19.03.2023 BANGLA MURLI
"ব্রাহ্মণদের নেচার হলো বিশেষত্বের নেচার - একে
ন্যাচারাল স্মৃতি স্বরূপ বানাও"
এই অব্যক্ত বর্ষে
প্রত্যেকের লক্ষ্য কী ছিল? নিরাকারী
স্থিতিতে নিরাকার বাবার সমান অশরীরী স্থিতির অনুভব করেছো? সাকার কর্মে ব্রহ্মা বাবার সমান হওয়ার নম্বর
ক্রমানুসারে অনুভব করেছো? তো বিশেষ জীবনের
আধার হলো বিশেষ জন্ম, ধর্ম আর শ্রেষ্ঠ কর্ম।
লৌকিক জীবনেও যেমন কোনো আত্মার জন্ম যদি বিশেষ রাজ পরিবারে হয়, রাজকুমার বা রাজকুমারী হয়, সে তো এই বিশেষ জন্ম হওয়ার কারণে স্মরণ সকল
সময় সদা আর স্বতঃতই থাকে নাকি বারে বারে স্মরণ করিয়ে দিতে হয় যে আমি হলাম
রাজকুমারী? সহজেই স্মরণে থাকে তাই তো? পুরুষার্থ করতে হয় কি তাকে? সে যদি সাধারণ কাজকর্মও করে, নিজের রুচি অনুযায়ীই করুক না কেন, নিজের জন্মের বিশেষত্বকে কি সে ভুলে যায়? সেটা তো ন্যাচারাল আর তার নেচার হয়ে যায় ।
সুতরাং তোমাদের অর্থাৎ ব্রাহ্মণ আত্মাদের নেচার কী? বিশেষ নাকি
সাধারণ? এখনও কোনো কোনো বাচ্চা যখন কোনো সাধারণ কর্ম
করে ফেলে তবে বাপদাদার কাছে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণিত করার জন্য কী করে থাকে? আমি চাইনি এই কাজটা করতে, কিন্তু আমার নেচার যে, তাই হয়ে গেলো। এই রকম করা কিম্বা ভাবা সেটা কি
ঠিক? আমি কে? তোমাদের জীবন হলো
ব্রাহ্মণের জীবন, তাই না? তো যাদের জীবন ব্রাহ্মণ জীবন, সেই আত্মারা ভাবতে পারে কি যে এটা হলো আমার
নেচার? এই রকম বলাটা কি রাইট? তো সেই সময় কেন বলে থাকে? সেই সময় ব্রাহ্মণ বলে না, মায়া বলে। সুতরাং এ যেন সাধারণ নেচার বা
মায়াবী নেচার ন্যাচারাল ভাবে কাজ করতে থাকে। সেইজন্য বলে থাকে, চাইনি কিন্তু হয়ে গেছে। তো ব্রাহ্মণ নেচার
অর্থাৎ বিশেষত্বের নেচারও ন্যাচারাল হওয়া উচিত। ন্যাচারাল জিনিস সব সময় বজায়
থাকতে পারে। অতএব বিশেষ জীবনের স্মৃতি নেচারের রূপে ন্যাচারাল হওয়া উচিত নাকি কখনো
ভুলে যাওয়া কখনো মনে রাখা উচিত? তাই সদা স্মৃতি
স্বরূপে থাকো। স্মরণ করাতে হবে না, স্মৃতি স্বরূপ।
সেইজন্য বাপদাদা দেখছিলেন যে, অব্যক্ত বর্ষ
সময় মতো সমাপ্ত হয়েছে কিন্তু বাপদাদা সমান নিজেকে সম্পন্ন বানিয়েছো? এই অব্যক্ত বর্ষের বিশেষ লক্ষ্য রাখা হয়েছিল
যে অব্যক্ত অর্থাৎ ফরিস্তা স্বরূপ হওয়া এবং বানানোও। সকলে এই লক্ষ্য রেখেছিলে তাই
তো? তাহলে কি রেজাল্ট বেরিয়ে এলো? নিজেকে নিজে চেক করেছো? "ফরিস্তা ভব" র বরদানও পেয়েছো, তবে বরদান আর লক্ষ্য - এই দুইয়ের স্মৃতির
