31.12.2022 BANGLA MURLI
"মিষ্টি বাচ্চারা - তোমাদের শিব জয়ন্তীর উৎসব অনেক ধুমধামের সাথে পালন করতে হবে। এটা হলো তোমাদের জন্য অনেক বড় খুশীর দিন, সকলকে বাবার পরিচয় দিতে হবে"
প্রশ্নঃ- কোন্ বাচ্চারা নিজের অনেক বড় লোকসান করে ফেলে?
ক্ষতি কখন হয়?উত্তরঃ- যে বাচ্চারা চলতে-চলতে পড়াশোনা ছেড়ে দেয়, তারা
নিজের অনেক বড় লোকসান করে ফেলে। বাবা রোজ এতো হীরে রত্ন প্রদান করেন, গুহ্য
পয়েন্টস্ শোনাতে থাকেন, যদি কেউ রেগুলার না শোনে তাহলে ক্ষতি
হয়ে যায়। অনুত্তীর্ণ হয়ে যায়, স্বর্গের উচ্চ বাদশাহী (উত্তরাধিকার)
হারিয়ে ফেলে। পদভ্রষ্ট হয়ে যায়।
গীতঃ- রাতের
প্রতি ক্লান্ত হয়ো না....
ওম্ শান্তি । এই রাত আর দিন মানুষের জন্য। শিববাবার জন্য রাত দিন হয় না। এটা বাচ্চারা তোমাদের জন্য, মানুষের জন্য। ব্রহ্মার রাত ব্রহ্মার দিন গায়ন করা হয়। শিবের দিন, শিবের রাত এটা কখনোই বলা হয় না। কেবল এক ব্রহ্মাও বলা হয় না। একজনের রাত হয় না। গায়ন করা হয় ব্রাহ্মণদের রাত। তোমরা জানো যে এখন হল ভক্তি মার্গের শেষ, সাথে সাথে ঘন অন্ধকারেরও অবসান। বাবা বলেন - আমি আসি তখনই যখন ব্রহ্মার রাত হয়। তোমরা এখন সকালের জন্য চলতে শুরু করেছো। যখন তোমরা এসে ব্রহ্মার সন্তান হও তখন তোমাদেরকে ব্রাহ্মণ বলা হয়। ব্রাহ্মণদের রাত সম্পূর্ণ হলে তারপর দেবতাদের দিন শুরু হয়। ব্রাহ্মণ গিয়ে দেবতা হবে। এই যজ্ঞের দ্বারা অনেক বড় পরিবর্তন হয়। পুরাতন দুনিয়া পরিবর্তন হয়ে নতুন হয়। কলিযুগ হল পুরাতন যুগ, সত্যযুগ হল নতুন যুগ। তারপর ত্রেতা ২৫ শতাংশ পুরাতন, দ্বাপর ৫০ শতাংশ পুরাতন। যুগের নামই পরিবর্তন হয়ে যায়। কলিযুগকে সকলে পুরাতন দুনিয়া বলবে। ঈশ্বর বলা হয় বাবাকে, যিনি ঈশ্বরীয় রাজ্য স্থাপন করেন। বাবা বলেন আমি কল্প-কল্প সঙ্গমযুগে আসি। সময় তো লাগে তাই না। যদিও এক সেকেন্ডের কথা, কিন্তু বিকর্ম বিনাশ হওয়ার জন্য সময় লাগে, কারণ অর্ধ কল্পের পাপ মাথার উপরে আছে। বাবা স্বর্গের রচনা করেন, তাহলে তোমরা বাচ্চারাও স্বর্গের মালিক তো হবে। কিন্তু মাথার উপরে যে সমস্ত পাপের বোঝা আছে তা ভস্মীভূত হতে সময় লাগবে। যোগ লাগাতে হয়। নিজেকে আত্মা অবশ্যই মনে করতে হবে। আগে যখন বাবা বলা হতো তখন দৈহিক বাবার কথা স্মরণে আসতো। এখন বাবা বলায় বুদ্ধি উপরে চলে যায়। দুনিয়াতে আর কারোরই বুদ্ধিতে থাকে না যে আমরা হলাম আত্মা রূহানী বাবার সন্তান। আমাদের বাবা টিচার গুরু তিনজনই হলেন রূহানী। স্মরণও ওঁনাকেই করি। এটি হল পুরাতন শরীর, একে কি শৃঙ্গার