Sunday, January 29, 2023

30.01.2023 BANGLA MURLI

                                  30.01.2023 BANGLA MURLI



 

"মিষ্টি বাচ্চারা - তোমরা হলে ঈশ্বরীয় সন্তান, এ হলো তোমাদের অমূল্য জীবন, তোমাদের ঈশ্বরীয় কুল হলো অতীব শ্রেষ্ঠ। স্বয়ং ঈশ্বর তোমাদের অ্যাডপ্ট (দত্তক) করেছেন, সেই নেশাতেই থাকো"

প্রশ্নঃ -  শরীরের বোধ ছিন্ন হয়ে যায় - এর জন্য কোন্ অভ্যাসের আবশ্যকতা রয়েছে?

উত্তরঃ -চলতে-ফিরতে অভ্যাস করো যে আমি হলাম এই শরীরে অল্প সময়ের জন্য নিমিত্ত মাত্র রয়েছি। যেমন বাবা অল্প সময়ের জন্য শরীরে এসেছেন তেমনই আমরা আত্মারাও শ্রীমতানুসারে ভারতকে স্বর্গে পরিণত করার জন্য এই শরীর ধারণ করেছি। বাবা আর উত্তরাধিকার স্মরণে থাকলে এই দেহ বোধ ছিন্ন হয়ে যাবে, একেই বলা হয়ে থাকে সেকেন্ডে জীবনমুক্তি। ২) অমৃতবেলায় উঠে বাবার সাথে মিষ্টি মিষ্টি কথা বলো তাতেও দেহ বোধ সমাপ্ত হতে থাকবে।

*গীতঃ- ওম্ নমঃ শিবায়....


