11.03.2023 BANGLA MURLI
“মিষ্টি বাচ্চারা
- জ্ঞান ও যোগবলের দ্বারা পুরানো পাপের খাতা পরিশোধ করে নতুন পুণ্যের খাতা জমা
করতে হবে, যোগবলের দ্বারা
এভারহেলদি ওয়েলদি হতে হবে”
প্রশ্নঃ - সঙ্গমযুগের বিশেষত্ব কি, যা সম্পূর্ণ কল্পে হতে পারে না ?
উত্তরঃ - সঙ্গম যুগেই ৫ হাজার বছরের পরে আত্মা ও
পরমাত্মার প্রিয় মঙ্গল মিলন হয়। এই সময় হল বাবার নিজ সন্তানদের সঙ্গে মিলনের সময়
এবং বর্সা প্রাপ্ত করার। বাবা সব আত্মাদের জন্য এই সময় জ্ঞান প্রদান করেন, সবার লিবারেটর হন। সঙ্গমযুগেই দেবী-দেবতা
ধর্মের স্যাপলিং লাগে, যারা অন্য ধর্মে
কনভার্ট হয়ে গেছে তারাও বেরিয়ে আসে। সবাই নিজের পুরানো হিসেব-নিকেশের খাতা শোধ করে
ফিরে যায়। এমন বিশেষত্ব অন্য কোনও যুগে নেই।
ওম্ শান্তি ।
পরমপিতা শিব এই নাম অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে। পরমাত্মা অথবা খোদা, গড তো অনেকেই বলে। কিন্তু ফাদারের নাম অবশ্যই
চাই। ফাদারের নাম হলই শিব। তিনি হলেন নিরাকার, তাইনা। আত্মারাও বাস্তবে হলো নিরাকার। এখানে
এসে সাকারী স্বরূপে পরিণত হয়। বলা হয় পরমপিতা পরমাত্মা সেখান থেকে বাচ্চাদের অথবা
প্রিসেপ্টরকে পাঠিয়ে দেন পার্ট প্লে করার জন্য। এবারে যখন গড ফাদার বলে তখন
মানুষের বুদ্ধিতে লৌকিক পিতার কথা স্মরণে আসবে না। উনি তো হলেন নিজের সন্তানদের
পিতা। কিন্তু হে পরমপিতা! বললে বুদ্ধি উপরে চলে যায়। আত্মাই স্মরণ করে। দেহের
পিতাকেও আত্মাই স্মরণ করে, যে পিতা দেহ
প্রদান করে। তারপরে আত্মার পিতাকেও তো স্মরণ করবে তাইনা। কিন্তু উনি কে, তাঁকে ফাদার বলে কে সম্বোধন করে? কেন তাঁর কাছে দয়া প্রার্থনা করা হয়? তিনি হলেন সকলের পিতা। কিন্তু যদি সবাই পিতা
হয়, তাহলে তো এই প্রার্থনা
প্রমাণিত হয় না। বলে পরমাত্মা সব কিছু দিয়েছেন। পরমাত্মাই আমাদের এই সন্তান
দিয়েছেন। তাই গড-কে অবশ্যই স্মরণ করে। ভগবানকে ডাকে, এসে আমাদের পবিত্র করো, লিবারেট করো এই দুঃখ থেকে। তো নিশ্চয়ই কোথাও
নিয়ে যাবেন তিনি, তাইনা। সবাইকে
লিবারেট করে শান্তিধাম বা সুখধামে নিয়ে যান। কল্প-কল্প, কল্পের সঙ্গমযুগেই আসেন। এমন মাঝখানে তো আসেন
না। সবাইকে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে তখন আসবেন যখন নাটক পূর্ণ হবে। বাবা বলেন আমি একবারই