করবো। কিন্তু মনে মনে জানে যে আমরা এখন বনবাসে আছি। শ্বশুরালয় নতুন দুনিয়ায় যেতে চলেছি। পরবর্তীতে কিছুই থাকবে না। তারপর আমরা গিয়ে বিশ্বের মালিক হবো। এই সময় সমগ্র দুনিয়া যেন বনবাসে আছে, এখানে আছেই কি, কিছুই নয়। যখন শ্বশুরালয় ছিল তখন হীরে রত্নের মহল ছিল। ধন-সম্পত্তি ছিল। এখন পিত্রালয় থেকে শ্বশুরালয়ে যেতে হবে। এখন তোমরা কার কাছে এসেছো? বলবে বাপদাদার কাছে। বাবা দাদার মধ্যে প্রবেশ করেছেন, দাদা তো হলেনই এখানকার বাসিন্দা। তাই বাপদাদা উভয়েই হলেন কম্বাইন্ড। পরমপিতা পরমাত্মা হলেন পতিত-পাবন। ওঁনার আত্মা যদি শ্রীকৃষ্ণের মধ্যে থাকতো, উনি জ্ঞান শোনাতেন তাহলে শ্রীকৃষ্ণকেও বাপদাদা বলা হতো। কিন্তু শ্রীকৃষ্ণকে বাপদাদা বললে শোভা পেতো না। ব্রহ্মাই হলেন প্রজাপিতা গায়নে আছে। বাবা বুঝিয়েছেন যে এটি হল ৫ হাজার বছরের চক্র। তোমরা বাচ্চারা প্রদর্শনী যখন দেখাও তো তাতে এটাও লেখো যে আজ থেকে ৫ হাজার বছর পূর্বেও আমরা এই প্রদর্শনী দেখেছিলাম আর বুঝিয়েছিলাম যে অসীম জগতের পিতার থেকে স্বর্গের উত্তরাধিকার কিভাবে প্রাপ্ত করা যায়। আজ থেকে ৫ হাজার বছরের পূর্বের মতনই আমরা আবারও ত্রিমূর্তি শিব জয়ন্তী পালন করছি। এই শব্দ গুলি অবশ্যই দিতে হবে। এই বাবা ডায়রেকশন দিচ্ছেন, সেই অনুযায়ী চলতে হবে। শিব জয়ন্তীর প্রস্তুতি করতে হবে। নতুন-নতুন কথা শুনে মানুষ আশ্চর্য হয়ে যায়। ভালোভাবে বোঝাতে হবে। আমরা ত্রিমূর্তি শিবের জয়ন্তী পালন করি। ছুটি নিই। শিব জয়ন্তীর ছুটি হল অফিসিয়াল। কেউ করে, কেউ করে না। তোমাদের জন্য এটা হলো অনেক বড় দিন। যেমন খ্রিস্টানরা ক্রিসমাস পালন ক'রে। অনেক আনন্দ করে। এখন তোমাদের এই আনন্দ পালন করা উচিত। সকলকে বলতে হবে আমরা অসীম জগতের পিতার থেকে উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করছি। যারা জানে তারাই আনন্দ পালন করবে। সেন্টারে পরস্পরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে। এখানে তো সকলে আসতে পারবে না। আমরা পালন করি জন্মদিন। শিববাবার মৃত্যু তো হতে পারে না। যেভাবে শিববাবা এসেছেন সেভাবেই চলে যাবেন। জ্ঞান সম্পূর্ণ হয়ে গেছে। লড়াই শুরু হয়ে গেছে। ব্যস্। ওঁনার নিজের শরীর তো নেই। তোমরা বাচ্চারা নিজেকে আত্মা মনে করে সম্পূর্ণ দেহী-অভিমানী হতে হবে, এতেই পরিশ্রম করতে হয়। সত্যযুগে তো আত্ম-অভিমানী হয়। ওখানে অকাল মৃত্যু হয় না। এখানে বসে বসে কাল এসে যায়, হার্ট ফেল হয়ে যায়। বলবে ঈশ্বরের ইচ্ছা। কিন্তু ঈশ্বরের ইচ্ছা থাকে না। তোমরা বলবে ড্রামার