দ্বারা কতদূর পর্যন্ত সফলতা অনুভব করেছো, নিজের এই সূক্ষ্ম
চেকিং করেছো? নাকি এটা ভেবে নিয়েছো যে, অব্যক্ত বর্ষ শেষ হলো, যথাশক্তি যতটুকুও অনুভব করেছি ড্রামানুসারে
সেটুকুই ঠিক আছে? বর্ষ পরিবর্তনের সাথে
সাথে পরিবর্তনের গতি কি ছিল - এই বিধির দ্বারা চেক করেছো? যেমন বছর শেষ হলো সেই রকমই লক্ষ্য আর লক্ষণে
সম্পন্ন হবো নাকি মনে করো যে এই বছরে আরও বেশি করে হবো? সময় আর নিজের গতি সমান ছিল? এমনিতে তো সময়ের থেকেও নিজের গতি তীব্র হতে
হবে কেননা সমাপ্তির সময়কে নিয়ে আসার জন্য নিমিত্ত হলে তোমরা আত্মারা। তীব্র গতির
সাথে বছর তো সম্পন্ন হয়ে গেছে । বুঝতে পেরেছো যে বছর কীভাবে শেষ হলো? তো চেক করো আমি বিশেষ আত্মার পরিবর্তনের গতি
তীব্র ছিল নাকি কখনো তীব্র, কখনো মধ্যম ছিল?
ফরিস্তা অর্থাৎ
যার পুরানো সংস্কার আর সংসারের সাথে কোনো রিস্তা অর্থাৎ সম্পর্ক নেই? তো চেক করো পুরানো সংসারের কোনো আকর্ষণ, সেটা সম্বন্ধের রূপে হোক অথবা নিজের দেহের
প্রতি আকর্ষণ বা কোনো দেহধারী ব্যক্তির প্রতি আকর্ষণ, কোনও বস্তুর প্রতি আকর্ষণ কত পার্সেন্ট ছিল? সেই রকমই পুরানো সংস্কারের আকর্ষণ, সেটা সংকল্পের রূপে হতে পারে, বৃত্তির রূপে হতে পারে, বাণীর রূপে হতে পারে, সম্বন্ধ-সম্পর্ক অর্থাৎ কর্মের রূপে কত
পার্সেন্টেজ ছিল? ফরিস্তা অর্থাৎ ডবল লাইট
। তো নিজের লাইট স্বরূপ স্মৃতি স্বরূপে কতখানি ছিলে? তার সাথে সাথে
লাইট অর্থাৎ হাল্কা ভাব, নিজের পরিবর্তনের
পুরুষার্থে কতখানি লাইট অর্থাৎ হাল্কা ছিলে? ব্রাহ্মণ
পরিবারের সম্বন্ধে, সেবার সম্বন্ধে কতখানি
হাল্কা ছিলে? একে বলা হয় ফরিস্তা
ভাবের তীব্র গতির স্থিতি । এই বিধির দ্বারা চেক করো আর ভবিষ্যতের জন্য চেঞ্জ
অর্থাৎ পরিবর্তন করো। নিজের ব্রাহ্মণ জন্মের বিশেষত্বকে ন্যাচারাল নেচার বানানো, একেই বলা হয় সহজ পুরুষার্থ। কেবল আমি হলাম এক
বিশেষ আত্মা - এই স্মৃতি স্বরূপে স্থিত হয়ে যাও, তবে বাবার সমান
অতি সহজ অনুভব করবে। কারণ স্মৃতি স্বরূপ তথা সমর্থী স্বরূপ হয়ে যায়। বছর শেষ
হয়েছে। বাপদাদা রেজাল্ট তো দেখবেন, তাই না? তো রেজাল্টে যথাশক্তি মেজরিটি রয়েছে আর সদা
শক্তিশালী, যথাশক্তির মেজরিটিতে হলো
মাইনোরিটি।
স্মৃতি দিবসও
অত্যন্ত স্নেহের সাথে উদযাপন করেছো তোমরা। এখন যেমন বিশেষ স্নেহের সাথে উদযাপন
