Saturday, March 4, 2023

05.03.2023 BANGLA MURLI

                                           05.03.2023 BANGLA MURLI



"পয়েন্ট' এই একটি শব্দকে তিন ভাবে স্মৃতিতে এনে তার স্বরূপ হওয়া - এটাই হলো সেফ্টির সাধন"


বিশ্ব কল্যাণকারী বাপদাদা নিজের সব মাস্টার বিশ্ব কল্যাণকারী বাচ্চাকে দেখছেন। প্রত্যেক বাচ্চার এই ব্রাহ্মণ জীবনের লক্ষ্য অতি শ্রেষ্ঠ। প্রত্যেকে নম্বর ওয়ান পুরুষার্থ করার লক্ষ্য নিয়ে নিরন্তর সামনে উড়ে চলেছে। সবার লক্ষ্য নম্বর ওয়ানের, কিন্তু লক্ষণ নম্বরক্রমে। তো লক্ষ্য আর লক্ষণ এই দুইয়ের মধ্যে প্রভেদ কেন রয়েছে? জ্ঞানদাতা বাবাও এক, যোগের বিধিও এক, দিব্য গুণ ধারণ করার সহজ প্রত্যক্ষ প্রমান সাকার ব্রহ্মা বাবাও এক, সেবার সাধন আর সেবার বিধি যিনি শিখিয়ে দেন তিনিও এক। মুখ্য বিষয় হলো - পড়ানো আর লালনপালন - এই দুটোই যিনি দেন তিনি এক এবং একনম্বর, তবুও প্রত্যক্ষ জীবনে লক্ষণ নম্বরক্রমে কেন? এ' তো তোমরা নিজেদের সবাই ভালো করেই জানো যে, লক্ষণ ধারণ করার ক্ষেত্রে আমি কত নম্বরে আছি ! নম্বরক্রমে হওয়ার বিশেষ আধার একই শব্দ 'পয়েন্ট'। পয়েন্ট স্বরূপকে অনুভব করা। দ্বিতীয়তঃ, যে কোনো সঙ্কল্প, বোল অথবা কর্ম যদি ব্যর্থ হয় তা'তে পয়েন্ট লাগানো অর্থাৎ বিন্দু লাগানো। তৃতীয়তঃ, জ্ঞানের কিংবা ধারণার অনেক পয়েন্টস্ মনন করে নিজের জন্য অথবা সেবার জন্য সঠিক সময় কার্যে প্রয়োগ করা। সুতরাং শব্দ একটাই - পয়েন্ট, কিন্তু তিন স্বরূপের পয়েন্টকে স্মৃতিতে রেখে সময়মতো এর স্বরূপ হওয়ার ক্ষেত্রেই নম্বরক্রমে হয়ে যায়। প্রায়শঃ, বাপদাদা দেখেন যে, স্মৃতি বজায় রাখতে বাচ্চারা সবাই খুব সমঝদার। তারা ভাবতেও থাকে, এমন হওয়া উচিত, এটা রাইট, এটা রং এই জ্ঞানও ইমার্জ হয়। জ্ঞান অর্থাৎ নলেজ আর নলেজ ইজ লাইট, নলেজ ইজ মাইট বলা হয়ে থাকে, সুতরাং যেখানে লাইটও আছে, মাইটও আছে সেখানে এটা হওয়া উচিত, অথচ হয় না। কি ভাবো তোমরা, বাপদাদাও তো এটা বলেন, তোমাদের হতে তো হবে, এই জ্ঞান তোমাদের আছে, কিন্তু সেই সময় তোমাদের মধ্যে কী হয়, ওটা এমন হওয়া উচিত, তেমন হওয়া উচিত-এর মধ্যে থেকে যায়। এর অর্থ, জ্ঞানকে লাইট আর মাইটের রূপে সঠিক সময়ে প্রয়োগ করতে তোমরা অপারগ। একে বলা হয়ে থাকে স্মৃতিতে আছে, কিন্তু স্বরূপে নিয়ে আসার শক্তি কম। যখন লাইট আছে অর্থাৎ যখন এটা রং, এটা রাইট; এটা অন্ধকার, এটা আলো; এটা ব্যর্থ, এটা সমর্থ - এই জ্ঞানালোক আছে তখন অন্ধকার বুঝেও অন্ধকারে থাকা, একে জ্ঞানী বা সমঝদার বলবে? যদি জ্ঞানী নও, তাহলে তোমরা কী? ভক্ত নাকি অর্ধ-জ্ঞানী? রং বুঝেও রং কর্মের কিংবা সঙ্কল্পের অথবা স্বভাব-সংস্কারের বশীভূত যদি হয়ে যাও তবে তাকে কী বলা যাবে? তার টাইটেল কী হওয়া উচিত? বাপদাদা সময়ের গতিকে লক্ষ্য করে সব বাচ্চার বারবার অ্যাটেনশন আকর্ষণ করেন।


