মিষ্টি বাচ্চারা - যে যতই গুণবান হোক, মিষ্টি মধুর স্বভাবের হোক অথবা ধনী হোক না কেন - তুমি যেন তার দিকে আকৃষ্ট হয়ো না, কোনো দেহকে স্মরণ করবে না।
*প্রশ্নঃ -যে সকল বাচ্চারা নলেজ পেয়েছে তাদের মুখ থেকে বাবার জন্য কোন্ মিষ্টি মধুর বাণী নির্গত হয়?
*উত্তরঃ -আহা! বাবা তুমি তো আমাদেরকে জীবনদান দিয়েছো। মিষ্টি বাবা,
তুমি
তো আমাদেরকে এই সমগ্র সৃষ্টির আদি মধ্য আর অন্তের নলেজ প্রদান করে সমস্ত দুঃখ থেকে
মুক্তি দিয়েছো, তোমাকে অজস্র ধন্যবাদ জানিয়েও শেষ করা যাবে না ।
*প্রশ্নঃ -অন্তিম কালে বাবা ছাড়া অন্য কারোর প্রতি যেন মন আকৃষ্ট না
হয় তার জন্য কি করতে হবে ?
*উত্তরঃ -বাবা বলেন - বাচ্চারা, তোমরা কখনো
লোভের বশবর্তী হয়ে কোনো জিনিস নিজের কাছে এক্সট্রা (অতিরিক্ত) রেখো না । অতিরিক্ত
থাকলে তাতে তোমার মন আকৃষ্ট হবে, বাবার স্মৃতি ভুলে যাবে।
*গীতঃ- ওরে মন ধৈর্য
ধর....
ওম্ শান্তি । কে বাচ্চাদেরকে ধৈর্য ধারণ করতে বলছে ? বাচ্চাদের
বুদ্ধি সাথে সাথে অসীম জগতের পিতার দিকে চলে যায়। তাও শুধুমাত্র এই সময়ই তোমাদের
বুদ্ধি বাবার দিকে যায়। এমনিতে অনেকেরই বুদ্ধি অনন্তের পিতার দিকে থাকে। কিন্তু
তাদের এটা জানা নেই যে এ হল সঙ্গম যুগ। বাবা যে এখানে এসেছেন তা সকলে একবারে তো
জানতে পারবে না। বাচ্চারা যখন বাবার হতে পারবে, তবেই তো জানতে
পারবে। বাচ্চারা এখন তোমরা বাবাকে জেনেছ, তোমরা জানো যে বাবা এসেছেন। ৫ হাজার
বছর পূর্বে তোমাদেরকে যা দিয়েছিলেন, সেই অনন্তের উত্তরাধিকার তিনি আবার প্রদান
করছেন। তিনি তো আসেনই এখানে বাচ্চাদেরকে অসীম অনন্ত স্বর্গের উত্তরাধিকার দিতে ।
তিনি অসীম জগতের পিতা হয়েও আমাদেরকে পড়ান। ভগবান মানূ বাবা আর তারপরে ভগবানুবাচ
অর্থাৎ তিনি পড়ান। তিনি কি পড়ান? বাচ্চারা, তোমরা তো সেটাও
বুঝতে পারো যে - আমরা এখন বাবার সামনে বসে আছি। বাবা কোনো শাস্ত্র পড়েননি। এই
দাদা ব্রহ্মাবাবা) পড়েছেন। শিববাবাকে তো বলাই হয় জ্ঞানের সাগর, তিনি হলেন
সর্বশক্তিমান । তিনি নিজেই বলেন যে - আমি এই সমস্ত বেদ, শাস্ত্র ইত্যাদি
খুব ভালোভাবে জানি, এসবই হল ভক্তি মার্গের সামগ্রী, এসব আমার রচনা
করা নয়। যখন কাউকে জিজ্ঞাসা করা হয় যে এ সমস্ত শাস্ত্র কবে থেকে পড়ছো, তো তারা উত্তর
বলে যে এ সমস্ত পরম্পরা ধরে চলে আসছে। বাবা বলেন - আমাকে তো কেউ পড়াতে আসে না,
আমার
কোনো বাবাও নেই। আর সকলেই মায়ের গর্ভ হতে জন্ম নেয়, মায়ের দ্বারা
লালিত পালিত হয় । আমি তো কখনো মাতৃগর্ভে প্রবেশ করি না সুতরাং কোনো মায়ের
