20.03.2023 BANGLA MURLI
"মিষ্টি বাচ্চারা
- সত্য-পিতার সঙ্গে সৎ(সততার সঙ্গে) হয়ে থাকো তবেই প্রতিটি পদক্ষেপে পদমগুণ
উপার্জন জমা হতে থাকবে"
*প্রশ্নঃ - কোন্ প্রাপ্তি ভগবান ব্যতীত অন্য কেউ করাতে
পারেনা ?
*উত্তরঃ - মানুষ চায় যে আমরা যেন সুখ শান্তি পাই।
শান্তি পাওয়া যায় মুক্তিধামে আর সুখ প্রাপ্ত হয় জীবনমুক্তিতে। সেইজন্য মুক্তি
আর জীবনমুক্তি এই দুটি জিনিসের প্রাপ্তিই ভগবান ব্যতীত অন্য কেউ করাতে পারে না।
বাচ্চারা, তোমাদের এখন
এইরকম ইতস্ততঃ বিচরণ করে বেড়ানো আত্মাদের উপর করুণা আসা উচিত। বেচারারা, পথ খুঁজছে, বিভ্রান্ত হয়ে গেছে। তাদের পথ দেখাতে হবে।
*গীতঃ- ন্যায়ের এই পথে বাচ্চারা দেখাও চলে....
ওম্ শান্তি । এই
গানও বাচ্চাদের জন্য কারণ সত্যতার পথে সত্য-পিতার ডাইরেকশন মতো বাচ্চারাই চলে।
তারপর কেউ তো ভালোভাবেই চলে, কেউ আবার চলেও
না। যে চলবে সে-ই উচ্চপদ প্রাপ্ত করবে। যে চলবে না সে উচ্চপদ পেতে পারবে না। বাবা
বা প্রিয়তমের সাথে সৎ হয়ে থাকতে হবে। কারণ ওঁনার থেকে সত্য-মত্ (শ্রীমৎ) পাওয়া
যায়। অন্যরা সকলেই অসত্য-মত্ দিয়ে থাকে। মানুষ মানুষকে সব অসত্য মত্-ই দিয়ে
থাকে। গায়ন করা হয়েছে -- মিথ্যা মায়া মিথ্যা কায়া.... এখানে তো মিথ্যাই মিথ্যা
রয়েছে। সত্যখন্ডে অসত্যতা থাকে না। যে সত্যখন্ডের জন্য তোমরা পুরুষার্থ করছো।
নাহলে তো সত্যখণ্ডে এত (উচ্চ) পদ পেতে পারবে না। আচ্ছা, এ তো হলো বাচ্চাদের উদ্দেশ্যে সাবধানতা।
এখন বাচ্চাদের
কাউকে বোঝানোর কৌশলও শিখতে হবে যে অবুঝকে (অবোধ) কীভাবে বোঝাবো। অবুঝ কেন বলা হয়?
কারণ মানুষের বোধ নেই।
বলে তো থাকে যে মনুষ্য সৃষ্টির রচনাকার হলেন পরমাত্মা, তাহলে তিনি হলেন রচয়িতা। কিন্তু রচনার আবার এ
কথা জানা নেই যে আমাদের রচয়িতা কে? ভক্তি ইত্যাদি করে থাকে - শান্তি অথবা সুখের জন্য। আমি তুমিও তেমনই করতাম,
যখন বাবাকে পাইনি।
কৃষ্ণের ভজনা করে, তাঁকে স্মরণ করে,
তাঁকে মানানোর (তুষ্ট
করার) জন্য সাধনা করে থাকে, কিন্তু তাঁর কাছ
থেকে কি চাইবে? কিছুই জানা থাকে
না। আমাদের রচনাকার কে? কিছুই জানে না।
বাচ্চারা, তোমরা জানো যে
যতক্ষণ পর্যন্ত বাবাকে পাইনি ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা অনেক প্রকারের সাধনা, ভক্তি করে এসেছি। করতে করতে রেজাল্ট কি হয়েছে?