আসি। আমাকে ক্ষণে ক্ষণে আসতে হয় না। আমি একবারই আসি, যখন সবাই তমোপ্রধান হয়ে যায়। কারণ ৮৪ জন্ম তো
অবশ্যই পূর্ণ করতে হবে। যদি আগেই আসি তবে ৮৪ -র চক্র তো পূর্ণ হবে না। চক্রের
সম্পূর্ণ অন্তিম সময় তো আসা দরকার, তাইনা। যখন আসার
সময় হয় তখন এসে আত্মারূপী বাচ্চাদের সর্বপ্রথমে বাবা, তারপর টিচার, সদ্গুরুও হই। পিতা জন্ম দেন, টিচার শরীর নির্বাহের জন্য শিক্ষা প্রদান করেন
আর গুরুর কাছে যেতে হয় সদগতির জন্য। গুরু এখানেই করতে হয়, সত্যযুগে কেউ গুরুর কাছে যায় না। সেখানে বাবা
আর টিচার থাকে। এমন নয় বাবা, টিচার হয়ে পড়ান।
বাবা আর টিচার আলাদা হয় । এখানে বাবা, টিচার, গুরু একজনই।
বাচ্চারা, তিনি তোমাদেরকে
অ্যাডপ্ট করেছেন। তোমরা মুখ বংশী, তারপরে চাই
পড়াশোনা। তো সম্পূর্ণ সৃষ্টির আদি-মধ্য-অন্তের রহস্য বুঝিয়ে দেন। ড্রামায় মুখ্য
ক্রিয়েটর, মুখ্য অ্যাক্টর
কারা রয়েছে? সম্পূর্ণ বিশ্বের
চক্রের নলেজ প্রদান করেন। মূল লোক, সূক্ষ্ম লোক,
স্থূল লোকের সম্পূর্ণ
সমাচার বা নিউজ বলে দেন। এই সমগ্র চক্রটি কীভাবে আবর্তিত হয়, সর্ব প্রথমে নতুন দুনিয়ায় কে কে আসে!
সর্বপ্রথমে তো বাচ্চাদের এই কথা জানা উচিত যে তিনি হলেন আমাদের অসীম জগতের পিতা।
ইনিও অর্থাৎ ব্রহ্মাও বলেন আমার পিতা হলেন শিব। ব্রহ্মা কেয়ার অফ শিব। শিববাবাও
বলেন এই ব্রহ্মা হলেন সন্তান। আমাকে এনার মধ্যে প্রবেশ করতে হয়, তাই আমি এনাকে অ্যাডপ্ট করেছি। প্রথমে এনার নাম
আসলে লেখরাজ ছিল, পরে ব্রহ্মা নাম
রাখা হয়। আমি এনাকে অ্যাডপ্ট করেছি। মানুষ বাবা-বাবা বলে, কিন্তু না জেনে। শিবের চিত্রের সম্মুখে যায়
কিন্তু হৃদয়ের গভীরতা দিয়ে বোঝে না যে উনি হলেন আমাদের পিতা। লৌকিক পিতার চিত্র
দেখলে তৎক্ষণাৎ বলবে ইনি আমার পিতা। শিবের সম্মুখে সেই সত্যতার সাথে বলবে না। যদিও
ওঁনাকে পরমাত্মা বলে স্বীকার করে কিন্তু সেই সত্যতার সাথে বলবে না আমাদের বাবা।
শুধুমাত্র বন্দনা করবে ভক্তিমার্গের নিয়ম অনুসারে। তাঁর কাছে কি প্রাপ্তি হয়,
সেসব বুদ্ধিতে আসবে না।
এই কথা বাবা বসে বোঝান। নিশ্চয় করার জন্য পয়েন্টস তো অনেক দেন কিন্তু বাচ্চারা
ভুলে যায়। এই জ্ঞান হলো সব ধর্মের মানুষের জন্য। সে মিলিটারী হোক বা সিভিলিয়ান,
জ্ঞান হলো সকলের জন্য।
তোমরা বাচ্চারা
