Saturday, November 29, 2025

30.11.2025 BENGALI MURLI

 "প্রকৃত স্নেহী হয়ে সব বোঝা বাবাকে দিয়ে পরমানন্দের অনুভব করো, পরিশ্রম মুক্ত হও"

আজ বাপদাদা চতুর্দিকে নিজের নিশ্চিন্ত বাদশাহদের সংগঠন দেখছেন। বাদশাহদের এত বড় সভা সমগ্র কল্পে এই সঙ্গমের সময় হয়ে থাকে। স্বর্গেও বাদশাহদের এত বড় সভা হবে না। কিন্তু এখন বাপদাদা সর্ব বাদশাহের সভা দেখে প্রফুল্লিত হচ্ছেন। যারা দূরের তারাও হৃদয়ের নিকটে প্রতীয়মান হচ্ছে। তোমরা সবাই নয়নে সমাহিত হয়ে আছ, তারা হৃদয়ে সমাহিত হয়ে আছে। কত সুন্দর সভা! আজকের বিশেষ দিবসে সবার মুখে অব্যক্ত স্থিতির স্মৃতির ঔজ্জ্বল্য প্রতীয়মান হচ্ছে। সবার হৃদয়ে ব্রহ্মা বাবার স্মৃতি সমাহিত হয়ে আছে। আদি দেব ব্রহ্মা বাবা এবং শিব বাবা উভয়েই সব বাচ্চাকে দেখে আনন্দিত হচ্ছেন।

আজ তো ভোর দুটো থেকে শুরু করে বাপদাদার গলায় বিভিন্ন রকমের মালা পরানো হচ্ছিল। ফুলের এই মালা কমন। হিরের মালাও কোনো বড় ব্যাপার নয়। কিন্তু স্নেহের অমূল্য মোতির মালা অতি শ্রেষ্ঠ। প্রত্যেক বাচ্চার হৃদয়ে আজকের দিনে স্নেহ বিশেষভাবে ইমার্জ ছিল। বাপদাদার কাছে চার রকমের ভিন্ন ভিন্ন মালা ইমার্জ ছিল। প্রথম নম্বর শ্রেষ্ঠ বাচ্চাদের, যারা বাবা সমান হওয়ার শ্রেষ্ঠ পুরুষার্থী বাচ্চা। এমন বাচ্চারা মালা রূপে বাবার গলায় গাঁথা হয়ে ছিল। প্রথম মালা সবচাইতে ছোট ছিল। দ্বিতীয় মালা - হৃদয়ের স্নেহে সমীপ ও সমান হওয়ার পুরুষার্থী বাচ্চাদের মালা। তারা শ্রেষ্ঠ পুরুষার্থী, এরা পুরুষার্থী।তৃতীয় মালা - যে মালা বড় ছিল তা' স্নেহীও ছিল, বাবার সেবাতে সাথিও ছিল। কিন্তু কখনো তীব্র পুরুষার্থী, আর কখনো কখনো তুফান মোকাবিলা বেশি করে। কিন্তু তারা উৎসাহী, সম্পন্ন হওয়ার প্রচেষ্টাও থাকে ভালো। চতুর্থ মালা ছিল অনুযোগকারীদের। অব্যক্ত ফরিস্তা ফেসের রূপে ভিন্ন ভিন্ন প্রকারের বাচ্চাদের মালা ছিল। বাপদাদাও ভিন্ন ভিন্ন মালা দেখে খুশিও হচ্ছিলেন, আর সেইসাথে স্নেহ আর সকাশ দিচ্ছিলেন। এখন তোমরা সবাই নিজেকে নিজে ভাবো - আমি কে? কিন্তু চতুর্দিকের বাচ্চাদের মধ্যে বর্তমান সময়ে হৃদয়ে বিশেষ সঙ্কল্প ইমার্জ আছে যে এখন কিছু করতেই হবে। এই উৎসাহ উদ্দীপনা মেজরিটির মধ্যে সঙ্কল্প রূপে আছে। স্বরূপে তোমরা নম্বরক্রমে আছ, কিন্তু এটা তোমাদের সঙ্কল্পে আছে।

বাপদাদা সব বাচ্চাকে আজকের এই স্নেহের দিনে, স্মৃতির দিনে, সমর্থী দিবসে হৃদয়ের বিশেষ আশীর্বাদ এবং হৃদয়ের কল্যাণকারী ভাবনা দিচ্ছেন। আজকের বিশেষ দিনে স্নেহ হওয়ার কারণে মেজরিটি স্নেহতে ডুবে আছে। এভাবেই পুরুষার্থে সদা ডুবে থাকো। যদি লাভলীন থাকো তবে সহজ সাধন হলো স্নেহ, হৃদয়ের স্নেহ। বাবার পরিচয়ের স্মৃতি সমেত স্নেহ, বাবার থেকে সমস্ত প্রাপ্তির স্নেহসম্পন্ন স্নেহ। স্নেহ খুব সহজ সাধন, কেননা, স্নেহী আত্মা পরিশ্রম থেকে রেহাই পেয়ে যায়। স্নেহতে লীন হওয়ার কারণে, স্নেহতে ডুবে থাকার কারণে যে কোনো ধরণের পরিশ্রম মনোরঞ্জন রূপে অনুভূত হয়। স্নেহী আপনা থেকেই দেহবোধ, দেহের সম্বন্ধের খেয়াল, দেহ-দুনিয়ার খেয়াল থেকে ঊর্ধ্বে স্নেহতে লীন থাকে। হৃদয়ের স্নেহ বাবার নৈকট্যের, সাথের, সমতার অনুভব করায়। স্নেহী সদা বাবার আশীর্বাদের যোগ্য মনে করে। স্নেহ অসম্ভবকেও সম্ভব করে দেয়। সদা নিজের বুদ্ধির ওপরে, মাথার ওপরে বাবার সহযোগের, স্নেহের হাত অনুভব করে। নিশ্চয়বুদ্ধি, নিশ্চিন্ত থাকে। তোমরা সকল আদি স্থাপনের বাচ্চাদের আদি সময়ের অনুভব আছে, এখনও সেবার আদি নিমিত্ত বাচ্চাদের অনুভব আছে যে আদিতে সব বাচ্চা বাবাকে পেয়েছে, সেই স্মৃতির সাথে কত নেশা ছিল! নলেজ তো পরে প্রাপ্ত হয় কিন্তু প্রথম প্রথম স্নেহের নেশায় ডুবে যায়। বাবা স্নেহের সাগর, তাইতো মেজরিটি বাচ্চা শুরু থেকে স্নেহের সাগরে ডুবে থাকে, পুরুষার্থের গতিতে খুব ভালো স্পিডে চলে এসেছে। কিন্তু কিছু বাচ্চা স্নেহের সাগরে ডুবে থাকে, কিছু শুধুই ডুব দিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসে। সেইজন্য ডুবে থাকা বাচ্চাদের যত কম পরিশ্রম লাগে ততটা তাদের নয়। কখনো পরিশ্রম, কখনো ভালোবাসা দুইয়ের মধ্যে থাকে। কিন্তু যারা স্নেহতে লাভলীন থাকে তারা সদা নিজেকে ছত্রছায়ার ভিতরে থাকার অনুভব করে। হৃদয়ের স্নেহী বাচ্চারা পরিশ্রমকেও ভালোবাসায় বদল করে নেয়। তাদের সামনে পাহাড়ের মতো সমস্যাও পাহাড় নয়, বরং তুলো সমান অনুভব হয়। পাথরও জলের সমান অনুভূত হয়। তো আজ যদি বিশেষভাবে স্নেহের বায়ুমণ্ডলে থাকো তবে অনুভব করবে পরিশ্রম হয়েছে! নাকি মনোরঞ্জন হয়েছে! আজ তো সবার স্নেহের অনুভব হয়েছে, হয়েছে না! স্নেহে ডুবে ছিলে? ডুবে ছিলে সবাই? আজ পরিশ্রমের অনুভব হয়েছে? কী, কেন, কীভাবে এসব সঙ্কল্প এসেছে? স্নেহ সব ভুলিয়ে দেয়। তো বাপদাদা বলেন বাপদাদার স্নেহ ভুলো না। স্নেহের সাগর পেয়েছ, খুব ভালো করে তরঙ্গিত হও। যখনই হোক কোনো পরিশ্রমের অনুভব হবে, কেননা মায়া মাঝে মধ্যে পেপার তো নেয়, কিন্তু তোমরা সেই সময় স্নেহের অনুভব স্মরণ করো। তো পরিশ্রম ভালোবাসায় পরিবর্তন হয়ে যাবে। অনুভব করে দেখ। কী হয়েছে, কী ভুল হয়ে গেছে! সেই সময় কী, কেন ... এর মধ্যে তোমরা ঢুকে যাও। যা আসে তা' চলেও যায় কিন্তু যাবে কীভাবে? স্নেহ স্মরণ করায় পরিশ্রম চলে যায়। কেননা, বিভিন্ন সময়ে বাপদাদা উভয়ের স্নেহের অনুভব তো আছে! আছে না অনুভব! কখনো তো করেছ, তাই না! আচ্ছা যা হোক, সদা নয়, কখনো তো হয়! সেই সময়কে স্মরণ করো - বাবার স্নেহ কী! বাবার স্নেহতে কী কী অনুভব করেছ! তো স্নেহের স্মৃতিতে পরিশ্রম বদলে যাবে। কেননা, বাপদাদার কোনও বাচ্চার পরিশ্রমের স্থিতি ভালো লাগে না। আমার বাচ্চা আর পরিশ্রম! তো পরিশ্রম মুক্ত কবে হবে? এই সঙ্গম যুগই আছে যেখানে পরিশ্রম মুক্ত, পরমানন্দের পরমানুভবে থাকতে পারো। পরমানন্দ যদি না থাকে তবে কোনো না কোনো বোঝা বুদ্ধিতে আছে, বাবা বলেছেন, বোঝা আমাকে দিয়ে দাও। আমিত্ব ভাবকে ভুলে ট্রাস্টি হয়ে যাও। দায়িত্ব বাবাকে দিয়ে দাও এবং স্বয়ং হৃদয়ের প্রকৃত বাচ্চা হয়ে খাও, খেলা করো আর আনন্দ করো। কেননা, সব যুগের মধ্যে এই সঙ্গমযুগ আনন্দের যুগ। এই আনন্দের যুগেও পরমানন্দ যদি উদযাপন না করো তবে কবে উদযাপন করবে? বাপদাদা যখন দেখেন যে তাঁর বাচ্চারা বোঝা উঠিয়ে খুব পরিশ্রম করছে, বোঝা দিয়ে দেয় না, নিজেই উঠিয়ে নেয়, তখন বাবার অনুকম্পা হবে তো না, করুণার উদ্রেক হবে, তাই না! আনন্দের সময় পরিশ্রম! স্নেহতে হারিয়ে যাও, স্নেহের সময়কে স্মরণ করো। কোনো না কোনো সময় প্রত্যেকের বিশেষ স্নেহের অনুভূতি হয়েই থাকে। হয়েছে। বাবা জানেন হয়েছে, কিন্তু তোমরা স্মরণ করো না। পরিশ্রমই দেখতে পাও, সংঘাত-সংঘর্ষে আটকে থাকো। যদি আজও অমৃতবেলা থেকে এখন পর্যন্ত হৃদয়ে বাপদাদা উভয় অথরিটির স্নেহের অনুভব করে থাকো তবে আজকের দিন স্মরণ করার জন্যও স্নেহের সামনে পরিশ্রম সমাপ্ত হয়ে যাবে।

এখন বাপদাদা এই বছরে প্রত্যেক বাচ্চাকে স্নেহযুক্ত, পরিশ্রম মুক্ত দেখতে চান। পরিশ্রমের লেশমাত্র যেন হৃদয়ে না থাকে, জীবনে না থাকে। হতে পারে? হতে পারে? যারা মনে করছ করেই ছাড়ব, সেই সব দৃঢ়চেতা হাত উঠাও। আজ বিশেষ দিনে এমন সব বাচ্চাকে বাবার বিশেষ বরদান - পরিশ্রম মুক্ত হওয়ার। স্বীকৃতি আছে? আছে! পরে যদি কিছু হয়ে যায় তখন কী করবে! কী কেন এসব করবে না তো? ভালোবাসার সময়কে স্মরণ করতে হবে। অনুভবকে স্মরণ করো এবং অনুভবে হারিয়ে যাও। তোমাদের প্রতিজ্ঞা রয়েছে। বাবাও বাচ্চাদের প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেন, তোমাদের প্রতিজ্ঞা রয়েছে যে আমরা বাবার দ্বারা ২১ জন্মের জন্য জীবনমুক্ত অবস্থার পদ প্রাপ্ত করছি, করবই, তো জীবনমুক্ত অবস্থায় পরিশ্রম হয় কি? ২১ জন্মের মধ্যে এক জন্ম সঙ্গমের। তোমাদের প্রতিজ্ঞা ২১জন্মের, ২০ জন্মের নয়। তো এখন থেকে পরিশ্রম মুক্ত অর্থাৎ জীবনমুক্ত, নিশ্চিন্ত বাদশাহ। এখনের সংস্কার ২১ জন্ম ইমার্জ থাকবে। তো ২১জন্মের উত্তরাধিকার নিয়েছ তো না! নাকি এখন নিতে হবে? তো অ্যাটেনশন প্লিজ, পরিশ্রম মুক্ত, সন্তুষ্ট থাকা এবং সন্তুষ্ট করা। শুধু থাকা নয়, করতেও হবে। তবে পরিশ্রম মুক্ত থাকবে। নয়তো রোজ কোনো না কোনো বোঝার (ভার) পরিস্থিতি, পরিশ্রমের পরিস্থিতি, কী, কেনর ভাষাতে আসবে। এখন সময়ের নৈকট্য দেখছ। সময় যেমন নিকটে আসছে ঠিক তেমনই তোমাদের সবারও বাবার সাথ ও তাঁর কাছাকাছি হওয়ার অনুভব বর্ধিত হওয়া উচিত তো না! বাবার সাথে তোমাদের নৈকট্য সময়ের নৈকট্য সমাপ্ত করবে। তোমরা সব বাচ্চা কি আত্মাদের দুঃখ অশান্তির আওয়াজ শুনতে পাচ্ছ না! তোমরাই পূর্বজও, পূজ্যও। তো হে পূর্বজ আত্মারা, হে পূজ্য আত্মারা, কবে বিশ্ব কল্যাণের কার্য সম্পন্ন করবে?

বাপদাদা সমাচারে দেখেছেন, সব বর্গ নিজের নিজের মিটিং করে, প্ল্যান বানায়, কীভাবে বিশ্ব কল্যাণের গতিকে তীব্র করবে! প্ল্যান তো খুব ভালো বানায়। কিন্তু বাপদাদা জিজ্ঞাসা করেন শেষমেশ কবে নাগাদ? এর উত্তর দাদিরা দেবে - অবশেষে কবে? পাণ্ডব দেবে - শেষ পর্যন্ত কবে? বাবার প্রত্যক্ষতা হবে, এটাই সব বর্গের সবাই প্ল্যান বানানোতে লক্ষ্য রাখে। কিন্তু প্রত্যক্ষতা হবে দৃঢ় প্রতিজ্ঞার দ্বারা। প্রতিজ্ঞায় দৃঢ়তা, কখনো কোনো কারণে অথবা পরিস্থিতিতে দৃঢ়তা কম হয়ে যায়। তোমরা খুব ভালো প্রতিজ্ঞা করো, অমৃতবেলায় তোমরা যদি শুনতে পারতে! বাবা তো শোনেন, তোমাদের কাছে এখন সায়েন্সের এমন সাধন দেওয়া হয়নি যা সবার হৃদয়ের আওয়াজ শুনতে পারো। বাপদাদা শোনেন প্রতিজ্ঞার মালা, এত ভালো ভালো সঙ্কল্পের বিষয়! হৃদয় খুশি হয়ে যায় যার জন্য বাপদাদা বলেন, বাহ্ বাচ্চারা বাহ! বাবা কী বলবেন তোমাদের, কী কী করো তোমরা! যখন কর্মে আসো, মুরলি ৭৫ পার্সেন্ট পর্যন্তও ঠিক থাকে। কিন্তু যখন কর্মযোগে আসো তা'তে ফারাক হয়ে যায়। কিছু সংস্কার, কিছু স্বভাব, স্বভাব আর সংস্কার দ্বিধা-দ্বন্দ্বে থাকে, তা'তে প্রতিজ্ঞা দৃঢ় হওয়ার পরিবর্তে সাধারণ হয়ে যায়। দৃঢ়তার পার্সেন্টেজ কম হয়ে যায়।