ওম্ শান্তি । ঈশ্বর হলেনই অদ্বিতীয়, যিনি আবার বাবাও। বাচ্চাদের বোঝানো হয়েছে আত্মার রূপ এত বড় কোনো লিঙ্গ নয়। আত্মা তো অতি ক্ষুদ্র নক্ষত্রের মতন, ভ্রুকুটির মধ্যভাগে থাকে। এত বড় কোনো জ্যোতির্লিঙ্গম নয় যা মন্দিরে রাখা হয়ে থাকে । যেমন আত্মা তেমনই পরমাত্মা বাবাও। আত্মার রূপ মানুষের মতন নয়। আত্মা তো মানুষের শরীরের আধার নেবে। আত্মাই সব কিছু করে। সমস্ত সংস্কার আত্মাতেই রয়েছে। আত্মা হলো স্টার। আত্মাই ভালো মন্দ সংস্কার অনুসারে জন্ম নিয়ে থাকে। তাই এই কথাগুলিকে ভালোভাবে বুঝতে হবে। মন্দিরে শিবলিঙ্গ রাখা রয়েছে, সেইজন্য বোঝানোর জন্য আমরাও শিবলিঙ্গ দেখিয়ে থাকি। এঁনার নাম হলো শিব, নাম ব্যতীত কোন বস্তুই হয় না। কিছু না কিছু আকার রয়েছে। বাবা হলেন পরমধাম-নিবাসী। পরমাত্মা বাবা বলে থাকেন - যেমন আত্মা শরীরে থাকে তেমনই আমাকেও আসতে হয়, নরককে স্বর্গে পরিণত করার জন্য। বাবার মহিমা হলো সবথেকে আলাদা। বাচ্চারা, তোমরা এখন জানো, তোমরা আত্মারা এসেছো এখানে (নিজের) ভূমিকা পালন করতে। এ হলো অসীমের অনাদি, অবিনাশী ড্রামা, এর কখনো বিনাশ হয় না। এ আবর্তিত (ঘুরতেই) হতেই থাকে। রচয়িতা বাবাও এক, রচনাও এক। এ হলো অসীম জগতের সৃষ্টিচক্র। যার ৪টি যুগ রয়েছে। দ্বিতীয় হলো কল্পের সঙ্গমযুগ, যেখানে বাবা এসে পতিত দুনিয়াকে পবিত্র করেন। এই চক্র আবর্তিত হতে থাকে। বাচ্চারা, তোমাদের এখন স্মৃতি এসেছে যে আমরা সমস্ত বাচ্চারাই হলাম পরমধাম-নিবাসী। এই কর্মক্ষেত্রে ভূমিকা পালন করতে এসেছি। এই অসীম জগতের ড্রামাকে পুনরাবৃত হতে হবে। বাবা হলেন অসীম জগতের মালিক। ওই বাবার অপার মহিমা রয়েছে। এমন মহিমা আর কারোর নেই। তিনি হলেন মনুষ্য সৃষ্টির বীজরূপ। তিনি হলেন সকলের বাবা। আমি ভিনদেশী (অপরের) রাবণের দুনিয়ায় এসেছি। একদিকে হলো আসরীক-গুণ সম্পন্ন সম্প্রদায়। অন্যদিকে হলো দৈবী-গুণসম্পন্ন সম্প্রদায়। একে কংসপুরীও বলা হয়ে থাকে। কংস অসুরকে বলা হয়। শ্রীকৃষ্ণকে দেবতা বলা হয়ে থাকে। এখন বাবা এসেছেন দেবতা বানাতে আর সকলকে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে, আর কারোর এই শক্তি নেই। বাবাই বসে বাচ্চাদের শিক্ষা দিয়ে দৈবীগুণ ধারণ করান। এ হলো বাবারই কর্তব্য। বাবা বলেন যখন সকলেই তমোপ্রধান হয়ে যায়, আমাকে ভুলে যায়, না কেবল ভুলে যায় উপরন্তু আমাকে পাথর-মাটির টুকরোর মধ্যে ফেলে দেয়। এত গ্লানি করে, তবেই তো আমি আসি। আমার মতন গ্লানি আর কারোর করে না, তবেই তো আমি এসে তোমাদের লিবারেটর (মুক্তিদাতা) হই। সকলকে মশার ঝাঁকের মতন নিয়ে যাব। আর কেউই এমন বলতে পারেনা যে মন্মনাভব, আমাকে অর্থাৎ নিজের পরমপিতা পরমাত্মাকে স্মরণ করো তবেই বিকর্ম বিনাশ হবে। শ্রীকৃষ্ণ তো এমন বলতে পারেনা। পরমাত্মার মহিমা তো বাচ্চারা জানে। তিনি হলেন জ্ঞানের সাগর সুখের সাগর। তারপর দ্বিতীয় নাম্বারে হলো ব্রহ্মা, বিষ্ণু, শংকর। ব্রহ্মার দ্বারা স্থাপনা কে করবে? শ্রীকৃষ্ণ কি? পরমপিতা পরমাত্মা শিব বসে বুঝিয়ে থাকেন যে সর্বপ্রথমে আমার ব্রাহ্মণ চাই। তাই ব্রহ্মার দ্বারা ব্রাহ্মণ মুখ-বংশাবলী রচনা করে থাকি। ওরা হলো গর্ভজাত। এখন সঙ্গমে তোমরা হলে ব্রহ্মার সন্তান। বাবা এসে শূদ্র থেকে ব্রাহ্মণে পরিনত করেন। এখন তোমরা হলে ঈশ্বরীয় কুলের। ঈশ্বর হলেন নিরাকার, ব্রহ্মা হলেন সাকারী। বাবা সর্বপ্রথমে ব্রাহ্মণ তারপর দেবতা তৈরি করেন। দেবতার পর ক্ষত্রিয়...….. এই চক্র আবর্তিত হতেই থাকে। তারপর এর থেকে অন্য ধর্ম বেরিয়ে আসে। মূল হলো ভারত‌, এই ভারত হলো অবিনাশী খন্ড, যেখানে বাবা এসে স্বর্গ রচনা করেন। তিনি বাবাও, শিক্ষকও, আবার সদ্গুরুও। তাহলে ওঁনাকে সর্বব্যাপী কিভাবে বলা যেতে পারে? উনি তো হলেন তোমাদের বাবা। এই দুনিয়ায় তোমরা ব্রাহ্মণেরা ছাড়া আর কেউই ত্রিকালদর্শী হতে পারে না। বাচ্চারা, তোমরা মনে করো পরমপিতা পরমাত্মার সাথে আমরা পরমধামে বাস করি। তারপর নম্বরের ক্রমানুসারে কর্মক্ষেত্রে আসি। তারপর পরে আমরাই ফিরে যাই। সম্পূর্ণ ৮৪ জন্ম নিতে হবে।