জানো শিববাবা হলেন আমাদের বাবা, টিচার এবং
সদ্গুরু । আমাদের এই মিলন হল খুবই পুরাতন মিলন। পাঁচ হাজার বছর বাদে এসেছেন। এই
মিলনকে আত্মা আর পরমাত্মার প্রিয় মঙ্গল মিলন বলা হয়। পরমপিতা পরমাত্মা এসে সব
আত্মাদের সাথে মিলিত হন। এই সময়েই সবার লিব্রেটর হন। সবাই তো শিক্ষা নেবে না।
শিক্ষা তারাই নেবে যারা দেবতায় পরিণত হবে। মনুষ্য সৃষ্টির এই বিশাল বৃক্ষ, এরই চারাগাছ রোপন করেন (স্যাপলিং লাগান)। আজ
গভর্নমেন্টও বিভিন্ন রকমের স্যাপলিং লাগাতে থাকে। বাবাও স্যাপলিং লাগান তারপরে
যারা এই কুলের তারা যুক্ত হয়ে যায়। যারা দেবী-দেবতা ধর্মের আত্মা হবে বা
ফাউন্ডেশনের আত্মা হবে, তাদেরই স্যাপলিং
লাগে। তোমরা হলে প্রকৃত দেবী-দেবতা ধর্মের পরে অন্য অন্য ধর্মের আত্মাদেরও
স্যাপলিং লাগবে, যারা অন্য ধর্মে
কনভার্ট হয়ে গেছে তারাও বেরিয়ে আসবে। মুসলমান, পারসি ইত্যাদি নানান ধরনের মানুষ আছে তাইনা।
নিজের দৈবী ধর্মের বৃক্ষেরই স্যাপলিং লাগতে থাকে। এখন তোমরা বাচ্চারা
প্রাক্টিক্যালে বুঝেছো তিনি হলেন আমাদের একমাত্র বাবা, টিচার, সদ্গুরু । মানুষ তো বলবে পিতা আমাদের জন্ম দিয়েছেন, পরে অমুক টিচার আমাকে পড়িয়েছেন। তারপরে শেষকালে
গুরুর কাছে যায়। কেউ আবার যায়ও না। প্রত্যেকের নিজস্ব বিশ্বাস আছে। কাউকে তো স্মরণ
অবশ্যই করে। বাবাকে স্মরণ করবে অথবা কোনো বন্ধু আত্মীয়স্বজনকে স্মরণ করবে। এখন
তোমাদের অন্য সবাইকে ভুলে এক বাবাকেই স্মরণ করতে হবে। তিনিই হলেন সত্য পিতা,
সত্য টিচার, সদ্গুরু । সত্য খণ্ডের স্থাপনা করেন তিনি।
সম্পূর্ণ সৃষ্টির আদি মধ্য অন্তের চক্রের হিস্ট্রি-জিওগ্রাফি বলে দেন। আমরা
স্বদর্শন চক্রধারী হয়েছি তো আমাদের অবশ্যই চক্রকে স্মরণ করতে হবে। এই সৃষ্টির চক্র
কীভাবে আবর্তিত হয়, শুরু থেকে শেষ
পর্যন্ত চক্রের বিষয়ে জানি এবং কল্পের এই সঙ্গমযুগেই জানতে পারি। মাঝখানে তো কেউ
জানতে পারে না। বাবা পড়ানই কল্প-কল্প, কল্পের সঙ্গমযুগে। সম্পূর্ণ বিশ্বের হিস্ট্রি-জিওগ্রাফির রহস্য অন্য কেউ
বোঝাতে পারে না, একমাত্র বাবা
বুঝিয়ে দেন। বাবার দ্বারা তোমরা স্বদর্শন চক্রধারী হয়ে রাজা হও। সেখানে এই নলেজ
লুপ্ত হয়ে যায়। নাটক পূর্ণ হয়েছে তারপরে আত্মার মধ্যে যে রাজত্বের পার্ট রয়েছে