'অ্যাটেনশন' শব্দকেও ডবল আন্ডারলাইন করাচ্ছেন যে, এই প্রকৃতির তমঃ গুণী শক্তি আর মায়ার সূক্ষ্ম রয়্যাল বিচারবুদ্ধির শক্তি তাদের কার্য তীব্রগতিতে করতে থাকবে। প্রকৃতির ভয়ংকর রূপকে জানা সহজ, কিন্তু বিভিন্ন রকমের ভয়ংকর উথালপাথাল অবস্থায় অনড় থাকতে আরও অ্যাটেনশন প্রয়োজন। মায়ার অতি সূক্ষ্ম স্বরূপ জানার ক্ষেত্রেও তোমরা ঠকে যাও। মায়া এমন রয়্যাল রূপ উপস্থিত করে যাতে রং বিষয়কেও রাইট অনুভব করায় তোমাদের। হয়তো সম্পূর্ণভাবে রং কিন্তু বুদ্ধিকে এমন পরিবর্তন করে দেয় যে, রিয়েল বোধকে, অনুভবের শক্তি উধাও করে দেয়। যেমন কেউ জাদুমন্ত্র যদি করে তো পরবশ হয়ে যায়, ঠিক সেভাবেই অনুভবের শক্তি উধাও করার রয়্যাল মায়া রিয়েলকে বুঝতে দেয় না। পুরোপুরি রং হবে কিন্তু মায়ার ছায়ার বশীভূত হওয়ার কারণে রং-কে রাইট মনে করো আর প্রমান করতে গিয়ে মায়ার সুপ্রিম কোর্টের উকিল হয়ে যাও। তো উকিল কি করে? মিথ্যাকে সত্য প্রমান করার ক্ষেত্রে তারা খুব চতুর হয়। সত্যকে সত্য প্রমান করতেও চতুর হয়, কিন্তু সত্যকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করতে তারা সিদ্ধহস্ত, দুটো ক্ষেত্রেই তারা দক্ষ। সেইজন্য বাপদাদা 'অ্যাটেনশনে' ডবল আন্ডারলাইন করাচ্ছেন। সূক্ষ্ম স্বরূপের মায়ার ছায়া থেকে সদা নিজেকে সেফ রাখো, যা তোমাদের অনুভবের শক্তিকে পরিবর্তন করে দেয়। কারণ মায়া বিশেষভাবে এই স্বরূপে তার নিজের কাজ করছে। বুঝেছ? এখন তাহলে কী করবে? কেয়ারফুল থাকতে হবে। যদি কোনো বিশেষ আত্মা সঙ্কেত দেয় তাহলে ভালো করে মায়ার এই ছায়া থেকে বেরিয়ে বাবার ছত্রছায়ায় নিজেকে, বিশেষভাবে মন-বুদ্ধিকে এই ছত্রছায়ায় সুরক্ষিত করো, কেননা, মনে নেগেটিভ ভাব আর ভাবনা উৎপন্নকারী মায়ার বিশেষ প্রভাব চলছে এবং বুদ্ধিতে যথার্থ অনুভবকে সমাপ্ত করার বিশেষ কার্য চলছে মায়ার। কোনো কোনো সীজন এমন হয় তো না যে, সেই সীজন থেকে বাঁচার জন্য বিশেষ অ্যাটেনশন রাখতে হয়, যেমন, বৃষ্টি আসলে তোমাদের কীসে অ্যাটেনশন দিতে হবে? ছাতা, রেন-কোট ইত্যাদি তোমাদের কাছে রাখবে, শীতের জন্য গরম জামা-কাপড় রাখবে, এসবের দিকে অ্যাটেনশন দেবে, তাই না? সুতরাং মন আর বুদ্ধির উপরে যাতে প্রভাব না পড়ে তার জন্য আগে থাকতেই সেফটির সাধন বিশেষভাবে ধারণ করো। সেই বিশেষ সাধন খুব সহজ, আগেই তোমাদের বলা হয়েছে - একটাই শব্দ 'পয়েন্ট।' সহজ তো না। লম্বা-চওড়া (জটিল ) তো শোনানো হয়নি, তাই না? তোমরা নিরন্তর বলতে থাকো - হ্যাঁ, আমি আত্মা বিন্দু, জ্যোতিরূপ, কিন্তু সেই রূপে তোমরা স্থির হতে পারো না। তোমরা চেষ্টা করো পয়েন্ট দিতে কিন্তু হয়ে যায় কোশ্চেন মার্ক বা আশ্চর্যবোধক চিহ্ন। পয়েন্ট লাগানো সহজ নাকি আশ্চর্যের চিহ্ন বা কোশ্চেন মার্কের চিহ্ন? কোনটা সহজ? বিন্দু লাগানো সহজ হয়, হয় তো না। তাহলে কেন তোমরা কোশ্চেন আর আশ্চর্যের চিহ্নে জড়িয়ে যাও? এই বিধিকে গ্রহণ করো। এই সীজন হলো সত্য মিথ্যা প্রমান করার এবং মিথ্যা সত্যের থেকেও স্পষ্ট আর আকর্ষণীয় হবে। আজকালকার ফ্যাশন যেমন হয় নকল জিনিস কত আকর্ষণীয় হয়, তার সামনে সত্যের ভ্যাল্যু কম হয়ে যায়। রিয়েল সিলভার দেখ আর হোয়াইট সিলভার দেখ, কী সুন্দর লাগে? রিয়েল সিলভার কালো হয়ে যাবে আর হোয়াইট সিলভার সবসময় চকমক করতে থাকবে। তাহলে হোয়াইট আকর্ষণ করবে নাকি রিয়েল করবে? অতএব, সীজনকে চেনো, মায়ার স্বরূপকে চেনো, প্রকৃতির তমঃ গুণের ভিন্ন ভিন্ন খেলাকে চেনো। এক হলো জানা, আরেক হলো চেনা। জানো বেশি, কিন্তু কখনো কখনো চিনতে ভুল করো, কখনো তোমরা রাইট। এখন কী করবে? সেফ থাকবে তো না। পরে এটা ব'লো না যে, আমি তো বুঝতে পারিনি, এরকমও হয় নাকি ! এই 'কী' 'কেন' চলবে না। এখন তো তবুও বাবা অল্প অল্প দয়া করেন, মাত্র কিছু পদক্ষেপ নেন। কিন্তু এরপরে 'কেন' 'কী' কেউ শুনবে না। এরকম নয়, সেরকম... এই ওকালতি চলবে না। জজ হও, মায়ার উকিল হয়ো না। তোমরা যখন ওকালতি করো তোমাদের নিজেদের খুব আনন্দ হয়। তোমরা সবাই অনুভাবী তো না, অনুভব হয়, হয় না? শুনে শুনে সাক্ষী হয়ে উৎফুল্ল হতে থাকো। স্পষ্টভাবে বুঝেছ? পান্ডবরা, শক্তিরা তোমরা বুঝেছ, টিচার্স বুঝেছ? সবাই তো হ্যাঁ হ্যাঁ বলছ। হ্যাঁ-এর ফটো তোলা হচ্ছে।


