12.03.2023 BANGLA MURLI
"ব্রাহ্মণ জন্মের
আদি বরদান - স্নেহের শক্তি"
আজ চারদিকের সব
বাচ্চার স্নেহভরা স্মৃতি স্নেহের সাগরসম সর্বশক্তিমান বাপদাদার কাছে পৌঁছে গেছে।
প্রত্যেক বাচ্চার হৃদয়ে দিলারাম সমাহিত হয়ে আছেন আর দিলারামের হৃদয়ে সর্বস্নেহী
বাচ্চারা সমাহিত হয়ে আছে। স্নেহ অনেক বড় শক্তি।
● স্নেহের শক্তি পরিশ্রমকে সহজ করে দেয়। যেখানে ভালোবাসা আছে
● স্নেহের শক্তি
দেহ আর দেহ-দুনিয়াকে সেকেন্ডে ভুলিয়ে দেয়। স্নেহ দ্বারা যা ভুলাতে চাও তা' ভুলতে পারো, যা স্মরণ করতে চাও তার মধ্যে সমাহিত হয়ে যেতে
পারো।
● স্নেহের শক্তি
সহজে সমর্পণ করতে সমর্থ বানায়।
● স্নেহের শক্তি
বাবা সমান বানায়।
● স্নেহ সদা প্রতি
মুহূর্তে পরমাত্ম-সাথের অনুভব করায়।
● স্নেহ সদা নিজের
উপরে বাবার আশীর্বাদের হাত ছত্রছায়া সমান অনুভব করায়।
● স্নেহ অসম্ভবকে
এত সহজভাবে সম্ভব করে দেয় যেন কার্য হয়েই আছে।
● স্নেহ প্রতি ক্ষণ
(সবসময়) নিশ্চিন্ত অনুভব করায়।
● স্নেহ সব কর্মে
নিশ্চিত বিজয়ী স্থিতির অনুভব করায়। এমন স্নেহের শক্তি অনুভব করো তো না?
বাপদাদা জানেন যে,
অনেক জন্ম অনেক ধরনের
পরিশ্রম করে আত্মারা ক্লান্ত। বিভিন্ন বন্ধনে বেঁধে থাকার কারণে আত্মারা পরিশ্রম
করে যাচ্ছে। সেইজন্য বাপদাদা পরিশ্রম থেকে মুক্ত হওয়ার সহজ বিধি 'স্নেহের শক্তি' বরদান হিসেবে সব বাচ্চাকে দিয়ে থাকেন। নিজের
ব্রাহ্মণ জীবনের আদি সময়কে স্মরণ করো। সেই সময় জন্মানোর সাথে সাথেই স্নেহের শক্তিই
তোমাদের সবাইকে নতুন জীবন দিয়েছে। স্নেহের অনুভূতি করতে পরিশ্রম করেছ? পরিশ্রম করতে হয়েছে? সহজ অনুভব করেছ তো না। সুতরাং আদি জন্মের এই
অনুভূতিই বরদান। স্নেহ-প্রেমেই হারিয়ে গেছ তোমরা। সদা এই স্নেহের বরদানকে স্মৃতিতে
রাখো। পরিশ্রমের সময় এই বরদান দ্বারা পরিশ্রমকে পরিবর্তন করতে পারো। বাপদাদার
বাচ্চাদের পরিশ্রম অনুভব করা ভালো লাগে না। স্নেহের শক্তির বিস্মৃতি পরিশ্রম অনুভব
করায়।
● পরিস্থিতি যত বড়ই
হোক আর যেমনই হোক, স্নেহ দ্বারা,
প্রেম দ্বারা পরিস্থিতি
রূপী পাহাড়ও পরিবর্তন হয়ে জল সমান হালকা হয়ে যেতে পারে। পাথরকে জল বানাতে পারো।
মায়ার যতই ভয়ঙ্কর রূপ কিংবা রয়্যাল রূপ তোমাদের প্রতিরোধ করুক না কেন সেকেন্ডে
স্নেহের সাগরে সমাহিত হয়ে যাও, তাহলে মায়ার শক্তি সমাপ্ত হয়ে যাবে। তোমাদের
অন্তর্লীন করে নেওয়ার শক্তি ছু-মন্তর (জাদুমন্ত্র) নয় বরং শিব-মন্ত্র হয়ে যাবে।
