Thursday, January 26, 2023

26.01.2023 BANGLA MURLI

 26.01.2023 BANGLA MURLI


মিষ্টি বাচ্চারা - অমৃত বেলায় শান্ত, শুদ্ধ বায়ুমন্ডলে তোমরা দেহ সহ সব কিছু ভুলে আমাকে স্মরণ করো, সেই সময় খুব ভালো স্মরণ থাকে

প্রশ্নঃ -বাবার শক্তি প্রাপ্ত করার জন্য বাচ্চারা তোমরা কি এমন ভালো কর্ম করে থাকো?

উত্তরঃ -সবথেকে ভালো কর্ম হলো বাবার কাছে নিজের সবকিছু (তন-মন-ধন) অর্পণ করা যখন তোমরা সবকিছু অর্পিত করে দেবে তখন বাবা তোমাদেরকে রিটার্নে এতো শক্তি দেবেন, যার দ্বারা তোমরা সমগ্র বিশ্বের উপর সুখ-শান্তির অটল অখন্ড রাজত্ব করতে পারবে

প্রশ্নঃ -বাবা কীরকম সেবা বাচ্চাদেরকে শিখিয়েছেন যা কিনা কোনো মানুষ শেখাতে পারবে না?

উত্তরঃ -আত্মিক সেবা তোমরা আত্মাদেরকে বিকারের অসুখ থেকে মুক্ত করার জন্য জ্ঞানের ইঞ্জেকশন লাগিয়ে থাকো তোমরা হলে আধ্যাত্মিক সমাজসেবী সাধারণ মানুষ শরীরের সেবা করে কিন্তু জ্ঞান ইঞ্জেকশন দিয়ে আত্মার জ্যোতি সদা প্রজ্বল্যমান বানাতে পারে না এই সেবা বাবা- বাচ্চাদেরকে শেখাচ্ছেন