পার্ট। ড্রামাতে এনার পার্ট এইরকমই ছিল। এখন তো হলই আয়রন এজ, নতুন দুনিয়া ছিল গোল্ডেন এজ। সত্যযুগের মহল কতো হীরে দিয়ে সাজানো থাকবে। অফুরন্ত ধন-সম্পদ থাকবে। কিন্তু তার সম্পূর্ণ বৃত্তান্ত নেই। কিছুটা ভূমিকম্প হওয়ার ফলে অনেক কিছু ভেঙ্গে যায়, নিচে চলে যায় তাই এই কথাগুলি বুদ্ধির দ্বারা বিচার বিশ্লেষণ করতে হবে। এই আহার হল বুদ্ধির জন্য। তোমাদের বুদ্ধি উপরে চলে গেছে। রচয়িতাকে জানার কারণে রচনাকেও জানে। সমগ্র সৃষ্টির রহস্য বুদ্ধিতে আছে। ড্রামাতে উচ্চ থেকে উচ্চ হলেন ভগবান। তারপর ব্রহ্মা-বিষ্ণু-শংকর, আমরা এই তিনজনের অ্যাকুপেশন বলতে পারবেনা তাদের কি-কি পার্ট আছে। জগৎ অম্বার কত বড় মেলা বসে। জগৎ অম্বা, জগৎ পিতার পারস্পরিক সম্বন্ধ কি? এটা কেউই জানে না, কারণ এটি হল গুপ্ত কথা। মা তো এখানে বসে আছেন, তিনিও অ্যাডাপ্ট নেওয়া, সেইজন্য ওনার চিত্র বানানো হয়েছে। ওনাকে জগৎ অম্বা বলা হয়। ব্রহ্মার কন্যা হল সরস্বতী। যদিও মায়ের টাইটেল দেওয়া হয়েছে কিন্তু ছিল তো কন্যাই। সাক্ষর করতেন ব্রহ্মাকুমারী সরস্বতী। তোমরা ওনাকে মাম্মা বলতে। ব্রহ্মাকে মা বলে ডাকলে শোভা পেতো না। এটা বোঝার আর বোঝানোর মধ্যে অনেক রিফাইন বুদ্ধির দরকার। এ'সব হলো গূহ্য কথা। তোমরা কারোর মন্দিরে গেলে দ্রুতই তাদের অ্যাকুপেশন জেনে যাবে। গুরু নানকের মন্দিরে গেলে দ্রুতই বলে দেবে যে উনি আবার কবে আসবেন? ওরা তো কিছুই জানে না, কারণ কল্পের আয়ু লম্বা বানিয়ে দিয়েছে। তোমরা বর্ণনা করতে পারো। বাবা বলেন দেখো আমি তোমাদেরকে কিভাবে পড়াই? কিভাবে আসি? শ্রীকৃষ্ণের তো কোনো কথাই নেই। গীতা পাঠ করতে থাকে, কেউ ১৮ অধ্যায় মুখস্থ করলে তার কতো মহিমা হয়। একটি শ্লোক শোনালে বলবে বাঃ! বাঃ! এনার মতো মহাত্মা আর কেউই নেই। আজকাল তো ঋদ্ধি সিদ্ধিও অনেক হয়। জাদুর খেলা অনেক দেখাতে থাকে। দুনিয়াতে অনেক ঠগও আছে। বাবা তোমাদের কত সহজভাবে বোঝান কিন্তু পঠন-পাঠন যারা করে তাদের উপরই সবকিছু নির্ভর করে। টিচার তো একই রকমভাবে সকলকে পড়ান, যারা পড়াশোনা করবে না তারা অণুত্তীর্ণ হয়ে যাবে। এটাও অবশ্যই হবে। সমগ্র রাজধানী স্থাপন হতে হবে। তোমরা এই জ্ঞান স্নান করো, জ্ঞানে ডুব দিয়ে পরিস্থানের পরি অর্থাৎ স্বর্গের মালিক হয়ে যাও। এখানেই হলো রাত দিনের পার্থক্য। সত্যযুগের তত্ত্বও সতোপ্রধান হওয়ায় শরীরও অ্যাকিউরেট (সেইমতো) হয়। ন্যাচারাল বিউটি থাকে। ওটি হল ঈশ্বরের স্থাপন করা ভূমি। এখন হল আসুরী ভূমি। স্বর্গ, নরকের মধ্যে অনেক পার্থক্য আছে। এখন তোমাদের বুদ্ধিতে ড্রামার আদি-মধ্য-অন্তের রহস্য বসে গেছে, নম্বর ক্রমানুসারে পুরুষার্থ অনুযায়ী।
