28.01.2023 BANGLA MURLI
বাবা বলেন ১৬ কলা সম্পূর্ণ হতে স্মরণের পরিশ্রম করতে হবে। দেখতে হবে কাউকে দুঃখ দিই না তো ? আমরা হলাম সুখদাতার সন্তান। সবাইকে সুখ প্রদান করতে হবে। মন, বাণী, কর্মে কাউকে দুঃখ দেবে না। এই সময় তোমরা যে পড়াশোনা করছো, তার দ্বারা ফুলে পরিণত হচ্ছো। এই উপার্জন তোমাদের সঙ্গে যাবে, এর জন্য কোনও বই ইত্যাদি পড়ার দরকার নেই। জাগতিক পড়াশোনায় অনেক বই ইত্যাদি পড়তে হয়। বাবার এই নলেজ সবচেয়ে পৃথক এবং খুব সহজও। কিন্তু সবই হল গুপ্ত। তোমরা ব্যতীত কেউ বুঝবে না যে, এরা কি পড়াশোনা করে। এ হলো ওয়ান্ডারফুল পড়াশোনা। বাবা বলেন কখনও অ্যাবসেন্ট হবে না। পড়াশোনা কখনও ত্যাগ করবে না। বাবার কাছে সকলের রেজিস্টার আসে। তা দেখেই বাবা বুঝতে পারেন কে ১০ মাস অ্যাবসেন্ট ছিল, কে ৬ মাস অ্যাবসেন্ট ছিল। কেউ আবার চলতে চলতে পড়াশোনা ত্যাগ করে দেয়। এ'হলো খুবই ওয়ান্ডারফুল বিষয়। এমন ওয়ান্ডারফুল বিষয় আর কিছু হয় না। কল্প কল্প বাচ্চারা তোমাদের সাথে এমন বাবা এসে মিলিত হন। তোমরা বাচ্চারা জানো সাকার বাবা তো পুনর্জন্মে আসেন। ইনি (ব্রহ্মা বাবা) ৮৪-র চক্র পরিক্রমা করেন ততত্বম্ (তোমরাও তাই), এ হল খেলা, তাইনা। খেলা কখনও ভুলতে নেই। খেলা সদা স্মরণে থাকে।
বাবা বোঝান এক তো এই দুনিয়া হলো নরক এবং তার চেয়েও বিশেষ ভাবে এই বায়োস্কোপ (সিনেমা) হলো নরক। সেখানে গেলে বৃত্তি খারাপ হয়ে যায়। খবরের কাগজে কোনও সুন্দর চিত্র ইত্যাদি দেখলে সেই দিকেই বুদ্ধি যায় - খুব সুন্দর চিত্র, পুরস্কার পাওয়া উচিত, এমন চিন্তন চলে। এমন চিত্র দেখবে কেন ! বুদ্ধিতে বোধ আছে যে, সম্পূর্ণ দুনিয়া শেষ হয়ে যাবে। তোমরা শুধু আমাকে স্মরণ করো। এমন কিছু দেখবে না, তা নিয়ে চিন্তনও করবে না। এ তো পুরানো দুনিয়ার অপবিত্র শরীর, সেসব দেখে কি হবে। একমাত্র বাবাকে দেখতে হবে। বাবা বলেন মিষ্টি-মিষ্টি বাচ্চারা লক্ষ্য খুবই উচ্চ। মায়া কোনো অংশে কম নয়। মায়ার কতো জৌলুস দেখো। ওই দিকে সায়েন্স আর এই দিকে তোমাদের সাইলেন্স। তারা চায় মুক্তি প্রাপ্ত হোক। এখানে তোমাদের মুখ্য লক্ষ্য হলো জীবনমুক্তি প্রাপ্ত করা। জীবনমুক্তি পাওয়ার পথ কেউ বলে দিতে পারে না। সন্ন্যাসী ইত্যাদি কেউ এই নলেজ প্রদান করতে পারে না। কাউকে বোঝাতে পারে না যে, গৃহস্থে থেকে পবিত্র হতে হবে। এ'কথা একমাত্র বাবা এসে বোঝান। ভক্তি মার্গে সময় নষ্ট হয়েছে। কত ভুল হয়েছে। ভুল করতে করতে ভোলা অর্থাৎ বিস্মৃত হয়েছে। এই লাস্ট জন্ম হল ১০০ শতাংশ ভুল করার। বুদ্ধি একটুও কাজ করে না। এখন বাবা তোমাদেরকে বোঝান, তখন তোমরা বুঝতে পারো। এখন তোমরা সব বুঝেছো তাই অন্যদেরও বোঝাও। খুশীর পারদ ঊর্ধ্বে থাকে তোমাদের। এ'হল ওয়ান্ডার - শিব বাবার কোনো বাবা নেই, কোনো টিচার নেই। শিখলেন কোথায় ! মানুষ ওয়ান্ডার অনুভব করবে। অনেকে বোঝে নিশ্চয়ই এনার (ব্রহ্মা বাবার) কেউ গুরু আছে । যদি ইনিও গুরুর কাছে শিক্ষা গ্রহণ করে থাকতেন তবে গুরুর আরও অনেক শিষ্য থাকা উচিত। শুধুমাত্র একটি শিষ্য কেন থাকবে। গুরুর অনেক শিষ্য থাকে। আগা খানের অনেক শিষ্য। গুরুর প্রতি তাদের কতখানি রিগার্ড আছে। তাকে হীরে দিয়ে ওজন করে। তোমরা কি দিয়ে ওজন করবে? বাবা তো হলেন সবচেয়ে সুপ্রিম। তাঁর কত ওজন হবে? তোমরা কি করবে ! ওজন করলে কত