Tuesday, March 21, 2023

22.03.2023 BANGLA MURLI

22-03-2023        প্রাতঃ মুরলি     ওম্ শান্তি           "বাপদাদা"      মধুবন


"মিষ্টি বাচ্চারা - দেহী-অভিমানী হয়ে থাকা, এটাই হলো সব চেয়ে বড় লক্ষ্য, দেহী-অভিমানীকেই ঈশ্বরীয় সম্প্রদায় বলা হবে, তাদের কাছে বাবা আর পরমধাম ছাড়া আর কোন কিছুই ভালো লাগবে না"

প্রশ্নঃ - কোন একটি ধারণার মাধ্যমে ভবিষ্যতের ২১ জন্মের জন্য সঞ্চয় হয়ে যায়?

উত্তরঃ -    শ্রীমৎ অনুযায়ী নিজের এবং অন্যের উপকার করলে তবেই হয়। উপকার সেই করতে পারে যে সম্পূর্ণরূপে দেহী-অভিমানী হতে পেরেছে, যার বুদ্ধি শুদ্ধ হয়ে গেছে। দেহ অভিমানে এলে অপকার হয়ে যায় আর সঞ্চিত পুঁজি সমাপ্ত হয়ে যায়। লোকসান হয়ে যায়। ক্রোধের ভূতও অপকার করিয়ে দেয়। সেইজন্যই নিজের স্বভাব অত্যন্ত মধুর করে তুলতে হবে।

গীতঃ- কে এলো আজ আমার মনের দ্বারে.....

