Saturday, January 28, 2023

29.01.2023 BANGLA MURLI

                       29.01.2023 BANGLA MURLI



"নম্বর ওয়ান হওয়ার জন্য গুণমূর্ত হয়ে গুণের দান করে মহাদানী হও"

আজ অসীম জগতের মাতা-পিতা চতুর্দিকের বিশেষ বাচ্চাদের দেখছিলেন। কি বিশেষত্ব দেখেছিলেন? চিরন্তন জ্ঞানী, অটল স্বরাজ্য অধিকারী, অখন্ড নির্বিঘ্ন, অখন্ড যোগী, অখন্ড মহাদানী এমন বিশেষ আত্মা কোটি কোটির মধ্যে কেউ কেউ হয়েছে। জ্ঞানী, যোগী, মহাদানী সবাই হয়েছে কিন্তু অখন্ড কেউ কেউ হয়েছে। যারা নিরন্তর, অটল আর অখন্ড তারাই বিজয়মালার বিজয়ী দানা। সঙ্গমযুগে সব বাচ্চাকে বাপদাদা'অটল-অখন্ড ভব'-র বরদান দিয়েছেন, কিন্তু বরদানকে জীবনে ধারণ করার ক্ষেত্রে তোমরা নম্বর অনুক্রমে হয়ে গেছ। নম্বর ওয়ান হওয়ার জন্য সবচাইতে সহজ বিধি হলো অখন্ড মহাদানী হও। অখন্ড মহাদানী অর্থাৎ নিরন্তর সহজ সেবাধারী, কারণ যা সহজ সেটাই নিরন্তর হতে পারে। সুতরাং অখন্ড সেবাধারী অর্থাৎ অখন্ড মহাদানী। দাতার বাচ্চা তোমরা, সমুদয় ভাণ্ডারে সম্পন্ন শ্রেষ্ঠ আত্মা। সম্পন্ন হওয়ার নির্দশন অখন্ড মহাদানী হওয়া। এক সেকেন্ডও দান দেওয়া ব্যতীত থাকতে পারে না। দ্বাপর থেকে অনেক ভক্ত আত্মাও দানী হয়েছে কিন্তু তারা যত বড় দানীই হোক না কেন শাশ্বত ভান্ডারের দানী হয়নি। বিনাশী ঐশ্বর্য কিংবা বিনাশী বস্তুর দানী হয়। তোমরা শ্রেষ্ঠ আত্মারা এখন সঙ্গমে শাশ্বত এবং অখন্ড মহাদানী হও। নিজেকে নিজে জিজ্ঞাসা করো অখন্ড মহাদানী হয়েছি? নাকি সময় অনুসারে দানী হয়েছ? নাকি চান্স অনুসারে দানী হয়েছ?

অখন্ড মহাদানী সদা তিন প্রকারে দান করতে বিজি থাকে। প্রথমতঃ, মন্সা দ্বারা শক্তি দেওয়ার দান, দ্বিতীয়তঃ, বাণী দ্বারা জ্ঞানের দান, তৃতীয়তঃ, কর্ম দ্বারা গুণের দান। এই তিন প্রকারের দান যে দিতে পারে সে সহজভাবে মহাদানী হতে পারে। রেজাল্টে দেখা গেছে তোমাদের মেজরিটি বাণী দ্বারা জ্ঞান দান করো। মন্সা দ্বারা শক্তির দান যথাশক্তি করো আর কর্ম দ্বারা গুণ দান যারা করো তারা সংখ্যায় অনেক কম। বর্তমান সময়ে অজ্ঞানী আত্মা হোক বা ব্রাহ্মণ আত্মা উভয়ের গুণ দানের প্রয়োজন আছে। বর্তমান সময়ে এই বিধি নিজের জন্য এবং ব্রাহ্মণ পরিবারের জন্য প্রবলভাবে তীব্র করে তোলো।

