Sunday, March 12, 2023

13.02.2023 BANGLA MURLI

                     13.02.2023 BANGLA MURLI



 "মিষ্টি বাচ্চারা - স্মরণে থাকতে থাকতে এই কলিযুগীয় রাত সম্পূর্ণ হয়ে যাবে, তোমরা বাবার কাছে চলে যাবে পুনরায় আসবে দিনে (সত্যযুগে), এও হলো ওয়ান্ডারফুল যাত্রা"

*প্রশ্নঃ - বাচ্চারা, তোমাদের স্বর্গে যাওয়ার ইচ্ছা কেন রয়েছে?

*উত্তরঃ - কারণ তোমরা জানো যে যখন আমরা স্বর্গে যাব তখন বাকি সব আত্মাদের কল্যাণ হবে, সকলে নিজেদের ঘর শান্তিধামে যেতে পারবে। তোমাদের স্বর্গে যাওয়ার লোভ নেই। কিন্তু তোমরা স্বর্গের স্থাপনা করছো, যখন এত পরিশ্রম করো তখন অবশ্যই সেই স্বর্গের মালিকও হবে। এছাড়া তোমাদের আর কোনো অন্য ইচ্ছা নেই। মানুষের তো ইচ্ছা থাকে - আমাদের ভগবানের সাক্ষাৎকার হোক কিন্তু তিনি তো তোমাদের স্বয়ং পড়াচ্ছেন।

*গীতঃ- রাতের পথিক হয়ো না শ্রান্ত.....

ওম্ শান্তি । রাতের পথিকের অর্থ তো বাচ্চারা পুরুষার্থের নম্বরের ক্রমানুসারে জেনে থাকে। যদি বাচ্চারা স্বদর্শন চক্র ঘোরাতে থাকে, স্মৃতিতে থাকে তবেই তারা বুঝতে পারবে যে আমরা দিন অর্থাৎ স্বর্গের কত নিকটে পৌঁছে গেছি। বাচ্চাদের বোঝানো হয়েছে - এ হলো অসীমের দিন এবং রাত। ব্রহ্মার অসীমের রাত বলা হয়ে থাকে। শাস্ত্রে কত ভালো নাম লেখা হয়েছে। এইরকম বলা হবে না যে লক্ষী-নারায়ণেরও রাত হবে। না, ব্রহ্মার দিন, ব্রহ্মার রাত বলা হয়ে থাকে। লক্ষ্মী-নারায়ণ তো ওখানে রাজত্ব করতো। তারপর অবশ্যই সৃষ্টি চক্র আবর্তিত হবে। লক্ষ্মী-নারায়ণের রাজ্য পুনরায় সত্যযুগে আসবে। সত্যযুগের পর ত্রেতা, দ্বাপর, কলিযুগকে অবশ্যই আসতে হবে। তাহলে অবশ্যই সত্যযুগে পুনরায় সেই রাজা রানীর আসা উচিত । এই জ্ঞান কেবল শিববাবাই ব্রহ্মার দ্বারা তোমাদের অর্থাৎ বাচ্চাদের দিয়ে থাকেন। সেইজন্য তোমাদেরই এই সৃষ্টি চক্রের জ্ঞান রয়েছে। দেবতাদের নেই। তোমাদের ব্রাহ্মণদের বুদ্ধিতে এই চক্র আবর্তিত হয়, সেইজন্য নাম রাখা হয়েছে ব্রহ্মা আর ব্রহ্মাকুমার, কুমারীদের রাত। এখন তোমরা দিনের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছো। সত্যযুগকে দিন, কলিযুগকে রাত বলা হয়ে থাকে। বাচ্চারা, তোমরা জানো যে আমাদের এই যাত্রা কলিযুগের অন্তে এবং সত্যযুগের আদিতে সঙ্গমে হয়ে থাকে। তোমরা বসে রয়েছো কলিযুগে কিন্তু তোমাদের বুদ্ধি রয়েছে ওখানে। আত্মাকে বুঝতে হবে যে আমাকে এই শরীর ত্যাগ করে বাবার কাছে যেতে হবে। অন্তিমে শরীর তো ত্যাগ করবে যখন লক্ষ্য পূরণ হবে অর্থাৎ বাবা যোগ শেখানো বন্ধ করে দেবেন। পড়ানোর শেষ যতক্ষণ না পর্যন্ত হবে ততক্ষণ পর্যন্ত বাবা শেখাতে, পড়াতে থাকবেন। বাচ্চারা বাবার স্মরণে থাকে। এ'ভাবেই স্মরণে থাকতে থাকতে রাত সম্পূর্ণ হয়ে যাবে আর তোমরা বাবার কাছে চলে যাবে। তারপর তোমরা আসবে দিনে। এ হলো তোমাদের ওয়ান্ডারফুল যাত্রা। বাবা দিনের স্থাপনা করেন তোমাদের ব্রহ্মাকুমার, কুমারীদের জন্য। এখন দিন অর্থাৎ সত্যযুগ আসছে। এখন তোমরা কলিযুগ রাতে বসে রয়েছো। নিরন্তর বাবাকে স্মরণ করতে থাকো।


