14.03.2023 BANGLA MURLI
"মিষ্টি বাচ্চারা ‐ শিববাবা হলেন অলৌকিক মুসাফির যিনি তোমাদের সুন্দর করে তোলেন, তোমরা এই মুসাফিরকে স্মরণ করতে-করতে ফার্স্টক্লাস হয়ে ওঠো"
প্রশ্নঃ - প্রত্যেক গডলি স্টুডেন্ট সঙ্গম যুগে কোন্ পুরুষার্থ করার জন্য শ্রেষ্ঠ মত পেয়ে থাকে?
*উত্তরঃ - গডলি স্টুডেন্টরা শ্রীমত পায় যে এই সময় পবিত্র হয়ে রাজত্বের পদ পাওয়ার জন্য পুরুষার্থ করো। প্রত্যেকেই নিজের চিন্তা করো আর অন্যদের বলো যে অসীম জগতের পিতার কাছ থেকে অবিনাশী উত্তরাধিকার নেওয়ার জন্য এই অন্তিম জন্মে পবিত্রতার রাখি বাঁধো, এই মৃত্যুলোকে বৃদ্ধি করা বন্ধ করো (জনসংখ্যা)। বাবার হয়ে স্বর্গে যাওয়ার জন্য যোগ্য হয়ে ওঠো। বাবার মতে চলে এই সময় ভাইসলেস হলে ২১ জন্মের জন্য ভাইসলেস হয়ে যাবে।
*গীতঃ- ও দূরের মুসাফির আমাকেও সাথে নিয়ে নাও....
ওম্ শান্তি । এই রেকর্ড তো সবাই শুনছে দূরের মুসাফির আমাকেও সঙ্গে করে নিয়ে চলো। তোমরা জানো আমাদের মাতা-পিতা তিনি যিনি দূরের নিবাসী। এই মাতা-পিতা (লৌকিক) কাছেই থাকে। সব মানুষই সেই দূরের মুসাফিরকেই স্মরণ করে। দূরের মুসাফির এসে পরিস্তান স্থাপন করেন, যাকে স্বর্গ, হেভন বলা হয়। ভাইসলেস ওয়ার্ল্ড বলা হয় । সেখানে কোনো দুঃখ নেই। হে দূরের মুসাফির - কে আহ্বান করে? যদি সবার মধ্যেই পরমাত্মা থাকে তবে তো আহ্বান করে বলবে না যে হে পরমাত্মা এসো। এটা তো অবশ্যই ঠিক যে সবাই দূরের মুসাফির, সবাইকে যাত্রা (মুসাফিরী) করতে হবে ওখান থেকে এখানে আসার জন্য । বাস্তবে সব মনুষ্য আত্মারাই পরমধাম নিবাসী। এখানে এসেছে নিজেদের ভূমিকা পালন করতে। এটা হলো অনেক দীর্ঘ যাত্রা। কিন্তু আত্মা সেকেন্ডের মধ্যেই পৌঁছে যায়। এরোপ্লেন ইত্যাদিও এতো তাড়াতাড়ি পৌছতে পারে না। আত্মা তো সেকেন্ডের মধ্যেই সূক্ষ্মলোক, মূললোকে উড়ে যেতে পারে (বুদ্ধি দ্বারা)।। আত্মা এক শরীর ত্যাগ করে অন্য শরীরে প্রবেশ করে অথবা উপর থেকে যে নতুন আত্মারা আসে, তাদের একই টাইম লাগে। নতুন আত্মারা তো আসতেই থাকে তাইনা। এইভাবেই বৃদ্ধি পেতে থাকে। আত্মার মতো তীব্র গতিতে কেউ-ই ছুটতে পারে না।