কিছুই না। সৃষ্টিকে তো
তমোপ্রধান হতেই হবে। তারপর এত যে সাধনা করা হয় তার দ্বারা কিছু পাওয়া যায় কি
যায় না ! সেই বিচারও করা হয় না। এখন বোঝে, কিছুই পাওয়া যায় না। আমাদের চাই কি ? সেও কারোর বুদ্ধিতে থাকে না। সন্ন্যাসীরা বলবে,
নির্বাণধামে যাওয়ার জন্য
আমরা সাধনা করে থাকি। কিন্তু সে তো যার রাস্তা জানা আছে, গিয়ে ফিরে এসেছে তবেই তো রাস্তা বলতে পারবে আর
কেউ তো রাস্তা বলে দিতে পারবে না। যারা আসে তাদের পুনর্জন্ম তো নিতেই হবে। শেষ
পর্যন্ত পুনর্জন্ম নিয়ে যেতে হবে। যতক্ষণ না পর্যন্ত সৃষ্টির বিনাশ হয়ে যায়
অথবা সৃষ্টিরূপী বৃক্ষ জরাজীর্ণ হয়ে যায় ততক্ষণ পর্যন্ত সকলকে থাকতে হবে। মানুষ
অনেকের ক্ষেত্রে মনে করে, অমুকের জ্যোতি
জ্যোতিতে (মহাজ্যোতিতে) বিলিন হয়ে গেছে, বৈকুণ্ঠ-নিবাসী হয়ে গেছে অথবা স্বর্গে চলে গেছে। বাস্তবে এখন তো কেউই স্বর্গে
পদার্পণ করতে পারে না। স্বর্গ কোথায়, নির্বাণধাম কোথায়, সেখানে কি হয়,
সেখানে গিয়ে পুনরায় কখন
আসতে হয় ! কিছুই জানে না। তোমরা সব কিছুই জানো পুরুষার্থের নম্বরের অনুক্রমে। কেউ
এলে তখন তাকে জিজ্ঞাসা করা উচিত, তোমরা কি চাও?
যখন গুরু করো তখন
হৃদয়ে(মনে) কি ইচ্ছা রাখো? বাস্তবে তাদের
ইচ্ছাকে তোমরা ব্রাহ্মণ-ব্রাহ্মণীরা জানো। কি ইচ্ছা রাখা উচিত, কোন্ বিষয়ক ইচ্ছা রাখা উচিত - সেও কেউ জানে
না। এখানে কিছুই ভালো লাগেনা, তাই এখান থেকে
মুক্ত হওয়ার জন্য সাধনা করে থাকে। এখন যাওয়ার জন্য ধাম হলো দুটি। নির্বাণধাম,
ওটা হলো শান্তিধাম। ওখানে
আত্মারা বসবাস করে। তোমরা কি সেই ধামে যেতে চাও ? বাচ্চারা, তোমাদের করুণা হওয়া উচিৎ ! বেচারা-রা
বিভ্রান্ত হয়ে ইতস্ততঃ ঘুরতে থাকে। পথ কেউ জানেই না। গাইড হলেন একজনই। সকলকে
দুঃখধাম থেকে মুক্ত করে সুখধামে নিয়ে যাওয়া অথবা জীবনমুক্ত করা উনি হলেনই একজন
(অদ্বিতীয়)। তিনি যতক্ষণ পর্যন্ত না আসেন ততক্ষণ পর্যন্ত কারোরই
মুক্তি-জীবনমুক্তির প্রাপ্তি হতে পারে না। স্বর্গে সুখ এবং শান্তি দুই-ই রয়েছে।
শান্তি কেন বলা হয়ে থাকে ? ওখানে
লড়াই-ঝগড়া ইত্যাদি হয় না। এছাড়া আসল শান্তিধাম তো রয়েছে নির্বাণধামে। যেখানে
সকল আত্মারাই শান্ত থাকে, তারপর আত্মা যখন
