27.01.2023 BANGLA MURLI
"মিষ্টি বাচ্চারা - পরশমণির মত বুদ্ধিযুক্ত হয়ে ওঠার
জন্য, বাবা যা বুঝিয়ে দেন তা ভালো করে বুঝতে হবে, নিজের মধ্যে তা ধারণ করে অন্যদেরকে
ধারণ করাতে হবে"
*প্রশ্নঃ - কোন্ রহস্যটি
অত্যন্ত গুপ্ত ও গোপনীয় আর তাই তা ভালো করে বুঝে নেওয়া প্রয়োজন?
*উত্তরঃ - নিরাকার বাবা
কীভাবে সকলের মাতা পিতা হয়ে ওঠেন, তিনি এই সৃষ্টির রচনা কীভাবে করেন - এসবই অত্যন্ত
গোপনীয় এবং গুপ্ত রহস্য । মাতা ব্যতীত নিরাকার পিতা, এই সৃষ্টি রচনা করতে পারেন না।
কীভাবে তিনি শরীর ধারণ করে, তাতে প্রবেশ করে, তাঁর মুখ দ্বারা সন্তানদেরকে অ্যাডপ্ট
করেন (কোলে তুলে নেন), এই ব্রহ্মা আমাদের পিতা এবং মাতা উভয়ই - এই তথ্য ভালোভাবে বুঝে
তা মনে (স্মৃতিতে) রাখতে হবে।
*গীতঃ- তুমিই মাতা,
পিতাও তো তুমিই....
ওম্ শান্তি । যাকে মাতা পিতা বলো, অবশ্যই তোমরা তাকে বাবাই তো বলবে। ইনি তো মাতা ও পিতা কম্বাইন্ড রূপে রয়েছেন। সাধারণ মানুষের পক্ষে এই কথা বোঝা খুবই শক্ত কিন্তু এই কথাটাই বোঝা সবচেয়ে বেশি দরকার। নিরাকার পরমপিতা পরমাত্মা - যাকে পিতা বলা হয়, তাঁকে যে মাতাও বলা যায় - এ বড় বিচিত্র আশ্চর্যজনক কথা। পরমপিতা পরমাত্মা যখন মনুষ্য সৃষ্টি রচনা করবেন - তো মাতা অবশ্য প্রয়োজন। এই বড় গোপন রহস্য যা কারোরই বুদ্ধিতে বোধগম্য হয় না। তিনি হলেন সকলের পিতা, মাতাও অবশ্যই দরকার । পরমপিতা পরমাত্মা তো নিরাকার - তাহলে মা কে হবেন ? বিবাহ তো করেননি। এই রহস্য খুব ভালো করে বুঝতে হবে। নতুন নতুন বাচ্চারা তো এ'কথা বুঝতে পারবে না। পুরাতন বাচ্চাদের মধ্যে খুব কম সংখ্যকই একথা বুঝতে পারে আর মনে রাখতে পারে। মা বাবার স্মৃতিতে বাচ্চারাই তো থাকবে, তাই না। ভারতে লক্ষ্মী-নারায়ণকেও বলা হয় মাতা-পিতা... রাধাকৃষ্ণকেও বলে মাতা-পিতা... তাঁরা তো রাজকুমার রাজকুমারী ছিলেন। কোনো অবুঝও তাদেরকে মাতা-পিতা বলবে না। লোকের তো অভ্যাস হয়ে গেছে এ কথা বলার। কিন্তু একথা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। লক্ষ্মী-নারায়ণকে শুধুমাত্র তাঁদের সন্তানেরাই মাতা পিতা বলে ডাকবে... মানুষ মনে করে যাদের কাছে অগাধ ধনসম্পত্তি রয়েছে, মহল ইত্যাদি রয়েছে - তারা স্বর্গের সুখ পায়। তাঁদের সন্তানেরা বলবে যে - আমাদের বাবা-মায়ের কাছে অনেক সুখ রয়েছে। নিশ্চয়ই আগের জন্মে কিছু সৎকর্ম করেছিল। আচ্ছা এই যে গায়ন রয়েছে যে - তুমি মাতা পিতা.... পরমপিতা পরমাত্মা হলেন রচয়িতা, তিনি তো একজনই । আমরা সকলে সেই নিরাকারের সন্তান, তাই আমরা আত্মারা সকলেই