Wednesday, March 15, 2023

16.03.2023 BANGLA MURLI

                     16.03.2023 BANGLA MURLI



 "মিষ্টি বাচ্চারা - বাবা এসেছেন বাচ্চারা তোমাদের আসরে, এখন তোমরা জ্ঞান অমৃতের আসরে মেতে রয়েছো, তোমাদের প্রবাস ভ্রমণ (মুসাফিরি) এখন পূর্ণ হয়েছে, এখন ঘরে ফিরে যেতে হবে"

প্রশ্নঃ -  অনেক রকমের ঝড়-ঝঞ্ঝার মধ্যেও স্মরণকে সহজ বানানোর বিধি কি?

উত্তরঃ - শরীর নির্বাহের জন্য কর্ম করার সময় ৫-১০ মিনিটও বুদ্ধিকে শিববাবার সাথে যুক্ত করার চেষ্টা করো, এই শরীরকে ভুলতে থাকো। আমি অশরীরী আত্মা, নিজের পার্ট প্লে করার জন্য এই শরীরে এসেছি। এখন আবার অশরীরী হয়ে ঘরে ফিরে যেতে হবে। এমনিভাবে নিজের সাথে নিজে কথা বলো। একমাত্র সত্য পিতার সঙ্গ নিয়ে তাঁর সাথে বুদ্ধিযুক্ত হও, অন্যান্য সঙ্গ থেকে নিজেকে সামলে রাখো - তবেই স্মরণ সহজ হয়ে যাবে।

*গীতঃ-  তুমি এসেছো আমার হৃদয়ে...

