Friday, March 24, 2023

25.03.2023 BANGLA MURLI

 

 

25.03.2023 BANGLA MURLI

মিষ্টি বাচ্চারা - এ'হলো ওয়ান্ডারফুল পাঠশালা যেখানে জ্ঞান সাগর পতিত-পাবন বাবা তোমাদের জ্ঞান অমৃত পান করিয়ে পবিত্র বানান, এমন পাঠশালা অন্য কোথাও হয় না”

*প্রশ্নঃ - বাবার কোন্ একটি পরামর্শ স্বীকার করলে বাবা প্রতি ক্ষণ তোমাদের সহায়ক থাকবেন?

*উত্তরঃ -    বাবা রায় দেন বাচ্চারা তোমরা জিন এর মতো আমাকে স্মরণ করতে থাকো। খাওয়া দাওয়া করতে করতে, চলাফেরা করতে করতে বুদ্ধি যোগ আমার সাথে যুক্ত রাখো অন্য সব দিক থেকে বুদ্ধি সরিয়ে নাও। তোমরা বাবাকে আর স্বর্গকে স্মরণ করার সেবা করো, এটাই হলো তোমাদের সাহায্য। এই স্মরণ-ই তোমাদের স্বর্গের মালিক বানাবে। এ'হল খুব সস্তা সওদা। সাহস রাখো তো বাবা প্রতিক্ষণ তোমাদের সহায়ক হয়ে আছেন। হিম্মতে মর্দা মদদে খুদা (নর এর সাহস আর ভগবানের সহায়তা)

*গীতঃ- আমাকে আশ্রয় দিয়েছেন যিনি...

ওম্ শান্তি । বাচ্চারা গীত শুনলো। বাচ্চা বাচ্চা বলে সম্বোধন করেন কে? নিশ্চয়ই বাচ্চা বলে যিনি ডাকছেন উনি বাবা-ই হবেন। যদিও দুনিয়া জানে বাচ্চা বলে সম্বোধন করছেন যিনি, তিনি হলেন একমাত্র পরম পিতা, যাঁকে পরম আত্মা অর্থাৎ পরমাত্মা বলা হয়, তোমরা সবাই হলে বাচ্চা। তোমরা বাচ্চারা মানুষ থেকে দেবতা হওয়ার জন্য এই পাঠশালায় পড়াশোনা করছো। তোমরা জানো যে আমাদেরকে অসীম জগতের পিতা পড়াচ্ছেন। তিনি বাবাও, টিচারও । মাতা-পিতার অনেক সন্তান। বাচ্চাদের সংখ্যা তো বৃদ্ধি পেতেই থাকবে। পরমপিতা পরমাত্মা বসে পড়াচ্ছেন। এ'হল ওয়ান্ডার, তাইনা। এমন ওয়ান্ডারফুল বিচিত্র পাঠশালা দ্বিতীয় নেই। বাচ্চারা জানে জ্ঞান সাগর যিনি পতিত-পাবন, উনি জ্ঞান অমৃত পান করিয়ে পবিত্র করেন। গেয়েও থাকে পতিত-পাবন এসো। সুতরাং অবশ্যই এ'হল পতিত দুনিয়া এবং পবিত্র দুনিয়াও আছে, নতুন দুনিয়া নতুন ঘরকে (সৃষ্টিকে) পবিত্র বলা হবে। পরে সেই ঘর (সৃষ্টি) পুনরায় পুরানো হবে। অতএব বাচ্চারা জানে- এই হল পুরানো দুনিয়া, নতুন দুনিয়া ছিল - সেখানে অনেক সুখ ছিল। বাচ্চারা গীত শুনলো। তারা তো শুধু ভক্তিমার্গে গান করে, তোমরা তো এখন প্রাক্টিক্যালে আছো। ভক্তিমার্গের গান গুলি আমরা জ্ঞানে নিয়ে আসি। তোমরা বাচ্চারা জানো বাবা সবাইকে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে এসেছেন। পতিত-পাবন উনি তো পবিত্র বানিয়ে নিয়ে যাবেন। এমন ভাবে নিজের সঙ্গে কথা বলতে হবে। অবশ্যই এ'হল পতিত দুনিয়া।পবিত্র দেবতাদের বা পবিত্র সন্ন্যাসীদের পতিত মানুষ নমন অর্থাৎ প্রণাম করে। কিন্তু পতিত-পাবন বাবা হলেন একজনই। সবাই পবিত্র যে বানান পিতাকেই স্মরণ করে, কারণ সম্পূর্ণ দুনিয়াকে দুঃখ থেকে লিবারেট করা, একমাত্র বাবারই কাজ। দুঃখ কে দেয়? বিকার। বিকারের নাম কি? কাম বিকারের ভূত, ক্রোধের ভূত, অশুদ্ধ অহংকারের ভূত। দেহকেও ভূত বলা হয় কারণ ৫ ভূতের অর্থাৎ তত্ত্বের দ্বারা নির্মিত। আত্মা তো এসব থেকে পৃথক। একটি দেহ ত্যাগ করে অন্যটি ধারণ করে। এখন তোমরা বাচ্চারা নতুন দুনিয়াও দেখছো এবং তার জন্য পড়াশোনা করছো। মানুষও বুঝতে পারে যে বিনাশ হবে, মহাভারী লড়াই লাগবে। কিন্তু তারপরে কি হবে, সে কথা জানেনা কারণ গীতার ভগবানকে দ্বাপরে নিয়ে গেছে। এই হল বিভ্রান্তি। আমরাও এই বিভ্রান্তিতে ছিলাম, এখন সেখান থেকে বেরিয়ে এসেছি। মানুষ তো দুর্গতিতে আছে, আমরা এখন জ্ঞানের সদগতি দিবসের দিকে যাত্রা করছি।