লালন-পালনও নিই না। মানুষের আত্মা মাতৃগর্ভে প্রবেশ করে। সত্যযুগের
শ্রীলক্ষী-নারায়ণ তো মাতৃগর্ভ থেকেই জন্মগ্রহণ করেছেন সুতরাং তাঁরাও তো মানুষ
বটে। কল্পকল্প ধরে ড্রামার পরিকল্পনা অনুযায়ী, আমি তো এই
ব্রহ্মার শরীরে প্রবেশ করি। এই কথা আর কেউ জানে না। কারোর জানা নেই যে কল্পের আয়ু
কত । বাবা বসে আমাদের বুঝিয়ে দেন যে, আমি একাধারে তোমাদের বাবা, শিক্ষক এবং
সদ্গুরু । তোমরা জানো যে বাবা আমাদেরকে তাঁর সম্পত্তি দিতে এসেছেন, বাবা স্বর্গের
বাদশাহী দিতে এসেছেন, সুতরাং তিনি কি কখনো নরকের রাজত্ব দিতে পারেন! বুদ্ধিতে এই বিষয়ে
সদা সর্বদা থাকা দরকার যে অসীম জগতের পিতা আমাদেরকে রাজযোগ শিখিয়ে দিচ্ছেন। বাবা
স্বর্গ স্থাপন করতে চলেছেন। বাবা বলেন - আমার শ্রীমৎ অনুযায়ী চলো, আমি তোমাদেরকে
স্বর্গের মালিক বানাবো। তারপর দ্বাপর যুগ থেকে তোমরা রাবণের মতাদর্শ অনুসরণ করে
থাকো । সত্যযুগে গতি-সদগতির জন্য কোনো মানুষের মতাদর্শ পাওয়া যায় না। তার কোন
দরকারও নেই। কলিযুগে সকলে গতি-সদগতির জন্য মত-পথ খুঁজে বেড়ায়। তারা জানে যে তারা
কখন না কখনো, কোনো না কোনো সময় স্বর্গে ছিল, পবিত্র ছিল,
সেইজন্যই
তো তারা কাতর ভাবে ডাকতে থাকে, হে পতিতপাবন, হে সদ্গতিদাতা
আমাদেরকে সদ্গতি দাও। সত্যযুগে এভাবে কাতর ক্রন্দন কেউ করে না। এখন তোমরা জানো যে
বাবা এসেছেন। বাবা অত্যন্ত সরলভাবে রাজযোগ এবং সহজ জ্ঞানের পথ প্রদান করেন । এ হল
তাঁর পথ নির্দেশিত শ্রীমৎ। তিনি হলেন উঁচুর থেকেও উঁচু ভগবান। তাঁর থেকে উঁচু আর
কেউ নেই আর তিনি হলেন আমাদের আত্মিক পিতা। যেহেতু তিনি আত্মার পিতা তাই তিনি
আত্মাকে এই জ্ঞান প্রদান করেন। পিতার থেকে বাচ্চারা লৌকিক জ্ঞান গ্রহণ করে। সেই
কারণেই বাবা বলেন - আত্ম অভিমানী হও এবং বাবাকে স্মরণ করো। কোনো দৈহিক স্মৃতি যেন
মনে না থাকে। তোমরা হলে আত্মা - যত ভালো মানুষই হোক না কেন, ধনী ব্যক্তিই
হোক অথবা অতিশয় মধুর স্বভাবের কোনো ব্যক্তি যদি হয়ও - তবুও কোনো শরীরধারীকে কখনো
স্মরণ করবে না। শুধুমাত্র এক পরম পিতা পরমাত্মাকে স্মরণ করতে হবে। ধনবান শেঠের
সন্তান, তার
সেই ধনী বাবাকেই স্মরণে রাখবে। সে মহাত্মা গান্ধীকে অথবা শাস্ত্রী - এদেরকে কেনই
বা স্মরণ করবে । মানুষ সর্বাধিক স্মরণ করে পরমপিতা পরমাত্মাকে, তারপর কেউ স্মরণ
করে লক্ষীনারায়ণকে, কেউ রাধাকৃষ্ণকেও স্মরণ করে থাকে। তারা বোঝে যে এরা তো একসময় এখানেই
ছিলো। তাঁদের সময়ের হিস্ট্রি-জিওগ্রাফিও রয়েছে। উঁচুর থেকেও উঁচু হলেন বাবা,
তিনি