ওম্ শান্তি । যখন পরমাত্মা বাবা এসে জীবাত্মাদের সাথে এসে মিলিত হন, তখন জীব আত্মা ভুলে যায় যে তারা জীব। তাদের দৃঢ় নিশ্চয় হয়ে যায় যে - আমরা আত্মা এবং পরমপিতা পরমাত্মার সন্তান। এছাড়া বাকি যা কিছু আমরা দেখি - এই দেহ সহ দেহের সকল সম্বন্ধী ইত্যাদি এর কোনো কিছুই যেন মনে না থাকে। বাবা এখানে আসেন এইজন্যই যাতে বাচ্চাদেরকে পুনরায় ঘরে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে পারেন। তোমরা এ কথা শুনে চমকে ওঠো যে - এ আবার কেমন কথা। ব্রহ্মার অন্ধকারময় রাত্রিকাল পূর্ণ হয়ে নতুন ভোরের সূচনা হয়। তখন দেহ সহ দেহের যা কিছু সম্বন্ধ রয়েছে সে'সবই ছিন্ন হয়ে যায়। তখন তোমরা চমকে ওঠো যে একি হলো! এই পুরানো দুনিয়া তখন আর চোখে পড়ে না। তখন শুধু বাবা আর পরমধামের কথাই ভালো লাগে। এ বড় আশ্চর্যের কথা তাই না। কিন্তু বাবাকে সম্পূর্ণভাবে চিনতে না পারার জন্য, বুদ্ধিযোগ সঠিকভাবে তাঁর সাথে যুক্ত হয় না বলে, দেহ অভিমানও পুরোপুরি সমাপ্ত হয় না। তাদেরকে বানর সম্প্রদায় বলা হয়। যখন দেহী-অভিমানী হয়ে উঠতে পারে, তবেই তাকে ঈশ্বরীয় সম্প্রদায় বলা হয়। এই বানর সম্প্রদায় নিয়ে নারদের রূপে একটি দৃষ্টান্ত রয়েছে। নারদ খুব বড় ভক্ত ছিল, তাঁর হাতে থাকতো করতাল। তাঁকে বাবা দেখিয়েছিলেন যে দেখো - তুমি বানর সম্প্রদায়ের। সুতরাং দেহী অভিমানী হয়ে থাকা বড়ই কঠিন, এ হলো শ্রেষ্ঠ লক্ষ্য। অনেকেই পবিত্রও হয়ে থাকে। এইরকম ভালো আর খারাপ মানুষ তো থাকেই। সন্ন্যাসীরা ঘর সংসার ত্যাগ করে পবিত্র হয়ে থাকে। যারা ঘর সংসার ত্যাগ না করে গৃহস্থী হয়ে থাকে, তারা গিয়ে সেই সন্ন্যাসীকে নিজ গুরুপদে বরণ করে। কলিযুগী দুনিয়ার সকল মানুষই নাস্তিক নির্ধন (অনাথ) । হে ভগবান হে পরম পিতা পরমাত্মা - এ কথা বলে তারা তাঁকে আহ্বান তো করে, কিন্তু তাকে চিনতে পারে না বলে সঠিক জানেনা যে তিনি কে। আহ্বান করতে করতে তারা ক্লান্ত হয়ে যায়। তখন তারা বলে যে ঈশ্বর সর্বব্যাপী। তাঁর আরাধনা ও বন্দনা করে, কিন্তু তাঁকে জানে না। এটি অত্যন্ত ভালোভাবে বোঝার বিষয়। ভগবানুবাচ, গীতাতেও বলা হয়েছে ভগবানুবাচ - এখন এ হল আসুরিক সম্প্রদায়। ভগবান এমন কেন বললেন যে - তোমরা বানর সদৃশ? নিজের মুখ আয়নায় দেখো, ওরা ভগবানকে জানেই না, খালি খুঁজতেই থাকে। তাই মানুষেরই ভগবানকে পাওয়া উচিত । অনেক খোঁজে কিন্তু তাঁকে পায় না কিছুতেই। তাই যখন ভগবান নিজে আসেন তখন তিনি নিজের পরিচয় আমাদেরকে দেন। গীতাতে সম্পূর্ণ পরিচয় রয়েছে। বলা হয় যে - আমি হলাম রুদ্র। আমি রুদ্র, এই জ্ঞানযজ্ঞের রচনা করেছি। যদি