 

বাবা বলেন আমি হলাম জ্ঞানের সাগর, অন্য কেউ এই জ্ঞান প্রদান করতে পারে না। জ্ঞানের সাগর একজনকেই বলা হয় পরে তাঁর থেকে জ্ঞান গঙ্গাদের উৎপত্তি হয়। শিব শক্তি জ্ঞান গঙ্গাদের বলা হয়। ওটা হলো স্থূল গঙ্গা নদী যা প্রবাহমান আছে। এমন নয় গঙ্গা নদী যেদিকে ইচ্ছে সেদিকে প্রবাহিত হতে পারে, না। তোমরা জ্ঞান গঙ্গারা যেখানে চাও সেখানে গিয়ে জ্ঞান প্রদান করতে পারো। সেখানেই জ্ঞান গঙ্গা প্রকট হতে পারে। তারা মনে করেছে অমুক স্থানে গঙ্গার উৎপত্তি হয়েছে তখন সেখানে গৌ মুখ নির্মাণ করেছে। বাস্তবে গৌমুখ তো হলে তোমরা কুমারীরা। তোমরা গৌমুখ, তোমাদের মুখ থেকে জ্ঞান নির্গত হচ্ছে। তোমরা হলে জ্ঞানের সাগর থেকে উৎসারিত প্রকৃত সত্য গঙ্গা। তোমাদেরকে সৃষ্টি চক্রের আদি মধ্য অন্তের নলেজ বোঝানো হয়। শিববাবাকেই নলেজফুল বলা হয়। উনি ওয়ার্ল্ড আলমাইটি সর্বশক্তিমান। উনি হলেন সর্ব বেদ শাস্ত্রের জ্ঞাতা। সর্ব শাস্ত্রের সার অর্থ বুঝিয়ে বলেন। প্রত্যেক ধর্মের শাস্ত্র একটাই হওয়া উচিত। যেমন শ্রীমদ্ভগবৎ গীতা একটি, বাইবেল একটি। ইব্রাহিম এসে ইসলাম ধর্ম স্থাপন করেন, তারপর সবাই আসতে থাকে। তার দ্বারা উচ্চারিত বাণী পরে ধর্ম শাস্ত্রে পরিণত হয়ে যায়। তৎক্ষণাৎ তৈরি হয়ে যায় না। সেই সময় তো তাকে ধর্ম স্থাপনা করতে হয়। তারা সব শাস্ত্র ইত্যাদি পরে নির্মাণ করে। বাবা বলেন এই বেদ শাস্ত্র জপ তপ ইত্যাদি সবই হল ভক্তির কাল্ট। এ'হল জ্ঞানের কাল্ট। ভক্তির আয়ু এখন পূর্ণ হয়েছে, পুনরায় বাবা এসে জ্ঞান প্রদান করে পতিতদের পবিত্র বানিয়ে দেন। এখন তোমরা জানো আমরা ব্রাহ্মণরাই পরে দেবতায় পরিণত হবো। ৮৪ জন্মের সম্পূর্ণ হিসেবপত্র বুদ্ধিতে আছে। এখন আমরা ব্রহ্মা মুখ বংশী ব্রাহ্মণ। প্রথমে আমরা শূদ্র কুলের ছিলাম, এখন আমরা ব্রাহ্মণ কুলের হয়েছি। এই কথাও তোমরা ব্রাহ্মণরাই জানো। দেবী-দেবতা ধর্মের তো কেউ নেই। হিন্দুরা তো জানেনা আমরা আসলে দেবী-দেবতা কুলের ছিলাম। এখন আমরা শূদ্র কুলের হয়েছি। নিজের ধর্মকে ভুলে ধর্ম ভ্রষ্ট, কর্ম ভ্রষ্ট কাঙাল হয়েছি। এখন বাবার দ্বারা তোমরা বাচ্চারা আমরা সেই, সে-ই আমরা (সো হম) কথাটির অর্থ বুঝেছো। আমরা আত্মারা পরমধামের নিবাসী। এখানে এসে পার্ট প্লে করছি। সর্ব প্রথমে আমরা সত্য যুগে দেবতা কুলে আসি তারপরে বৈশ্য শূদ্র কুলে আসি। এর পরে যাবো দেবতা কুলে। তোমরা জানো কোন্ কুলে কত জন্ম থাকবো। বাকি এক এক জন্মের কথা তো বাবা বসে বলবেন না। নাটশেলে (সংক্ষিপ্ত সারে) বলবেন। বীজ এবং বৃক্ষকে জানো, ব্যস্। বাবা হলেন বীজরূপ। আমরা হলাম কল্প বৃক্ষের সমান। আমরা পরমধাম থেকে এসেছি পার্ট প্লে করতে। সত্য যুগ থেকে চক্র আবর্তন করে এসেছি। পরে অন্য ধর্মের মানুষ নির্দিষ্ট সময়ে আসে তারপরে যখন বিনাশ হয় তখন সব আত্মারা ফিরে যায়। পরে নিজ নিজ সময়ে নম্বর ক্রমানুসারে ধর্ম স্থাপন করতে আসে। এই সব রহস্য তোমাদের বুদ্ধিতে আছে। বাচ্চারা বলে বাবা আপনি যা পড়িয়ে দেন তাতে আমরা স্বর্গের মালিক হই। আপনার মতন সুখ অন্য কেউ প্রদান করতে পারে না। মানুষ মাত্রই অল্পকালের সুখ প্রদান করে। অমন তো পশুরাও দেয়। মানুষের জীবন তো অমূল্য বলা হয়। মানুষই দেবী-দেবতা হতে পারে। মানুষ বিশ্বের মালিক হতে পারে। বাবা, আপনি যে সুখ দিয়েছেন তেমন সুখ কেউ প্রদান করতে পারে না। বাবা, আপনি তো আমাদের বিশ্বের মালিক করেন। আপনি হলেন বিশ্বের রচয়িতা। তোমরা তো শুধুমাত্র বাবাকে স্মরণ করো। অন্য কোনও হঠ যোগ ইত্যাদির কথা নেই। তোমরা বাবার আপন হয়েছো কারণ তোমরা জানো বাবা হলেন নতুন বিশ্বের রচয়িতা। বাবা পরমধাম থেকে এসেছেন। উনি হলেন মোস্ট বিলাভেড বাবা, সবাই তাঁকে স্মরণ করে। সে যে ধর্মেরই হোক, ও গড ফাদার, হে ভগবান বা আল্লাহ অবশ্যই বলতে থাকবে। বাবা বলেন আমি সবাইকে সুখ প্রদান করে যাই তাই তো ভক্তিমার্গে আমাকে স্মরণ করে। এখন পুনরায় সুখ দিতে এসেছি, তখন অর্ধেক কল্প আমাকে আর কেউ স্মরণ করবে না। সেখানে তো মায়া নেই যে দুঃখ দেবে। তোমরা বিশ্বের মালিক দেবী-দেবতা হয়ে যাও তাই বাচ্চারা তোমাদের অন্তরে রাত দিন এই স্মৃতি থাকা উচিত। বাবা, আপনি আমাদের বিশ্বের মালিক বানিয়ে দেন, আমরা তার অধিকারীও । বাবা নতুন বিশ্ব স্বর্গের রচনা করেন তো অবশ্যই সন্তানদেরই মালিক বানাবেন তাইনা। গড ফাদার হেভেন রচনা করেন তাহলে আমরা সবাই হেভেনে কেন বাস করি না। সবাই যদি হেভেনে থাকবে তো হেল তো হবেই না। এ'হল হার জিত, সুখ দুঃখের খেলা। নতুন দুনিয়া পরে পুরানো দুনিয়া হয়। নতুন কে বানায়, পুরানো কে বানায়, এই সৃষ্টি চক্র কীভাবে আবর্তিত হয়, এই নলেজ বুদ্ধিতে থাকে। সত্যযুগ ত্রেতায় সূর্যবংশী, চন্দ্রবংশী, পরে দ্বাপরে অন্য অন্য ধর্ম ইমার্জ হয়, যা যেরকম ভাবে কল্প পূর্বে হয়েছিল, তেমনভাবেই পুনরায় রিপিট হবে।

