Saturday, November 22, 2025

22.11.2025 BENGALI MURLI

 "মিষ্টি বাচ্চারা - সবাইকে এই খুশীর খবর শোনাও যে এখন ডিটি (দৈবী ) ডিনায়েস্টি (রাজত্ব) স্থাপন হচ্ছে, যখন ভাইসলেস(পাপমুক্ত) ওয়ার্ল্ড হবে তখন বাকি সব বিনাশ হয়ে যাবে"

প্রশ্নঃ -রাবণের অভিশাপ কখন লাগে, শাপগ্রস্ত হওয়ার চিহ্ন কি?

উত্তরঃ  যখন তোমরা দেহ- অভিমানী হও তখন রাবণের অভিশাপ লাগে । অভিশাপ গ্রস্ত আত্মারা কাঙাল বিকারী হতে থাকে, নীচে নেমে যেতে থাকে। এখন বাবার থেকে উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করার জন্য দেহী-অভিমানী হতে হবে। নিজের দৃষ্টি বৃত্তিকে পবিত্র করে তুলতে হবে।

ওম্ শান্তি ।আত্মাদের পিতা বসে আত্মা রূপী বাচ্চাদের ৮৪ জন্মের কাহিনী শোনাচ্ছেন। এটা তো বোঝো যে সকলে তো ৮৪ জন্ম গ্রহণ করবে না। তোমরাই সর্বপ্রথমে সত্যযুগ ইত্যাদিতে পূজ্য দেবী-দেবতা ছিলে। ভারতে প্রথমে পূজ্য দেবী-দেবতা ধর্মেরই রাজ্য ছিলো। লক্ষ্মী-নারায়ণের রাজ্য ছিলো তো অবশ্যই ডিনায়েস্টি হবে। রাজ-পরিবারের বন্ধু- পরিজনও থাকবে। প্রজাও হবে। এটা হলো যেন এক কাহিনী। ৫ হাজার বছর পূর্বেও এদের রাজ্য ছিলো - এটা স্মৃতিতে চলে আসে। ভারতে আদি সনাতন দেবী-দেবতা ধর্মের রাজ্য ছিলো। এটা অসীম জগতের বাবা বসে বোঝাচ্ছেন, যাকে একমাত্র নলেজফুল বলা যায়। নলেজ কোন্ জিনিসের? মানুষ মনে করে তিনি হলেন সকলের ভিতরকে, কর্ম বিকর্মকে জানেন। কিন্তু বাবা এখন বোঝান - প্রতিটি আত্মার নিজ-নিজ পার্ট প্রাপ্ত হয়েছে। সকল আত্মা পরমধামে থাকে। আত্মার মধ্যে সমস্ত পার্ট ভরা থাকে। রেডি হয়ে বসে থাকে যেন গিয়ে কর্মক্ষেত্রে নিজের পার্ট পালন করবে। এটাও তোমরা বোঝো যে আমরা আত্মারা সব কিছু করি। আত্মাই বলে এটা হলো টক, এটা হলো নোনতা। আত্মাই বুঝতে পারে - আমরা এখন বিকারী, পাপ আত্মা। স্বভাব হলো আসুরিক। আত্মাই এখানে অর্থাৎ কর্মক্ষেত্রে শরীর ধারণ করে সমগ্র ভূমিকা পালন করে। তাই এটা সুনিশ্চিত করা উচিত, তাই না ! আমরা আত্মারাই সব কিছু করি। এখন বাবার সাথে মিলিত হয়েছি, আবার ৫ হাজার বছর পরে মিলিত হবো। এটাও বুঝতে পারো পূজ্য আর পূজারী, পবিত্র আর পতিত হতে থেকেছি । যখন পূজ্য হয় তো কেউ পতিত হতে পারে না। যখন পূজারী হয় তখন কেউ পবিত্র থাকতে পারে না। সত্যযুগে হলোই পবিত্র পূজ্য। যখন দ্বাপর থেকে রাবণ রাজ্য শুরু হয় তখন সকলেই পতিত পূজারী হয়। শিববাবা বলেন- দেখো শঙ্করাচার্যও হলো আমার পূজারী। আমাকে পূজা করে। শিবের চিত্র কারোর কাছে হীরের, কারোর কাছে সোনার, কারোর