয়াকে তো তমোপ্রধান অবশ্যই হতে হবে। বৃক্ষের বৃদ্ধি নিশ্চয়ই হতে থাকবে। একজন মানুষও আমার কাছে ফিরে আসতে পারে না। নাটকে সবাইকে নিজের পার্ট প্লে করতে হয়। সতঃ রজঃ তমঃতে আসতে হবে। নম্বরওয়ানের দৃষ্টান্ত দেখে নাও। নম্বরওয়ান লক্ষ্মী-নারায়ণ সতোপ্রধান ছিলেন, এখন তমোপ্রধান হয়েছে। যার মধ্যে শিববাবা প্রবেশ করেছেন, কারণ এনাকে পুনরায় নম্বরওয়ান হতে হবে। তখন মা-কে প্লাস পজিশনে রাখে। মাতাদের লিফ্ট দিতে হয়। প্রথমে লক্ষ্মী পরে নারায়ণ, মাতাদের নাম উন্নীত করা হয়। মাতা সর্বদা পতিব্রতা হয়। পুরুষ কখনও পত্নীব্রতা হয় না। বন্দে মাতরম্ বলা হয়। এই সময় তোমরা বাবার আপন হয়েছো। তখন তোমরা হয়ে যাও ব্রহ্মাকুমার কুমারী। মাতা গুরু ব্যতীত কারো কখনও উদ্ধার হয় না। গুরু তো অসংখ্য আছে। তবুও কলিযুগ ঘোর তমসাচ্ছন্ন হয়ে গেছে। অনেক গুরু গোঁসাই রয়েছে । কোথায় কোথায় হরিদ্বার ইত্যাদি স্থানে তাদের মন্দির নির্মিত রয়েছে । নাহলে বাস্তবে মন্দির তাকে বলা হয় যেখানে দেবতারা থাকে। সন্ন্যাসীদের মন্দির কখনো হয় না। মন্দিরে তো দেবতারাই থাকে, কারণ তাদের আত্মা ও শরীর দুইই পবিত্র থাকে। এই মহাত্মাদের আত্মা যদিও পবিত্র, কিন্তু শরীর পবিত্র প্রাপ্ত হতে পারে না কারণ তত্ত্বও হল তমোপ্রধান। এখন তোমরা দেবতায় পরিণত হচ্ছো। বানিয়ে তুলছেন পরমপিতা পরমাত্মা। এ হল সতোপ্রধান সন্ন্যাস। ওটা হলো রজোপ্রধান সন্ন্যাস। এই সন্ন্যাস বাবা ব্যতীত অন্য কেউ শেখাতে পারে না। তাই বাবা বুঝিয়েছেন যে ওটা হল দেহের যাত্রা, এ'হল রূহানী যাত্রা। এতে কর্মেন্দ্রিয়ের কোনও প্রয়োজন নেই, কষ্টের কোনও ব্যাপার নেই। খুবই সহজ। ওই দৈহিক যাত্রা হলো অনেক রকমের। এই রূহানী যাত্রা হলো এক প্রকারেরই। এ'হল রাজত্ব লাভের যাত্রা। এই লক্ষ্মী-নারায়ণের চিত্র সামনে রয়েছে, দুনিয়া থোড়াই জানে যে, এরা এই রাজযোগের যাত্রা করে এই পদ প্রাপ্ত করেছেন। তোমরা বাচ্চারা জানো এনারা কীভাবে এই প্রালব্ধ প্রাপ্ত করেছেন। উপরের থেকে কোনও নতুন আত্মারা তো আসেনি, যাদেরকে ভগবান রাজত্ব দিয়েছেন। না। এনাদেরকে পুরানো থেকে নতুনে পরিণত করেন যাকে বলে রিজ্যুভিনেট বা কায়া কল্পতরু। তো বাবা বসে বোঝান এনারা রূহানী যাত্রা করেছিলেন। রাজযোগ বল এর যাত্রা দ্বারা এইরূপে পরিণত হয়েছে। বাবা রাজযোগ এবং জ্ঞান শেখাতে আসেন তো এখন তোমাদের যাত্রা চলছে। তোমরা বসে বসে অথবা চলতে ফিরতে উঠতে বসতে সর্বদা যাত্রায় আছো। তোমরা শুধু বুদ্ধি দ্বারা বাবাকে স্মরণ করো। স্মরণের দ্বারাই রেস করো এবং তোমাদের বিকর্ম গুলি বিনাশ হয়। যত শীঘ্র বিকর্ম বিনাশ হবে তত শীঘ্র বাবার গলার হার হবে। তোমরা এখন চার ধাম (যাত্রা) ইত্যাদি আর করো না। সে'সব হল ভক্তিমার্গের দেহের জগতের তীর্থ স্থানে যায়, সেখান থেকে ফিরে এসে পুনরায় বিকর্মী হয়ে