08.03.2023 BANGLA MURLI
“মিষ্টি বাচ্চারা
- সবাইকে সুখ প্রদানকারী ভোলা ব্যাপারী হলেন একমাত্র বাবা, তিনি-ই তোমাদের সকল পুরানো জিনিস নিয়ে নতুন
প্রদান করেন, তাঁরই পূজা হয়”
প্রশ্নঃ-তোমাদের
গডলি মিশনারী-র কর্তব্য কী? তোমাদেরকে কিরকম
সেবা করতে হবে?
উত্তরঃ-তোমাদের
কর্তব্য হল সকল মানুষের কল্যাণ করা। সবাইকে তমোপ্রধান থেকে সতোপ্রধান বানানোর জন্য
বাবার পরিচয় দিতে হবে। তোমরা সবাইকে বলো যে স্বর্গের স্থাপনকর্তা বাবাকে স্মরণ করো,
তাহলে তোমাদের কল্যাণ
হবে। তোমরা সবাইকে আমাদের লক্ষ্যের বিষয়ে অবগত করবে। যারা দেবতাদের মান্য করে,
যারা তোমাদের কুলের হবে,
তারাই এইসব কথাগুলিকে
বুঝতে পারবে। তোমাদের হলো আধ্যাত্মিক কথাবার্তা ।
গীতঃ-ভোলানাথের
থেকে অনুপম আর কেউ নেই...
ওম্ শান্তি ।
ভোলানাথ শিববাবা বসে বোঝাচ্ছেন। ভোলানাথ হলেন এক শিব বাবা। গৌরীনাথ নাম যারা বলে
থাকে, গৌরী বলতে কোনও এক
পার্বতীর কথা বলা হয়নি। গৌরীনাথ বা বাবুলনাথ অর্থাৎ বাবুলের মতো কাঁটাকে ফুল আর
যারা শ্যাম বর্ণ হয়ে গেছে তাদেরকে যিনি গৌর বানাচ্ছেন। সমস্ত মহিমা হলো এক বাবারই।
এটা হলো মনুষ্য সৃষ্টিরূপী বৃক্ষ বা ড্রামা। যখন ড্রামা বলা হয়, তখন তাতে যারা মুখ্য অ্যাক্টর্স থাকে, তাদের কথা স্মরণে আসে। মুখ্য অবশ্যই
হিরো-হিরোইনের জুটিই হবে। এখানেও মুখ্য চরিত্র রূপে অবশ্যই কাউকে চাই। মাতা পিতা
হলেন সুনামধন্য। সূক্ষ্ম লোকে বলে দেয় শংকর পার্বতি আছেন। ব্রহ্মার বিষয়ে সম্পূর্ণ
রূপে কেউই অবগত নয়। ব্রহ্মা-সরস্বতী বলে দেয়, কিন্তু তারা কোনও জুটি নয়। বাস্তবে শংকর পার্বতিরও
কোনও জুটি নেই। এই জগতের মানুষ বিষ্ণুকেও জানেনা। বিষ্ণুকে যে অলংকারে সজ্জিত
করেছে, সেইসব তাঁর জন্য সঠিক নয়।
এখানে লক্ষ্মী নারায়ণের জুটি বলা হবে। এখন সবার থেকে ভোলানাথ তাঁকে বলা হবে যিনি
অনেক সুখ প্রদান করেন। ভোলানাথ আবার ব্যাপারীও। আমাদের থেকে পুরানো জিনিস নিয়ে
নতুন প্রদান করেন। সবার আগে বুদ্ধিতে এটা ভাবতে হবে যে - সবার থেকে উচ্চ বা
শ্রেষ্ঠ কে? সবথেকে বেশী সুখ
কে প্রদান করেন? যিনি অনেককে সুখ
প্রদান করেন, তাঁর পূজাও হয়।
তো এইসব হল বিচার সাগর মন্থন করার বিষয়। বিচার সাগর মন্থন কথাটি অত্যন্ত সুপরিচিত।
তো বিচার করা যায় মানুষের থেকে শ্রেষ্ঠ হলেন লক্ষ্মী নারায়ণ, আচ্ছা তারা কিরকম সুখ প্রদান করেছেন, যার জন্য সাধারণ মানুষ তাদের নাম জপ করে বা