ওরা বলে যে শ্রীকৃষ্ণ এই যজ্ঞের রচনা করেছে তাহলে শ্রীকৃষ্ণ বলবে যে - আমি তোমাদেরকে রাজযোগ শেখাচ্ছি। কিন্তু শ্রীকৃষ্ণ জ্ঞানযজ্ঞ - এই নামে কোনো যজ্ঞ হয় না। বাচ্চারা, 'কথা এখন শুধুমাত্র তোমরাই জানো, বাকি সমস্ত মানুষই হলো আয়রন এজেড (লৌহযুগে)। তাদের মুখ থেকে শুধু পাথরই নির্গত হতে থাকে। মিথ্যাবাদীদের জন্য বলা হয় যে তাদের মুখ কালো হয়ে যাবে। যখন সন্ন্যাস ধর্মের স্থাপনা হয় সেই সময়ে এই সৃষ্টি রজঃপ্রধান স্থিতিতে ছিল। ভারতের পবিত্রতা রক্ষার জন্য এই পবিত্র সন্ন্যাস ধর্মের স্থাপনা হয়। তাই তাদেরকে রজগুণী সন্ন্যাসী বলা। তাঁরা সন্ন্যাস গ্রহণ করেন কিন্তু তা হল রজঃ গুণযুক্ত সন্ন্যাস। তা সতপ্রধান নয়। যখন ভারতে কাম বিকারের চিতায় উঠে তাতে জ্বলে পুড়ে যেতে থাকে, তখন ড্রামাতে এই সন্ন্যাস ধর্মেরও পার্ট রয়েছে। এই সন্ন্যাস ধর্ম কে সহজ রাজযোগ বলা হয় না, কারণ এটি ভগবান শিখিয়ে দেননি । তারা তো ভগবানকে জানেই না। পুরাণে বর্ণিত হয়েছে যে শ্রীকৃষ্ণ দ্বাপর যুগে এসেছিলেন - তা অত্যন্ত বড় ভুল করা হয়েছে। বাবা বসে সেই সকল ভুলে যাওয়া মানুষদেরকে বোঝাতে থাকেন। কিন্তু এ কথা বোঝানোর জন্য অত্যন্ত রিফাইননেস (সূক্ষ্মতা) এর প্রয়োজন। সন্ন্যাসীরা বলেন যে - তোমরা সন্ন্যাস ধর্মের নিন্দা করো। তখন তাদেরকে বলো যে - এখানে এসে এই কথা আগে শোনো, বোঝো তারপর বলো। প্রথমে তাদেরকে বোঝাও যে তোমরা কার নিন্দা করো । পরমপিতা পরমাত্মা যিনি সকলের পিতা, গীতার ভগবান, তিনি এই জ্ঞান আমাদেরকে শুনিয়েছেন বুঝিয়েছেন, শ্রীকৃষ্ণ নয়। পরমপিতা পরমাত্মা এসে বলেছেন যে, এখন কলিযুগের অন্তিম সময় চলছে। এখন সমস্ত মানুষের বুদ্ধি ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে পচনশীল আসুরিক বুদ্ধিতে পরিণত হয়েছে। এখন এখানে পতিত আসুরিক রাজত্ব চলছে। সত্যযুগে থাকবে পবিত্র দৈবী রাজত্ব। ওরা মনে করে যে, আমরাই ঈশ্বর - কিন্তু তা তো নয়। সকলের ঈশ্বর একই, যাঁকে সকলেই স্মরণ করে। এটা বোঝার বিষয়। কেউ যদি বুঝতে চায় তবেই তো বুঝবে। কিন্তু যিনি বোঝাবেন তাকেও খুব রিফাইন (পারদর্শী) হতে হবে। যার নিজের মধ্যেই ক্রোধের ভূত বিদ্যমান, সে অন্যকে কি করে কিছু বোঝাতে পারবে। ক্রোধের ভূত, মোহের ভূত, লোভের ভূত ইত্যাদি ছোট বড় নানান রকমের ভূত তো থাকেই। অনেক খারাপ অভ্যাস থেকে যায়। অনেক ভালো ভালো বাচ্চাদের দিয়েও মায়া কিছু না কিছু ভুল ভ্রান্তি করিয়ে দেয়। এই সমস্তই হল দেহ অভিমানের শয়তানি। দেহ অভিমান আসামাত্রই একদম বানরের তুল্য হয়ে যায় তারপর আর সে মন্দিরে পূজার যোগ্য হতে পারে না।

 

তোমরা জানো যে একমাত্র দেবী দেবতারাই মন্দিরে পূজার যোগ্য হতে পারেন। তাদের জন্যই মন্দির বানানো হয়। সত্যযুগে সমগ্র দুনিয়াকেই শিবালয় বলা হয়, কারণ সেখানে সকলেই মন্দিরে থাকেন। সমগ্র সৃষ্টিটাই মন্দিরের মতো পবিত্র হয়ে যায়। বিশ্ব শিবালয় হয়ে যায় আর সেই শিবালয়ে যথা রাজারানী তথা প্রজা, সকলেই পবিত্র হয়ে থাকে। তো যখন এ সমস্ত কাউকে বোঝাবে তখন তাকে অত্যন্ত যুক্তি সহকারে বোঝাতে হবে। ইঁদুর তার দাঁত দিয়ে সব কেটে দেয় আর তারপর ফুঁ দিতে থাকে, তাদের মধ্যে সেটুকু বুদ্ধি রয়েছে। কোনো সাধু সন্ন্যাসী যখন আসবে, তখন প্রথমে যুক্তিসহকারে তাদের মহিমা কীর্তন করতে হবে - আসুন সন্ন্যাসী মহারাজ, আপনি অত্যন্ত মহান যে এই সন্ন্যাস ধারণ করেছেন, ঘর-সংসার ত্যাগ করেছেন। তোমরা জানো যে দুই রকমের সন্ন্যাস রয়েছে। প্রথমটি হল ঘর সংসার ত্যাগ করার সন্ন্যাস, দ্বিতীয় হল ঘর সংসার ত্যাগ না করার সন্ন্যাস। এই দ্বিতীয় সন্ন্যাস হলো - ঘর গৃহস্থের মধ্যে বসবাস করে রাজযোগ শিখে স্বর্গের মালিক হওয়া। কখনো এইরকম কথা শুনেছেন ? তখন ওরা বলবে যে এইরকম কোনো কথা তো কোনো শাস্ত্রে লেখা নেই। গীতাতে শ্রীকৃষ্ণের নাম দ্বাপরে বলা হয়েছে, তাহলে মানুষ বুঝবে কীভাবে ? এখন চিত্রের উপর বোঝাতে হবে। সন্ন্যাসীদের বোঝাতে হবে যে - তোমাদের সন্ন্যাস হলো ঘর সংসার ত্যাগ করার সন্ন্যাস। সকলে তো তা ত্যাগ করতে পারবে না, কারণ তারা প্রবৃত্তি মার্গ এ রয়েছে। তোমরা প্রবৃত্তিতে থেকেও ৫ বিকারের সন্ন্যাস করনি, কিন্তু আমরা তা করছি। এই কাজে আমরা পরমপিতা পরমাত্মার সাহায্য প্রাপ্ত করছি। এইভাবে ঘর গৃহস্থে থেকেও ৫ বিকারের সন্ন্যাস করার মাধ্যমে আমরা স্বর্গের মালিক হয়ে যাব। সত্যযুগে দেবী দেবতারা পবিত্র ছিল, এখন আর নেই। কলিযুগের পর পুনরায় সত্যযুগ আসবে। বাবা নিজে এসে সত্যযুগের স্থাপনা করেন। প্রবৃত্তিতে থেকেও কমল পুষ্পের মত পবিত্র করে তোলেন। তোমরা বলে থাকো যে - আগুন আর তুলো একত্রে বাস করতে পারে না, কিন্তু এখানে আমরা সেটাই করে দেখাই। তোমাদের কাছে প্রাপ্তির এইম অবজেক্ট (প্রধান লক্ষ্য) তো কিছুই নেই। অসীমের পিতা যখন এখানে আসেন তখন পুরাতন সৃষ্টির বিনাশ হয় আর নতুন সৃষ্টির স্থাপনা হয়। আমরা এই জ্ঞানলাভ করে থাকি নতুন দুনিয়ার জন্য। বাবা বলেন - দেহ সহিত তোমাদের যা কিছু সম্বন্ধ ইত্যাদি আছে, সে সমস্ত ভুলে নিজেকে দেহী জেনে আমাকে স্মরণ করো। আমাদের এই রাজযোগ হল সতোপ্রধান। এখন এই সৃষ্টি তমোপ্রধান হয়ে আছে, পুনরায় এই সৃষ্টি তমোপ্রধান থেকে সতোপ্রধান হয়ে উঠবে। একে সতোপ্রধান করে তোলেন একমাত্র রচয়িতা বাবা। আমরা সেই অসীম জগতের পিতার কাছ থেকে এই সমস্ত শিক্ষা গ্রহণ করছি। ভগবান তো এক, ব্রহ্মা-বিষ্ণু-শঙ্করকেও দেবতা বলা হয়। তাদের পরবর্তী শ্রেণীকে মানুষ বলা হয়। ভগবান থাকেন পরমধামে, আমরা আত্মারাও ওখানেই বাস করি। এতটা রিফাইন (সূক্ষ্ম) ভাবে বোঝাতে হবে। কিন্তু যোগ পূর্ণ না হলে ধারণা হয় না। বাবা যা বোঝাতে থাকেন তা কারোর মনে পড়ে না। যদি কোনো কোনো বাচ্চারা বলেও যে আমরা স্মরণ করি, কিন্তু বাবা তা স্বীকার করেন না। বাবা বলেন - যদি তোমরা স্মরণে থাকো তাহলে তোমাদের বুদ্ধি পরিশুদ্ধ হয়ে যাওয়া উচিত আর জ্ঞানের ধারণাও ভালোভাবে হওয়া উচিত। যদি জ্ঞান এর ধারণা হয়ে থাকে তাহলে তা অন্যকেও করাতে হবে। উপকার করতে হবে। তোমরা জানো যে বাবা এসে সকলের উপকার করেন। মায়া রাবণ সকলের অপকার করে। বাবা এসে একবারই এতটা উপকার করেন যে ২১ জন্ম ধরে আমরা উপকৃত হয়ে থাকি। একে উপকার বলো অথবা কৃপাই বলো, আশীর্বাদ ইত্যাদি যাই বলে থাকো, দ্বাপর থেকে