বাবা বুঝিয়েছেন যে সকলকেই মৃত্যুবরণ করতে হবে অবশ্যই। মানুষ জিজ্ঞাসা করে - কবে মরতে হবে? কখন বিনাশ হবে? এখন দিব্যদৃষ্টির দ্বারা বিনাশের সাক্ষাৎকার করা হয়েছে। তারপর এই নয়নের দ্বারা অবশ্যই দেখতে হবে আর স্থাপনা, যার সাক্ষাৎকার করা হয়ে থাকে সেও এই নয়নের দ্বারাই দেখতে হবে। মুখ্য হলো, যে ব্রহ্মার দিন বা রাতের গায়ন করা হয়ে থাকে, তাঁরই স্থাপনা আর বিনাশের সাক্ষাৎকার হয়েছে। এইজন্য যা দিব্যদৃষ্টির দ্বারা দেখা হয়েছে তা বাস্তবে অবশ্যই হবে। ভক্তি মার্গে যাকিছু সাক্ষাৎকার হয় তা দিব্যদৃষ্টির দ্বারা দেখা হয়ে থাকে। তোমরাও দিব্যদৃষ্টির দ্বারাই দেখে থাকো। তোমাদের কোনো বস্তুর প্রতি ইচ্ছা থাকে না। সন্ন্যাসীদের ইচ্ছা থাকে - পরমপিতা পরমাত্মাকে দেখার। বাচ্চারা, এখানে তোমাদের পরমপিতা পরমাত্মা স্বয়ং বসে পড়ান। তোমাদের ইচ্ছে রয়েছে স্বর্গে যাওয়ার। বাচ্চারা জানে যে আমরা স্বর্গে যাব তখন সকলের কল্যাণ সাধিত হবে। বাচ্চারা, এখন তোমরা জানো যে অসীম জগতের পিতা হলেন মনুষ্য সৃষ্টির রচয়িতা, বীজরূপ, তিনি কল্প বৃক্ষের আদি, মধ্য, অন্তকে জানেন। আমরা সেই বাবাকে এবং তাঁর উত্তরাধিকারকে জানি। কোনো গাছকে যখন দেখি, জানা যায় এ হলো আমের গাছ। বীজ রোপন করার পর প্রথমে দুটো চারটে করে পাতা বেরোয়, তারপর গাছ বড় হতে থাকে, ওটা হলো জড় বীজ। এই বাবা হলেন মনুষ্য সৃষ্টির চৈতন্য বীজরূপ, ওঁনাকেই নলেজফুল বলা হয়ে থাকে।


