“মিষ্টি বাচ্চারা
- দেহী-অভিমানী হও, তাহলে পুরানো জগৎ
থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করা আর নতুন জগতের সাথে সম্পর্ক জুড়বার কুশলতা এসে যাবে,
এক বাবার সাথে লভ্ জুড়ে
যাবে”
প্রশ্নঃ - কোন্ বাচ্চাদের বুদ্ধিযোগ পারলৌকিক মাতা-পিতার
সাথে সর্বদা জুড়ে থাকতে পারে?
উত্তরঃ - যে জীবিত থেকেও মরে গিয়ে ঈশ্বরীয় সার্ভিসে
তৎপর থাকে। ঘর-গৃহস্থে থেকেও সকলের বুদ্ধির যোগ বাবার সাথে জোড়ার সেবা করে,
বাবার থেকে যে আলোক
প্রাপ্ত হয়েছে তা অন্যদেরকে প্রদান করে, স্বর্গের মালিক বানানোর জন্য পবিত্র থাকার যুক্তি বলে দেয় - তার বুদ্ধিযোগ
স্বতঃতই বাবার সাথে জুড়ে থাকে।
গীতঃ- কে আমাদের পিতা, কে আমাদের মাতা...
ওম্ শান্তি । এই
গীতের অর্থ কী? বলে যে - জগতের
(লৌকিক) মাতা-পিতাকে, মিত্র
সম্বন্ধীদেরকে ত্যাগ করো আর বুদ্ধির যোগ নিজের সত্যিকারের মাতা-পিতা, যিনি সৃষ্টির রচয়িতা, তার সাথে যুক্ত করো। এখানকার যে মাতা, পিতা, আত্মীয় পরিজন ইত্যাদি আছে, এদের সাথে এখন
সম্বন্ধ ছিন্ন করতে হবে আর এক বাবার সাথে সম্বন্ধ জুড়তে হবে। তাঁকেও মাতা-পিতা বলা
হয়। তুমি মাতা-পিতা আমি বালক তোমার... এইসব কথা এক বাবার উদ্দেশ্যেই বলা হয়,
লৌকিক বাবা-মা তো সকলের
আলাদা আলাদা হয়। ইনি হলেন সমগ্র ভারত তথা সমগ্র দুনিয়ার মাতা-পিতা। তো পারলৌকিক
মাতা-পিতার হওয়া আর লৌকিক মাতা-পিতা, আত্মীয় পরিজনদেরকে পরিত্যাগ করা - এর জন্য দেহী-অভিমানী হওয়ার জ্ঞান চাই।
যতক্ষণ দেহী-অভিমানী না হবে, ততক্ষণ এদেরকে
ভুলে যাওয়া কঠিন মনে হবে। এই পুরানো জগৎ থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে আর নতুন
জগতের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করতে হবে - এটাই হল বিশেষত্ব। লৌকিকের এক ঘরের সাথে
সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করে, অন্য এক ঘরের
সাথে সম্পর্ক স্থাপন করা তো খুবই সহজ। প্রত্যেক জন্মেই সম্পর্ক ত্যাগ করে নতুন করে
জুড়তে হয়। এক মাতা-পিতা, আত্মীয়
পরিজনদেরকে ত্যাগ করে অন্য এক মাতা-পিতা, আত্মীয় পরিজনদের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করা। এক শরীর ত্যাগ করলেই নতুন করে
