"মিষ্টি বাচ্চারা - অসীম জগতের পিতার কাছে তোমরা অনেক উচ্চ মানের
পড়াশোনা করছো, তোমাদের বুদ্ধিতে আছে যে পতিত-পাবন গডফাদারের
প্রশ্নঃ -আত্মিক গভর্নমেন্টের কাছ থেকে সম্মানের বৃদ্ধি (পুরস্কার) কোন্ বাচ্চাদের হয়?
উত্তরঃ -যারা অনেককে নিজের সমান তৈরি করার জন্য পরিশ্রম করে থাকে,
সার্ভিস
যে করছে তার প্রমাণও দেখিয়ে থাকে, তাদেরকেই রূহানী (আত্মিক) গভর্নমেন্ট অনেক
পুরস্কার দিয়ে থাকে। তারা ভবিষ্যতে ২১ জন্মের জন্য উচ্চ পদের অধিকারী হয়ে যায়।
ওম্ শান্তি । বাবা বাচ্চাদের বলেন তোমরা মিষ্টি-মিষ্টি বাচ্চারা আমার
কাছে পড়াশোনা করছো। এই পড়াশোনা হলো নতুন দুনিয়ার জন্য। আর কেউ-ই এমন বলতে পারে না
যে নতুন দুনিয়ার জন্য আমরা পড়াশোনা করছি। যত ভালোভাবে পড়াশোনা করবে ততই ২১ জন্মের
জন্য প্রালব্ধ তোমাদের জন্য সঞ্চিত হয়ে যাবে। অসীম জগতের বাবার কাছে বেহদের
পড়াশোনা করছো। অসীমের এই পড়াশোনা অনেক উচ্চ মানের। অন্যান্য পড়াশোনা সবই
পাই-পয়সার। সুতরাং বেহদের এই পড়াশোনায় তোমরা যত পুরুষার্থ করবে ততই উচ্চ পদ পাবে।
তোমাদের বুদ্ধিতে সবসময় এই বিষয় থাকা উচিত যে আমরা পতিত-পাবন গডফাদারের স্টুডেন্টস
এবং নতুন দুনিয়ার জন্য পড়াশোনা করছি সুতরাং তোমাদের কত ভালোভাবে পুরুষার্থ করা
উচিত যে আমরা এই ঈশ্বরীয় পঠন-পাঠন করে প্রথমে পিত্রালয়ে (বাবুলের কাছে) যাব তারপর
নিজ-নিজ পড়াশোনা অনুসারে নতুন দুনিয়াতে গিয়ে পদ প্রাপ্ত করবো। ও'সব হলো লৌকিক
পড়াশোনা, এখানে
হলো পারলৌকিক পড়াশোনা অর্থাৎ পরলোকের জন্য অধ্যয়ন। এই দুনিয়া পুরানো এবং পতিত হয়ে
গেছে। তোমরা জানো আমরা নরকবাসী থেকে স্বর্গবাসী হতে চলেছি। ক্ষণে-ক্ষণে এটা স্মরণে
আসা উচিত, তবেই
তোমাদের বুদ্ধিতে খুশি অনুভব হবে। বিবাহ ইত্যাদি অনুষ্ঠানে গিয়ে বাচ্চারা ভুলে
যায়। পড়াশোনার কথা কখনোই ভুলে যাওয়া উচিত নয় বরং আরও খুশি হওয়া উচিত। আমরা
ভবিষ্যতে ২১ জন্মের জন্য স্বর্গের মালিক হতে যাচ্ছি। যে ভালোভাবে অনেককে নিজের
সমান তৈরি করে, সে অবশ্যই উচ্চ পদ পাবে। এই রহস্য আর কারো বুদ্ধিতেই বসতে পারে না।
সার্ভিস করার জন্যও প্রজ্ঞা (বুদ্ধি, বিচক্ষণতা) থাকতে হবে। ডিপার্টমেন্ট
আলাদা-আলাদা থাকে। যারা স্লাইড তৈরি করে বাবা তাদের বলেন স্লাইড যেন সব একই সাইজের