নিরাকার। কিন্তু নিরাকার কিভাবে এই সৃষ্টি রচনা করবেন ? মাতা ব্যতীত এই সৃষ্টির রচনা করা সম্ভব নয়। এই সৃষ্টি রচনা করা এক অতি বিচিত্র ব্যাপার। পরমপিতা এই নতুন দুনিয়ার রচয়িতা। তিনি পুরাতন দুনিয়াতে এসে নতুন দুনিয়ার রচনা করেন, কিন্তু কিভাবে রচনা করেন - এ বড় জটিল গুপ্ত বিষয় - এখানে নিরাকারকে মাতা-পিতা বলা হয়। বাবা নিজে এসে বুঝিয়ে দেন যে - আমি বাচ্চাদেরকে অ্যাডপ্ট করে কোলে তুলে নিই। এখানে কোন জাগতিক গর্ভজাত সন্তানের কথাই নেই। এত বিপুল সংখ্যক সন্তান গর্ভজাত হওয়া সম্ভব নয়। তাই বাবা বলেন যে - আমি এই ব্রহ্মার শরীরকে ধারণ করে, এঁর মুখের দ্বারা বাচ্চাদেরকে অ্যাডপ্ট করি। তাই ব্রহ্মা হলেন এই মনুষ্য সৃষ্টির রচয়িতা - পিতা এবং মাতা উভয়ই। তাঁর মুখের দ্বারাই বাচ্চাদেরকে অ্যাডাপ্ট করি। এইভাবে বাচ্চাদেরকে অ্যাডাপ্ট করা - এ শুধুমাত্র বাবাই করতে পারেন। সন্ন্যাসীরা তো তা করতে পারেন না। সন্ন্যাসীদের কাছে থাকে জিজ্ঞাসু, অনুসরণকারী এবং তাদের শিষ্যগণ। কিন্তু এখানে রচনার কথা হচ্ছে। সুতরাং শিব বাবা এই ব্রহ্মার শরীরে প্রবেশ করেন এবং মুখ বংশাবলী সন্তান রচনা করেন, তারা বলে - তুমি মাতা পিতা... সুতরাং এই ব্রহ্মা যে মাতা তা এইভাবে প্রমাণিত হল। শিববাবা এঁনার মধ্যে প্রবেশ করে রচনা করেন। যেহেতু প্রজাপিতা বৃদ্ধ তাহলে মাতাও বৃদ্ধা হবেন । এখন বাচ্চাদেরকে তাদের মাতা পিতাকে স্মরণ করতে হবে। ব্রহ্মা বাবার কাছে তো কোনো সম্পত্তি নেই। তোমরা জানো যে তোমরা বাপদাদার উত্তরাধিকারী । প্রজাপিতা ব্রহ্মার থেকে তোমাদেরকে কোনো সম্পত্তি, কোনো উত্তরাধিকার নিতে হবে না। এই দাদাও (ব্রহ্মা) শিব বাবার কাছ থেকেই উত্তরাধিকার পেয়ে থাকেন। এঁনাকে দাদাও বলে আবার মাতাও বলে। না হলে মাতা পিতা কীভাবে প্রমাণিত হবে। মাতা পিতা ব্যতীত সন্তানদের জন্ম কীভাবে সম্ভব - এ বড়ই রহস্যময় বুঝে নেওয়ার বিষয় আর মনে রাখার মতো কথা। বাচ্চারা বলে - শিববাবা তুমি তো পিতা, আমরা এই ব্রহ্মা মাতার দ্বারা জন্মগ্রহণ করেছি। তখন উত্তরাধিকারও স্মরণে থাকে। স্মরণ শুধুমাত্র ওই শিব বাবাকেই করতে হবে। জ্ঞানের মাধ্যমে তোমরা এ'কথা বুঝতে পারো যে, কীভাবে বাবা এই পতিত দুনিয়াতে আসেন। বাবা বলেন - আমি যার মধ্যে প্রবেশ করি, সে আমার সন্তানও বটে, তোমাদের বাবাও বটে আবার অন্যদিকে মাতাও বটে । তোমরা হলে সন্তান। সুতরাং বাবাকে স্মরণ করলে উত্তরাধিকার প্রাপ্ত হয়, মাতাকে স্মরণ করলে উত্তরাধিকার পাবে না । নিরন্তর সেই এক নিরাকার পিতাকে স্মরণ করতে হবে। আর এই শরীরকে ভুলে যেতে হবে - এ সকল জ্ঞানের গোপন বিষয়, যা ভালো করে বুঝতে হবে।
বাবা পুরাতন দুনিয়াতে এসে নতুন দুনিয়া রচনা করেন। পুরাতনের সমাপ্তি করেন। না হলে কে তা করবে ? গায়ন রয়েছে যে শংকর দ্বারা পুরাতন দুনিয়ার বিনাশ হয় - ড্রামাতে তা নির্ধারিত রয়েছে, সেই কারণে প্রচলিত গায়নে এর উল্লেখ রয়েছে। বাচ্চারা, তোমরা জানো যে আমাদের জন্য নতুন রাজধানী স্থাপন হচ্ছে। বিনাশের জন্য সমস্ত প্রস্তুতি চরমে পৌঁছেছে। তোমরা এত সংখ্যক রয়েছো, সকলেই রাজত্বপদ প্রাপ্ত করছো। এমন নয় যে অন্ধশ্রদ্ধার জন্য মেনে নিয়েছে। কেউ বলল যে, রামের সীতাকে চুরি করে নিয়ে গেছে । লোকে বলল - সত্যি! যখন কোন কথা বুঝতে না পারবে তাহলে তা বোঝার চেষ্টা করো। না হলে চিরকাল অবুঝই থেকে যাবে। ভক্তি মার্গে স্বল্পকালের সুখ প্রাপ্ত হয়। ভক্তির ফল সেই জন্মেই অথবা অন্য জন্মে, স্বল্পকালের জন্য প্রাপ্ত হয়। লোকে যখন তীর্থযাত্রায় যায়, কিছু সময়ের জন্য পবিত্র জীবন যাপন করে, পাপ করে না। তখন তারা দান ধ্যান করে পূণ্য অর্জন করে, একে কাক বিষ্ঠার সমান সুখ বলা হয়। বাচ্চারা, এই কথা শুধুমাত্র তোমরাই বুঝতে পারো, কারণ তোমরা বানর থেকে পরিবর্তিত হয়ে মন্দিরে পূজন যোগ্য হয়ে ওঠো। সত্যযুগে তোমরা পরশবুদ্ধি ছিলে, পারসনাথিনীর রাজত্ব ছিল। সোনার মহল ছিল। এখন তো শুধুই পাথর। পরশবুদ্ধি থেকে পাথরবুদ্ধি কে বানায়? ৫ বিকাররূপী রাবণ। যখন সকলেই প্রস্তর বুদ্ধি হয়ে যায় তখন, পরশবুদ্ধি করে তোলার জন্য বাবা নিজে আসেন। কত সহজে বাবা বুঝিয়ে দেন, বীজ আর বৃক্ষের কাহিনী। বাবা বিস্তারিতভাবে বোঝাতে থাকেন আর বোঝাবেন ও। সংক্ষেপে বাবা এটুকুই বলেন যে শুধু বাবাকে স্মরণ করো যাঁর থেকে উত্তরাধিকার প্রাপ্ত হয়। মাতাকে স্মরণ করার প্রয়োজন নেই। বাবা বলেন বাচ্চারা আমাকে স্মরণ করো । সুতরাং বাচ্চারা মায়ের থেকে জন্মগ্রহণ তো অবশ্যই করেছে। বাচ্চারা জন্মগ্রহণ করেছে পিতার কাছ থেকে উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করার জন্য। তাই এই মায়ের প্রতিও মোহ ত্যাগ করো, সকল দেহধারীর থেকেও মোহ ত্যাগ করো। কারণ এখন বাবার কাছ থেকে উত্তরাধিকার নিতে হবে। এখন বাচ্চারা বুঝে গেছে যে, আমরা আত্মারা আত্মিক পিতার সন্তান, অতঃপর এখন দেহধারী মাতা পিতারও সন্তান হয়েছি। এই অসীম জগতের পিতা নতুন সৃষ্টি রচনা করেন। ভারত তো একসময় স্বর্গই ছিল। এই শ্রীলক্ষ্মী-নারায়ণ স্বর্গের মালিক ছিলেন, এখন আর নয়। অসীম জগতের পিতা এখন বুঝিয়ে দেন - তোমরা প্রতিটি জন্মে সীমিত উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করতে