তোমরা জানো বাবাকেও ভ্রমণ করতে হয়। তিনি একবার এসেই বাচ্চাদের সঙ্গে করে নিয়ে যান। ভক্তরাও জানে ভগবান এসে আমাদের নিজের কাছে নিয়ে যাবেন। এখানে এসে মিলিত হবেন, সেটাও ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য। গেয়েও থাকে - আমাদের পবিত্র করে তোলার জন্য এসো। আমাদেরও সঙ্গে করে নিয়ে চলো। তোমরা জানো যারা যথার্থ রীতিতে বাবাকে স্মরণ করবে তারাই কাছে আসতে পারবে। কি চমৎকার তাইনা। তিনি তোমাদের বাবা , টিচার এবং সদ্গুরুও। তা না হলে বাবাকে আলাদা, টিচারকে আলাদা, স্মরণ করতে হবে। এখানে সম্পূর্ণ জীবৎকাল বাবাও স্মরণে থাকে, টিচারও স্মরণে থাকে। আজকাল তো ছোটবেলাতেই গুরু করিয়ে দেওয়া হয়, সুতরাং মাতা-পিতা, টিচার তারপর গুরুকেও স্মরণ করে থাকে। তারপর যখন নিজের রচনা তৈরি করে তখন নিজের স্ত্রী, বাচ্চা এদেরও স্মরণ করতে লেগে যায়। এরপর মাতা-পিতা ইত্যাদি যারা আছে তাদের স্মরণ কম হতে থাকে। এখন তোমাদের স্মরণ কেবল সেই এক মুসাফির এর। আত্মা পিওর হয়ে যখন নতুন শরীর ধারণ করবে ফার্স্টক্লাস শরীর পাবে। পরমাত্মা বলেন আমি তো নতুন শরীর পাইনা। আমি আসি তোমাদের খুব সুন্দর করে তোলার জন্য। বৈকুন্ঠতে প্রতিটি জিনিসই খুব সুন্দর হয়। মহলও হীরা-জহরত দিয়ে সাজানো থাকে। এই মুসাফির কত অলৌকিক। কিন্তু ক্ষণে-ক্ষণেই তোমরা ওঁনাকে ভুলে যাও, কেননা মায়ার সাথে তোমাদের লড়াই করতে হয়। মায়া তোমাদের স্মরণ করতে দেয় না। বাবা জিজ্ঞাসা করেন তোমরা কেন আমাকে স্মরণ করোনা? বাচ্চারা বলে বাবা কি করব পরবশ অর্থাৎ মায়ার বশীভূত হয়ে পড়ি। তোমাকে ভুলে যাই তারপর সেই খুশি আর থাকে না। রাজার কাছে জন্ম নিলে বাচ্চা খুব খুশি হয়। কিন্তু দ্বাপর রাজত্বেও সুখ-দুঃখ দুই-ই আছে। কেউ ক্রোধ করল তো দুঃখ হলো। এমন নয় যে রাজত্বে কেউ রাগ করে না। রাগের বশবর্তী হয়ে রাজাও রাজকুমার, রাজকুমারীকেও উল্টো-পাল্টা কথা শুনিয়ে দেয়। সন্তান যোগ্য না হলে সে সিংহাসনে বসতে পারবে না। বড় সন্তান যদি যোগ্য না হয় তাহলে ছোট সন্তানকেই সিংহাসনে বসানো হয়। এখানে বাবা বলছেন শ্রীমৎ অনুসারে চলো। আমি তোমাদের ২১ জন্মের জন্য ভারতের রাজা করে তুলি। এই ভারত দৈবী রাজস্থান ছিল অর্থাৎ দেবী-দেবতাদের রাজ্য ছিল। এ'সব শুধুমাত্র তোমরাই জানো যারা ব্রহ্মার দ্বারা ঈশ্বরীয় সন্তান হয়েছ।