পূজা করে? বাস্তবে তারা তো
কোনও সুখ প্রদান করেননি। তবে হ্যাঁ, তারা সুখধামের মালিক ছিলেন, কিন্তু তাদেরকে
এইরকম কে বানিয়েছেন? এর আগে তারা
কোথায় ছিলেন? যদি বাবা তাদেরকে
এইরকম না বানাতেন, তাহলে তারা কোথায়
থাকতেন! এইসব কথা তো বাচ্চারা জানে। আত্মার তো কখনও বিনাশ হয় না। তাদের এইরকম কাজ
কে শিখিয়েছেন, যে কারণে তারা এত
উচ্চ বা শ্রেষ্ঠ পদ মর্যাদা লাভ করেছেন? অবশ্যই কোনও শিক্ষা প্রাপ্ত হয়ে থাকবে! জগতের মানুষ এটা জানে না যে পূর্ব
জন্মে তারা কি ছিলেন? তোমরা এখন জেনে
গেছো যে লক্ষ্মী-নারায়ণ ৮৪ জন্ম ভোগ করে অন্তে ব্রহ্মা সরস্বতী হন। তাহলে কি
লক্ষ্মী-নারায়ণের মহিমা গাওয়া উচিত নাকি তাদেরকে এইরকম হওয়ার জন্য যিনি পুরুষার্থ
করিয়েছেন অথবা প্রালব্ধ দিয়েছেন, তাঁর মহিমা করা
উচিত? বোঝাতে হবে যে
লক্ষ্মী-নারায়ণ প্রজাদের জন্য কি করে গেছেন? তাদেরও সমগ্র রাজধানী ছিল কিন্তু গায়ন কেবল এক
এরই হয়ে থাকে। শংকরাচার্য এসে সন্ন্যাসীদের রচনা রচেছেন, তারপর তাদের পালনও করেছেন। তারপর যখন তমোপ্রধান
অবস্থায় পরিণত হয়, তখন তাদের
সতোপ্রধান কে বানাবেন? মায়া সবাইকে
তমোপ্রধান বানিয়ে দিয়েছে। লক্ষ্মী-নারায়ণ, যারা সতোপ্রধান ছিলেন, পুনরায় চক্র
পরিক্রমা করে তমোপ্রধান হয়ে গেছেন। প্রত্যেকেরই এইরকম অবস্থা হয়। যে যত বড়
পদাধিকারীই হোক না কেন - সতঃ, রজঃ, তমঃতে আসতেই হবে। এই সময় সবাই হল পতিত। তো
তমোপ্রধান দুনিয়াকে পুনরায় সতোপ্রধান কে বানাবেন? সর্বপ্রথমে সতোপ্রধান সুখে আসে তারপর দুঃখে গমন
করে। বাচ্চারা, এই রহস্য এখন
তোমাদের বোঝানো হচ্ছে। ৮৪ জন্ম নিতে হয় তো অবশ্যই সতোপ্রধান থেকে তমোপ্রধান হতেই
হবে। প্রতিটা জিনিসকে সতঃ রজঃ তমঃ অবশ্যই হতে হবে। ধর্ম স্থাপকদেরও এই অবস্থা হয়।
তারাও এখন তমোপ্রধান হয়ে গেছে। তাহলে এখন উচ্চ থেকেও উচ্চতম সবথেকে শ্রেষ্ঠ কে,
যিনি কখনও তমোপ্রধান হন-ই
না? যদি তিনিও তমোপ্রধান হয়ে
যেতেন তাহলে সবাইকে সতোপ্রধান কে বানাবে? তাহলে সব কৃতিত্ব তাঁরই হয়ে যায়। এইরকম ভাবে মনন-চিন্তন করলে বুদ্ধিতে যে
পয়েন্ট আসে, সেটা অন্যদেরকে
শোনাতেও ভালো লাগে। ভোলানাথ পরমপিতা পরমাত্মাই হলেন সকলের সদ্গতি দাতা, সকলকে সতোপ্রধান করেন। যখন সবাই দূর্গতি থেকে