কাছে রূপার হয়। এখন যে পূজা করে, সেই পূজারীকে তো পূজ্য বলা যায় না। সমগ্র দুনিয়াতে এই সময় একজনও পূজ্য হতে পারে না। পূজ্য পবিত্র হয় তারপর অপবিত্র হয়। পবিত্র হয় নতুন দুনিয়াতে। পবিত্রই পূজিত হয়। যেমন কুমারী যখন পবিত্র থাকে তো পূজার যোগ্য থাকে, অপবিত্র হলে সকলের সামনে মাথা নত করতে হয়। পূজার কতো সামগ্রী হয়। যেখানেই প্রদর্শনী, মিউজিয়াম ইত্যাদি খুললে, উপরে ত্রিমূর্তি শিব অবশ্যই চাই। নীচে এই লক্ষ্মী-নারায়ণ এইম্ অবজেক্ট। আমরা এই পূজ্য দেবী- দেবতা ধর্মের স্থাপনা করছি। সেখানে আবার আর কোনো ধর্ম থাকে না। তোমরা বোঝাতে পারো, প্রদর্শনীতে তো ভাষণ ইত্যাদি করতে পারবে না। বোঝানোর জন্য আবার আলাদা ব্যবস্থা থাকা উচিত। মুখ্য ব্যাপারই হলো এই যে, আমরা ভারতবাসীদের খুশীর খবর শোনাই। আমরা এই রাজ্য স্থাপনা করছি। এটা ডিটি ডিনায়েস্টি ছিলো, এখন নেই, আবার এর স্থাপনা হচ্ছে আর সব বিনাশ হয়ে যাবে। সত্যযুগে যখন এই এক ধর্ম ছিলো তো অনেক ধর্ম ছিলো না। এখন এই অনেক ধর্ম মিলেমিশে এক হয়ে যাবে, সেটা তো হতে পারে না। তারা আসেই একে অপরের পিছনে আর বৃদ্ধি পেতে থাকে। প্রথম যে আদি সনাতন দেবী-দেবতা ধর্ম তা প্রায় বিলুপ্ত। এমন কেউ নেই যে, নিজেকে দেবী-দেবতা ধর্মের বলতে পারে। একে বলাই হয়ে থাকে ভিসস ওয়ার্ল্ড (পাপের)। তোমরা বলতে পারো - আমরা আপনাদের খুশীর খবর শোনাচ্ছি - শিববাবা ভাইসলেস ওয়ার্ল্ড স্থাপন করছেন। আমরা এই প্রজাপিতা ব্রহ্মার সন্তান ব্রহ্মা কুমার-কুমারী ! সর্বপ্রথম তো আমরা হলাম ভাই-ভাই, তারপর রচনা হলে তো অবশ্যই ভাই-বোন হবো। সকলে বলে - বাবা আমরা আপনার বাচ্চা হই বলে ভাই-বোনের ক্রিমিনাল আই (কুদৃষ্টি) যেতে পারে না। এই অন্তিম জন্ম পবিত্র হতে হবে, তবেই পবিত্র বিশ্বের মালিক হতে পারবে। তোমরা জানো যে, গতি-সদ্গতি দাতা হলেনই একমাত্র বাবা। পুরানো দুনিয়া পরিবর্তন করে অবশ্যই নূতন দুনিয়ার স্থাপন হতে হবে। সেটা তো ভগবানই করবেন। এখন সেই নূতন দুনিয়া কীভাবে ক্রিয়েট করেন, এটা তোমরা বাচ্চারাই জানো। এখন পুরানো দুনিয়াও আছে, এটা কোথাও শেষ হয়নি। চিত্রতেও আছে ব্রহ্মা দ্বারা স্থাপনা। এটা হল এনার অনেক জন্মের শেষের জন্ম। ব্রহ্মার যুগল নেই, ব্রহ্মার তো হলো অ্যাডপশন। বোঝানোর জন্য অকাট্য যুক্তি চাই। শিববাবা ব্রহ্মার মধ্যে প্রবেশ করে আমাদের আপন করেন। শরীরে প্রবেশ করে, তাই তো বলে - হে আত্মারা তোমরা হলে আমার সন্তান । আত্মারা তো আছেই, আবার ব্রহ্মা দ্বারা সৃষ্টি রচনা হলে তো অবশ্যই