মাতা-পিতা, আত্মীয় পরিজন,
গুরু ইত্যাদি প্রাপ্ত হয়।
আর এখানে তো হল জীবিত থেকেও মরে যাওয়ার বিষয়। জীবিত থেকেও পারলৌকিক মাতা-পিতার
ক্রোড়ে আসতে হবে। এই কলিযুগী জগতের মাতা-পিতা ইত্যাদি সবাইকে ভুলতে হবে। ইনি তো
হলেন বাবা, তাহলে ইনি মাতা
কি করে হবেন? এটা হলো গুপ্ত
রহস্য। বাবা এই শরীর ধারণ করেন, তারপর এনার
দ্বারাই নিজের বাচ্চা রচনা করেন। কিন্তু কিছু বাচ্চারা এই কথাটি প্রায়শঃই ভুলে
যায়। অজ্ঞান কালে (যতদিন জ্ঞান পায়নি) কখনও (শরীরের) বাবা-মাকে ভুলত না। এই বাবা
মাকে ভুলে যায়, কারণ এটা হল নতুন
কথা। এই মাতা-পিতার সাথে বুদ্ধির যোগ জুড়তে হবে তারপর সেবাতে তৎপর থাকতে হবে।
যেরকম বাবার চিন্তা থাকে কীভাবে সেবা করা যায়, সেইরকম বাচ্চাদের মধ্যেও এই চিন্তা থাকতে হবে।
বলে যে - ভগবানের ইচ্ছে হল নতুন দুনিয়া রচনা করবেন। তো এটা কত বড় চিন্তা! অসীম
জগতের বাবার অসীম জগতের চিন্তা থাকে - সবাইকে পবিত্র বানাতে হবে। ওই পবিত্র দুনিয়া
স্বর্গের জন্য রাজযোগ শেখাতে হবে। কতজনকে শেখাতে হবে! সকলের বুদ্ধির যোগ এক বাবার
সাথে জুড়তে হবে। এই ধান্দা হল আমাদেরও। বাবা বলছেন - বাচ্চারা, তোমরা ঘর-গৃহস্থে থেকে সেবা করে দেখাও।
সন্ন্যাসীদের
চিন্তা থাকে যে আমরা কাউকে কাক-বিষ্ঠা সম সুখভোগ করা থেকে কীভাবে মুক্ত করবো,
পবিত্র বানাবো। তাদেরও
রেসপন্সিবিলিটি থাকে - কারোর মধ্যে বৈরাগ্য এনে পবিত্র বানানো। তারা মনে করে যে
এরজন্য ঘর-বাড়ি ত্যাগ করতে হবে। এটা বুঝতে পারে না যে পতিত দুনিয়াকে ত্যাগ করতে
হবে। এটা তো যখন বাবা এসে পবিত্র দুনিয়ার সাক্ষাৎকার করান, তখন আমরা পতিত দুনিয়ার থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করি।
তথাপি এটা নিজেদের দায়িত্ব মনে করে ঘর-বাড়ি ত্যাগ করে কতো মানুষের মধ্যে বৈরাগ্য
এনে দিয়ে পবিত্র বানিয়েছে। মহিমা তো তাদেরও গাওয়া হয়। এই সন্ন্যাস ধর্ম যদি না
থাকতো তাহলে ভারত আরোই কাম-চিতাতে প্রজ্বলিত হয়ে ভস্ম হয়ে যেত। এখন সেই রজোগুণী
সন্ন্যাস কে স্থাপন করে আর এই সতোপ্রধান সন্ন্যাস কে স্থাপন করেন - এটা বাবা বসে
বোঝাচ্ছেন। তাদের মধ্যে মুখ্য ছিলেন শংকরাচার্য, তারও অনেক অনুগামী থাকবে! লক্ষ কোটির সংখ্যায়