পুনরায় অকৃপা শুরু হয়ে যায়। রাবণ অপকার করে। শ্রীমৎের সাহায্যেই তোমরা অন্যের উপকার করতে পারবে। কিন্তু যদি দেহ অভিমানী হয়ে যাও তো অন্যের অপকার করা শুরু করে দেবে। উপকার করলে ভবিষ্যতের ২১ জন্মের জন্য পুঁজি সঞ্চিত হয়ে যায়। কারোর অপকার করলে যা সঞ্চিত হয়েছিল তাও সমাপ্ত হয়ে যায়। যদি উপকার করতে জানো তাহলে তা করতে হবে। যদি উপকার করতে না জানো তাহলে নিশ্চয়ই আসুরিক মতে চলে অপকারই করবে । প্রত্যেক মানুষ একে অপরের অপকার করতে থাকে। কাম বিকারের বাণ ছুঁড়তে থাকে। যখন কেউ বাবাকে ভুলে যায়, উপকার করা ভুলে যায় তাহলে সে অন্যের অপকারী হয়েই যায়। এক সেকেন্ডে উপকার, পরের সেকেন্ডেই পুনরায় অপকার করে ফেলে। অনেক ভালো ভালো বাচ্চারা উপকারী ছিল। তারা উপকার করার শিক্ষা জানতো। নিজের প্রতিও উপকার করত আর অন্যদের প্রতিও উপকার করত । তারপর মায়ার চক্রব্যূহে ফেঁসে গিয়ে ভাগন্তী হয়ে গেল, অপকারী হয়ে গেল। এখন তারা কত অপকার করে। মানুষ ভাবে যে নিশ্চয়ই কিছু ঘটেছিল যার জন্য তারা বাবাকে ছেড়ে চলে গেল, তাহলে আমরা কীভাবে যাব? তারা এইরকম উল্টোপাল্টা রটনা করতে থাকে । উপকার করে যতটা নিজের জমার খাতা বৃদ্ধি করেছিল, তারপর অপকার করে নিজেই নিজের সমস্ত সঞ্চিত পুঁজি নষ্ট করে ফেলল। এইরকম অনেক ঘটেছে এবং আরো হতে থাকবে। দেখো যে উপকার করেছিল সেই দেহ অভিমানে এসে অপকারী হয়ে গেল। মানুষই মানুষের অপকার করে থাকে। যতক্ষণ না শ্রীমৎ অনুযায়ী চলবে, কেউ কখনো কারোর উপকার করতে পারবে না। রাবণের মত অপকার করায়। এই মুহূর্তে শ্রীমতে চলছে তো পরবর্তী মুহূর্তেই আবার রাবণের মতে চলতে শুরু করে। যেইমাত্র ক্রোধের ভূত চেপে বসলো, অমনি অপকার করে ফেলল। বাবার উপর অপকারের কলঙ্ক লাগিয়ে দেয়, নিন্দা করিয়ে দেয়। এসব দেখে বাবা কি বলবেন - ঈশ্বরের সন্তান এমন হয় কি! সে তখন বাবার হৃদয় সিংহাসনে আর স্থান পায় না। যখন কারোর ভূত ছেড়ে যায় তখন সে আবার মহিমা করতে শুরু করে। ক্রোধ অত্যন্ত ক্ষতিকারক সেই কারণেই বাবা সর্বদা বলতে থাকেন যে মিষ্টি মধুর টেম্পার (স্বভাব) যুক্ত হও। ক্রোধী টেম্পার হলো অজ্ঞানতার পরিচয়। বাবা বোঝাতে থাকেন যে, মোহ সম্পূর্ণভাবে ত্যাগ করতে হবে। নষ্টমোহ হতে হতে যখন অন্তিমের সময় আসবে তখন সম্পূর্ণ হতে পারবে। এ তো একটা রেস তাই না। বাচ্চারা জানে যে মাম্মা আর বাবা প্রথমে পৌঁছে যান। সুতরাং তাঁদের মত অনুযায়ী চলে তাঁদেরকে অনুসরণ করা উচিত, সেই রকম ধারণা করতে হবে। মাতা পিতার হৃদয়ে স্থান করে নিলে তখন সিংহাসনেও বুঝতে পারবে। নিজেই নিজেকে জিজ্ঞাসা করতে হবে যে - আমরা শ্রীলক্ষ্মীকে বরণ করার জন্য অর্থাৎ মাতা পিতার সিংহাসনে বসার যোগ্য হয়েছি কি? যদি বুঝতে পারো যে আমাদের মধ্যে ক্রোধ এখনও রয়েছে, তাহলে কখনও হৃদয়ে স্থান পাবে না। আর ভবিষ্যতেও মহারাজা মহারানী হতে পারবে না। প্রত্যেক কদমে শ্রীমৎ অনুযায়ী চলতে হবে। যদি বিশ্বাসঘাতক হয়ে যাও তাহলে সত্যযুগে গিয়ে চন্ডাল হবে। হুবহু পূর্বকল্প অনুযায়ী সমস্ত কথা বাবা রোজ রোজ শোনাতে থাকেন। এতে এতটুকুও পার্থক্য হতে পারে না। বাচ্চাদের মধ্যে জ্ঞানের অফুরন্ত নেশা থাকা উচিত। যারা সেবাতে যুক্ত থাকবে তাদের মধ্যে এই নেশা বিদ্যমান থাকবে। যে যেমন সেবা করে, সে সেই অনুযায়ী ফল অবশ্যই পায়। সর্বশ্রেষ্ঠ সেবা হল জ্ঞান দান করা। এই সেবার মাধ্যমে বহু জনকে সুখ প্রদান করে চক্রবর্তী বানাতে হবে। অন্যদেরকে কীভাবে তৈরি করবে - সেবার এ সমস্ত যুক্তি বাবা খুব ভালো করে বলে দেন। এই সেবা যে কোনো স্থানেই হতে পারে। সেবায় ১০০ জনের মধ্যে হয়তো একজন জেগে উঠবে। এ যথেষ্ট পরিশ্রমের কাজ।