হয় যাতে যে কোনো প্রজেক্টারে ব্যবহার করা যেতে পারে। সর্বপ্রথম স্লাইড তৈরি করা
হবে যাতে থাকবে পরমাত্মার সাথে তোমাদের কি সম্বন্ধ? সুতরাং ওরা
বুঝতে পারবে যে পরমপিতা পরমাত্মা আমাদের পিতা। ওঁনার কাছে কি পাওয়া যায়? তারপর দেখাতে
হবে যে ত্রিমূর্তি ব্রহ্মার দ্বারা আমরা এই সূর্য বংশীয় পদ পাই। তোমরাও নতুন
দুনিয়ার জন্য পুরুষার্থ করছো। এখন তোমরা রয়ছো সঙ্গম যুগে, পবিত্র দুনিয়া
স্থাপন করছো। তোমাদের বুদ্ধিতে স্মৃতি এসেছে - আমরাই পূর্বের মতো ৫ হাজার বছর আগে
দেবী-দেবতা ছিলাম। তারপর রাজ্য হারিয়েছি। বাকিরা যারা সিংহাসন ইত্যাদি পেয়ে থাকে,
সেইসব
হলো সীমিত বিষয়ের (হদের)। তোমাদের হলো অসীমের (বেহদের) লড়াই, শ্রীমৎ অনুসারে
তোমরা ৫ বিকার রূপী রাবণের সাথে লড়াই করছো। তোমরা জানো ড্রামায় জয় পরাজয়েরও (হার,
জীত)
পার্ট আছে। প্রতি ৫ হাজার বছর পরে এই ড্রামার চক্র ঘুরে আসে। সুতরাং বাচ্চারা
তোমাদের শ্রীমৎ অনুসারে চলতে হবে, যে যেমন ডায়রেকশন পাও। বাচ্চারা বলে আমরা তো
বুঝি কিন্তু কাউকে বোঝাতে পারিনা। এটা তো এমন হলো যে কিছুই বুঝতে পারোনি। যে যেমন
বুঝবে তেমনই পদ পাবে। বুদ্ধিতে স্বদর্শন চক্র ঘোরা উচিত। তোমরাই স্বদর্শন চক্রধারী
হও। অন্যদের যদি নিজের সমান তৈরি করতে না পারো তবে সার্ভিসেবল প্রমাণ হয় না,
সেইজন্যই
সম্পূর্ণ রূপে পুরুষার্থ করতে হবে। অন্যদেরও শেখাতে হবে। ব্রাহ্মণীদের প্রত্যেকের
প্রতি পরিশ্রম করতে হবে। টিচার্স অনেক পরিশ্রম করে তবেই তো ইজাফা (পুরস্কার) পায়।
তোমরাও গভর্নমেন্টের থেকে কত বড় ইজাফা (সম্মানবর্ধক পুরস্কার) পাও। তোমরা যে
সার্ভিস করছো তার প্রমাণ দিতে হবে। ফাঁকিবাজি করা উচিত নয়। এখানে একটা ক্লাসেই
প্রতিটি বিষয় নিয়ে পড়ানো হয়। তোমরা জানো আমরা ভবিষ্যতে দেবী-দেবতা হবো। বিনাশ
অবশ্যই হবে। যেমন কল্প পূর্বেও স্বর্গে মহল ইত্যাদি তৈরি করেছিলে তেমনটাই আবারও
তৈরি করবে। ড্রামা সাহায্য করে থাকে। ওখানে তো বিশাল-বিশাল প্রাসাদ এবং
বিশাল-বিশাল সিংহাসন তৈরি হবে। এখানে এতো বড় সোনা-রূপার তৈরি মহল আছে নাকি! ওখানে
হীরা-জহরত হবে পাথরের মতো। ভক্তি মার্গেই এতো হীরা-জহরত আছে তবে সত্যযুগে কিই না
থাকবে। যদিও বিত্তবান মানুষ এখানে রাধা-কৃষ্ণ বা লক্ষ্মী-নারায়ণ ইত্যাদি