তৃতীয় সীজন হলো বিশেষ দুর্বলতার স্বভাব-সংস্কার, সম্বন্ধ-সম্পর্কে আসা, এর বিস্তারও অনেক বড়। এই বিষয়ে বাবা আজ বলবেন না। অনেক বাচ্চা বলে, কী করবো, আগে তো ছিলো না, এখন জানি না কী হয় ! এই সংস্কার আমার মধ্যে ছিলই না, এখন ইমার্জ হয়েছে, এর কারণ আর এর বিধির বিস্তার বাবা অন্য কোনো সময়ে বলবেন। আচ্ছা !


চতুর্দিকে, বাপদাদার মহাবাক্য যারা শোনে এবং ধারণ করে সেই চাত্রক (চাতক) বাচ্চাদের, সব সাবজেক্ট স্মৃতিতে থাকে এবং সেইসঙ্গে সেসবের স্বরূপ হওয়া সমীপ আত্মাদের, সদা সব বিষয়কে লাইট আর মাইটের স্বরূপে কার্যে প্রয়োগ করে এমন শ্রেষ্ঠ আত্মাদের, লক্ষ্য আর লক্ষণ সদা সমান বানানো বাবার 'জ্ঞানী তু আত্মা' বাচ্চাদের, যারা, সদা বাবার ছত্রছায়ায় থাকে, মায়ার ছায়া থেকে সেফ থাকে, জানা এবং চেনা এই দুইয়ের বিশেষত্ব তাদের বাস্তব জীবনে নিয়ে আসে, সেরকম বিশেষ আত্মাদের বাপদাদার স্মরণ-স্নেহ আর নমস্কার।


দাদিদের সাথে সাক্ষাৎকার : - শক্তি সেনা তীব্রগতিতে চলেছ, তাই না। বাপদাদার সাথে সাথে তোমরা নিমিত্ত আত্মারাও সেনাদের অগ্রচালিত করতে দায়িত্বশীল। বাবা তো সদা সাথে আছেন আর সদাই থাকবেন। তা' সত্ত্বেও তোমরাই বাপদাদার শ্রেষ্ঠ ভুজসকল তো না। বাবা শক্তি দেন, বাবা মাইট রূপ কিন্তু অন্যকে বোঝানোর জন্য দায়িত্বশীল মাইক তো তোমরা নিমিত্তরা। কত আনন্দদায়ক বিষয় তোমরা শোনো। খেলা মনে হয়, তাই না। খেলা তো না। খেলতে খেলতে বিজয়ী হয়ে সবাইকে মায়াজিত বিজয়ী বানাতেই হয়, এই গ্যারান্টি তো আছেই। কিন্তু মাঝে মধ্যে তোমাদের এই খেলা দেখতে হবে। তো ক্লান্ত হয়ে যাও না তো? হাসতে হাসতে, খেলতে খেলতে সবকিছু অতিক্রম করে এবং অন্যকে অতিক্রম করিয়ে চলো। যখন এমন কোনও কিছু শোনো তো হৃদয় থেকে কী বের হয়? বাহ্ ড্রামা বাহ্ ! হায় ড্রামা হায় বের হয় না। বাঃ ড্রামা ! বাঃ বাঃ করতে করতে সবাইকে বাঃ বাঃ হতে হবে। এই সব তোমাদের অতিক্রম করতেই হবে। আচ্ছা !


অব্যক্ত বাপদাদার পার্সোনাল সাক্ষাৎকার -


"বিজয় আমার জন্মসিদ্ধ অধিকার, এই নিশ্চয় আর নেশার সাথে নির্বিঘ্ন স্থিতির অনুভব করো"