হবে। তারা পবিত্র না থাকলে তো তাদের প্রজাও এত বৃদ্ধি হত না। তো এই সন্ন্যাসীরাও
ভালো কাজই করেছে। প্রথম নম্বরে দেবতাদের স্থান, দ্বিতীয় নম্বরে সন্ন্যাসী। সবকিছুই নির্ভর করছে
পবিত্রতার উপরে। সমগ্র জগতকে অপবিত্র থেকে পবিত্র আর পবিত্র থেকে অপবিত্র হতেই
হবে। সত্যযুগ থেকে শুরু করে যাকিছু ড্রামাতে অতীত হয়ে গেছে, সেইসব পূর্ব নির্ধারিত ছিল। ভক্তিমার্গে
সাক্ষাৎকার ইত্যাদি প্রতি সেকেন্ডে যাকিছু হয়, সেইসব অবিকল পরের কল্পেও হবে। ড্রামাতে এইসব
পূর্ব নির্ধারিত আছে। ড্রামার চক্রকে বুঝতে হবে। এটা বুঝে বসে থাকবে না যে
ড্রামাতে যা আছে তাই হবে। ড্রামাতে অ্যাক্টর্স তো সবাই। তবুও প্রত্যেকে নিজেদের
জীবিকা নির্বাহের জন্য পুরুষার্থ অবশ্যই করে। পুরুষার্থ ছাড়া থাকতে পারে না। যদিও
কিছু মানুষ বুঝতে পারে যে, এই সবকিছুই হল
নাটক, আমরা পরমধাম থেকে এসেছি
ভূমিকা পালন করতে। কিন্তু বিস্তারিত ভাবে বোঝাতে পারবেনা। প্রথমে কোন্ ধর্ম আসে,
সৃষ্টি কিভাবে রচিত হয়,
জানে না। সৃষ্টি নতুন করে
রচনা করা হয় নাকি পুরানো সৃষ্টিকে বাবা এসে নতুন বানান - এটা না জানার কারণে তারা
প্রলয় দেখিয়ে তারপর নতুন সৃষ্টি দেখিয়ে দিয়েছে। বাবা এসে এসব কথার জ্ঞানযুক্ত
রহস্য বুঝিয়ে বলে দেন। তারপর সেই জ্ঞান অন্যদেরকে বোঝানোর দায়িত্ব তোমাদের উপরেই
থাকে। কতো সেবা আছে! যেরকম বাবা তোমাদেরকে মুক্তি-জীবন্মুক্তিতে আসার মার্গ বলে
দিয়েছেন, যে মার্গের জন্য
অর্ধেক কল্প ভক্তি মার্গে ধাক্কা খেয়েছো। তো অসীম জগতের বাবার এই চিন্তা থাকে যে
আমরা আমাদের স্যালভেশন আর্মির বৃদ্ধি কীভাবে করবো? সবাইকে রাস্তা কীভাবে বলবো?
বাচ্চারা তোমরা
সবাইকে বলো যে কল্প পূর্বের মতো বাবা এসে গেছেন সবাইকে রাজযোগ শেখাতে। যাকে শিবায়
নমঃ বলে থাকো। যিনি সবথেকে উঁচু পরমধামে থাকেন। আমরা সকল আত্মারাও সেখানকার
নিবাসী। আত্মা হল অবিনাশী। আত্মা কখনও আগুনে জ্বলে না বা মারা যায় না। প্রত্যেক
আত্মার মধ্যে পার্ট নিহিত আছে। নিজের আত্মাকে দেখো বা যিনি মুখ্য, তাকে দেখো। বৃক্ষকে যখন দেখা হয়, তখন মুখ্য ফাউন্ডেশন আর শাখা-প্রশাখাগুলিকেও
দেখা হয়। পাতা তো অনেক হয়, গণনা করা যায় না।