ব্রহ্মা কুমার-কুমারী হবে, তাই না ! তো বোন-ভাই হয়ে গেল। অন্য দৃষ্টি চলে যায়। আমরা শিববাবার থেকে পবিত্র হওয়ার উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করি। রাবণের থেকে আমাদের অভিশাপ প্রাপ্ত হয়। এখন আমরা দেহী-অভিমানী হচ্ছি বলে বাবার থেকে উত্তরাধিকার প্রাপ্ত হচ্ছে। দেহ-অভিমানী হওয়ার ফলে রাবণের অভিশাপ প্রাপ্ত হয়। অভিশাপ প্রাপ্ত হলে নীচে নামতে থাকে। এখন তো ভারত অভিশাপগ্রস্ত ! ভারতকে এতো কাঙাল বিকারী কে করেছে? কারোর তো অভিশাপ আছে নিশ্চয়ই। এটা হলো রাবণ রূপী মায়ার অভিশাপ। প্রতি বছর রাবণকে জ্বালিয়ে দেয় তো অবশ্যই শত্রুই হবে ! ধর্মের মধ্যেই শক্তি নিহিত থাকে। এখন আমরা দেবতা ধর্মের হচ্ছি। বাবা হলেন নতুন ধর্মের স্থাপনা করার নিমিত্ত। কতো শক্তি সম্পন্ন ধর্ম স্থাপন করেন। আমরা বাবার থেকে শক্তি গ্রহণ করি, সমগ্র বিশ্বের উপর বিজয় প্রাপ্ত করি। স্মরণের যাত্রাতেই শক্তি প্রাপ্ত হয় আর বিকর্ম বিনাশ হয়। তাই এটাও এক পোস্টার লিখে দেওয়া উচিত। আমরা খুশীর খবর শোনাচ্ছি। এখন এই ধর্মের স্থাপনা হচ্ছে যাকে হেভেন, স্বর্গ বলে। এমন বড় বড় শব্দে লিখে দাও। বাবা রায় দেন- সবচেয়ে মুখ্য হলো এইটা। এখন আদি সনাতন দেবী-দেবতা ধর্মের স্থাপনা হচ্ছে। প্রজাপিতা ব্রহ্মাও বসে আছেন। আমরা অর্থাৎ ব্রহ্মা কুমার-কুমারীরা শ্রীমত অনুযায়ী এই কার্য করছি। ব্রহ্মার মত নয়, শ্রীমত হলোই পরমপিতা পরমাত্মা শিবের, যিনি হলেন সকলের পিতা। একমাত্র বাবা এক ধর্মের স্থাপনা, অনেক ধর্মের বিনাশ করেন। রাজযোগ শিখে এরকম হয়। আমরাও এই রকম হচ্ছি। আমরা অসীম জগতের সন্ন্যাস করেছি, কারণ জানি যে - এই পুরানো দুনিয়া ভস্ম হয়ে যাবে। যেমন পার্থিব জগতের পিতা নূতন গৃহ তৈরী করলে পুরানোর প্রতি মায়া-মমতা চলে যায়। বাবা বলেন এই পুরানো দুনিয়া শেষ হয়ে যাবে। এখন তোমাদের জন্য নূতন দুনিয়া স্থাপন করছি। তোমরা অধ্যয়ণ করোই নূতন দুনিয়ার জন্য। অনেক ধর্মের বিনাশ, এক ধর্মের স্থাপনা এই সঙ্গমেই হয়ে থাকে। লড়াই বাঁধবে, ন্যাচারাল ক্যালেমিটিসও আসবে। সত্যযুগে যখন এদের রাজত্ব ছিলো তখন আর অন্য কোনো ধর্ম ছিলো না। বাকী সব কোথায় ছিলো? এই নলেজ বুদ্ধিতে রাখতে হবে। এমন না যে এই নলেজ বুদ্ধিতে রাখলে অন্য কোনো কাজ করবে না, কত কিছুর খেয়াল রাখে। চিঠি লেখা, পড়াশুনা করা, বাড়ীর খেয়াল রাখা, তাও বাবাকে স্মরণ করতে থাকে। বাবাকে স্মরণ না করলে তবে কীভাবে বিকর্ম বিনাশ হবে। বাচ্চারা, এখন তোমাদের জ্ঞান প্রাপ্ত হয়ছে, তোমরা