অরগ্যান্স(কর্মেন্দ্রিয়) পায় তখন বলে। ওখানে সুখ শান্তি দুই-ই রয়েছে। সুখ হয়
সম্পদের দ্বারা। ওখানে (সত্যযুগে) প্রচুর সম্পদ থাকে। এখানে সম্পত্তি থাকে না তখন
মানুষ বেচারা রুটির টুকরোও মুশকিলই খেতে পারে। সম্পত্তি আছে তো এরোপ্লেন, বড় বড় অট্টালিকা ইত্যাদি সব বিলাসিতাই (বৈভব)
আছে। সেইজন্য সম্পত্তিও চাই, তারপর আবার
শান্তিও চাই। নিরোগ শরীরও চাই। এইসব দিয়ে থাকেন বাবা। বোঝানো হয়ে থাকে যে এই
কলযুগ হলো দুঃখধাম। নতুন দুনিয়া হলো সুখধাম। সেখানে দুঃখ থাকে না। পবিত্রতা সুখ
শান্তি সবই রয়েছে। দ্বিতীয় হলো মুক্তিধাম, সেখানে কেউ সদাকালের জন্য থাকতে পারে না।
পুনর্জন্ম নিয়ে অবশ্যই ভূমিকা পালন করতে হবে। পরমধামে ততক্ষণ পর্যন্ত থাকে,
যতক্ষণ পর্যন্ত না ভূমিকা
পালন করতে আসে। প্রকৃত সুইট হোমকে স্মরণ করে, নাটকের সব সময় নম্বরের সীমা থাকে। অমুক নাটকে
এতজন অ্যাক্টর্স রয়েছে, এ হলো অনাদি
পূর্ব নির্ধারিত ড্রামা। সংখ্যা সীমিত, ভারতে ৩৩ কোটি দেবতাদের সীমা রয়েছে। এই সময় তো প্রচুর কনভার্ট হয়ে গেছে।
তাহলে প্রথম-প্রথম যারা আসবে তখন তাদের জিজ্ঞাসা করতে হবে যে হৃদয়ে(মনে) কি আশা
রয়েছে? কি চাও? দর্শনে তো কোনো লাভ নেই। গুরুর কাছে কোনো আশা
নিয়ে যায়। এক তো আশা থাকে যে কিছু প্রাপ্ত হোক। আশীর্বাদ করুক, আমরা অনেক কিছুতে জয়লাভ করি, কেউ বলে -- আমাদের এমন রাস্তা বলে দাও যাতে
আমরা সর্বদাই শান্তিতে থাকি। মন অত্যন্ত চঞ্চল। বলো, শান্তি তো পাওয়া যাবে পরমধামে। এক হলো
শান্তিধাম, দ্বিতীয় হলো
সুখধাম, তৃতীয় হলো দুঃখধাম।
তোমরা কি চাও? তারপর আমরা বলে
দেবো যে এই সাধনা অথবা পুরুষার্থ করো। সাধনা অথবা পুরুষার্থ হলো একটি কথা। ভক্তরা
সাধনা করে অন্য জায়গায় যাওয়ার জন্য অথবা পুনরায় পরমধামে যাওয়ার জন্য। মোক্ষ
(মুক্তি) তো কেউ পেতে পারেনা। এই হলো পূর্ব নির্ধারিত ড্রামা। সন্ন্যাসীদের
পুনরায় নিজেদের সন্ন্যাস ধর্মে আসতেই হবে। খ্রীস্টান ধর্ম খ্রাইস্টের দ্বারা
পুনরায় অবশ্যই স্থাপিত হবে। সত্যযুগ, নতুন দুনিয়ায় পবিত্রতা, সুখ, শান্তি সবই রয়েছে, তাকে বলা হয়ে থাকে সুখ-ধাম, শিবালয়। এ হলো বেশ্যালয়। তোমরা কি চাও ?
