09.03.2023 BANGLA MURLI
"মিষ্টি বাচ্চারা - তোমাদেরকে বাবার অক্যুপেশন (কর্ম-কর্তব্য) এবং গুণ সহ তাঁকে স্মরণ করতে হবে, স্মরণের দ্বারা তোমরা বিকর্মাজিৎ হতে পারবে, বিকারের ময়লা ভস্ম হয়ে যাবে"
*প্রশ্নঃ - কোন্ বাচ্চাদের পক্ষে জ্ঞানের ধারণা করা অত্যন্ত সহজ হতে পারে?
*উত্তরঃ - যাদের মধ্যে কোনো রকমের পুরানো উল্টোপাল্টা সংস্কার নেই, যাদের বুদ্ধি স্মরণের দ্বারা পরিশুদ্ধ হতে থাকে, তারা খুব ভালোভাবে জ্ঞানের ধারণা করতে পারে । ২ - পবিত্র বুদ্ধিতেই অবিনাশী জ্ঞানরত্ন ধরে রাখা যায় । ৩ - ভোজন অত্যন্ত শুদ্ধ হতে হবে - বাবাকে অর্পণ করে তারপর তা গ্রহণ করলে জ্ঞানের ধারণা খুব ভালোভাবে হয়। জ্ঞান ধারণ করতে করতে তোমরা মুরলীধর হয়ে যাও।
*গীতঃ- তোমাকে আহ্বান করতে হৃদয় চায়...
ওম্ শান্তি । আত্মা পরমাত্মাকে আহ্বান করে, শুধু আত্মা বললে বলা হবে যে, আত্মা তো বাণীরও ঊর্ধ্বে । সেইজন্যই বলা হয় জীবাত্মা পরমাত্মাকে আহ্বান করে। পরমাত্মার কথা বললে ভক্তদের বিচার বুদ্ধি যে কত জায়গায় ঘুরতে থাকে তার ঠিক নেই। মানুষ কোনো কিছুই বুঝতে পারেনা, কারণ তারা ভাবে পরমাত্মা তো সর্বব্যাপী তাহলে তাদের বুদ্ধি কোন্ দিকে যাবে? তাঁকে সর্বব্যাপী ভাবার জন্য ভক্তরা বলে যে সবই ভগবানেরই রূপ। তাঁকে আহ্বান করে বটে কিন্তু বুদ্ধিতে কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্য থাকে না। পরমপিতা পরমাত্মার দিকে বুদ্ধি অগ্রসর হয় না। কোনো জীবাত্মার বুদ্ধিতে এই প্রশ্ন কখনো আসে না যে - আমরা এই জ্যোতির্লিঙ্গকে স্মরণ কেন করি? তিনি আমাদের কি দিয়েছেন যার জন্য আমরা তাঁকে স্মরণ করবো? যিনি অনেক কিছু দিয়ে থাকেন তাঁকেই স্মরণ করা হয়। তাঁর স্মৃতি আজীবন মনে থেকে যায়। যদি কেউ অল্প কিছু টাকা-পয়সাও দিয়ে থাকে সেই লেনদেন তো চলতেই থাকে। কিন্তু মনে করো কোনো দরিদ্র ব্যক্তিকে যদি কেউ বিশাল বড় অট্টালিকা তৈরি করে দেয় অথবা তার কন্যার বিবাহের জন্য সহায়তা করে তো, ওই ব্যক্তির স্মৃতি সারা জীবন ধরে তার মনে থেকে যায়। তার নাম রূপ চিরকাল স্মরণে থেকে যায় যে - অমুক ব্যক্তি আমাকে বাড়ি বানিয়ে দিয়েছেন। বাচ্চারা, এখন তোমরা একথা জানো যে বাবা আমাদেরকে এই সমগ্র বিশ্বের মালিক করে তোলেন। সাধারণ মানুষের না আত্মার সম্বন্ধে কোনো