বাচ্চাদের একটা খেলা দেখে বাপদাদা মৃদু হাসেন। কোন খেলা করো, বাবা বলবেন কি? বলবেন তখনই, যখন তোমরা এই খেলা শেষ করবে। করবে শেষ? করবে? আজ তো স্নেহের শক্তি আছে, তাই না! করবে? হাত তোলো। শুধু হাত নয়, অন্তরের হাত তোলো, করতেই হবে। তারপরে বাপদাদা অল্প..., অল্প অল্প কিছু করবেন। বলবেন তোমাদের? পাণ্ডব বলো, বাবা বলবেন? প্রথমের এই লাইন বলো, বলবেন? বলো। করতে হবে। বলবেন? যদি হ্যাঁ হয় তবে প্রথম লাইন হাত তোলো। এই দুই লাইন হাত তোলো। মধুবনের তোমরাও হাত তোলো। অন্তরের হাত তো না! আচ্ছা। তোমাদের খেলা দেখায় বাপদাদার অনুকম্পা হয়, আনন্দ হয় না। কেননা, বাপদাদা দেখেন বাচ্চারা নিজের ব্যাপার অন্যের ওপরে সঁপে দিতে খুব চতুর। কী খেলা করো তোমরা! নিজেদের বড়াই করো। ভাবো কে আর দেখছে! আমি জানি, আমার মন জানে। বাবা তো পরমধামে, সূক্ষ্মবতনে বসে আছেন। যদি কাউকে বলো যে এটা করা উচিত নয়, তো কী খেলা করো জানো তোমরা? হ্যাঁ এটা তো হয়েছে কিন্তু... কিন্তু অবশ্যই জুড়ে দাও। কিন্তু কী? এরকম হয়েছিল তো না, এরকম করেছিল তো না, এরকম হয়েছে তো না, তবেই তো হয়েছে, আমি করিনি, এরকম হয়েছে তখন.. এখন এ' করেছে, তবে করেছি। নয়তো আমি করতাম না, তাহলে এটা কী হয়েছে? নিজের অনুভব, রিয়ালাইজেশন কম। আচ্ছা, মনে করো সে এরকম করেছে, তবে তুমি করেছ, ঠিক আছে খুব ভালো! প্রথম নম্বর সে হয়েছে, দ্বিতীয় নম্বর তুমি হয়েছ, ঠিক আছে। বাপদাদা এটাও মেনে নেন। তুমি প্রথম নম্বর নও, দ্বিতীয় নম্বর কিন্তু যদি তোমরা ভাবো যে প্রথম নম্বর যদি পরিবর্তন হয় তবে আমি ঠিক হবো, ঠিক আছে? এটাই তো মনে করো সেই সময়, তাই না! ধরে নাও, প্রথম নম্বর পরিবর্তন করবে, বাপদাদা আর সবাই যে প্রথম নম্বরের তাকে বললেন তোমার ভুল, তোমাকে পরিবর্তন করতে হবে ঠিক আছে; আচ্ছা প্রথম নম্বরের সে যদি পরিবর্তন করলো, তাহলে প্রথম নম্বর কে পাবে? তোমার তো প্রথম নম্বর হবে না। পরিবর্তন শক্তিতে তোমার প্রথম নম্বর হবে না। প্রথম নম্বর তুমি তাকে দিয়েছ, সুতরাং তোমার কোন নম্বর হলো? দ্বিতীয় নম্বর হলো তো না! যদি তোমাদের দ্বিতীয় নম্বর বলা হয় তবে সেটা মঞ্জুর করবে? করবে? তোমরা বলবে তো না, এরকম ছিল, ওরকম ছিল, কেমন ছিল... এই ভাষা খুব আসে তোমাদের খেলাতে। এরকম, ওরকম, সেরকম এই খেলা বন্ধ করে আমাকে পরিবর্তন করতে হবে। আমি পরিবর্তন হয়ে অন্যকে পরিবর্তন করবো, কিন্তু যদি অন্যকে পরিবর্তন করতে না পারো তবে শুভ ভাবনা, শুভ কামনা তো রাখতে পারো! সেটা তো তোমাদের নিজেদের জিনিস তো না! তো হে অর্জুন! আমাকে হতে হবে। বিশ্বের প্রথম রাজ্যধারী লক্ষ্মী-নারায়ণের সমীপ আসতে হবে তোমাকে, নাকি যারা দ্বিতীয় নম্বরে তাদেরকে? বাপদাদার এই বর্ষে এটাই আশা যে সব ব্রাহ্মণ আত্মা, ব্রহ্মাকুমার, ব্রহ্মাকুমারী যেমন এখানে এই ব্যাজ লাগাও, সবাই লাগাও তো না! এখানেও তোমরা এলে ব্যাজ পাও তো, তাই না! সেটা সোনার হোক বা রুপোর। তো যেমন এখানে ব্যাজ লাগাও তেমন বুদ্ধিতে, মনে এই ব্যাজ লাগাও, আমাকে পরিবর্তন হতে হবে। আমাকে নিমিত্ত হতে হবে। অন্য ব্যাপারে ব্যর্থ বিষয়ে যদি বা পিছনে থাকো, পরিবর্তনের কার্যে ব্রহ্মা বাবার সমান প্রথমে আমি। আর পরিবর্তনেও প্রথমে আমি। ঠিক আছে তো না! মঞ্জুর? তো কাল অমৃতবেলায় বাপদাদা দেখবেন, বাপদাদার দেরি লাগে না, সুইচ অন হলেই সাথে সাথে সমগ্র ওয়ার্ল্ড দেখা যায়। তো কাল অমৃতবেলায় সবাই বাবার সাথে মিলন উদযাপন করবে তো না! তো মিলন উদযাপন করাকালীন এই ব্যাজ লাগিও। আমরা দেখবো প্র্যাকটিক্যালি কোন ব্যাজ লাগাও। অযথা কেবল শো এর জন্য লাগিও না, পরিবর্তন হতেই হবে। দৃঢ়তা আছে তো না! তোমরা দৃঢ়, তাইতো না! সবাই হাত তোলো তো না, সেইজন্য বাপদাদার সামান্য এরকম লাগে - জানি না করবে কী করবে না! এটাও ভালো, এই যে হাত তোলো তো এক সেকেন্ড ভালো সঙ্কল্প তো করেছো, কিন্তু করেই ছাড়বে। আমাকে পরিবর্তন হতেই হবে, পরিবর্তিত হয়ে পরিবর্তন করতে হবে। এ' পরিবর্তন হ'লে, এই পরিস্থিতি বদলালে, এই সরকমস্ট্যান্স বদলালে...না। আমার পরিবর্তন হতে হবে। পরিস্থিতি তো আসবে, তোমরা উঁচুতে (উন্নতিতে) যাচ্ছো, উঁচু স্থানে সমস্যাও তো উঁচু আসে, তাই না! কিন্তু যেমন আজ নম্বর ক্রমানুসারে যথাশক্তি স্নেহের স্মৃতির বায়ুমণ্ডল ছিল, ঠিক তেমনই নিজের মনে সদা স্নেহে লাভলীন থাকার বায়ুমণ্ডল সর্বদা ইমার্জ রাখো।

বাপদাদার কাছে খুব ভালো ভালো সমাচার আসে। সঙ্কল্প পর্যন্ত খুব ভালো। স্বরূপে আসতে যথাশক্তি হয়ে যাও। এখন দু'মিনিটের জন্য সবাই পরমাত্ম স্নেহ, সঙ্গমযুগের আত্মিক আনন্দের স্থিতিতে স্থিত হয়ে যাও। আচ্ছা - এই অনুভবে বারবার প্রতিদিন সময় সময়ে অনুভব করতে থাকো। স্নেহ ছেড়ো না। স্নেহতে হারিয়ে যাওয়া শেখো। আচ্ছা।

চতুর্দিকের যোগযুক্ত, যুক্তিযুক্ত, রাজযুক্ত (ত্রিকালজ্ঞ), নিজেও গুহ্য বিষয়কে জেনে সদা অন্যকে সন্তুষ্ট করে আর সন্তুষ্ট থাকে। শুধু নিজে সন্তুষ্ট থাকলে চলবে না, সন্তুষ্ট করতেও হবে, এভাবে সদা স্নেহের সাগরে লাভলীন বাচ্চাদের, সদা বাবা সমান হওয়ার তীব্রগতির পুরুষার্থী বাচ্চাদের, সদা অসম্ভবকেও সহজভাবে সম্ভব করে, এমন শ্রেষ্ঠ আত্মাদের, সদা বাবার সাথে থাকে আর বাবার সেবায় সাথি থাকে এমন অনেক অনেক লাকি আর লাভলি বাচ্চাদের আজকের অব্যক্ত দিবসের অব্যক্ত ফরিস্তা স্বরূপের স্মরণের স্নেহ-সুমন আর হৃদয়ের কল্যাণকারী ভাবনা, আচ্ছা।

বরদান:-স্মরণের জাদু মন্ত্রের দ্বারা সর্বসিদ্ধি প্রাপ্ত করে সিদ্ধি স্বরূপ ভব

বাবার স্মরণের জাদুমন্ত্র হলো - এই জাদুমন্ত্রের দ্বারা যে সিদ্ধি চাও সেই সিদ্ধি প্রাপ্ত করতে পারো। যেমন স্থূলভাবেও কোনো কার্য সিদ্ধির জন্য জপ করে, তেমন এখানেও তোমরা কোনো কার্যে যদি সিদ্ধি চাও তবে স্মরণের এই মন্ত্রই বিধি স্বরূপ। এই জাদুমন্ত্র সেকেন্ডে পরিবর্তন করে দেয়। এটা সদা স্মৃতিতে বজায় রাখো তবে সদা সিদ্ধি স্বরূপ হয়ে যাবে। কেননা, স্মরণে থাকা কোনো বড় ব্যাপার নয়, সদা স্মরণে থাকা - এটাই বড় বিষয়, এর দ্বারাই সর্বসিদ্ধি প্রাপ্ত হয়।

স্লোগান:-সেকেন্ডে বিস্তারকে সার রূপে সমাহিত করে নেওয়া অর্থাৎ অন্তিম সার্টিফিকেট নেওয়া।

অব্যক্ত ইশারা : - অশরীরী এবং বিদেহী স্থিতির অভ্যাস বাড়াও শরীরের কোনো বস্ত্র যেমন সহজভাবে খুলে দিতে পারো, তেমনই এই শরীর রূপী বস্ত্র সহজে খুলতে পারবে, আর প্রয়োজনের সময় ধারণ করতে পারবে - এর অভ্যাস অবশ্যাক। বস্ত্র যদি কষ্টদায়ক বা টাইট হয় তবে সহজে খুলতে পারবে না। ঠিক এমনই দেহরূপী বস্ত্রও সংস্কারে আটকা থেকে যেন কষ্টদায়ক বা টাইট না হয়। সেইজন্য সব পরিস্থিতিতে ইজি থাকো। যদি ইজি থাকো তবে সব কার্য ইজি হবে। পুরানো সংস্কার থেকে যত বিচ্ছিন্ন থাকবে, অবস্থাও ততো সংযোগবিহীন অর্থাৎ বিদেহী হওয়া সহজে হয়ে যাবে।

29.11.2025 BENGALI MURLI

 “মিষ্টি বাচ্চারা - এ হলো গোলকধাঁধার খেলা, তোমরা ক্ষণে ক্ষণে বাবাকে ভুলে যাও, নিশ্চয় বুদ্ধি হও তাহলে তোমরা এই খেলায় আটকে পড়বে না”

প্রশ্নঃ -বাচ্চারা, বিনাশের সময়কে দেখে এখন তোমাদের কি কর্তব্য?

উত্তরঃ  তোমাদের কর্তব্য হলো - নিজের পড়াশোনায় বিশেষ মনোযোগী হওয়া, অন্য কথায় মন না দেওয়া। বাবা তোমাদের নয়নে বসিয়ে, গলার হার বানিয়ে সঙ্গে নিয়ে যাবেন। বাকিরা তো সবাই নিজের হিসেব-নিকেশ মিটিয়ে ঘরে ফিরবে। বাবা এসেছেন সবাইকে নিজের সঙ্গে ঘরে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে।

গীতঃ-দূর দেশের নিবাসী...

ওম্ শান্তি ।আত্মাদের পিতা আত্মা রূপী বাচ্চাদের বসে বোঝাচ্ছেন - বিশেষ করে ভারতে এবং সাধারণ ভাবে সম্পূর্ণ দুনিয়ায় সবাই বিশ্বে শান্তি চাইছে। এখন এই কথা তো বোঝা উচিত - নিশ্চয়ই বিশ্বের মালিক-ই বিশ্বে শান্তি স্থাপন করেন। গড ফাদারকেই প্রার্থনা করা উচিত যে এসে বিশ্বে শান্তি বর্ষিত করুন। কাকে প্রার্থনা করবে তারা তাও তো জানে না। সম্পূর্ণ বিশ্বের কথা তাইনা। সম্পূর্ণ বিশ্বে শান্তি চাই। এখন শান্তির ধাম তো আলাদা, যেখানে পিতা পরমাত্মা এবং আত্মারা বাস করে। সেই কথাও অসীমের পিতা এসে বোঝান। এখন এই দুনিয়ায় তো অসংখ্য মানুষ আছে, অনেক ধর্ম আছে। তারা বলে - একটি ধর্ম হলে শান্তি হবে। সব ধর্ম মিলেমিশে এক হতে তো পারে না। ত্রিমূর্তির মহিমাও আছে। ত্রিমূর্তির চিত্র অনেকেই নিজের কাছে রাখে। এই কথাও জানে ব্রহ্মা দ্বারা স্থাপনা। কিসের? শুধুমাত্র শান্তির নয়। শান্তি ও সুখের স্থাপনা হয়। এই ভারতেই ৫ হাজার বছর পূর্বে যখন এনার রাজত্ব ছিলো তখন নিশ্চয়ই বাকি সব জীব আত্মারা, জীব অর্থাৎ দেহ ত্যাগ করে নিজের ঘরে অর্থাৎ পরমধামে থাকবে। এখন চাইছে এক ধর্ম, এক রাজ্য, এক ভাষা। এখন তোমরা বাচ্চারা জানো - বাবা শান্তি, সুখ, সম্পত্তির স্থাপনা করছেন। এক রাজ্য অবশ্যই এখানেই হবে তাইনা। একটি রাজ্যের স্থাপনা হচ্ছে - এই কথাটি নতুন নয়। অনেক বার এক রাজ্যের স্থাপনা হয়েছে। তারপরে অনেক ধর্মের বৃদ্ধি হতে হতে বৃক্ষটি বিশাল হয় তখন বাবাকে আসতে হয়। আত্মা শোনে, পড়া করে, আত্মায় সংস্কার থাকে। আমরা আত্মারা ভিন্ন ভিন্ন শরীর ধারণ করি। বাচ্চাদের এই কথায় নিশ্চয় বুদ্ধি হতে অনেক পরিশ্রম লাগে। বাচ্চারা বলে বাবা ক্ষণে ক্ষণে ভুলে যাই আমরা। বাবা বোঝান - এই হলো গোলক ধাঁধার খেলা। যাতে তোমরা আটকে গেছো, জানো না যে আমরা নিজের ঘর (পরমধাম) বা রাজধানী (সত্যযুগ) কীভাবে যাব। এখন বাবা বুঝিয়েছেন আগে কিছুই জানতে না। আত্মা পাথরবুদ্ধি হয়ে যায়। পাথরবুদ্ধি ও স্পর্শবুদ্ধি ভারতেই গায়ন আছে। পাথর বুদ্ধি রাজারা এবং স্পর্শবুদ্ধি রাজারা এখানেই অবস্থান করে। পারসনাথের মন্দির এখানেই আছে। এখন তোমরা জানো আমরা আত্মারা কোথা থেকে পার্ট প্লে করতে আসি। আগে তো কিছুই জানতে না। একেই বলা হয় কাঁটার জঙ্গল। এই সম্পূর্ণ দুনিয়া হলো কাঁটার জঙ্গল। ফুলের বাগানে আগুন লেগেছে, এমন কথা কখনও শোনো নি হয়তো। সদা জঙ্গলে আগুন লাগে। এও তো জঙ্গল, এতে আগুন অবশ্যই লাগবে। বিশ্বে আগুন লাগবে । এই সম্পূর্ণ দুনিয়াকে বিশ্ব বলা হয়। এখন তোমরা বাচ্চারা বাবাকে জেনেছো। সম্মুখে বসে আছো। যে গানটি করতে তোমার সঙ্গেই বসি....। সেসব কিছু হচ্ছে এখন। ভগবানুবাচ তাই তোমরা অবশ্যই পড়বে, তাইনা। ভগবানুবাচ বাচ্চাদের জন্যেই হবে নিশ্চয়ই। তোমরা জানো ভগবান পড়ান। ভগবান কে? নিরাকার শিবকেই বলা হবে। ভগবান শিবের পূজা এখানে হয়। সত্যযুগে পূজা ইত্যাদি হয় না। স্মরণও করে না। সত্যযুগের রাজধানীর ফল ভক্তদের প্রাপ্ত হয়। তোমরা বুঝেছো আমরা বেশী ভক্তি করি তাই আমরা সর্ব প্রথমে বাবার কাছে আসি। পরে আমরা-ই রাজধানীতে আসবো। অতএব বাচ্চাদের পুরোপুরি পুরুষার্থ করা উচিত - নতুন দুনিয়ায় উঁচু পদ প্রাপ্ত করার জন্য। বাচ্চাদের ইচ্ছে হয় শীঘ্র যেন নতুন ঘরে যেতে পারি। শুরুতে বাড়িঘর নতুন হবে তারপরে পুরানো হতে থাকবে। ঘরে বাচ্চাদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। পুত্র, পৌত্র ইত্যাদি তো পুরানো ঘরে আসবে তাইনা। তারা বলবে এই আমাদের দাদু, ঠাকুরদার বাড়ি। পরে আসবে অনেকে। যতখানি জোর দিয়ে পুরুষার্থ করবে ততখানি শুরুতে নতুন ঘরে আসবে। পুরুষার্থ করার যুক্তি বাবা খুব সহজ করে বুঝিয়ে দেন। ভক্তিতেও পুরুষার্থ তো করতে হয় তাইনা। যারা অনেক ভক্তি করে তারা খ্যাতি অর্জন করে। অনেক ভক্তদের স্ট্যাম্প ইত্যাদি বের করা হয়। জ্ঞানের মালার কোনো নলেজ নেই। প্রথমে জ্ঞান, পরে হয় ভক্তি। এই কথা এখন বাচ্চারা তোমাদের বুদ্ধিতে আছে। অর্ধেক সময় হল জ্ঞান - সত্য যুগ-ত্রেতা। এখন তোমরা বাচ্চারা নলেজফুল হয়ে যাও। টিচার সর্বদা ফুল-নলেজ যুক্ত হয়। স্টুডেন্টও নম্বর অনুযায়ী মার্ক্স পায়। এই হলো অসীমের টিচার। তোমরা হলো অসীমের স্টুডেন্ট, স্টুডেন্টরা তো নম্বর অনুযায়ী পাস হবে। যেমন কল্প পূর্বে হয়েছিল। বাবা বোঝান, তোমরাই ৮৪ জন্ম নিয়েছো। ৮৪ জন্মে ৮৪ টি টিচার থাকে। পুনর্জন্ম তো অবশ্যই নিতে হবে। প্রথমে নিশ্চয়ই সতোপ্রধান দুনিয়া থাকে পরে পুরানো তমোপ্রধান দুনিয়া হয়। মানুষও নিশ্চয়ই তমোপ্রধান হবে। বৃক্ষটিও প্রথমে সতোপ্রধান হয়। নতুন পাতাগুলি হয় খুব সুন্দর। এই বৃক্ষটি হলো অসীমের। অনেক ধর্ম আছে। তোমাদের বুদ্ধি এখন অসীমের দিকে যাবে। তোমরাই ৮৪-টি ভিন্ন ভিন্ন জন্ম নিয়েছো। সেসবই হল অবিনাশী। তোমরা জানো কল্প-কল্প ৮৪-র চক্র আমরা পরিক্রমা করি। ৮৪-র চক্রে আমরা আসি। ৮৪ লক্ষ জন্ম কোনো মনুষ্য আত্মার হয় না। বিভিন্ন পশু ইত্যাদি অনেক আছে। তাদের গণনা কেউ করতে পারে না। মনুষ্য আত্মা ৮৪ জন্ম নিয়েছে। তাই এই পার্ট প্লে করে ক্লান্ত হয়েছে। দুঃখী হয়েছে। সিঁড়ি বেয়ে নীচে নামতে নামতে সতোপ্রধান থেকে তমোপ্রধান হয়েছে। বাবা আবার তমোপ্রধান থেকে সতোপ্রধান করেন। বাবা বলেন - আমি তমোপ্রধান শরীরে তমোপ্রধান দুনিয়ায় আসি। এখন সম্পূর্ণ দুনিয়া হল তমোপ্রধান। মানুষ তো বলে দেয় - সারা বিশ্বে শান্তি কীভাবে হবে। তারা বোঝে না যে বিশ্বে কখন শান্তি ছিল। বাবা বলেন তোমাদের ঘরে চিত্র তো রাখা আছে তাইনা। দেবতাদের রাজত্ব ছিল - তখন সারা বিশ্বে শান্তি ছিল, যার নাম ছিল স্বর্গ। নতুন দুনিয়াকেই হেভেন গোল্ডেন এজ বলা হয়। এখন এই পুরানো দুনিয়া পরিবর্তন করতে হবে। স্বর্গ রাজধানী স্থাপন হচ্ছে। বিশ্বে রাজ্য তো দেবতাদেরই ছিল। লক্ষ্মী-নারায়ণের মন্দিরে অনেক মানুষ যায়। এই কথা কারো বুদ্ধিতে নেই যে লক্ষ্মী-নারায়ণ ভারতের মালিক ছিলেন - এনাদের রাজ্যে অবশ্যই সুখ-শান্তি ছিল। ৫ হাজার বছরের কথা - যখন এনাদের রাজত্ব ছিল। অর্ধকল্প পরে পুরানো দুনিয়া বলা হয় তাই ব্যবসায়ীরা হিসেবের খাতায় স্বস্তিকা এঁকে রাখে। এরও কিছু অর্থ আছে তাইনা। তারা তো গণেশ বলে দেয়। গণেশকে বিঘ্ন বিনাশক দেবতা ভাবে। স্বস্তিকায় সমান রূপে ৪-টি ভাগ থাকে। এই সব হল ভক্তিমার্গ। এখন দীপাবলী উৎসব পালন করা হয়, বাস্তবে প্রকৃত সত্য দীপাবলী হলোই স্মরণের যাত্রা যার দ্বারা আত্মার জ্যোতি ২১ জন্মের জন্যে জাগ্রত হয়ে যায়। অনেক জমা হয়। বাচ্চারা, তোমাদের অনেক খুশীর অনুভব হওয়া উচিত। এখন তোমাদের নতুন খাতা শুরু হচ্ছে - নতুন দুনিয়ার জন্য। ২১ জন্মের জন্যে খাতা এখন জমা করতে হবে। এখন বাবা বাচ্চাদের বোঝান, নিজেকে আত্মা নিশ্চয় করে শুনছো। নিজেকে আত্মা ভেবে শুনলে খুশীর অনুভূতি হতে থাকবে।বাবা আমাদের পড়ান। ভগবানুবাচও বলা হয়। ভগবান তো হলেন এক। নিশ্চয়ই ভগবান এসে শরীর ধারণ করবেন, তখন ভগবানুবাচ বলা হয়। এই কথা কেউ জানেনা তাই নেতি-নেতি বলে দিয়েছে। যদিও বলে উনি হলেন পরমপিতা পরমাত্মা। তারপরে বলে দেয় - আমরা জানিনা। তারা বলে শিববাবা, ব্রহ্মাকেও বাবা বলে। বিষ্ণুকে বাবা বলে না। প্রজাপিতা অর্থাৎ উনি বাবা হলেন তাইনা। তোমরা হলে বি.কে., প্রজাপিতা নাম না দিলে বুঝবে না। অনেক বি.কে. আছে তাই প্রজাপিতা অবশ্যই থাকবে তাই প্রজাপিতা শব্দটি নিশ্চয়ই লিখবে। তখন বুঝবে প্রজাপিতা তো হলেন আমাদের পিতা। নতুন সৃষ্টি অবশ্যই প্রজাপিতা রচনা করবেন। আমরা আত্মারা হলাম ভাই-ভাই পরে শরীর ধারণ করে হয়ে যাই ভাই-বোন। শিববাবার সন্তান তো অবিনাশী পরে সাকারে বোন-ভাই প্রয়োজন হয়। অতএব নাম হল প্রজাপিতা ব্রহ্মা। কিন্তু ব্রহ্মাকে আমরা কেউ স্মরণ করি না। লৌকিক ও পারলৌকিককে স্মরণ করে। প্রজাপিতা ব্রহ্মাকে কেউ স্মরণ করে না। দুঃখে শিববাবাকে স্মরণ করে, ব্রহ্মাকে নয়। বলবে হে ভগবান। হে ব্রহ্মা বলবে না। সুখে তো কাউকে স্মরণ করে না। স্বর্গে তো সুখ ই থাকে। এই কথাও কেউ জানেনা। তোমরা জানো এই সময় হল তিনজন পিতা। ভক্তিমার্গে লৌকিক ও পারলৌকিক পিতাকে স্মরণ করে। সত্যযুগে শুধুমাত্র লৌকিক পিতাকে স্মরণ করে। সঙ্গমে তিনজনকে স্মরণ করে। লৌকিকও আছে কিন্তু জানে ওই হল দৈহিক জগতের পিতা। তার কাছে দৈহিক জগতের উত্তরাধিকার প্রাপ্ত হয়। এখন আমরা অসীম জগতের পিতাকে পেয়েছি যার কাছে অসীমের উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করি। এই কথাটি বুঝতে হবে। এখন অসীম জগতের পিতা এসেছেন ব্রহ্মার দেহে - বাচ্চাদের অর্থাৎ আমাদের অসীমের সুখ প্রদান করতে। তাঁর আপন হয়ে আমরা অসীমের উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করি। এই উত্তরাধিকার যেন ঠাকুরদার কাছে প্রাপ্ত হয় - ব্রহ্মা দ্বারা, তিনি বলেন তোমাদেরকে উত্তরাধিকার আমি প্রদান করি। আমিই পড়াই। জ্ঞান আমার কাছে আছে। যদিও না মানুষের জ্ঞান আছে, না দেবতাদের জ্ঞান আছে। জ্ঞান আছে আমার কাছে। বাচ্চারা, যা আমি তোমাদেরকে প্রদান করি। এইহলো আত্মিক জ্ঞান।