করলে, সেই রকম স্নেহের প্রমাণ বাবার সমান স্মৃতি
স্বরূপ হতেই হবে। রেজাল্ট শুনলে? এবারে কী করতে
হবে? যথাশক্তি নাকি সদা শক্তি স্বরূপ? তো দেখা হবে যে, এই বছরে মেজরিটি
সদা শক্তিশালীর প্রমাণ তোমরা কতখানি দিতে পারো? টিচার্স তোমরা কী
মনে করো? কোন্ সারিতে আসবে? সদা শক্তিশালী! টি. ভি. তে সকলের ফটো চলে
এসেছে। যা কিছুই হয়ে যাক, যেমন পরিস্থিতিই
উদ্ভূত হোক না কেন, সদা শক্তিশালী। নাম তো
নোট হয়ে যায় যে কে কে কোন্ গ্রুপে আসছে? এখন টিচারদের
সম্মেলন সামনে না? ততদিন পর্যন্ত সব
টিচারদের রেজাল্ট কেমন হবে? যারা করার তারা
কখনোই ভাবে না। দৃঢ় সংকল্পের অর্থই হলো এখন । সাধারণ সংকল্পের অর্থ হলো হয়ে যাবে
কখনো না কখনো। তাহলে 'কখনো'র দলে নাকি এখন' এর দলে তোমরা? শক্তি সেনা হলো অনেক বড় সেনা। 'কখনো'র দলে নাকি 'এখন' এর? পান্ডব কী মনে করো? দেখো নাম কিন্তু সকলের নোট করা রয়েছে। এখন নাম
বলে দেওয়া হবে না, সেই সময়ও এক সময় আসবে
যখন নাম ঘোষণা করা হবে। বুঝেছো!
সব চেয়ে বেশী
সংখ্যা কোন্ জোন থেকে এসেছে? পাঞ্জাব, ইন্দোর কেমন চমৎকারিত্ব দেখাতে পারে দেখা যাক।
টিচার্সও বেশী সংখ্যায় আসে, সংখ্যা বেশী তো
টিচার্সও বেশী হয়। পাঞ্জাব নম্বর ওয়ান নেবে নাকি সেকেন্ড? ইন্দোরও নম্বর ওয়ান নেবে? আর কর্ণাটক কী করবে? কোন্ নাটক দেখাবে? কর-নাটক, তো হীরো নাটক
দেখিও, যেমন তেমন দেখিও না। আর মহারাষ্ট্র তো মহানই
হবে, তাই তো? আর ইউ. পি. কে কী
বলা হয়? ইউ. পি. তে অনেক নদী রয়েছে অর্থাৎ ইউ. পি.
পতিতকে পাবন করবে তোমরা। পাবন হতে - হওয়াতে তোমরা হলে নম্বর ওয়ান । তাহলে ইউ.
পি.ও নম্বর ওয়ান হবে। এই সময় তো কাউকেই নম্বর টু বলা যাবে না। রাজস্থান তো হলোই
লাকী, রাজস্থান তো হলোই চরিত্র ভূমি। হেড কোয়ার্টার
তো রাজস্থানেই না! তো যেখানে হেড কোয়ার্টার রয়েছে, তারা কী হবে? হেড হবে, তাই না? সবাই খুশী মনে বলছে নম্বর ওয়ান, কিন্তু সেখানে গিয়ে এই রকম বলবে না যে, কী করব... করতে পারছি না... আমি তো চাইনা, কিন্তু হয়ে যায়... এই রকম ভাষা ভাববেই না।
আচ্ছা, ডবল বিদেশিও সেবায় রেস খুব ভালো করছে আর রেসে
নম্বর ওয়ান আসতেই হবে, তাই তো? দেশের ভাই বোনেদেরকে সাহস প্রদানের ক্ষেত্রে
বিদেশের ভাই বোনেরা ভালোই নিমিত্ত হয়েছে। এই সাহস সঞ্চারের কারণে এক্সট্রা
সাহায্যও পেয়ে থাকে। বুঝেছো! একেও স্মৃতিতে রেখে সহজে এগিয়ে চলো আর অন্যদেরকেও
এগিয়ে নিয়ে চলো। আচ্ছা!