জ্ঞান রয়েছে আর না পরমাত্মার সম্বন্ধে কোনো জ্ঞান রয়েছে। আত্মা তো হল সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম, যাকে দেখা যায় না। আত্মা কখন দেহে প্রবেশ করে আর কখন তা দেহ থেকে নির্গত হয়ে যায় এ অত্যন্ত সূক্ষ্ম বিষয়। আত্মার সাক্ষাৎকার শুধুমাত্র দিব্যদৃষ্টির দ্বারাই সম্ভব। মানুষ বলে ব্রহ্মতত্ত্ব সুতরাং ব্রহ্মেরও সাক্ষাৎকার সম্ভব। সেখানে অখন্ড প্রকাশময় ব্রহ্মতত্ত্ব দেখতে পাবে। ব্রহ্মতত্ত্বে অবশ্যই অনন্ত আলোকরাশি দেখতে পাওয়া যাবে। মানুষ যেটা ভাবে যে পরমাত্মা হলেন ব্রহ্মতত্ত্ব - তা সঠিক নয়। বাচ্চারা, পূর্বে তোমাদের বুদ্ধিতেও লিঙ্গ রূপ ছিল। এখন তোমাদের বুদ্ধিতে এই জ্ঞান ধারণা হয়েছে যে - তিনি তো নক্ষত্রের সমান। আত্মারও ওই একই রূপ, অন্য কোনো রকম রূপ হওয়া সম্ভব নয়। পরমাত্মাও একই বিন্দু রূপ। এখন শ্রী লক্ষী নারায়ণের কত মহিমা কীর্তন হয়, তাঁদের মধ্যে কী বিউটি রয়েছে? তাঁদের আত্মা এবং শরীর উভয়ই সতোপ্রধান পবিত্র, তাঁদের মুখমণ্ডল আনন্দময় ও গৌরবর্ণ। আত্মা তো অত্যন্ত সূক্ষ্ম । বোঝানো হয় যে যখন আত্মা ময়লা হয়ে যায়, তখন তার জ্যোতি স্তিমিত হয়ে যায় । এই জ্যোতির হ্রাস - বৃদ্ধি হওয়া অত্যন্ত সূক্ষ্ম বিষয়। আমরা প্রদীপের উদাহরণ দিই কিন্তু আত্মা তো তার থেকেও ছোট্ট এক নক্ষত্রের মত। আত্মার সাক্ষাৎকার হওয়ার সাথে সাথে দৃষ্টির অগোচরে চলে যায়। এখন তোমরা বাবাকে স্মরণ করো । বাবা তো নিজের রূপ বলেই দিয়েছেন। তোমরা জানো যে শিববাবাকে স্মরণ করলে বিকর্ম বিনাশ হয়। মানুষ শিবকে স্মরণ তো করে কিন্তু সেই জ্ঞানের আলোয় স্মরণ করে না। তারা সেই জ্ঞান জানেই না। অজ্ঞানতার কারণে স্মরণ করলেও সেই স্মরণের দ্বারা বিকর্ম বিনাশ হয় না। ওরা জানেই না যে যোগযুক্ত হয়ে থাকলে তবে বিকর্মাজিৎ হতে পারবে। আচ্ছা তবে কি হবে? তারা সেটাও জানে না। তোমাদেরকে বাবা এখন বুঝিয়ে দেন যে যোগের দ্বারাই তোমরা বিকর্মাজিৎ হতে পারবে, ৫ বিকারের ময়লা ভস্ম হয়ে যাবে। এ কথা বুঝিয়ে দেওয়ার পর আনন্দ সহকারে তাঁকে স্মরণ করবে। সাধারণ মানুষ একথা জানে না যে বাবাকে স্মরণ করলে বিকর্ম বিনাশ হবে। এখন বাবা আমাদের জ্ঞান প্রদান করছেন। এছাড়া মানুষ তো অন্ধ্রশ্রদ্ধায় রয়েছে, ভক্তি মার্গে তাঁকে স্মরণ করে যাতে অল্পকালের সুখ প্রাপ্ত হয়।