বাবা বলেন - ভালোভাবে পুরুষার্থ করো। কন্যারা নতুন নতুন স্থান পরিদর্শন করতে যায়। যদি ভালো ভালো মাতা ইত্যাদিরা থাকে তাহলে সার্ভিসও সেই রকম ভালো করতে হবে । সেন্টারে যদি কেউ না আসে তাহলে নিজেরই লোকসান করতে থাকে। কেউ যদি পড়াশোনা করতে না আসে তাহলে তাকে লিখতে হবে। তুমি পঠন-পাঠন করছো না তাতে তোমার অনেক ক্ষতি হয়ে যাবে। প্রত্যহ অনেক গূহ্য পয়েন্টস্ পাওয়া যায়। এ'সব হলো হীরে রত্ন, তোমরা পঠন-পাঠন না করলে অণুত্তীর্ণ হয়ে যাবে। এত উচ্চ স্বর্গের বাদশাহী (উত্তরাধিকার) হারিয়ে ফেলবে। মুরলী তো রোজ শোনা উচিত। এরূপ বাবাকে ছেড়ে দিলে স্মরণে রেখো, অণুত্তীর্ণ হয়ে যাবে, তারপর অনেক কাঁদবে। রক্ত অশ্রু নির্গত হবে। পড়াশোনা তো কখনোই ছাড়া উচিত নয়। বাবা রেজিস্টার দেখেন। কতজন রেগুলার আসে। না আসলে তাদের সাবধান করা উচিত। শ্রীমত বলে যে - পড়াশোনা না করলে পদভ্রষ্ট হয়ে যাবে। অনেক ক্ষতি হয়ে যাবে। এমন লেখা-পড়া করো - যাতে তোমরা স্কুলের নাম উজ্জ্বল করতে পারো। এমন নয় যে কেউ আসলো না তাই ছেড়ে দিলে। টিচারের উৎকন্ঠা থাকে যে আমাদের স্টুডেন্ট বেশী সংখ্যায় অনুত্তীর্ণ হলে সম্মানহানি হবে। বাবা লেখেনও যে তোমাদের সেন্টারে সার্ভিস কম হয়, বোধহয় তোমরা ঘুমাচ্ছো। আচ্ছা!
মিষ্টি-মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি
মাতা-পিতা বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত। আত্মাদের পিতা ওঁনার আত্মা
রূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।
ধারণার জন্যে মুখ্য সারঃ-
১ ) এই পুরানো শরীরের শৃঙ্গার ক'রো না। বনবাসে
থেকে নতুন ঘরে যাওয়ার প্রস্তুতি করতে হবে।
২ ) জ্ঞান স্নান প্রত্যহ করতে হবে। পড়াশোনা
কখনোই মিস করলে চলবে না।
বরদানঃ-* মহানতার
সাথে নির্মান ভাবকে (নম্রতা) ধারণ ক'রে সকলকের মান প্রাপ্তকারী সুখদায়ী ভব
মহানতার লক্ষণ হল নির্মান ভাব। যত মহান ততই
নির্মান, কারণ
সর্বদা ভরপুর থাকে। যেমন বৃক্ষ যত ভরপুর হবে ততই ঝুঁকে থাকে। তাই নির্মান ভাবই
সেবা করে আর যারা নির্মান থাকে তারা সকলের থেকে মান প্রাপ্ত করে। যারা অভিমানে
থাকে তাদের কেউ সম্মান করে না, তার থেকে দূরে পালায়। যারা নির্মান হবে
তারাই সুখদায়ী হবে। তার থেকে সকলেই সুখের অনুভূতি করবে। সকলেই তার কাছে আসতে
চাইবে।
*স্লোগানঃ-* দুঃখকে তালাক দেওয়ার জন্য খুশীর খাজানাকে সর্বদা সাথে রাখো।
No comments:
Post a Comment