তোমরা বাচ্চারা বাবার সম্পূর্ণ বায়োগ্রাফি (পরিচয়) সম্পর্কে জানো। বাদবাকি কোনও মানুষই তাঁর বায়োগ্রাফি সম্পর্কে জানে না। আমরা গডফাদার কেন বলি, সেটাও ওরা জানে না। কেন তাঁকে আহ্বান করে? আমাকে বর্সা ( স্বর্গের উত্তরাধিকার) দাও বলে থাকে, কিন্তু সেটা কীভাবে পাওয়া যায়, এটা তো কেউ-ই জানে না। বর্সা তো বাবার কাছ থেকেই পাওয়া যাবে। বাবা হলেন মুসাফির। এরা যারা (বাচ্চারা) সুন্দর ছিল, তাদের মায়া কালো আর কড়ি তুল্য করে দিয়েছে। মুসাফির এবং হাসিনারও (সুন্দর মেয়ে) একটা কাহিনী আছে। এই মুসাফির কতজনকে সুন্দর করে আর কত উচ্চ (এখানে শ্রেষ্ঠ) করে তোলেন। বাবা আমাদের স্বর্গের মালিক করে তোলেন। আমরা বাবার হয়েছি, তিনি আমাদের দেবী-দেবতা করে তোলেন। তিনি বলেন তোমাদের আত্মা ছিঃ ছিঃ হয়ে গেছে সেইজন্য শরীরও এমন পেয়েছ। এখন আমাকে স্মরণ করে আত্মাকে পবিত্র করে তুললে শরীরও নতুন পাবে। তোমরা সূর্য বংশীয়, চন্দ্র বংশী মহারাজা-মহারানি ছিলে, এখন মায়া তোমাদের নোংরা করে দিয়েছে। আমাকেও স্মরণ করা ভুলিয়ে দিয়েছে। এটাও খেলা। এখন তোমরা জানো প্রত্যেক মুসাফিরকে তিনি পরিস্তান অথবা স্বর্গের মালিক করে তুলছেন। সুতরাং ওঁনার মতে চলতে হবে। এমন নয় যে বাপদাদার কোনো বাচ্চার মতে চলতে হবে। না, বাচ্চাদের শ্রীমৎ অনুসারে চলতে হবে। বাবাকে নিজের মত দেওয়া উচিত নয়। ব্রহ্মার মত প্রসিদ্ধ। তিনি হচ্ছেন জগতপিতা তবে নিশ্চয়ই জগত মাতাকেও এমন হতে হবে। জগদম্বার মতে সবার স্বর্গের মনোকামনা পূর্ণ হয়। এমন নয় যে এই জগদম্বাকে মনুষ্য মতে চলতে হবে। না । মানুষ তো জগদম্বা, জগৎ পিতার মত সম্পর্কে জানে না। বলা হয় যে ব্রহ্মা নেমে আসলেও তুমি নিজেকে সংশোধন করতে পারবে না। জগদম্বার জন্য কেন বলা হয় না? মানুষের তো কোনো ধারণাই নেই কেন তাকে পূজা করা হয় এবং তিনি কে ? তোমরা এখন জেনেছ। দেখো, মাম্মা সব জায়গায় যেতেন মত দেওয়ার জন্য। একদিন গভর্নমেন্টও এই মাতা-পিতা সম্পর্কে জানতে পারবে। কিন্তু শেষে গিয়ে টু লেট হয়ে যাবে। এই সময় রাজা-রানির রাজ্য তো নেই। দুনিয়া এটা জানে না যে এই ড্রামা রিপিট হচ্ছে। প্রথমে আমরা থোড়াই জানতাম যে আমরা অ্যাক্টর। বলা হয় আত্মা নগ্ন হয়ে আসে তারপর শরীর ধারণ করে ভূমিকা পালন করে। কিন্তু ড্রামার আদি-মধ্য-অন্তকে কেউ-ই জানে না যে কারা নম্বরানুসারে পূজ্য থেকে পূজারী হয়। কিছুই জানে না। এখন তোমরা জানো এই পরমধাম নিবাসী মুসাফির অত্যন্ত অনন্য, ওঁনার