থাকো। নরকের উত্তরাধিকার আরো সীমিত। স্বর্গের উত্তরাধিকার সীমিত নয়, তা অসীমিত, কারণ তা প্রাপ্ত হয় অসীমিত পিতার কাছ থেকে যিনি সমগ্র সৃষ্টির মালিক এবং সেখানে অন্য কোনো ধর্মও থাকে না। সীমিত উত্তরাধিকারের প্রাপ্তি শুরু হয় দ্বাপর যুগ থেকে। সত্যযুগে অসীমিত উত্তরাধিকার প্রাপ্ত হয়। তোমরা সেই প্রালব্ধ ভোগ করো। ওখানে তোমরা অসীমিত (বেহদ) বাদশাহী ভোগ করো। যথা রাজা রানী তথা প্রজা। প্রজাও বলে যে আমরা সমগ্র সৃষ্টির মালিক। এখন প্রজারা এরকম বলতে পারেনা যে, আমরা সমগ্র সৃষ্টির মালিক। এখন তো সমস্ত কিছুই শ্রেণীবিভক্ত। একদল অন্যদেরকে বলে যে আমাদের জলের সীমারেখার ভেতরে ওরা আসতে পারবে না কারণ এই অংশ আমাদের। ওখানে প্রজাও বলবে যে আমরা বিশ্বের মালিক। আমাদের মহারাজা মহারানী লক্ষ্মী-নারায়ণও বিশ্বের মালিক। এখন আমরা জানি যে সত্যযুগে একটি মাত্র রাজ্য থাকবে। তা হল অসীমিত বাদশাহীর রাজত্ব। ভারত সত্যযুগে কিরকম ছিল তা কারোর বুদ্ধিতে আসতেই পারে না। বাচ্চারা তোমরা এখন এই শিক্ষা পাও যে, অসীমিত পিতার কাছ থেকে উত্তরাধিকার গ্রহণ করো। আমরা বলছি অর্থাৎ আমরা অবশ্যই নিচ্ছি। অসীমের পিতা হলেন এই স্বর্গের রচয়িতা। গায়নও রয়েছে যে ২১ বংশ ধরে রাজত্ব ভাগ্য পায়। বংশ পরম্পরা কেন বলা হয়? তার কারণ সত্যযুগে জীবনকাল সমাপ্ত করে, বৃদ্ধ হয়ে তারপর দেহ ত্যাগ করে, ওখানে অকালমৃত্যু হয় না। মাতাগণ কখনোই বিধবা হন না, চিৎকার ক্রন্দন ওখানে হয় না। এখানে কতো আর্তনাদ কান্নাকাটি হতে থাকে। ওখানে শিশুদের ক্রন্দনের প্রয়োজন নেই। এখানে বাচ্চাদেরকে কাঁদানো হয় যাতে তাদের মুখ বড় হয়। ওখানে এইরকম কোনো প্রয়োজনই নেই। এখন এ কথা তো সমস্ত বাচ্চারাই বুঝতে পারে যে, আমরা এখন অসীম জগতের পিতার কাছ থেকে উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করছি যা আমরা কল্প পূর্বেও প্রাপ্ত করেছিলাম । ৮৪ জন্ম পূর্ণ হয়েছে, এখন ঘরে ফিরে যেতে হবে। নিরন্তর বাবা আর তাঁর উত্তরাধিকারকে স্মরণ করলে, তবে বিকর্ম বিনাশ হবে। মন্মনাভব - এই কথার অর্থ কত সহজ। গীতা যতই মিথ্যে হোক না কেন তাতে কিছু না কিছু তো সত্যি অবশ্যই রয়েছে। বাবা বলেন যে - আমাকে, অর্থাৎ নিজের পিতাকে স্মরণ করো। শ্রীকৃষ্ণ কখনোই এমন বলেন না যে - আমাকে স্মরণ করো, তোমাদেরকে আমার কাছে আসতে হবে। পরমাত্মা সমস্ত আত্মাদেরকে বলেন যে, এখন সমস্ত আত্মাদেরকে মশার পালের মতো ঝাঁকে ঝাঁকে আমার কাছে আসতে হবে। সুতরাং আত্মা অবশ্যই পরমাত্মা পিতাকেই অনুসরণ করবে। শ্রীকৃষ্ণ কখনো এমন বলবে