অর্ধ-কল্পের জন্য পূজ্য হচ্ছো। অর্ধ-কল্প হলো পূজারী তমোপ্রধান আবার অর্ধ-কল্প পূজ্য সতোপ্রধান হয়। আত্মা পরমপিতা পরমাত্মার সাথে যোগ-যুক্ত হলেই পারশ হয়। স্মরণ করতে-করতে আয়রণ এজ্ থেকে গোল্ডেন এজে চলে যাবে। পতিত-পাবন একজনকেই বলা হয়। ক্রমশ এগোলে তোমাদের আওয়াজ বের হবে। এটা তো হলো সব ধর্মের জন্য। তোমরা বলেও থাকো - বাবা বলেন, পতিত-পাবন হলাম আমিই। আমাকে স্মরণ করলে তোমরা পবিত্র হয়ে যাবে। এছাড়া সবাই হিসাবপত্র চুকিয়ে দিয়ে যাবে। কখনো যদি মুহ্যমান হয়ে পড়ো তবে জিজ্ঞাসা করতে পারো। সত্যযুগে হয়েই থাকে সামান্য জনসংখ্যা । এখন তো অনেক ধর্ম আছে। অবশ্যই হিসাবপত্র চুকিয়ে ফেলে ওইরকম হবে, যেমন ছিলো। ডিটেলে যাবো কেন! জানা আছে যে প্রত্যেকে এসে নিজের-নিজের পার্ট প্লে করবে। এখন সকলকে ফিরে যেতে হবে। কারণ এই সব সত্যযুগে ছিলই না। বাবা আসেনই এক ধর্মের স্থাপনা, অনেক ধর্মের বিনাশ করতে। এখন নূতন দুনিয়ার স্থাপনা হচ্ছে। অবশ্যই আবার সত্যযুগ আসবে, অবশ্যই চক্র আবর্তিত হবে। এ সব বিষয়ে টু মাচ বিশদে যাওয়ার প্রয়োজন নেই, মূল কথা হলো আমরা সতোপ্রধান হলে উচ্চ পদ প্রাপ্ত করবো। কুমারীদের তো এতে লেগে পড়তে হবে, কুমারীদের উপার্জন মা - বাবা খায় না। কিন্তু আজকাল মানুষের লোভ বেড়ে গেছে বলে কুমারীদেরও উপার্জন করতে হয়। তোমরা বুঝতে পারো এখন পবিত্র হয়ে পবিত্র দুনিয়ার মালিক হতে হবে। আমরা হলাম রাজযোগী, বাবার থেকে অবশ্যই উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করতে হবে। এখন তোমরা পান্ডব সেনার হয়েছো। নিজের উপার্জন করতে করতেও খেয়াল রাখতে হবে, আমরা গিয়ে সকলকে রাস্তা বলে দেবো। যত করবে ততই উচ্চ পদ প্রাপ্ত করবে। বাবার থেকে জিজ্ঞাসা করতে পারো - এই অবস্থায় মরে গেলে আমি কোন্ পদ প্রাপ্ত করবো? বাবা সাথে সাথে বলে দেবেন। সার্ভিস না করলে সাধারণ ঘরে গিয়ে জন্ম নেবে, আবার এসে জ্ঞান নেবে - সে তো হলো মুশকিল, কারণ ছোটো বাচ্চা এতো জ্ঞান তো ধারণ করতে পারবে না। বোঝো, বাকি ৩ - ৪ বছর থাকলে তবে কি পড়াশুনা করতে পারবে? বাবা বলে দেবেন তোমরা গিয়ে কোনো ক্ষত্রিয় কুলে জন্ম নেবে। শেষের দিকে ডবল রাজমুকুট প্রাপ্ত হবে। স্বর্গের ফুল (সম্পূর্ণ) সুখ আস্বাদন করতে পারবে না। যারা ফুল সার্ভিস করবে, অধ্যয়ণ করবে তারাই ফুল সুখ আস্বাদন করবে। নম্বর অনুযায়ী পুরুষার্থ অনুসারে। এই আশাই রাখতে হবে - এখন না হতে পারলে তো কোনো কল্পে হতে পারা যাবে না। প্রত্যেকে নিজেকে জানতে পারে, আমি কত মার্কস্ পেয়ে পাশ করবো। সব জানতে পেরেও বলা হয় ভবিতব্য। ভিতরে-ভিতরে দুঃখ হবে, তাই না ! বসে বসে আমার কি হয়ে গেলো! বসে বসে মানুষ মরেও যায়, সেইজন্য বাবা বলেন বিশ্রাম ক'রো না। পুরুষার্থ করে পতিত থেকে পবিত্র হতে থাকো, রাস্তা বলতে থাকো। কোনো মিত্র-পরিজন ইত্যাদি থাকলে তাদের উপর সহানুভূতিশীল হওয়া উচিত। দেখতে পাওয়া যায় এই বিকার ছাড়া, ঘৃণ্য খাওয়ার ছাড়া থাকতে পারে না, তবুও বোঝাতে থাকা উচিত। না মানলে বুঝবে আমাদের কুলের নয়। প্রচেষ্টা করে বাপেরবাড়ী, শ্বশুরবাড়ীর কল্যাণ করতে হবে। এমন আচরণ যেন না হয় যে বলবে এ তো আমাদের সাথে কথাও বলে না, মুখ ঘুরিয়ে নিয়েছে। না, সবার সাথে জুড়ে থাকতে হবে। খুবই দয়ালু হয়ে থাকতে হবে। আমরা সুখের দিকে যাচ্ছি যখন অন্যান্যদেরও রাস্তা বলবো। অন্ধের লাঠি তো হলে তোমরা, তাই না ! গাইতে থাকে, অন্ধের লাঠি তুমি । চোখ তো সকলের আছে, তবুও ডাকে, কারণ জ্ঞানের তৃতীয় নেত্র নেই। শান্তি-সুখের রাস্তা বলে দিতে পারেন একমাত্র বাবা। এখন বাচ্চারা, তোমাদের বুদ্ধিতে আছে। আগে কি আর বুঝতে ! ভক্তি মার্গে কতো মন্ত্র জপ করে। রাম-রাম করতে করতে মাছকে খাওয়ায়, পিঁপড়েকে খাওয়ায়। এখন জ্ঞান মার্গে তো কিছুই করার দরকার নেই। পাখী তো অনেকই মরে যায়। একবার ঝড় হলেই কতো মরে যায়। ন্যাচারাল ক্যালামিটিস তো এখন খুবই জোরে আসবে। এই রিহার্সাল হতে থাকবে। এই সবের বিনাশ হতেই হবে। ভিতরে-ভিতরে মনে হতে থাকে এখন আমি স্বর্গে যাবো। সেখানে নিজের ফার্স্ট ক্লাস মহল তৈরী করবো। যেমন পূর্ব কল্পে তৈরী করেছিলাম। তৈরী করবে, তবে তারাই করবে যারা পূর্ব কল্পে তৈরী করেছিল। ওই সময় সেই বুদ্ধি এসে যাবে। ওর চিন্তা এখন কেন করবে, এর থেকে তো বাবার স্মরণে থাকো। স্মরণের যাত্রাকে ভুলো না। মহল তো তৈরী হবেই পূর্ব কল্পের মতোন। কিন্তু এখন স্মরণের যাত্রাতে বিরতি বন্ধ রাখতে হবে আর খুবই খুশিতে থাকতে হবে যে আমাদের বাবা, টিচার, সদ্গুরু প্রাপ্ত হয়ছে। এই খুশীতে তো রোমাঞ্চিত হয়ে যাওয়া উচিত। তোমরা জানো যে আমরা এসেছিই অমরপুরীর মালিক হতে। এই খুশী স্থায়ী থাকা উচিত। এখানে থাকলে তবে আবার ২১ জন্ম সেটা স্থায়ী হয়ে যাবে। অনেককে মনে করাতে থাকবে, তবে নিজেরও স্মরণ বাড়বে। তারপর অভ্যাস হয়ে যাবে। তোমরা জানো যে, এই অপবিত্র দুনিয়াতে আগুণ লাগবে। তোমরা ব্রাহ্মণদেরই এই খেয়াল আছে - এই সমগ্র দুনিয়া শেষ হয়ে যাবে। সত্যযুগে এ'সব কিছুই মনে পড়বে না। এখন হলো অন্ত, তোমরা স্মরণের জন্য পুরুষার্থ করছো। আচ্ছা!