বাচ্চারা জানে যে, এ হলো পাঠশালা, যেখানে এই বিদ্যা (পড়া) প্রাপ্ত হচ্ছে আর তোমরা যোগও শিখছো। এই বিদ্যার দ্বারা ভবিষ্যতে তোমরা প্রিন্স- প্রিন্সেস হয়ে যাও। অবশ্যই পবিত্র আত্মা চাই। এখন তো সকলেই অপবিত্র। কিন্তু কাউকে অপবিত্র বলো, তাহলে মানবে না। বলে যে কৃষ্ণপুরীতেও একে অপরকে দুঃখ দেওয়ার মতন কংস, জরাসন্ধ প্রভৃতিরা ছিল। একে অপরকে সুখ প্রদানকারীদের পবিত্র বলা হয়ে থাকে। স্বর্গে কেউ দুঃখ দেয় না। ওখানে তো সিংহ-ছাগে একত্রে জল পান করে। কাউকে দুঃখ দেয় না। কিন্তু এই কথা কেউ থোড়াই বুঝতে পারে। যে শাস্ত্র পড়েছে সেই (শাস্ত্রের) কথাই বুদ্ধিতে এসে যায়। দেবতাদের পূজারী নিজেরাই নিজেকে চাটি মারে। হিন্দুরা নিজেরাই নিজেদের চড় মেরেছে। নিজেদের দেবতাদের বসে-বসে নিন্দা করেছে। খ্রাইস্ট, বুদ্ধ প্রভৃতিদের কত মহিমা করে থাকে। বসে-বসে দেবতাদের নিন্দা করে। এ তো ধর্মের গ্লানি হয়ে গেল, তাই না ! গীতাতেও বলা হয়ে থাকে, "যদা যদাহি ধর্মস্য....." নামও ভারতেরই রয়েছে। ভারতই ভ্রষ্ট আর ভারতই শ্রেষ্ঠ হয়। শ্রেষ্ঠ ছিলেন লক্ষ্মী-নারায়ণ। ভ্রষ্ট মানুষ, শ্রেষ্ঠের কাছে মাথা নত করে। সন্ন্যাসীরাও পবিত্র থাকে, কিন্তু ভগবানকে জানেনা। নিজেকেই ভগবান বলে দেয়। এছাড়া অন্য যে সকল গুরু প্রভৃতিরা রয়েছে, তারা হলো পতিত, বিকারেও যায়। পতিত বলা হয়ে থাকে বিকারীকে। তারা পবিত্রদের নমন করে। সন্ন্যাসীদের গুরু করেও সেইজন্য, যাতে আমাদের নিজের সমান আপন করে নেয়। আজকাল খুব কম জনই সন্ন্যাসী হতে চায়, তখন গৃহস্থীকে গুরু করলে প্রাপ্তি কি হবে ? যখন তারা নিজেরাই পতিত। কিন্তু নতুন আত্মারা আসলে তখন তাদের কিছু মহিমা বেরিয়ে আসে। কেউ পুত্র লাভ করে, কেউ ধন লাভ করে, তখন খুশি হয়ে যায়। তারপর এক-দু'জনকে দেখে সকলেই গুরু করতে থাকবে। বাস্তবে গুরু করা হয় সদ্গতির জন্য। সেইজন্য অবশ্যই ৫ বিকার থেকে সন্ন্যাস নেওয়া পবিত্র চাই। তাছাড়া গৃহস্থীদের গুরু করে লাভ কি ? বড় বড় গৃহস্থীরাও হলো গুরু, যাদের হাজার হাজার ফলোয়ার্স রয়েছে। কেউ একজন গুরু করে তখন সেই গুরুপদ (পরম্পরা) চলতে থাকে। শিষ্যরা তাদের পা ধুয়ে (জল) পান করে, একে অন্ধ শ্রদ্ধা বলা হয়। মানুষ যদিও গেয়ে থাকে যে "হে ভগবান, অন্ধের লাঠি তুমি.....", কিন্তু এর অর্থও বোঝেনা। অন্ধ (বুদ্ধিহীন) বানায় মায়া রাবণ। সকলেই প্রস্তরবুদ্ধিসম্পন্ন হয়ে যায়। সেইজন্য বাবা বলেন - এই যে যাকিছুই শাস্ত্রাদি রয়েছে, আমি এসে এ'সবের সারকথা শুনিয়ে থাকি। নারদের উদাহরণ দেওয়া হয়, তাকে বলা হয় তুমি নিজের চেহারা তো দেখো -- লক্ষ্মীকে বরণ করার উপযুক্ত হয়েছো ? লক্ষ্মী তো স্বর্গে থাকে। এখন তোমরা জানো যে আমাদের পুরুষার্থ করে ভবিষ্যতে লক্ষ্মীকে অথবা নারায়ণকে বরণ করতে হবে। তাহলে এও এখানকারই কথা।


চেহারা মানুষের, চরিত্র বাঁদরের মতো। বাবা বলেন, নিজের চেহারা তো দেখো ! মানুষ তোমাদের বলবে যে তোমরা স্বর্গের মালিক হওয়ার লোভ রাখো, তাই না ! তাদের বোঝাতে হবে আরে, আমরা তো সমগ্র সৃষ্টিকেই স্বর্গে পরিণত করি। এত পরিশ্রম করি তাহলে মালিকও অবশ্যই আমাদেরই হতে হবে, তাই না ! কেউ তো রাজত্ব করবে, তাই না !