ওম্ শান্তি । বাচ্চারা এই সংগীত শুনলো আর তার তাৎপর্যও নিশ্চয়ই বাচ্চারা আপন হৃদয়ে অনুভব করেছে । তবুও বাবা তোমাদেরকে বোঝাতে থাকেন, কারণ বাবা এখন এই আসরে এসেছেন। এই আনন্দ আসর যেমন তোমাদের তেমন আবার সমগ্র দুনিয়ার জন্যেও। ভগবান বলেন যে আমি আসি ভক্তদের আসরে সুতরাং এখানে সবাই ভক্ত। তাদের মধ্যেও বিশেষ সেই সকল ভক্তদের আসরে আমি আসি, যারা আমার কাছ থেকে অর্থাৎ পরমপিতা পরমাত্মার কাছ থেকে উত্তরাধিকার নিতে এসেছে। যে আত্মাদের বুদ্ধিতে এখন পরমপিতা পরমাত্মার স্মৃতি রয়েছে তাদের আসরেই আমি হাজির থাকি। আনন্দ আসরে কিছু খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা থাকে। বাবা বলেন - বাচ্চারা, তোমাদেরকে এখন আমি জ্ঞান অমৃতের আসরে বসিয়েছি। যে বাবাকে আপন করে নিয়ে তাঁর হয়ে গেছে, সে বুঝতে পারে যে আমাদের এই আনন্দ আসরে বাবা এসেছেন । পুনরায় ক্রম অনুযায়ী একে একে সকলকে ঘরে ফিরিয়ে নিয়ে যাবেন। বাচ্চারা, তোমাদের জন্য এ অত্যন্ত বিশেষ এক আনন্দের আসর আর সাধারণ ভাবে সকলের। যেখানে বাবা থাকবেন সেখানে আমরা, তাঁর সন্তানেরাও অবশ্যই থাকবো। বাবা বলেন - আমিও অশরীরী, যখন তোমরা অশরীরী ছিলে, তখন তোমরা আমার কাছেই ছিলে। বাবা ৫ হাজার বছর পূর্বের পুরানো স্মৃতি মনে করিয়ে দিচ্ছেন। বলা হয় - লং লং এগো (অনেক অনেক বছর আগে একসময়ের কথা)...। ৫ হাজার বছর বেশী কোনো মুসাফিরী হয় না । শিব ভগবান কখন এসেছিলেন - ভারতবাসী বাচ্চারা তা ভুলে গেছে। কিন্তু তাঁর জন্মজয়ন্তী পালন করতে থাকে। মানুষ বলতে থাকে যে - তিনি এসেছিলেন অবশ্যই, লং লং এগো..., কিন্তু কবে এসেছিলেন - তা সঠিক কেউ জানে না। কেউ বলে - কয়েক লাখ বছর আগে তিনি এসেছিলেন, কেউ বা অন্য কিছু বলে । অ্যাক্যুরেট তো কারোরই জানা নেই। তা শুধুমাত্র বাবাই বলতে পারেন যে তিনি কখন এসেছিলেন। বাবা বলেন - বাচ্চারা, ৫ হাজার বছর পূর্বেও ঠিক এমন ভাবেই আমি তোমাদের কাছে এই আনন্দের মিলন আসরে এসেছিলাম। জগতের মানুষ শিব জয়ন্তী তো পালন করে। সেই দিনে তাদেরকে গিয়ে জিজ্ঞাসা করো যে - এই শিব জয়ন্তী কত বছর ধরে চলছে? গান্ধীজীর জন্মজয়ন্তী যখন পালন করা হয়, তখন চট করে তারা বলে দিতে পারে যে কত বছর অতিবাহিত হয়েছে, কিন্তু শিবের বিষয়ে কেউই বলতে পারবে না। কিন্তু বাচ্চারা, এখন তোমরা জানো যে শিববাবার এখানে আসার পর অনেক সময় কেটে গেছে। সাধারণ মানুষ তো এইসব কিছুই জানেনা, তারা বলে যে শিব হলেন জনম-মরণ রহিত, তাঁর নাম রূপ নেই। আরে, যদি তাঁর নাম রূপ নেই, তাহলে কার জয়ন্তী পালন করছো? তিনি নাম রূপ ছাড়া হতে পারেন না। নিশ্চয়ই তিনি ভারতেই এসেছিলেন, তাইতো তাঁর জয়ন্তী পালন করো তাই না। তাহলে তাঁর যে নাম রূপ নেই - তা কি করে বলতে পারো? তাঁকে স্মরণ তো করো কিন্তু তিনি কখন এসেছিলেন? অবশ্যই যখন ভক্তির সময় পূর্ণ হবে তখন ভগবানকে আসতে হবে, তোমরা তাঁকে ঘরে বসে বসেই পেয়ে গেছো। ভগবান কি রূপে আসেন, তা কেউ জানে না। লোকেদেরকে অত্যন্ত চতুরতার সাহায্যে এ কথা জিজ্ঞাসা করতে হবে আর তারপর তা বোঝাতেও হবে। ভগবান তো নিরাকার। তোমরা তাঁর পূজা করে থাকো, বলো যে হে পরমাত্মা, হে ভগবান - কেউ তাঁকে দেবতা বলে না । ব্রহ্মা-বিষ্ণু-শঙ্কর হলেন দেবতা। সুতরাং এই চিত্র দেখিয়ে তা বোঝাতে হবে। তোমরা যখন শিবের মন্দিরে যাবে তখন সাধারণ মানুষকে জিজ্ঞাসা করবে যে - তিনি কখন এসেছিলেন, কীভাবে এসেছিলেন? নিরাকারী দুনিয়া থেকে তো সকলেই আসে। পরমপিতা পরমাত্মাকে পতিত-পাবন বলা হয়ে থাকে, তাহলে সত্যিই কি তিনি এমন কিছু করেছিলেন? তিনি পতিতকে পবিত্র কীভাবে করেছিলেন ? নিশ্চয়ই তিনি সাকারে এসে মুখের দ্বারা বুঝিয়েছিলেন। কোনো শিক্ষা প্রদান করেছিলেন। এমনিই তো কেউ বলতে পারে না! নিশ্চয়ই মনুষ্য তনেই আসবেন। ভগবান আসেন নতুন দুনিয়ার রচনা করতে। সুতরাং তিনি অবশ্যই কারোর তনে এসেছিলেন। গায়ন রয়েছে যে - ব্রহ্মার মুখ দ্বারা মনুষ্য সৃষ্টি রচনা করা হয়েছিল। এই সৃষ্টির নাম মনুষ্য সৃষ্টি, এর নাম ব্রাহ্মণ সৃষ্টি হিসেবে লেখা নেই। ব্রহ্মার মুখকমল থেকে মানুষের রচনা করা হয়েছিল, সুতরাং ব্রহ্মার সন্তান অবশ্যই ব্রাহ্মণ হবেন। প্রজাপিতা ব্রহ্মা অবশ্যই ব্রাহ্মণ ব্রাহ্মণীদের রচনা করেছিলেন। শুধুমাত্র মেল-দের রচনা করলে বৃদ্ধি কীরূপে সম্ভব ? কিম্বা শুধুমাত্র ফিমেলদের রচনা করলেও বৃদ্ধি কীরূপে সম্ভব? সেই কারণে উভয়কেই রচনা করেছেন - ব্রহ্মাকুমার এবং ব্রহ্মাকুমারী, তবেই তো ব্রাহ্মণ সম্প্রদায় তৈরি হবে। পরমপিতা পরমাত্মাই হলেন রচয়িতা, তিনি ব্রহ্মার দ্বারা মনুষ্য সৃষ্টি রচনা করেছেন, তাই তাঁকে অবশ্যই ব্রহ্মার দেহে প্রবেশ করে এখানে আসতে হয়েছে। এই সকল কথা যে ভালোভাবে বুঝে জীবনে ধারণ করবে, সেই তারপর অন্যদেরকে বোঝাতে পারবে। যে সম্পূর্ণ রাজযোগী হবে সে বাবাকে আর রাজত্বকে স্মরণ করবে, সেইজন্যই বাবা বলেন - বাচ্চারা, স্বদর্শন চক্রধারী হও। সবাই তো পুরোপুরি স্মরণ করে না। বাচ্চারা বাবার কাছে আসে আর বলে - জ্ঞান তো খুবই সহজ আর আমরা চক্রকেও বুঝে গেছি। ৮৪ জন্মের রহস্যও ঠিকঠাক বুঝে গেছি। ৮৪ জন্ম তো অবশ্যই নিয়ে থাকে। আর যারা প্রথম স্থান অধিকারী তারাই ৮৪ জন্মগ্রহণ করবে - এইসব তো ঠিকই আছে। কিন্তু তাঁর স্মরণে থাকা - এ বড় কঠিন। যোগে অনেক রকমের ঝড়-ঝঞ্ঝা আসে, কীভাবে সেসব নিজের করায়ত্ব করা যাবে? তার কি উপায়? কোন্ সময়ে বাবাকে ঠিকভাবে স্মরণ করা যায়? তখন বাবা বুঝিয়েছেন - এমনিতে তো চলতে-ফিরতে উঠতে-বসতে স্মরণ করো। এই যে এখন তোমরা এখানে বসে আছো, যদি তোমাদেরকে জিজ্ঞাসা করি যে নিজের বিবাহিত স্ত্রীকে স্মরণ করো ? যেইমাত্র স্ত্রীর কথা শুনবে অমনি ঝট করে বুদ্ধিতে স্ত্রীকে মনে পড়ে যাবে। বুদ্ধি এইভাবেই কাজ করে। ঠিক সেই ভাবেই তোমরা শরীর নির্বাহ করার জন্য কর্ম করতে থাকো কিন্তু শিববাবার সাথে বুদ্ধিযোগে যুক্ত হয়ে থাকার চেষ্টা করো। ৫ মিনিট, ১০ মিনিটও স্মরণ করো। তবে হ্যাঁ, মায়াও অবশ্যই বিঘ্ন সৃষ্টি করবে। অত্যন্ত তীব্র বেগে ঝড় আসবে বুদ্ধিকে তার স্থিতি থেকে বিচ্যুত করার জন্য। তথাপি তোমরা নিজেদের পুরুষার্থ করতে থাকো। এই দেহের স্মৃতি ভুলে থাকা অথবা বাবার স্মৃতিতে ডুবে থাকা - দুটো একই কথা। নিজেকে অশরীরী আত্মা রূপে বুঝতে হবে। আমি প্রকৃতপক্ষে অশরীরী ছিলাম। নিজের পার্ট পালন করার জন্য এই শরীর ধারণ করেছি, পুনরায় অশরীরী হয়ে ঘরে ফিরে যাব। বুদ্ধিতে যেন সর্বদা বাবা আর বাবার বাড়ি স্মরণে থাকে, বাবার বাড়ি হলো সেটাই - যেখানে এখন ফিরে যেতে হবে। তারপর বুদ্ধিতে এটাও আছে যে বাবার সম্পত্তি (প্রপার্টি) হলো সত্যযুগ। সুতরাং এক বাবার স্মৃতি মনে থাকলে সত্যযুগও স্মরণে থাকবে। ভক্তিমার্গ অথবা জ্ঞানমার্গে বুদ্ধি তো অন্যদিকে চলে যায়। কন্যার যখন বিবাহের সম্বন্ধ পাকা হয়ে যায় তখন তারা একে অপরকে সদা মনে রাখে। ভক্তি মার্গেও যদি কেউ আরাধনা করতে বসে তখনও মায়া বিঘ্ন সৃষ্টি করে। তখন তাদের বুদ্ধি কাজকর্ম ব্যবসা ইত্যাদির দিকে ধাবিত হবে। মায়ার শত্রুতা আছে না! ভক্তরা দেবতাদেরকে যখন স্মরণ করে তখনও তাদের বুদ্ধি অন্য নানান দিকে ধাবমান হয়। মায়া বুদ্ধিকে কোনো সঠিক স্থানে টিকে থাকতে দেয় না। যখন অফিসে যাও তো সেই কাজেই বুদ্ধি যুক্ত হয়ে থাকে। পড়াশোনা করে পরীক্ষায় পাস করেছ তাই সেই কাজ করতে বুদ্ধি সহজে যুক্ত হয়ে থাকে। অব্যক্ত জিনিসে বুদ্ধিযুক্ত করতে গিয়ে মায়া অনেক হয়রানি সৃষ্টি করে। ভক্তদেরও অতি কষ্টেই সাক্ষাৎকার হয়ে থাকে । যখন অত্যন্ত তীব্র ভক্তি করে তবেই বাবা তাতে প্রসন্ন হন। এখন তো ভক্তির কথা হচ্ছে না। এখন তো হলো নলেজ । বাস্তবে ভক্তিও শুধু এক এরই করা উচিত। অব্যাভিচারী ভক্তি হলে তবেই সাক্ষাৎকার হওয়া সম্ভব। এখন তা ব্যভিচারী ভক্তিতে পরিণত হয়েছে, সকলকেই স্মরণ করতে থাকে। তাই বাবা সাক্ষাৎকারও করান না। এক এর উপরে সম্পূর্ণ নিশ্চয় থাকলে তবেই বাবা সাক্ষাৎকার করাবেন। তাই বাবা বুঝিয়ে দেন - একমাত্র আমাকে স্মরণ করো। মুখে কিছু বলার দরকার নেই। যখন তোমরা নিজের স্ত্রীকে স্মরণ করো, তখন মুখে কিছু কথা বলার প্রয়োজন পড়ে কি? মনে পড়া মাত্রই বুদ্ধি স্ত্রীর দিকে ধাবিত হয়। এই অসীম জগতের বাবা সর্বদাই তোমাদেরকে সুখ প্রদান করবেন। এখন তোমাদের গাঁটছড়া বেঁধে দেওয়া হয়েছে সেই পরমপিতা পরমাত্মার সাথে। তাই তাঁকে স্মরণ করবার চেষ্টা করো। মায়া তো অনেক রকমের ঝড় তুলবেই। যদি সমগ্র দুনিয়াও তোমাদের শত্রু হয়ে যায়, তবুও কখনো যেন বাবাকে ভুলে যেও না। বাবাকে যত স্মরণ করবে ততই বিকর্ম বিনাশ হবে। এমন অনেক মানুষই রয়েছে যারা সারাদিনে একবারও ভগবানের নাম স্মরণ করে না, অত্যন্ত কুসঙ্গে পড়ে যায়। সেইজন্যই বলা হয় - সৎসঙ্গে স্বর্গবাস, অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ..... একমাত্র সত্য পরমপিতা পরমাত্মার সঙ্গই তোমাদেরকে পতিত থেকে পবিত্র করে তুলতে পারে। এখন সমগ্র দুনিয়া পতিত হয়ে গেছে - তাদের সঙ্গের প্রয়োজন এখন পতিত-পাবনের। সেইজন্যই তাঁকে এখানে সাকারে আসতে হবে, তাই না। সত্য তো একজনই, এই সত্যের আসরেই তোমরা এখন বসে আছো। তোমরা জানো যে এখন আমরা আত্মারা পরমপিতা পরমাত্মার অমূল্য সঙ্গ লাভ করছি, তাঁর সাথে রয়েছি । বাবা বলেন - আমাকে স্মরণ করার মাধ্যমেই তোমাদের বিকর্ম বিনাশ হবে। সৎ সঙ্গে থাকলে মুরলী শুনবে, বুদ্ধিযোগ একমাত্র বাবার সাথে যুক্ত থাকবে। এমন সঙ্গ করলে তবেই উদ্ধার পাবে অর্থাৎ পবিত্র করে তুলবেন তিনি । পবিত্র না হলে তাঁর কাছে কেউ যেতে পারে না। বাবা নিজেই শিখিয়ে দেন যে তাঁর সাথে কীভাবে আমরা যোগ যুক্ত হয়ে থাকতে পারি। আমাদেরকে পড়ানোর জন্য তিনি নিজে এসে পড়ান। বুদ্ধির যোগ অন্যান্য সকল সঙ্গ ত্যাগ করে শুধু এক বাবার সঙ্গে যুক্ত করতে হবে তবেই বিকর্ম বিনাশ হবে - এছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই। পবিত্র দুনিয়া হলো স্বর্গ, সেখানে সুখ হলো অপার। ওখানে কোনো দুঃখ নেই, কোনো দৈত্য নেই। ওখানে কোনোরকম দুঃখের নামটুকুও থাকে না, তাও আবার ২১ জন্মের জন্য। বাবা