ওম্ শান্তি । এটা তো বোঝানো হয়েছে যে মানুষকে কখনও ভাগবান বলা যাবে না। এটা হল মনুষ্য সৃষ্টি আর ব্রহ্মা, বিষ্ণু, শংকর থাকেন সূক্ষ্ম লোকে। শিববাবা হলেন আত্মাদের অবিনাশী বাবা। বিনাশী শরীরের বাবা তো বিনাশী হয়। এটা তো সবাই জানে। জিজ্ঞেস করা হয় যে তোমাদের এই বিনাশী শরীরের বাবা কে? আত্মাদের বাবা কে? আত্মা জানে যে - তিনি পরমধামে থাকেন। বাচ্চারা, তোমাদের দেহ-অভিমানী কে বানিয়েছেন? যিনি দেহ রচনা করেছেন, তিনি। এখন দেহী-অভিমানী কে বানাচ্ছেন? যিনি হলেন আত্মাদের অবিনাশী বাবা। অবিনাশী মানে যাঁর কোনো আদি-মধ্য-অন্ত নেই। যদি আত্মার আর পরমাত্মার আদি-মধ্য-অন্ত বলে থাকে তাহলে রচনার বিষয়ে সংশয় উঠবে। তাকে বলা যায় অবিনাশী আত্মা, অবিনাশী পরমাত্মা। আত্মার নাম হল আত্মা। অবশ্যই আত্মা নিজেকে জানে যে আমি হলাম আত্মা। আমি আত্মা, আমাকে দুঃখী কোরো' না। আমি হলাম পাপাত্মা - এটা আত্মাই বলে। স্বর্গে এই শব্দটি আত্মা কখনোই বলবে না। এইসময়েই আত্মা পতিত হয়ে যায়, সেই আত্মাই আবার পাবন হয়। পতিত আত্মারাই পবিত্র আত্মার মহিমা করে। যে সমস্ত মনুষ্যাত্মারা আছে তাদেরকে পূণর্জন্ম তো অবশ্যই নিতে হবে। এইসব হল নতুন কথা। বাবা আদেশ করছেন - উঠতে-বসতে আমাকে স্মরণ করো। পূর্বে তোমরা পূজারী ছিলে। শিবায় নমঃ বলতে। এখন বাবা বলছেন তোমরা পূজারীরা নমস্কার তো অনেকবার করেছো। এখন তোমাদেরকে মালিক পূজ্য বানাচ্ছি। যে পূজ্য হয়, সে কখনো নমস্কার করে না। পূজারী নমঃ অথবা নমস্কার বলে। নমস্কারের অর্থই হল নমন করা। কাঁধ অবশ্যই একটু ঝোঁকাবে। বাচ্চারা এখন তোমাদেরকে নমস্কার করার দরকার নেই। না লক্ষ্মী-নারায়ণ নমঃ, না বিষ্ণু দেবতাকে নমঃ, না শংকর দেবতাকে নমঃ। এই শব্দটি হল পূজারীভাবের। এখন তো তোমাদেরকে সমগ্র সৃষ্টির মালিক হতে হবে। বাবাকেই স্মরণ করতে হবে। বলেও থাকে যে তিনি হলেন সর্ব সমর্থ। কালেরও কাল, অকাল মূর্তি। সৃষ্টির রচয়িতা। জ্যোতির্বিন্দু স্বরূপ। পূর্বে তাঁর খুব মহিমা করতে, তারপর বলে দিতে সর্বব্যাপী, কুকুর বিড়াল সবার মধ্যে আছেন, তখন সকল মহিমা সমাপ্ত হয়ে যায়। এই সময় সব মানুষই হল পাপাত্মা তাহলে জন্তু-জানোয়ারের আবার কি মহিমা হবে। সব কথা মানুষের জন্যই প্রযোজ্য। আত্মা বলে যে - আমি হলাম আত্মা, এটা হল আমার শরীর। যেরকম আত্মা হল বিন্দু স্বরূপ সেইরকমই পরমাত্মাও হলেন বিন্দু স্বরূপ। তিনিও বলেন যে - আমি পতিতদেরকে পাবন বানতে সাধারণ শরীরে প্রবেশ করি। এখানে এসে বাচ্চাদেরকে ওবিডিয়েন্ট সার্ভেন্ট হয়ে সেবা করি। আমি হলাম আধ্যাত্মিক সমাজসেবী। বাচ্চারা তোমাদেরকেও আধ্যাত্মিক সেবা করতে শেখাই। অন্যেরা সবাই তো জাগতিক শরীরের সেবা করতে শেখায়। তোমাদের হল আত্মিক সেবা, তখন বলা হবে জ্ঞান অঞ্জন সদ্গুরু দিয়েছেন... সত্যিকারের সদ্গুরু তিনি একজনই। তিনিই হলেন অথরিটি। তিনি এসে সকল আত্মাদেরকে ইনঞ্জেকশন দিয়ে থাকেন । আত্মার মধ্যেই বিকারের অসুখ আছে। এই জ্ঞানের ইঞ্জেকশন আর কারোর কাছে নেই। আত্মা পতিত হয় নাকি শরীর, যাকে ইঞ্জেকশন দেওয়া হবে? পাঁচ বিকারের কঠিন অসুখ হয়েছে। এর জন্য ইঞ্জেকশন জ্ঞান সাগর বাবা ছাড়া আর কারো কাছে নেই। বাবা এসে আত্মাদের সাথে কথা বলছেন যে হে আত্মারা, তোমাদের জ্যোতি সদা প্রজ্বল্যমান ছিল, তারপর মায়া এসে আর উপরে ছায়া ফেলে দেয়। ছায়া ফেলে দিতে দিতে তোমাদেরকে ধোঁয়াশাময় বুদ্ধির বনিয়ে দেয়। এছাড়া কোনও যুধিষ্ঠির বা ধৃতরাষ্ট্রের কথা নেই। এসব হল রাবণের বিষয়।