চতুর্দিকের সকল
বিশেষ আত্মাদেরকে, সদা সাকার ব্রহ্মা বাবার
শ্রেষ্ঠ কর্মকে ফলো করতে পারা কর্মযোগী আত্মাদেরকে, সদা বিশেষত্বকে
ন্যাচারাল আর নেচার বানানো কোটির মধ্যে কেউ কেউ আত্মাদেরকে, সদা দৃঢ় সংকল্পের দ্বারা বিশেষ জন্ম, ধর্ম আর কর্মের স্মৃতি স্বরূপ আত্মাদেরকে
বাপদাদার বিশেষত্ব সম্পন্ন স্মরণের স্নেহ-সুমন আর নমস্কার ।
দাদীদের সাথে
সাক্ষাৎ -
আপনারা
ব্রাহ্মণরা যত যত সম্পন্ন হয়ে উঠতে থাকবেন, ভবিষ্যতে
প্রকৃতিও (তত্ত্ব) প্রগতিকে প্রাপ্ত করবে। কেননা প্রকৃতি সময়ে সময়ে নিজের সিগন্যাল
দেখাচ্ছে। তো যত প্রকৃতির অস্থিরতা তত বেশীই অচল স্থিতি প্রকৃতিকে পরিবর্তন করবে।
কতো কতো আত্মারা সময়ে সময়ে দুঃখের ঢেউ এর মধ্যে চলে আসে। তো এই রকম দুঃখী
আত্মাদের আশ্রয় তো বাবা আর তোমরাই। তাই দয়ার উদ্রেক হয় তো না? যখন খবরাখবর শোনো তখন মনের মধ্যে কী আসে? নাথিং নিউ, নিজের অচল
স্থিতির জন্য তো ঠিক আছে, কিন্তু প্রকৃতির
অস্থিরতার মধ্যে যখন আত্মারা (ত্রাহি ত্রাহি) আর্তনাদ করে, তো কাদেরকে আর্তনাদ করে ডাকে? তো যখন মার্সি যাঞ্চা করে, তখন তোমাদের কাছে তাদের সেই কৃপার আহ্বান
পৌঁছায় তো না? সেই সব ছোট ছোট বিপর্যয়ে
তারা আরও বেশি যন্ত্রণার্ত হয়। ব্রাহ্মণ সম্পন্ন হয়ে যাও, তবে দুঃখের দুনিয়ার অবসান হয়ে যাবে । তো দয়া
আসে মনে নাকি আসে না? যদি দয়া আসে, তাহলে তখন তোমরা কী করো? যতই হোক এরা তো ঈশ্বরীয় পরিবারেরই না! তো
পরিবারের যে কোনো দুঃখকে সুখে পরিবর্তন করার সংকল্প মনে আসে তো না? পরিবারে কেউ যদি অসুস্থও হয়ে পড়ে, তখন কী সংকল্প আসে? তাড়াতাড়ি ঠিক হয়ে যাক। তো আর্তনাদ করতে করতে
মরা আর এক লহমায় পরিবর্তন হওয়া, তফাৎ তো আছে না? মহাবিনাশ আর রিহর্সালের বিনাশ তফাৎ আছে না? মহাবিনাশ অর্থাৎ মহান পরিবর্তন । তার নিমিত্ত
হলে তোমরা। সম্পন্ন হলে সমাপ্তি হবে। সুতরাং যারা বিপর্যস্ত তারা তো মনে করে
প্রত্যক্ষতার পর্দা উন্মোচিত হয়ে যাক। কিন্তু স্টেজে যে হীরো অ্যাক্টররা উপস্থিত
হওয়ার তাদেরও তো তৈরী হয়ে থাকা চাই, তবেই তো পর্দা
খুলবে। অসম্পূর্ণ অবস্থাতেই খুলে যাবে নাকি? পরিবর্তনের শুভ