বাবা বুঝিয়ে থাকেন - তোমরা কত জন্ম নিয়েছো আর কীভাবে বর্ণে এসেছো। এই চক্র ঘুরতেই থাকে। এখন তোমরা হলে ঈশ্বরীয় সম্প্রদায়ভুক্ত, এ হলো তোমাদের অমূল্য জীবন যখন তোমরা ঈশ্বরীয় সন্তান হয়েছো। বাবা এসে ব্রহ্মার দ্বারা অ্যাডপ্ট (দত্তক) করেন। বাবা হলেন স্বর্গের রচয়িতা, সেইজন্য স্বয়ং-ই এসে স্বর্গের মালিকও বানিয়ে দেন। এখন সমগ্র বিশ্বে শান্তি স্থাপন করা - এ তো বাবারই কাজ। বাবা বলেন আমার ভূমিকা হলো, আমি পুনরায় তোমাদের রাজযোগ শিখিয়ে থাকি, যার দ্বারা তোমরা এভারহেলদি হয়ে যাবে। যেভাবে দেবতা হয়েছিলে, পুনরায় এখন রিপিট হয়ে থাকে। এই চারাগাছ(স্যাপলিং) রোপন হচ্ছে। বাবা হলেন বাগানের মালি, ওঁনার দ্বারা কলম লাগানো হচ্ছে। বাবা সম্মুখে বসে বোঝান - আমার আদরের বাচ্চারা, অনেক সময়ের জন্য আলাদা হয়ে যাওয়া বাচ্চারা, স্মরণে রয়েছে তো, তাই না ! -- আমি তোমাদেরকে স্বর্গে পাঠিয়েছিলাম। তারপর তোমরা ৮৪ র চক্র ঘুরে এখন আবার মিলিত হয়েছো। এখন নিজেকে আত্মা মনে করে আমাকে অর্থাৎ বাবাকে স্মরণ করো। তোমাদের অবশ্যই ফিরিয়ে নিয়ে যেতে হবে। তোমরা চাও বা না চাও, অবশ্যই নিয়ে যেতে হবে। প্রথমে আদি সনাতন দেবী দেবতা ধর্ম হয়েছে, তারপর রাবণ রাজ্য হয়েছে। দৈবী রাজ্যের পর পবিত্রতা তো চলে গেছে, সেইজন্য এক মুকুটধারী হয়ে গেছে, এখন প্রজার উপর প্রজার রাজ্য, তারপর দৈবী রাজ্যের স্থাপনা হতে চলেছে। আসুরীও রাজ্যের বিনাশের জন্য এই রুদ্র যজ্ঞ থেকে এই বিনাশের অগ্নি প্রজ্জ্বলিত হয়েছে। তোমরা পতিত সৃষ্টিতে রাজ্য করবে নাকি ! না তা করবে না। এখন হলো সঙ্গম। সত্যযুগে তো এরকম বলবে না। বাচ্চারা এখন তোমরা পুরুষার্থ করছো। করান (করাবনহার) কে ? শ্রীমৎ প্রদানকারী সমর্থ। শ্রেষ্ঠ থেকে শ্রেষ্ঠ হলেনই একমাত্র বাবা। তিনিই ব্রহ্মার দ্বারা স্থাপনা করাচ্ছেন। বাবা বলেন - আমি হলাম ভারতের মোস্ট ওবিডিয়েন্ট সার্ভেন্ট (সবচেয়ে আজ্ঞাকারী সেবক)। ভারতকে স্বর্গে পরিণত করি। সেখানে যেমন রাজা-রানী তেমনই প্রজা, সকলেই সুখী থাকে। ন্যাচারাল বিউটি থাকে। লক্ষ্মী-নারায়ণকে দেখো, কত সুন্দর। হেভেনলি গডফাদার হলেন হেভেনের(স্বর্গের) স্থপতি। সমগ্র দুনিয়ায় গীতার উদ্দেশ্যে বলা হয়ে থাকে, শ্রীকৃষ্ণ ভগবানবাচ। কিন্তু শ্রীকৃষ্ণ তো বলতে পারেনা যে মন্মনাভব, মামেকম্ স্মরণ করো তবেই বিকর্ম ভষ্মীভূত হবে। আর কোনো উপায়ও নেই। গঙ্গা তো পতিত-পাবনী নয়। সে কি বলবে নাকি যে মামেকম্ স্মরণ করো ! না তা বলবে না। এ তো একমাত্র বাবাই বসে বুঝিয়ে থাকেন। বাবা আত্মাদের সঙ্গে কথা বলেন। বাবাই হলেন সকলের সদগতি দাতা। ওঁনার মন্দিরও আছে। দ্বাপর থেকে সমস্ত স্মারক-চিহ্ন নির্মাণ শুরু হয়ে থাকে। সোমনাথের মন্দির রয়েছে, কিন্তু সে কি করে গেছে -- তা কেউ জানে না। ওরা তো শিব-শঙ্করকে মিলিয়ে দেয়। এখন কোথায় শিব হলেন পরমধাম-নিবাসী আর কোথায় শংকর হলেন সুক্ষ্মলোক-নিবাসী। কিছুই বোঝেনা। বাবা বলেন - যত বেদ-শাস্ত্রাদি পড়ুক, জপ-তপ করুক, আমার সাথে কিন্তু মিলিত হতে পারে না। অবশ্যই আমি ভাবনার ভাড়া দিয়ে থাকি। কিন্তু ওরা তো অখন্ড জ্যোতি ব্রহ্মকেই পরমাত্মা মনে করে নেয়। ব্রহ্মের সাক্ষাৎকার হতে পারে কিন্তু তা থেকে কিছুই পাওয়া যাবে না। কাউকে হনুমানের, কাউকে গণেশের সাক্ষাৎকার করিয়ে থাকি, সে তো আমি অল্প সময়ের জন্য মনোকামনা পূর্ণ করে থাকি। অল্প সময়ের জন্য খুশি তো থাকে। কিন্তু তবুও সকলকে তমোপ্রধান হতেই হবে। চাইলে সারাদিন গিয়ে গঙ্গায় বসে থাকুক তবুও সকলকে তমোপ্রধান তো হতেই হবে।