মানুষ তাঁকে এখানে আহ্বান করে, তোমরা জানো যে তাঁকে তো আহ্বান করার প্রয়োজন নেই। যখন পরমাত্মাকে ভালো করে চিনতেই পারেনি তাহলে তাকে ডাকবে কীভাবে? যাকে স্মরণ করা হয় তার মহত্বকে, অক্যুপেশনকে (কর্তব্য কর্ম) এবং গুণাগুণের বিস্তারিত জ্ঞান থাকা প্রয়োজন। পরমাত্মার পরিচয় কারোর কাছেই নেই, সেই কারণেই তারা জন্ম জন্মান্তর ধরে কি কি না করেছে, কোনো কিছুই বুঝতে পারেনি। এখন বাবা আমাদেরকে বুঝিয়ে দেন । গায়ন রয়েছে যে, বাবা তুমি এসে আমাদের জ্ঞান শোনাও তবে তো আমরা তা শুনে অন্যদেরকে শোনাবো। যেমন আটার মধ্যে যতটুকু নুন দেওয়া হয়, ভক্তি মার্গের সংগীতের মধ্যেও এই জ্ঞান অল্প পরিমাণেই রয়েছে। এই সংগীত বাবার মহিমা কীর্তন করে - বাবাকে আহবান করে যে, বাবা তুমি এসে আমাদেরকে শোনাও তবেই তো আমরা অন্যদেরকে শোনাতে পারবো। এসে আমাদেরকে রাজযোগ শেখাও, তবেই তো আমরা মুরলীধর হতে পারবো। মুরলীধরকেই জ্ঞানী আত্মা বলা হয়। বাচ্চারা, তোমরা জানো যে বাবা হলেন নিরাকার, তাহলে তিনি কীভাবে আসবেন? এখন তো তোমরা বুঝতে পেরেছো যে আত্মা পরমধাম থেকে এখানে আসে। সর্বপ্রথম তাকে মাতৃগর্ভে প্রবেশ করতে হয়। তারা সকলেই বাবাকে স্মরণ করে কিন্তু তাঁর অক্যুপেশনের ব্যাপারে কিছুই জানেনা, শুধু মাত্র তাঁকে আহবান করতে থাকে। তিনি আসেন না। বাবা বলেন, আমি যথার্থ সময়ে এখানে আসি যখন সঙ্গম যুগ শুরু হয়। সঙ্গম যুগ কখন শুরু হয়? যখন রাত্রি পূর্ণ হয়ে দিবসের সূচনা হয়। সঙ্গম যুগ এলো আর সাথে সাথে বাবাও এখানে আসেন । সঙ্গমযুগেই বাবা এসে আমাদেরকে পড়ান। এই সকল কথা এখন তোমরা ব্রাহ্মণ বাচ্চারাই জানো। বাবা আমাদেরকে বুঝিয়ে দেন যে - আমি নিরাকার কীভাবে এখানে আসবো। কখনো কেউ এ ব্যাপারে ভাবেনি। যদি কলিযুগের অন্তিমে তিনি এসেছিলেন, তো পুনরায় তিনি আসবেন তাই না। কলিযুগের অন্ত এবং সত্যযুগের আদি - এই দুইয়ের সঙ্গমেই তিনি আসেন। নিশ্চয়ই কোনো গুরুত্বপূর্ণ কার্য করার জন্যই তিনি আসেন। অবশ্যই এই সৃষ্টিকে পবিত্র করার জন্য আসেন। সেই জন্যই তো বলা হয় যে এখন আদি সনাতন দেবী দেবতা ধর্ম স্থাপন করতে আসেন। তিনি কীভাবে আসেন তা কেউ জানে না। বাবা এখানে এসে প্রজার সৃষ্টি করবেন অথবা রাজযোগ শেখাবেন, কিন্তু শেখাবেন কাকে? সত্য যুগের আদিতে