03.03.2023 BANGLA MURLI
“মিষ্টি বাচ্চারা
- যখন স্বচ্ছ গাছের উপর ৫ বিকারের নোংরা লাগে তখন ভ্রষ্টাচার বৃদ্ধি হতে থাকে,
এখন তোমাদেরকে
শ্রেষ্ঠাচারী হতে হবে এবং অন্যদেরকে বানাতেও হবে”
প্রশ্নঃ - শ্রেষ্ঠ হওয়ার জন্য শ্রী শ্রী শিব বাবার কোন্
শ্রেষ্ঠ মত প্রাপ্ত হয়?
উত্তরঃ -শ্রেষ্ঠ
হওয়ার জন্য বাবার শ্রেষ্ঠ মত প্রাপ্ত হয় - বাচ্চারা, কমপক্ষে ৮ ঘন্টা আমার সার্ভিসে থাকো, ৮ ঘন্টা লৌকিক গভর্ন্মেন্টের সার্ভিস করতে হলে
করো, কিন্তু ৮ ঘন্টা আমাকে স্মরণ
করো বা স্বদর্শন চক্র ঘোরাও। সাথে সাথে শঙ্খ ধ্বনি করো, সবাইকে বলো যে ঘর-গৃহস্থে থেকে কমল ফুলের মতো
থেকে বাবার থেকে উত্তরাধিকার গ্রহণ করো।
গীতঃ- কে এই সব খেলা রচনা করেছে...
ওম্ শান্তি ।
মিষ্টি-মিষ্টি বাচ্চারা এই গীত শুনলো। বাচ্চারা প্রথম দিকে অত্যন্ত সত্যযুগের সুখ
ভোগ করেছিল, অত্যন্ত আনন্দে
ছিল। সেই সময় খুশী আর খুশী ছিল। তখন কেবলমাত্র ভারতই ছিল, আর অন্য কোনো খণ্ড ছিল না। ভারতবাসী যথা
রাজা-রাণী তথা প্রজা - সবাই খুব আনন্দে ছিল, খুশীতে ছিল। কখনো কোনো
ভ্রষ্টাচার হতো না। সত্যযুগে দেবী-দেবতারা শ্রেষ্ঠাচারী ছিলেন, দ্বাপর থেকে তাঁদেরই মহিমা গাওয়া হয়ে থাকে!
মহিমা যথা রাজা-রাণী তথা প্রজা - সকলেরই গাওয়া হয়। পুনরায় মায়া এসে আক্রমণ করে।
এটাও ড্রামাতে পূর্ব নির্ধারিত আছে, যাকে খুব ভালোভাবে বুঝতে হবে। এটা বাবা ব্যতিত অন্য কেউ বোঝাতে পারে না।
বাবা-ই ভারত আর বিশ্বকে সদা সুখী, শান্তময় বানিয়ে,
সব কিছু করে নিজে গুপ্ত
হয়ে যান। এটা কার মহিমা? পরমপিতা
পরমাত্মার। ভারতে যখন স্বর্গ ছিল তখন দেবী-দেবতাদের রাজত্ব ছিল, সতোপ্রধান ছিল, দুঃখের নাম-নিশানা ছিলোনা। পুনরায় অর্ধেক কল্প
পর রাবণ রাজ্য শুরু হয়।সত্যযুগের দেবতাদের জন্য গাওয়া হয় - সম্পূর্ণ নির্বিকারী,
মর্যাদা পুরুষোত্তম।
সেখানে তো কখনো ভ্রষ্টাচার হতে পারে না। সেখানে তো সবাই শ্রেষ্ঠাচারী ছিল। যে গাছ
স্বচ্ছ ছিল, তার উপরে ৫
বিকারের ময়লা লেগে যাওয়ার কারনে ভ্রষ্টাচার হতে-হতে এখন সম্পূর্ণ ভ্রষ্টাচারী হয়ে
গেছে। রাজা-রাণী তথা প্রজা, যারা শ্রেষ্ঠাচারী
ছিল, তারা সবাই এখন
ভ্রষ্টাচারী হয়ে গেছে। গাইতেও থাকে, আমার নির্গুণ শরীরে কোনো গুণ নেই। তুমি দয়া করো, ও গড ফাদার, করুণা প্রার্থণা করে। দেবী-দেবতাদের সামনে গিয়ে
বলে, আমাকে এইরকম তৈরী করো।
ড্রামাকে তো তারা জানেনা যে পুনরায় এইরকম কবে হবে? তো তোমরা শ্রেষ্ঠাচারী ছিলে, ভ্রষ্ঠাচারের নাম ছিল না। এই সময় সকল মানুষ
ভ্রষ্ট হয়ে পড়েছে। যথা রাজা-রাণী তথা প্রজা, এখন ভ্রষ্টাচারী থেকে শ্রেষ্ঠাচারী কীভাবে হবে