রক্ষা পেয়ে গতি সদ্গতি প্রাপ্ত করে। নম্বরের ক্রমানুসারে যারা সবার আগে আসবে তারাই
সতোপ্রধান, সতঃ, রজঃ হয়ে তারপর তমোপ্রধান অবশ্যই হবে। সর্ব
প্রথম যখন আত্মা এই ধরায় অবতীর্ণ হয় তখন তাকে সুখ ভোগ করতে হয়। দুঃখ ভোগ করতে হয়
না। মানুষ বুঝতে পারে না যে এ হলো নতুন সোল এইজন্য এত সুখ, সম্মান প্রাপ্ত হয়। এখন সকলেরই তমোপ্রধান
অবস্থা হয়ে গেছে। তত্ত্ব, খনি ইত্যাদি সবই
তমোপ্রধান হয়ে গেছে। নতুন ছিল, এখন পুরানো হয়ে
গেছে। সেখানকার আনাজ ফল ফুল ইত্যাদি কতোইনা সুন্দর হয়, সেটাও বাচ্চাদেরকে সাক্ষাৎকার করানো হয়েছে।
কন্যারা সূক্ষ্ম বতনে যেত, সেখান থেকে ফিরে
এসে বলতো যে বাবা সোমরস পান করিয়েছেন। অবশ্যই সর্বশ্রেষ্ঠ বাবা, জিনিসও শ্রেষ্ঠ প্রদান করবেন। বাচ্চাদেরকে এটা
বুদ্ধিতে রাখতে হবে যে - সবার থেকে উচ্চ হলেন এক ভগবান। সবাই তাঁকেই স্মরণ করে। গড
ফাদার বলা হয়, গড থাকেনই উপরে।
আত্মা গড ফাদারকে স্মরণ করে কেননা আত্মা দুঃখী হয়ে গেছে তাই ভোলানাথ বাবা এসে
পুনরায় সুখ প্রদান করেন। তাহলে কেন তাঁকে স্মরণ করবে না। আত্মা বলে যে আমরা শরীরের
সাথে যখন দুঃখী হই তখন বাবাকে অনেক স্মরণ করি। রাবণ শত্রু দুঃখ দেয় তাই বাবাকে
স্মরণ করে। দুঃখ পেলে আমরা সকল আত্মারা পরমাত্মাকে স্মরণ করি। আবার যখন আমরা
আত্মারা স্বর্গে থাকি তখন বাবাকে স্মরণ করি না। এই আত্মা বলছে, বাবাকেই আহ্বান করবো তাই না! সাধারণ মানুষ তো
তাঁর অক্যুপেশন, বায়োগ্রাফি কিছুই
জানে না। না ড্রামার রহস্যকে জানে যে কিভাবে আত্মা চক্রে আবর্তিত হয়। বাচ্চারা
তোমরা এখন জানো যে - মায়া রাবণ দুঃখ দেয়। এই রাবণ রাজ্য শুরু হয় দ্বাপর থেকে। এটাও
বোঝাতে হবে, কেননা এটা কারো
জানা নেই যে সবথেকে পুরানো শত্রু হল রাবণ। তারই মতে এই পার্টিশান ইত্যাদি হয়েছে।
বাচ্চারা এখন
তোমরা বুঝে গেছো যে আমরা শ্রীমতে চলে ভারতকে স্বর্গ বানাচ্ছি। তিনিই হলেন সকলের
সদ্গতিদাতা। তিনি যখন আসেন তখনই ব্রহ্মা, বিষ্ণু শংকরের দ্বারা কার্য করিয়ে নেন। উচ্চ থেকেও উচ্চতম এক বাবা-ই আছেন,
তাঁর বায়োগ্রাফি কেউ জানে
না। এই খেলা এইরকম তৈরী হয়ে আছে। তো বাবা বোঝাচ্ছেন যে সবথেকে বড় শত্রু হল রাবণ।
তার উপরে বিজয় প্রাপ্ত করতে হবে। বাবা তাদেরকেই বোঝাচ্ছেন, যারা কল্প পূর্বে বুঝেছিল। তারাই এসে শূদ্র