মহিমা অপরামঅপার। এটা হলো পতিত দুনিয়া, যে পতিত থেকে পবিত্র হবে সেই নতুন দুনিয়ার মালিক হবে। সম্পূর্ণ দুনিয়া স্বর্গে চলবে না। সম্পূর্ণ দুনিয়া তো রাজযোগ শিখবে না। সম্পূর্ণ দুনিয়া পবিত্র হবে না সেইজন্যই(সাফাই) পরিষ্কার করতে হবে। তারপর তোমরা পবিত্র দুনিয়াতে গিয়ে রাজত্ব করবে সেইজন্যই সম্পূর্ণ দুনিয়া পরিষ্কার হয়ে যায়। সত্যযুগে কত পরিষ্কার ছিল। সোনা-রূপার তৈরি মহল ছিল। সেখানে প্রচুর পরিমাণে সোনা থাকে। একটা কাহিনী আছে - একজন সূক্ষ্মলোকে প্রচুর সোনা দেখে বলেছিল - অল্প পরিমাণ সোনা সে তার সাথে নিয়ে আসবে কিন্তু থোড়াই এখানে আনতে পারবে। এখন তোমরা দিব্য দৃষ্টি দিয়ে বৈকুন্ঠকে দেখছ যা এখন স্থাপন হচ্ছে। যার রচয়িতা বাবা। তিনি মালিক তাইনা। মালিক ধনীকে (ধনবান) বলা হয় । যখন কেউ অনাথ হয় তো বলা হয় যে এর কোনো প্রভু বা মালিক ছিল না। ধনী অর্থাৎ বাবা না থাকলে ঝগড়াঝাটি করে থাকে।
তোমরা বাচ্চারা জানো আমরা পরমধাম থেকে এসেছি, আমরা পরদেশী। এখানে শুধুমাত্র ভূমিকা পালন করতে এসেছি। বাবাকেও অবশ্যই আসতে হয়। এখন আমরা পতিত থেকে পবিত্র হয়ে উচ্চ পদ পাওয়ার জন্য পুরুষার্থ করছি। বাবা আমাদের পড়াচ্ছেন। আমরা গডফাদারের স্টুডেন্ট। যেমন ইনি পবিত্র হয়ে রাজকীয় মর্যাদা পাওয়ার জন্য পুরুষার্থ করছেন তেমনি তোমরাও করছ। সবাই আহ্বান করে বলে – হে দূরের মুসাফির এসে আমাদের দুঃখ থেকে মুক্ত করো, সুখধামে নিয়ে চলো। সত্যযুগ হচ্ছে পবিত্র দুনিয়া। ওটা হলো ভাইসলেস দুনিয়া, সেই ওয়ার্ল্ডই পরে বিকারগ্রস্ত হয়ে যায়। ভাইসলেস ওয়ার্ল্ডে সব ভাইসলেস বাস করে। এখানে সব বিকারগ্রস্ত এর নামই হচ্ছে দুঃখধাম, নরক। বাবা এসে পুরানো দুনিয়াকে নতুন করে তোলেন, পুনরায় তোমরা বাচ্চাদের রাজ্য ভাগ্য ফিরিয়ে দেওয়া - এটাই তো বাবার কাজ। ওঁনাকে বলা হয় দূরের মুসাফির। আত্মা তাঁকেই স্মরণ করে হে পরমপিতা পরমাত্মা। ওরা জানে আমরাও পরমধাম পরমপিতার কাছে ছিলাম। বাবা বুঝিয়েছেন আমরা ৮৪ জন্ম ভোগ করে এখন পতিত হয়ে গেছি। আহ্বান করতেই থাকো হে দূরের মুসাফির এসো। আমরা তো তমোপ্রধান পতিত হয়ে গেছি, তুমি এসে আমাদের সতোপ্রধান করে তোলো। আমরা তমোপ্রধান থেকে সতোপ্রধান হই, তারপর আবারও সতোপ্রধান থেকে তমোপ্রধান হব। দূরের মুসাফির এসে এনার (ব্রহ্মা) দ্বারা