তো এখানে এসে আমাদেরকে পড়ান। ভগবানবানুবাচ - আমি তোমাদেরকে রাজার রাজা বানানোর জন্য সহজ রাজযোগ শিখিয়ে দিই। সাধারণ মানুষের বুদ্ধিতে তো শুধুমাত্র শ্রীকৃষ্ণের ছবি ভেসে ওঠে। বাচ্চারা, তোমাদের বুদ্ধিতে রয়েছে যে, আমাদেরকে যিনি পড়াচ্ছেন তিনি হলেন শিববাবা, তিনি জ্ঞানের সাগর। বাচ্চারা, তোমাদেরকে তিনি এই জ্ঞান প্রদান করছেন। এ হলো স্বদর্শন চক্রধারী হওয়ার জ্ঞান, ত্রিকালদর্শী হয়ে ওঠার জ্ঞান। ত্রিকালদর্শী অর্থাৎ যে ৩ কালকেই জানে। এই সৃষ্টির আদি-মধ্য-অন্তকে জানা আর তিন লোক সম্বন্ধে জানা। এখন তোমরা মূলবতন, সূক্ষ্মবতন স্থূলবতন - এই তিন লোক সম্বন্ধে জানো। তোমাদের মধ্যেও ক্রম অনুযায়ী আপন আপন পুরুষার্থ অনুযায়ী সকলে জানতে পারে। এতে আর কোনো কষ্ট করতে হয় না। জীবনযাপন করার জন্য কাজ তো করতেই হবে। এমন নয় যে কন্যাদেরকেও জীবন যাপনের প্রয়োজনীয় অর্থ উপার্জনের জন্য হন্যে হয়ে ঘুরতে হয় । তাদেরকে তো পতির কাছেই থাকতে হবে। পতিকেই জীবিকা নির্বাহ করতে হবে। মেয়েদেরকেও নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে। এক পৌরাণিক কাহিনীতে রয়েছে যে - একজন কন্যা তার পিতাকে বলেছিল যে, সে নিজের ভাগ্যে খায়। সুতরাং কন্যাগণ, তোমরাও নিজেদের পুরুষার্থ করছো। যত পড়াশুনা করবে, শ্রীমৎ অনুযায়ী চলবে তবেই ২১ জন্মের জন্য রাজত্ব করতে পারবে। কন্যাদের কাজই হল পড়াশুনা করা আর শ্বশুরবাড়ি যাওয়া। তোমাদেরকেও বিষ্ণুপুরী অর্থাৎ স্বর্গে পাঠানো হয়। তোমরা যত পড়াশোনা করবে, ততই উচ্চপদ লাভ করবে। তারা তো কিছু কথা কাহিনী বলে থাকে মাত্র। প্রকৃতপক্ষে এ তো এখনকার কথা। বাবা নিজে এসে এই সমস্ত রহস্য বুঝিয়ে দেন। তোমরা সকলেই হলে কন্যা। অধর কন্যারাও নিজেদের জীবন গঠন করছে। বাবা এমন কর্ম শিখিয়ে দেন যার ফলে কখনো দুঃখী অথবা বিধবা হতে হবে না। তা সত্ত্বেও অতি বিরল কেউ নিজের উচ্চভাগ্য গড়ে তুলতে পারে। কেউ কেউ তো সেই ভাগ্য গঠন করতে করতেও আশ্চর্যবৎ ভাগন্তি হয়ে যায়, বাবাকেও তালাক দিয়ে দেয়। ডাইভোর্সও দিয়ে দেয়, কারণ শিববাবা যেমন বাবাও তেমনি তিনি পতিরও পতি। এই রকম বাবাকেও বাচ্চারা দূরে সরিয়ে দিয়ে চলে যায়! নিজেদের দুর্ভাগ্য নিজেরাই ডেকে আনে। তাঁর সজনী হলেও তাঁকে ডাইভোর্স দিয়ে দেওয়ার জন্য এখন তার আর কানাকড়িও মূল্য থাকবে না। এটাও বলা হয়ে থাকে - আশ্চর্যবৎ ডাইভোর্স দেবন্তি, বিচ্ছেদ করন্তি...। যে বাবার থেকে ২১ জন্মের জন্য রাজ্য ভাগ্য প্রাপ্ত হয়, তাঁকেও ধোঁকা দিয়ে দেয়। কেউ কেউ এসে অবশ্যই বাবার হবে। কেউ কেউ মহামূর্খও হবে, যারা বাবার হয়েও বাবার সাথে সম্পর্ক ছেদও করবে, ডিভোর্সও দিয়ে দেবে। তাদের চালচলনেই তা বুঝতে পারা যায়। বিকারের বশীভূত হয়ে যায়, তারপর লুকিয়ে লুকিয়ে বাবার কাছে এসে বসে আর বাবাকে লিখে পাঠায় যে, বাবা ভুল হয়ে গেছে, ক্ষমা করে দাও। এখন তারা যে শতগুণ দণ্ডের ভাগী হয়ে গেছে, তা কি করে ক্যানসেল হতে পারে? বাবার কাছে সত্যি কথা বলে, ভুল স্বীকার করে নিলে অর্ধেক মাফ হয়ে যাবে। তাই বাবা বলেন - লুকিয়ে লুকিয়ে কখনো বিকারে যেও না। ফ্যামিলিয়ারিটিতেও (কারোর সাথে ঘনিষ্ঠতাতে) যেও না। ক্রোধও অনেক বড় ভূত, অনেকের দুঃখের কারণ হয়। বাবাকে ৫ বিকারের দান দিয়ে আবার তা ফিরিয়ে নিলে পদভ্রষ্ট হয়ে যাবে। আচ্ছা!