থেকে ব্রাহ্মণ হয়। এখন ভেবে দেখো সত্যযুগ থেকে ত্রেতার অন্ত পর্যন্ত কতো সম্প্রদায়
বৃদ্ধি পেয়েছে। তো এত সবাইকে জ্ঞান দেওয়ার সার্ভিস করতে হবে। সকলের মধ্যে জ্ঞানের
বীজ রোপন করতে হবে। জ্ঞানের তো বিনাশ হয় না। যারা যুদ্ধ করছে (সৈনিক) তাদেরকেও
উদ্ধার করতে হবে। আমাদের দৈবী সম্প্রদায়ের আত্মা যেখানেই থাকবে, তারা ঠিক বেরিয়ে আসবে। যুদ্ধক্ষেত্রের সৈনিকদের
জন্য বলা হয় যে যুদ্ধের ময়দানে শহীদ হলে স্বর্গে যেতে পারবে কিন্তু শুধু মুখে
বললেই স্বর্গে যেতে পারবে না, যতক্ষণ না তোমরা
তাদেরকে জীবনের লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানাচ্ছো। জীবনের লক্ষ্য কেবল
ব্রাহ্মণেরাই দিতে পারে, মরতে তো হবেই।
মুসলমান আল্লাহ্কে স্মরণ করবে, শিখ গুরুনানককে
স্মরণ করবে, কিন্তু স্বর্গে
থোড়াই যেতে পারবে। সঙ্গমের সময় স্বর্গে যেতে হয়। তো এই পার্থিব জগতের সৈনিকদেরকে
তোমরা ব্রাহ্মণেরা ছাড়া আর কেউ এই মন্ত্র দিতে পারবে না। স্বর্গের মালিক বানাচ্ছেন
সবথেকে উচ্চ সেই বাবা। এটা তো ঠিক আছে যে ভগবানুবাচ - যুদ্ধক্ষেত্রে যুদ্ধ করতে
করতে শরীর ত্যাগ করলে স্বর্গে যেতে পারবে। কিন্তু কোন্ যুদ্ধ? যুদ্ধ হল দুই প্রকার। একটা হল আত্মিক আর অন্যটি
হল শারীরিক। ওই বন্দুকধারী সৈনিকদেরকেও তোমরা জ্ঞান শোনাতে পারো। গীতাতেও আছে
মন্মনা ভব। নিজের বাবাকে আর স্বর্গকে স্মরণ করো তাহলে স্বর্গে যেতে পারবে। যখন
সঙ্গম যুগ হবে তখনই তোমরা স্বর্গে যেতে পারবে। সেসব হল পার্থিব জগতের কথা আর এ হল
আধ্যাত্মিক কথা। আমাদের হল মায়ার উপর জয়ী হওয়ার যুদ্ধ। মৃত্যুর সময় মানুষের কানে
মন্ত্র দেওয়া হয়। মৃত্যু হতে পারে জেনেও এরা যু্দ্ধক্ষেত্রে যায়, তাই এদেরকে বাবার সন্দেশ দিতে হবে। একদিন
সরকারও তোমাদেরকে বলবে যে এই জ্ঞান সবাইকে দাও। তোমরা হলে গডলী মিশনারী। তোমাদের
কাজ হলো অনেকের কল্যাণ করা, বলো - ভগবানকে
স্মরণ করো। এখন স্বর্গ স্থাপন হচ্ছে তো তারা শুনে অনেক খুশী হবে। যারা এই কুলের
হবে তারা তোমাদের কথাকে মান্যতা দেবে। যারা দেবতাদের মান্য করে তারা এই কথাগুলিকে
বুঝবে, তো সকলের কল্যাণ করতে
হবে। বাবাকে স্মরণ না করলে স্বর্গে যেতে পারবে না। স্বর্গের স্থাপনকর্তা বাবাকে
যখন স্মরণ করবে তখনই কল্যাণ হবে। বাবা বুঝিয়েছেন যে জগতিক সৈনিকেরা যুদ্ধ করতে
করতে শরীর ত্যাগ করার সময় সেই সংস্কার নিয়ে যায় তাই পুনরায় পরবর্তী জন্মে