এই দিব্য গুণ সর্বাপেক্ষা শ্রেষ্ঠ প্রভু-প্রসাদ। এই প্রসাদ খুব করে বিতরণ করো। যেমন, কারও সঙ্গে যখন দেখা-সাক্ষাৎ হয় তখন স্নেহের নিদর্শন হিসেবে একে অপরকে স্থূল টোলি খাওয়াও তো না, ঠিক সেভাবেই একে অপরকে এই গুণের টোলি খাওয়াও। এই বিধিতে সঙ্গমযুগের যে লক্ষ্য "ফরিস্তা, সেই দেবতা" সেটা সহজে সকলের মধ্যে প্রত্যক্ষভাবে দেখা যাবে। এই প্র্যাক্টিস নিরন্তর স্মৃতিতে বজায় রাখ, আমি দাতার বাচ্চা অখন্ড মহাদানী আত্মা। যে কোনো আত্মা তা' সে অজ্ঞানী হোক বা ব্রাহ্মণ হোক, তোমাদের কিন্তু দিতে হবে। ব্রাহ্মণ আত্মাদের তো প্রথম থেকেই জ্ঞান আছে, কিন্তু দু' প্রকারে দাতা হতে পারো।

১) যে আত্মার যে শক্তির আবশ্যকতা আছে সেই আত্মাকে মন্সা দ্বারা অর্থাৎ শুদ্ধ বৃত্তি, ভাইব্রেশন দ্বারা শক্তির দান অর্থাৎ সহযোগ দাও।

২) কর্ম দ্বারা জীবনে সদা নিজে গুণমূর্ত হয়ে, প্রত্যক্ষ স্যাম্পল হয়ে সহজভাবে গুণ ধারণে অন্যদের সহযোগ দাও। একেই বলে, গুণ দান। দানের অর্থই হলো সহযোগ দেওয়া। আজকাল ব্রাহ্মণ আত্মারাও শোনার পরিবর্তে প্রত্যক্ষ প্রমান দেখতে চায়। যে কোনো কাউকে যদি শক্তি ধারণ করার বা গুণ ধারণ করার শিক্ষা দিতে চাও তাহলে কেউ হৃদয় দিয়ে ভাবে, কেউ বলে এমন ধারণামূর্ত কে হয়েছে? সুতরাং সবাই দেখতে চায় কিন্তু শুনতে চায় না। তোমরা পরস্পর এভাবে বলো তো না যে - কে হয়েছে, সবাইকে দেখে নিয়েছি...। যখন কোনো পরিস্থিতি আসে তোমরা বলো - ঠিক আছে, এখনো পর্যন্ত কেউ তৈরি হয়নি, সব চলবে। কিন্তু এই বোল অসাবধানতার, যথার্থ নয়। যথার্থ কী? ফলো ব্রহ্মা বাবা। যেভাবে ব্রহ্মা বাবা নিজেকে নিজে সদা এক্সাম্পল বানিয়েছেন, সদা নিদর্শন হিসেবে এই লক্ষ্যকে উপস্থাপিত করেছেন ― যে নিজে থেকে এগিয়ে এসে দায়িত্ব পালন করে সে অর্জুন অর্থাৎ যে নিজেকে নিমিত্ত প্রত্যক্ষ প্রমান বানায় সেই অর্জুন অর্থাৎ সর্বাগ্রগণ্য নম্বরের হয়। যদি ফলো ফাদার করতে হয় তাহলে অন্যকে দেখে তৈরি হলে নম্বর ওয়ান হতে পারবে না। নম্বরক্রমে হয়ে যাবে।