শাখা প্রশাখার সংখ্যা গণনা করা যায়। তো অবশ্যই এই বৃক্ষের ফাউন্ডেশন হলাম আমরা
দেবী-দেবতারা। এখন ফাউন্ডেশন-ই নষ্ট হয়ে গেছে। যেরকম বোটানিক্যাল গার্ডেনের বট
গাছের ফাউন্ডেশন নষ্ট হয়ে গেছে। তথাপি শাখা-প্রশাখা কত বেরিয়েছে! শাখা থেকে পাতা
বেরিয়েছে। তো এটাও হল অসীম জগতের কত বড় বৃক্ষ ! বাচ্চারা তোমরা নম্বরের ক্রমে
পুরুষার্থ অনুসারে তা জানো। এমন নয় যে সারাদিন কারো বুদ্ধিতে এই চিন্তন চলতে
থাকবে। জ্ঞানের সব পয়েন্টস্ এক সাথে বুদ্ধিতে চিন্তন করা সম্ভব নয়। তথাপি যে বিচার
সাগর মন্থন করে তার বুদ্ধিতে চিন্তন চলতেই থাকবে। বুদ্ধিতে কল্পবৃক্ষ থাকলে তো
বীজরূপ বাবাও স্মরণে থাকবে। আমরাও হলাম সেখানকার নিবাসী, তথাপি এই বৃক্ষে আমরাই অলরাউন্ডার ভূমিকা পালন
করি, আদি থেকে অন্ত পর্যন্ত।
যখন তোমরা পতিত জরাজীর্ণ অবস্থাতে আসো তখন সমগ্র বৃক্ষও এসে যায়। প্রথম দিকে যারা
এসেছিল, তারা এখন পুরানো হয়ে
গেছে। পরবর্তী কালে আগত শাখা প্রশাখাও পুরানো হয়ে গেছে। যারা সেবাধারী, তাদের এই নেশা থাকে যে সাধারণ মানুষকে পুনরায়
দেবতা বানানোর জন্য আমি হলাম বাবার সহায়ক। এটা বোঝাতে হবে। তোমরাই দেবতা ছিলে,
তারপর ক্ষত্রিয় হয়েছিলে।
৮৪ জন্মের জন্মপত্রিকা তোমরাই বলতে পারো। তো এসব কথা যখন বুদ্ধিতে আসতে থাকবে,
তখন কাউকে বোঝাতে পারবে।
চিন্তন চালিয়ে যেতে হবে - আমরা বাচ্চারা বাবার সাথে সহায়ক হয়েছি। তো বুদ্ধিতে আনতে
হবে যে আমরা কাউকে ড্রামার রহস্য কীভাবে বোঝাবো? তাদের বুদ্ধির যোগ বাবার সাথে কীভাবে যুক্ত
করবো? মানুষ থেকে দেবতা বানানোর
পুরুষার্থ করাবো অর্থাৎ বাবার থেকে অসীম জগতের উত্তরাধিকার নেওয়ার পথ বলে দেবো। যে
বাবার দ্বারা এই পথ খুঁজে পেয়েছে, সে-ই বোঝাতে
পারবে। বাবা-ই এসে রাজযোগ শেখাচ্ছেন অথবা মুক্তি-জীবন্মুক্তির গেট খুলছেন। এইরকম
সারাদিন বিচার সাগর মন্থন করতে হবে আর স্বভাবও অত্যন্ত মিষ্টি হতে হবে। কারোর
ভাব-স্বভাবে জ্বলবে না মরবেও না। সহ্য করতে হবে। নিজের সেবা করতে হবে। যতটা সম্ভব
সেবায় সময় দিতে হবে। নিজেকে জিজ্ঞেস করতে হবে - আমি তো বাবা-বাবা বলি, বাবার তো অসীম জগতের সেবা করার নেশা থাকে,
আমি বাবার বাচ্চা হয়ে কি
করছি? আমাকে কতটা সেবা করতে হবে?