রয়েছে দেবতা বর্ণ । তার পূর্বে রয়েছে ব্রাহ্মণ বর্ণ। তাহলে অবশ্যই ব্রহ্মার দেহে এসে তাকে ব্রাহ্মণ বর্ণ রচনা করতে হবে। ব্রহ্মাকে বলা হয় প্রজাপিতা। এই ব্রহ্মা কোথা থেকে এসেছেন? তিনি কি সূক্ষ্মলোক থেকে এসেছেন? যেমনভাবে বিষ্ণুর অবতরণ দেখানো হয়, উপর থেকে গরুড় বাহন হয়ে তিনি আসেন। এখন বিষ্ণুর তো এখানে আসার কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই। বিষ্ণুর দুই রূপ লক্ষ্মী-নারায়ণ, তাঁরাও এই পড়াশোনার মাধ্যমেই ওই উচ্চপদ প্রাপ্ত করেছিলেন। বিষ্ণুর দুই রূপ লক্ষ্মী-নারায়ণ সৃষ্টির পালন করে থাকেন। কিন্তু গরুড় বাহন হয়ে কেউ আসেন না আর লক্ষ্মী-নারায়ণের আত্মা একত্রেও আসেন না। প্রথমে নারায়ণের আত্মা আসেন তারপর লক্ষ্মীর আত্মা আসেন। স্বয়ম্বর করার পরেই তাঁদেরকে বিষ্ণু যুগল রূপ বলা হয়। রাধা এবং কৃষ্ণ হলেন বিষ্ণুর দুই রূপ। তাঁদের বাল্যকালও তো দেখাতে হবে। এ কথা আর কেউই জানেন না। বাবা এখন আমাদের বুঝিয়ে দেন যে, যখন এই প্রথম সারির আত্মা ৮৪ টি জন্ম সম্পূর্ণ করে তখন আমি এর মধ্যে প্রবেশ করে একে পুনরায় প্রথম পদাধিকারী করে তুলি। ৮৪ টি জন্ম পার করার পর অবশ্যই বৃদ্ধাবস্থা প্রাপ্ত হয়েছেন, তাই তাঁর নাম রাখা হয়েছে ব্রহ্মা, শিববাবা তাঁরই মধ্যে প্রবেশ করেন।
বাচ্চারা এখন তোমরা বুঝতে পারো যে, মনুষ্য সৃষ্টি কীভাবে এবং কখন রচিত হয়। অন্য কোনো মানুষের কাছে এই জ্ঞান থাকতে পারে না । মানুষ যখন কোনো ভালো নতুন জিনিসের ইনভেনশন (আবিষ্কার) করে তখন সেই দেশের সরকারের কাছে যায় যাতে তার আরো উন্নতি সাধনে সহায়তা প্রাপ্ত হয়। এই জ্ঞানও এইরকমই। প্রথমের দিকে বাবা এসে এনার মধ্যে প্রবেশ করে জ্ঞান প্রদান করেছেন। প্রথমের দিকে এই জ্ঞান অল্প ছিল, এখন তা বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হতে থাকে। কত গূঢ় বিষয় সম্বন্ধে তোমরা জ্ঞান লাভ করছো। প্রথমের দিকে হালকা জ্ঞান ছিল, এখন গভীর জ্ঞান প্রাপ্ত হতে থাকে। কিন্তু আত্মার মধ্যে পুরানো উল্টোপাল্টা ভক্তির সংস্কার ভরা আছে, সে সকল যখন বেরিয়ে যাবে তবেই জ্ঞানের ধারণা করতে পারবে। যোগে থাকলে তবেই বিকর্ম বিনাশ হতে পারবে আর বুদ্ধি পরিশুদ্ধ হতে থাকবে। প্রথমের দিকে অনেকেই অল্প কিছু জ্ঞান লাভ করলেও কতটা নেশাগ্রস্ত হয়ে দৌড়ে চলে