তোমাদের পড়ান - মানুষ থেকে দেবতা করে তোলার জন্য। সুতরাং পুরুষার্থ তো করা উচিত তাইনা। বাবা এসে প্রবৃত্তি মার্গ তৈরি করেন আর বলেন এই এক অন্তিম জন্ম পবিত্র হয়ে উঠলে পবিত্র দুনিয়ার মালিক হতে পারবে। এই পবিত্রতা নিয়েই ঝগড়া হয়ে থাকে। অবলাদের প্রতি অত্যাচার হয়। তোমরা বাচ্চাদের এখন শ্রীমত অনুসারে চলতে হবে। এখন সবারই বিনাশ কালে বিপরীত বুদ্ধি। বাবাকে জানেই না, ওঁনার থেকে বিপরীত সবাই। বলে থাকে পরমাত্মা তো সর্বব্যাপী। সর্বব্যাপী বলে দিলে তাঁর প্রতি তো কোনো প্রীতিই থাকে না।
এখন বাচ্চারা তোমরা বলছ যে আমরা সবার থেকে প্রীতি দূর করে যদি এক বাবার সাথে জুড়ে থাকি তবে অবশ্যই তাঁর কাছ থেকে উত্তরাধিকার পাব। বাবা বলেন গৃহস্থ ব্যবহারে থাকো কিন্তু পরিস্তানের পরী হতে চাইলে ভাইসলেস হও। তা না হলে ওখানে জন্ম কীভাবে হবে? এটা তো হলো ভিশস (বিকারগ্রস্ত) ওয়ার্ল্ড, নরক। ভাইসলেস ওয়ার্ল্ডকে স্বর্গ বলা হয়। সৃষ্টি তো সেই একই শুধুমাত্র নতুন থেকে পুরানো, পুরানো থেকে নতুন হয়।
এখন বাবা এসেছেন পতিত দুনিয়াকে পবিত্র করে তুলতে সুতরাং ওঁনার মতে অবশ্যই চলতে হবে। শ্রীমত গাওয়া হয়। ভগবান বলেন - বাচ্চারা আমি তোমাদের এমন ভগবান-ভগবতী করে তুলি। বাস্তবে তোমরা দেবী-দেবতাদের ভগবান-ভগবতী বলা যায় না, এই সূক্ষ্মলোকবাসী ব্রহ্মা-বিষ্ণু-শঙ্করকেও দেবতা বলা হয়, ভগবান নয়। সবচেয়ে উচ্চ হলো মূললোক, দ্বিতীয় নম্বরে সূক্ষ্মলোক। এই স্থূললোক হলো তৃতীয় নম্বরে। এখানে যারা বাস করে তাদের ভগবান কীভাবে বলবে? ভিশস ওয়ার্ল্ডকে ভাইসলেস ওয়ার্ল্ড করতে পারেন একজনই। এখন যে যত পুরুষার্থ করবে ততই উচ্চ পদ পাবে। বাচ্চারা জানে মাতা-পিতা, জগদম্বা, জগতপিতা ওখানে গিয়ে প্রথমে তারাই মহারাজা-মহারানি হয়। এখন তারাও অধ্যয়ন করছে। পড়াচ্ছেন শিববাবা, স্মরণও তাঁকেই করে থাকে। তোমরা এখন ওঁনার কাছ থেকে উত্তরাধিকার নিয়ে থাকো। বাবা বলেন এই অন্তিম জন্ম আমার মতে চলে ভাইসলেস হলে ২১ জন্মের জন্য ভাইসলেস হয়ে যাবে। এই সঙ্গম যুগ হলো পুরুষার্থ করার সময়। বাবা বলেন আমি এসেছি সুতরাং তোমরা এই জন্ম আমার মতে চলে ভাইসলেস হও। প্রত্যেককেই নিজের জন্য ভাবতে হবে আর যে কেউই আসুক তাকে বলতে হবে অসীম জগতের পিতার কাছ থেকে অবিনাশী উত্তরাধিকার নিতে