মিষ্টি-মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত। আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মা রূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :১ ) পতিত থেকে পবিত্র হওয়ার পুরুষার্থে আলস্য যেন না আসে। আত্মীয় পরিজন সকলের প্রতি করুণা রেখে বোঝাতে হবে, ছেড়ে দিতে নেই।

২ ) এমন আচরণ করা উচিত নয় যাতে কেউ বলতে পারে ইনি তো মুখ ঘুরিয়ে নিয়েছেন। দয়ালু হয়ে সকলের কল্যাণ করতে হবে আর সমস্ত খেয়াল ত্যাগ করে এক বাবার স্মরণেই থাকতে হবে।

বরদান:-সত্যতা, স্বচ্ছতা আর নির্ভয়তার আধারের দ্বারা প্রত্যক্ষ করে রমতা যোগী ভব

পরমাত্ম প্রত্যক্ষতার আধার হল সত্যতা আর সত্যতার আধার হলো স্বচ্ছতা বা নির্ভয়তা। যদি কোনও প্রকারের অস্বচ্ছতা অর্থাৎ সত্যতা আর স্বচ্ছতার ঘাটতি থাকে বা নিজেরই তমোগুণী সংস্কারের উপর বিজয় প্রাপ্ত করতে, সংস্কার মেলানোতে বা বিশ্ব সেবার ক্ষেত্রে নিজের সিদ্ধান্তকে সিদ্ধ করতে ভয় হয় তাহলে প্রত্যক্ষতা হবে না এইজন্য সত্যতা আর নির্ভয়তাকে ধারণ করে এক-ই ধুনে মস্ত থাকা রমতা যোগী, সহজ রাজযোগী হও তাহলে সহজেই অন্তিম প্রত্যক্ষতা হবে।

স্লোগান:-অসীমের দৃষ্টি, বৃত্তিই হল ইউনিটির আধার, এইজন্য লৌকিক জগতে এসো না।

অব্যক্ত ঈশারা :- অশরীরী বা বিদেহী স্থিতির অভ্যাস বাড়াও

অশরীরী হওয়া হল ওয়ারলেস সেট। ওয়াইসলেস হওয়াই হল ওয়ারলেস সেটের সেটিং। অল্পএকটুরও অংশমাত্র বিকার, ওয়ারলেস সেটকে বেকার করে দেবে, এইজন্য এখন কর্মবন্ধনী থেকে কর্মযোগী হও। অনেক বন্ধন থেকে মুক্ত এক বাবার সম্বন্ধে থাকো তাহলে সদা এভারেডি থাকবে। চেক করো- নিজের মধ্যে কোনও বিকার লুকিয়ে নেই তো?

No comments:

https://bkrajyogpathshala.blogspot.com/

01-04-2026 Bengali Murli

 মিষ্টি বাচ্চারা - বাচ্চারা, বাবা যা, বাবা ঠিক যেমন, তোমরা বাচ্চারাও তাঁকে নম্বর ক্রমানুসারেই চিনেছো, যদি সকলেই তাঁকে চিনে গেলে তবে তো অত্যন...