হবে? কোনও জিনিসের দ্বারা হবে কি ? শিববাবা তো হলেন বিন্দু। আজকাল অনেকে ওজন করে। কেউ স্বর্ণ দিয়ে, কেউ রৌপ্য দিয়ে, প্ল্যাটিনাম দিয়েও করে। সোনার চেয়েও বেশি দামি। এখন বাবা বোঝান দৈহিক গুরু তো তোমাদের সদগতি দেন না। সদগতি প্রদান করেন একমাত্র বাবা, তাঁকে কি দিয়ে ওজন করবে? মানুষ তো শুধুমাত্র ভগবান ভগবান বলেই থাকে। কিন্তু এ'কথা জানে না যে তিনি হলেন বাবা এবং টিচারও । কত সাধারণ ভাবে বসে আছেন। বাচ্চাদের মুখ দেখার জন্য একটু উঁচুতে বসেন। সহযোগী বাচ্চাদের ছাড়া বাবা স্থাপনা করবেন কীভাবে। যে বেশি সহযোগিতা করবে তাকে অবশ্যই বাবা ভালোবাসবেন। লৌকিকেও এক সন্তান ২ হাজার উপার্জন করে, অন্যজন ১ হাজার, তো বাবার স্নেহ কার প্রতি থাকবে? কিন্তু আজকালকার বাচ্চারা বাবার খবর রাখে কোথায়? অসীম জগতের বাবাও দেখেন অমুক অমুক বাচ্চারা খুব ভালো সহযোগিতা করে। বাচ্চাদেরকে দেখে বাবা খুশী হন। আত্মা খুশী হয়। কল্প-কল্প আমি আসি এবং বাচ্চাদের দেখে খুশী হই। জানি কল্প-কল্প তারা ই আমার সহযোগী। বাবার স্নেহ এভাবেই কল্প-কল্পের জন্য ফিক্স হয়ে যায়। যেখানেই বসে থাকো বুদ্ধিতে এই স্মৃতি রাখো যে, বাবা হলেন আমাদের পিতা, টিচার এবং গুরু। এক বাবা আমাদের সব কিছু। তবেই তো সবাই তাঁকে স্মরণ করে। সত্য যুগে কেউ স্মরণ করবে না কারণ ২১ জন্মের জন্য বাবা ভব সাগর পার করিয়ে দেন। এমন ভাবে স্মরণ করে বাচ্চাদের খুশীতে থাকা উচিত। খুশীর অনুভব হওয়া উচিত যে আমরা এমন বাবার সার্ভিস করি। সবাইকে বাবার পরিচয় দিয়ে থাকি। উনি হলেন অসীম জগতের বাবা। একমাত্র বাবা স্বর্গের স্থাপনা করেন। বাবা আমাদের সবাইকে সঙ্গে নিয়েও যান। এমন ভাবে বুঝিয়ে দিতে হবে যাতে সর্বব্যাপী বলতে পারবে না। বাবা বলেছেন বিনাশ কালে বিপরীত বুদ্ধি বিনশন্তি। তারা শেষ হয়ে যাবে, তোমরা বিজয় লাভ করবে। তোমরা রাজধানী স্থাপন করছো। আত্মাদের পিতা বসে আত্মাদেরকে বোঝাচ্ছেন। অতএব এমন ওয়ান্ডারফুল কথা সবাইকে বলা উচিত। আচ্ছা!
মিষ্টি - মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা - পিতা, বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত । আত্মাদের পিতা ওঁনার আত্মারূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার ।
*ধারণার জন্যে মুখ্য সারঃ-*
১ ) সুখদাতার সন্তান আমরা, সবাইকে আমাদের সুখ দিতে হবে। মন-বাণী-কর্মে কাউকেই দুঃখ দেবে না।
২ ) পড়াশোনা এবং টিচার দুইই হলো ওয়ান্ডারফুল। এমন ওয়ান্ডারফুল পড়াশোনা কখনও মিস করবে না। অ্যাবসেন্ট হবে না।\
বরদানঃ-প্রতিদিন
সর্বদা স্ব উৎসাহে থেকে এবং সর্বজনকে উৎসাহ প্রদান করে এমন রূহানী সেবাধারী ভব
বাপদাদা সব
রূহানী সেবাধারী বাচ্চাদেরকে স্নেহের এই উপহার প্রদান করেন যে "বাচ্চারা প্রতিদিন
স্ব উৎসাহে থাকো এবং সর্বজনকে উৎসাহ প্রদান করার উৎসব পালন করো।" এতে সংস্কার
মিলনের, সংস্কার পরিবর্তনের যা পরিশ্রম করতে হয় তার থেকে মুক্ত হয়ে যাবে। এই উৎসব সদা
উদযাপন করো তো সমস্ত সমস্যা গুলির অবসান হয়ে যাবে। তখন সময়ও দিতে হবে না, শক্তিও ব্যবহার
করতে হবে না। খুশীতে নাচতে থাকা, উড়তে থাকা ফরিস্তা হয়ে যাবে।
*স্লোগানঃ-* যে ড্রামার রহস্য বুঝে নাথিং নিউ এর পাঠ পাকা
করে সে-ই হল নিশ্চিন্ত সম্রাট (বেফিকর বাদশাহ)।
No comments:
Post a Comment