ভাবনাকে তীব্র করা অর্থাৎ নিজেকে তীব্র গতিতে সম্পন্ন বানানো। তোমরাও যদি কখনো এক
রকম কখনো আরেক রকম হও, প্রকৃতিও কখনো অত্যন্ত
তীব্র গতির সাথে কাজ করতে থাকে, কখনো মন্থর হয়ে
যায়। তাহলে এখন কী করতে হবে? করুণার ভাবনাকে
ইমার্জ করো, সেটা নিজের প্রতিই হোক
অথবা সকল আত্মাদের প্রতি। ইমার্জ হয় তাই তো? ঢেউ ছড়িয়ে দাও।
করুণার ভাবনার দ্বারা বিঘ্নও সহজেই সমাপ্ত হয়ে যাবে । যেখানে করুণা থাকবে, সেখানে আমার-তোমার এর দোলাচল থাকবে না। পূজ্য
স্বরূপ, মার্সিফুলকে ধারণ করো। ঠিক আছে না? এখন এই ঢেউ ছড়িয়ে দাও। প্রতিটি সংকল্পে
মার্সিফুল। সংকল্পেও হবে তো বাণী আর কর্ম স্বভাবতঃই হয়েই যাবে। সবাই আর্ত চিৎকার
করে কী বলছে? মার্সি মার্সি। আচ্ছা!
অব্যক্ত বাপদাদার
পার্সোনাল সাক্ষাৎকার - "মায়ার ছায়া থেকে বাঁচার উপায় হলো - বাপদাদার
ছত্রছায়া" :
সর্বদা নিজেকে
বাপদাদার ছত্রছায়ার নীচে থাকা সদা সেফ আত্মা মনে করো? সদা ছত্রছায়া থাকে নাকি কখনো বাইরে বেরিয়ে
যাও? হয় রয়েছে বাবার ছত্রছায়া নাহলে মায়ার ছায়া
। তো মায়ার ছায়ার থেকে বাঁচার সাধন (উপায়) হলো ছত্রছায়া । তো ছত্রছায়াতে যারা
থাকবে তারা কতো খুশীতে থাকবে! কেননা বেফিকর বাদশাহ হয়ে গেছে না! চিন্তা থাকলেই
খুশী অদৃশ্য হয়ে যায়। কখনো যদি খুশী লুপ্ত হয়ে যায়, তার কারণ কী ঘটে? কোনো না কোনো
চিন্তা, দুশ্চিন্তা, বোঝা খুশীকে
অদৃশ্য করে দেয়। আর খুশী অদৃশ্য হলো তো মায়ার ছায়ার প্রভাব পড়েই যায়।
দুর্বলতা মায়াকে আহ্বান করে। যেমন শারীরিক দুর্বলতা অসুখ বিসুখকে আহ্বান করে থাকে, তো আত্মিক দুর্বলতা মায়ার আহ্বান করে থাকে ।
তারপর সেই ছায়ার থেকে বেরিয়ে আসতে কতোই না পরিশ্রম করতে হয়। মায়ার ছায়া যদি
স্বপ্নের মধ্যেও পড়ে গেলো, তবে স্বপ্নও
নাজেহাল করে তুলবে। ব্রাহ্মণ তখন ক্ষত্রিয় হয়ে যায়, তখন যুদ্ধ করতে হয়। ক্ষত্রিয় জীবন হলো
পরিশ্রমের আর ব্রাহ্মণ জীবন হলো আনন্দের। তাহলে কোনটা পছন্দ? কখনো কখনো যুদ্ধ করতে হয় কী? যুদ্ধ করতে ভালো লাগে? এতটুকু ব্যর্থ সংকল্পের ছায়া কতো পরিশ্রম
করায়। সেইজন্য সর্বদা বাবার স্মরণের ছত্রছায়াতে থাকো। স্মরণই হলো ছত্রছায়া । তো