দেবী-দেবতাদের সোনার অলঙ্কার পরিয়ে সাজিয়ে তোলে। বাবার(ব্রহ্মা) মনে আছে এক শেঠ
ছিল সে বলেছিল লক্ষ্মী-নারায়ণের মন্দির তৈরি করছি, ওদের জন্য নতুন
গয়না গড়াতে হবে। ঐ সময় তো খুব সস্তা( কম দাম) ছিল। তাহলে সত্যযুগে কি হবে। ভক্তি
মার্গে অনেক জিনিস ছিল, যা সব লুটপাট করে নিয়ে গেছে। এখন তোমরা বাচ্চারা সবকিছু বুঝতে পেরেছ।
এই পড়াশোনা অনেক উচ্চ মানের। ছোট-ছোট বাচ্চাদেরও শেখানো উচিত। রাজবিদ্যার সাথে এই
বিদ্যাও দিতে থাকো। শিববাবার স্মরণ করাতে থাকো। চিত্র দিয়ে বোঝাও। বাচ্চাদেরও
কল্যাণ করো। শিববাবা হলেন স্বর্গের রচয়িতা। তোমরা শিববাবাকে স্মরণ করলে স্বর্গের
মালিক হতে পারবে। অবিনাশী জ্ঞানের কখনও বিনাশ হয় না। অল্প শোনালেও রাজধানীতে আসতে
পারবে। সত্যযুগে লক্ষ্মী-নারায়ণের রাজ্য ছিল। তারপর কোথায় সেই রাজ্য? আমি তোমাকে
বুঝিয়ে বলছি অর্থাৎ তোমাকে স্বর্গের মালিক করে তুলব। শেখালে ওরা শিখবে, এতেই পরিশ্রম
করতে হয়। ব্যর্থ কথা বলে সময় নষ্ট করা উচিত নয়। ফাঁকিবাজি করলে খুব অনুতপ্ত হতে
হবে। বাবা অর্থ উপার্জন করে বাচ্চাদের দিয়ে যায়। এখন সবকিছুর বিনাশ ঘটবে। এখনও কত লড়াই-ঝগড়া,
মৃত্যু
হয়েই চলেছে। এটা তো কিছুই নয়। এখনও কোটি কোটি মানুষের বিনাশ হবে, সবকিছু জলমগ্ন
হয়ে শেষ হয়ে যাবে। কবরখানায় পরিণত হবে, তারপরেই পরিস্তান হবে। কবরখানা তো বড়
কিন্তু পরিস্তান ছোট হবে। মুসলমানরাও বলে সব কবরস্থ হয়ে গেছে। খুদা (ঈশ্বর) এসে
সবাইকে জাগিয়ে তোলেন তারপর ফিরিয়ে নিয়ে যান। এই সময় সব আত্মারাই কোনো না কোনো রূপে
আছে। কবরে শরীর পড়ে থাকে, কিন্তু আত্মা অন্য শরীর ধারণ করে। এই সময় মায়া
সবাইকে কবরস্থ করে রেখেছে। সবাই মরে পড়ে আছে। সব শেষ হয়ে যাবে, সেইজন্যই কারো
প্রতি মনকে জুড়ে রেখো না। মনকে জুড়ে রাখো একজনের সাথে। শেষে গিয়ে তোমাদের সব মমত্ব
মিটে যাবে। একমাত্র বাবাকেই স্মরণ কর ব্যস্। তোমরা বুঝতে পেরেছো যে আমরা ভবিষ্যতে
২১ জন্মের জন্য পতিত-পাবন বাবার দ্বারা এই পঠন-পাঠন করছি। পরমপিতা পরমাত্মা মনুষ্য
সৃষ্টির বীজরূপ, তিনি হলেন চৈতন্য (চেতন) । আত্মাও চৈতন্য। যতক্ষণ পর্যন্ত আত্মা
শরীরে না আসে ততক্ষণ শরীর জড়। আত্মাই চৈতন্য। এখন তোমরা আত্মার জ্ঞান পেয়েছো।
প্রত্যেক আত্মার মধ্যে নিজের নিজের পার্ট সঞ্চিত হয়ে আছে। প্রত্যেকের ভূমিকা