- এটা কেউ জানে না। এটা হলোই পতিত দুনিয়া। ভ্রষ্টাচার হবেই। এখন বাবা বলছেন - যা
কিছু বুঝেছ সেটা অন্যদেরকেও বোঝাও।
বাবার মহিমা
গাইতে থাকে - নিজে সবকিছু করে নিজেকে গুপ্ত রাখেন। নিরাকার ভগবানকে অবশ্যই আসতে
হয়। শিব জয়ন্তী পালন করা হয় । তিনি কীভাবে আসেন - বাচ্চারা এখন তোমরা তা জানো।
শিব হলেন পতিত-পাবন, তাঁকে তখনই আসতে
হয়, যখন সমগ্র সৃষ্টি পতিত
হয়ে যায়, তাঁকে এসে পবিত্র
বানাতে হয়। দু-চার জনকে তো পবিত্র বানাবেন না, তাই না। যথা রাজা-রাণী তথা প্রজা পবিত্র ছিল
পুনরায় এখন যথা রাজা-রাণী তথা প্রজা পতিত হয়ে গেছে। এখন তো রাজা-রাণী নেই। সবাই
জানে যে একসময় রাজারা ছিল, এখন তাদের রাজত্ব
নেই। যখন ব্রিটিশ গভর্নমেন্ট ছিল তখন ধনী-জমিদারেরা তাদের ধন দিত। কেউ কেউ ২০-৩০
হাজার দিত তো উপাধি পেয়ে যেত। বাবার এই বিষয়ে অনুভব রয়েছে তাই না। শিব বাবাও
অনুভবী রথ নিয়েছেন তাই না। কোনো সাধারণ রথ থোড়াই নেবেন। বড়-বড় রাজাদের ঘোড়া
অত্যন্ত শ্রেষ্ঠ মানের হত। জন্তু-জানোয়ারদের মধ্যেও কিছু কিছু খুব ভালো হয়ে থাকে।
যেরকম কিছু উট খুব ভাল হয়, সেই সব উটের উপর
সওয়ারী হলে মনে হবে এরোপ্লেন চলছে। আবার এমনও কিছু হয় যাদের লাঠি দিয়ে আঘাত করতে
হয়। তো অবশ্যই এই ভারত ৫ হাজার বছর পূর্বে স্বর্গ ছিল। এটা তো সবাই জানে ।
খ্রীষ্টানরাও বলে যে যীশু খ্রিষ্টের থেকে ৩ হাজার বছর পূর্বে এই ভারত স্বর্গ ছিল।
তো অবশ্যই কল্প ৫ হাজার বছরেরই হয়ে গেল। নিজেরাই কল্পের আয়ু বলে আবার সত্যযুগকে
লক্ষ বছর বলে দিয়েছে। এইরকম পয়েন্টস বাবা বোঝাচ্ছেন, যেটা ধারণ করে অন্যদেরকেও বোঝাতে হবে, কিন্তু বাচ্চারা বোঝায় না।
বাচ্চারা,
এখন তোমরা জানো যে,
সেইসময় আমরা শ্রেষ্ঠাচারী
ছিলাম। যথা রাজা-রাণী তথা প্রজা সবাই শ্রেষ্ঠ ছিল। বাঘের গরুতে এক সাথে জল খেতো।
সেখানে কংস, জরাসন্ধ, হিরণ্যকশিপু ইত্যাদি কিছুই ছিল না। হিরণ্যকশিপু
ইত্যাদিদেরকে আর শ্রীকৃষ্ণকে দ্বাপরে দেখিয়ে দিয়েছে। রাবণকে ত্রেতাতে নিয়ে গেছে।
সব অসুরদের আলাদা আলাদা নাম দিয়েছে। কুম্ভকর্ণ ইত্যাদিও হল সব অসুরের নাম। এখন হল
আসুরিক সম্প্রদায় অর্থাৎ সবাই আসুরিক মতে চলে। এখন বাবা এসে শ্রীমত দিচ্ছেন,
যার দ্বারা তোমরা
ব্রাহ্মণ থেকে দেবতা হচ্ছ। পরমপিতা পরমাত্মা ব্রহ্মার মুখ কমল দ্বারা ব্রাহ্মণ,
দেবতা আর ক্ষত্রিয় ধর্মের
স্থাপনা করেন। দ্বিতীয় কোনও ধর্ম সেখানে থাকেনা। সত্যযুগ ত্রেতাতে তো অন্য কোনো
ধর্ম স্থাপন হয় না। দুটো যুগের বয়স তো একই - ১২৫০ বছর। সত্যযুগে দৈবী রাজ্য,
ত্রেতাতে ক্ষত্রিয় রাজ্য…
সুর্যবংশী আর চন্দ্রবংশী। এই সুর্যবংশী আর চন্দ্রবংশী রাজধানী কে স্থাপন করেছেন?