আসতো জ্ঞান শুনতে। তারপর পথ চলতে চলতে কতজন পথ ছেড়ে চলে গেছে। মায়া পথভ্রষ্ট করে দেয়। এখন তোমরা হলে ব্রহ্মার সন্তান ব্রহ্মাকুমার এবং ব্রহ্মাকুমারী। একথা খুব স্পষ্টভাবে ভালো করে বোঝাতে হবে, তা না হলে মানুষ ভয় পেয়ে যায়। এখন শিববাবাকে অবশ্যই ব্রহ্মা বাবার শরীর এর সাহায্য নিতে হবে। কোনো বয়স্ক আধার প্রয়োজন, তিনি ছোট শিশুর মধ্যে প্রবেশ করে কি করবেন? বলা হয়ে থাকে অনেক জন্মের অন্তিমের জন্মের অন্তিম সময়ে আমি এসে থাকি। ইনি অনেক শাস্ত্র অধ্যয়ন করেছেন, গুরুকরণ করেছেন সুতরাং অভিজ্ঞতা সম্পন্ন হয়েছেন। বাবা বলেন আমি বাণপ্রস্থ অবস্থায় আসি । ইনি শাস্ত্র ইত্যাদি অধ্যয়ন করেছেন, তবেই তো আমার কথা সকলকে বুঝিয়ে দিতে পারবেন । বাচ্চারা, এখন তোমরা জানো যে বাবা কীভাবে আসেন আর এসে মানুষ থেকে দেবতা রূপে গড়ে তোলেন অর্থাৎ পুরানো দুনিয়াকে নতুন করে তোলেন । তোমাদেরকে এখন নতুন করে গড়ে তুলছেন। এই পুরানো শরীরে রাজযোগ শিখে পুনরায় সত্যযুগে গিয়ে নতুন শরীর ধারণ করবে। তখন তোমাদেরকে দেবী দেবতা বলা হবে। ওখানে মায়া নেই। তোমরা বুঝিয়ে দিতে পারো যে আমরা হলাম ব্রহ্মাকুমার ব্রহ্মাকুমারী । ব্রহ্মাকে প্রজাপিতা বলা হয়। একথা সকলেই স্বীকার করে যে ভগবান এই সৃষ্টি রচনা করেছেন ব্রহ্মা এবং সরস্বতীর মাধ্যমে। গীতাতে বলা হয়ে থাকে যে - আমি রাজার রাজা বানাই। শূদ্র থেকে ব্রাহ্মণ বানাই, জ্ঞান অমৃত পান করিয়ে অসুর থেকে দেবতা করে তুলি। যদিও একথা লেখা রয়েছে কিন্তু প্রথমে শূদ্রবর্ণ থেকে ব্রাহ্মণ বর্ণে নিয়ে আসি। তাই তোমরা একথা বোঝাতে পারো যে আমরা ব্রহ্মা কুমার ব্রহ্মাকুমারী, ব্রহ্মা হলেন প্রজাপিতা। প্রকৃতপক্ষে তোমরাই হলে ব্রহ্মার সন্তান। ব্রাহ্মণদের সৃষ্টি সঙ্গম যুগেই হয় । ব্রহ্মার দ্বারাই আমরা ব্রাহ্মণেরা পড়াশুনা করি এবং রুদ্র জ্ঞান যজ্ঞের রক্ষণাবেক্ষণ করি। এই যজ্ঞে আমরা নিজেদের বিকারের আহুতি দেই। যজ্ঞে সমস্ত কিছু স্বাহা করে দেওয়া হয়, তাই না। আমরা এই রুদ্র জ্ঞান যজ্ঞে আর কোনো আবর্জনা দিইনা, কেবল নিজেদের পাপকে স্বাহা করে দিই। এই যজ্ঞে কোনো রকমের অগ্নি প্রজ্বলিত করা হয় না, কোনো রকমের (মন্ত্র তন্ত্রের উচ্চারণের) আওয়াজ ইত্যাদি করতে হয় না। লৌকিক যজ্ঞে কত রকমের আওয়াজ করতে থাকে - স্বাহা, স্বাহা... আমরা তো যোগে থাকি, কোনো আওয়াজ নেই। একেবারে চুপ।