নিজস্ব। এই ড্রামা ওয়ান্ডারফুল, একে বলা হয় (কুদরত) প্রকৃতির নিয়ম। এতো ছোট
আত্মার মধ্যে কত পার্ট সঞ্চিত হয়ে আছে। এই আধ্যাত্মিক বিষয়ে সুপ্রিম সোল তোমাদের
বুঝিয়ে থাকেন। তিনি তোমাদের সফর করিয়ে থাকেন, এটাও ড্রামায়
আছে, যা
পূর্বেই নির্ধারিত, তারই সাক্ষাৎকার করান। যদিও এই খেলা অনাদি তৈরি হয়েই আছে কিন্তু
মানুষ জানে না যে এটা অনাদি। তোমরা সবকিছু জানো। যা কিছু হচ্ছে, এক সেকেন্ড পরেই
সেটা পাস্ট (অতীত) হয়ে যাবে। যা পাস্ট হয়ে যাচ্ছে, তোমরা বুঝতে
পারছো যে এটা ড্রামায় ছিল। বাবা বুঝিয়েছেন ‐ সত্যযুগ থেকে শুরু করে কি - কি পার্ট হয়েছে। এ'সব বিষয়ে দুনিয়া কিছুই জানে না। বাবা বলেন আমার বুদ্ধিতে যে নলেজ আছে,
সেটাই
তোমাদের দিচ্ছি। তোমাদের নিজের সমান করে তুলি। এটা তো তোমরা জানো যে সম্পূর্ণ
দুনিয়া ভ্রষ্টাচারী হয়ে গেছে। এখন প্রথমে পবিত্র হতে হবে আর পবিত্র করে তুলতে হবে।
তোমরা ছাড়া আর কেউ পবিত্র করতে পারবে না।
এখন বাবার শ্রীমতে চলে দৈবীগুণ ধারণ করতে হবে। খুব মিষ্টি করে কথা
বলতে হবে। কোনো কঠোর শব্দ যেন না বেরোয়। সবার প্রতি ক্ষমাশীল হতে হবে। তোমরা
সবাইকে শেখাতে পারো - ভগবানুবাচঃ : মন্মনাভব। ওরা জানে না যে ভগবান কে আর উনি কবে
গীতা শুনিয়েছেন। তোমরা এখন বুঝেছ - ভগবানুবাচঃ : অশরীরী হও। দেহের সব ধর্ম যেমন,
আমি
মুসলমান, পারসি,
এ'সব ছাড়তে হবে।
একথা কে বলে ? আত্মা তো সবাই ভাই-ভাই। এক বাবার সন্তান সবাই। আত্মাদের নিজের ভাইদের
বোঝাতে হবে যে বাবা বলছেন মামেকম্ স্মরণ করো তবে তোমরা মুক্তিধামে চলে যাবে। সবাই
নির্বাণধামে যাবে। দুটো শব্দও অন্ততপক্ষে স্মরণ করে খুব ভালোভাবে বোঝাতে হবে।
ভগবান সবার এক। শ্রীকৃষ্ণ তো (ভগবান) হতে পারে না। বাবা বলছেন দেহের সব ধর্ম ত্যাগ
করে মামেকম্ স্মরণ করো। আত্মা প্রকৃতির আধার নিয়ে এখানে ভূমিকা পালন করতে আসে।
ক্রাইস্টের জন্যও বলা হয় সেও এখন বেগার (ভিখারি)। সবারই জুতো (শরীর) পুরানো হয়ে
গেছে। ক্রাইস্টও নিশ্চয়ই পুনর্জন্ম নিয়েছে। এখন তো তার শেষ জন্ম হবে। এই
ম্যাসেঞ্জারদেরকেও বাবাই এসে জাগিয়ে তোলেন। পতিতদের পবিত্র করে তোলেন একমাত্র
বাবা। সবাইকেই পুনর্জন্ম নিতে-নিতে নিচে নামতেই হবে। এখন কলিযুগের অন্তিম সময়। যত