 

তোমরা বাচ্চারা জানো এখন আবার সত্যযুগ স্টার্ট হতে চলেছে । পুরানো দুনিয়া শেষ হয়ে নতুন আসতে চলেছে । মানুষ মনে করে এই দুনিয়া আরও পুরানো হতেই থাকবে। অনেক সময় আছে। বাবা বলেন তোমরা ঘোর অন্ধকারের মধ্যে আছো, বিনাশ সামনে দাঁড়িয়ে আছে। আমি এসে গেছি - পতিত দুনিয়াকে পবিত্র করতে। আগে তো এখানে কেউ ছিল না। এখন ব্রহ্মার মুখ দ্বারা সন্তান জন্ম হয়েই চলেছে। প্রজাপিতা ব্রহ্মার নিশ্চয়ই অনেক সন্তান থাকবে। যারা বসে পড়াশোনা করে, তাদেরকেই পুনরায় দেবতা হতে হবে। যারা বাবার কাছে প্রতিজ্ঞা করে, পবিত্র হয় এবং স্ব দর্শন চক্রধারী হয় - তারাই রাজ্য ভাগ্য নেবে। সবাই তো প্রাপ্ত করবে না। বাকিরা সবাই নিজের নিজের হিসেবপত্র পরিশোধ করে ফিরে যাবে। বাবা দেবতা ধর্মের পুনরায় স্থাপনা করছেন অন্য সব ধর্ম গুলি বিনাশ হবে। মহাভারী লড়াইও সামনে রয়েছে। এই হিস্ট্রি-জিওগ্রাফির রহস্য গীতার ভগবান বসে বোঝাচ্ছেন। ভগবানের মহিমা আলাদা, শ্রীকৃষ্ণের মহিমা আলাদা। শ্রীকৃষ্ণকে মনুষ্য সৃষ্টির বীজ রূপ, ওয়ার্ল্ড অলমাইটি অথরিটি বলা হবে না। ওয়ার্ল্ড অলমাইটি অথরিটি হলেন একজন ই। সূর্যবংশীদের মহিমা হল আলাদা। চন্দ্রবংশীদের মহিমা আলাদা। বৈশ্য ও শূদ্রবংশীদের মহিমা আলাদা। প্রত্যেকের নিজস্ব মহিমা আছে। চীফ মিনিস্টার হলেন চীফ মিনিস্টার, গভর্নর হলেন গভর্নর। সবাই একরকম তো হতে পারে না। এই সব কথা গুলি বুঝতে হবে। মানুষ তো জানেনা তোমরা ভারতকে স্বর্গ বানাও। তোমরা নিজেদের জন্য রাজ্য স্থাপন করছো গুপ্ত রীতিতে এবং নন ভায়োলেন্সের দ্বারা। না কাম কাটারীর হিংসা, না হাত পা চালানোর হিংসা, না গুলি চালানোর হিংসা। কোনও হাতিয়ার তোমাদেরকে তুলতে হয় না। তোমরা ব্রাহ্মণরা জানো আমরা বাবার সাহায্যে কল্প পূর্বের মতন ভারতকে পুনরায় হীরে তুল্য বানাচ্ছি। এই হল রূহানী সেবা অর্থাৎ আত্মাদের সেবা। আমরা বাবার শ্রীমতের দ্বারা শ্রেষ্ঠ হয়ে উঠছি। বাকিরা সবাই মনুষ্য মতের দ্বারা ভ্রষ্ট ই হয়ে যায়। নীচে অবশ্যই নামতে হবে। ভক্তিও প্রথমে অব্যভিচারী হয়। ভেরি গুড ভক্তি। কেবলমাত্র একের পূজা হত তারপরে সেকেন্ড গ্রেডে দেবতাদের পূজা করেছে, তারপরে তো কুকুর বিড়াল পাথর মাটি ইত্যাদি ৫ ভূতেরও ভক্তি করতে লেগেছে। তাকেই বলে ব্যভিচারী ভক্তি। অব্যভিচারী থেকে ব্যভিচারী হয়ে যায়। এখন বাবা তোমাদের অব্যভিচারী যোগ শেখাচ্ছেন। গৃহস্থে