তোমরা জানো আত্মিক পিতার দ্বারা আমাদের এই পদ প্রাপ্ত হয়। এমন করে বিচার সাগর মন্থন করা উচিত। গানও আছে মনের জিতই হল জিত, মনের হারই হল হার....বাস্তবে বলা উচিত - মায়াকে জয় করা কারণ মনকে জয় করা যায় না। মানুষ বলে মনে শান্তি হবে কীভাবে? বাবা বলেন আত্মা কী করে বলবে মনে শান্তি হবে কীভাবে। আত্মা তো হলো-ই শান্তিধাম নিবাসী। আত্মা যখন শরীরে আসে তখনই কাজ করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। বাবা বলেন তোমরা এখন নিজ স্বধর্মে স্থিত হও, নিজেকে আত্মা নিশ্চয় করো। আত্মার স্বধর্ম হল শান্ত হয়ে থাকা। আর কোথায় শান্তি খুঁজে পাবে। এই বিষয়ে রানীর গলার হারের দৃষ্টান্ত দেওয়া হয়। সন্ন্যাসীরা দৃষ্টান্ত দেন এবং পরে নিজেরা জঙ্গলে গিয়ে শান্তির খোঁজ করেন। বাবা বলেন তোমরা আত্মা, তোমাদের ধর্মই হলো শান্তি। শান্তিধাম তোমাদের নিবাস, যেখান থেকে তোমরা পার্ট প্লে করতে আসো। শরীর দ্বারা তোমাদের কর্ম করতে হয়। শরীর থেকে পৃথক হলেই চারিপাশে নিস্তব্ধতা ছড়িয়ে পড়ে। আত্মা এক শরীর ত্যাগ করে অন্য শরীর ধারণ করে এই নিয়ে চিন্তা করা উচিত নয়। ফিরে তো আসবে না। কিন্তু মোহ কষ্ট দেয়। স্বর্গে তোমাদের মোহ কষ্ট দেবে না। সেখানে ৫টি বিকার নেই। রাবণরাজ্যও নেই। স্বর্গ হলো রাম রাজ্য। সর্বদা রাবণ রাজ্য থাকলে মানুষ ক্লান্ত হয়ে পড়ে। কখনও সুখ দেখতে পায় না। এখন তোমরা ঈশ্বরে বিশ্বাসী হয়েছো এবং ত্রিকালদর্শীও হয়েছো। মানুষ পিতাকে জানে না তাই নাস্তিক বা ঈশ্বরে অবিশ্বাসী বলা হয়।


এখন তোমরা বাচ্চারা জানো এই শাস্ত্র ইত্যাদি যা কিছু পাস্ট হয়েছে, সেসবই হলো ভক্তিমার্গ। এখন তোমরা রয়েছো জ্ঞান মার্গে। বাচ্চারা, বাবা তোমাদের কত ভালোবেসে নয়নে বসিয়ে নিয়ে যান। সবাইকে গলার হার বানিয়ে নিয়ে যাই। সবাই তো প্রার্থনা করে। যারা কাম চিতায় বসে কালো হয়ে যায় তাদের জ্ঞান চিতায় বসিয়ে, হিসেব-নিকেশ মিটিয়ে ফিরিয়ে নিয়ে যাই। এখন তোমাদের কাজ হলো পড়াশোনা করা, অন্য কথায় মন দেওয়ার দরকার নেই। কীভাবে মরবো, কি হবে....এইসব কথায় মন দেবে কেন। এই সময়টি হলো বিনাশের সময়, সব হিসেব-নিকেশ মিটিয়ে ফিরে যাবো। এই অসীমের ড্রামার রহস্য বাচ্চারা তোমাদের বুদ্ধিতে আছে, আর কারো বুদ্ধিতে নেই। বাচ্চারা জানে আমরা বাবার কাছে কল্প-কল্প আসি, অসীম জগতের উত্তরাধিকার নিতে। আমরা হলাম জীব আত্মা। বাবাও দেহে এসে প্রবেশ করেছেন। বাবা বলেন আমি সাধারণ দেহে আসি, এনাকেও এই কথা বোঝাই যে তুমি নিজের জন্মের কাহিনী জানো না। অন্য কেউ এমন বলতে পারে না যে বাচ্চারা, দেহী অভিমানী হও, বাবাকে স্মরণ করো। আচ্ছা!

মিষ্টি - মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা - পিতা, বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত । আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মারূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার ।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-১ ) স্মরণের যাত্রায় থেকে প্রতিদিন প্রকৃত সত্য দীপাবলী উৎসব পালন করতে হবে। নিজের নতুন খাতায় ২১ জন্মের জন্যে জমা করতে হবে।

২ ) ড্রামার রহস্য বুদ্ধিতে রেখে পড়াশোনা ব্যতীত অন্য কোনো কথায় মন দেবে না। সব রকমের হিসেব-নিকেশ মেটাতে হবে।

বরদান:-আত্মিকতার স্থিতির দ্বারা ব্যর্থ কথার স্টক সমাপ্তকারী খুশীর খাজানা দিয়ে সম্পন্ন ভব

আত্মিকতার স্থিতি দ্বারা ব্যর্থ কথার স্টক সমাপ্ত করো, নাহলে তো এক-দুজনের অপগুণগুলির বর্ণনা করতে করতে রোগের জার্মস্ বায়ুমন্ডলে ছড়িয়ে দিতে থাকবে, এর দ্বারা বায়ুমন্ডল পাওয়ারফুল হবে না। তোমাদের কাছে অনেক আত্মারা অনেক ভাবনা নিয়ে আসবে কিন্তু তোমাদের কাছ থেকে শুভ ভাবনাই নিয়ে যাবে। এটা তখন হবে যখন নিজেদের কাছে খুশীর কথার স্টক জমা থাকবে। যদি হৃদয়ে কারো প্রতি কোনও ব্যর্থ কথা চলে, তাে যেখানে ব্যর্থ কথা থাকে সেখানে বাবা থাকে না, পাপ থাকে।

স্লোগান:-স্মৃতির সুইচ অন থাকলে মুড অফ হবেই না।

অব্যক্ত ঈশারা :- অশরীরী বা বিদেহী স্থিতির অভ্যাস বাড়াও

যে যত বিজি থাকে, ততই তাকে মাঝেমধ্যে অবশ্যই এই অভ্যাস করতে হবে, আবার সেবাতে কখনও কখনও ক্লান্তি হয়, কখনও কিছু না কিছু নিজেদের মধ্যে দোলাচল হয়ে যায়, সেসব হবে না। এক সেকেন্ডে পৃথক হওয়ার অভ্যাস থাকলে, যা কিছু কথা হয়ে যাক, এক সেকেন্ডে নিজের অভ্যাসের দ্বারা এইসব কথাগুলি থেকে দূর হয়ে যাবে। চিন্তা করলে আর হয়ে গেল। যুদ্ধ করতে হবে না।

Thursday, November 27, 2025

28.11.2025 BENGALI MURLI

 “মিষ্টি বাচ্চারা - এ হলো গোলকধাঁধার খেলা, তোমরা ক্ষণে ক্ষণে বাবাকে ভুলে যাও, নিশ্চয় বুদ্ধি হও তাহলে তোমরা এই খেলায় আটকে পড়বে না”

প্রশ্নঃ -বাচ্চারা, বিনাশের সময়কে দেখে এখন তোমাদের কি কর্তব্য?

উত্তরঃ  তোমাদের কর্তব্য হলো - নিজের পড়াশোনায় বিশেষ মনোযোগী হওয়া, অন্য কথায় মন না দেওয়া। বাবা তোমাদের নয়নে বসিয়ে, গলার হার বানিয়ে সঙ্গে নিয়ে যাবেন। বাকিরা তো সবাই নিজের হিসেব-নিকেশ মিটিয়ে ঘরে ফিরবে। বাবা এসেছেন সবাইকে নিজের সঙ্গে ঘরে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে।

গীতঃ-দূর দেশের নিবাসী...

ওম্ শান্তি ।আত্মাদের পিতা আত্মা রূপী বাচ্চাদের বসে বোঝাচ্ছেন - বিশেষ করে ভারতে এবং সাধারণ ভাবে সম্পূর্ণ দুনিয়ায় সবাই বিশ্বে শান্তি চাইছে। এখন এই কথা তো বোঝা উচিত - নিশ্চয়ই বিশ্বের মালিক-ই বিশ্বে শান্তি স্থাপন করেন। গড ফাদারকেই প্রার্থনা করা উচিত যে এসে বিশ্বে শান্তি বর্ষিত করুন। কাকে প্রার্থনা করবে তারা তাও তো জানে না। সম্পূর্ণ বিশ্বের কথা তাইনা। সম্পূর্ণ বিশ্বে শান্তি চাই। এখন শান্তির ধাম তো আলাদা, যেখানে পিতা পরমাত্মা এবং আত্মারা বাস করে। সেই কথাও অসীমের পিতা এসে বোঝান। এখন এই দুনিয়ায় তো অসংখ্য মানুষ আছে, অনেক ধর্ম আছে। তারা বলে - একটি ধর্ম হলে শান্তি হবে। সব ধর্ম মিলেমিশে এক হতে তো পারে না। ত্রিমূর্তির মহিমাও আছে। ত্রিমূর্তির চিত্র অনেকেই নিজের কাছে রাখে। এই কথাও জানে ব্রহ্মা দ্বারা স্থাপনা। কিসের? শুধুমাত্র শান্তির নয়। শান্তি ও সুখের স্থাপনা হয়। এই ভারতেই ৫ হাজার বছর পূর্বে যখন এনার রাজত্ব ছিলো তখন নিশ্চয়ই বাকি সব জীব আত্মারা, জীব অর্থাৎ দেহ ত্যাগ করে নিজের ঘরে অর্থাৎ পরমধামে থাকবে। এখন চাইছে এক ধর্ম, এক রাজ্য, এক ভাষা। এখন তোমরা বাচ্চারা জানো - বাবা শান্তি, সুখ, সম্পত্তির স্থাপনা করছেন। এক রাজ্য অবশ্যই এখানেই হবে তাইনা। একটি রাজ্যের স্থাপনা হচ্ছে - এই কথাটি নতুন নয়। অনেক বার এক রাজ্যের স্থাপনা হয়েছে। তারপরে অনেক ধর্মের বৃদ্ধি হতে হতে বৃক্ষটি বিশাল হয় তখন বাবাকে আসতে হয়। আত্মা শোনে, পড়া করে, আত্মায় সংস্কার থাকে। আমরা আত্মারা ভিন্ন ভিন্ন শরীর ধারণ করি। বাচ্চাদের এই কথায় নিশ্চয় বুদ্ধি হতে অনেক পরিশ্রম লাগে। বাচ্চারা বলে বাবা ক্ষণে ক্ষণে ভুলে যাই আমরা। বাবা বোঝান - এই হলো গোলক ধাঁধার খেলা। যাতে তোমরা আটকে গেছো, জানো না যে আমরা নিজের ঘর (পরমধাম) বা রাজধানী (সত্যযুগ) কীভাবে যাব। এখন বাবা বুঝিয়েছেন আগে কিছুই জানতে না। আত্মা পাথরবুদ্ধি হয়ে যায়। পাথরবুদ্ধি ও স্পর্শবুদ্ধি ভারতেই গায়ন আছে। পাথর বুদ্ধি রাজারা এবং স্পর্শবুদ্ধি রাজারা এখানেই অবস্থান করে। পারসনাথের মন্দির এখানেই আছে। এখন তোমরা জানো আমরা আত্মারা কোথা থেকে পার্ট প্লে করতে আসি। আগে তো কিছুই জানতে না। একেই বলা হয় কাঁটার জঙ্গল। এই সম্পূর্ণ দুনিয়া হলো কাঁটার জঙ্গল। ফুলের বাগানে আগুন লেগেছে, এমন কথা কখনও শোনো নি হয়তো। সদা জঙ্গলে আগুন লাগে। এও তো জঙ্গল, এতে আগুন অবশ্যই লাগবে। বিশ্বে আগুন লাগবে । এই সম্পূর্ণ দুনিয়াকে বিশ্ব বলা হয়। এখন তোমরা বাচ্চারা বাবাকে জেনেছো। সম্মুখে বসে আছো। যে গানটি করতে তোমার সঙ্গেই বসি....। সেসব কিছু হচ্ছে এখন। ভগবানুবাচ তাই তোমরা অবশ্যই পড়বে, তাইনা। ভগবানুবাচ বাচ্চাদের জন্যেই হবে নিশ্চয়ই। তোমরা জানো ভগবান পড়ান। ভগবান কে? নিরাকার শিবকেই বলা হবে। ভগবান শিবের পূজা এখানে হয়। সত্যযুগে পূজা ইত্যাদি হয় না। স্মরণও করে না। সত্যযুগের রাজধানীর ফল ভক্তদের প্রাপ্ত হয়। তোমরা বুঝেছো আমরা বেশী ভক্তি করি তাই আমরা সর্ব প্রথমে বাবার কাছে আসি। পরে আমরা-ই রাজধানীতে আসবো। অতএব বাচ্চাদের পুরোপুরি পুরুষার্থ করা উচিত - নতুন দুনিয়ায় উঁচু পদ প্রাপ্ত করার জন্য। বাচ্চাদের ইচ্ছে হয় শীঘ্র যেন নতুন ঘরে যেতে পারি। শুরুতে বাড়িঘর নতুন হবে তারপরে পুরানো হতে থাকবে। ঘরে বাচ্চাদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। পুত্র, পৌত্র ইত্যাদি তো পুরানো ঘরে আসবে তাইনা। তারা বলবে এই আমাদের দাদু, ঠাকুরদার বাড়ি। পরে আসবে অনেকে। যতখানি জোর দিয়ে পুরুষার্থ করবে ততখানি শুরুতে নতুন ঘরে আসবে। পুরুষার্থ করার যুক্তি বাবা খুব সহজ করে বুঝিয়ে দেন। ভক্তিতেও পুরুষার্থ তো করতে হয় তাইনা। যারা অনেক ভক্তি করে তারা খ্যাতি অর্জন করে। অনেক ভক্তদের স্ট্যাম্প ইত্যাদি বের করা হয়। জ্ঞানের মালার কোনো নলেজ নেই। প্রথমে জ্ঞান, পরে হয় ভক্তি। এই কথা এখন বাচ্চারা তোমাদের বুদ্ধিতে আছে। অর্ধেক সময় হল জ্ঞান - সত্য যুগ-ত্রেতা। এখন তোমরা বাচ্চারা নলেজফুল হয়ে যাও। টিচার সর্বদা ফুল-নলেজ যুক্ত হয়। স্টুডেন্টও নম্বর অনুযায়ী মার্ক্স পায়। এই হলো অসীমের টিচার। তোমরা হলো অসীমের স্টুডেন্ট, স্টুডেন্টরা তো নম্বর অনুযায়ী পাস হবে। যেমন কল্প পূর্বে হয়েছিল। বাবা বোঝান, তোমরাই ৮৪ জন্ম নিয়েছো। ৮৪ জন্মে ৮৪ টি টিচার থাকে। পুনর্জন্ম তো অবশ্যই নিতে হবে। প্রথমে নিশ্চয়ই সতোপ্রধান দুনিয়া থাকে পরে পুরানো তমোপ্রধান দুনিয়া হয়। মানুষও নিশ্চয়ই তমোপ্রধান হবে। বৃক্ষটিও প্রথমে সতোপ্রধান হয়। নতুন পাতাগুলি হয় খুব সুন্দর। এই বৃক্ষটি হলো অসীমের। অনেক ধর্ম আছে। তোমাদের বুদ্ধি এখন অসীমের দিকে যাবে। তোমরাই ৮৪-টি ভিন্ন ভিন্ন জন্ম নিয়েছো। সেসবই হল অবিনাশী। তোমরা জানো কল্প-কল্প ৮৪-র চক্র আমরা পরিক্রমা করি। ৮৪-র চক্রে আমরা আসি। ৮৪ লক্ষ জন্ম কোনো মনুষ্য আত্মার হয় না। বিভিন্ন পশু ইত্যাদি অনেক আছে। তাদের গণনা কেউ করতে পারে না। মনুষ্য আত্মা ৮৪ জন্ম নিয়েছে। তাই এই পার্ট প্লে করে ক্লান্ত হয়েছে। দুঃখী হয়েছে। সিঁড়ি বেয়ে নীচে নামতে নামতে সতোপ্রধান থেকে তমোপ্রধান হয়েছে। বাবা আবার তমোপ্রধান থেকে সতোপ্রধান করেন। বাবা বলেন - আমি তমোপ্রধান শরীরে তমোপ্রধান দুনিয়ায় আসি। এখন সম্পূর্ণ দুনিয়া হল তমোপ্রধান। মানুষ তো বলে দেয় - সারা বিশ্বে শান্তি কীভাবে হবে। তারা বোঝে না যে বিশ্বে কখন শান্তি ছিল। বাবা বলেন তোমাদের ঘরে চিত্র তো রাখা আছে তাইনা। দেবতাদের রাজত্ব ছিল - তখন সারা বিশ্বে শান্তি ছিল, যার নাম ছিল স্বর্গ। নতুন দুনিয়াকেই হেভেন গোল্ডেন এজ বলা হয়। এখন এই পুরানো দুনিয়া পরিবর্তন করতে হবে। স্বর্গ রাজধানী স্থাপন হচ্ছে। বিশ্বে রাজ্য তো দেবতাদেরই ছিল। লক্ষ্মী-নারায়ণের মন্দিরে অনেক মানুষ যায়। এই কথা কারো বুদ্ধিতে নেই যে লক্ষ্মী-নারায়ণ ভারতের মালিক ছিলেন - এনাদের রাজ্যে অবশ্যই সুখ-শান্তি ছিল। ৫ হাজার বছরের কথা - যখন এনাদের রাজত্ব ছিল। অর্ধকল্প পরে পুরানো দুনিয়া বলা হয় তাই ব্যবসায়ীরা হিসেবের খাতায় স্বস্তিকা এঁকে রাখে। এরও কিছু অর্থ আছে তাইনা। তারা তো গণেশ বলে দেয়। গণেশকে বিঘ্ন বিনাশক দেবতা ভাবে। স্বস্তিকায় সমান রূপে ৪-টি ভাগ থাকে। এই সব হল ভক্তিমার্গ। এখন দীপাবলী উৎসব পালন করা হয়, বাস্তবে প্রকৃত সত্য দীপাবলী হলোই স্মরণের যাত্রা যার দ্বারা আত্মার জ্যোতি ২১ জন্মের জন্যে জাগ্রত হয়ে যায়। অনেক জমা হয়। বাচ্চারা, তোমাদের অনেক খুশীর অনুভব হওয়া উচিত। এখন তোমাদের নতুন খাতা শুরু হচ্ছে - নতুন দুনিয়ার জন্য। ২১ জন্মের জন্যে খাতা এখন জমা করতে হবে। এখন বাবা বাচ্চাদের বোঝান, নিজেকে আত্মা নিশ্চয় করে শুনছো। নিজেকে আত্মা ভেবে শুনলে খুশীর অনুভূতি হতে থাকবে।বাবা আমাদের পড়ান। ভগবানুবাচও বলা হয়। ভগবান তো হলেন এক। নিশ্চয়ই ভগবান এসে শরীর ধারণ করবেন, তখন ভগবানুবাচ বলা হয়। এই কথা কেউ জানেনা তাই নেতি-নেতি বলে দিয়েছে। যদিও বলে উনি হলেন পরমপিতা পরমাত্মা। তারপরে বলে দেয় - আমরা জানিনা। তারা বলে শিববাবা, ব্রহ্মাকেও বাবা বলে। বিষ্ণুকে বাবা বলে না। প্রজাপিতা অর্থাৎ উনি বাবা হলেন তাইনা। তোমরা হলে বি.কে., প্রজাপিতা নাম না দিলে বুঝবে না। অনেক বি.কে. আছে তাই প্রজাপিতা অবশ্যই থাকবে তাই প্রজাপিতা শব্দটি নিশ্চয়ই লিখবে। তখন বুঝবে প্রজাপিতা তো হলেন আমাদের পিতা। নতুন সৃষ্টি অবশ্যই প্রজাপিতা রচনা করবেন। আমরা আত্মারা হলাম ভাই-ভাই পরে শরীর ধারণ করে হয়ে যাই ভাই-বোন। শিববাবার সন্তান তো অবিনাশী পরে সাকারে বোন-ভাই প্রয়োজন হয়। অতএব নাম হল প্রজাপিতা ব্রহ্মা। কিন্তু ব্রহ্মাকে আমরা কেউ স্মরণ করি না। লৌকিক ও পারলৌকিককে স্মরণ করে। প্রজাপিতা ব্রহ্মাকে কেউ স্মরণ করে না। দুঃখে শিববাবাকে স্মরণ করে, ব্রহ্মাকে নয়। বলবে হে ভগবান। হে ব্রহ্মা বলবে না। সুখে তো কাউকে স্মরণ করে না। স্বর্গে তো সুখ ই থাকে। এই কথাও কেউ জানেনা। তোমরা জানো এই সময় হল তিনজন পিতা। ভক্তিমার্গে লৌকিক ও পারলৌকিক পিতাকে স্মরণ করে। সত্যযুগে শুধুমাত্র লৌকিক পিতাকে স্মরণ করে। সঙ্গমে তিনজনকে স্মরণ করে। লৌকিকও আছে কিন্তু জানে ওই হল দৈহিক জগতের পিতা। তার কাছে দৈহিক জগতের উত্তরাধিকার প্রাপ্ত হয়। এখন আমরা অসীম জগতের পিতাকে পেয়েছি যার কাছে অসীমের উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করি। এই কথাটি বুঝতে হবে। এখন অসীম জগতের পিতা এসেছেন ব্রহ্মার দেহে - বাচ্চাদের অর্থাৎ আমাদের অসীমের সুখ প্রদান করতে। তাঁর আপন হয়ে আমরা অসীমের উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করি। এই উত্তরাধিকার যেন ঠাকুরদার কাছে প্রাপ্ত হয় - ব্রহ্মা দ্বারা, তিনি বলেন তোমাদেরকে উত্তরাধিকার আমি প্রদান করি। আমিই পড়াই। জ্ঞান আমার কাছে আছে। যদিও না মানুষের জ্ঞান আছে, না দেবতাদের জ্ঞান আছে। জ্ঞান আছে আমার কাছে। বাচ্চারা, যা আমি তোমাদেরকে প্রদান করি। এইহলো আত্মিক জ্ঞান।