তোমাদের সবার কাছে শিব-মন্ত্রের শক্তি থাকে, নাকি হারিয়ে যায়? শিব-স্নেহে সমাহিত হও, শুধু ডুব দিয়ে বেরিয়ে যেও না। কিছু সময়
স্মৃতিতে থাকো এই ব'লে - মিষ্টি বাবা,
প্রিয় বাবা, আর ডুব দিয়ে আবার বের হয়ে আস, তখন মায়ার নজর তোমাদের উপরে পড়ে যায়। সমাহিত
হয়ে যাও, তবে মায়ার নজর
থেকে দূরে হয়ে যাবে। আর যদি কিছুই না জানো তোমরা তবে স্নেহের শক্তি জন্মের বরদান,
সেই বরদানে হারিয়ে যাও।
কীভাবে তার মধ্যে হারিয়ে যেতে হয় জানো না তোমরা? স্নেহ তো সহজ, তাই না! তোমাদের সকলের এই অনুভব হয়েছে, হয়েছে না? কেউ আছে ব্রাহ্মণ জীবনে যার অধ্যাত্ম স্নেহের
অনুভব হয়নি? আছে কেউ?
● স্নেহই সহজ যোগ,
স্নেহে সমাহিত হওয়াই
সম্পূর্ণ জ্ঞান।
● আজ এই দিনের
মহত্ত্বও স্নেহ।
অমৃতবেলা থেকে
বিশেষ কোন তরঙ্গে তরঙ্গিত হচ্ছ? বাপদাদার
স্নেহতেই তরঙ্গিত হচ্ছ। সকল আত্মার ভিতরে এক বাবা ব্যতীত অন্য কিছু স্মরণে ছিল?
তোমাদের সহজ স্মরণ ছিল,
ছিল তো না? নাকি পরিশ্রম করতে হয়েছে? সহজ কীভাবে হয়েছে? স্নেহের কারণে। তবে কি তা' শুধু আজকের স্নেহের? সঙ্গমযুগ পরমাত্ম-স্নেহেরই যুগ। সুতরাং যুগের
মহত্ত্বকে জেনে স্নেহের অনুভূতি অনুভব করো। স্নেহের সাগর স্নেহের সমুদয় হীরে-মোতির
থালা ভরে দিচ্ছেন। অতএব, নিজেকে সদা
পরিপূর্ণ করে রাখো। সামান্য অনুভবে খুশি হয়ে যেও না। সম্পন্ন হও। ভবিষ্যতে তো
স্থূল হীরে-মোতি দিয়ে সাজবে। এই পরমাত্ম-প্রেমের হীরে-মুক্তো অমূল্য, সুতরাং এতে সদা সুসজ্জিত থাকো।
চতুর্দিকের
বাচ্চাদের স্মরণ, স্নেহের গীত
বাপদাদা সদাই শুনতে থাকেন, কিন্তু আজ,
বিশেষ স্নেহস্বরূপ
বাচ্চাদের স্নেহের রিটার্নে তিনি সদা স্নেহী ভব, সদা স্নেহের বরদান দ্বারা সহজে উড়তি কলার বিশেষ
বরদান আবারও দিচ্ছেন। ছোট বাচ্চারা যেমন হয়, যে কোনও সমস্যা বা কোনও প্রতিকূল পরিস্থিতি
আসলে সদা মা-বাবার কোলে বসে যায়, ঠিক একইভাবে
সেকেন্ডে স্নেহের কোলে সমাহিত হয়ে যাও, তবে পরিশ্রম থেকে বেঁচে যাবে। সেকেন্ডে উড়তি কলার দ্বারা বাপদাদার কাছে পৌঁছে
যাও, তাহলে যে কোনো স্বরূপে
উপস্থিত মায়া দূর থেকেও
তোমাদের ছুঁতে
পারবে না, কেননা, পরমাত্ম-ছত্রছায়ার ভিতরে যে শুধু পারবে না তা'
নয়, বরং দূর থেকেও মায়ার ছায়া আসতে পারে না। সুতরাং
বাচ্চা হওয়া অর্থাৎ মায়ার থেকে সুরক্ষিত থাকা। বাচ্চা হওয়া ভালো তো না। বাচ্চা
হওয়ার অর্থই হলো স্নেহে সমাহিত হয়ে যাওয়া। আচ্ছা!