থেকে, খাওয়া দাওয়া করতে করতেও এক বাবাকে আর অবিনাশী উত্তরাধিকারকে স্মরণ করতে হবে। সম্পূর্ণ পরিশ্রম এতেই। ভালাই নিজের ঘরে যাও, এসো, শুধু গুপ্ত রীতি অনুযায়ী বুদ্ধি দ্বারা স্মরণ করো। মুখে রাম-রাম অথবা শিবায় নমঃ বলারও দরকার নেই। শুধু পিতাকে স্মরণ করো। বাবা হলেন গুপ্ত, জ্ঞানের সাগর। এই সমগ্র সৃষ্টির জ্ঞান আছে ওঁনার। তাঁকে বলা হয় পরম আত্মা। ইনিও আত্মা, ব্রহ্মাবাবাও শিববাবার কাছে জ্ঞান প্রাপ্ত করেন। এই সব কথা গুলি ধারণ করা এবং করানো উচিত। তারা দীনহীন পথ খুঁজছে, জানে না। তোমরা জানো শান্তিধাম হল নির্বাণধাম। যেখান থেকে আমরা আত্মারা আসি। স্বর্গ হল সুখধাম, নরক হল দুঃখধাম, মায়াপুরী। ওই স্বর্গ হল বিষ্ণুপুরী এবং এই নরক হল রাবণ পুরী। বাবা বলেন তোমরা কেবল বাবাকে আর বর্সাকে স্মরণ করো। ব্যস্। যদি মাঝখানে বুদ্ধি অন্যত্র গমন করে তবে তাকে সরিয়ে আনো। খাওয়া দাওয়া করতূ করতে, চলতে ফিরতে এক বাবাকে স্মরণ করো, খুব সহজ। যদি কেউ বিদেশে থাকে এবং তার স্ত্রী থাকে ভারতে তবুও দূরে থাকা সত্ত্বেও স্মরণ তো বুদ্ধিতে থাকবে তাইনা। আমরাও অনেক দূরে আছি কিন্তু বুদ্ধি দ্বারা বাবাকে স্মরণ করতে হবে যাঁর কাছ থেকে সর্ব সুখ প্রাপ্ত হয়, অন্য সবার কাছে তো দুঃখই মেলে। মানুষ, মানুষকে কখনও সদা সুখ প্রদান করতে পারে না। বাবা বলেন জিনের মতন স্মরণ করতে থাকো। শুধু বাবাকে এবং অবিনাশী উত্তরাধিকারকে স্মরণ করো, আমার এই সেবা করো। আমি তোমাদের সেবা করি - স্মরণ করানোর। তোমরা স্মরণ করার সেবা করো। এই পরামর্শ স্বীকার করো। এ'হল তোমাদের সাহায্য। নর সাহস রাখলে ভগবান সাহায্য করেন (হিম্মতে মর্দা মদদে খুদা)। এই স্মরণই তোমাদেরকে স্বর্গের মালিক বানাবে। খুব সস্তা সওদা। জাগতিক গুরু তো অনেক বিভ্রান্ত করে। একমাত্র সদগুরু যখন আসেন তখন অন্য কোনও গুরু করার দরকার থাকে না। গুরুর আশা মিটে যায়। সকলেই সদগতি প্রাপ্ত করে। এক সদ্গুরুর আগমনে অনেক গুরুর শরণে যাওয়ার নিয়ম রীতি অর্ধেক কল্পের জন্য দূর হয়ে যায়। পরে ভক্তিমার্গে সেসব নিয়ম রীতি প্রচলিত হয়। সত্যযুগে গুরু থাকে না। সেখানে অকালে মৃত্যু কখনো হয় না। হেলথ, ওয়েলথ, হ্যাপিনেস ২১ জন্মের জন্য প্রাপ্ত হয়। এমন প্রাপ্তি আর কেউ করাতে পারে না। তোমরা বাবার কাছেই হেলথ, ওয়েলথ এবং হ্যাপিনেস প্রাপ্ত কর। বাকিরা সবাই নির্বাণধামে চলে যায়। আচ্ছা!