যায় । যতখানি সময় তীর্থযাত্রায় থাকে, ততখানি সময় নির্বিকারী থাকে। আজকাল তো হরিদ্বারে গিয়েও দেখো পান্ডারা খুব অশুদ্ধ থাকে। মানুষ তীর্থ যাত্রায় গেলে পবিত্র থাকে আর সেখানকার নিবাসী পান্ডারা অপবিত্র থাকে। তোমাদের যাত্রা (রূহানী) কতখানি স্বচ্ছ। একটুও ধাক্কা ইত্যাদি খেতে হয় না। বাবা বলেন প্রিয় বাচ্চারা উঠতে বসতে চলতে ফিরতে শুধু আমাকে স্মরণ করো। আত্মাদের সঙ্গে এই কথা বলছেন। আত্মা এই অর্গ্যান্স গুলি দ্বারা শুনছে। আত্মা মুখ দিয়ে কথা বলে, চোখ দিয়ে দেখে। এই চোখের দ্বারা আত্মাদের দেখা যায় না, পরমাত্মাকেও দেখা যায় না ।দিব্য দৃষ্টি ব্যতীত দুইই দেখা সম্ভব নয়। বুঝতে পারা যায় তখন বলে আমার মধ্যে আত্মা আছে। আমার আত্মা দুঃখে আছে। আমার আত্মা এই শরীর ত্যাগ করে গিয়ে অন্য শরীর ধারণ করে। আত্মা কথা বলে, তাইনা। পরমাত্মাও আত্মাদের সাথে কথা বলেন - হে প্রিয় বাচ্চারা, আত্মারা তোমাদেরকে এখন আমার কাছে ফিরে আসতে হবে। আমি তোমাদের যাত্রা শেখাই। তোমরা পবিত্র না হয়ে আমার কাছে আসতে পারো না। আত্মা হলো পবিত্র। সর্বপ্রথমে আত্মা হয় সতোপ্রধান পরে সতঃ, রজঃ, তমঃগুণী হয়। শরীরও সতঃ রজঃ তমঃ হয়। সতোপ্রধানকে গৌর বর্ণ, তমোপ্রধানকে শ্যাম বর্ণ বলা হয়। খুবই বোধযুক্ত কথা। তোমরা জানো আত্মা ও পরমাত্মা আলাদা থেকেছে বহুকাল.... এখন এসে পুনরায় মিলিত হয়েছে। মানুষ, মানুষের সাথে মিলবে। আত্মা, আত্মাদের সাথে মিলিত হবে। পরমাত্মাও সেখানে মিলিত হবেন। আত্মা ও পরমাত্মা দুইয়েরই সাক্ষাৎকার দিব্য দৃষ্টির দ্বারা হয় কারণ আত্মা হল অতি সূক্ষ্ম, স্টারের মতো। কোনও বৈজ্ঞানিকই বলতে পারে না আত্মার প্রবেশ কীভাবে হয়। এই কথা গুলি তারা একটুও জানেনা । মোস্ট বিলাভেড হলেন বাবা। ভক্তিমার্গে অর্ধেক কল্প ভক্ত ভগবানকে স্মরণ করে। এমন নয় যে সবাই ভগবান। সবাই যদি ভগবান হয় তবে ভক্তরা আরাধনা, বন্দনা, সাধনা কেন করে, কি জন্য করে? সবাই মুক্তি-জীবনমুক্তি চায় কারণ এখানে দুঃখে আছে, চাইছে শান্তি হোক। কিন্তু তাদের এই কথা জানা নেই যে, শান্তিধাম কাকে বলে, মুক্তি কোথায় হয়। এই কথাও জানেনা। শুধু বলার জন্য বলে দেয় পারনির্বাণ গেছে। কিছুই জানেনা। এখন তোমরা বাচ্চারা যাত্রা করছো। বাবা বলেন খুব সামলে চলতে হবে। ঝড় অনেক আসবে। তোমরা স্মরণ করার চেষ্টা করবে, মায়া বুদ্ধিযোগ চ্ছিন্ন করে দেবে। তখন আত্মস্থিতি শিথিল হয়ে যায়। খুশীর পারদ নীচে চলে যায়। নাহলে খুশীর পারদ স্থায়ী ভাবে ঊর্ধ্বে থাকা উচিত। এই চোখে সেই রাজত্ব দেখলে খুশী বজায় থাকে। এখানে তোমরা বুদ্ধিযোগের দ্বারা জানো যে রাজত্ব প্রাপ্ত হয়। রাজত্বের জন্য আমরা পড়াশোনা করছি। এই চোখ দিয়ে না দেখার দরুন মায়া ক্ষণে ক্ষণে ভুলিয়ে দেয়। বাবা বলেন গৃহস্থ ব্যবহারে থেকে পদ্ম ফুলের মতন থাকো। পুরানো