তোমরা জানো আত্মিক পিতার দ্বারা আমাদের এই পদ প্রাপ্ত হয়। এমন করে বিচার সাগর মন্থন করা উচিত। গানও আছে মনের জিতই হল জিত, মনের হারই হল হার....বাস্তবে বলা উচিত - মায়াকে জয় করা কারণ মনকে জয় করা যায় না। মানুষ বলে মনে শান্তি হবে কীভাবে? বাবা বলেন আত্মা কী করে বলবে মনে শান্তি হবে কীভাবে। আত্মা তো হলো-ই শান্তিধাম নিবাসী। আত্মা যখন শরীরে আসে তখনই কাজ করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। বাবা বলেন তোমরা এখন নিজ স্বধর্মে স্থিত হও, নিজেকে আত্মা নিশ্চয় করো। আত্মার স্বধর্ম হল শান্ত হয়ে থাকা। আর কোথায় শান্তি খুঁজে পাবে। এই বিষয়ে রানীর গলার হারের দৃষ্টান্ত দেওয়া হয়। সন্ন্যাসীরা দৃষ্টান্ত দেন এবং পরে নিজেরা জঙ্গলে গিয়ে শান্তির খোঁজ করেন। বাবা বলেন তোমরা আত্মা, তোমাদের ধর্মই হলো শান্তি। শান্তিধাম তোমাদের নিবাস, যেখান থেকে তোমরা পার্ট প্লে করতে আসো। শরীর দ্বারা তোমাদের কর্ম করতে হয়। শরীর থেকে পৃথক হলেই চারিপাশে নিস্তব্ধতা ছড়িয়ে পড়ে। আত্মা এক শরীর ত্যাগ করে অন্য শরীর ধারণ করে এই নিয়ে চিন্তা করা উচিত নয়। ফিরে তো আসবে না। কিন্তু মোহ কষ্ট দেয়। স্বর্গে তোমাদের মোহ কষ্ট দেবে না। সেখানে ৫টি বিকার নেই। রাবণরাজ্যও নেই। স্বর্গ হলো রাম রাজ্য। সর্বদা রাবণ রাজ্য থাকলে মানুষ ক্লান্ত হয়ে পড়ে। কখনও সুখ দেখতে পায় না। এখন তোমরা ঈশ্বরে বিশ্বাসী হয়েছো এবং ত্রিকালদর্শীও হয়েছো। মানুষ পিতাকে জানে না তাই নাস্তিক বা ঈশ্বরে অবিশ্বাসী বলা হয়।

এখন তোমরা বাচ্চারা জানো এই শাস্ত্র ইত্যাদি যা কিছু পাস্ট হয়েছে, সেসবই হলো ভক্তিমার্গ। এখন তোমরা রয়েছো জ্ঞান মার্গে। বাচ্চারা, বাবা তোমাদের কত ভালোবেসে নয়নে বসিয়ে নিয়ে যান। সবাইকে গলার হার বানিয়ে নিয়ে যাই। সবাই তো প্রার্থনা করে। যারা কাম চিতায় বসে কালো হয়ে যায় তাদের জ্ঞান চিতায় বসিয়ে, হিসেব-নিকেশ মিটিয়ে ফিরিয়ে নিয়ে যাই। এখন তোমাদের কাজ হলো পড়াশোনা করা, অন্য কথায় মন দেওয়ার দরকার নেই। কীভাবে মরবো, কি হবে....এইসব কথায় মন দেবে কেন। এই সময়টি হলো বিনাশের সময়, সব হিসেব-নিকেশ মিটিয়ে ফিরে যাবো। এই অসীমের ড্রামার রহস্য বাচ্চারা তোমাদের বুদ্ধিতে আছে, আর কারো বুদ্ধিতে নেই। বাচ্চারা জানে আমরা বাবার কাছে কল্প-কল্প আসি, অসীম জগতের উত্তরাধিকার নিতে। আমরা হলাম জীব আত্মা। বাবাও দেহে এসে প্রবেশ করেছেন। বাবা বলেন আমি সাধারণ দেহে আসি, এনাকেও এই কথা বোঝাই যে তুমি নিজের জন্মের কাহিনী জানো না। অন্য কেউ এমন বলতে পারে না যে বাচ্চারা, দেহী অভিমানী হও, বাবাকে স্মরণ করো। 

আচ্ছা! মিষ্টি - মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা - পিতা, বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত । আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মারূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার ।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-১ ) স্মরণের যাত্রায় থেকে প্রতিদিন প্রকৃত সত্য দীপাবলী উৎসব পালন করতে হবে। নিজের নতুন খাতায় ২১ জন্মের জন্যে জমা করতে হবে।

২ ) ড্রামার রহস্য বুদ্ধিতে রেখে পড়াশোনা ব্যতীত অন্য কোনো কথায় মন দেবে না। সব রকমের হিসেব-নিকেশ মেটাতে হবে।

বরদান:-আত্মিকতার স্থিতির দ্বারা ব্যর্থ কথার স্টক সমাপ্তকারী খুশীর খাজানা দিয়ে সম্পন্ন ভব

আত্মিকতার স্থিতি দ্বারা ব্যর্থ কথার স্টক সমাপ্ত করো, নাহলে তো এক-দুজনের অপগুণগুলির বর্ণনা করতে করতে রোগের জার্মস্ বায়ুমন্ডলে ছড়িয়ে দিতে থাকবে, এর দ্বারা বায়ুমন্ডল পাওয়ারফুল হবে না। তোমাদের কাছে অনেক আত্মারা অনেক ভাবনা নিয়ে আসবে কিন্তু তোমাদের কাছ থেকে শুভ ভাবনাই নিয়ে যাবে। এটা তখন হবে যখন নিজেদের কাছে খুশীর কথার স্টক জমা থাকবে। যদি হৃদয়ে কারো প্রতি কোনও ব্যর্থ কথা চলে, তাে যেখানে ব্যর্থ কথা থাকে সেখানে বাবা থাকে না, পাপ থাকে।

স্লোগান:-স্মৃতির সুইচ অন থাকলে মুড অফ হবেই না।

অব্যক্ত ঈশারা :- অশরীরী বা বিদেহী স্থিতির অভ্যাস বাড়াও

যে যত বিজি থাকে, ততই তাকে মাঝেমধ্যে অবশ্যই এই অভ্যাস করতে হবে, আবার সেবাতে কখনও কখনও ক্লান্তি হয়, কখনও কিছু না কিছু নিজেদের মধ্যে দোলাচল হয়ে যায়, সেসব হবে না। এক সেকেন্ডে পৃথক হওয়ার অভ্যাস থাকলে, যা কিছু কথা হয়ে যাক, এক সেকেন্ডে নিজের অভ্যাসের দ্বারা এইসব কথাগুলি থেকে দূর হয়ে যাবে। চিন্তা করলে আর হয়ে গেল। যুদ্ধ করতে হবে না।

Wednesday, November 26, 2025

27.11.2025 BENGALI MURLI

 "মিষ্টি বাচ্চারা - বাবা তোমাদের যা পড়াচ্ছেন, তা যথার্থ রীতিতে পড়লে ২১ জন্মের জন্য উপার্জন সঞ্চিত হবে। ভালো ভাবে ঈশ্বরীয় পাঠ পড়ো তবে চির কালের জন্য সুখী হতে পারবে"

প্রশ্নঃ -বাচ্চারা তোমাদের অতিন্দ্রীয় সুখের গায়ন কেন করা হয়?

উত্তরঃ  কেননা বাচ্চারা তোমরাই এইসময় বাবাকে জেনে থাকো, তোমরাই বাবার কাছ থেকে সৃষ্টির আদি-মধ্য-অন্তকে জানতে পার । তোমরা এখন সঙ্গমে অসীম জগতে রয়েছো। তোমরা জানো আমরা এখন লবণাক্ত (খাড়ি) চ্যানেল থেকে অমৃতের মধুর চ্যানেলে যেতে চলেছি। স্বয়ং ভগবান এসে আমাদের পড়াচ্ছেন, এমন খুশি ব্রাহ্মণদেরই অনুভব হয় সেইজন্যই তোমাদের অতিন্দ্রীয় সুখের গায়ন আছে।

ওম্ শান্তি ।আত্মিক অসীম জগতের পিতা তাঁর আত্মা রূপী বাচ্চাদের বোঝাচ্ছেন - অর্থাৎ নিজের মত প্রদান করছেন। এটা তো অবশ্যই বুঝেছো যে আমরা হলাম জীবাত্মা। কিন্তু নিশ্চয় তো আত্মাকে করতে হতে হবে তাই না । আমরা কোনো নতুন স্কুলে পড়াশোনা করছি না। প্রতি ৫ হাজার বছর পর এইভাবেই পড়াশোনা করে আসছি। বাবাও জিজ্ঞাসা করেন আগে কখনও পড়েছো? সবাই তখন বলে ওঠে আমরা প্রতি ৫ হাজার বছর পর পুরুষোত্তম সঙ্গম যুগে বাবার কাছে আসি । এটা তো স্মরণে আছে না ! নাকি এও ভুলে যাও? স্টুডেন্টদের স্কুলের কথা তো অবশ্যই মনে পড়ে তাইনা। এইম অবজেক্ট তো একটাই। যারাই বাবার বাচ্চা হয় সে দুদিনের হোক বা পুরানো, সবার লক্ষ্য এক। কারো কোনো লোকসান হতে পারে না। পড়াশোনাতেই ইনকাম আছে তাই না । ভক্তি মার্গেও ওরা গ্রন্থ পাঠ করে ইনকাম করে, শরীর নির্বাহের কাজে সেটা লাগে। সাধু হয়ে অনেককে শাস্ত্র শোনায়, এতেই ইনকাম হয়ে যায়। এসবই হলো সোর্স অফ ইনকাম। প্রতিটি বিষয়েই ইনকাম চাই তাই না ! পয়সা থাকলে কোথাও না কোথাও থেকে ঘুরে আসে। তোমরা বাচ্চারা জানো যে বাবা আমাদের যথার্থ রীতিতে ঈশ্বরীয় পাঠ পড়িয়ে থাকেন, যাতে ২১ জন্মের জন্য উপার্জন সঞ্চিত হয়। এই ইনকাম এমনই যাতে সুখী হবে, কখনও রোগগ্রস্ত হবে না, অমর থাকবে। এই নিশ্চয় থাকা উচিত। এমন নিশ্চয় থাকলে তোমরা উৎফুল্ল থাকবে। তা না হলে কোনো না কোনো বিষয়ে মুষড়ে পড়বে। আন্তরিক ভাবে মনে মনে স্মরণ করা উচিত - আমরা অসীম জগতের বাবার কাছে শিক্ষা গ্রহণ করছি। ভগবানুবাচ - এ হলো গীতা। গীতারও যুগ আসে, তাইনা। শুধু ভুলে গেছো - এ হলো পঞ্চম যুগ। এই সঙ্গম খুব অল্প সময়ের জন্য। আসলে এটা অন্যান্য যুগের এক চতুর্থাংশও নয় । তোমরা পারসেন্টেজ অনুসারে ধরতে পার। এগিয়ে যেতে-যেতে বাবা বলবেন । বাবা যা বলবেন সবই পূর্ব নির্ধারিত। তোমরা সব আত্মাদের পার্ট পূর্ব নির্ধারিত যা রিপিট হয়ে চলেছে। তোমরা যা শিখেছ সেটাও রিপিটেশন হচ্ছে, তাই না! রিপিটেশনের রহস্য তোমরা বাচ্চারা জেনেছ, প্রতিটি মুহূর্তে ভূমিকা বদলে যাচ্ছে। এক সেকেন্ডও পরবর্তী সেকেন্ডের সাথে মিলবে না। উঁকুনের মতো ধীরে-ধীরে চলতেই থাকে । টিকটিক করে এক-এক সেকেন্ড পার হয়ে চলেছে। এখন তোমরা অসীমে দাঁড়িয়ে আছ। দ্বিতীয় আর কেউ-ই দাঁড়িয়ে নেই। কারো মধ্যেই অসীমের অর্থাৎ আদি-মধ্য-অন্তের জ্ঞান নেই। তোমরা এখন ভবিষ্যৎ সম্পর্কেও জেনেছ। আমরা এখন নতুন দুনিয়াতে যেতে চলেছি। এখন সঙ্গম যুগ। লবণাক্ত চ্যানেল অতিক্রম করে মিষ্টি অমৃতের চ্যানেলে যেতে হবে। তোমরা এখন বিষের সাগর পার করে ক্ষীর সাগরে যাচ্ছ। এ হলো অসীমের অনন্ত বিষয়, দুনিয়া এই সম্পর্কে কিছুই জানে না। নতুন বিষয় না ! তোমরা জান ভগবান কাকে বলে। ইনি কোন্ পার্ট প্লে করেন। আলোচনার মাধ্যমেও বলো - এসো পরমপিতা পরমাত্মার পরিচয় সম্পর্কে তোমাকে বুঝিয়ে বলি। এভাবেই বাচ্চারা বাবার পরিচয় দিয়ে থাকে। সাধারণ বিষয়। ইনি তো বাবারও বাবা, তাইনা। তোমাদের মধ্যেও নম্বরানুসারে পুরুষার্থ অনুযায়ী জেনেছো।এখন তোমাদের যথার্থ রীতিতে বাবার পরিচয় দিতে হবে। তোমাদেরও বাবাই এসে পরিচয় দিয়েছেন তবেই তো বোঝাতে পার। আর তো কেউ অসীম জাগতিক পিতাকে জানেই না। তোমরাও এই সঙ্গমেই জানতে পার। মানুষ মাত্রই দেবতা হোক বা শূদ্র, পুণ্য আত্মা হোক কিম্বা পাপ আত্মা, কেউ-ই জানেনা, শুধুমাত্র তোমরা ব্রাহ্মণরা যারা সঙ্গম যুগে আছ, তারাই জানতে পেরেছ। সুতরাং বাচ্চারা, তোমাদের কতখানি খুশি হওয়া উচিত। তবেই তো গায়ন আছে - অতীন্দ্রিয় সুখ কি জানতে হলে গোপ-গোপিনীদের জিজ্ঞাসা করো।  বাবা একাধারে পিতা, টিচার এবং সদ্গুরু। সুপ্রিম শব্দটি অবশ্যই ব্যবহার করা উচিত। কখনও-কখনও বাচ্চারা ভুলে যায়। এসব বিষয় বাচ্চাদের বুদ্ধিতে থাকা উচিত। শিববাবার মহিমায় এই শব্দটি (সুপ্রিম) অবশ্যই ব্যবহার করা উচিত। তোমরা ছাড়া এই বিষয়ে আর তো কেউ জানেই না। তোমরা বোঝাতে পারলে অর্থাৎ বিজয়ী হলে না ! তোমরা জানো অসীম জগতের পিতা সবার শিক্ষক, এবং সদ্গতি দাতা। অসীম সুখ, অসীমের জ্ঞান প্রদানকারী। তারপরও এমন বাবাকে ভুলে যাও। মায়া কি ভীষণ প্রবল। ঈশ্বরকে শক্তিশালী বলে থাকো কিন্তু মায়াও কম বলশালী নয় । তোমরা বাচ্চারা সঠিক জানো যে এর নামই তো রাখা হয়েছে রাবণ। রাম রাজ্য আর রাবণ রাজ্য। এই বিষয়ে সঠিকভাবে বোঝান উচিত। রাম রাজ্য যদি হয় রাবণ রাজ্যও অবশ্যই হবে। সবসময়ের জন্য রাম রাজ্য তো হতে পারে না। রাম রাজ্য, শ্রী কৃষ্ণের রাজ্য কে স্থাপন করে, এসবই অসীম জগতের পিতা বসে বোঝান। তোমাদের ভারত খন্ডের মহিমা করা উচিত। ভারত সত্য খন্ড ছিল, কত মহিমা ছিল । বাবাই তৈরি করেছিলেন। বাবার প্রতি তোমাদের কতো ভালোবাসা ! এইম অবজেক্টও বুদ্ধিতে আছে। তোমরা জানো আমরা স্টুডেন্টদের নিজেদের পড়াশোনার প্রতি ঈশ্বরীয় নেশা থাকা উচিত। নিজের ক্যারেক্টারের প্রতিও খেয়াল রাখা উচিত। বিবেক বলে এই ঈশ্বরীয় পড়াশোনা একদিনও মিস করা উচিত নয় এবং টিচার আসার পর লেট করে পৌঁছানো উচিত নয়। টিচার আসার পর পৌঁছানো এটাও তো ইনসাল্ট করা। স্কুলেও স্টুডেন্টস লেট এ পৌঁছালে টিচার তাদের বাইরে বের করে দেয়। বাবা (ব্রহ্মা বাবা) নিজের ছোটবেলার দৃষ্টান্ত দিয়ে বলেছেন, আমাদের টিচার খুব কড়া ছিলেন, ভিতরে ঢুকতে দিতেন না। এখানেও অনেকেই আছে যারা লেট করে আসে। সার্ভিস প্রদানকারী সুপুত্ররা বাবার অতি প্রিয় হয়ে ওঠে, তাইনা। এখন তোমরা বুঝেছো - আদি সনাতন দেবী-দেবতা ধর্ম এখানেই ছিল। এই ধর্ম কবে স্থাপন হয়েছে, কারো বুদ্ধিতেই নেই। তোমাদের বুদ্ধি থেকেও বারবার সরে যায়। তোমরা এখন দেবী-দেবতা হওয়ার জন্য পুরুষার্থ করছ। কে পড়াচ্ছেন? স্বয়ং পরমপিতা পরমাত্মা। তোমরা জান আমাদের ব্রাহ্মণ বংশ । এই বংশের রাজধানী হয়না। এ হলো সর্বোত্তম ব্রাহ্মণ কুল। বাবাও হলেন সর্বোত্তম, তাইনা। উচ্চ থেকেও উচ্চতম তিনি, অবশ্যই তাঁর থেকে আমদানিও উচ্চই হবে । তাঁকেই শ্রী শ্রী বলা হয়। তোমাদেরও তিনি শ্রেষ্ঠ করে তোলেন। তোমরা বাচ্চারাও জানো আমাদের কে শ্রেষ্ঠ করে তোলেন? তোমরা বলে থাকো - আমাদের বাবা তিনি, টিচার এবং সদ্গুরুও তিনি। তিনিই আমাদের শিক্ষা প্রদান করেন। আমরা আত্মা। আমরা আত্মাদের পিতা স্মৃতি জাগ্রত করিয়ে দিয়েছেন। তোমরা আমার সন্তান, সবাই ভাই-ভাই না ! ওরাও বাবাকে স্মরণ করে, মনে করে তিনি নিরাকার যখন তবে নিশ্চয়ই আত্মাকেও নিরাকার বলা হয়। আত্মাই এক শরীর ত্যাগ করে অন্য শরীর ধারণ করে তার ভূমিকা পালন করে। মানুষ আত্মার বদলে নিজেকে শরীর ভাবতে শুরু করে। আমি আত্মা, এটাই ভুলে যায়। আমি কখনও ভুলি না। তোমরা আত্মারা হলে শালগ্রাম । আমি হলাম পরমপিতা অর্থাৎ পরম আত্মা। পরম আত্মার নাম হল শিব । তোমরাও আত্মা কিন্তু তোমরা সবাই শালগ্রাম। শিবের মন্দিরে যাও সেখানেও অনেক শালগ্রাম রাখা থাকে । শিবের পূজার সাথে-সাথে শালগ্রামেরও পূজা করে থাকে, তাইনা। তবেই তো বাবা বুঝিয়েছেন তোমাদের আত্মা আর শরীর দুইয়েরই পূজা হয়। আমার তো শুধু আত্মাই পূজিত হয়ে থাকে। আমার তো শরীর নেই। তোমরা কত উচ্চ হয়ে ওঠো। বাবারও কত খুশি হয়, তাই না! লৌকিকেও বাবা গরিব, কিন্তু তার বাচ্চারা পড়াশোনা করে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়। কি থেকে কি তৈরি হয়ে যায়। বাবাও জানেন তোমরা কত উচ্চ ছিলে । এখন অনাথ হয়ে গেছো, বাবাকে জানতে না। এখন তোমরা বাবার হয়ে বিশ্বের মালিক হয়ে ওঠো।