বাবা বলেন বাচ্চারা পবিত্র হও তবেই ২১ জন্মের জন্য পবিত্র দুনিয়ার মালিক হয়ে যাবে। আর কোনো সৎসঙ্গ নেই যেখানে এত প্রাপ্তি হয়। বাবাই এসে রাজযোগ শিখিয়ে থাকেন, তাহলে কতখানি শ্রীমৎ অনুসারে চলা উচিত? পড়ার প্রতি ধ্যান দিতে হবে। বাবা শ্রেষ্ঠর থেকেও শ্রেষ্ঠ মত দিয়ে থাকেন। শ্রীমতে ভারতকে শ্রেষ্ঠ বানাতে হবে। তোমাদের ড্রামার রহস্যকে ভালোভাবে বুঝতে হবে আর পুরুষার্থ করতে হবে। পুরুষার্থ করে এরকম সুযোগ্য হয়ে উঠতে হবে। বাচ্চারা, তোমাদের নেশা থাকা উচিত যে আমরা বাবার সাথে স্বর্গ স্থাপন করতে এসেছি। আমরা ওখানকার বাসিন্দা। এই শরীরে আমরা নিমিত্ত মাত্র, অল্পসময়ের জন্য। বাবাও অল্পসময়ের জন্য এসেছেন, এই শরীর-বোধ (অভিমান) ভেঙে যাওয়া উচিত । নিজের বাবা এবং উত্তরাধিকারকে স্মরণ করো একেই সেকেন্ডে জীবনমুক্তি বলা হয়ে থাকে। বাবা বলেন, আমি এসেছি সকলকে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে। এখন তোমরা নিজেকে আত্মা মনে করে ভোরবেলায় উঠে বাবাকে স্মরণ করো। ওঁনার সঙ্গে কথা বলো। তোমরা জানো আমাদের ৮৪ জন্ম সম্পূর্ণ হয়েছে। এখন আমরা ঈশ্বরীয় সন্তান হয়েছি। তারপর দৈবী সন্তান, আবার ক্ষত্রিয় সন্তান হয়ে যাবো। বাবা আমাদের বিশ্বের মালিক করে দেন। বসে বসে বাবার মহিমা করো। বাবা তুমি তো চমৎকার করে দিয়েছো। প্রতি কল্পে এসে আমাদের পড়াও। তোমার জ্ঞান বড় বিস্ময়ের। স্বর্গ কত বিস্ময়ের। ও'টা হল লৌকিক বিস্ময় (সপ্ত আশ্চর্য), এ হলো বাবার স্থাপন করা বিস্ময়। বাবা এসেছেন শ্রীকৃষ্ণপুরী স্থাপন করতে। এই লক্ষ্মী-নারায়ণ প্রালব্ধ কোথা থেকে পেয়েছে? বাবার থেকে। জগদম্বা বা জগৎ-পিতার সঙ্গে বাচ্চারাও থাকবে। উনি হলেন ব্রাহ্মণ, জগদম্বা তো হলেন ব্রাহ্মণী। তিনি হলেন কামধেনু। সকলের মনোকামনা পূর্ণ করে দেন। এই জগদম্বাই পুনরায় স্বর্গের মহারানী হন। কত আশ্চর্য রহস্যময়। এই বাবা আপন স্থিতি পাকা করার জন্য বিভিন্ন রকমের যুক্তি বলতে থাকেন। রাত জাগো, বাবাকে স্মরণ করো তাহলে যেমন মতি তেমনই গতি হয়ে যাবে। যদি পুরুষার্থ পুরোপুরি হয় তখন স্মরণও টিকে থাকবে। পাশ উইথ অনার হতে হবে। ৮ জনেরই স্কলারশিপ প্রাপ্ত হয়। সকলেই বলে - আমরা লক্ষীনারায়ণ-কে বরণ করবো, তাহলে পাশ করে দেখাতে হবে। নিজেকে দেখতে হবে যে আমার মধ্যে কোনো বাঁদরের মতো স্বভাব নেই তো? তা বের করে দিতে থাকো। দেখো, সারা দিনে কাউকে দুঃখ দিইনি তো? বাবা হলেন সকলকে সুখ প্রদানকারী। বাচ্চাদেরকেও এরকমই হতে হবে। বোল এবং কর্মের দ্বারা কাউকে দুঃখ দেওয়া উচিত নয়। সত্যিকারের পথ বলে দিতে হবে। ও'টা হলো লৌকিক বাবার উত্তরাধিকার। এ হলো অসীম জগতের বাবার উত্তরাধিকার, সে তো যে পাবে সে-ই বলবে। যারা এই ধর্মের হবে তাদের তৎক্ষণাৎ টাচিং হবে।