যুদ্ধক্ষেত্রেই আসতে হয়। আত্মা, সংস্কার নিয়ে যায়
তাই না! স্বর্গে তো যেতে পারবে না। যারা ভারতের সেবা করে, তারা ফল তো অবশ্যই পাবে। তো তাদেরকেও সার্ভিস
করতে হবে, বড়-বড়দের বোঝাতে
হবে। তোমাদের প্রভাব প্রতিফলিত হবে। তোমাদেরকে বলবে - এখানে এসে ভাষণ করো। যেরকম
মেজর বাবাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। যেখানে সেখানে বোঝানোর জন্য ঢুকে যেতে হবে।
বড়দেরকে বোঝালে অনেক ছোটোরাও বেরিয়ে আসে। কিন্তু গুরুকে আগে বোঝালে তার চ্যালা বা
শিষ্যরা তার মাথাই খারাপ করে দেবে, তারপর সেই গুরুকে
সরিয়ে অন্য কাউকে গদিতে বসিয়ে দেবে, কেননা এটা হলো সম্পূর্ণ নতুন কথা তাই না। সমগ্র দুনিয়াতে একটা মানুষও গীতাকে
সম্পূর্ণরূপে বোঝে না। বলে যে অবশ্যই রুদ্র জ্ঞান যজ্ঞের দ্বারা বিনাশ জ্বালা
প্রজ্বলিত হয়েছিল, তারপর কি হয়েছিল
এটা কেউ জানে না। সাধারণ মানুষ কিছুই জানে না। এই সময় সবাই হল তমোপ্রধান।
খ্রীষ্টানরাও এটা মনে করে যে ক্রাইস্ট এখানে ভিক্ষুক রূপে আছেন। পুনরায় ভিক্ষুক
থেকে ধনবান কে বানাবে? সকলের সদ্গতিদাতা
তো হলেন একজনই, তিনি হলেন
পরমাত্মা । অতএব তোমরা বাচ্চারা যদি ভালোভাবে বসে বোঝাও তাহলে অনেকের কল্যাণ করতে
পারবে। বাবা-ই হলেন স্বর্গের রচয়িতা পতিত পাবন, তো তাঁর শ্রীমতে চলতে হবে। যারা যোগ্য হবে তারা
ঠিকই বেরিয়ে আসবে। স্বদর্শন চক্রের বা মন্মনা ভর-র অর্থ যাদের বুদ্ধিতে আছে
তাদেরকেই ব্রাহ্মণ বলা হবে। ব্রাহ্মণ না হলে দেবতা হতে পারবে না। প্রজা তো অনেক
হবে। ত্রেতার অন্তিম পর্যন্ত যারা আসবে সেই আত্মাদের এখন এই মন্ত্র প্রাপ্ত হবে।
তীর তাদেরই লাগবে যারা আমাদের কুলেরই হবে। তোমাদের তীরে এখন তীক্ষ্ণতা আসতে থাকে।
তারপর ভবিষ্যতে অতি তীক্ষ্ণভাবে বাণ বিদ্ধ হবে। সন্ন্যাসীদেরও বাণ লেগেছে, তাই না! তখন মনে করে এই তীর ভগবানই মেরেছেন।
তোমাদের জ্ঞান-বাণ এখন তীক্ষ্ণতর, সূক্ষ্ম হয়ে
যাচ্ছে। মুখ্য বাণ হলো একটিই -- মন্মনাভব। বাবা যথার্থ ভাবেই বুঝিয়ে দিয়েছেন যে এ
হল সঙ্গম যুগ, যেখান থেকে
তোমরা স্বর্গে যেতে পারবে। মহাভারতের যুদ্ধও সামনে অপেক্ষারত। সেটাও হল যুদ্ধের
ময়দান, এটাও হল যুদ্ধের ময়দান।
মায়ার উপর জয়ী হওয়ার জন্য পরিশ্রম করতে হয়। সাধারণ প্রজাও অনেক হবে। যারা এই কুলে