পুনরায় আসবেন সুতরাং পৃথিবীর হিস্ট্রি-জিওগ্রাফি পুনরায় রিপীট হবে। কলিযুগের পর
পুনরায় সত্যযুগের আগমন হবে। কিন্তু এ'সব শুধু তোমরা বাচ্চারা ছাড়া আর
কারোরই জানা নেই। ওরা শুধু বলার জন্য বলে যে - হিস্ট্রি-জিওগ্রাফি রিপীট হয়।
কিন্তু বোঝেনা কিছুই। আগে তোমরাও এমনই ছিলে। তোমরা ভাবতে যে অবশ্যই
লক্ষী-নারায়নের রাজত্ব ছিল কিন্তু কত সময় ধরে সেই রাজত্ব চলেছিল, তার কি হলো,
তারপর
তাঁরা কোথায় চলে গেলেন - এসব কিছুই তোমরা জানতে না। এখন তোমরা ক্রম অনুযায়ী খুব
ভালো ভাবে এই জ্ঞান ধারণ করে শ্রীমতে চলছো - এও ঠিক আছে। এখন তোমরা তোমাদের মন বচন
আর কর্ম দ্বারা অন্যদের সাহায্য করো। তোমরা এই জ্ঞান আর যোগের সাহায্যে বহুজনের
কল্যাণ সাধন করবে।
তোমরা হলে শক্তিসেনা ডবল অহিংসক। তোমাদের মধ্যে কোনো হিংসার লেশমাত্র
নেই। তোমরা কাউকে কখনো দুঃখ দাও না। হিংসার অর্থই হলো দুঃখ দেওয়া। ঘুসি মারা,
তলোয়ার
চালানো অথবা কাম কাটার চালানো - এসবই হল দুঃখ দেওয়া। তোমরা কাউকে কোনো রকমের দুঃখ
দাও না, সেই
কারণেই বলা হয়ে থাকে - অহিংসা পরম ধর্ম। মানুষ তো হিংসা করতে থাকে, কারণ এ তো
রাবণের রাজত্ব চলছে। মানুষ তো শ্রীকৃষ্ণের চরিত্রেও হিংসা দেখিয়েছে। বাচ্চারা,
তোমরা
তো এখন জানো যে - শ্রীকৃষ্ণ ছিলেন রাজকুমার, তার এমন
জীবনচরিত অথবা জীবন কাহিনী হতেই পারে না। একমাত্র ঈশ্বরেরই গুনগান চরিত হয়। তিনি
একমাত্র রত্নাকর, সওদাগর, জ্ঞানের সাগর এবং জাদুকর। আচ্ছা নিরাকার পরমাত্মা কিভাবে সওদা করতে
পারেন ? মানুষই
তো সওদাগর হতে পারে। এখন তোমরা এ সকল বিষয়ে জানো যে কেন বাবাকে সওদাগর এবং
রত্নাকর বলা হয়। কেন সকলে তাঁকেই স্মরণ করে ? তারা বলে হে
পতিত পাবন, সকলের সদগতি দাতা, দুঃখহর্তা সুখকর্তা। মহিমা কীর্তনও সেই একজনের
উদ্দেশ্যেই হয়। এই মহিমা কোনো সূক্ষ্মবতন নিবাসী অথবা স্থূলবতন নিবাসীর হতে পারে
না। এ হল মূলবতন নিবাসীর মহিমা। বাবা হলেন উঁচুর থেকেও উঁচু, আমরা আত্মারা
তাঁর সন্তান। আমরা সবাই নম্বরক্রমে ভূমিকা পালন করতে আসি। বাবা বলেন - এই যে জ্ঞান
আমি তোমাদেরকে শোনাচ্ছি তা, কাল ক্রমে লুপ্তপ্রায় হয়ে যায়। ঐরকম গীতা তো
অনেক আছে। তবুও পুরাতন গীতা আবার প্রকাশিত হবে। তোমরা যে কাগজপত্র ব্যবহার করো
সেগুলো ইমার্জ হবে না। অনেক ভাষাতে গীতা রয়েছে। গীতা হল উঁচুর থেকেও উঁচু,
কিন্তু
সে সবই মানুষের সৃষ্টি, এর কোনোটাই যথার্থ নয়, সেই কারণেই সকলে এখনো অজ্ঞানতার অন্ধকারে রয়েছে।
সেই কারণেই গায়ন রয়েছে যে জ্ঞান সূর্য উদিত হল.... লৌকিক জগতের আকাশে বিদ্যমান