নম্বর ওয়ান আত্মার লক্ষণ হলো সব ধরনের শ্রেষ্ঠ কার্যে আমাকে নিমিত্ত হয়ে অন্যদের সিম্পল করার জন্য স্যাম্পল হতে হবে। অন্যকে দেখা, হতে পারে তা' বড়কে দেখা বা ছোটকে অথবা যারা তোমার সমান তাদের দেখা কিন্তু অন্যকে দেখে তৈরি হওয়া মানে এটা – প্রথমে এ' এ' হবে তখন আমি হবো, সুতরাং নম্বর ওয়ান সে হয়ে গেল তো না যে হবে! তাহলে তো আপনা থেকে তুমি নিজেই নম্বরক্রমে এসে গেলে। অতএব, অখন্ড মহাদানী আত্মা সদা প্রতিটা সেকেন্ড তিন মহাদানের মধ্যে থেকে কোনো না কোনো দান দেওয়ায় নিজেকে বিজি রাখে। যেমন সময় সেই অনুযায়ী সেবাতে সদা নিয়োজিত থাকে। ব্যর্থ দেখা, শোনা বা করার কোনো ফুরসতই তাদের নেই। তোমরা মহাদানী হয়েছ? এখন এটা আন্ডারলাইন করো। যদি মাঝে মাঝেই দাতাভাব খন্ডিত হয় তাহলে খন্ডন হওয়াকে সম্পূর্ণ বলা যায় না। বর্তমান সময়ে নিজেদের মধ্যে বিশেষ কর্ম দ্বারা গুণদাতা হওয়ার আবশ্যকতা আছে। প্রত্যেকে সঙ্কল্প করো, আমাকে সদা গুণমূর্ত হয়ে সবাইকে গুণমূর্ত হওয়ার বিশেষ কর্তব্য করতেই হবে। সুতরাং নিজের এবং অন্য সকলের দুর্বলতা সমাপ্ত করার এই বিধিতে প্রত্যেকে নিজেকে নিমিত্ত উত্তম নম্বর মনে করে অগ্রচালিত হও। জ্ঞান তো অনেক আছে, এখন সমস্ত গুণ ইমার্জ করো, সর্বগুণ সম্পন্ন হওয়ার আর অন্যদের সর্বগুণসম্পন্ন করানোর এক্সাম্পল হও। আচ্ছা!

অখন্ড সকল যোগী তু আত্মাকে, সদা গুণমূর্ত সকল আত্মাকে, প্রতিটা সঙ্কল্প প্রতিটা সেকেন্ড মহাদানী অথবা মহাসহযোগী সকল বিশেষ আত্মাকে, যারা সদা নিজে শ্রেষ্ঠত্বের স্যাম্পল এবং সহজ সিম্পল এক্সাম্পল হয়ে অন্যদের প্রেরণা দেয়, সদা নিজেকে নিমিত্ত নম্বর ওয়ান মনে করে প্রত্যক্ষ প্রমান দেয়, বাবা সমান সেই সকল আত্মাকে বাপদাদার স্মরণ-স্নেহ আর নমস্কার।

দাদী জানকীর সাথে সাক্ষাৎকার ― (অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর প্রভৃতি পরিভ্রমণের সমাচার শুনিয়েছেন এবং সকলের তরফে স্মরণ জানিয়েছেন ) সকলের স্মরণ পৌঁছে গেছে। চতুর্দিকে বাচ্চারা সদা বাবার সামনে আছে তার প্রত্যক্ষ প্রমান হলো যখনই স্মরণ করে তখনই বাবার সমীপ আর সাথের অনুভব করে। হৃদয় থেকে বলে বাবা আর দিলারাম হাজির। সেইজন্যই বলা হয় 'হুজুর হাজির, হাজিরা হুজুর' (সদাই উপস্থিত)। তোমরা যেমনই হও, যেখানেই থাকো তিনি কিন্তু সবখানেই প্রত্যেকের কাছে হাজির হয়ে যান; সেইজন্যই হাজিরা হুজুর হয়ে আছেন। স্নেহের এই বিধি লোকে জানতে পারে না। এটা ব্রাহ্মণ আত্মারাই জানে। অনুভাবী এই অনুভবকে জানে। তুমি বিশেষ আত্মা তো বটেই, কম্বাইন্ড তো না। আলাদা হতেই পারো না। লোকে বলে, যেদিকে তাকাই সেদিকে শুধুই তুমি আর তুমি, তোমরা বলো যা কিছু করি, যেখানে যাই বাবা সাথেই আছেন অর্থাৎ শুধু তুমি আর তুমি আছ। যেভাবে কর্তব্য তোমাদের সাথে আছে সেভাবে সব কর্তব্য করানোর মালিকও সদা সাথে আছেন। সেইজন্য গাওয়া হয়েছে করণকরাবনহার। তাহলে কম্বাইন্ড হয়ে গেলে তো না ― করণহার আর করাবনহার। সুতরাং তোমাদের সবার স্থিতি কী? কম্বাইন্ড, তাই না। করণকরাবনহার, করণহার-এর সাথে আছেনই, করাবনহার আলাদা নেই। একেই কম্বাইন্ড স্থিতি বলা হয়ে থাকে। সবাই তোমরা ভালোভাবেই নিজের নিজের পার্ট প্লে করছ। অনেক আত্মার সামনে তোমরা স্যাম্পল, সিম্পল বানানোর। এ'রকম লাগে তো না। কঠিনকে সহজ বানানো সেটাই ফলো ফাদার করা। এরকমই তো, তাই না। পার্ট প্লে ভালো করেছ তো না। যেখানেই থাক, বিশেষ পার্টধারী বিশেষভাবে পার্ট প্লে না করে থাকতে পারে না। এটা ড্রামায় লিপিবদ্ধ আছে। আচ্ছা। পরিক্রমা করা খুব ভালো। পরিক্রমণ করেছ তারপরে সুইট হোমে এসে গেছ। সেবার পরিক্রমা অনেক আত্মাদের জন্য বিশেষ উৎসাহ-উদ্দীপনার পরিক্রমণ। সব ঠিক আছে তো না? শুধুই ভালো আর ভালো। ড্রামার ভবিতব্য অবশ্যই টানে। এমনকি, তুমি হয়তো এখানে থাকতে চাও কিন্তু ড্রামায় নেই তাহলে কী করবে? ভাবলেও যেতে হবে কারণ সেবার ভবিতব্য, সুতরাং সেবার ভবিতব্য নিজের কার্য করায়। আসা আর যাওয়া এটাই তো বিধি। আচ্ছা। সংগঠন ভালো।