হলে পবিত্রতার রাখি বাঁধো। এখন মৃত্যুলোকে আর বৃদ্ধি (জনসংখ্যা) করা উচিত নয়। এখানে আদি-মধ্য-অন্ত শুধুই দুঃখ। আসুরি সম্প্রদায়। সত্যযুগে দেবী-দেবতা রাজ্য করত। এখন নরকবাসীরা ওদের পূজা করে। ওদের এটা জানাই নেই যে আমরাই পবিত্র পূজ্য ছিলাম। এখন আবারও আমাদের পূজারী থেকে পূজ্য হতে হবে। তোমরা কি এমন বাচ্চার জন্ম দিতে চাও যে এই নরকের বাসিন্দা হবে? নরকে থোড়াই বাচ্চার জন্ম দিতে হয়। তার পরিবর্তে কেন স্বর্গে গিয়ে রাজপুত্রের জন্ম দেবে না? বাবার হলে তোমরা যোগ্য হয়ে উঠবে। আজকাল তো বাচ্চারাও দুঃখ দেয়। বাচ্চা জন্ম নিলে খুশি, মরে গেলে দুঃখ। সত্যযুগে যেমন গর্ভও মহল (প্রাসাদ), তেমনি বাইরে এসেও মহলে থাকে। এখন বাবা তোমাদের নরকবাসী থেকে স্বর্গবাসী করে তুলছেন।
আমরা হলাম গডলি স্টুডেন্ট। আমরা বাবার বাচ্চা, শিক্ষক সম্পর্কে আমরা তাঁর স্টুডেন্টস। গুরুর সাপেক্ষে আমরা তাঁর সম্পূর্ণ অনুগামী। আমরা আত্মারা বাবার ফলোয়ার্স। বাবা বলেন আমাকে স্মরণ করো। স্মরণে তোমরা পবিত্র হয়ে ওঠো। নয়তো দন্ড ভোগ করতে হবে। কাজকর্ম তো করতেই হবে, তা না হলে বাচ্চাদের দেখাশোনা কীভাবে করবে । আচ্ছা!
মিষ্টি-মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত। আত্মাদের পিতা ওঁনার আত্মা রূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।
*ধারণার জন্যে মুখ্য সারঃ-*
১ ) সকল দিক থেকে বুদ্ধির প্রীতি সরিয়ে এক বাবার সাথে জুড়তে হবে। পবিত্র হয়ে পরিস্তানের পরী হতে হবে।
২ ) মাতা-পিতার শ্রেষ্ঠ মতে আমাদের চলতে হবে। দেহ-অভিমানের বশে এসে তাঁদের নিজের মত দেওয়া উচিত নয়।
*বরদানঃ-* মাস্টার জ্ঞান সূর্য হয়ে সম্পূর্ণ বিশ্বকে সর্ব শক্তির কিরণ প্রদানকারী বিশ্ব কল্যাণকারী ভব
যেমন সূর্য নিজের কিরণের দ্বারা বিশ্বকে আলোকিত করে, তেমনই তোমরাও মাস্টার জ্ঞান সূর্য হয়ে নিজেদের সর্ব শক্তির কিরণ বিশ্বকে প্রদান করো। এই ব্রাহ্মণ জন্ম হয়েছেই বিশ্বের কল্যাণের জন্য, সুতরাং সবসময় এই কর্তব্যে বিজি থাকো। যে বিজি থাকে সে নিজেও নির্বিঘ্ন থাকে আর সবার জন্য বিঘ্ন বিনাশক হয়ে ওঠে। তার কাছে কোনো বিঘ্ন আসতে পারে না।
*স্লোগানঃ-* দায়িত্ব পালন করার সময়েও সবকিছু বাবাকে অর্পন করে ডবল লাইট হয়ে থাকাই ফরিস্তা হওয়া।
No comments:
Post a Comment