শান্তি চাও কি ? সে তো শান্তিধামেই পাওয়া যাবে। সেও ততক্ষণ পর্যন্তই
যতক্ষণ সুখধামবাসীদের অর্থাৎ দেবী-দেবতাদের ভূমিকা(পার্ট) রয়েছে। তারপরে তো
সকলকেই নম্বরের অনুক্রমে ভূমিকা পালনে আসতে হবে। তোমরাও পুরুষার্থ করলে তখন
বৈকুন্ঠে যাবে। ভারত বৈকুন্ঠ ছিল, তাদের প্রলুব্ধ
করা উচিত । উত্তরাধিকার বাবার থেকেই পাওয়া যায়। তিনিই এসে বাচ্চাদেরকে নিজের
পরিচয় দিয়ে থাকেন। বাবা-ই না থাকলে বাচ্চারা চিনবে কীভাবে ? এইরকম তো হয় না যে বুঝে থাকে, যে আমরা হলাম ভগবানের সন্তান। যদি এইরকম বলে
তাহলে আমরা জিজ্ঞাসা করবো যে -- বলো, ভগবান কি রচনা করে থাকেন? তিনি তো স্বর্গ
রচনা করেন। তাহলে তোমরা কেন নরকে ধাক্কা খেতে থাকো ! তারপর ৮৪ জন্মকে বলতে হবে।
ঈশ্বর তোমাদের স্বর্গে পাঠিয়েছিলেন তারপর ৮৪ জন্ম নিয়ে এখন নরকে এসে পড়েছো। এখন
৮৪ জন্ম সম্পূর্ণ হয়েছে। তোমরা এ'কথা জানো না আমি
বলে দিই। তোমরা প্রথমে স্বর্গে ছিলে তারপর ৮৪ জন্ম ভোগ করেছো। এখন পুনরায় বাবা আর
স্বর্গকে স্মরণ করো। পদ্ম ফুলের মতন পবিত্র থাকতে হবে। সন্ন্যাসীদের-কেও বোঝাতে
হবে, তোমাদের হলো হঠযোগ। এ হলো
রাজযোগ। গৃহস্থী জীবনে থেকেও পদ্মফুলের মতন হয়ে থাকতে হবে। এ হলো প্রবৃত্তিমার্গ।
তোমাদের পৃথকীকরণের (ত্যাগের) পথই সম্পূর্ণ আলাদারকমের। এই প্রবৃত্তি মার্গ হলো
জীবনমুক্তির পাওয়ার জন্য। আমাদেরকেও বাবাই বলেছেন। এখন তোমরা বাবাকে স্মরণ করো
তবেই অন্তিমে যেমন মতি তেমনি গতি হয়ে যাবে। বিকর্মের বোঝা তখনই বিনাশ হবে যখন
বাবাকে স্মরণ করবে। এই দুই স্থান রয়েছে যেখানে সুখ-শান্তি পাওয়া যেতে পারে।
তোমাদের কি চাই? তোমরা কি স্বর্গে
যেতে চাও?
গাওয়া হয়ে থাকে,
তোমরা হলে মাতা পিতা....
তোমাদের যদি অগাধ সুখ চাই তাহলে গৃহস্থী জীবনে থেকে রাজযোগ শেখো। পবিত্রও থাকতে
হবে। তারপর এই দুটোকে গ্রহণ করে নিয়ে যে চলেবে। কোনো বাধ্যবাধকতা নেই । স্বর্গের
মালিক হওয়ার অধিকারী না হলে তখন থোড়াই ঝুলে থাকবে নাকি ! বাবা এবং উত্তরাধিকারকে
স্মরণ করতে হবে আর পবিত্র থাকতে হবে। একজন সন্ন্যাসী লিখেছে আমি সাধু কিন্তু
সম্পূর্ণ রাস্তা আমার জানা নেই। শুনেছি তোমাদের দ্বারা মার্গ প্রাপ্ত হয়। এখন কি
করবো ? আমি তোমাদের হয়ে গেলে
তখন ফলোয়ার্স (শিষ্য) সহ চলে আসবো। কিন্তু এইরকমভাবে কেউ আসতে পারে না। তারা মনে
করে ফলোয়ারদের (শিষ্যদের) আমরা যা বলবো তাই মানবে। কিন্তু এমন তো করবে না।
বি.কে-দের নাম শুনে বলবে, এনাকে জাদু করা
হয়েছে। হ্যাঁ, কেউ কেউ বেরিয়েও
আসবে, কিন্তু আমরা কোনো