বাবা বলেন - আমাকে তোমরা হেভেনলি গড ফাদার বলে থাকো। তোমরা জানো এখন স্বর্গের স্থাপনা হচ্ছে। ওখানে (সত্য যুগে) কি কি হবে - তোমরা ছাড়া আর কারও বুদ্ধিতেই নেই। তোমাদের বুদ্ধিতে আছে আমরাই বিশ্বের মালিক ছিলাম, আবারও হতে চলেছি। প্রজাও এমন বলবে আমরা বিশ্বের মালিক। তোমাদের বুদ্ধিতে সব আছে, সুতরাং কতখানি খুশি হওয়া উচিত। এইসব বিষয় অন্যদেরও শোনাতে হবে, সেইজন্যই সেন্টার বা মিউজিয়াম খুলে থাকে। যা কল্প পূর্বে হয়েছিল সেটাই আবার হবে। অনেকেই মিউজিয়াম, সেন্টার খোলার প্রস্তাব দেবে। অনেকেই বেরিয়ে আসবে । সবার হাড় নরম হতে থাকবে (মন গলতে থাকবে) । তোমরা অবিরত বিশ্বের হাড় নরম করার কাজ করে চলেছ । তোমাদের যোগে এমনই শক্তি। বাবা বলেন তোমাদের মধ্যে শক্তি আছে । ভোজনও তোমরা যোগযুক্ত হয়ে বানিয়ে খাওয়ালে বুদ্ধি ওই দিকেই টানবে। ভক্তি মার্গে তো গুরুর এঁটোও খেয়ে থাকে। বাচ্চারা তোমরা জানো ভক্তি মার্গের বিস্তার এতো বিশাল যে বর্ণনা করা যায় না। এ হলো (জ্ঞান) বীজ আর ওটা হলো কল্পবৃক্ষের ঝাড়। বীজের বর্ণনা করতে পারবে কিন্তু বৃক্ষের পাতা গুনতে বল কেউ পারবে না। অগুনতি পাতা হয়, বীজের মধ্যে পাতার চিহ্ন দেখা যায় না। কি চমৎকার তাইনা ! একেই বলে নেচার । জীবজন্তু কত ওয়ান্ডারফুল, অনেক রকমের কীট, কিভাবে জন্মায়, এ অতি চমকপ্রদ ড্রামা। একেই বলে নেচার, যা পূর্ব নির্ধারিত। সত্য যুগে কত কি দেখবে । অনেক নতুন-নতুন জিনিস হবে। সবকিছুই নতুন। ময়ূরের জন্য তো বাবা বুঝিয়েছেন একে ভারতের জাতীয় পাখি বলে অভিহিত করা হয়েছে। কেননা শ্রী কৃষ্ণের মুকুটে ময়ূরের পালক দেখানো হয়েছে। ময়ূর-ময়ূরী দেখতে খুব সুন্দর হয়। এদের জন্মও অশ্রু থেকে হয় এবং এই কারণেই একে জাতীয় পাখি বলা হয়েছে। এমন সুন্দর পাখি বিলেতেও দেখা যায়। এখন তোমরা বাচ্চারা সম্পূর্ণ সৃষ্টির আদি-মধ্য-অন্তের রহস্য বুঝেছ যা আর কেউ-ই জানে না। ওদের বলো, আমরা তোমাদের পরমপিতা পরমাত্মার পরিচয় সম্পর্কে বলছি। রচয়িতা আছেন যখন অবশ্যই তাঁর রচনাও থাকবে। ওনার হিস্ট্রি-জিওগ্রাফী আমরা জানি। উচ্চও থেকে উচ্চতম অসীম জগতের পিতার কি পার্ট সেটাও আমরা জানি, এই দুনিয়া কিছুই জানেনা। এটা হলো ছিঃ ছিঃ দুনিয়া। আজকাল সুন্দর হওয়াও একটা সমস্যা, বাচ্চাদের দেখ কিভাবে অপহরণ করে নিয়ে যায়। বাচ্চারা, তোমাদের এই বিকারগ্রস্ত দুনিয়ার প্রতি ঘৃণা আসা উচিত। এটা হলো ছিঃ ছিঃ দুনিয়া, ছিঃছিঃ শরীর। আমাদের এখন বাবাকে স্মরণ করে আত্মাকে পবিত্র করতে হবে। আমরা যখন সতোপ্রধান ছিলাম, সুখী ছিলাম। এখন তমোপ্রধান হয়ে দুঃখী হয়েছি আবারও সতোপ্রধান হতে হবে। তোমরা চাও যে আমরা পতিত থেকে পাবন হই। ওরা যদিও বলে হে পতিত-পাবন কিন্তু এই দুনিয়ার প্রতি ঘৃণা আসেনা। তোমরা বাচ্চারা বুঝেছো এটা হলো ছিঃ ছিঃ দুনিয়া। নতুন দুনিয়াতে আমাদের শরীরও ফুলের মতো হবে। আমরা এখন অমরপুরীর মালিক হতে যাচ্ছি। বাচ্চারা, তোমাদের সবসময় খুশি আর উৎফুল্ল থাকা উচিত। তোমরা আমার মিষ্টি বাচ্চারা। বাবা ৫ হাজার বছর পর তাঁর বাচ্চাদের সাথে মিলিত হন। খুশি তো অবশ্যই হতে হবে, তাইনা। আমি আবার এসেছি বাচ্চাদের সাথে মিলিত হতে । আচ্ছা !

মিষ্টি মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা, বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত। আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মা-রূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-১ ) আমরা ঈশ্বরীয় সন্তান, সেইজন্য পড়াশোনার নেশার সাথে-সাথে চরিত্রের প্রতিও যেন ধ্যান থাকে । একদিনও পড়াশোনা মিস্ করা উচিত নয়। দেরি করে ক্লাসে এসে টিচারকে ইনসাল্ট করা উচিত নয়।

২ ) এই বিকারগ্রস্ত ছিঃ ছিঃ দুনিয়ার প্রতি ঘৃণা আসা উচিত, বাবার স্মরণে থেকে নিজের আত্মাকে পবিত্র সতোপ্রধান করার পুরুষার্থ করতে হবে। সবসময় খুশি আর উৎফুল্ল থাকতে হবে।

বরদান:-হোপলেস (নিরাশাজনক) পরিস্থিতিতেও হোপের (আশার) জন্ম দেওয়া সত্যিকারের পরোপকারী, সন্তুষ্টমণী ভব

ত্রিকালদর্শী হয়ে প্রত্যেক আত্মার দুর্বলতাগুলিকে যাচাই করে, তার দুর্বলতাগুলিকে নিজের মধ্যে ধারণ করা বা বর্ণনা করার পরিবর্তে দুর্বলতারূপী কাঁটাগুলিকে কল্যাণকারী স্বরূপের দ্বারা সমাপ্ত করে দেওয়া, কাঁটাগুলিকে ফুল বানিয়ে দেওয়া, নিজেও সন্তুষ্টমণির সমান সন্তুষ্ট থাকা আর সকলকে সন্তুষ্ট করা, যার মধ্যে সব নিরাশা দেখা যাবে সেইরকম ব্যক্তি বা এমন স্থিতিতে চিরকালের জন্য আশার দীপক জাগানো অর্থাৎ হৃদয় বিদীর্ণকে শক্তিবান বানিয়ে দেওয়া - এইরকম শ্রেষ্ঠ কর্তব্য চলতে থাকলে তো পরোপকারী, সন্তুষ্টমণীর বরদান প্রাপ্ত হয়ে যাবে।

স্লোগান:-পরীক্ষার সময় প্রতিজ্ঞা স্মরণে এলে তখন প্রত্যক্ষতা হবে।

অব্যক্ত ঈশারা :- অশরীরী বা বিদেহী স্থিতির অভ্যাস বাড়াও

সারাদিনের মধ্যে এক সেকেন্ডও যদি পাও, তো বারংবার এই বিদেহী হওয়ার অভ্যাস করতে থাকো। দুই চার সেকেন্ডও বের করো, এর দ্বারা তোমরা অনেক সহায়তা পাবে। নাহলে তো সারাদিন বুদ্ধি চলতে থাকে, তখন বিদেহী হতে সময় লেগে যাবে। আর অভ্যাস থাকলে তো যখন চাইবে বিদেহী হয়ে যেতে পারবে কেননা অন্তিম সময়ে সবকিছু হঠাৎ করেই হবে। তো হঠাৎ-এর পরীক্ষায় এই বিদেহীভাবের অভ্যাস খুবই আবশ্যক।