এই সূর্যের মহিমার কথা বলা হচ্ছে না, এ হল জ্ঞান সূর্যের মহিমা। এই লৌকিক সূর্য
আমাদের প্রকাশ দেয়, সাগর জল দেয় - এর নাম ওখানে আর ওর নাম এখানে লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে।
জ্ঞানের সাগরকেই প্রকৃতপক্ষে জ্ঞান সূর্য বলা হয়। তোমরা জানো যে এখন আমাদের মনের
অন্ধকার দূর হয়েছে। এই সমগ্র সৃষ্টির আদি মধ্য এবং অন্তের জ্ঞান শুধুমাত্র তোমরাই
জানো। যখন তোমরা স্বয়ং রচয়িতার ভূমিকা জানো তবে তো বাকিদের ভূমিকা অবশ্যই জানো।
তোমরা এই নলেজ প্রাপ্ত করছো। তোমরা জানো যে এই বাবা আমাদের অত্যন্ত প্রিয়। তিনি
আমাদেরকে জীবন দান দেন, দুঃখ থেকে মুক্ত করেন, কালের কবল থেকে মুক্ত করেন। কেউ যখন মরতে মরতেও
জীবন ফিরে পায় তখন সে বলে যে, ডাক্তার তাকে জীবন দান দিয়েছেন। তোমাদেরকে
বাবা এমন জীবন দান দিয়েছেন, যার ফলে তোমরা কখনো অসুস্থ হবে না - তাই কখনো
বলার প্রয়োজনই পড়বে না যে কেউ তোমাদেরকে জীবন দান দিয়েছে। এ হল সম্পূর্ণ নতুন
জ্ঞান।
এখন তোমরা জীবিত অবস্থাতেই বাবার হয়ে গেছো। কাউকে কাউকে মায়ারূপী
রাবণ নিজের দিকে টেনে নিয়ে যায় । বলা যেতে পারে, রাবণরূপী কাল
তাকে গ্রাস করেছে । ঈশ্বরের কোলে এসে পুনরায় অসুরের কোলে চলে যায়। কাল তাকে
গ্রাস করেনি, কিন্তু জীবিত কালে সে প্রথমে ঈশ্বরকে আপন করে নিয়ে আবার রাবণকে আপন
করে নেয়। এখানে ধর্মাত্মা হয়, পুনরায় ওখানে গিয়ে অধর্মী হয়ে যায়। এখানে
সঙ্গম যুগে ধর্মের রাজত্ব রয়েছে আর ওখানে অধর্মের রাজত্ব রয়েছে। সত্যযুগে রয়েছে
শুধু এক ধর্ম। কলিযুগে অধর্মের রাজত্ব, কৌরব রাজত্ব চলছে। বলা হয়ে থাকে
মহাভারতের যুদ্ধের সময়, পান্ডবদের সাথে শ্রীকৃষ্ণ ছিলেন । তোমাদের সাথে
তো স্বয়ং শিববাবা রয়েছেন। এখানে কোনো জুয়া অথবা পাশা খেলার বিষয় নেই। না
কৌরবের রাজত্ব রয়েছে, না পাণ্ডবের রাজত্ব রয়েছে। বাবা এসে ধর্মরাজ্য স্থাপন করেন। মানুষ
চায় যে রাম রাজত্ব স্থাপন হোক। আমরা স্বর্গবাসী হই, অর্থাৎ এখন
এখানে এ হলো নরক। কিন্তু কাউকে সরাসরি নরকবাসী বলা হলে সে রেগে যাবে। বাবা বসে
বাচ্চাদেরকে বুঝিয়ে দেন যে - অসীমের পিতা হলেন নিরাকার, সেই অসীম জগতের
পিতাকেই ভগবান বলা হয়। জাগতিক সীমাবদ্ধতায় যে লৌকিক পিতা, তাকে কখনো ভগবান
বলা যায় না। শ্রীকৃষ্ণকে কখনোই জ্ঞানসাগর পতিত পাবন বলা যায় না। তাঁর মহিমা
শুধুমাত্র তোমরা ব্রাহ্মণেরাই জানো। বাবা এসে তোমাদেরকে তাঁর মতো তাঁর সমান করে
গড়ে তোলেন। বাবাও জানেন তোমাদের কথা আর বাচ্চারাও জানে যে উত্তরাধিকার প্রাপ্ত