যেমন বাবা সর্বোচ্চ তেমনই আমরা আত্মারাও সর্বোচ্চ শ্রেষ্ঠ আত্মা ― এই অনুভবে অগ্রচালিত হচ্ছ? কারণ দুনিয়ার লোকের জন্য তো সর্বাধিক শ্রেষ্ঠ সর্বোচ্চ বাবার পরে দেবতারা। কিন্তু দেবতাদের থেকেও উঁচু তোমরা ব্রাহ্মণ আত্মা, তোমরা ফরিস্তা এই দুনিয়ার লোকে জানে না। দেবতা পদকে এই ব্রাহ্মণ জীবন থেকে উঁচু বলা হবে না। এখনের ব্রাহ্মণ জীবন উঁচু। দেবতাদের থেকেও তোমরা উঁচু কেন, তা' তোমরা ভালো করে জানো তো না। দেবতা রূপে বাবার জ্ঞান ইমার্জ হবে না। পরমাত্ম-মিলনের অনুভব এই ব্রাহ্মণ জীবনে করে থাক, দৈবী জীবনে নয়। ব্রাহ্মণই দেবতা হয়, কিন্তু এই সময় দৈবী জীবন থেকেও উঁচু তোমাদের জীবন, তো এত নেশা যেন সদা থাকে, কখনো কখনো নয় কেননা, বাবা অবিনাশী। আর অবিনাশী বাবা যে জ্ঞান দেন সেটাও অবিনাশী, যে স্মৃতি তিনি জাগিয়ে দেন সেটাও অবিনাশী, কখনো কখনো নয়। সুতরাং এটা চেক করো যে, সদা এই নেশা থাকে নাকি কখনো কখনো থাকে? মজা তো তখন হবে যখন সদা থাকবে। যদি কখনো থাকে আর কখনো না থাকে তবে কখনো মজায় থাকবে, কখনো বিভ্রান্তিতে থাকবে। সুতরাং এই মুহূর্তে মজা, আর পরমুহূর্তে বিভ্রান্তি নয়, যেন সদা থাকে। যেমন, এই শ্বাস সদাই চলে, চলে তো না। যদি এক সেকেন্ডও শ্বাস আটকে যায়, অথবা কখনো কখনো চলে তবে তাকে জীবন বলবে? তো এই ব্রাহ্মণ জীবনে নিরন্তর অনন্দানুভবে আছ? যদি মজা না থাকে তবে অবশ্যই বিভ্রান্ত হবে। তো মাতা-রা সদা আনন্দে থাকো? তোমরা শক্তি তো না, সাধারণ তো নও, নাকি যখন গৃহে ফিরে যাও তখন সাধারণ মাতা হয়ে যাও? না, সদা এটা যেন স্মরণে থাকে আমরা শক্তি। সীমিত পরিসরের নও, অসীম বিশ্বের কল্যাণকারী। শক্তি অর্থাৎ যারা অসুরের উপরে বিজয় প্রাপ্ত করে। শক্তিকে বলাই হয় অসুর সংহারিণী অর্থাৎ আসুরিক সংস্কারকে সংহার করে। তো তোমরা শক্তিরা সবাই এমন বাহাদুর হয়েছ? আর পাণ্ডব অর্থাৎ বিজয়ী। পাণ্ডব কখনো এটা বলতে পারে না যে, চাই না তবুও হার হয়ে যায়, কারণ অর্ধকল্প হার হয়েছে, এখন বিজয় প্রাপ্ত করার সময়। তাহলে, বিজয়ের সময়ও যদি পরাজয় হয়, তবে বিজয়ী কবে হবে? সেইজন্য এই সময় সদা বিজয়ী। বিজয় জন্মসিদ্ধ অধিকার। অধিকার কেউ ছাড়ে না, লড়াই-ঝগড়া করেও আদায় করে নেয় আর এখানে তো সহজেই প্রাপ্ত হয়। বিজয় নিজের জন্মসিদ্ধ অধিকার। অধিকারের নেশা বা খুশি থাকে তো না? সীমিত অধিকারেরও কত নেশা থাকে ! প্রাইম মিনিস্টার কী ভুলে যাবেন তিনি প্রাইম মিনিস্টার? যখন তিনি ঘুমাবেন, খাবেন তখন কী ভুলবেন যে তিনি প্রাইম মিনিস্টার? সুতরাং সসীম অধিকার আর অসীম অধিকার যতই ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হোক কেউ ভুলতে পারে না। মায়ার কাজ হলো ভুলানো আর তোমাদের কাজ হলো বিজয়ী হওয়া, কেননা তোমরা উপলব্ধি করতে পারো