সদাকালের জন্য ছত্রছায়ার নীচে থাকতে জানো? কখনো কখনো-র জন্য
নয়, সদা। অবিনাশী বাবা আছেন না! তো উত্তরাধিকারও
সদাকালের জন্যই নিতে হবে। সদা খুশীতে থাকা। ছত্রছায়া অর্থাৎ খুশীতে থাকা।
নিশ্চিন্ত থাকবে যে। সব চিন্তা বাবাকে দিয়েছো নাকি একটি-দুটি যত্ন করে রেখে
দিয়েছো? কী করবো...কীভাবে করবো...এই সব শব্দ হলো
চিন্তার। যে নিশ্চিন্ত থাকবে তার বোল সদা বিজয়ের হয়ে থাকে । 'কী', 'কীভাবে'র হবে না। তো সর্বদা এটা স্মরণে রাখো যে, আমরা সবাই বাবার ছত্রছায়ায় রয়েছি। এদিক ওদিক
ঘুরে বেড়াই না। সংকল্পেও যদি এদিক ওদিক ঘুরে বেড়াতে থাকবে, তবে ভেঙে চূরচূর হয়ে যাবে। তোমরা তো হলে অমর, তাই তো? অমর হয়ে গেছি -
এই স্মৃতি সদাই নিজেকেও আর অন্যকেও নিশ্চিন্ত বানাতে থাকবে। সদা খুশীতে এই গীত
গাইতে থাকবে - যা পাওয়ার ছিল পেয়ে গেছি। বাবার বাচ্চা হয়ে যাওয়া মানেই পেয়ে
যাওয়া। বাচ্চা হয়েছো অর্থাৎ পেয়ে গেছো। আচ্ছা!
*বরদানঃ-* সকল
আধ্যাত্মিক (রুহানী) সম্পদে (খাজানা) সম্পন্ন হয়ে সদা সন্তুষ্ট থাকা অলরাউন্ড
সেবাধারী ভব
অলরাউন্ড
সেবাধারী অর্থাৎ মাস্টার সুখ দাতা, মাস্টার শান্তি
দাতা, মাস্টার জ্ঞান দাতা। দাতা সদা সম্পন্ন মূর্তি
হয়ে থাকে । সে নিজে যেমন হবে, অন্যকেও সেই রকমই
বানাবে। রুহানী সেবাধারী অর্থাৎ এভাররেডি আর অলরাউন্ড। অলরাউন্ডার সেই হতে পারে যে
সম্পন্ন হবে। যে সম্পন্ন হবে সে নিজেও সন্তুষ্ট থাকবে আর সকলকেও সন্তুষ্ট করবে। যে
কোনো প্রকারের অপ্রাপ্তি অসন্তুষ্টতার জন্ম দেয়। সন্তুষ্ট থাকা আর সন্তুষ্ট করার
বিধি হলো সম্পন্ন আর দাতা হওয়া ।
*স্লোগানঃ-* শুভ
ভাবনা, শুভ কামনার গোল্ডেন গিফট সাথে থাকলে তবে যে
কোনো আত্মাকে পরিবর্তন করতে পারবে।
সূচনাঃ - আজ
মাসের তৃতীয় রবিবার, সকল রাজযোগী তপস্বী
ভাই-বোনেরা সন্ধ্যা ৬.৩০ মিনিট থেকে ৭.৩০ মিনিট পর্যন্ত, বিশেষ যোগ অভ্যাসের সময় অনুভব করুন যে, জ্ঞান সূর্য সর্বশক্তিবান পরমাত্মার কিরণ আমার
উপরে পড়ছে আর আমার থেকে সমগ্র জগৎ সংসারে যাচ্ছে, যার দ্বারা বিশ্ব
সংসারে অজ্ঞান-অন্ধকার দূর হয়ে যাচ্ছে ।
No comments:
Post a Comment