হয়। ঠিক যেমনভাবে লৌকিক পিতার থেকে বাচ্চারা উত্তরাধিকার লাভ করে। দুটোই হলো
আলাদা আলাদা । এখানে তোমরা জানো যে, আমরা অসীম জগতের পিতার থেকে উত্তরাধিকার
প্রাপ্ত করছি। এইরকম কোনো স্কুল বা সৎসঙ্গ নেই, যেখানে সকলেই
বলে যে আমরা অসীম জগতের পিতার থেকে উত্তরাধিকার নিতে এসেছি। এখানে বাবা আমাদেরকে
রাজযোগ শেখান। তিনি বলেন যে, তোমরা নর থেকে নারায়ণ হবে। তা অবশ্যই
সঙ্গমযুগে হবে অর্থাৎ কলি যুগের অন্তিম সময় আর সত্যযুগের আরম্ভের সময় - এই দুইয়ের
সঙ্গমে তোমরা পুরুষার্থ করে নর থেকে নারায়ণ হচ্ছো। এই রাজযোগ আমরা বাবার কাছ থেকে
শিখছি - নর থেকে নারায়ণ আর নারী থেকে লক্ষ্মী হওয়ার জন্য। মানুষ নর-নারায়ণের
মন্দির স্থাপন করে, সেখানে তাঁকে চতুর্ভুজ দেখানো হয় - কারণ নর এবং নারায়ণ উভয়ে
একত্রে রয়েছে। যেমনভাবে নর-নারায়ণের মন্দির রয়েছে তেমনভাবে নারী লক্ষ্মীর
মন্দির কোথাও নেই। নারী-লক্ষ্মীকে দীপাবলীর সময় আহ্বান করা হয়, তাঁকে বলা হয়
মহালক্ষ্মী। তোমরা দেখবে, মহালক্ষ্মীর মূর্তি চতুর্ভুজ দেখানো হয়। যাকে
পূজা করা হয় তা হল যুগল বিষ্ণুর রূপ, তাই চার ভুজা দেখানো হয়েছে। এ সকল
বিষয় শুধু বাবা এসেই আমাদের বুঝিয়ে দেন । মানুষ তো এসব কিছুই জানে না। তারা শুধু
ভগবানকে খুঁজতেই থাকে। আর এদিক-ওদিক ধাক্কা খেতে থাকে। ভগবান তো উপরেই রয়েছেন,
তাহলে
খোঁজার কি প্রয়োজন? মন্দিরে যে শ্রীকৃষ্ণের চিত্র রয়েছে, সেই চিত্র ঘরে
রেখে পূজা করো না কেন ? তাহলে আবার বিশেষভাবে মন্দিরে যাওয়ার কি দরকার ? মন্দিরে যাবে,
পয়সা
দেবে, দান
করবে। ঘরে বসে কাকে দান করবে? সুতরাং এই সবই হল ভক্তি মার্গের নিয়ম কানুন।
বাবা বলেন, কোনো রকমের কোনো ছবি রাখার তোমাদের প্রয়োজন নেই। তোমরা কি শিব
বাবাকে জানো না, যে তার ছবি রেখেছো ? ছবি রাখলেই কি তাঁকে স্মরণ করতে পারো ? বাবা তো এখন
বর্তমান এখানে রয়েছেন, তাহলে কেন বাচ্চারা চিত্র রেখেছে? বাবা তোমাদেরকে
জ্ঞান প্রদান করছেন, তাহলে চিত্রের কী প্রয়োজন? বৃদ্ধ হলে স্মৃতিশক্তি ক্ষীণ হয়ে আসে
তাই মনে রাখার জন্য তাদেরকে চিত্র দেওয়া হয়। বাকি অন্য কোনো দেহধারীকে স্মরণ
করতে থাকলে, অন্তিম কালে সেই দেহধারী তোমাদের মনে আসবে। এতটুকুও মমত্ব যদি থেকে
যায় তো তার স্মৃতি তোমাকে ছাড়বে না। যতই শিব বাবার চিত্র রাখো না কেন তাতে লাভ
হবে না। যদি অন্য কারোর প্রতি মোহ থেকে যায়, তাহলে সে
তোমাদের স্মরণে আসবে। তাই বাবা বলেন - বাচ্চারা, তোমরা সম্পূর্ণ
নষ্টমোহ হয়ে যাও। কোনো বস্তুতে যদি মোহ থেকে যায়, ২-৪ জোড়া জুতো
যদি থাকে, তবে