সময় তো অনেক পাওয়া যায়।
সকলের প্রতি করুণা করতে হবে। বেচারা সবাই বাবার থেকে দূরে চলে গেছে। ভক্তি মার্গে
ধাক্কা খেয়েছে। পাপ করেছে। বাবার থেকে বিমুখ হয়ে সকলকে বিষাদগ্রস্ত করেছে।
তোমাদের
ব্রাহ্মণদের কাজই হল সবাইকে জ্ঞান শুনিয়ে সম্মুখে নিয়ে আসা। তোমরা ব্রাহ্মণেরাই
হলে ভগবানের সত্যিকারের সন্তান। তোমাদের কাছে অথোরিটি আছে। তোমাদের বুদ্ধিতে
গীতারই জ্ঞান আছে। যে বোঝাতে পারে না, তাদেরকে আমি ব্রাহ্মণই বলতে পারবো না। হাফ কাস্ট বা কোয়াটার কাস্ট বলা হবে।
নাম হলো ব্রাহ্মণ, ধান্দা শূদ্রদের
মতো। বুদ্ধিই হল শূদ্রদের মতো। আজমীরে পূষ্করনী ব্রাহ্মণ থাকে, তারা গীতা শাস্ত্র ইত্যাদি শোনায়। তাদের
ধান্দাই হল এটা। কারোর বাড়িতে যাওয়া এবং সেখানে খাবার খাওয়া, এটা তাদের কাজ নয়। তাদের শুধু কাজ হলো শাস্ত্র
শুনিয়ে দক্ষিণা নেওয়া। এখন তোমরা তো হলে সত্যিকারের ব্রাহ্মণ, অসীম জগতের বাবার সন্তান। প্রজাপিতা ব্রহ্মা
হলেন অসীম জগতের প্রজার বাবা তাই না! আর শিব বাবা হলেন সকল আত্মার বাবা। তাঁর
নিবাস স্থান হলো পরমধাম। তিনিই পতিতদেরকে পবিত্র বানান, এইজন্য সমগ্র দুনিয়ার মানুষ তাঁকে স্মরণ করে,
ও গড্! বলে ডাকে তখন
নিরাকারই বুদ্ধিতে আসে। কিন্তু সাধারণ মানুষ গুরুদের শৃঙ্খলে আবদ্ধ হয়ে গেছে। যে
দেবতাদের পূজা করে, তাদের অক্যুপেশন
সম্বন্ধে কিছুই জানে না। তারাও এক প্রকার পুতুল পূজা করে। অক্যুপেশন জানে না,
এই জন্য পুতুল পূজা বলা
যেতে পারে। তো কতোইনা পার্থক্য আছে! অসংখ্য মানুষ বিমর্ষ হয়ে গেছে। দেবতাদের
চেহারা আর চরিত্র, মানুষের চেহারা
আর চরিত্রের মধ্যে দিন-রাতের পার্থক্য আছে। সাধারণ মানুষ গাইতে থাকে - তুমি
সর্বগুণ সম্পন্ন... আমি হলাম নীচ পাপী। যদি এইরকম বলে তাহলে তাদেরকে এইরকম কে
বানিয়েছে? এখন তো অবশ্যই
নরক তাহলে পুনরায় স্বর্গের মালিক কি আমরা হতে পারবো? এইরকম চিন্তা কখনও মানুষের বু্দ্ধিতে আসে না।
বাচ্চারা তোমাদের বুদ্ধিতে এইরকম চিন্তা কখনও এসেছিল কি, যে আমরা এইরকম কবে হবো? কেবল ভক্তি করতে। এখন তোমরা জেনে গেছো যে
আমাদেরকে সেই দেবতা হতে হবে। রাজধানীতে উঁচু পদ পেতে হবে এইজন্য পুরুষার্থ করতে
থাকে। মনে মনে চিন্তা করতে হবে যে যদি আমি শরীর ত্যাগ করি তাহলে আমি কোন্ পদ
প্রাপ্ত করবো? তোমরা জিজ্ঞেসও
করতে পারো - যদি আমি মারা যাই তাহলে কোন্ পদ পাবো? তখন বাবা বলে দেবেন যে তুমি একপয়সার পদ পাবে
নাকি ৮ আনার, ১২ আনার নাকি কড়ি
তুল্য পদ পাবে। প্রজাকে কড়িতুল্য পদ বলা হবে। বুদ্ধিরূপী দর্পণে নিজের মুখ দেখো -
কোনও বাঁদরের মতো আচরণ তো নেই? অশুদ্ধ অহংকার