বাবা বলছেন - আমি আসি সাধারণ রীতিতে। আমাকে কোনও বিরল বা ব্যতিক্রমী আত্মাই জানতে পারবে। শিব জয়ন্তী হল আলাদা, কৃষ্ণ জয়ন্তী হল আলাদা। পরমপিতা পরমাত্মা শিবকে শ্রীকৃষ্ণের সাথে এক করতে পারবে না। তিনি হলেন নিরাকার, আর ইনি হলেন সাকার। বাবা বলছেন - আমি হলাম নিরাকার, আমার মহিমাও গাইতে থাকে - হে পতিত-পাবন এসে এই ভারতকে পুনরায় সত্যযুগী দৈবী রাজস্থান বানাও। কোনও এক সময় দৈবী রাজস্থান ছিল। এখন নেই। পুনরায় কে স্থাপন করবে? পরমপিতা পরমাত্মাই ব্রহ্মার দ্বারা নতুন দুনিয়া স্থাপন করেন। এখন হল পতিত প্রজার উপর প্রজার রাজ্য, এর নামই হল কবরস্থান। মায়া একদম শেষ করে দিয়েছে। এখন তোমাদেরকে দেহের সাথে দেহের সকল সম্বন্ধকে ভুলে এক বাবাকে স্মরণ করতে হবে। শরীর নির্বাহের জন্য কর্ম করতে করতেও করো। যখনই সময় পাবে আমাকে স্মরণ করার পুরুষার্থ করো। এই একটাই যুক্তি তোমাদেরকে বলে থাকি। সবথেকে বেশী তোমরা অমৃতবেলায় আমাকে স্মরণ করতে পারবে কেননা সেই সময় বাতাবরণ শান্ত ও শুদ্ধ থাকে। ওই সময় না চোর চুরি করে আর না কোনও পাপ কর্ম হয়, না কেউ বিকারে যায়। শোয়ার সময় সবাই শুরু করে। সেই সময়টাকে বলা হয় ঘোর তমোপ্রধান রাত। এখন বাবা বলছেন - বাচ্চারা পাস্ট ইজ পাস্ট। ভক্তিমার্গের খেলা সম্পূর্ণ হয়েছে, এখন তোমাদেরকে বোঝানো হয়েছে যে এটা হল তোমাদের অন্তিম জন্ম। এই প্রশ্ন উঠতেই পারেনা যে সৃষ্টির বৃদ্ধি কিভাবে হবে। বৃদ্ধি তো হতেই থাকবে। যে আত্মারা উপরে আছে, তাদেরকে নীচে আসতেই হবে। যখন সবাই এসে যাবে তখন বিনাশ শুরু হবে। তারপর নম্বরের ক্রমানুসারে সবাইকে যেতেই হবে। গাইড সবার সামনে থাকে তাই না।