Tuesday, November 25, 2025

26.11.2025 BENGALI MURLI

"মিষ্টি বাচ্চারা - তোমরা এখন হলে ওয়ার্ল্ড সার্ভেন্ট, কোনো ব্যাপারেই তোমাদের দেহ-অভিমান আসা উচিত নয়"
প্রশ্নঃ -কোন্ অভ্যাসটি একেবারেই ঈশ্বরীয় নিয়ম বিরুদ্ধ, যার দ্বারা তোমাদের অনেক ক্ষতি হয়ে যায়?
উত্তরঃ  কোনো প্রকারের সিনেমার গল্প শোনা বা পড়া, নভেল পড়া... এই ধরনের অভ্যাস একেবারেই নিয়ম বিরুদ্ধ, এতে অনেক ক্ষতি হয়ে যায়। বাবার নিষেধাজ্ঞা - বাচ্চারা, তোমরা এমন কোনো বইপত্র পড়বে না। কোনো বি. কে. যদি এই ধরনের বইপত্র পড়ে, তবে তোমরা একে অপরকে সাবধান করো।
গীতঃ-নিজের (মনের) চেহারা দেখ্ রে মানব তোর মন রূপী দর্পণে…
ওম্ শান্তি ।মিষ্টি মিষ্টি আত্মিক বাচ্চাদের প্রতি আত্মিক পিতা বলেন - নিজেকে চেক করো যে, স্মরণের যাত্রায় আমরা তমোপ্রধান থেকে সতোপ্রধানের দিকে কতটা অগ্রসর হয়েছি। কেননা যত যত স্মরণ করবে ততই পাপ কাটতে থাকবে। এখন এইসব কথা কোথায় কোন্ শাস্ত্রে লেখা আছে ? কেননা যারাই ধর্ম স্থাপন করেছে, যা তারা মানুষকে বুঝিয়েছে তার শাস্ত্র রচিত হয়েছে, তারপর মানুষ বসে সে'সব পাঠ করে, ধর্ম পুস্তকের পূজা করে। এখন এও বোঝার বিষয় যখন এটা লেখা আছে, দেহ সহ দেহের সর্ব সম্বন্ধকে ছেড়ে নিজেকে আত্মা মনে করো। বাবা স্মরণ করিয়ে দেন - বাচ্চারা, তোমরা সবার প্রথমে অশরীরী এসেছিলে, সেখানে তো পবিত্রই থাকতে। মুক্তি - জীবনমুক্তিতে কোনো পতিত আত্মা যেতে পারে না। সেটা হল নিরাকারী, নির্বিকারী দুনিয়া। এটাকে বলা হয় সাকারী বিকারী দুনিয়া, এরপর সত্যযুগে এটাই নির্বিকারী দুনিয়া হয়ে যায়। সত্যযুগে থাকা দেবতাদের তো অনেক মহিমা। বাচ্চাদেরকে এখন বোঝানো হয় - নিজে ভালো করে ধারণ করে অন্যকেও বোঝানো। তোমরা আত্মারা যেখান থেকে এসেছিলে, পবিত্রই এসেছিলো। তারপর এখানে এসে অপবিত্রও অবশ্যই হতে হয়। সত্যযুগকে ভাইসলেস ওয়ার্ল্ড, কলিযুগকে ভিসজ (পাপ পূর্ণ) ওয়ার্ল্ড বলা হয়। এখন তোমরা পতিত - পাবন বাবাকে স্মরণ করো যে, আমাদেরকে ভাইসলেস বানানোর জন্য ভিসজ দুনিয়া, ভিসজ শরীরে এসো। বাবা নিজে বসে বোঝান - ব্রহ্মার চিত্রর বিষয়েই মানুষ প্রশ্ন তোলে যে, দাদাকে কেন বসানো হয়েছে এই স্থানে? তাদেরকে বোঝাতে হবে - ইনি তো হলেন ভাগীরথ। শিব ভগবানুবাচ হল - এই রথ আমি এইজন্যই নিয়েছি, কারণ আমাকে প্রকৃতির আধার অবশ্যই নিতে হয়। নাহলে আমি তোমাদেরকে পতিত থেকে পবিত্র কীভাবে বানাবো? প্রতিদিন তো পড়াতেও অবশ্যই হবে । এখন বাচ্চারা, বাবা তোমাদেরকে বলেন, নিজেকে আত্মা মনে করো আর মামেকম্ স্মরণ করো। সকল আত্মাদের এখন বাবাকে স্মরণ করতে হবে। কৃষ্ণকে সকল আত্মাদের বাবা বলা যাবে না। তার তো নিজের শরীর রয়েছে। তাই এই বাবা সহজ ভাবে বোঝান যে - যখনই কাউকে বোঝাবে, বলবে - বাবা বলেন, তুমি অশরীরী এসেছিলে, আবার এখন অশরীরী হয়ে যেতে হবে । ওখান থেকে (পরমধাম থেকে) পবিত্র আত্মাই আসে। সে যদি কালকে কোনো আত্মা আসে, পবিত্রই আসবে, তার মহিমা অবশ্যই হবে। সাধু সন্ন্যাসী কিম্বা গৃহী কোনো মানুষ যারা কোনো পুণ্য কর্ম করে গেছে অবশ্যই তাদের এটা হল প্রথম জন্ম। ধর্ম স্থাপন করবার জন্যই তারা আসে। যেমন বাবা গুরু নানকের বিষয়ে বোঝান। 'গুরু' শব্দটা অবশ্যই লিখবে, কারণ নানক নাম তো অনেকেরই আছে। যখন কারো প্রশংসা করা হয় নিশ্চয়ই তার কোনো অর্থ আছে। তোমরা যদি ঠিক মতা প্রশংসা না করো তবে সেটা ঠিক নয়। বাস্তবে বাচ্চাদেরকে বোঝানো হয়েছে - গুরু কেউই নয়, এক পরমাত্মা বাবা ছাড়া। যার নাম নিয়েই গাওয়া হয় সদ্গুরু অকাল..... তিনি হলেন অকালমূর্ত, অর্থাৎ যাকে কাল খেতে পারে না, তিনি হলেন আত্মা। তখন বসে সেই বিষয়ে কাহিনী রচনা করে বসে। অনেকেই সিনেমার গল্পের বই, নভেল ইত্যাদি অনেক পড়তে থাকে। বাবা বাচ্চাদেরকে সতর্ক করে দেন, কখনোই কোনো নভেল ইত্যাদি পড়বেই না। কারো কারো এই অভ্যাস রয়েছে। এখানে তো তোমরা সৌভাগ্যশালী হয়ে ওঠো। কোনো কোনো বি. কে.ও নভেল পড়ে। সেইজন্য বাবা সব বাচ্চাদেরকে বলেন - কখনো কাউকে যদি নভেল পড়তে দেখো, তাহলে সাথে সাথে নিয়েই ছিঁড়ে ফেলবে, ভয় পাবে না যে আমাকে সে অভিশম্পাত করবে কি রেগে যাবে, সে সব ভাববে না। তোমাদের কাজ হলো পরস্পরকে সাবধান করে দেওয়া। ফিল্মের গল্প শোনা কিম্বা পভ়া হলো ঈশ্বরীয় নিয়ম বিরুদ্ধ। নিয়ম বিরুদ্ধ কোনো আচরণ দেখলে সাথে সাথে রিপোর্ট করে দেওয়া উচিত। নাহলে পরিবর্তন হবে কী করে? নিজের ক্ষতিই করতে থাকবে। নিজের মধ্যেই যদি যোগবল না থাকে তবে এখানে বসে কী শেখাবে ? বাবার নিষেধ আছে। এইরকম কাজ যদি করে তবে মনের ভিতরে দংশন অবশ্যই হবে। নিজেরই ক্ষতি হবে। সেইজন্য কারো মধ্যে যদি কোনো অবগুণ দেখো তবে বাবাকে লেখা উচিত। কোনো বেকায়দা আচরণ করছে না তো? কেননা ব্রাহ্মণ এই সময় তো সার্ভেন্ট, তাই না ! বাবাও বলেন, বাচ্চারা, নমস্কার। এর অর্থ সহ বাবা বোঝান। কন্যারা যারা পড়ায় তাদের মধ্যে যেন দেহ-অভিমান না থাকে। টিচারও তো স্টুডেন্টদের সার্ভেন্ট হয়ে থাকে, তাই না ! গভর্নর প্রমুখরা চিঠিতে একেবারে নীচে লেখে "আই অ্যাম্ ইয়োর ওবিডিয়েন্ট সার্ভেন্ট", ঠিক তার নীচে সই করবে। বাকিটা ক্লার্ক নিজের হাতে লিখবে। তাতে তিনি নিজের প্রশস্তি লিখবেন না। আজকাল তো গুরুরাও নিজেকেই শ্রী শ্রী আখ্যা দিয়ে দেয়। এখানেও কেউ কেউ আছে নিজের নামের আগে শ্রী লেখে। বাস্তবে এটাও লেখা উচিত নয়। ফিমেলরাও শ্রীমতী লিখতে পারে না। শ্রীমৎ তখনই প্রাপ্ত হয়, যখন শ্রী শ্রী নিজে এসে মত প্রদান করেন। তোমরা সবাইকে বোঝাতে পারো যে, নিশ্চয়ই কারো মতে চলে তারা দেবতা হয়েছিলেন ! ভারতবর্ষে কারোরই জানা নেই এনারা এত উচ্চ, বিশ্বের মালিক কী করে হয়েছিলেন? তোমাদের তো এই নেশা চড়ে যাওয়া উচিত। এই এইম অবজেক্টের চিত্র সর্বদা বুকে লাগিয়ে রাখা উচিত। মানুষকে বলো - আমাদেরকে ভগবান পড়ান, যার দ্বারা আমরা বিশ্বের মহারাজা হই। বাবা এসেছেন এই রাজ্যের স্থাপনা করতে। এই পুরানো দুনিয়ার বিনাশ সামনে উপস্থিত। তোমরা ছোট্ট ছোট্ট শিশু কন্যারা তোমাদের আদো আদো ভাষায়ও সবাইকে বোঝাতে পারো। বড় বড় যে সব সম্মেলন হয় যেখানে তোমাদের তারা আমন্ত্রণ জানায়, এই চিত্র সেখানে নিয়ে গিয়ে বসে তাদেরকে বোঝানো - ভারতে এনাদের রাজত্ব স্থাপন হচ্ছে । যে কোনো ভরা সভাতে তোমরা এ'কথা বোঝাতে পারো। সারাদিন সার্ভিসেরই নেশা থাকা দরকার। ভারতে এদের রাজ্য স্থাপন হচ্ছে। বাবা আমাদেরকে রাজযোগ শেখাচ্ছেন । শিব ভগবানানুবাচ - হে বাচ্চারা, তোমরা নিজেকে আত্মা মনে করে আমাকে স্মরণ করো, তাহলে তোমরা এই রকম হয়ে যাবে ২১ জন্মের জন্য । দৈবী গুণও ধারণ করতে হবে। এখন তো হল সকলের আসুরিক গুণ। শ্রেষ্ঠ বানাতে পারেন তো একমাত্র শিববাবাই। সেই উচ্চ থেকে উচ্চ পিতা আমাদেরকে পড়ান। শিব ভগবানানুবাচ - "মন্মনাভব" । ভাগীরথ তো প্রসিদ্ধ। ভাগীরথকেই ব্রহ্মা বলা হয়। যাকে মহাবীরও বলা হয়। এখানে দিলওয়ারা মন্দিরে বসে আছে না ! জৈনরা যে এই মন্দির গুলোকে বানিয়েছে তারা এর অর্থ তো জানেই না। তোমরা ছোট ছোট কন্যারা সেখানে যেতে পারো এবং ভিজিট করতে পারো। এখন তোমরা অনেক শ্রেষ্ঠ হচ্ছো। এটা হল ভারতের এইম অবজেক্ট। তাহলে কতখানি নেশা চড়ে যাওয়া উচিত ! এখানে বাবা খুব ভালো ভাবে নেশা চড়ান। সবাই বলে আমি লক্ষ্মী নারায়ণ হবো। রাম সীতা হওয়ার জন্য কেউই হাত তোলে না। এখন তো তোমরা হলে অহিংসক, ক্ষত্রীয়। তোমাদের অর্থাৎ ক্ষত্রীয়দেরকে কেউই জানে না। এটা তোমরা বাচ্চারা এখন বুঝতে পারছো। গীতাতেও বলা হয়েছে - "মন্মনাভব" । নিজেকে আত্মা মনে করো। এটা তো বোঝার মতো বিষয়, তোমরা ছাড়া আর কেউই এটা বুঝতে পারবে না। বাবা বসে বাচ্চাদেরকে শিক্ষা প্রদান করেন - বাচ্চারা, আত্ম-অভিমানী হও । এই অভ্যাস তারপর তোমাদের ২১ জন্ম ধরে চলে। তোমাদেরকে শিক্ষা প্রদান করাই হয় ২১ জন্মের জন্য। বাবা বারে বারে মূল বিষয়টিকেই বোঝাতে থাকেন - নিজেকে আত্মা মনে করে বসো। পরমাত্মা বাবা আমাদেরকে অর্থাৎ আত্মাদেরকে বসে বোঝাচ্ছেন। তোমরা বারে বারেই দেহ-অভিমানে এসে যাও, তখন ঘর সংসারের কথা মনে এসে যায়। এটাই হয়। ভক্তি মার্গেও ভক্তি করতে করতে বুদ্ধি অন্য দিকে চলে যায়। সম্পূর্ণ একাগ্র হয়ে নবধা ভক্তি যারা করে (একনিষ্ঠ ভক্ত/ভক্তির পরাকাষ্ঠা যারা) তারাই কেবল বসতে পারে, যাকে তীব্র ভক্তি বলা হয়ে থাকে। একদম লভলীন হয়ে যায়। তোমরা যেমন স্মরণে থাকো, এক এক সময় একেবারে অশরীরী হয়ে যাও, ভালো ভালো বাচ্চা যারা তারা এইরকম অবস্থায় বসবে। দেহের ভাব চলে যাবে। অশরীরী হয়ে সেই আনন্দে মজে থাকবে। এটাই অভ্যাস হয়ে যাবে। সন্ন্যাসীরা হল তত্ত্ব জ্ঞানী বা ব্রহ্ম জ্ঞানী। তারা বলবে আমরা লীন হয়ে যাবো। এই পুরানো শরীর ছেড়ে ব্রহ্ম তত্ত্বে লীন হয়ে যাবো। সকলের আলাদা আলাদা ধর্ম, তাই না ! কেউই অন্য ধর্মকে মানতে চায় না। আদি সনাতন ধর্মও তমোপ্রধান হয়ে গেছে। গীতার ভগবান কবে এসেছিলেন? গীতার যুগ কবে ছিল? কেউই জানে না। তোমরা জানো যে, এই সঙ্গমযুগেই বাবা এসে রাজযোগ শেখান। তমোপ্রধান থেকে সতোপ্রধান বানান। এ হল ভারতেরই কথা। অনেক ধর্মও অবশ্যই ছিল। কথায়ও আছে এক ধর্মের স্থাপনা, অনেক ধর্মের বিনাশ। সত্যযুগে ছিল এক ধর্ম। এখন কলিযুগে হল অনেক ধর্ম। আবার এক ধর্মের স্থাপনা হয়। এক ধর্ম ছিল, এখন নেই। বাকি সব দাঁড়িয়ে রয়েছে। বট গাছের (হাওড়া শিবপুরের) দৃষ্টান্তও একেবারে সঠিক। ফাউন্ডেশনটাই নেই। বাকি পুরো গাছটিই বিদ্যমান। যদিও এতেও দেবী দেবতা ধর্ম নেই। আদি সনাতন দেবী দেবতা ধর্ম, যেটা হল কান্ড - সেটা এখন প্রায় লুপ্ত হয়ে গেছে। পুনরায় বাবা তা স্থাপন করেন। বাকি যে সব ধর্ম পরে এসেছে, পুনরায় চক্র রিপিট অবশ্যই হতে হয় অর্থাৎ পুরানো দুনিয়া থেকে আবার নতুন দুনিয়া হতে হবে। নতুন দুনিয়াতে এদের রাজত্ব ছিল। তোমাদের কাছে বড় বড় চিত্রও আছে, ছোটও। বড় জিনিস থাকলে মানুষ দেখে জিজ্ঞাসা করবে - এটাতে কী দেখানো হয়েছে? বলবে, আমরা এমন জিনিস এনেছি যার দ্বারা মানুষ বেগর টু প্রিন্স হয়ে যায়। অন্তরে অনেক উৎসাহ, অনেক খুশী থাকা চাই। আমরা আত্মারা হলাম ভগবানের সন্তান ।আত্মাদেরকে ভগবান পড়ান। বাবা আমাদেরকে নয়নের উপরে বসিয়ে নিয়ে যাবেন। এই ছিঃ ছিঃ দুনিয়াতে আমরা থাকবই না। একটা সময় আসতে চলেছে যখন মানুষ ত্রাহি ত্রাহি করবে, সে আর বলার নয়। কোটি কোটি মানুষ মারা যাবে। এ সব তো বাচ্চারা, তোমাদের বুদ্ধিতে রয়েছে। আমরা এই চোখ দিয়ে যা কিছু দেখছি, এর কোনো কিছুই থাকবে না। এখানে তো মানুষ হল কাঁটার মতো। সত্যযুগ হল ফুলের বাগিচা। তারপরে হল আমাদের মধুবন। দু'চোখ শীতল হয়ে যায়। বাগানে গেলেই তো চোখ শীতল হয়ে যায় । অতএব তোমরা এখন পদ্মাপদম ভাগ্যশালী হয়ে উঠছো। ব্রাহ্মণ যারা হয় (ব্রহ্মা বৎস), তাদের চরণেই রয়েছে পদ্ম। বাচ্চারা, তোমাদের বুঝতে হবে যে - আমরা এই রাজ্য স্থাপন করছি। সেইজন্য বাবা ব্যাজ তৈরী করিয়েছেন। শ্বেত বস্ত্র পরিধানে আর তাতে ব্যাজ লাগানো, এতে সহজেই সেবা হয়ে যায়। মানুষ কীর্তন করে - "আত্মা পরমাত্মা পৃথক রয়েছে বহুকাল....", কিন্তু বহুকালের অর্থ কী তা কেউই বোঝে না। বাবা তোমাদেরকে বুঝিয়েছেন বহুকাল অর্থাৎ ৫ হাজার বছর পরে তোমরা বাচ্চারা বাবার সাথে মিলিত হও। তোমরা এও জানো যে, এই সৃষ্টিতে সব চেয়ে বিখ্যাত হল এই রাধা কৃষ্ণ। এরাই হল সত্যযুগের ফার্স্ট প্রিন্স প্রিন্সেস। কারো মাথাতেও কখনো আসে না যে এরা কোথা থেকে এল ! সত্যযুগের আগে নিশ্চয়ই কলিযুগ ছিল। তারা এমন কী কর্ম করেছিল যে বিশ্বের মালিক হয়ে গেছিল ? ভারতবাসীরা কেউই এদেরকে বিশ্বের মালিক মনে করে না। এদের যখন রাজত্ব ছিল তখন ভারতবর্ষে আর কোনো ধর্ম ছিল না। এখন বাচ্চারা, তোমরা জানো যে - বাবা আমাদেরকে রাজযোগ শেখাচ্ছেন । আমাদের এইম অবজেক্ট হল এই। যদিও মন্দিরে তাদের (লক্ষ্মী - নারায়ণ) চিত্র ইত্যাদি রয়েছে, কিন্তু মানুষ কী বুঝতে পারে নাকি যে এই সময় এ'সব স্থাপিত হচ্ছে ! তোমাদের মধ্যেও নম্বর অনুসারেই বোঝে। কেউ কেউ তো একেবারেই ভুলে যায়। আচরণ এমন যেমন পূর্বে ছিল (সেই রকমই আছে)। এখানে বোঝার সময় খুব ভালো ভাবেই বোঝে, কিন্তু এখান থেকে বাইরে গেলেই সব উধাও। সার্ভিসের ইচ্ছা থাকা উচিত। সকলকে এই বার্তা (পয়গাম) দেওয়ার যুক্তিও খুঁজতে হবে। পরিশ্রম করতে হবে। আধ্যাত্মিক নেশার সাথে বলতে হবে - শিববাবা বলেন আমাকে স্মরণ করো তবে পাপ দূর হয়ে যাবে। আমরা একমাত্র শিববাবাকে ছাড়া আর কাউকেই স্মরণ করি না। আচ্ছা !

মিষ্টি - মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা - পিতা, বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত । আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মারূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার ।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ ) এইম অবজেক্টের চিত্র সর্বদা সাথে রাখতে হবে। নেশা যেন থাকে যে, এখন আমরা শ্রীমত অনুসারে চলে বিশ্বের মালিক হতে যাচ্ছি। আমরা এমন ফুলের বাগিচাতে যাচ্ছি - যেখানে আমাদের নয়ন শীতল হয়ে যাবে।

২ ) সার্ভিসে অনেক বেশী করে আগ্রহ রাখতে হবে। অনেক বড় মন নিয়ে বা উৎসাহের সাথে বড় বড় চিত্রের উপরে সার্ভিস করতে হবে। বেগার টু প্রিন্স বানাতে হবে।
বরদান:-কর্মের গতিকে জেনে গতি-সদ্গতির সিদ্ধান্তকারী মাস্টার দুঃখহরণকারী সুখ প্রদানকারী ভব
এখনই নিজের জীবনের কাহিনী দেখতে বা শোনাতে বিজি হয়ে যেও না। পরিবর্তে প্রত্যেকের কর্মের গতিকে জেনে গতি-সদ্গতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নাও। মাস্টার দুঃখহরণকারী, সুখ প্রদানকারীর পার্ট প্লে করো। নিজের রচনার দুঃখ, অশান্তির সমস্যাকে সমাপ্ত করো, তাদেরকে মহাদান আর বরদান দাও। নিজে কোনও সুবিধা নিও না, এখন দাতা হয়ে দাও। যদি স্যালবেশনের আধারে নিজের উন্নতি বা সেবাতে অল্পকালের জন্য সফলতা প্রাপ্ত হয়েও যায়, তথাপি আজ মহান হবে তো কাল মহানতার পিপাসু আত্মা হয়ে যাবে।
স্লোগান:-অনুভূতি না হওয়া হলো যুদ্ধের স্টেজ। যোগী হও, যোদ্ধা নয়।
অব্যক্ত ঈশারা :- অশরীরী বা বিদেহী স্থিতির অভ্যাস বাড়াও
যেরকম ব্রহ্মা বাবা অব্যক্ত হয়ে বিদেহী স্থিতির দ্বারা কর্মাতীত হয়েছেন, তো তোমরা হলে অব্যক্ত ব্রহ্মার বিশেষ পালনার পাত্র এইজন্য অব্যক্ত পালনার রেসপন্ড বিদেহী হয়ে দাও। সেবা আর স্থিতির ব্যালেন্স রাখো। বিদেহী মানে দেহ থেকে পৃথক। স্বভাব, সংস্কার, দুর্বলতা সবই দেহের সাথে আছে আর দেহ থেকে পৃথক হয়ে গেলে সবকিছুর থেকেই পৃথক হয়ে যাবে, এইজন্য এই ড্রিল খুব সহযোগ দেবে, এতে কন্ট্রোলিং পাওয়ার চাই।

25.11.2025 BENGALI MURLI

 "মিষ্টি বাচ্চারা - আত্মাকে সতোপ্রধান করার নেশা রাখো, কোনো কমতি না থেকে যায়, মায়া কোনো গাফিলতি না করিয়ে দেয়"

প্রশ্নঃ -বাচ্চারা, তোমাদের মুখ থেকে কোন্ শুভ বাণী সদা নির্গত হওয়ার চাই?\

উত্তরঃ  মুখ থেকে সদা এই শুভ বাণী বলো যে, আমরা নর থেকে নারায়ণ হবো, কম নয় । আমরাই এই বিশ্বের মালিক ছিলাম, আবার আমরাই তা হবো, কিন্তু এই লক্ষ্য উচ্চ, তাই খুবই সাবধান থাকতে হবে । নিজের পোতামেল দেখতে হবে । এইম অবজেক্টকে সামনে রেখে পুরুষার্থ করতে হবে, হার্টফেল হওয়া চলবে না ।