না যে আমাকে স্মরণ করো। তাঁর নাম তো কৃষ্ণ। কোনো আত্মাই এ'কথা বলতে পারেনা, কারণ সমস্ত আত্মারাই একে অপরের ভাই। এ তো শুধুমাত্র বাবাই বলেন যে - আমি নিরাকার পরমাত্মা, আমার নাম হলো শিব। সুতরাং শ্রীকৃষ্ণ তা কি করে বলবেন, তিনি তো শরীরধারী । শিব বাবার নিজের কোন শরীর নেই । শিববাবা বলেন - বাচ্চারা, তোমাদেরও প্রথমে কোনো শরীর ছিল না, তোমরা ছিলে নিরাকার আত্মা, তারপর তোমরা শরীর ধারণ করেছো। এখন তোমাদের মধ্যে এই সম্পূর্ণ ড্রামার আদি মধ্য এবং স্মৃতি জাগরিত হয়েছে। বাবা এই সমগ্র সৃষ্টি কিভাবে, কখন আর কেন রচনা করেন? সৃষ্টি তো রয়েছে। গায়নও রয়েছে যে ব্রহ্মার দ্বারা নতুন সৃষ্টির রচনা করা হয়েছে। তাহলে নিশ্চয়ই পুরাতন সৃষ্টি থেকেই নতুন সৃষ্টির রচনা করেন। বলা হয় যে মানুষ থেকে দেবতা তৈরী হলো । বাবা বলেন - আমি, তোমাদেরকে এই পড়ার মাধ্যমে মানুষ থেকে দেবতা তৈরী করি। তোমরা পূজনীয় দেবতা ছিলে, তারপর এখন পূজারী হয়ে গেছো। মানুষ তো বুঝতে পারে না যে ৮৪ জন্ম কিভাবে নেওয়া যায় সম্ভব। প্রত্যেকেই কি ৮৪ জন্মগ্রহণ করবে ? সৃষ্টি বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হতেই থাকে । তবে কিভাবে সকলেই ৮৪ জন্ম গ্রহণ করবে ? তবে নিশ্চয়ই যারা পরে আসবে তারা কম সংখ্যক জন্মগ্রহণ করবে। ২৫ - ৫০ বছরের মধ্যে ৮৪ টি জন্ম কিভাবে নেওয়া যায়? এ হলো স্বদর্শন চক্র। ওরা এই স্বদর্শন চক্রকে একটি অস্ত্রের রূপ দিয়ে দিয়েছে। আত্মারা, এখন তোমাদের এই স্মৃতি পুনরায় ফিরে এসেছে যে আমরা ৮৪ জন্ম কেমন ভাবে ভোগ করেছিলাম। এখন এই চক্র সম্পূর্ণ হতে চলেছে, পুনরায় ড্রামা রিপিট হবে। সর্বপ্রথমে আদি সনাতন দেবী-দেবতা ধর্ম অবশ্যই থাকবে যা এখন লুপ্তপ্রায় হয়ে গেছে।
মানুষ বলে, হে গডফাদার দয়া করো। তখন বাবা বলেন - আচ্ছা, তোমাদেরকে দুঃখ থেকে মুক্ত করে সুখী করে দিই। বাবার কাজই হল সকলকে সুখী করা, সেই কারণেই আমি কল্প কল্প ধরে আসি, এসে ভারতকে হীরে তুল্য করে গড়ে তুলি। অত্যন্ত সুখী করে তুলি। বাকি সকলকেই মুক্তিধামে পাঠিয়ে দিই। ভক্তরা ভগবানের সাথে মিলন করে সুখী হতে চায়, আনন্দ লাভ করতে চায়, কিন্তু সন্ন্যাসীরা তো বলে যে সুখ কাক বিষ্ঠা সমান আর তারা এটাও বলে যে তারা আর ফিরে এসে এই ড্রামাতে ভূমিকা পালন করতে চায় না । তারা মুক্তি পেতে চায় । মুক্তি তো কেউই পাবে না। এ হলো পূর্বনির্ধারিত অবিনাশী ড্রামা । বাচ্চারা, সমগ্র সৃষ্টির ইতিহাস ভূগোল এখন তোমরাই জানো যে, এ সমস্ত কিভাবে চক্রাকারে আবর্তিত হয়। এই সৃষ্টি চক্রের জ্ঞানকেই স্বদর্শন