দিন যাবে তারাও এটা মানবে। আওয়াজ আসবে যে বাবা এসেছেন। মহা ভারী লড়াইয়ে ভগবানের
নাম আছে, তাই
না ! কিন্তু নাম বদলে দিয়েছে। বিনাশ আর স্থাপনা করা এটা তো একমাত্র ভগবানের কাজ।
বাবা এসেই স্বর্গের দরজা খুলবেন। তোমরাও তাঁকে আহ্বান করে বলে থাকো, এসে বৈকুন্ঠের
দরজা খোলো। বাবা এসে তোমাদের দ্বারাই দরজা খোলেন। তোমাদের নাম প্রসিদ্ধ - শিব
শক্তি সেনা। তোমাদের পান্ডব এইজন্য বলা হয় যে কেননা তোমরা হলে রূহানী (আত্মিক)
পান্ডা, তোমরা
স্বর্গের পথ বলে দাও। বাবা বসে সমস্ত শাস্ত্রের সার বলে থাকেন। এইসব বিষয় বুঝবে
তারাই যারা কল্প পূর্বেও বুঝেছিল। আমরা আত্মারা পান্ডা সবাইকে শান্তিধামে নিয়ে যাব
তারপর সুখধামে আসতে হবে। এই দুঃখধামের বিনাশ হবে - সেইজন্যই এই মহাভারতের লড়াই।
তোমাদের বুদ্ধিতে বিস্তারিত আছে (বুদ্ধিতে সম্পূর্ণ জ্ঞান থাকা)। মন্মনাভব,
মধ্যাজীভব
এর মধ্যেই সম্পূর্ণ জ্ঞান আছে। বাবা যেমন নলেজফুল, তোমরা বাচ্চারাও
তেমনটাই হয়ে উঠছো। শুধুমাত্র দিব্য দৃষ্টির চাবি নিজের কাছে রাখি। এর পরিবর্তে
তোমাদের বিশ্বের মালিক করে তুলি।
আমি বিশ্বের মালিক হই না। এটাই পার্থক্য। দিব্য দৃষ্টির পার্টও
তোমাদের কাজে লাগে। ভগবান তোমাদের ভক্তি আর ভাবনার রিটার্ন ছোলার আকারে ফিরিয়ে
দেন। জগদম্বার কতো মেলা হয় সেটাও বাবা ব্যাখ্যা করেছেন। লক্ষ্মীর এতো মেলা
অনুষ্ঠিত হয়না। কত পার্থক্য। লক্ষ্মীর চিত্র সিন্দুকে (তিজোরীতে) রাখে ধন
প্রাপ্তির জন্য। ভক্তি মার্গে প্রাপ্তি হয় চানা, জ্ঞান মার্গে
প্রাপ্তি হয় হীরা। লক্ষ্মীর কাছে শুধুই ধন (টাকা পয়সা) চাওয়া হয়। এমন বলে না যে
সন্তান দাও, স্বাস্থ্য দাও। জগত অম্বার কাছে সব আশা(ইচ্ছা) নিয়ে যায়।
এখন তোমরা বুঝেছো যে, আমরাই পূজ্য ছিলাম, এখন পূজারি
হয়েছি আবারও পূজ্য হবো। জ্ঞানের মাধ্যমে বাচ্চারা আলো পেয়েছে। তোমরা কতো অনন্য হয়ে
উঠেছো। জ্ঞান অঞ্জন সদ্গুরু দিয়েছেন....তোমরা ড্রামার আদি-মধ্য-অন্তকে জেনেছ। তোমাদের
বুদ্ধিতে এটা এসে গেছে সুতরাং এই ঈশ্বরীয় পঠন-পাঠনকে কত মূল্য দেওয়া উচিত। ঐ
পড়াশোনা (লৌকিকে) তোমরা জন্ম-জন্মান্তর ধরে পড়ে আসছো, কিন্তু কি
প্রাপ্তি হয়েছে? ছোলা মটর। এই ঈশ্বরীয় পাঠ এক জন্ম পড়লেই তোমরা হীরা-জহরত পেয়ে থাকো।