যোগঅগ্নির দ্বারা পাপ ভস্ম হতে থাকে। এই রুদ্র জ্ঞান যজ্ঞে যোগ অগ্নির দ্বারা আমরা নিজেদের ৫ বিকারকে স্বাহা করতে থাকি। তবেই আমাদের পাপ ভস্ম হতে থাকে। ব্রহ্মার কন্যা সরস্বতীরও গায়ন রয়েছে, যাকে জগদম্বা বলা হয়ে থাকে, তাঁর দ্বারা সকল মনস্কামনা পূর্ণ হতে থাকে। এই জগদম্বাই পরে শ্রী লক্ষ্মী হন।
বাচ্চাদেরকে পয়েন্ট তো অনেক বোঝানো হয়, কিন্তু সে সকল পয়েন্টের ধারণা হওয়াও তো জরুরী। যখন যোগযুক্ত হয়ে থাকবে বিকর্ম বিনাশ হবে, তবেই ধারণা হওয়া সম্ভব। বুদ্ধি পবিত্র না হলে অবিনাশী জ্ঞান রত্ন ধরে রাখতে পারবে না। বাচ্চাদেরকে বুঝিয়ে দেওয়া হয় যে প্রথমে বাবাকে ভোগ অর্পণ করে তারপর ভোজন গ্রহণ করা উচিত, কারণ এ সবকিছু তাঁরই দেওয়া। সুতরাং প্রথমে তাঁকে স্মরণ করে ভোগ অর্পণ করা হয়, তাঁকে আহবান করা হয়। তারপর যেন একসাথে দু'জনে মিলে ভোজন গ্রহণ করো। বাবা তো সম্পূর্ণ পবিত্র, আমরা যেন ভীল রমনীগণ । আমরা স্মরণ করলে কি বাবা এসে আমাদের সাথে বসে খাবেন? আমরা নিজেদেরকে তো সম্পূর্ণ পবিত্র বলতে পারি না। তাহলে আমাদের মত ভীলদের সাথে কি তিনি খাবেন? তিনি শুধুমাত্র সুবাস গ্রহণ করেন। শুধুমাত্র সুগন্ধ গ্রহণ করার অর্থ খাদ্য গ্রহণ করা নয়। তিনি শুধুই সুগন্ধ গ্রহণ করেন। তবে হ্যাঁ, যদি কেউ তার জীবনে ৭৫% জ্ঞান ধারণা করেছে, সে ভোজন বানিয়ে তারপর তা বাবাকে অর্পণ করে, তবেই তার থেকে বাবা সুগন্ধ গ্রহণ করেন, কারণ বাবা তো হলেন সম্পূর্ণ শুদ্ধ, সম্পূর্ণ পবিত্র । তিনি আমাদের মতো পতিতদের সাথে ভোজন গ্রহণ করবেন তা তো নিয়ম নয়। তিনি কি সেই সুগন্ধ গ্রহণ করতে পারেন? বাবা বলেন আমি এই সুগন্ধ কেন গ্রহণ করব আমি তো নিষ্কামী, আমার এই সুগন্ধ নেওয়ারও কোনো কামনা নেই। আমি ১০০% নিষ্কামী। ভোগ ওপরে যায় আর বহুরূপী (বহুরুপে) বসেন এবং তা দেবতাদেরকে খাওয়ান। দেবতারা এই ব্রহ্মা ভোজন খেতে চায়। তাই বাবা- মাম্মা আর অন্যান্য দেবতাদের আত্মারা আসে, তারা এই ভোজন গ্রহণ করে। তারা রুচি সহকারে ভোজন তখনই গ্রহণ করবেন যদি রন্ধনকারী ব্যক্তি যোগী হন। দেবতারাও ব্রহ্মা ভোজন এর মহিমা করেন। বাবা বলেন আমি এখানে এসেছি তোমাদের সেবা করার জন্য । আমি তো তোমাদের অনুগত সম্পূর্ণ নিষ্কামী