সেসব প্লে হওয়া শুরু হবে। এই সময় তোমাদের পার্ট হল শেখার। আবার আগমন, বাচ্চাদেরকে নলেজ প্রদান করা, উঁচু পদ প্রাপ্ত করানো - বর্তমানের পার্ট। পদ
প্রাপ্ত হয়ে গেলেই সব শেষ। তখন এই সৃষ্টির নলেজ প্রায় লুপ্ত হয়ে যায়। সৃষ্টি
চক্রের নলেজ কোনো মানুষের নেই। সন্ন্যাসীরা তো চক্রকে স্বীকার করে না। কল্পবৃক্ষকে
দেখে বলে এ'হল কল্পনা মাত্র।
তো বাচ্চারা তোমাদেরকেও ধারণা করতে হবে। সম্পূর্ণ যোগ না থাকলে ধারণা হবে না।
বুদ্ধি পিওর হবে না। বলা হয় না বাঘের দুধ সোনার পাত্রেই রাখা সম্ভব। তো এই জ্ঞান
অমৃতও কেবল বাচ্চাদেরই প্রাপ্ত হয়।লৌহ পাত্রটি স্বর্ণ পাত্রে পরিবর্তিত হবে তবেই
ধারণা হবে, এর জন্য খুব ভালো
পুরুষার্থ করতে হয়। খুবই সহজ, বিশ্বের হিস্ট্রি
জিওগ্রাফিকে জানতে হবে। সত্যযুগে কারা রাজত্ব করতেন, কত সময় করেছেন, ঘরানা বা বংশ তো থাকে তাইনা। অতএব তাকেই বলা হয়
ডিটি ডাইনেস্টি (দৈবী বংশ) ১২৫০ বছর রাজত্ব করেছে, যুদ্ধ করে এই রাজ্য প্রাপ্ত করেছে ? না। বর্তমানের পুরুষার্থের আধারে প্রালব্ধ
প্রাপ্ত করেছে। এই সম্পূর্ণ চক্র তোমরা যাকেই বোঝাবে তারা শুনে খুশী হবে, সে তারা যদি মিলিটারীর লোকও যদি হয়। দিল্লিতে
মিলিটারীর লোকজন আসতো তাইনা। তাদেরকেও বাবা বোঝাতেন যে তোমরা তো শুনেছো, যখন গীতা শোনানো হয় তখন তাতে ভগবানুবাচ আছে -
যে যুদ্ধের ময়দানে মারা যাবে সে আমাকে প্রাপ্ত করবে, স্বর্গবাসী হবে। কিন্তু এমন নয় যে শুধুমাত্র
গীতা পড়লে বা শুনলে স্বর্গ বাসী হয়ে যাবে, তোমাদের যদি স্বর্গবাসী হতে হয়, বাবার কাছ থেকে অবিনাশী উত্তরাধিকার নিতে হয় তাহলে বাবাকে স্মরণ করো, শ্রীমৎ অনুসরণ করে চলো। এই জ্ঞান বর্তমানেই
প্রাপ্ত হয় কারণ এখন স্বর্গের দ্বারা খুলতে চলেছে। এই জ্ঞান বর্তমান সময়ের জন্যই।
শিববাবাকে স্মরণ করার প্র্যাক্টিস করতে হবে।
এখন অসীম জগতের
বাবা বোঝাচ্ছেন আমাকে স্মরণ করো। জাগতিক গুরুর পরিবর্তে এক শিববাবাকে স্মরণ করতে
হয়। পরিশ্রম আছে। তিনি হলেন বাবা, সর্বজনের পিতা
একজনই। তাঁর দ্বারাই স্বর্গের বর্সা প্রাপ্ত হবে। শান্তি সুখের বর্সা তাঁর কাছেই
প্রাপ্ত হয়। এই সময় হলো বাবার দ্বারা বাবার সঙ্গে মিলিত হওয়ার সময় অথবা বর্সা
প্রাপ্তির সময়। সত্য যুগে তো ছিলই একটি ধর্ম অর্থাৎ অনেক ধর্মের বিনাশ এবং এক