এইরকম বলবে কি -
চন্দ্রবংশী রাজধানী রাম স্থাপন করেছে? সুর্যবংশী রাজধানী লক্ষ্মী-নারায়ণ স্থাপন করেছে? না, এই দুই রাজধানী স্থাপন করেছেন পরমপিতা পরমাত্মা। স্বর্গের রচয়িতা হলেন বাবা।
সত্যযুগ ত্রেতার রাজত্ব রচনা করেছেন। গাওয়াও হয়ে থাকে পরমপিতা পরমাত্মা ব্রহ্মা
মুখের দ্বারা ব্রাহ্মণ, দেবতা আর
ক্ষত্রিয় ধর্ম রচনা করেছেন। বাবা বলছেন - এই যে জ্ঞান আমি তোমাদেরকে শোনাচ্ছি,
এটা পুনরায় প্রায়ঃলোপ হয়ে
যাবে। ইসলাম, বৌদ্ধ ইত্যাদিরা
যারা ধর্ম স্থাপন করে গেছে, তাদের নাম রূপ
দেশ কাল ইত্যাদি তো কেউ ভোলে না। তাদেরকে তো সবাই জানে তাই না। এই দেবতা ধর্ম আমি
কিভাবে স্থাপন করি - এই জ্ঞান সবাই ভুলে যাবে। দ্বাপরে আবার অনেক ধর্ম স্থাপন হয়ে
যায়। একই ইসলাম ধর্মে, বৌদ্ধ ধর্মে অনেক
আলাদা আলাদা দল হয়ে গেছে। তারা নিজেদের মধ্যেই লড়াই করতে থাকে! এখন তোমরা জানো যে
বাবা কিভাবে সবকিছু করে নিজে গুপ্ত হয়ে যান। স্বর্গে যে সমস্ত দেবী-দেবতারা ছিলেন,
তাদেরকেই মায়া আক্রমণ
করে। পুরোপুরি ভাবে গুণহীন হয়ে গেছে। গাইতেও থাকে - আমি নির্গুণ, আমার মধ্যে কোনও গুণ নেই, তবেই তো গুণবান দেবতাদের পূজা করে। বড় বড়
রাজাদের রাজমহলের অন্দরে মন্দির থাকতো। তারা পূজা করতো। এমন কোনো রাজা ছিল না
যাদের কাছে মন্দির ছিল না।
এখন বাচ্চারা
জেনে গেছে যে শিববাবার শ্রীমতে চলতে হবে। প্রতি কদমে শ্রীমৎ নিতে হবে, তবেই তোমরা দেবী-দেবতা হতে পারবে। কিন্তু
শ্রীমতেও অনেকে চলে না। বাবা বলছেন - কোনো কথাতে যদি বিভ্রান্ত হয়ে থাকো তাহলে
চিঠি লিখে জিজ্ঞাসা করতে পারো। বাবাকে স্মরণ করো। মায়া এমনই যে, স্বর্গের স্থাপন কর্তা পরমাত্মাকেই স্মরণ করতে
দেয় না। বাবা জানেন যে তুফান অনেক আসবে। কিন্তু চিঠি লিখে জিজ্ঞাসা করতে হবে যে এই
অবস্থাতে কি করবো? বাচ্চার বিবাহ
আছে - এই অবস্থাতে আমি কি করবো? কেউ মারা গেছে -
কি করবো? মত নিতে হবে।
শ্রেষ্ঠ হতে হলে শ্রীমতে চলতে হবে। শ্রীকৃষ্ণের মত তো হতে পারে না। শ্রীকৃষ্ণ পতিত
দুনিয়াতে কীভাবে আসতে পারে! শ্রীকৃষ্ণের আত্মা নিজে অন্তিম জন্মে রাজযোগ শিখছে।
কেবল শ্রীকৃষ্ণের আত্মাই আছে কি? যারা দেবী-দেবতা
পরিবারের ছিল তারাই ব্রাহ্মণ হয়েছে। প্রতি কদমে শ্রীমতে চলতে হবে। বাবা বলছেন যে
যতটা সম্ভব বাবাকে স্মরণ করতে থাকো। মাথার উপর তোমাদের পাপের বোঝা অনেক আছে। হয়তো
কোনো সরকারী চাকরি করছো তাহলে ৮ ঘন্টা সেই সরকারী চাকরী করো, বাদবাকি যে সময় থাকবে তখন বাবাকে স্মরণ করো।
কমপক্ষে ৮ ঘন্টা আমার সার্ভিস করো, বাবাকে স্মরণ করো,
স্বদর্শন চক্র ঘোরাও,
শঙ্খধ্বনি করো। কীসের?