তাও স্মরণে আসবে - তাই বলা হয় যে অতিরিক্ত কোনো জিনিস রেখো না। না হলে বুদ্ধিযোগ
তাতেই আটকে থাকবে। শুধু এক বাবা ছাড়া আর কাউকে স্মরণ ক'রো না। লোভ তো
হয় তাই না - যে আমরা ভালো ভালো জিনিস কিনবো, ২-৪ জোড়া জুতো
রাখবো, ঘড়ি
রাখবো, কিছু
টাকা পয়সা সঞ্চয় করবো - যা রাখবে তাই স্মরণে আসবে। বাবাকে জানানো উচিত, যে তোমাদের কাছে
কি রাখা আছে। বাস্তবে তোমাদেরকে কিছুই রাখার দরকার, নেই যা পাবে
শুধু তাই রাখবে। এক শুধু বাবা ছাড়া আর যেন কিছু মনে না থাকে। এইরকম অভ্যাস করতে
হবে - তবেই তো তোমরা বিশ্বের মালিক হতে পারবে। এ কথা কেউই বুঝতে পারে না যে
রাধাকৃষ্ণই বিশ্বের মালিক ছিলেন, তারা বলেন যে ভারতে রাধাকৃষ্ণ রাজত্ব করে
গেছেন। যমুনা নদীর উপকণ্ঠে তাদের মহল ছিল, কিন্তু তিনি সমগ্র বিশ্বের মালিক
ছিলেন। এসব কিছু এখন তোমাদের বুদ্ধিতেই শুধু আছে । অসীম জগতের পিতা তোমাদেরকে
অসীমের মালিক বানাতে এসেছেন । রাজা এবং প্রজার মধ্যে পার্থক্য অনেক। এখানে তোমরা
নর থেকে নারায়ণ হতে এসেছো, তবে বাবাকে সম্পূর্ণরূপে অনুসরণ করো। ফকির থেকে
ধনী হতে হবে। এতটা পুরুষার্থ করতে হবে । আনন্দ সহকারে মুরলী পড়তে হবে । আচ্ছা!
মিষ্টি মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা পিতা বাপদাদার স্মরণের
স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত। আত্মাদের পিতা ওঁনার আত্মারূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন
নমস্কার।
ধারণার জন্যে মুখ্য সারঃ-*
১ ) জ্ঞান যোগের দ্বারা সকলকে সাহায্য করতে হবে। ডবল অহিংসক হয়ে
উঠতে হবে। কাউকেই দুঃখ দেওয়া যাবে না।
২ ) নষ্টমোহ হতে হবে । কোনো জিনিসই যেন বুদ্ধির রাশকে টেনে না রাখতে
পারে । এক মাত্র বাবার স্মৃতি সদা সর্বদা থাকে - এর প্র্যাক্টিস করতে হবে।
*বরদানঃ-* ব্রাহ্মণ জীবনে স্মরণ
আর সেবার আধারে শক্তিশালী হয়ে মায়াজিৎ হও
ব্রাহ্মণ জীবনের আধারই হল স্মরণ এবং সেবা। যদি স্মরণ আর সেবার আধার
দুর্বল হয়ে থাকে তাহলে ব্রাহ্মণ জীবন কখনো দ্রুত গতিতে এগোবে, কখনো ঢিলেঢালা
ভাবে এগোবে। কখনো যদি কোনো সহযোগিতা পায়, কোনো সাথী পায়, কোনো অনুকূল
পরিস্থিতি হয় - তবেই পথ চলতে পারবে। আর তা না হলে ঢিলেঢালা হয়ে যাবে । সেই
কারণেই স্মরণ আর সেবা দুটোরই তীব্রগতি চাই । স্মরণ আর নিঃস্বার্থ সেবায় থাকলে,
মায়াজিৎ
হওয়া খুবই সহজ হয়ে যাবে আর প্রতিটি কর্মে বিজয় দেখতে পাওয়া যাবে।
*স্লোগানঃ-* বিঘ্ন-বিনাশক সে-ই
হতে পারে, যে
সর্বশক্তিতে সম্পন্ন ।
No comments:
Post a Comment