চক্র বলা হয়। এই যে দেখানো হয় যে স্বদর্শন চক্র দিয়ে কারোর মাথা কেটে দেওয়া হল । কংস বধের নাটক দেখানো হয়। কিন্তু এসব প্রকৃত সত্য নয়। এখানে হিংসার কোনো ব্যাপারই নেই। এ তো হলো পড়াশোনা। পড়াশুনা করতে হবে, বাবার থেকে উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করতে হবে । বাবার থেকে উত্তরাধিকার পাওয়ার জন্য কারো হত্যা করার দরকার আছে কি? সে'সব হলো সীমিত জাগতিক উত্তরাধিকার আর এ তো হল অসীম পিতার থেকে অসীমিত উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করা। গীতাতে যুদ্ধ ইত্যাদির কত কথা লেখা আছে। সেসব কিছুই হয়নি। বাস্তবে পান্ডবদের যুদ্ধ কারোর সাথেই হয়নি। বাচ্চারা, তোমরা প্রকৃতপক্ষে যোগবলের মাধ্যমে, অসীম অনন্ত পিতার কাছ থেকে উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করছো নতুন দুনিয়ার জন্য। এতে যুদ্ধ ইত্যাদির কোন ব্যাপারই নেই। আচ্ছা!
মিষ্টি মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা পিতা বাপ-দাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত। আত্মাদের পিতা ওঁনার আত্মারূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।
*ধারণার জন্যে মুখ্য সারঃ-*
১ ) বাবার থেকে ২১ জন্মের উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করার জন্য, বাবা আর অবিনাশী সম্পদের উত্তরাধিকারকে স্মরণ করার পুরুষার্থ করতে হবে। কোনো দেহধারীকেই স্মরণ করবে না।
২ ) বুদ্ধিতে স্বদর্শন চক্র ঘোরাতে থাকতে হবে। আমরা পূজনীয় ছিলাম, অতঃপর পূজারী হয়ে ৮৪ জন্মের চক্র পূর্ণ করেছি, পুনরায় এই ড্রামা রিপিট হবে, আমাদেরকে পূজারী থেকে পূজনীয় হতে হবে - এই স্মৃতিই হল স্বদর্শন চক্র।
বরদানঃ-* সমানতার
দ্বারা সমীপতার সীট নিয়ে ফার্স্ট ডিভিশনে আসা বিজয়ী রত্ন হও
সময়ের সমীপতার সাথে সাথে এখন নিজেকে বাবার সমান বানাও। সংকল্প,
বাণী, কর্ম, সংস্কার এবং সেবা এসব কিছুতে বাবার মতো হয়ে ওঠো অর্থাৎ বাবার সমীপে এসো।
প্রত্যেক সংকল্পে বাবার সঙ্গের, সহযোগের এবং স্নেহের অনুভব করো। সর্বদা বাবার সাথে
এবং বাবার হাতে নিজের হাত - এই অনুভূতিতে থাকো, তবে ফার্স্ট ডিভিশনে আসতে পারবে। নিরন্তর
স্মরণ আর সম্পূর্ণ স্নেহ শুধুমাত্র বাবার সাথে যদি থাকে, তবে বিজয়মালার বিজয়ী রত্ন
হয়ে যাবে। এখনো সুযোগ রয়েছে, টু লেট (দেরী হয়ে যাওয়া) এর বোর্ড এখনো লাগানো হয়নি।
স্লোগানঃ-* সুখদাতা
হয়ে অনেক আত্মাদেরকে দুঃখ এবং অশান্তি থেকে মুক্ত করার সেবা করাই হল সুখদেব হওয়া।
No comments:
Post a Comment