সন্ন্যাসীর আশ্রমকে হাত করে (দখল) নিই না। মনে করো কেউ যদি বোঝে যে এই মার্গ ভালো,
তাহলে কি আমরা তার
আশ্রমের দেখাশোনা করবো নাকি? হ্যাঁ, কন্যারা গিয়ে ভাষণ দেবে আর যদি পছন্দ হয়
তাহলে থাকবে। এছাড়া আশ্রমের আমরা কি করবো? লিখেছে, আমরা এসে কিছু শিক্ষা পেতে পারি? সেইজন্য তাদের লেখাতে হবে, তোমরা সাধনা করো কোথায় যাওয়ার জন্য? কোন্ এইম অবজেক্টের (লক্ষ্য) দ্বারা? কার সাথে মিলিত হতে চাও? কোথায় যেতে চাও? তোমরা তো হলে হঠযোগী সন্ন্যাসী, আমাদের হলো রাজযোগ। এর শিক্ষাদাতা হলেন পরমপিতা
পরমাত্মা। এই কলিযুগ হলো দুঃখধাম, সত্যযুগ হলো
সুখধাম। কলিযুগে দেখো অনেক-অনেক ধর্ম রয়েছে, কত লড়াই-ঝগড়া হয়। সত্যযুগে রয়েছে এক ধর্ম।
ওটা হলো সতোপ্রধান দুনিয়া। যেমন রাজারানী তেমনই প্রজা, সতোপ্রধান। এখানে হলো যেমন রাজা রানী তেমনই
প্রজা, তমোপ্রধান। এ হলো কাঁটার
জঙ্গল, সেটা হলো ফুলের বাগান।
তাহলে মার্গ হলোই দু'টি। হঠযোগ আর
রাজযোগ। এই রাজযোগ হলো স্বর্গের জন্য। রাজার-রাজা স্বর্গে হবে। স্বর্গ স্থাপনাকারী
হলেন পরমপিতা পরমাত্মা। তিনিই রাজযোগ শিখিয়ে থাকেন। সন্ন্যাসীরা বলে যে আমরা
সন্ন্যাসেই রয়েছি সেইজন্য জ্ঞান গ্রহণ করতে পারি না। গৃহস্থী জীবনে থাকতে হবে। এ
হলো একটা ল', যা ত্যাগ করে
পালিয়ে গেছো। এরপর এদেরও কল্যাণ করতে হবে। প্রথমে তোমরা ভালোভাবে বোঝো তারপর
চ্যারিটি বিগিনস্ অ্যাট্ হোম। তোমরা স্ত্রীকে ত্যাগ করেছো। যদি বাল-ব্রহ্মচারী হয়
তাহলে মাতা-পিতাকে ত্যাগ করেছে, তাদেরকেও এরপর
বোঝাতে হবে। নিয়মকানুন তো প্রথমে বোঝাতে হবে।
পুরানো দুনিয়াকে
নতুন করে তৈরি করা এ তো বাবার-ই কাজ। বাবাকে পরমধাম থেকে আসতে হয়। তিনি হলেন
পতিতদের পবিত্র, নরককে স্বর্গে
পরিণতকারী। স্বর্গে থাকেই দেবী-দেবতারা। বাকি সকলে নির্বাণধামে থাকে। সকলকে
সুখ-শান্তি প্রদানকারী, তিনি হলেন একজনই।
বাবা আসেনই এক ধর্মের স্থাপনা করে, বাকি সবের বিনাশ
ঘটাতে এবং সকলেই পরমধামে গিয়ে নিবাস করবে। এ হলো বিনাশের সময়। সব হিসেব-পত্র
পূর্ণ করে ফিরে যাবে। সকল আত্মাদেরই নিজের নিজের ভূমিকা প্রাপ্ত হয়েছে। কেউ কত
জন্ম, কেউ কত জন্ম ভূমিকা পালন
করে থাকে। সকলকে তমোপ্রধান হতেই হবে। এছাড়া কেউ ফিরে যেতে পারে না। আর না
মোক্ষলাভ হয়ে থাকে। বাকি রইলো মুক্তি-জীবনমুক্তি, আমরা জীবনমুক্তির জন্য পুরুষার্থ করে থাকি।
এরমধ্যে মুক্তিও চলে আসে। আচ্ছা, তুমি যদি মুক্তি
চাও তাহলে বাবাকে স্মরণ করো তবেই বিকর্ম বিনাশ হবে। আর তুমি বাবার কাছে চলে যাবে।