বাবাকে বলা হয় মুক্তিদাতা, পতিত-পাবন। পবন দুনিয়া হলই স্বর্গ। বাবা ছাড়া স্বর্গ কেউ রচনা করতে পারবে না। এখন তোমরা বাবার শ্রীমতে চলে ভারতকে তন-মন-ধন দিয়ে সেবা করছো। গান্ধীজিও চাইতেন, কিন্তু করতে পারেন নি। ড্রামার ভবিতব্য এরকমই ছিল। যেটা পাস্ট হয়ে গেছে। পতিত রাজাদের রাজ্য শেষ হওয়ারই ছিল তাই তাদের নাম চিহ্ন সব সমাপ্ত হয়ে গেল। তাদের সম্পত্তিরও নামটুকু নেই। তারাও জানতো যে লক্ষ্মী-নারায়ণ স্বর্গের মালিক ছিলেন। কিন্তু এটা কেউ জানেনা যে তাদেরকে এইরকম কে বানিয়েছেন? অবশ্যই স্বর্গের রচয়িতা বাবার থেকে উত্তরাধিকার প্রাপ্ত হয়েছে, বাবা ছাড়া অন্যকেউ এত শ্রেষ্ঠ উত্তরাধিকার দিতে পারবে না। এসব কথা কোনও শাস্ত্রতে নেই। গীতাতে আছে কিন্তু নাম পরিবর্তন করে দিয়েছে। পান্ডব আর কৌরব দুজনেরই রাজত্ব দেখিয়েছে। কিন্তু এখানে দুজনের রাজত্ব নেই। এখন বাবা পুনরায় স্থাপন করছেন। বাচ্চারা তোমাদের খুশীর পারদ ঊর্ধ্বগামী হওয়া চাই। এখন নাটক সম্পূর্ণ হচ্ছে। এখন আমরা ফিরে যাচ্ছি। আমরা সুইট হোমের অধিবাসী। তারা তো বলে দেয় যে অমুক ব্যক্তি ওপারে নির্বাণে গেছে বা জ্যোতি জ্যোতিতে মিলিয়ে গেছে অথবা মোক্ষ লাভ করছে। ভারতবাসীদের স্বর্গ অতিমিষ্টি লাগে, তাই তারা বলে অমুকে স্বর্গলোক গমন করেছে। বাবা বোঝাচ্ছেন যে মোক্ষ তো কেউ পেতে পারেনা। সকলের সদ্গতিদাতা হলেন এক বাবা-ই । তিনি অবশ্যই সবাইকে সুখই দেবেন। এক নির্বাণধামে বসে আছেন, আর এক দুঃখ ভোগ করবে, এটা বাবা সহন করতে পারেন না। বাবা হলেন পতিত-পাবন। এক হল মুক্তিধাম পাবন, অন্যটি হল জীবন মুক্তিধাম পাবন। পুনরায় দ্বাপরের পর থেকে সবাই পতিত হয়ে যায়। পাঁচ তত্ত্ব ইত্যাদি সব তমোপ্রধান হয়ে যায় পুনরায় বাবা এসে পাবন করেন তারপর সেখানকার পবিত্র তত্ত্বের দ্বারা তোমাদের শরীর গৌর অর্থাৎ সুন্দর হয়ে যাবে। সেখানে প্রাকৃতিক বিউটি (সৌন্দর্য) থাকে। সেই সৌন্দর্য সকলকে আকর্ষণ করে। শ্রীকৃষ্ণের প্রতি সবাই কিভাবে আকৃষ্ট হয়। নামই তাহলে হবে না কেন। পরমাত্মার অনেক মহিমা করতে থাকে, অকালমূর্তি... তাঁকেই আবার নুড়ি কাঁকড়ের মধ্যে রয়েছেন বলে দিয়েছে। বাবাকে কেউই জানেনা, যখন বাবা আসেন তখন এসে বোঝান। লৌকিক বাবাও যখন বাচ্চা রচনা করেন তখন বাবার বায়োগ্রাফি ছেলে জানতে পারে। বাবা না বললে বাচ্চারা বাবার বায়োগ্রাফি কিভাবে জানতে পারবে? এখন বাবা বলছেন যে লক্ষ্মী-নারায়ণকে বরণ করতে হলে তো পরিশ্রম করতেই হবে। আমাদের লক্ষ অনেক শ্রেষ্ঠ, আমদানীও অনেক হবে। সত্যযুগে পবিত্র প্রবৃত্তি মার্গ ছিল। পবিত্র রাজস্থান ছিল সেটাই এখন অপবিত্র হয়ে গেছে। সবাই বিকারী হয়ে গেছে। এটা হলই আসুরিক দুনিয়া। অনেক করাপশান লেগেই আছে। রাজত্ব করার জন্য তো শক্তি চাই। ঈশ্বরীয় শক্তি তো তাদের কাছে নেই। প্রজার উপর প্রজার রাজ্য চলছেন, যে দান-পূণ্য ভালো কর্ম করে তাদেরই রাজপরিবারে জন্ম হয়। সেই কর্মের মধ্যে শক্তি থাকে। এখন তোমরা তো অনেক শ্রেষ্ঠ কর্ম করছো। তোমরা নিজেদের সবকিছু (তন-মন-ধন) শিববাবাকে অর্পণ করে দাও, তাই শিববাবাকেও বাচ্চাদের সামনে সবকিছু অর্পণ করতে হয়। তোমরা তাঁর থেকে শক্তি ধারণ করে সুখ শান্তির অখন্ড অনড় রাজ্য পরিচালনা করে থাকো । প্রজাদের মধ্যে তো কোনও শক্তি নেই। এমন বলবে না যে ধন দান করেছে তাই কর্মফল স্বরূপ এম.এল.এ ইত্যাদি হয়েছে। ধন দান করলে ধনবান ঘরে জন্ম হয়। এখন তো কোনও রাজা নেই। এখন বাবা তোমাদেরকে কতো শক্তি প্রদান করছেন। তোমরা বলো যে আমরা নারায়ণকে বরণ করবো। আমরা মানুষ থেকে দেবতা হচ্ছি। এসব হল নতুন নতুন কথা। নারদের কাহিনী এই সময়ের। রামায়ণ ইত্যাদিও এইসময়কার কথা। সত্যযুগ ত্রেতাতে কোনও শাস্ত্র থাকবে না। সকল শাস্ত্রের সাথে এখন থেকেই বিচ্ছেদ হয়ে যায়। কল্পবৃক্ষের চিত্রে দেখবে মঠ পথ সব শেষ দিকে আসে। মুখ্য হল ব্রাহ্মণ বর্ণ, দেবতা বর্ণ, ক্ষত্রিয় বর্ণ... ব্রাহ্মণদের টিকি প্রচলিত আছে। এই ব্রাহ্মণ বর্ণ হল সবথেকে উঁচুতে যার আবার শাস্ত্রতে বর্ণনা নেই। বিরাট রূপ থেকেও ব্রাহ্মণদের সরিয়ে দিয়েছে। ড্রামাতে এইরকমই নির্ধারিত আছে। দুনিয়ার মানুষ এটা জানে না যে ভক্তি নিচে নামিয়ে দেয়। বলে দেয় যে ভক্তি করলে ভগবান প্রাপ্ত হয়। অনেক চিৎকার করে, দুঃখের সময় স্মরণ করে। সেটা তো তোমরা অনুভাবী। সেখানে দুঃখের কথা নেই, এখানে সকলের মধ্যে ক্রোধ আছে, একে-অপরকে গালি দিতে থাকে।