বাবা বলেন, পুনরায় দৈবী ধর্ম স্থাপন করতে, আমি ব্রহ্মার শরীরে আসি। বাচ্চারা, তোমাদের বুদ্ধিতে রয়েছে যে আমরা এখন ব্রাহ্মণ হয়েছি এরপর দেবতা হতে হবে। প্রথমে সূক্ষ্মলোকে গিয়ে তারপর শান্তিধামে যাবে। সেখান থেকে পুনরায় নতুন দুনিয়ায়, গর্ভ-মহলে আসবে। এখানে গর্ভ-জেলে আসে। একে বলে মিথ্যা মায়া মিথ্যা কায়া.... বাবা বলেন ধর্মের কত গ্লানি করেছে, শিব জয়ন্তী পালন করে কিন্তু শিব কখন এসেছেন, কার মধ্যে প্রবেশ করেছেন, তা কেউ জানে না। অবশ্যই কোনো শরীরে এসে, নরককে স্বর্গে পরিণত করেছিলেন, তাই না ! বাবা বাচ্চাদের অত্যন্ত ভালোভাবে বুঝিয়ে থাকেন আর রায় দেন - নিজের চার্ট তৈরি করো। সারাদিনে কতখানি সময় বাবাকে স্মরণ করেছো। ভোর বেলায় উঠে বাবাকে, উত্তরাধিকারকে স্মরণ করো। আমরা অসীম জগতের বাবার সাথে এসেছি গুপ্তবেশে ভারতকে স্বর্গে পরিণত করতে। এখন আমাদের ফিরে যেতে হবে। যাওয়ার পূর্বে নিজের রাজধানী অবশ্যই স্থাপন করতে হবে। এখন তোমরা রয়েছো সঙ্গমে। বাকি সমগ্র দুনিয়াই রয়েছে কলিযুগে। তোমরা হলে সঙ্গমযুগীয় ব্রাহ্মণ। বাবা বাচ্চাদের জন্য সওগাত (উপহার) নিয়ে আসেন - মুক্তি ও জীবনমুক্তির। সত্যযুগে ভারত জীবনমুক্ত ছিল, বাকি সব আত্মারা মুক্তিধামে ছিল। বাবা হাতে করে স্বর্গ নিয়ে এসেছেন, অবশ্যই সেইজন্য উপযুক্তও স্বয়ংই করবেন। আচ্ছা!