সবাইকে বলো - গৃহস্থে
থেকে পদ্ম ফুলের মতো হয়ে বাবার থেকে উত্তরাধিকার গ্রহণ করো। বাবা স্বর্গ রচনা করেন
তো স্বর্গের উত্তরাধিকার তো প্রাপ্ত হওয়া চাই। ভারতই স্বর্গের মালিক হয়। এখন তো হল
নরকের মালিক। নরকে দুঃখ পেলে তখন বাবাকে স্মরণ করে কিন্তু জানেনা যে বাবা কি
প্রদান করেন! বাবার জন্য বলে দেয় - তিনি হলেন সর্বব্যাপী, নুড়ি-কাঁকড়ের মধ্যেও আছেন। বাবা বলছেন - তোমরা
কত ভুল করেছিলে। কিন্তু এটাও ড্রামাতে পূর্বনির্ধারিত আছে। এখন এর থেকে বেরিয়ে
এসো। এই ভক্তি ইত্যাদি করতে করতে তোমরা নগ্ন হয়ে গেছো। এখন ভক্তিও ব্যভিচারী হয়ে
গেছে। মৃত্যু সামনে দাঁড়িয়ে আছে, তাই শ্রীমতে চলতে
হবে। কিন্তু বাচ্চারা বাবাকে ভুলে যায়। মায়া রাবণের রাজ্য কীভাবে চলছে - এটাও কেউ
জানেনা। রাবণের কুশপুত্তলিকা দহন করতে থাকে। পরবর্তী কালে এইসব রেওয়াজ বেরিয়েছে।
রাবণকে দহন করতে থাকে কিন্তু প্রতি বছর রাবণের কুশপুত্তলিকা পরিমাপে বড় হতে থাকে।
আগে ১০ ফুটের বানাতো, তারপর ১৫ ফুটের
বানায়, তারপর ৫০ ফুটের… একদম
ছাদের সমান লম্বা বানায়। বৌদ্ধেরও অনেক বড় মূর্তি বানায়। এত বড় মানুষ তো হয় না,
অধিকতম ৬ ফুট মানুষ হয়।
লক্ষ্মী-নারায়ণও এইরকমই হবেন। এমন নয় যে সেখানে আয়ু বেশি হবে তো লম্বাতেও অনেক বড়
হয়ে যাবে। না, মানুষ, মানুষই থাকবে। যেরকম এখন দেখতে পাও, বিভিন্ন রকমের। কেউ কালো, কেউ অন্যরকম। ভারতে সুন্দর ছিল, এখন শ্যাম হয়ে গেছে। সুন্দর তৈরী করেন বাবা।
তিনি হলেন হাসিন (সব চেয়ে সুন্দর) মুসাফির, তিনি তোমাদের সাথে কথা বলছেন। তাঁকে ভুলে যেও
না। এনাকে (সাকারকে) যদি ভুলেও যাও কিন্তু সর্বদা মনে রাখবে বাবা আমাদেরকে অর্থাৎ
তাঁর সজনীদেরকে অতি সুন্দর পরী তৈরী করছেন। কথিত আছে - একটা সরোবর আছে, যেখানে ডুব দিলে মানুষ থেকে পরী হয়ে যায়। এখন
তোমরা বুঝে গেছো যে জ্ঞান সাগরের দ্বারা জ্ঞানের পরী হয়ে যাবে। এখন তো নরকের পরী
হয়ে আছে। যে যতই ফ্যাশন করুক, পাউডার ইত্যাদি
লাগাক তথাপি তো নরকেই আছে তাই না। যেকাউকেই জিজ্ঞাসা করো - এটা স্বর্গ না নরক?