এখন তোমরা শিবায় নমঃ বলবে না। শিববাবা তো হলেন তোমাদের বাবা তাই না। বাবাকে সর্বব্যাপী বলার কারণ ব্রাদারহুড সমাপ্ত হয়ে যায়। ভারতে তো খুব ভালো বলে - হিন্দু চীনী ভাই ভাই, চীনী মুসলিম ভাই ভাই। ভাই ভাই তো আছো তাই না। এক বাবার বাচ্চা। এইসময় তোমরা জানো যে আমরা হলাম এক বাবার সন্তান। এই ব্রাহ্মণদের বংশাবলী (সিজরা = বংশলতিকা) পুনরায় স্থাপন হচ্ছে। এই ব্রাহ্মণ ধর্ম থেকে দেবী দেবতা ধর্ম বেরিয়ে আসে। দেবী দেবতা ধর্ম থেকে ক্ষত্রিয় ধর্ম। ক্ষত্রিয় থেকে আবার ইসলাম ধর্ম বের হবে... তাদেরও বংশলতিকা রয়েছে । তারপর বৌদ্ধ, খ্রীষ্টান বের হবে। এই ভাবে বের হতে হতে এত বড় ঝাড় হয়ে গেছে। এটা হল অসীম জগতের বংশলতিকা, আর সেটা হল জাগতিক। এই বিস্তারিত বিষয় যার ধারণা হবে না তার জন্য বাবা সহজ যুক্তি বলে দিচ্ছেন যে বাবা আর উত্তরাধিকারকে স্মরণ করো, তাহলেও স্বর্গে অবশ্যই আসবে। এছাড়া উচ্চ পদ প্রাপ্ত করতে হলে পুরুষার্থ করতে হবে। এটা তো বাচ্চারা তোমরা জানো, শিববাবাও তোমাদেরকে বোঝাচ্ছেন, এই বাবাও বোঝাচ্ছেন। তিনি তোমার আমার বুদ্ধিতে আছেন। যদিও আমি শাস্ত্র ইত্যাদি পড়েছি, কিন্তু এটাও জানি যে এইসব পড়ে কখনো ভগবানকে পাওয়া যায় না। বাবা বোঝাচ্ছেন মিষ্টি মিষ্টি বাচ্চারা শিববাবাকে আর উত্তরাধিকারকে স্মরণ করতে থাকো। বাবা তুমি খুব মিষ্টি, সব তোমারই চমৎকারিত্ব! (কামাল) এইরকম ভাবে বাবার মহিমা করতে হবে। বাচ্চারা তোমাদের ঈশ্বরীয় লটারী প্রাপ্ত হয়েছে। এখন জ্ঞান আর যোগের পরিশ্রম করতে হবে। এতে অবর্ণনীয় উপহার প্রাপ্ত হয় তাই পুরুষার্থ করতে হবে। আচ্ছা!