মিষ্টি মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা পিতা বাপ-দাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত। আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মারূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।

*ধারণার জন্যে মুখ্য সারঃ-*

১ ) সদা এই নেশায় থাকতে হবে যে আমরা বাবার সাথে স্বর্গের স্থাপনায় নিমিত্ত হয়েছি। বাবা আমাদের বিশ্বের মালিক বানাচ্ছেন।

২ ) বাবার সমান সুখ প্রদানকারী হতে হবে। কখনো কাউকে দুঃখী করা উচিত নয়। সকলকে সত্যিকারের রাস্তা বলে দিতে হবে। নিজের উন্নতির জন্য নিজের চার্ট রাখতে হবে


বরদানঃ-নিমিত্ত আর নম্রচিত্তের বিশেষত্বের দ্বারা সেবায় দ্রুত আর প্রথম স্থানাধিকারী সফলতা-মূর্তি ভব

সেবায় এগিয়ে যাওয়ার সময় যদি নিমিত এবং নম্র চিত্তের বিশেষত্ব স্মৃতিতে থাকে, তাহলেই সফলতার স্বরূপ হয়ে উঠবে। যেমন সেবার জন্য ছোটাছুটি করার বিষয়ে হুঁশিয়ার তেমনি এই দুই বিশেষত্বতেও হুশিয়ার হও। এর দ্বারাই সেবায় দ্রুত এবং প্রথমে (ফাস্ট ও ফার্স্ট) যাবে। ব্রাহ্মণ জীবনের মর্যাদার গণ্ডির মধ্যে থেকে, নিজেকে রুহানি সেবাধারী মনে করে সেবা করো তাহলেই সফলতা-মূর্তি হয়ে যাবে। পরিশ্রম করতে হবে না।

*স্লোগানঃ-যিনি বুদ্ধির দ্বারা সর্বদা জ্ঞানরত্ন ধারণ করেন তিনিই হলেন সত্যিকারের হোলিহংস।


No comments:

https://bkrajyogpathshala.blogspot.com/

01-04-2026 Bengali Murli

 মিষ্টি বাচ্চারা - বাচ্চারা, বাবা যা, বাবা ঠিক যেমন, তোমরা বাচ্চারাও তাঁকে নম্বর ক্রমানুসারেই চিনেছো, যদি সকলেই তাঁকে চিনে গেলে তবে তো অত্যন...