 

মিষ্টি - মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা - পিতা, বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত । আত্মাদের পিতা ওঁনার আত্মারূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার ।

ধারণার জন্যে মুখ্য সারঃ-১ ) নিজের উচ্চ ভাগ্য গঠন করার জন্য বিকর্ম বিনাশ করার পুরুষার্থ করতে হবে। পড়াশুনায় সম্পূর্ণ মনোযোগ দিতে হবে।

২ ) কুসঙ্গ থেকে নিজেকে সামলে রাখতে হবে। পতিতপাবন বাবার সঙ্গের দ্বারা নিজেকে পবিত্র বানাতে হবে।

বরদানঃ-স্বদর্শন চক্রধারী হয়ে প্রতিটি কর্ম চরিত্রের রূপে করে মায়াজীত, সফলতামূর্তি ভব

বাবার প্রতিটি কর্ম যেমন চরিত্রের রূপে গাওয়া হয়ে থাকে, তেমনভাবে তোমাদেরও প্রতিটি কর্ম চরিত্রের সমান হোক। যারা বাবার সমান স্বদর্শন চক্রধারী হয়েছে, তাদের দ্বারা কখনো সাধারণ কর্ম হতে পারে না। স্বদর্শন চক্রধারীর লক্ষণই হল সফলতার স্বরূপ। যে কার্যই করবে তাতে সফলতা সমাহিত হয়ে থাকবে। স্বদর্শন চক্রধারী মায়াজিৎ হওয়ার জন্য সফলতামূর্তি হবে আর যে সফলতামূর্তি, সে হলো প্রত্যেক পদক্ষেপে পদমাপদম পতি।

স্লোগানঃ-খুশির সমর্থ সংকল্প গুলির রচনা করো, তবেই তন-মন এর দ্বারা সর্বদা আনন্দে থাকবে।


No comments:

https://bkrajyogpathshala.blogspot.com/

01-04-2026 Bengali Murli

 মিষ্টি বাচ্চারা - বাচ্চারা, বাবা যা, বাবা ঠিক যেমন, তোমরা বাচ্চারাও তাঁকে নম্বর ক্রমানুসারেই চিনেছো, যদি সকলেই তাঁকে চিনে গেলে তবে তো অত্যন...