দুনিয়া, পুরানো শরীর সবের থেকেই আসক্তি দূর করতে থাকো। এক বাবাকে স্মরণ করো। প্রথমে তোমাদেরকে বাবার কাছে ফিরে যেতে হবে তারপরে নতুন দুনিয়ায় আসতে হবে। বাবাকে আর অবিনাশী উত্তরাধিকারকে স্মরণ করো। পরে যখন আমরা এখানে আসবো তখন সেটা হবে প্রালব্ধ। সেসব স্মরণ করবো না। এখন আমরা পুরুষার্থ করছি ভবিষ্যতের প্রালব্ধ প্রাপ্তির জন্য। এখানে মানুষ পুরুষার্থ করে এখানকার জীবিকার জন্য। আমরা ভবিষ্যতের জীবনধারণের জন্য পুরুষার্থ করি। গৃহস্থে থেকে এই কোর্স করতে হবে। নলেজকে ধারণ করতে হবে, পরে তোমাদের আর পুরুষার্থ করতে হবে না। সেখানে তোমরা পুরুষার্থ করো না, প্রালব্ধ ভোগ করো। তোমরা জানো আমরা ভবিষ্যৎ নির্মাণ করছি, সেখানে প্রালব্ধ ভোগ করবো। সেখানে স্মৃতি থাকে না যে আমরা প্রালব্ধ ভোগ করি। তাহলে তো পুরুষার্থের কথাও স্মরণে থাকবে। পুরুষার্থ এবং প্রালব্ধ দুইই ভুলে যাই। প্রালব্ধ ভোগ করি, পাস্টের কথা স্মরণে থাকে না। এখন তোমরা পাস্ট, প্রেজেন্ট, ফিউচারকে জানো। এমন কোনও মানুষই নেই যে পাস্ট, প্রেজেন্ট, ফিউচারকে জানে। একেই বলে ত্রিকালদর্শী।
বাবা রূহানী যাত্রা এবং দেহের দ্বারা যাত্রার কন্ট্রাস্টকেও ভালো ভাবে বুঝিয়ে দিয়েছেন। দেহের যাত্রা জন্ম-জন্মান্তর ধরে করে এসেছি, এ'হল রূহানী যাত্রা এক জন্মের। স্বর্গে যাবো আমরা, তারপর এই মৃত্যু লোকে আর ফিরে আসতে হবে না। আচ্ছা!
মিষ্টি - মিষ্টি হারানিধি, স্বদর্শন চক্রধারী বাচ্চাদের প্রতি মাতা - পিতা, বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত । আত্মাদের পিতা ওঁনার আত্মারূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার ।
*ধারণার জন্যে মুখ্য সারঃ-*
১ ) সতোপ্রধান সন্ন্যাসের দ্বারা আত্মা ও শরীর দুইই পবিত্র বানাতে হবে। পুরানো দুনিয়া এবং পুরানো দেহের প্রতি আসক্তি দূর করতে হবে।
২ ) ত্রিকালদর্শী হয়ে পাস্ট, প্রেজেন্ট, ফিউচারকে বুদ্ধিতে রেখে পুরুষার্থ করতে হবে। নলেজ ধারণ করে স্থায়ী খুশীতে থাকতে হবে।
*বরদানঃ-* পুরানো হিসেব-পত্র গুলিকে সমাপ্ত করে সম্পূর্ণতার সমারোহ উদযাপনকারী বন্ধনমুক্ত ভব
এই অপরের দেশে যখন সবাই বন্ধন-যুক্ত আত্মা হয়ে যায়, তখন বাবা এসে স্বরূপ আর স্বদেশের স্মৃতি স্মরণ করিয়ে দিয়ে বন্ধনমুক্ত বানিয়ে স্বদেশে নিয়ে যান আর স্বরাজ্য অধিকারী বানিয়ে দেন। তো নিজের স্বদেশে ফিরে যাওয়ার জন্য সব হিসেব-পত্রের সমাপ্তির সমাপ্তি সমারোহ উদযাপন করো। বর্তমানে যখন এই অনুষ্ঠান পালন করবে তখন অন্তিমে সম্পূর্ণতার সমারোহ উদযাপন করতে পারবে। বহুকালের বন্ধনমুক্ত আত্মাই বহুকাল জীবনমুক্ত পদ প্রাপ্ত করে থাকে ।
*স্লোগানঃ-* নিজের উৎসাহ-উদ্দীপনার সহযোগিতা এবং মধুর বাণীর দ্বারা দুর্বলকে শক্তিশালী বানিয়ে দেওয়াই হলো শুভ চিন্তক হওয়া।
No comments:
Post a Comment