বলে দেবে ধনীদের জন্য
স্বর্গ। স্বর্গ-নরককেও জানেনা। তাই শ্রীমতে চলতে হবে। তারা শ্রীমতকেই জানেনা,
যিনি এতো শ্রেষ্ঠ
বানিয়েছেন, তাঁর নাম-রূপ
গুপ্ত করে দিয়েছে। গাইতে থাকে - তুমি মাতা-পিতা, আমি বালক তোমার…। এখন মাতা কাকে বলা যায় - এটা
তোমরা জানো। অবশ্যই যার মধ্যে বাবা প্রবেশ করে রচনা রচিত করেন, তাকে মাতা বলা হয়। এখানে তোমরা জানো যে আমরা
হলাম প্রজাপিতা ব্রহ্মার মুখবংশাবলী। শিব বাবার নাতি-নাতনি। তো বাবারও নাম আছে।
মধ্যস্থ দালাল হিসেবে বাবাকে অবশ্যই চাই, তোমরা যারা নিজেদেরকে নাতি-নাতনি ভাবছো, তোমরা ঠাকুর্দার কাছ থেকে উত্তরাধিকার গ্রহণ
করো। তো ইনি হলেন দালাল, এনার থেকে
উত্তরাধিকার পাওয়া যাবে না। ইনিও শিব বাবার থেকে উত্তরাধিকার নিচ্ছেন। শিব বাবার
মতানুসারে চলতে হবে। ব্রহ্মার দ্বারা তোমাদের শিব বাবার সম্পত্তি, উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত হয়, কিন্তু বাবা বলছেন যে তোমরা এনাকেও ভুলে যাও।
শিব বাবার থেকে তোমাদের শ্রীমৎ নিতে হবে। শিব জয়ন্তী পালন করে কিন্তু কিছুই জানে
না। স্বর্গের রচয়িতা বাবার স্মরণিক গুপ্ত করে দিয়েছে। নরকের রচয়িতার স্মরণিক রেখে
দিয়েছে। দিন-প্রতিদিন ভ্রষ্টাচার বৃদ্ধি হতে থাকছে। কারো যদি ক্রোধ আসে তো বুঝতে
হবে যে আমার মধ্যে এই ভূত আছে, তখন আমরা
নিজেদেরকে শ্রেষ্ঠাচারী কিভাবে বলতে পারি। তোমাদেরকে শ্রেষ্ঠাচারী হওয়ার জন্য
পুরুষার্থ অবশ্যই করতে হবে। আচ্ছা!
মিষ্টি-মিষ্টি
হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত।
আত্মাদের পিতা ওঁনার আত্মা রূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।
*ধারণার জন্যে
মুখ্য সারঃ-*
১ ) বাবার স্মরণ
আর জ্ঞান সাগরের জ্ঞানের দ্বারা সুন্দর জ্ঞানপরী হতে হবে। প্রতি কদমে অবশ্যই শিব
বাবার মত্ নিতে হবে।
২ ) শ্রেষ্ঠাচারী
হওয়ার জন্য নিজের মধ্যে থাকা ভুত গুলিকে বের করে দিতে হবে। ভ্রষ্ট বানাতে পারে এমন
কোনও কাজ করবে না।
*বরদানঃ-* সমস্যারূপী পাহাড়কে উড়ন্ত কলার দ্বারা সেকেণ্ডে
পার করে সহজ পুরুষার্থী ভব
হিমালয় পর্বতের
মত সমস্যাকেও পার করার জন্য উড়ন্ত কলার বিধি ধারণ করো। সর্বদা নিজের সামনে সকল
প্রাপ্তি গুলিকে উদ্ভাসিত (ইমার্জ) করে রাখো আর উড়ন্ত কলাতে উড়তে থাকো তাহলে
সমস্যারূপী পাহাড়কে সেকেণ্ডে পার করে নিতে পারবে। কেবল বর্তমান আর ভবিষ্যতের
প্রালব্ধের অনুভাবী হও। যেরকম স্থূল নেত্র দ্বারা স্থূল বস্তু স্পষ্ট দেখা যায়,
এইরকম বুদ্ধির নেত্র
দ্বারা প্রালব্ধ স্পষ্ট দেখা যাবে, প্রত্যেক কদমে
পদমের উপার্জন জমা করতে থাকো।
*স্লোগানঃ-* যে সকলকে আদর আপ্যায়ন করে সে-ই আদর্শ মূর্তি
হয়।
No comments:
Post a Comment