বিজয় কী আর পরাজয় কী ! তোমরা পরাজয়েরও অনুভাবী আর বিজয়েরও অনুভাবী। তো পরাজয় হওয়ায় কী হয়েছে আর বিজয় প্রাপ্ত করায় কী হয়েছে - দুইয়ের ফারাক তোমরা জানো, সেইজন্য তোমরা সদা বিজয়ী আর সদা থাকবে, কারণ অবিনাশী বাবার থেকে অবিনাশী প্রাপ্তির অধিকারী তোমরা আত্মারা, এটা যেন সদা ইমার্জ রূপে থাকে। যদি তা' না হয় তাহলে? আমরা তো হয়েছি, জানি তো আমরা ! এমন হতে দিও না। প্র্যাকটিক্যাল রূপে হতে হবে। যারা এটা জানে তারাই নিশ্চয় করে চলে। সুতরাং প্রতিটা কর্মে যেন বিজয়ের নিশ্চয় আর নেশা থাকে। নেশার আধারই নিশ্চয়। নিশ্চয় কম তো নেশা কম, সেইজন্য বলা হয় নিশ্চয়বুদ্ধি বিজয়ী। তাহলে, ফাউন্ডেশন কী? নিশ্চয়। নিশ্চয়ের ক্ষেত্রে কখনো-কখনোর হয়ো না। নয়তো অন্তে রেজাল্টের সময়ও প্রাপ্তি কখনো-কখনোর হবে, তারপরে অনুতাপ করতে হবে। এখন প্রাপ্তি, নয়তো পরে অনুতাপ হবে। সুতরাং প্রাপ্তির সময়ে প্রাপ্তি করো, অনুতাপ করার সময় প্রাপ্তিলাভ করতে পারবে না। করে নেবো, হয়ে যাবে ! না, করতেই হবে এই নিশ্চয় হোক। করে নেবো... এই ভরসায় চলতে যেয়ো না। করছি তো না... আর কী হবে... হয়েই যাবে... না, এটা এখন হতে হবে। বে-বে নয়, বরং হওয়ানো। যখন অন্যদের তোমরা চ্যালেঞ্জ করো যে, শ্বাসের উপরে কোনো ভরসা নেই, অন্যদের জ্ঞান দাও তো, আগে নিজেকে জ্ঞান দাও। যারা কখনো করবে, তোমরা কি তাদের মধ্যে, নাকি এখনই যারা করে তাদের মধ্যে? তোমরা সদা বিজয়ের অধিকারী আত্মা। বিজয় জন্মসিদ্ধ অধিকার, এই স্মৃতির সাথে উড়ে চলো। যা কিছু হয়ে যাক, এটা স্মৃতিতে নিয়ে এসো কি আমি সদা বিজয়ী। কি হবে সেটা কোনও ব্যাপার নয়, যদি তোমাদের নিশ্চয় অটল হয় তাহলে কেউ টলাতে পারবে না। আচ্ছা, এখন সবাই এমন বিস্ময় করে দেখাও যে সব স্থান বিজয়ী অর্থাৎ নির্বিঘ্ন হবে, কোনও বিঘ্ন যেন না আসে। বিঘ্ন আসতে পারে, কিন্তু হার মানা উচিত নয়। সুতরাং, যেখানে বিজয়, সেখানে বিঘ্ন সরে যাবে তো নির্বিঘ্ন হয়ে যাবে। সদা বিঘ্নমুক্ত এই চমৎকার করে দেখাও। যে কোনো গীতা পাঠশালা হোক, উপ-সেবাকেন্দ্র হোক, কেন্দ্র হোক কিন্তু নিজে নির্বিঘ্ন হও আর অন্যদেরও নির্বিঘ্ন বানাও। এমন বিস্ময় দেখাও। করতেই হবে। করবে, দেখবে! না। বে বে বলা মানে নিশ্চয়ে পার্সেন্টেজ আছে। সবাই যেন এই খুশির সংবাদ শুনতে পায় যে, ছোট বড় সব সেন্টার বিঘ্নমুক্ত। কোনো রকমের বিঘ্ন আসতেই পারে না। অন্যদের বিঘ্নকেও আমরা সরাব, আর বিজয়ী হবো। এমন বার্তা আসতে দাও। কোথাও থেকে, কোনও বিঘ্ন-বার্তা যেন না আসে। এরকম বলবে না যে আমি তো ঠিক আছি কিন্তু অন্য কেউ করলে আমি কি করতে পারি! তিন মাস বিজয়ী হয়ে দেখাও। তিন মাসেই সব জানা হয়ে যাবে। যদি সবাই তোমরা 'হ্যাঁ' বলো তো এই চমৎকার করে দেখাও। আচ্ছা।