অব্যক্ত বাপদাদার পার্সোনাল সাক্ষাৎকার : -

১) পরমাত্ম-ভালোবাসা অনুভব করার জন্য দুঃখের তরঙ্গ থেকে বিচ্ছিন্ন হও

বাপদাদা সঙ্গমে অনেক রত্নভাণ্ডার দিয়েছেন, সেই সব রত্নভাণ্ডারের মধ্যে থেকে শ্রেষ্ঠ থেকেও শ্রেষ্ঠ রত্নভাণ্ডার হলো সদা খুশির ভান্ডার। তো এই খুশির ভান্ডার সদা সাথে থাকে? যে পরিস্থিতিই আসুক কিন্তু খুশি যেতে পারে না। যখন পরিস্থিতি দুঃখের তরঙ্গ নিয়ে আসে তখনও খুশি থাকো, নাকি অল্পস্বল্প তরঙ্গ এসে যায়? কেননা, সঙ্গমে রয়েছ তো না। সুতরাং একদিকে দুঃখধাম, অন্যদিকে সুখধাম। তাইতো দুঃখের তরঙ্গের অনেক পরিস্থিতি সামনে আসবে কিন্তু নিজের ভিতরে সেই দুঃখের তরঙ্গ যেন দুঃখী না করে। যেমন, গরমের সময় গরম তো হবে তাই না, কিন্তু নিজেকে রক্ষা করা সেটা নিজের উপরে। সুতরাং দুঃখের বিষয় সামনে আসবে কিন্তু হৃদয়ে যেন তার প্রভাব না পড়ে। সেইজন্য বলা হয়ে থাকে স্বতন্ত্র হয়েও প্রভুর প্রিয়। সুতরাং দুঃখের তরঙ্গ থেকে যখন স্বতন্ত্র থাকবে তখনই প্রভুর প্রিয় হবে। যত স্বতন্ত্রতা ততই প্রিয়। নিজে নিজেকে দেখ, কতটা স্বতন্ত্র হয়েছ? যত স্বতন্ত্র হতে থাকবে ততই সহজভাবে পরমাত্ম-ভালোবাসা