হলো নম্বর ওয়ান। কাম ক্রোধকে জয় করে নেয় কিন্তু দেহ অভিমান হলো প্রথম নম্বর শত্রু।
দেহী-অভিমানী হলেই অন্যান্য সকল বিকার ঠান্ডা হয়ে যাবে। দেহী-অভিমানী তখন হতে
পারবে, যখন বাবার সাথে লভ্ জুড়ে
যাবে। দেহ-অভিমানীরা বাবার সাথে লভ্ জুড়তে পারবে না। তাই দেহ-অভিমান ত্যাগ করার
জন্য অনেক পরিশ্রম চাই। দেহী-অভিমানী ব্যক্তি অত্যন্ত প্রফুল্লিত থাকে।
দেহ-অভিমানীর চেহারা মৃতব্যক্তির মতো থাকে। তো প্রথম মুখ্য কথা হল দেহী-অভিমানী
হওয়া, তখন বাবাও সাহায্য করবেন।
নির্বিকারী তো অনেকেই থাকে কিন্তু আমি হলাম আত্মা, বুদ্ধিতে বাবার স্মরণ থাকবে - এ'কথা বারে বারে ভুলে যায়। এতে ফেল হয়ে যায়।
অশরীরী না হলে বাড়ি কীভাবে ফিরে যাবে? সেবার জন্য অনেক চিন্তা করতে হবে - যার দ্বারা অনেক মানুষের কল্যাণ হবে,
দেহ-অভিমানী যেখানেই যাবে,
ফেল হয়ে আসবে। দেহী-অভিমানী
কিছু না কিছু তীর লাগিয়েই আসবে। তারা অনুভব করবে যে অমুক ব্যক্তি কথাটা তো ঠিক
বলেছিল। যোগ যুক্ত হবে, সেবার চিন্তাও
থাকবে। তাদেরকে তো সবার আগে অল্ফ অর্থাৎ আল্লাহ্-র বিষয়ে বোঝাতে হবে। বেশী বোঝালে
বিরক্ত হয়ে যাবে। প্রথমে শিবায় নমঃ, তিন লোকও বোঝাতে হবে। এক নিরাকারী দুনিয়া, যেখানে পরমপিতা পরমাত্মা আর আত্মারা থাকে,
বাদবাকি হলো স্থুল আর
সূক্ষ্ম বতন। স্বর্গে লক্ষ্মী-নারায়ণের রাজ্য ছিল, এখন নেই। পুনরায় হিস্ট্রী রিপিট হবে। আগে
কলিযুগ ছিল, তারপর সত্যযুগ
হয়েছে এখন পুনরায় কলিযুগের হিস্ট্রী রিপিট হচ্ছে। তো এখন পুনরায় সত্যযুগের
হিস্ট্রীও রিপিট হবে তাই না। এতেই মজা আছে। এগুলি হলো খুব ভালো ভালো পয়েন্ট।
আচ্ছা!
ব্রাহ্মণ কুল
ভূষণ সকল বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত।
আত্মাদের পিতা ওঁনার আত্মা রূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।
বরদানঃ- সর্ব সম্বন্ধ একমাত্র বাবার সাথে জুড়ে মায়াকে বিদায় দিয়ে সহজযোগী ভব |
যেখানে সম্বন্ধ
থাকে, সেখানে স্মরণ করা স্বতঃতই
সহজ হয়ে যায়। সর্ব সম্বন্ধ এক বাবার সাথে রাখাই হল সহজযোগী হওয়া। সহজযোগী হলে
মায়াকে সহজেই বিদায় দিতে পারবে। যখন মায়া বিদায় নেয়, তখন বাবার দেওয়া অভিনন্দন বাচ্চাদেরকে অনেক
উন্নতির দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়। যে আত্মা প্রত্যেক কদমে পরমাত্ম আশীর্বাদ, ব্রাহ্মণ পরিবাবের আশীর্বাদ প্রাপ্ত করতে থাকে,
সে সহজেই উড়তে থাকে।
স্লোগানঃ-সদা ব্যস্ত থাকা বিজনেসম্যান হও, তাহলে কদমে কদমে পদম গুণ উপার্জন রয়েছে ।
No comments:
Post a Comment