বাবা বুঝিয়েছেন যে নাম্বার ওয়ান মহাশত্রু হলো কাম-বিকার, যা মানুষকে আদি, মধ্য, অন্ত পর্যন্ত দুঃখ দিয়ে থাকে। এ হলো অর্ধেক কল্পের কড়া শত্রু। অবশ্যই ড্রামায় সুখ আর দুঃখ রয়েছে, কিন্তু দুঃখে ক্ষেপণকারীও তো রয়েছে। সে হলো রাবণ। অর্ধেক কল্প ধরে রাবণরাজ্য চলে। বাচ্চারা, এই কথাগুলি কেবল তোমরাই জানো। তোমাদের মধ্যেও নম্বরের অনুক্রম রয়েছে। এখন দেখো, বলে থাকে যে কৈলাস পর্বতে শংকর-পার্বতী থাকে। প্রেসিডেন্ট প্রভৃতিগণও অমরনাথ, কৈলাস পর্বতে যায়। কিন্তু এতটুকুও বোঝে না যে সেখানে শংকর-পার্বতী কোথা থেকে আসবে ? পার্বতী কি দুর্গতিতে ছিল যে তাঁকে বসে কথা শুনিয়েছিল ? সূক্ষ্মলোকে তো দুর্গতির প্রশ্নই নেই। কত দূরে দূরে গিয়ে মানুষ হোঁচট (ধাক্কা) খেতে থাকে। এ হলো ভক্তিমার্গ। দুঃখ তো মানুষকে পেতেই হবে। প্রাপ্তি হলো অল্প কালের (সময়ের)। সেটা কোন্ প্রাপ্তি ? তীর্থে যতখানি সময় থাকে ততখানি সময় পবিত্র থাকে। কেউ তোর মদ্যপান ব্যতীত থাকতে পারে না, সেইজন্য লুকিয়েও শূরার বোতল নিয়ে যায়। তাহলে সেটা কি কোনো তীর্থ হলো নাকি ? সেখানও কতো নোংরা হয়ে গেছে, তা আর জিজ্ঞাসা করো না। বিকারী মানুষদের বিকারও সেখানে প্রাপ্ত হয়। মানুষের জ্ঞানই নেই সেইজন্য মনে করে ভক্তিই ভালো, এর মাধ্যমেই ভগবানকে পাওয়া যাবে। অর্ধেক-কল্প ভক্তির ধাক্কা খেতে হয়। অর্ধেক কল্প পরে যখন ভক্তি সম্পূর্ণ হয় তখন ভগবান আসেন। বাবার করুণা হয়। এমন নয় যে ভক্তির দ্বারা ভগবানকে পাওয়া যায়। এমন যদি হতো তাহলে আবার ভগবানকে ডাকে কেন ? স্মরণ কেন করে ? ভগবানকে কখন পাওয়া যায়, তা বোঝেনা। ভক্তির ফলে শ্রীকৃষ্ণের সাক্ষাৎকার হলো ব্যস্, মনে করে তারা ভগবানকে পেয়ে গেছে। বৈকুণ্ঠবাসী হয়ে গেছে। শ্রীকৃষ্ণের দর্শন হয় ব্যস্ চলে যায় শ্রীকৃষ্ণপুরী। কিন্তু যায় না কেউই। তাহলে ভক্তিমার্গে অনেক অন্ধশ্রদ্ধা রয়েছে। বাচ্চারা, তোমরা এখন বুঝে গেছো। বাবা সাধারণ দেহে আসেন সেইজন্যই তো গালি খান। নাহলে কোন্ দেহে আসবেন ? শ্রীকৃষ্ণের দেহে তো গালি খেতে পারেন না ! কিন্তু শ্রীকৃষ্ণ পতিত দুনিয়ায় পবিত্র বানাতে আসবেন, এটা তো হতে পারে না। শ্রীকৃষ্ণ-কে পতিতপাবন বলাও হয় না। মানুষ এও বোঝেনা যে পতিত-পাবন কে? কীভাবে আসেন? সেইজন্য কারোর বিশ্বাস হয়না। শাস্ত্রে তো নেই যে কিভাবে ব্রহ্মার শরীরে আসেন। কথিত রয়েছে, ব্রহ্মার মুখের দ্বারা সূর্যবংশীয়, চন্দ্রবংশীয় ধর্মের স্থাপনা হয়। তারপর ভুলে যায় যে কখন হয়, কীভাবে হয়? প্রজাপিতা ব্রহ্মার তো এখানে কল্পের সঙ্গমে অবশ্যই থাকা উচিত তবেই তো ব্রাহ্মণদের নতুন সৃষ্টি রচিত হবে। মানুষ অত্যন্ত বিভ্রান্ত হয়ে গেছে, তাদের পথ দেখাতে হবে। বাবা এসে কত বড় সেবা করেন। তোমরা বোঝো যে আমরা ৫ বিকারের দ্বারা একদম বাঁদরের থেকেও খারাপ (কুৎসিত) হয়ে গেছি। আমরা দেবতা ছিলাম, তারপর একদম কিরকম হয়ে গেছি ! এমনদের বাবা এসে পুনরায় কত উচ্চ বানিয়ে দেন। তাহলে বাবাকে কত ভালবাসা উচিত ! এ'কথা বাবা শোনান নাকি দাদা শোনান? এও অনেক বাচ্চারা বুঝতে পারে না। বাবা বলেন - ভেবে দেখো যে আমি কি সর্বদাই রথে হাজির থাকতে পারি? এও তো হতে পারে না। আমি তো আসিই সার্ভিসের জন্য।