আসার নয়, তাদের কোনও কিছুই
স্মরণে আসবে না। সার্ভিসের জন্য বিচার সাগর মন্থন করতে থাকবে তো তখন তোমাদের
বুদ্ধিতে জ্ঞানের পয়েন্ট্স আসবে। সেই যুদ্ধেও বিচার সাগর মন্থন চলবে যে - এই এই
রকম করলে জয়ী হওয়া যাবে। বুদ্ধি তো চলতেই থাকে তাই না। প্র্যাক্টিসও করতে থাকে।
যখন সম্পূর্ণ সুদক্ষ হয়ে ওঠে তখনই ময়দানে যুদ্ধ করতে যায়। তোমাদের কাছে অগণিত
জিজ্ঞাসু আসবে। ভগবানের দরবারে ভক্তদের ভিড় তো হবেই, মশার মতো ঝাঁকে ঝাঁকে আসবে। প্রাইম মিনিস্টার
বা কিং কুইনের সামনেও এতো ভিড় হয় না, যতটা ভগবানের কাছে ভক্তদের ভিড় হবে। তখন সেই ভাবনা নিয়ে আসবে। কোনও খারাপ
চিন্তা থাকবে না। ইনি তো হলেন নিরাকার বাবা তাই না। তো বোঝা যায় যে ভগবানের সামনে
ভক্তদের ভিড় হওয়া চাই, সবাইকে এখানেই
আসতে হবে। এখানে তোমাদের জড় স্মরণিক একদম অ্যাক্যুরেট আছে। শিববাবারও চিত্র আছে,
জগৎপিতা, জগৎ অম্বাও আছেন। এটা হল তোমাদের এই সময়কার
গ্রুপ - শক্তি সেনার গ্রুপ। আচ্ছা!
মিষ্টি-মিষ্টি
হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত।
আত্মাদের পিতা ওঁনার আত্মা রূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।
ধারণার জন্যে
মুখ্য সারঃ-১ ) ব্রাহ্মণ থেকে দেবতা হওয়ার জন্য স্বদর্শন চক্র আর মন্মনা ভব-র অর্থ
বুদ্ধিতে যথার্থ রীতিতে ধারণ করতে হবে। সবাইকে লক্ষ্যের বিষয়ে অবগত করার সেবা করতে
হবে।
২ ) মায়ার
বিরুদ্ধে জয়ী হওয়ার জন্য বিচার সাগর মন্থন করে জ্ঞানের গভীরে যেতে হবে। রত্ন বের
করে আনতে হবে।
বরদানঃ-পবিত্রতার
স্টেজ এর দ্বারা অবিনাশী ঈশ্বরীয় আনন্দের অনুভবকারী হোলীহংস ভব
হোলি-তে সবাই
নিজেকে বড়-ছোটো ভুলে সবাই এক সমান মনে করে আনন্দে খেলায় মেতে ওঠে, শত্রুতার সংস্কার ভুলে মঙ্গল মিলন করে। এই
রেওয়াজও এই সময়কার। বাচ্চারা তোমরা যখন হোলি অর্থাৎ পবিত্রতার স্টেজে থাকো,
বাবার সঙ্গ-এর রঙে রঙ্গীন
হয়ে ওঠো তখন ঈশ্বরীয় আনন্দে দেহ বোধ বা ভিন্ন-ভিন্ন সম্বন্ধের বোধ, নিজেকে ছোটো বা বড় ভাবা - এই সবকিছু বিস্মৃত
হয়ে একটাই আত্ম স্বরূপের ভাব থাকে। এটাই হল হোলী হংসের স্থিতি। এরই স্মরণিক রূপে
প্রতি বছর হোলি উৎসবের রূপে পালন করে থাকে।
স্লোগানঃ-যার
জীবনে শীতলতা রয়েছে, তারা অন্যদের
ক্রোধে তপ্ত চিত্তকে জয় করে নিতে পারবে।
No comments:
Post a Comment