ধর্মের স্থাপনার কর্তব্য হলো একমাত্র পরমপিতা পরমাত্মার, অন্য কেউ করতে পারে না। যারা বাবার কাছে
পড়াশোনা করে, রাজযোগের শিক্ষা
প্রাপ্ত করে তারা স্বর্গে চলে যায়। তোমরা জানো এখন হলো কলিযুগের অন্তিম কাল।
মহাভারী লড়াই সম্মুখে দাঁড়িয়ে আছে, যে পড়াশোনা করবে
সে পদ প্রাপ্ত করবে। বাকিরা সবাই হিসেব নিকেশ শোধ করে ফিরে যাবে। তোমাদের এখন
প্রাক্টিক্যালে নিজের পাপের খাতা শোধ করে পুণ্যের খাতা জমা করতে হবে। যত জ্ঞান ও
যোগে থাকবে ততই পুরানো খাতা ভস্ম হয়ে নতুন জমা হতে থাকবে। যোগবলের দ্বারা তোমাদের
আয়ু বৃদ্ধি পাবে। তোমরা এভারহেলদি, ওয়েলদি হতে
থাকবে। জ্ঞান এবং যোগের দ্বারা দুইই প্রাপ্ত হয়। এ'হল তোমাদের হসপিটালও এবং কলেজও। বাস্তবে এ'হল প্রকৃত সত্য ইউনিভার্সিটি । গভর্নমেন্টের যে
ইউনিভার্সিটি গুলি আছে তাকে ইউনিভার্সিটি বলা হবে না। ইউনিভার্স তো সমগ্র বিশ্বকে
বলা হয়। তাতে বিশ্বের নলেজ কিছুই নেই। ওই সব হল সীমিত জগতের। অনেক সীমারেখা টেনে
দিয়েছে। ইউনিভার্সিটিকে হিন্দিতে বলা হয় বিশ্ব বিদ্যালয়। সারা বিশ্ব থেকে যে চাইবে
সে এসে পড়বে। ওই ইউনিভার্সিটিতে তো এইরকম হওয়া সম্ভব নয়। এখানে যে কেউ এসে পড়তে
পারে। বিশ্বের রচয়িতা এই বিশ্ব বিদ্যালয় স্থাপন করেন। আমরা এইরকম লিখেও থাকি।
তাহলে বিশ্ব বিদ্যালয় অথবা ইউনিভার্সিটিতে তফাৎ কি আছে। একটি হলো হিন্দি শব্দ,
অন্যটি ইংরেজি। বিশ্বের
রচয়িতা এই বিশ্ব বিদ্যালয়টি রচনা করেছেন। যেখানে বাবা, মানবকে দেবতা, রাজার রাজা বানিয়ে দেন। লিবারেট করেন। শ্রীমৎ
তো প্রাপ্ত হয় কিন্তু আসুরিক মত অনুসরণকারীরা শ্রীমৎকে মানে না। এখানে এই শ্রীমতের
দ্বারা কতখানি শ্রেষ্ঠ হই। নিজের তন-মন-ধনের দ্বারা ভারতকে স্বর্গ বানাই এবং সবই হল
গুপ্ত রূপে। বাবাও গুপ্ত ভাবে আসেন। শ্রীকৃষ্ণ তো গুপ্ত থাকবেন না। কিন্তু বাবাকে
না জানার দরুন শ্রীকৃষ্ণের নাম গীতায় লিখে দিয়েছে এবং পরে কৃষ্ণের ডান্স দেখিয়েছে।
সেসব তো প্রিন্স-প্রিন্সেসরা নিজেদের মধ্যে করবে। সেখানে প্রজা তো যাবে না। বাবা
অনেক বুঝিয়েছেন। বলেন জ্ঞান ধন প্রাপ্ত করে দান করতে থাকো। খুব উচ্চ এই পড়াশোনা
এবং পড়া করতে হবে খুব সাধারণ ভাবে। চেয়ারে আসন পেতে বসতে তো পারবে না। এইরকম সোজা
হয়ে পায়ের উপরে পা রেখে বসা হলো রাজার বৈঠক, এটাই সঠিক । যদিও তোমরা যেমন ইচ্ছে বসতে পারো।