 

এমনিভাবেই রাত দিন বাবার বিচার সাগর মন্থন চলতে থাকে । অনেক রকমের বিচার আনাগোনা করতে থাকে । কত বাধা বিঘ্ন আসে, বিশ্বকে পবিত্র স্বর্গ করে তুলতে হবে। তার জন্য অসংখ্য সংকল্প চলতে থাকে। ভাবতে ভাবতে রাত থেকে সকাল হয়ে যায়, সেই কারণেই তো গায়ন আছে - নিদ্রাকে জয়কারী... ব্রহ্মা বাবার কখনো কখনো এ সমস্ত ভেবে ঘুমই আসত না। বাচ্চাদেরকে বিশ্বের মালিক করে তুলতে হবে, কত বড় দায়িত্ব, এত চিন্তা তাঁর থাকতো। বাচ্চারা তোমাদেরও এতটা চিন্তা থাকা উচিত যে - আমরা কতদূর পর্যন্ত শ্রীমতে চলতে পারছি। বাপদাদার সাথে সাথে আমাদেরকেও কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলতে হবে। সমগ্র পুরানো দুনিয়াকে রওনা করে দিতে হবে। আচ্ছা!

 মিষ্টি - মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা - পিতা, বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত । আত্মাদের পিতা ওঁনার আত্মারূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার ।

 ধারণার জন্যে মুখ্য সারঃ-১ ) কখনোই রাবণের মতে চলে, দেহ অভিমানে এসে বাবার অপকার ক'রো না, নিন্দা করিও না। শ্রীমতে চলে নিজের তথা সকলের উপকার করতে হবে।

 ২ ) ক্রোধের ভূত যেন আমাদের ভেতরে প্রবেশ করার সুযোগ না পায়। অত্যন্ত মধুর স্বভাবের হতে হবে। যুক্তির দ্বারা সেবা করতে হবে।

 বরদানঃ-সম্পর্কে যে আত্মারা আসে, তাদেরকে সদা সুখের অনুভূতি করিয়ে মাস্টার সুখদাতা ভব

তোমরা সুখদাতার সন্তান মাস্টার সুখদাতা। সেইজন্যই সুখের খাতা জমা করতে থাকো। শুধু এটা চেক ক'রো না যে - আজ সারাদিনে কাউকে দুঃখ দিলাম না তো? বরঞ্চ এইটা চেক করো যে - কতজনকে সুখ দিতে পেরেছি? তোমাদের সম্পর্কে যেই আসুক না কেন তারা তোমাদের মাস্টার সুখদাতা স্বরূপের মাধ্যমে, প্রত্যেক পদক্ষেপে যেন সুখের অনুভূতি করতে পারে - একেই বলা হয় দিব্যতা বা অলৌকিকতা। সর্বদা যেন এই স্মৃতি থাকে যে - এই এক জন্মে, ২১ জন্মের সঞ্চয় জমা করে নিতে হবে।

স্লোগানঃ-  এক বাবাকেই নিজের সম্পূর্ণ জগৎ সংসার বানিয়ে নাও, তবেই অবিনাশী প্রাপ্তি হতে থাকবে।

No comments:

https://bkrajyogpathshala.blogspot.com/

01-04-2026 Bengali Murli

 মিষ্টি বাচ্চারা - বাচ্চারা, বাবা যা, বাবা ঠিক যেমন, তোমরা বাচ্চারাও তাঁকে নম্বর ক্রমানুসারেই চিনেছো, যদি সকলেই তাঁকে চিনে গেলে তবে তো অত্যন...