এখন পুরুষার্থ করা সেটা তো তোমাদের অর্থাৎ বাচ্চাদের কাজ। পড়াশোনা না করলে টিচার
আর কি বলবেন ? এখানে কৃপা করার কোনো প্রশ্নই আসে না। সঙ্গম যুগে দেবতাদের সম্পূর্ণ
রাজধানী স্থাপন হচ্ছে। যোগবলের দ্বারা তোমরা নিজেদের বিকর্ম বিনাশ করছো আর জ্ঞান
বল অর্থাৎ নলেজের দ্বারা তোমরা কতো উচ্চ হয়ে উঠছো। জ্ঞানের সাগর আর জ্ঞানের নদীতে
স্নান করলে সদ্গতি হয়। বোঝানোর জন্য বাচ্চারা যুক্তি পেতেই থাকে। ড্রামার প্ল্যান
অনুসারে কল্প পূর্বেও যেমন বোঝানো হয়েছিল ঠিক তেমনই বোঝানো হচ্ছে। বাচ্চারাও
নম্বরানুসারে আসতে থাকে। ব্রাহ্মণ কুলের বৃদ্ধি হতে থাকে। বাচ্চারা তোমাদের মহাদানী
হতে হবে। যে কেউ-ই আসুক না কেন তাকে কিছু না কিছু বোঝাতে থাকো। শঙ্খধ্বনি করতে
হবে। এখানে (মধুবন) তোমরা যতটা ধারণা করতে পারো ততটা ঘরে হয় না। শাস্ত্রতেও
মধুবনের গায়ন আছে যে ওখানে মুরলী বাজে। আচ্ছা!
মিষ্টি-মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্মরণের
স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত। আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মা রূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন
নমস্কার।
ধারণার জন্যে মুখ্য সারঃ-*
১ ) ঈশ্বরীয় পড়াশোনার প্রতি শ্রদ্ধা রাখতে হবে। বাবার কাছে কৃপা
ইত্যাদি চাওয়া উচিত নয়। জ্ঞান আর যোগবল জমা করতে হবে।
২ ) ক্ষমাশীল হতে হবে। মুখ দিয়ে কখনও কটু কথা বলা উচিত নয়। সর্বদা
মিষ্টি কথা বলতে হবে। নিজের সমান তৈরী করার সেবা অবশ্যই করতে হবে।
বরদানঃ-* বিকার রূপী সাপকেও
গলার মালা বানিয়ে দেওয়া সত্যিকারের তপস্বী ভব
পাঁচ বিকার হলো মানুষের জন্য বিষাক্ত সাপ, কিন্তু তোমরা
যোগী আত্মাদের জন্য এই সাপ গলার মালা হয়ে যায় । সেইজন্য তোমাদের অর্থাৎ
ব্রাহ্মণদের আর ব্রহ্মা বাবাকে অশরীরী, তপস্বী শঙ্কর স্বরূপে স্মরণিক রূপে
সাপের মালা গলায় দেখানো হয়। সাপ তোমাদের জন্য খুশিতে নৃত্য করার স্টেজ হয়ে যায়।
এটা হলো অধীন করার চিহ্ন। স্থিতিই হলো স্টেজ। সুতরাং যখন বিকারের উপরে এতখানি বিজয়
প্রাপ্ত করতে পারবে তখনই বলা হবে সত্যিকারের (প্রকৃত) তপস্বী।
স্লোগানঃ-* পুরানো সংসার বা
সংস্কার গুলির থেকে মরে যাওয়াই হলো বেঁচে থেকেও মরে যাওয়া।
No comments:
Post a Comment