দিলারামের হৃদয়ে
সমাহিত হওয়া চতুর্দিকের বাচ্চাদেরকে, যারা সদা পরিশ্রমকে স্নেহ-ভালোবাসায় পরিবর্তন করে, শক্তিশালী সেই আত্মাদের, সদা পরমাত্ম-স্নেহের সঙ্গমযুগকে মহান অনুভবকারী
শ্রেষ্ঠ আত্মাদের, যারা সদা স্নেহের
শক্তির দ্বারা বাবার সাথ আর আশীর্বাদের হাত অনুভব ক'রে অন্যদেরও অনুভব করতে সমর্থ বানায়, এমন বিশেষ আত্মাদের, সদা স্নেহের সাগরে সমাহিত হওয়া সমান বাচ্চাদের
স্নেহের সাগর বাপদাদার স্মরণ-স্নেহ আর নমস্কার।
দাদীদের সাথে
সাক্ষাৎকার - আজ এই দিনে কী কী স্মরণে এসেছে? উইল পাওয়ারের হাত বিশেষভাবে স্মরণে এসেছে?
উইল পাওয়ার সব কার্য সহজ
করে দেয়। ব্রহ্মাবাবা স্মরণে বেশি এসেছেন নাকি বাপ-দাদা উভয়ই স্মরণে থেকেছেন?
যদিও সকলের ব্রহ্মাবাবার
চরিত্রের (ঐশ্বরিক কার্যকলাপ) স্মরণ বিশেষভাবে আসতে থাকে। ব্রহ্মা বাবা ব্রহ্মা
তখনই.হয়েছেন যখন বাবা-দাদা কম্বাইন্ড হয়েছেন। পরমাত্ম-প্রবেশ হওয়ার সাথেই ব্রহ্মার
কর্তব্য শুরু হয়েছে। এই অব্যক্ত স্বরূপের অব্যক্ত রূপের চরিত্রও স্বতন্ত্র ও অনুপম
এবং প্রিয়। ২৫ বছরের সেবার হিস্ট্রি শুরু থেকে স্মরণ করো, কত তীব্রগতির হিস্ট্রি ! অব্যক্ত হওয়া অর্থাৎ
তীব্রগতিতে সর্বকার্য হওয়া। সময়ের পরিবর্তনও ফাস্ট আর সেবার বৃদ্ধির গতিও ফাস্ট।
ফাস্ট হয়েছে না? সেইজন্য অব্যক্ত
হওয়াতে সময়েরও তীব্রগতি প্রাপ্ত হয়েছে তো সেবারও তীব্রগতি প্রাপ্ত হয়েছে। অব্যক্ত
পার্ট-এ আসা আত্মাদেরও পুরুষার্থে তীব্রগতির ভাগ্য সহজে প্রাপ্ত হয়েছে। অব্যক্ত
পার্ট-এ আসা আত্মাদের 'লাস্ট সো ফাস্ট,
ফাস্ট সো ফার্স্ট'
বরদান প্রাপ্ত হয়েছে।
(সভা থেকে)
*বরদানঃ-* কে কার্যে লাগাও, শুধু স্মৃতিতে রেখো না। সময় অনুসারে বরদানকে
স্বরূপে নিয়ে এসো। বরদান স্বরূপে নিয়ে আসলে আপনা থেকেই ফাস্ট গতির অনুভব করবে।
অব্যক্ত পালনা সহজভাবে তোমাদের শক্তিশালী বানায়। সেইজন্য সামনে যত এগিয়ে যেতে চাও,
এগিয়ে যেতে পারো। তোমাদের
সবার উপরে বাপদাদা আর নিমিত্ত আত্মাদের বিশেষ আশীর্বাদ রয়েছে সদা সামনে ওড়ার জন্য।
এ'রকম তো না? দাদিদেরও আশীর্বাদ আছে। এ'সব থেকে শুধু লাভ নাও। তোমাদের অনেক প্রাপ্তি
হয়, কিন্তু ইউজ কম করো। শুধু
বুদ্ধির একপাশে সরিয়ে রেখো না, খাও, খরচ করো। কীভাবে ইউজ করতে হয় জানো তোমরা,
খরচ করতে জানো নাকি সামলে
রাখো? খুব ভালো, খুব ভালো বলা মানেই যত্ন করে সামলে রাখা।