ওম্ শান্তি ।আত্মারূপী বাচ্চাদের বাবা বসে বোঝান - তোমরা যখন এখানে স্মরণের যাত্রায় বসো, তখন ভাই - বোনেদের বলো যে, তোমরা আত্ম - অভিমানী হয়ে বসো আর বাবাকে স্মরণ করো । এই স্মৃতি মনে করিয়ে দেওয়া উচিত । তোমরা এখন এই স্মৃতি ফিরে পাচ্ছো । আমরা হলাম আত্মা, আমাদের বাবা আমাদের পড়াতে আসেন । আমরাও কর্মেন্দ্রিয়ের দ্বারাই পড়ি । বাবাও কর্মেন্দ্রিয়ের আধার নিয়ে সর্ব প্রথম এনার দ্বারা বলেন - বাবাকে স্মরণ করো । বাচ্চাদের বোঝানো হয়েছে যে - এ হলো জ্ঞান মার্গ । একে ভক্তি মার্গ বলা হবে না । জ্ঞান একমাত্র জ্ঞানের সাগর, পতিত - পাবনই দেন । তোমরা প্রথম পাঠ এই শেখো যে - নিজেকে আত্মা মনে করে বাবাকে স্মরণ করো । এ অত্যন্ত জরুরী । অন্য কোনো সৎসঙ্গে আর কাউকে তিনি বলতে আসবেন না । যদিও আজকাল নকল সংস্থা অনেক বেরিয়েছে । তোমাদের থেকে শুনে কেউ যদি বলেও, কিন্তু অর্থ বুঝতে পারবে না । বোঝানোর মতো বুদ্ধি হবে না । একথা তোমাদের বাবা'ই বলেন যে, অসীম জগতের পিতাকে স্মরণ করো, তাহলে তোমাদের বিকর্ম বিনাশ হয়ে যাবে । বিবেকও বলে যে, এ হলো পুরানো দুনিয়া । নতুন দুনিয়া আর পুরানো দুনিয়ার মধ্যে অনেক তফাৎ । ও হলো পবিত্র দুনিয়া আর এ হলো পতিত দুনিয়া । মানুষ ডাকতেও থাকে যে, হে পতিত পাবন, এসো, তুমি এসে আমাদের পবিত্র বানাও । গীতাতেও এই অক্ষর আছে যে - মামেকম্ স্মরণ করো । দেহের সর্ব সম্বন্ধ পরিত্যাগ করে নিজেকে আত্মা মনে করো । এই দেহের সম্বন্ধ প্রথমে ছিলো না । তোমরা আত্মারা এখানে অভিনয় করতে আসো । এমন মহিমাও আছে যে - একা এসেছি, একাই চলে যেতে হবে । মানুষ এর অর্থ বোঝে না । এখন তোমরা প্রত্যক্ষভাবে এইকথা জানতে পারো । আমরা এখন স্মরণের যাত্রা বা স্মরণের শক্তিতে পবিত্র হচ্ছি । এ হলো রাজযোগের শক্তি । ও হলো হঠযোগ, যাতে মানুষ অল্প সময়ের জন্য সুস্থ থাকে । সত্যযুগে তোমরা কতো সুস্থ থাকো । সেখানে হঠযোগের প্রয়োজন থাকে না । এ সব এখানে, এই ছিঃ - ছিঃ দুনিয়াতে করতে থাকে । এ হলো পুরানো দুনিয়া । সত্যযুগ, নতুন দুনিয়া, যা অতীত হয়ে গেছে, সেখানে এই লক্ষ্মী - নারায়ণের রাজত্ব ছিলো । একথা কেউই জানে না । ওখানে প্রতিটি জিনিসই নতুন । গানও আছে না - জাগো সজনীরা জাগো... নবযুগ হলো সত্যযুগ । পুরানো হলো কলিযুগ । এখন এই যুগকে কেউ তো আর সত্যযুগ বলবে না । এখন হলো কলিযুগ, তোমরা সত্যযুগের জন্য পড়ছো । এমন শিক্ষক তো কোথাও হবে না, যে বলবে এই পড়াতে তোমরা নতুন দুনিয়াতে রাজ্য পদ পাবে বাবা ছাড়া আর কেউই একথা বলতে পারে না । বাচ্চারা, তোমাদের সব কথাই মনে করিয়ে দেওয়া হয় । কোনো গাফিলতি করবে না । বাবা সবাইকে বোঝাতে থাকেন । যেখানেই বসো না কেন, বা কাজ - কারবারই করো না কেন, নিজেকে আত্মা মনে করে করো । কাজ - কারবার করাকালীন সামান্য সমস্যা হলে, যতটা সম্ভব সময় বের করে স্মরণে বসো, তাহলেই আত্মা পবিত্র হবে । আর অন্য কোনো উপায় নেই । তোমরা নতুন দুনিয়ার জন্য এখন রাজযোগ শিখছো । ওখানে লৌহ যুগের আত্মারা যেতে পারবে না । মায়া আত্মার ডানা ভেঙ্গে দিয়েছে । আত্মা তো ওড়ে, তাই না । আত্মা এক শরীর ত্যাগ করে অন্য শরীর ধারণ করে । আত্মা হলো সবথেকে তীক্ষ্ণ রকেট । বাচ্চারা, তোমাদের এই নতুন নতুন কথা শুনে আশ্চর্য লাগে । আত্মা কতো ছোটো রকেট । তারমধ্যে ৮৪ জন্মের পার্ট ভরা আছে । এমন কথা মনে রাখলে উৎসাহ আসবে । স্কুলে বিদ্যার্থীদের বুদ্ধিতে বিদ্যা স্মরণে থাকে, তাই না । তোমাদের বুদ্ধিতে এখন কি আছে? বুদ্ধি কোনো শরীরের মধ্যে নেই । আত্মার মধ্যেই মন - বুদ্ধি থাকে । আত্মাই পাঠ গ্রহণ করে । চাকরী ইত্যাদি আত্মাই করে শিববাবাও আত্মা, কিন্তু তাঁকে পরম বলা হয় । তিনি হলেন জ্ঞানের সাগর । তিনি খুব ছোটো বিন্দু । এও কেউ জানে না যে, ওই বাবার মধ্যে যে সংস্কার আছে, বাচ্চারা, তা তোমাদের মধ্যে ভরে যায় । তোমরা এখন যোগবলের দ্বারা পবিত্র হচ্ছো । এরজন্য তোমাদের পুরুষার্থ করতে হবে। পড়াতে এই প্রচেষ্টা তো থাকা উচিত যে, আমরা যেন ফেল করে না যাই । এতে প্রথম নম্বরের সাবজেক্টই হলো যে, আমরা আত্মারা সতোপ্রধান হবো । কিছু কমতি না থেকে যায় । তা নাহলে ফেল করে যাবে । মায়া তোমাদের সব বিষয় ভুলিয়ে দেয় । আত্মা চায় যে, চার্ট রাখি, সারাদিনে কোনো আসুরী কাজ না করি কিন্তু মায়া চার্ট রাখতে দেয় না । তোমরা মায়ার দখলে এসে যাও । মন একথাও বলে যে - পোতামেল রাখি । ব্যবসায়ী মানুষ সবসময় তাদের লাভ - লোকসানের হিসেব রাখে । তোমাদের এ হলো অনেক বড় পোতামেল । ২১ জন্মের কমাই, এতে কোনো গাফিলতি করা উচিত নয় । বাচ্চারা অনেক গাফিলতি করে । এই বাবাকে তো তোমরা সূক্ষ্মবতনে আর স্বর্গেও দেখো । বাবাও অনেক পুরুষার্থ করেন । উনি আশ্চর্যও হতে থকেন । বাবার স্মরণে স্নান করি, ভোজন গ্রহণ করি, তবুও ভুলে যাই, আবার স্মরণ করতে থাকি । এ হলো অনেক বড় সাবজেক্ট । এই বিষয়ে কোনো মতভেদ আসতে পারে না । গীতাতেও লেখা আছে যে - দেহ সহ দেহের সব ধর্ম ত্যাগ করো । বাকি রইলো আত্মা । দেহকে ভুলে নিজেকে আত্মা মনে করো । আত্মাই পতিত - তমোপ্রধান হয়ে গেছে । মানুষ তবুও বলে দেয় যে - আত্মা নির্লিপ্ত । মনে করে আত্মাই পরমাত্মা - পরমাত্মাই আত্মা, তাই মনে করে আত্মাতে কোনো দাগ লাগতে পারে না । তমোগুণী আত্মা শিক্ষাও তমোগুণী দেয় । তারা সতোগুণী তৈরী করতে পারে না । ভক্তিমার্গে তমোপ্রধান হাতেই হবে । প্রতিটি জিনিস প্রথমে সতোপ্রধান তারপর রজো, তমোতে আসে । প্রথমে কনস্ট্রাকশন তারপর ডিসট্রাক্শন । বাবা নতুন দুনিয়া কনস্ট্রাক্ট করেন তারপর এই পুরানো দুনিয়ার ডি ট্রাককশন হয়ে যায় । ভগবান তো নতুন দুনিয়ার রচনা করেন । এই পুরানো দুনিয়া পরিবর্তন হয়ে নতুন হবে । নতুন দুনিয়ার চিহ্ন তো এই লক্ষ্মী - নারায়ণ, তাই না । এনারা হলেন নতুন দুনিয়ার মালিক । ত্রেতাকেও নতুন দুনিয়া বলা হবে না । কলিযুগকে পুরানো আর সত্যযুগকে নতুন বলা হয় । কলিযুগের অন্ত আর সত্যযুগের আদির এই সময় হলো সঙ্গমযুগ । কেউ যদি এম.এ বা বি.এ পড়ে, তাহলে তো বড় হয়ে যায়, তাই না । তোমরা এই পড়ার দ্বারা কতো উঁচু হও । দুনিয়া এই কথা জানে না যে, একে এতো উঁচু কে তৈরী করেছে । তোমরা এখন এই সৃষ্টির আদি - মধ্য এবং অন্তকে জেনে গেছো । সকলের জীবন কাহিনীকে তোমরাই জানো । এ হলো জ্ঞান । ভক্তিতে কোনো জ্ঞান নেই, ওখানে কর্মকাণ্ড শেখানো হয় । ভক্তি তো হলো অগাধ । সেখানে কতো বর্ণনা করা হয় । দেখতে খুব সুন্দর লাগে । বীজে কি সৌন্দর্য আছে, এতো ছোটো বীজ, কতো বড় হয়ে যায় । ভক্তির ঝাড়ে অনেক কর্মকাণ্ড । জ্ঞানের একটাই মন্ত্র হলো 'মনমনাভব' । বাবা বলেন, তোমরা তমোপ্রধান থেকে সতোপ্রধান হওয়ার জন্য আমাকে স্মরণ করো । তোমরা একথাও বলো যে, হে পতিত পাবন, তুমি এসে আমাদের পবিত্র বানাও । রাবণ রাজ্যে সবাই পতিত এবং দুঃখী । রাম রাজ্যে সকলেই পবিত্র এবং সুখী । রাম রাজ্য আর রাবণ রাজ্য, এই নাম তো আছে, তাই না । তোমরা বাচ্চারা ছাড়া রাম রাজ্যের কথা কেউই জানো না । তোমরা এখন পুরুষার্থ করছো । ৮৪ জন্মের রহস্যও তোমরা ছাড়া আর কেউই জানে না । যদিও বলে থাকে যে - ভগবান উবাচঃ হলো "মন্মনাভব" । তাহলে কেউ তো বুঝবেই না যে, তোমরা ৮৪ জন্ম কিভাবে সম্পূর্ণ করেছো । এখন চক্র সম্পূর্ণ হয়ে আসছে । গীতা পাঠকদের কাছে গিয়ে শোনো - গীতাতে কি বলছে । তোমাদের বুদ্ধিতে এখন সম্পূর্ণ জ্ঞান ঝরতে থাকে । বাবা জিজ্ঞেস করেন - আগে কখনো মিলেছো কি? তখন সবাই বলে - হ্যাঁ বাবা, পূর্ব কল্পে মিলেছি । বাবা জিজ্ঞেস করেন আর তোমরা অর্থ সহ উত্তর দাও । এমন নয় যে, তোমরা তোতা পাখির মতো আউড়ে দেবে । এরপর বাবা জিজ্ঞেস করেন - কেন মিলিত হয়েছিলে? কি পেয়েছিলে? তখন তোমরা বলতে পারো - আমরা এই বিশ্বের রাজত্ব পেয়েছিলাম, এতে সবই এসে যায় । যদিও তোমরা বলো যে - আমরা নর থেকে নারায়ণ হয়েছিলাম, কিন্তু বিশ্বের মালিক হওয়া, তাতে রাজা - রানী আর দেব সম্রাজ্য, সবই আছে । এই দুনিয়ার মালিক রাজা - রানী - প্রজা সব হবে । একে বলা হয় শুভ বলা । আমরা নর থেকে নারায়ণ হবো, এ কোনো কম কথা নয় । বাবা বলবেন - হ্যাঁ বাচ্চারা, তোমরা সম্পূর্ণ পুরুষার্থ করো । নিজের পোতামেলও দেখতে হবে - এই অবস্থায় আমরা উঁচু পদ পেতে পারবো কি, নাকি নয় । কতো জনকে আমরা পথ বলে দিয়েছি? কত জন অন্ধের লাঠি হয়েছি? সেবা যদি না করো, তাহলে বোঝা উচিত যে - আমরা প্রজাতে চলে যাবো । নিজের মনকে জিজ্ঞেস করতে হবে যে, এখনই যদি আমরা দেহত্যাগ করি, তাহলে কি পদ পাবো? এ অনেক বড় লক্ষ্য তাই সাবধান থাকা উচিত । কোনো কোনো বাচ্চা মনে করে যে, বরাবর আমরা তো স্মরণই করি না, তাহলে পোতামেল রেখে কি করবো । একে তখন হার্টফেল করা বলা হয় । ওরা এমনভাবেই পড়াশোনা করে । পড়ায় মনোযোগই দেয় না । তোমরা অতি চালাক হয়ে এখানে বসে থেকো না যে, পরে ফেল করে যেতে হয় । নিজের কল্যাণ করতে হবে । এইম অবজেক্ট তো সামনেই আছে । এই পাঠ পড়ে আমাদের এই হতে হবে । এও তো আশ্চর্য, তাই না । কলিযুগে তো কোনো রাজত্ব নেই । তাহলে সত্যযুগে এদের রাজত্ব কোথা থেকে এলো? সমস্তকিছুই এই পড়ার উপর নির্ভর করে । এমন নয় যে, দেবতা আর অসুরদের লড়াই লেগেছিলো আর দেবতারা জিতে রাজ্য পেয়েছিলো । এখন অসুর আর দেবতাদের লড়াই কিভাবে লাগতে পারে । না কৌরব আর না পাণ্ডবদের লড়াই । লড়াইয়ের কথাই এখানে নিষেধ হয়ে যায় । প্রথমে তো এই কথা বলো যে - বাবা বলেন, দেহের সব সম্বন্ধ ত্যাগ করে নিজেকে আত্মা মনে করো । তোমরা আত্মারা অশরীরী এসেছিলে, আবার অশরীরী ফিরে যেতে হবে । পবিত্র আত্মারাই ফিরে যেতে পারবে । তমোপ্রধান আত্মারা তো আর যেতে পারবে না । আত্মার ডানা ভেঙ্গে গেছে । মায়া আত্মাকে পতিত বানিয়ে দিয়েছে । তমোপ্রধান হওয়ার কারণে এতো দূরে পবিত্র জায়গায় যেতে পারে না । এখন তোমাদের আত্মা বলবে যে, আমরা প্রকৃতপক্ষে পরমধামের বাসিন্দা । এখানে এই পাঁচ তত্ত্বের পুতুল শরীর ধারণ করেছি পার্ট প্লে করার জন্য । মানুষ মারা গেলে বলে, স্বর্গবাসী হয়েছে । কে? ওখানে শরীর গেছে নাকি আত্মা? শরীর তো জ্বলে গেছে । এই শরীর তো আর স্বর্গে যেতে পারে না । মানুষকে তো যে যেমন শোনায় তেমনই বলতে থাকে । ভক্তিমার্গের মানুষ তো ভক্তিই শিখিয়ে এসেছে, তাদের কাজ সম্বন্ধে কেউই জানে না । শিবের পূজা সবথেকে উচ্চ বলা হয় । উঁচুর থেকে উঁচু হলেন শিব, তাঁকেই স্মরণ করো, চিন্তন করো । মালাও দেয় । শিব - শিব বলে মালা ঘোরাতে থাকে । অর্থ না জেনে মালা নিয়ে শিব - শিব বলতে থাকবে । গুরুরা অনেক প্রকারের শিক্ষা দেন । এখানে তো একটাই কথা - বাবা নিজেই বলেন, আমাকে স্মরণ করলে বিকর্ম বিনাশ হবে । মুখে শিব - শিব বলার দরকার নেই । বাচ্চারা বাবার নাম জপ করেই না । এ সবই হলো গুপ্ত । কেউই জানে না যে, তোমরা কি করছো । যারা পূর্ব কল্পে বুঝেছিলো, তারাই বুঝবে । নতুন নতুন বাচ্চারা আসে আর বৃদ্ধি পেতে থাকে । এর পরের দিকে ড্রামা কি দেখাবে, তা সাক্ষী হয়ে দেখতে হবে । প্রথম থেকে বাবা সাক্ষাৎকার করাবেন না যে, এই - এই হবে । তাহলে তো সব নকল হয়ে যাবে । এ খুবই বোঝার মতো কথা । তোমরা এখন জ্ঞান পেয়েছো । ভক্তিমার্গে অজ্ঞানী ছিলে । তোমরা জানো যে, এই ড্রামাতে ভক্তি ও নির্ধারিত রয়েছে ।


বাচ্চারা, এখন তোমরা বুঝতে পারো যে, আমরা এই পুরানো দুনিয়াতে থাকবো না । এই পড়া ছাত্রদের বুদ্ধিতে থাকে । তোমাদেরও এই মুখ্য মুখ্য পয়েন্টস বুদ্ধিতে ধারণ করতে হবে । এক নম্বর কথা হলো অল্ফ (আল্লাহ) এই কথা দৃঢ় করো তারপর এগিয়ে চলো । তা নাহলে অকারণে জিজ্ঞেস করতে থাকবে । বাচ্চারা লেখে যে, অমুকে লিখে দিয়েছে, গীতার ভগবান শিব, এ তো সম্পূর্ণ সঠিক । যদিও এমন কথা বলে তবুও বুদ্ধিতে বসেই না । যদি বুঝতে পারে যে, বাবা এসেছেন, তখন বলবে - এমন বাবার সঙ্গে গিয়ে মিলিত হই । উত্তরাধিকার গ্রহণ করি । একজনেরও সঠিক নিশ্চয়তা হয় না । চট করে একজনেরও চিঠি আসে না । যদিও বা লেখে যে, এই জ্ঞান খুব ভালো, কিন্তু এমন সাহস হয় না যে বুঝতে পারবে, বাঃ এমন বাবা, যাঁর থেকে আমরা এতো সময় দূরে থেকেছি, ভক্তিমার্গে ধাক্কা খেয়েছি, এখন সেই বাবা আমাদের বিশ্বের মালিক বানাতে এসেছেন । তাহলেই ছুটে আসবে । পরের দিকে এরা আসবে । বাবাকে যদি চিনেছো, উঁচুর থেকে উঁচু তিনি ভগবান, জেনেছো, তাহলে তাঁর হও । এমনভাবে বোঝাতে হবে যাতে মনের দ্বার খুলে যায় । আচ্ছা ।

মিষ্টি - মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা - পিতা, বাপদাদার স্মরণের স্নেহ - সুমন আর সুপ্রভাত । আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মারূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার ।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-১ ) কাজ কারবার করেও আত্মাকে পবিত্র করার জন্য সময় বের করে স্মরণের পরিশ্রম করতে হবে । কোনো আসুরী কাজ কখনোই করবে না ।

২ ) নিজের এবং অন্যের কল্যাণ করতে হবে এই ঈশ্বরীয় পড়া পড়তে এবং পড়াতে হবে । অতি চালাক হয়ো না । স্মরণের শক্তি জমা করতে হবে ।

বরদান:-নাম আর মানের ত্যাগের দ্বারা সকলের ভালোবাসা প্রাপ্ত কারী বিশ্বের ভাগ্যবিধাতা ভব

যেরকম বাবাকে নাম রূপ থেকে পৃথক বলা হয়, কিন্তু সবথেকে বেশী নামের গায়ন বাবারই হয়, সেরকমই তোমরাও অল্পকালের নাম আর মান থেকে পৃথক হও তাহলে চিরকালের জন্য সকলের প্রিয় স্বতঃই হয়ে যাবে। যারা নাম-মানের ভিক্ষাবৃত্তির ত্যাগ করে, তারাই বিশ্বের ভাগ্যবিধাতা হয়ে যায়। কর্মের ফল তো স্বতঃ তোমাদের সামনে সম্পন্ন স্বরূপে আসবে, এইজন্য অল্পকালের ইচ্ছা মাত্রম অবিদ্যা হও। কাঁচাফল খেও না, তাকে ত্যাগ করো তাহলে ভাগ্য তোমাদের পিছনে আসবে।

স্লোগান:-পরমাত্মা বাবার বাচ্চা হয়েছো তাই বুদ্ধি রূপী পা সবসময় সিংহাসনে থাকবে।

অব্যক্ত ঈশারা :- অশরীরী বা বিদেহী স্থিতির অভ্যাস বাড়াও

যেকোনও সেবার প্ল্যানস্ বানাচ্ছো, যদিও বানাও, যদিও চিন্তা করো কিন্তু কি হবে!.. … এই আশ্চর্যবৎ হয়ে নয়। বিদেহী, সাক্ষী হয়ে চিন্তা করো। চিন্তা করো, প্ল্যান বানাও আর সেকেন্ডে স্থিতি প্লেন বানিয়ে ফেলো। এখন বেশী প্রয়োজন হল স্থিতির। এই বিদেহী স্থিতি পরিস্থিতিকে খুব সহজেই অতিক্রম করে দেবে। যেরকম বৃষ্টি আসে আবার চলে যায়। বিদেহী, অবিচল অনড় হয়ে খেলা দেখতে থাকো।

Sunday, November 23, 2025

24.11.2025 BENGALI MURLI

"মিষ্টি বাচ্চারা - তোমাদের এই টাইম অত্যন্ত ভ্যালুয়েবল, সেইজন্য তাকে ব্যর্থ নষ্ট কোরো না, পাত্র দেখে জ্ঞান দান করো"

প্রশ্নঃ -গুণের ধারণাও হতে থাকবে আর চাল-চলনও সংশোধিত হতে থাকবে, তার সহজ বিধি কী?