অনুভব করবে। অতএব, প্রতিদিন চেক করো কতটা পৃথক থেকেছ, কতটা প্রিয় থেকেছ। কারণ এই ভালোবাসা পরমাত্ম-ভালোবাসা যা আর কোনও যুগে প্রাপ্ত হতে পারে না। যতটা প্রাপ্ত করতে চাও ততটা এখনই করতে হবে। এখন নয় তো কখনও হতে পারে না। তাছাড়া, এই পরমাত্ম-ভালোবাসা প্রাপ্তির সময় কত অল্প! সুতরাং অল্প সময়ে অনেক অনুভব করতে হবে। তাহলে করছ তো? দুনিয়ার লোকে খুশির জন্য কত সময়, সম্পত্তি খরচ করে আর তোমাদের তো সহজভাবে অবিনাশী খুশির ভান্ডার প্রাপ্ত হয়েছে।কিছু খরচ করেছ কি? খুশির সামনে খরচ করার বস্তু কী বা আছে যা দেবে? সুতরাং খুশির গীত গাইতে থাকো ― যা পাওয়ার ছিল তা'পেয়ে গেছি। পেয়ে গেছ তো না? তাইতো তোমরা যখন কোনো বস্তু পাও তখন খুশিতে নাচতে থাকো। অন্যদের সাথেও এই খুশি ভাগ করে নাও। যত বিলিয়ে দিতে থাকো ততই বেড়ে যায়, কারণ দুনিয়াতে তো দুঃখ সবসময়ের আর তোমাদের কাছে খুশিই সবসময়ের। সুতরাং দুঃখীকে খুশি দেওয়া, এটা সবচাইতে বড় থেকেও বড় পুণ্য। তো সবাই তোমরা নির্বিঘ্ন হয়ে সামনে উড়ছ নাকি ছোট বিঘ্ন তোমাদের থামিয়ে দেয়? বিঘ্নের কাজই হলো আসা আর তোমাদের কাজ হলো বিজয় প্রাপ্ত করা। যখন বিঘ্ন নিজের কার্য ভালো করে করছে তো তোমরা মাস্টার সর্বশক্তিমান নিজেদের বিজয়-কার্যে সদা সফল থাকো। সদা এটা স্মরণে রাখো যে, আমরা বিঘ্ন বিনাশক আত্মা। বিঘ্ন-বিনাশকের যে স্মরণিক আছে প্র্যাকটিক্যালি তার অনুভব করছ তো না। আচ্ছা।

২) অচল স্থিতি বানানোর জন্য মাস্টার সর্বশক্তিমানের টাইটেল স্মৃতিতে রাখো

নিজেকে সদা সর্ব ভাণ্ডারে পরিপূর্ণ অর্থাৎ সম্পন্ন আত্মা অনুভব করো?