ভালোত্বকে নিজের জন্য এবং অন্যদের জন্য কার্যে প্রয়োগ করো। এখানে খরচ করা অর্থাৎ
বাড়িয়ে নেওয়া। আজকালকার ফ্যাশন দেখ, যেমন, অমূল্য বস্তু
লোকে কোথায় রাখে? (লকারে) ইউজ করে
না, লকারে রেখে তারা খুশি হয়।
তোমরা এমন অনেকবার করো - পয়েন্ট খুব ভালো, বিধি খুব ভালো, শুধু বুদ্ধির
লকারে দেখে খুশি হয়ে যাও। তো তোমরা সবাই লকারে রাখো নাকি ইউজ করো? আচ্ছা!
পাণ্ডব সেনার কী
অবস্থা? (ভালো) যারা শুধু
ভালো ভালো করে, তোমরা তারা নও,
নও তো না। এমন সেনা তৈরি
হতে হবে যাতে যে অর্ডার পাবে, সেকেন্ডে সেটা
করতে পারবে। এতটা তৈরি হয়েছ তোমরা? শক্তি সেনা
প্রস্তুত? শক্তিদের সেবা
তাদের নিজস্ব, পাণ্ডবদের
নিজস্ব। পাণ্ডবদের সহযোগ ব্যতীত শক্তিও চলতে পারে না, শক্তিদের সহযোগ ছাড়া পাণ্ডবও চলতে পারে না।
(দাদিজী মেক্সিকো
কনফারেন্সের সমাচার বাপদাদাকে শুনিয়েছেন)
এটা ভালো,
সায়েন্সের লোকেরা কাজে
লেগেই আছে। প্রয়োগ করতে সায়েন্সের লোক দূরদর্শী হয়, তাই না। তো একজনও যদি পুরোপুরি যোগী আর প্রয়োগী
হয়ে যায় তবে বড় থেকেও বড় মাইকের কাজ করবে।
(লস এঞ্জেলেসে
ভূমিকম্প হয়েছিল) সময়ের তীব্রগতির এই লক্ষণ প্রকৃতি সময় সময়তে দেখাচ্ছে। আচ্ছা!
অব্যক্ত বাপদাদার
পার্সোনাল সাক্ষাৎকার - "ফলের ইচ্ছা ত্যাগ করে দয়াশীল হয়ে শুভ ভাবনার বীজ বপন
করে চলো" "
বাপদাদা দ্বারা
সব বাচ্চার এই সঙ্গমযুগে বিশেষ কোন ভান্ডার প্রাপ্ত হয়েছে? ভান্ডার তো অনেক আছে কিন্তু বিশেষ ভান্ডার হলো
খুশির ভান্ডার। তো কত শ্রেষ্ঠ খুশির ভান্ডার তোমাদের প্রাপ্ত হয়েছে। তাহলে তা'
সদা তোমাদের সাথে থাকে
নাকি কখনো একপাশে সরেও যায়? যখন অফুরন্ত
প্রাপ্তি হচ্ছে তখন সবসময় ভান্ডারকে কার্যে প্রয়োগ করা উচিত তো না। লোকে এইজন্য
একপাশে সরিয়ে রাখে যাতে প্রয়োজনের সময় কাজে আসে। কিন্তু তোমাদের কাছে তো অফুরন্ত
আছে। এই জন্মের কথা তো ছেড়েই দাও, অনেক জন্ম এই
খুশির ভান্ডার সাথে থাকবে। অফুরন্ত আছে, ইউজ তো করো। বাপদাদা আগেও শুনিয়েছেন যে, প্রাণ যাক কিন্তু খুশি যেন না যায়। সেইজন্য
খুশিকে কখনও একপাশে সরিয়ে রেখো না, বরং আরও মহাদানী
হও। কেননা, বর্তমান সময়ে
অন্য কিছু হয়তো বা প্রাপ্ত হতে পারে কিন্তু প্রকৃত খুশি প্রাপ্ত হতে পারে না।
অল্পকালের খুশি প্রাপ্ত করার জন্য লোক কত সময় আর ধন খরচ করে, তবুও প্রকৃত খুশি পাওয়া যায় না। সুতরাং এরকম