বাবার কাছে সমাচার এসেছিল -- কেউ জিজ্ঞাসা করেছিল যে মানুষ কি কাউকে সুখ দিতে পারে? তা কি মানুষের হাতে ? তখন একজন বলে যে না, একমাত্র ঈশ্বরই মানুষকে সুখ দিতে পারেন। মানুষের হাতে কিছুই নেই। তখন কোনো বাচ্চা আবার বুঝিয়েছে যে মানুষই সুখ দেয়, মানুষই সবকিছু করে। ঈশ্বরের হাতে কিছুই নেই। আরে, তোমরা থোড়াই কিছু দাও। ঈশ্বরের হাতেই তো রয়েছে, তাই না! বোঝানো উচিত -- শ্রীমতানুসারে চলতে হবে। পরমপিতার শ্রীমৎ ব্যতীত কেউ সুখ দিতে পারে না। নিজের বড়াই করা উচিত নয়। আমরা শ্রীমতানুসারে সমগ্র সৃষ্টিকে স্বর্গে পরিণত করি। তাহলে দেখো বাচ্চাদের কত বড় ভুল হয়ে যায়। ওরা বলে ঈশ্বরের হাতে রয়েছে। বি.কে বলে মানুষের হাতে রয়েছে। বাস্তবে তো আছেই বাবার হাতে। শ্রীমৎ ব্যতীত কিছু করতে পারে না। মানুষ একদম ওয়ার্থ নট অ্যা পেনী (কপর্দকশূন্য) হয়ে যায়। বাবা বলেন - রাবণ মানুষকে প্রস্তরবুদ্ধিসম্পন্ন বানিয়ে দেয়। আমি এসে তোমাদের পারশবুদ্ধিসম্পন্ন করে দিই। সমস্ত মহিমা বাবারই করা উচিত । আমরা শ্রীমতানুসারে চলছি। ঈশ্বর ব্যতীত কেউই মানুষকে শ্রেষ্ঠ বানাতে পারে না। আচ্ছা !


ব্রহ্মা মুখবংশীয় ব্রাহ্মণ কুলভূষণ, স্বদর্শন চক্রধারী মিষ্টি মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত। আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মারূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।


*ধারণার জন্যে মুখ্য সারঃ-*


১ ) বাবা যে এত সার্ভিস করেন, আমাদের এত উঁচু দেবতায় পরিণত করেন, এমন বাবার সাথে হৃদয়ের প্রকৃত ভালোবাসা রাখতে হবে। দেবতাদের মতন সকলকে সুখ দিতে হবে।


২ ) সর্বদা অদ্বিতীয় পিতার মহিমা করতে হবে। নিজের বড়াই করা উচিত নয়।


*বরদানঃ-* সেবার ভূমিকা পালন করেও পার্টের থেকে পৃথক এবং বাবার প্রিয় হওয়া সহজ যোগী ভব

অনেক বাচ্চারা বলে যে কখনো যোগ লাগে আবার কখনো লাগে না, এর কারণ হলো -- উপরাম স্থিতির (একান্ততার) অভাব। পৃথক না হওয়ার কারণে ভালোবাসার অনুভব হয় না। আর যেখানে ভালোবাসা নেই সেখানে স্মরণও নেই। যত অধিকমাত্রায় ভালোবাসা, স্মরণ ততই সহজ। সেইজন্য সম্বন্ধের আধারে ভূমিকা পালন কোরো না, সেবার সম্বন্ধে ভূমিকা পালন করো, তবেই পৃথক হয়ে থাকবে। পদ্ম ফুলের মতন পুরানো দুনিয়ার বাতাবরণ থেকে পৃথক আর বাবার প্রিয় হও তবেই সহজযোগী হয়ে যাবে।

*স্লোগানঃ-* জ্ঞানী সে-ই যে 'কারণ' শব্দটিকে মার্জ করে প্রত্যেক বিষয়কে (সমস্যাকে) নিবারণ (সমাধান) করে দেয়।

No comments:

https://bkrajyogpathshala.blogspot.com/

01-04-2026 Bengali Murli

 মিষ্টি বাচ্চারা - বাচ্চারা, বাবা যা, বাবা ঠিক যেমন, তোমরা বাচ্চারাও তাঁকে নম্বর ক্রমানুসারেই চিনেছো, যদি সকলেই তাঁকে চিনে গেলে তবে তো অত্যন...