*বরদানঃ-* এক বাবার লাভ্-এ লাভলীন হয়ে সব বিষয় থেকে সেফ থাকা মায়াপ্রুফ ভব

যে বাচ্চারা এক বাবার লাভ্-এ লাভলীন থাকে তারা সহজেই চারদিকের ভাইব্রেশন থেকে, বায়ুমন্ডল থেকে দূরে থাকে, কারণ লীন থাকা অর্থাৎ বাবা সমান শক্তিশালী সব বিষয়ে সেফ থাকা। লীন হয়ে থাকা অর্থাৎ সমাহিত হয়ে থাকা, যে সমাহিত হয়ে আছে সেই মায়াপ্রুফ। এটাই সহজ পুরুষার্থ, কিন্তু সহজ পুরুষার্থের নামে অগোছালো হয়ো না। অগোছালো পুরুষার্থীর মন ভিতর থেকে দংশন করে আর বাইরে তারা নিজের মহিমার গীত গায়।

*স্লোগানঃ-* পূর্বজ বোধের পজিশনে যদি স্থিত থাকো তবে মায়া আর প্রকৃতির বন্ধন থেকে মুক্ত হয়ে যাবে।


No comments:

https://bkrajyogpathshala.blogspot.com/

01-04-2026 Bengali Murli

 মিষ্টি বাচ্চারা - বাচ্চারা, বাবা যা, বাবা ঠিক যেমন, তোমরা বাচ্চারাও তাঁকে নম্বর ক্রমানুসারেই চিনেছো, যদি সকলেই তাঁকে চিনে গেলে তবে তো অত্যন...