প্রয়োজনের সময় তোমরা সব আত্মাকে মহাদানী হতে হবে। অশান্ত, দুঃখী যেমন আত্মাই হোক, যদি তাদের খুশির অনুভূতি করিয়ে দাও তবে হৃদয়
থেকে তারা কত আশীর্বাদ দেবে! তোমরা দাতার বাচ্চা, সুতরাং দরাজদিল হয়ে বিলিয়ে দাও। বিলিয়ে দিতে
জানো তো না? তাহলে কেন বিলিয়ে
দাও না? সময়কে দেখছ? হৃদয় থেকে তোমাদের দয়া অনুভূত হওয়া উচিত। যারা
অশান্তি-দুঃখে উদ্দেশ্যহীন হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে তারা তো তোমাদের পরিবার, তাই না। পরিবারকে তো সহযোগ দেওয়া হয়েই থাকে তো
না। সুতরাং মহাদানী হওয়ার জন্য বিশেষভাবে সহৃদয়তার গুণ ইমার্জ করো। তোমাদের জড়
চিত্র বরদান দিচ্ছে। তো তোমরাও চৈতন্য রূপে দিলদরিয়া হয়ে বিলিয়ে দিতে থাকো,
কেননা, তারা পরবশ আত্মা। কখনো এটা ভেবো না যে, এরা তো শোনার নয়, এরা অগ্রসর হওয়ার নয়। না, তোমরা দিলদরিয়া হও, নিরন্তর দিয়ে যাও। গাওয়া হয়েছে ভাবনার ফল
প্রাপ্ত হয়। অতএব, আত্মাদের মধ্যে
যদি জ্ঞানের প্রতি যোগের প্রতি শুভ ভাবনা নাও থাকে কিন্তু তোমাদের শুভ ভাবনা তাদের
ফল দেয়। এমন ভেবো না যে, এত কিছু সেবা
করেছি কিন্তু ফল পাইনি। কিন্তু ফল একরকম হয় না। কিছু সীজনের ফল হয়, কিছু ফল সদাকালীন। সুতরাং সীজনের ফল নির্দিষ্ট
সীজনেই ফল দেবে, তাই না। তো তোমরা
শুভ ভাবনার বীজ বপন করেছ, যদি সীজনের ফল হয়
তবে সময়মতো সেই সীজনে ফল বেরোবেই। এমনিতেও দেখ, যারা কৃষিকাজ করে তারা এটা ভাবে না যে, ফল তো সীজনে বের হওয়ার আছে, ৬ মাস পরে বেরোবে তো বীজ বপনই ক'রবো না। সুতরাং, তোমরা বীজ বপন করে চলো। সকল আত্মাকে নিজস্ব
সময়ে জাগতেই হবে। তোমাদের দয়ার ভাবনা, শুভ ভাবনা ফল অবশ্যই দেবে। যদি কেউ অপজিশনও (বিরোধ) করে তবুও তোমাদের দয়ার
ভাবনা ছেড়ে দিও না, বরং আরও ভাবো যে,
এই অপজিশন অথবা ইনসাল্ট,
বদনাম সার হিসেবে কাজ
করবে। তখন সার পড়লে ভালো ফল বের হবে। তারা যত কটু কথা বলবে, ততই তোমাদের গুণ গাইবে। সেইজন্য সব আত্মাকে
নিরন্তর দিতে থাকো। এমন নয় যে, যারা এটা ভালো
ভাববে তোমরা তাদেরই দেবে, না। এটা তো নেওয়া
হয়ে গেল ! ভাবনায় নেওয়ার ইচ্ছা রেখো না যে, তারা ভালো বললে বা ভালো হিসেবে বিশ্বাস করলে
তবে দেবে। না। একে বলা হয়ে থাকে দাতার বাচ্চারা মাস্টার দাতা। হয় বৃত্তি দ্বারা,
অথবা ভাইব্রেশন দ্বারা
কিংবা বাণী দ্বারা নিরন্তর দিতে থাকো। এতটা ভরপুর তো না? সব ভাণ্ডার আছে?