সেবক। তোমরা যদি ৩৬ প্রকারের কিংবা ১০৮ রকমেরও ভোগ অর্পণ করে থাকো তবুও ভক্তরাই সেই ভোগ অর্পণ করে আর ভক্তরাই তা গ্রহণ করে। ভগবান যদিও নিষ্কামী তবুও তাঁকে অর্পণ করতে হবে। বড় বড় রাজা মহারাজারা কখনো তাদের নিজের হাতে করে কিছু নেন না। নানান রকমের ছোট বড় রাজা রয়েছে। কিছু রাজারা নেন। ব্রহ্মাবাবার সাথে রাজাদের যোগাযোগ ছিল। সুতরাং আমরা বাবাকে ভোগ অর্পণ করি এই কামনায় যে আমরা বাবার থেকে রাজত্ব গ্রহণ করব। তিনি তো মহান দাতা। এইসবই অত্যন্ত সূক্ষ্ম বিষয়। ভোগ কোথাও নিয়ে যাওয়া হয় না। এখানেই বসে আমরা বৈকুন্ঠের সাক্ষাৎকার করে। এখান থেকেই যেন অন্তর্হিত হয়ে যাই। আচ্ছা!
মিষ্টি - মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা - পিতা, বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত । আত্মাদের পিতা ওঁনার আত্মারূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার ।
*ধারণার জন্যে মুখ্য সারঃ-*
১ ) বাবা নিষ্কামী হলেও তাঁকে ভোজনের ভোগ অর্পণ অবশ্যই করতে হবে। অত্যন্ত শুদ্ধতা পবিত্রতা সহকারে ভোজন রান্না করে বাবার সাথে বসে তা খেতে হবে।
২ ) এই রুদ্র যজ্ঞে যোগবলের দ্বারা নিজের পাপ স্বাহা করতে হবে। আওয়াজের আসতে হবে না, চুপ থাকতে হবে। বুদ্ধিকে যোগবলের দ্বারা পবিত্র বানাতে হবে।
*বরদানঃ-* পৃথক এবং প্রিয় ভাবের বিশেষত্বের দ্বারা বাবার প্রিয় হয়ে ওঠা নিরন্তর যোগী ভব
আমি বাবার কতটা প্রিয় - নিজে কতটা পৃথক থাকতে পেরেছি তার দ্বারাই এর হিসেব করতে পারো । যদি অল্প একটু খানি পৃথক থাকতে পারো আর বাকিটা সবকিছুর মধ্যে আসক্ত হয়ে যাও তাহলে ওই ততটুকুই বাবার প্রিয় হয়ে থাকতে পারবে। যে সদা বাবার প্রিয় হয়ে থাকে তার লক্ষণ হল - তার মনে স্বাভাবিক বাবার স্মৃতি। প্রিয় বস্তু স্বভাবতই আর নিরন্তর স্মরণে থাকে। আর এ তো হল কল্প-কল্পের প্রিয় জিনিস । এমন প্রিয় জিনিস তোমরা কি করে ভুলতে পারো! বাবাকে তখনই ভুলতে পারবে যখন তোমাদের কাছে বাবার থেকেও কোনো বস্তু বা ব্যক্তি অধিক প্রিয় মনে হয়। যখন সদাই বাবাকে প্রিয় মনে করবে তখন নিরন্তর যোগী হয়ে যাবে।
*স্লোগানঃ-* যে নিজের নাম-মান আর প্রভাব প্রতিপত্তির ত্যাগ করে অসীম জগতের বাবার সেবাতে থাকে, সে-ই হলো পরোপকারী।
No comments:
Post a Comment