কারণ যে সম্পন্ন হয় তার নিদর্শন ― সে অনড় হবে, অস্থিরতায় আসবে না। যত খালি হয় ততই অস্থিরতা। সুতরাং যে কোনো চঞ্চলতা তা' সঙ্কল্প দ্বারা হোক কিংবা বাণী দ্বারা, অথবা সম্বন্ধ-সম্পর্ক দ্বারা, কোনও প্রকার চঞ্চলতা যদি হয় তাহলে এটাই প্রমান হয় যে খাজানায় সম্পন্ন নয়। সঙ্কল্পেও, স্বপ্নেও অনড়। কারণ যেমন-যেমন মাস্টার সর্বশক্তিমান স্বরূপের স্মৃতি ইমার্জ হবে এই অস্থিরতা ততই মর্জ হতে থাকবে। সুতরাং মাস্টার সর্বশক্তিমানের স্মৃতি প্রত্যক্ষ রূপে ইমার্জ হতে হবে। যেমন, শরীরের অক্যুপেশন ইমার্জ থাকে, মর্জ হয় না, তেমনই ব্রাহ্মণ জীবনের এই অক্যুপেশন যেন ইমার্জ রূপে থাকে। অতএব, চেক করো, ইমার্জ থাকে নাকি মর্জ থাকে? যদি ইমার্জ থাকে তাহলে তার নির্দশন হবে সব কর্মে সেই নেশা থাকবে এবং অন্যদেরও অনুভব হবে যে, এ' শক্তিশালী আত্মা। সুতরাং বলা হয় চঞ্চলতার ঊর্ধ্বে অটল স্থিতি। অচলঘর তোমাদের স্মরণিক। সুতরাং নিজের অক্যুপেশন সদা স্মরণে রাখো, আমি মাস্টার সর্বশক্তিমান, কারণ আজকাল সব আত্মা অতি দুর্বল, সেইজন্য দুর্বল আত্মাদের শক্তি চাই। কে দেবে শক্তি? যে নিজে মাস্টার সর্বশক্তিমান হবে। কোনও আত্মার সাথে যদি দেখা-সাক্ষাৎ হয় তাহলে সে নিজের কথা কী বলবে? দুর্বলতার কথাই বলে তো না? যা করতে চায় তা' করতে পারে না তো তার প্রমান হলো সে দুর্বল আর তোমরা যে সঙ্কল্প করো তা' কর্মে নিয়ে আসতে পারো। সুতরাং মাস্টার সর্বশক্তিমানের লক্ষণ হলো সঙ্কল্প আর কর্ম দুইই সমান হবে। এমন নয় যে সঙ্কল্প খুব শ্রেষ্ঠ হবে আর সেই শ্রেষ্ঠ সঙ্কল্প অনুযায়ী কর্ম করতে পারলে না, একে মাস্টার সর্বশক্তিমান বলা হবে না। সুতরাং চেক করো, যে শ্রেষ্ঠ সঙ্কল্প উৎপন্ন হয় তা' কর্ম পর্যন্ত আসে নাকি আসতে পারে না? মাস্টার সর্বশক্তিমানের লক্ষণ হলো - যখন যে শক্তি প্রয়োজন হবে সেই সময় সেই শক্তি যেন কার্যে আসে। তো এরকম হয় নাকি আহ্বান করো, কিছুক্ষণ পরে আসে? যখন কোনো পরিস্থিতি পুরো হয়ে যায়, আর তারপরে স্মৃতিতে আসে এভাবে নয়, এভাবে করা উচিত ছিল, তো তাকে বলা হয়ে থাকে প্রয়োজনের সময় কাজে আসেনি। যেভাবে, স্থূল কর্মেন্দ্রিয় অর্ডারে চলতে পারে, হাতকে যখন চাও, যেখানে চাও সেখানে চালনা করতে পারো, ঠিক সেভাবেই এই সূক্ষ্ম শক্তি এতটা কন্ট্রোলে হোক যাতে যে সময় যে শক্তি চাও কাজে লাগাতে পারো। সুতরাং এরকম কন্ট্রোলিং পাওয়ার আছে তোমাদের? এমন তো ভাবো না যে, এটা করতে চাইনি কিন্তু তবুও হয়ে গেছে। তাহলে নিজের কন্ট্রোলিং পাওয়ার চেক করতে করতে নিরন্তর শক্তিশালী হও। সবাই তোমরা উড়তি কলার নাকি কেউ উত্তরণ কলার কেউ উড়তি কলার? নাকি কখনো উড়তি, কখনো উত্তরণ, কখনো চলায়মান কলা হয়ে যায়? বদল হয় নাকি একরসে এগিয়ে যেতে থাকো? কোনো বিঘ্ন যদি আসে তবে কত সময়ে বিজয়ী হও? টাইম লাগে? কেননা, তোমরা তো নলেজফুল, তাই না। তো বিঘ্নেরও নলেজ আছে তোমাদের। যখন নলেজের শক্তি তোমরা প্রয়োগ করবে বিঘ্ন আঘাত করতে পারবে না বরং হার মানবে। একেই বলে, মাস্টার সর্বশক্তিমান। সুতরাং অমৃতবেলা থেকে এই অক্যুপেশন ইমার্জ করো আর তারপরে সারাদিন চেক করো। আচ্ছা।

No comments:

https://bkrajyogpathshala.blogspot.com/

01-04-2026 Bengali Murli

 মিষ্টি বাচ্চারা - বাচ্চারা, বাবা যা, বাবা ঠিক যেমন, তোমরা বাচ্চারাও তাঁকে নম্বর ক্রমানুসারেই চিনেছো, যদি সকলেই তাঁকে চিনে গেলে তবে তো অত্যন...