ডবল বিদেশিদের
দেখে বাপদাদা কেন ডবল খুশি হন? তোমরা ডবল
পুরুষার্থ করো। এক তো তোমরা নিজস্ব রীতি-রেওয়াজ পরিবর্তন করারও পুরুষার্থ করো।
বাপদাদা দেখেন যে, মেজরিটির মধ্যে
উৎসাহ-উদ্দীপনা ভালো থাকে। যদি কখনো উৎসাহ-উদ্দীপনা মাঝে মাঝে উপর-নিচে হয়,
তো সেক্ষেত্রে বাবা আজ
বিধি শুনিয়েছেন সমাহিত হয়ে যাও, স্নেহের কোলে
লুকিয়ে পড়ো, তখন আর মায়া
আসবেই না। এটা সহজ তো না। বীজরূপ হতে পরিশ্রম থাকে, এর মধ্যে পরিশ্রম নেই। হতে পারে, কোনও কিছু জানো না, কিন্তু স্নেহে সমাহিত হতে তো জানো নাকি এটা
মুশকিল? (না) তবে এটা করো।
এখন 'মুশকিল' শব্দ ব'লো না। যখন তোমরা নিচে আসো, তখন ছোট জিনিসও
বড় লাগে, যদি উপরে যাও তবে
বড় জিনিস ছোট লাগবে। তোমরা ফরিস্তা নাকি মানব? (ফরিস্তা) ফরিস্তা কোথায় থাকে? উপরে থাকে নাকি নিচে? (উপরে) তাহলে নিচে কেন থামবে, ভালো লাগে? কখনো কখনো নিচে আসতে ইচ্ছে করে? না, তবে কেন আসো? যখন বাবার সাথ
ছেড়ে দাও তখনই নিচে এসে যাও।
সুতরাং, ডবল বিদেশিদের ডবল পুরুষার্থের প্রত্যক্ষ ফল
হিসেবে ডবল চান্স থাকে। এর লাভ নাও। এই বছরে কী করবে? ডবল সার্ভিস। মহাদানী-বরদানী হবে নাকি বাবার
সামনে বলবে নিজেই শক্তি দিয়ে দাও আর অন্যদেরও শক্তি দাও। এটা ভালো যে, মানসিক দৃঢ়তায় নম্বর নিয়েছ। এখন ফাস্ট
পুরুষার্থ করে সামনে উড়ে চলো।
বরদান : - খুশির
ভাণ্ডারে সম্পন্ন হয়ে সদা খুশি থাকতে আরও খুশির দান দিয়ে মহাদানী ভব
সঙ্গমযুগে
বাপদাদা সবচেয়ে বড় খুশির খাজানা দিয়েছেন। রোজ অমৃতবেলায় খুশির একটি পয়েন্ট ভাবো আর
সারাদিন সেই খুশিতে থাকো। এইভাবে খুশিতে থেকে অন্যদেরও খুশির দান দিতে থাকো,
এটাই সবচেয়ে বড় থেকেও বড়
মহাদান। কেননা, দুনিয়ায় অনেক
সাধন থাকা সত্ত্বেও ভিতরের প্রকৃত অবিনাশী খুশি নেই, তোমাদের কাছে খুশির ভাণ্ডার আছে, সুতরাং দান দিতে থাকো, এটাই সবচেয়ে বড় উপহার।
*স্লোগানঃ-* মহান আত্মাদের পরম কর্তব্য হলো - উপকার,
দয়া এবং ক্ষমা।
No comments:
Post a Comment