এই একটিই রাস্তা স্বয়ং বাবা-ই বলে দেন আর স্বদর্শন-চক্রও ঘোরাতে থাকবে। পড়াশোনা
করতে থাকলে স্বর্গে চলে আসবে। তাহলে সন্ন্যাসীদেরও পুনরায় গৃহস্থী-জীবনে যেতে হবে,
সাহস থাকা চাই। একটি
জ্ঞানেশ্বর গীতা রয়েছে, যেখানে এ'কথা লেখা রয়েছে, বলেছে একটি বাচ্চার জন্ম দিয়ে সন্ন্যাস নিয়ে
নাও তবেই কুলের বৃদ্ধি হবে। তাহলে তো কেউই বাল-ব্রহ্মচারী হতে পারবেনা।
বাল-ব্রহ্মচারী ভীষ্ম পিতামহের তো অনেক মান। কিন্তু মানুষ তো একে-অপরের উপরে
বিশ্বাসও করে না। মনে করে গৃহস্থে থাকে আর বিকারে যায় না, এ'টা হতে পারে না। কিন্তু তাদের সর্বশক্তিমান ভগবানের সহযোগ থোড়াই রয়েছে ! না
কারোর মধ্যে রাজযোগ শিখিয়ে স্বর্গের স্থাপনা করার শক্তি রয়েছে। সকলকে দুঃখ থেকে
মুক্ত করে সুখে নিয়ে যাওয়া, তা পরমাত্মা
ব্যতীত কেউ করতে পারে না। দুটি দরজার চাবিই বাবার কাছে রয়েছে। স্বর্গের ফটক
(দরজা) খুললে তখন মুক্তিরও খোলে। মুক্তিতে যাওয়া ব্যতীত স্বর্গে কীভাবে যাওয়া
যাবে। দুটি গেটই একত্রে খোলে। আচ্ছা!
মিষ্টি মিষ্টি
হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপ দাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত।
আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মারূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।
*ধারণার জন্যে
মুখ্য সারঃ-*
১ ) মুক্তির জন্য
বাবাকে স্মরণ করে বিকর্ম বিনাশ করতে হবে আর জীবনমুক্তির জন্য স্বদর্শন-চক্রধারী
হতে হবে, পড়াশোনা করতে
হবে।
২ ) দয়াময় হয়ে
ইতস্তত ঘুরে বেড়ানোদের (আত্মাদের) ঘরের রাস্তা বলে দিতে হবে। প্রত্যেককে বাবার
থেকে মুক্তি-জীবনমুক্তির উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করাতে হবে।
*বরদানঃ-* আত্মিক ভাব-এ (রুহানীয়তে) থেকে স্বমানের সিটে
উপবেশনকারী সদা সুখী, সর্বপ্রাপ্তি
স্বরূপ ভব
প্রত্যেক বাচ্চার
মধ্যেই কোনো না কোনো গুণের বিশেষত্ব রয়েছে। সকলেই হলো বিশেষ, গুণবান, মহান, মাস্টার সর্বশক্তিমান -- এই রুহানী (আত্মিক) নেশা সদা স্মৃতিতে থাকলে, তাকেই বলা হয় স্ব-মান। এই স্বমানে অভিমান আসতে
পারে না। অভিমানের আসন হলো কাঁটার আসন, সেইজন্য ওই আসনে বসার প্রচেষ্টা কোরো না। আত্মিক ভাব-এ থেকে স্বমানের আসনে বসে
পড়ো তবেই সদা সুখী, সদাশ্রেষ্ঠ,
সদা সর্বপ্রাপ্তি
স্বরূপের অনুভব করতে থাকবে।
*স্লোগানঃ-* নিজের শুভ ভাবনার দ্বারা সকল আত্মাকে দুয়া
(আশীর্বাদ) প্রদানকারী এবং ক্ষমা দানকারীই হলো কল্যাণকারী।
No comments:
Post a Comment