 

মিষ্টি - মিষ্টি হারানিধি স্বদর্শন চক্রধারী বাচ্চাদের প্রতি মাতা - পিতা, বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত । আত্মাদের পিতা ওঁনার আত্মারূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার ।

 

*ধারণার জন্যে মুখ্য সারঃ-*

 

১ ) শ্রীমৎ অনুসারে ভারতকে হীরে তুল্য বানানোর রূহানী সেবা করতে হবে। গুপ্ত ভাবে বাবাকে স্মরণ করে শ্রেষ্ঠ হতে হবে।

 

২ ) নিজের সঙ্গে কথা বলতে হবে, আত্মিক বার্তালাপ (রূহরিহান) করতে হবে বাবা তুমি যে এত সুখ দিয়েছো তা অন্য কেউ দিতে পারে না। বাবা তোমার পড়াশোনার দ্বারা আমরা বিশ্বের মালিক হই। তুমি নতুন সৃষ্টি রচনা করো যার অধিকারী আমরা হই।

 

*বরদানঃ-*   ভ্রুকুটির কুটিরে বসে অন্তর্মুখী স্থিতির রসাস্বাদনকারী সত্য তপস্বীমূর্তি ভব

যে বাচ্চারা নিজের বোল কন্ট্রোল করে এনার্জি এবং সময় জমা করে নেয়, তাদের স্বতঃতই অন্তর্মুখী স্থিতি অনুভব হয়। অন্তর্মুখীতার রস এবং কথাবার্তার রস - এতে রাত দিনের প্রভেদ রয়েছে। অন্তর্মুখী সদা ভ্রূকুটির কুটিরে তপস্বী মূর্তির অনুভব করে। তারা ব্যর্থ সঙ্কল্প থেকে মনের মৌনতা এবং ব্যর্থ বোল থেকে মুখের মৌনতা ধারণ করে রাখে, তাই অন্তর্মুখীতার রসের অলৌকিক অনুভূতি হয়।

*স্লোগানঃ-*   সব রহস্য জেনে (রাজযুক্ত হয়ে) প্রতিটি পরিস্থিতিতে রাজী থাকে যে, সে-ই হলো জ্ঞানী (তু) আত্মা।

No comments:

https://bkrajyogpathshala.blogspot.com/

01-04-2026 Bengali Murli

 মিষ্টি বাচ্চারা - বাচ্চারা, বাবা যা, বাবা ঠিক যেমন, তোমরা বাচ্চারাও তাঁকে নম্বর ক্রমানুসারেই চিনেছো, যদি সকলেই তাঁকে চিনে গেলে তবে তো অত্যন...