সত্য যুগে গোল্ডেন স্পুন ইন মাউথ হবে (সোনার চামচ মুখে থাকবে)। বাচ্চারা
সাক্ষাৎকারও করেছে। কীভাবে বিমানে সোনা ভরে ভরে আসে। মহল ইত্যাদি সব খুব শীঘ্র
তৈরী হয়ে যায়। এখনও বাবার চোখের সামনে বিদ্যুৎ, মোটর ইত্যাদি কত কি তৈরি হয়েছে। আগেকার দিনে
আনাজ সস্তা ছিল। তাহলে সত্যযুগে কত সস্তা থাকবে। এখানে সোনার মুদ্রার দাম যদি ১০০
টাকা হয় তবে সেখানে এক পয়সা হবে। সুতরাং কতখানি তফাৎ হলো। অতএব তোমাদের এক জন্মের
পড়াশোনার দ্বারা ২১ জন্মের রাজত্ব প্রাপ্ত হয় আর কি চাই। বাবা যুক্তি বলে দেন।
কন্যা যদি জ্ঞান অর্জন না করে তবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করানো হয়। পুত্র যদি জ্ঞান
অর্জন না করে তবে বলবে নিজেই উপার্জন করো বিবাহ করো। বাবা পরামর্শ তো প্রতিটি
বিষয়ে দেন। বিবাহ ইত্যাদি অনুষ্ঠানে যদি যেতেই হয় তবে কেবল ফল গ্রহণ করো, শিববাবাকে স্মরণ করে খেলে তা পবিত্র হয়ে যাবে।
আচ্ছা!
বাপদাদার মিষ্টি
- মিষ্টি হারানিধি ব্রাহ্মণ কুলভূষণ স্বদর্শন চক্রধারী নূরে-রত্নদের প্রতি স্মরণের
স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত । আত্মাদের পিতা ওঁনার আত্মারূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন
নমস্কার ।
*ধারণার জন্যে
মুখ্য সারঃ-*
১ ) বাবার কাছ
থেকে যে জ্ঞান ধন নিয়েছো সেসব দান করতে হবে। গুপ্ত রীতিতে পড়াশোনা করে ২১ জন্মের
রাজত্ব নিতে হবে।
২ ) অন্য সকলের
স্মৃতি গুলি বিস্মৃত করে দিয়ে এক বাবাকে সত্য পিতা, সত্য টিচার এবং সদ্গুরুর রূপে স্মরণ করতে হবে।
বরদানঃ-আত্মিক
(রূহানী) নেশার দ্বারা দুঃখ-অশান্তির নামটুকুকেও সমাপ্তকারী সর্ব প্রাপ্তি স্বরূপ
ভব
রূহানী নেশায়
থাকা অর্থাৎ চলতে-ফিরতে আত্মাকে দেখা বা আত্ম-অভিমানী থাকা। এই নেশায় স্থিত থাকলে
সর্ব প্রাপ্তির অনুভব হয়। প্রাপ্তি স্বরূপ রূহানী নেশায় থাকা আত্মার সব দুঃখ দূর
হয়ে যায়। দুঃখ-অশান্তির নামটুকুও থাকে না ।কারণ দুঃখ এবং অশান্তির উৎপত্তি হয়
অপবিত্রতা থেকে। যেখানে অপবিত্রতা নেই সেখানে দুঃখ অশান্তি কোথা থেকে আসবে ! যারা
পবিত্র আত্মা, তাদের কাছে সুখ
এবং শান্তি স্বভাবতঃই থাকে ।
স্লোগানঃ-যে সদা এক এর লগনে (স্মরণে) মগ্ন থাকে, সে-ই হলো নির্বিঘ্ন।
No comments:
Post a Comment