মিষ্টি-মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত। আত্মাদের পিতা ওঁনার আত্মা রূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।

*ধারণার জন্যে মুখ্য সারঃ-*

১ ) এখন নাটক সম্পূর্ণ হচ্ছে, আমরা নিজেদের সুইট হোমে ফিরে যাচ্ছি, এই স্মৃতিতে থাকলে খুশীর পারদ সদা ঊর্ধ্বগামী থাকবে।

২ ) অতীত-কে অতীত করে এই অন্তিম জন্মে বাবাকে পবিত্রতার সহায়তা করতে হবে। তন-মন-ধন দিয়ে ভারতকে স্বর্গ বানানোর সেবায় নিয়োজিত থাকতে হবে।

বরদানঃ-* সকল পুরানো খাতাগুলিকে সংকল্প আর সংস্কারের রূপ থেকেও নির্মূল করে অন্তর্মুখী ভব

বাপদাদা বাচ্চাদের সমস্ত খাতাগুলিকে এখন সাফ দেখতে চাইছেন। একটুখানিও পুরানো খাতা অর্থাৎ বহির্মুখী হওয়ার খাতা সংকল্প বা সংস্কার রূপেও যেন না থাকে। সদা সর্ব বন্ধনমুক্ত আর যোগযুক্ত - একেই অন্তর্মুখী বলা হয় এইজন্য সেবা অনেক করো কিন্তু বহির্মুখী থেকে অন্তর্মুখী হয়ে করো। অন্তর্মুখী হয়ে চেহারার দ্বারা বাবার নাম উজ্জ্বল করো, সমস্ত আত্মারা যেন বাবার হয়ে যায় - এইরকম প্রসন্নচিত্ত বানাও।

*স্লোগানঃ-* নিজের পরিবর্তন দ্বারা সংকল্প, বাণী, সম্বন্ধ, সম্পর্কে সফলতা প্রাপ্ত করাই হল সফলতা মূর্তি হওয়া।


No comments:

https://bkrajyogpathshala.blogspot.com/

01-04-2026 Bengali Murli

 মিষ্টি বাচ্চারা - বাচ্চারা, বাবা যা, বাবা ঠিক যেমন, তোমরা বাচ্চারাও তাঁকে নম্বর ক্রমানুসারেই চিনেছো, যদি সকলেই তাঁকে চিনে গেলে তবে তো অত্যন...