উত্তরঃ  বাবা যা বুঝিয়েছেন - তা অন্যদের বোঝাও। জ্ঞান-ধন দান করো, তবেই গুণের ধারণাও সহজ হতে থাকবে। চাল-চলনও শুধরে যেতে থাকবে। যাদের বুদ্ধিতে এই জ্ঞান থাকে না, জ্ঞান-ধন দান করে না, তারা হলো অপয়া। তারা শুধু-শুধুই নিজেদের ক্ষতি করে।

গীতঃ-শৈশবের দিন ভুলে যেও না / আজ হাসি কাল রোদন কোরো না....

ওম্ শান্তি ।মিষ্টি মিষ্টি বাচ্চারা এই গান শুনেছে, অর্থও সঠিকভাবে বুঝেছে। আমরা হলাম আত্মা আর অসীম জগতের পিতার সন্তান - এটা ভুলে যেও না। এখনই বাবার স্মরণে প্রফুল্লিত হয়, এখনই আবার স্মরণ ভুলে গিয়ে দুঃখী হয়ে পড়ে। এখনই জীবিত হয়ে যাও, আবার এখনই মৃত-প্রায় হয়ে পড়ো অর্থাৎ এখনই অসীম জগতের পিতার হয়ে যাও, আবার এখনই লৌকিক পরিবারের দিকে চলে যাও। তাই বাবা বলেন - আজ হাসছো কাল ক্রন্দন ক'রো না। এটাই হলো গানের অর্থ। বাচ্চারা, তোমরা জানো যে - বেশিরভাগ মানুষ শান্তির জন্য ধাক্কা খেতে থাকে। তীর্থযাত্রায় যায়। এমনও নয় যে, ধাক্কা খেলে কিছু শান্তি পাওয়া যায়। এ হলো একটিই সঙ্গমযুগ যখন বাবা এসে বোঝান। সর্বপ্রথমে নিজেকে চেনো। আত্মাই হলো শান্ত-স্বরূপ। নিবাসস্থলও হলো শান্তিধাম। এখানে এলে অবশ্যই তখন কর্ম করতে হয়। যখন শান্তিধামে রয়েছে তখন শান্ত। সত্যযুগেও শান্তি থাকে। সুখও রয়েছে, শান্তিও রয়েছে। শান্তিধামকে সুখধাম বলবে না। যেখানে সুখ আছে তাকে সুখধাম, যেখানে দুঃখ আছে তাকে দুঃখধাম বলা হবে। এসব কথা তোমরা বুঝতে পারছো। এসব জানানোর জন্য কাউকে সামনা-সামনিই বোঝাতে হবে। প্রদর্শনীতে যখন ভিতরে প্রবেশ করে তখন সর্বপ্রথমে বাবার পরিচয় দেওয়া উচিত। তাদের বোঝানো হয় যে, আত্মাদের পিতা একজনই। তিনিই গীতার ভগবান। বাকি সব হলো আত্মা। আত্মা শরীর পরিত্যাগ এবং ধারণ করে। শরীরের নামও বদল হয়ে যায়। আত্মার নাম পরিবর্তন হয় না। বাচ্চারা, তাই তোমরা বোঝাতে পারো - অসীম জগতের পিতার কাছ থেকে সুখের অবিনাশী উত্তরাধিকার প্রাপ্ত হয়। বাবা সুখের দুনিয়া(সৃষ্টি) স্থাপন করেন। বাবা দুঃখের দুনিয়া রচনা করবেন এমন তো হতে পারে না। ভারতে লক্ষ্মী-নারায়ণের রাজ্য ছিল, তাই না! চিত্রও রয়েছে - তোমরা বলো যে, এরকম সুখের উত্তরাধিকার পাওয়া যায়। যদি কেউ বলে এটা তোমাদের কল্পনা তখন তাদের একদম ছেড়ে দেওয়া উচিত। কল্পনা মনে করা মানুষ কিছুই বুঝবে না। তোমাদের টাইম অত্যন্ত ভ্যালুয়েবল । সমগ্র এই দুনিয়ায় তোমাদের মতন এতখানি ভ্যালুয়েবল টাইম আর কারোর-ই নেই। বড়-বড় (গন্যমান্য) ব্যক্তিদের সময়ের মূল্য অনেক। বাবারও সময়ের মূল্য অনেক। বাবা বুঝিয়ে-বুঝিয়ে কি থেকে কি বানিয়ে দেন। বাচ্চারা, তাই বাবা তোমাদেরকেই বলেন - তোমরা নিজেদের ভ্যালুয়েবল টাইম নষ্ট হতে দিও না। জ্ঞান পাত্র দেখেই দিতে হবে। পাত্র বুঝেই বোঝানো উচিত - সব বাচ্চারা তো বুঝতে পারবে না, এত বুদ্ধি নেই যে বুঝবে। সর্বপ্রথমে বাবার পরিচয় দিতে হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত এটা না বুঝবে যে আমাদের অর্থাৎ আত্মাদের পিতা হলেন শিব ততক্ষণ পর্যন্ত আগের কিছুই বুঝতে পারবে না। অতি প্রেম-পূর্বক, নম্রভাবে বুঝিয়ে রওনা করে দেওয়া উচিত, কারণ আসুরীয় সম্প্রদায় ঝগড়া করতে দেরী করবে না। গভর্নমেন্ট স্টুডেন্টদের কত মহিমা করে। তাদের জন্য কত কিছুর প্রবন্ধ করে। কলেজের স্টুডেন্টরাই সর্বপ্রথমে পাথর মারতে শুরু করে। উদ্দীপনা থাকে, তাই না! বৃদ্ধরা অথবা মায়েরা তো এতটা জোরপূর্বক পাথর ছুড়তে পারে না। বেশীরভাগ সময় স্টুডেন্টদেরই কলরোল হয়। তাদেরই লড়াই-এর জন্য তৈরী করা হয়। এখন বাবা আত্মাদের বোঝান যে - তোমরা উল্টো হয়ে গেছো। নিজেদের আত্মার পরিবর্তে শরীর মনে করে নাও। এখন বাবা তোমাদের সিধা করছেন। রাত-দিনের কত পার্থক্য হয়ে যায়। সোজা হওয়ার জন্য তোমরা বিশ্বের মালিক হয়ে যাও। এখন তোমরা বোঝ যে - অর্ধেক কল্প আমরা উল্টো ছিলাম। এখন বাবা আমাদের অর্ধেক কল্পের জন্য সিধা করছেন। আল্লাহ'র (ঈশ্বরের) সন্তান হয়ে গেলে বিশ্বের অবিনাশী রাজত্বের উত্তরাধিকার প্রাপ্ত হয়। রাবণ উল্টো অর্থাৎ বিকারী করে দিলে কলা, কায়া(শরীর) সব নষ্ট হয়ে যায় তখন অধঃপতনে যেতে থাকে। বাচ্চারা, তোমরা রাম-রাজ্য আর রাবণ-রাজ্যকে জেনেছো। তোমাদের বাবার স্মরণে থাকতে হবে। যদিও শরীর নির্বাহের জন্য কর্মও করতে হবে তথাপি সময় তো অনেক পাও। কেউ জিজ্ঞাসা করার মতো নেই, কাজ না থাকলে বাবার স্মরণে বসে পড়া উচিত। ওসব হলো স্বল্পকালের উপার্জন আর এ হলো তোমাদের সদাকালের জন্য উপার্জন। এখানে অনেক বেশী করে অ্যাটেনশন দিতে হবে। মায়া প্রতি মুহূর্তে মনকে অন্যদিকে নিয়ে যায়। এ তো হবেই। মায়া ভুলিয়ে দিতে থাকবে। এর উপর একটি নাটকও দেখানো হয় - প্রভু এরকম বলে আবার মায়াও এরকম বলে। বাবা বাচ্চাদের বোঝান যে, "মামেকম্ স্মরণ করো", এতেই বিঘ্ন ঘটে। আর কোনো বিষয়ে এত বাধাবিঘ্ন আসে না। পবিত্রতা রক্ষার জন্য কত মার খায়। ভগবত্ ইত্যাদিতে এইসময়ের গায়নই রয়েছে। পুতনা সূর্পনখাও রয়েছে, এসব হলো এ'সময়ের কথা, যখন বাবা এসে পবিত্র করেন। উৎসবাদিও যাকিছু পালন করা হয়, যা পাস্ট হয়ে গেছে, সেগুলোর উৎসবই পুনরায় পালিত হয়। অতীতের মহিমাই করতে থাকে। রামরাজ্যের মহিমা করে, কারণ তা অতিবাহিত হয়ে গেছে। যেমন যীশুখ্রীস্ট প্রমুখরা এসেছিল, তারা ধর্মস্থাপন করে চলে গেছে। তিথি-তারিখও লিখে দেয়, পুনরায় তাদের জন্মদিন পালিত হয়। ভক্তিমার্গেও এই রীতিনীতি(কাজকর্ম) অর্ধেক কল্প চলে। সত্যযুগে এ'সব হয় না। এই দুনিয়াই সমাপ্ত হয়ে যাবে। এ'কথাও তোমাদের মধ্যে অতি অল্পজনই রয়েছে যারা বোঝে। বাবা বুঝিয়েছেন - সমস্ত আত্মাদের শেষে ফিরে যেতে হবে। সব আত্মারাই শরীর পরিত্যাগ করে চলে যাবে। বাচ্চারা, তোমাদের বুদ্ধিতে রয়েছে যে - আর বাকি অল্পদিন রয়েছে। এখন পুনরায় এ'সব বিনাশপ্রাপ্ত হয়ে যাবে। সত্যযুগে কেবল আমরাই আসব। সব আত্মারা তো আসবে না। যারা কল্প-পূর্বে এসেছিল তারাই নম্বরের ক্রমানুযায়ী আসবে। তারাই ভালভাবে পড়েও আর পড়ায়ও। যারা ভালভাবে পড়ে তারাই নম্বরের ক্রমানুযায়ী ট্রান্সফার হয়। তোমরাও ট্রান্সফার হয়ে যাও। তোমাদের বুদ্ধি জানে যে, আত্মারা সব নম্বরের ক্রমানুসারে ওখানে শান্তিধামে গিয়ে বসবে, পুনরায় নম্বরের ক্রমানুসারেই আসতে থাকবে। তবুও বাবা বলেন, মূলকথা হলো বাবার পরিচয় দেওয়া। বাবার নাম সদাই মুখে যেন থাকে। আত্মা কি ? পরমাত্মা কি ? দুনিয়ায় কেউ জানে না। যদিও গায় যে, ভ্রুকুটির মধ্যস্থলে জ্বল-জ্বল করছে আজব নক্ষত্র... এরচেয়ে বেশী কিছু জানে না। তাও আবার এই জ্ঞান অতি অল্পসংখ্যকের বুদ্ধিতেই রয়েছে। প্রতিমুহূর্তে ভুলে যায়। সর্বপ্রথমে বোঝাতে হবে যে, বাবা-ই পতিত-পাবন। উত্তরাধিকারও দেন, রাজার-রাজা (শাহেনশাহ্) বানিয়ে দেন। তোমাদের কাছে গানও রয়েছে -- অবশেষে সেই দিন এসেছে আজ.... ভক্তিমার্গে যে রাস্তার দিকে সকলে তাকিয়ে থাকতো। দ্বাপর থেকে ভক্তি শুরু হয় অবশেষে বাবা এসে রাস্তা বলে দেন। একে বিনাশের সময়ও বলা হয়। আসুরীয় বন্ধনের সমস্ত হিসেব-নিকেশ চুক্ত করে অবশেষে ফিরে চলে যায়। ৮৪ জন্মের ভূমিকা তোমরা জানো। এই ভূমিকা পালন চলতেই থাকে। শিব-জয়ন্তী যখন পালন করা হয় তখন অবশ্যই তিনি এসেছিলেন। অবশ্যই কিছু করেছিলেন। তিনি নতুন দুনিয়া তৈরী করেন। এই লক্ষ্মী-নারায়ণ মালিক ছিলেন, এখন আর নেই। একথা তোমরাই বোঝাতে পারো। বাবা পুনরায় রাজযোগ শেখাচ্ছেন। এই রাজযোগই শিখিয়েছিলেন। তোমরা ছাড়া আর কারোর মুখ থেকেই এ'কথা শুনতে পারা যাবে না। তোমরাই বোঝাতে পারো। শিববাবা আমাদের রাজযোগ শেখাচ্ছেন। 'শিবোহম্'-এর উচ্চারণ(জপ) যে করা হয়, সেও ভুল। বাবা এখন তোমাদের বুঝিয়েছেন - তোমরাই আবর্তন করে এখন ব্রাহ্মণকুল থেকে দেবকুলে আসো। 'আমরাই ব্রাহ্মণ তথা আমরাই দেবতা' - এর অর্থও তোমরাই বোঝাতে পারো। এখন আমরা ব্রাহ্মণ, এ হলো ৮৪-র চক্র। এ কোনো মন্ত্র জপ করা নয়। বুদ্ধিতে এর অর্থ থাকা উচিত। এও সেকেন্ডের কথা। যেমন বীজ আর বৃক্ষ - সেকেন্ডে সমস্তকিছু মনে পড়ে যায়। তেমনই 'আমরাই তথা...' - এই রহস্যও সেকেন্ডে স্মরণে চলে আসে। আমরা এমনভাবে আবর্তন করি যাকে স্বদর্শন-চক্রও বলা হয়ে থাকে। তোমরা কাউকে বলো আমরা স্বদর্শন-চক্রধারী তখন কেউই মানবে না। তারা বলবে, এ'সব তো এরা নিজেদের পদবী রাখে। পরে তোমরা বোঝাবে যে, আমরা ৮৪ জন্ম কিভাবে নিই। এই চক্র আবর্তিত হয়। আত্মা ৮৪ জন্মের দর্শনলাভ করে, একেই স্বদর্শন-চক্রধারী বলা হয়। প্রথমে তো শুনে আশ্চর্য (চমক লাগা) হয়ে যায়। এরা এ'সব কি গল্প বলছে ! যখন তোমরা বাবার পরিচয় দেবে তখন তাদের আর গল্প মনে হবে না। বাবাকে স্মরণ করে। গায়নও করে - বাবা, তুমি এলে আমরা তোমার হয়ে যাবো (সমর্পিত)। কেবলমাত্র তোমায় স্মরণ করবো। বাবা বলেন - তোমরা বলতে তাই না! এখন পুনরায় তোমাদের স্মরণ করাই। নষ্টমোহ হয়ে যাও। এই দেহ থেকেও নষ্টমোহ হয়ে যাও। নিজেকে আত্মা মনে করে আমাকে স্মরণ করো, তাহলেই তোমাদের বিকর্ম বিনাশ হয়ে যাবে। এমন মধুর বচন সকলেরই পছন্দ হবে। বাবার পরিচয় না পেলে তখন কোনো না কোনো বিষয়ে সংশয় ওঠাতে থাকবে, তাই প্রথমে তো ২-৩টি চিত্র সম্মুখে রাখো, যারমধ্যে বাবার পরিচয় রয়েছে। বাবার পরিচয় পেলে উত্তরাধিকারও পেয়ে যাবে। বাবা বলেন - আমি তোমাদের রাজার-রাজা বানাই। এই চিত্র তৈরী করো। দ্বিমুকুটধারী রাজাদের সম্মুখে সিঙ্গেল মুকুটধারী মাথা নত করে। 'আমরাই পূজ্য আমরাই পূজারী'-র রহস্য বুদ্ধিতে এসে যায়। প্রথমে বাবার পূজা করে তারপর নিজেরই চিত্রকে বসে পূজা করে। যারা পবিত্র হয়ে চলে গেছে তাদের চিত্র তৈরী করে বসে পূজা করে। এই জ্ঞানও তোমরা এখনই পেয়েছো। পূর্বে তো ভগবানের উদ্দেশ্যেই বলে দিত যে, 'আমরাই পূজ্য আমরাই পূজারী'। এখন তোমাদের বোঝানো হয়েছে - তোমরাই এই চক্রতে আসো। বুদ্ধিতে যেন এই জ্ঞান সদাই থাকে আর পরে তা বোঝাতেও হবে। ধনদান করলে তা শেষ হয়ে যায় না... যারা ধনদান করে না তাদের অপয়া বলা হয়। বাবা যা বুঝিয়েছেন তা পুনরায় অন্যদেরকেও বোঝাতে হবে। যদি না বোঝাও তবে শুধু-শুধুই নিজের ক্ষতি করে দেবে। গুণও ধারণ হবে না। চাল-চলনও এমন হয়ে যাবে। প্রত্যেকেই তো নিজেকে বুঝতে পারে, তাই না! তোমরা এখন বোধ-বুদ্ধি প্রাপ্ত করেছো। বাকি সকলেই বোধ-বুদ্ধিহীন। তোমরা সবকিছু জানো। বাবা বলেন, এইদিকে দৈবী-সম্প্রদায়, ওইদিকে আসুরীয় সম্প্রদায়। বুদ্ধি দ্বারা তোমরা জেনেছো যে, আমরা সঙ্গমযুগে রয়েছি। একই ঘরে একজন সঙ্গমযুগের, এক কলিযুগের, দুজনেই একসঙ্গে থাকে। যখন দেখা যায় যে, হংস মৎস্য হওয়ার যোগ্য নয় তখন যুক্তি রচনা করা হয়। তা নাহলে বিঘ্ন ঘটাতে থাকবে। নিজ-সম তৈরী করার প্রচেষ্টা করতে হবে। তা নাহলে বিরক্ত করতে থাকবে তখন যুক্তি-যুক্তভাবে কিনারা করে নিতে হবে অর্থাৎ সরে যেতে হবে। বিঘ্ন তো ঘটবেই। এমন জ্ঞান তো তোমরাই দাও। মিষ্টিও হতে হবে। নষ্টমোহও হতে হবে। এক বিকার পরিত্যাগ করলে আবার আরেক বিকার অশান্তি করে। তখন মনে করা যে, যাকিছু হচ্ছে তা পূর্ব কল্পের মতোই। এমন মনে করে শান্ত থাকতে হবে। ভবিতব্য মনে করা হয়। ভাল-ভাল সমঝদার বাচ্চাদেরও পতন ঘটে। সজোরে থাপ্পড় খায়। তখন বলা হয় যে, কল্প-পূর্বেও নিশ্চয়ই এমন চড় খেয়েছিল। প্রত্যেকেই নিজের অন্তরকে বুঝতে পারে। লেখেও যে, বাবা আমরা ক্রোধ করে ফেলেছি। অমুককে মেরেছি, এটা ভুল হয়েছে। বাবা বুঝিয়ে বলেন - যতটা সম্ভব নিজেকে কন্ট্রোল করো। কেমন-কেমন মানুষ আছে, অবলাদের উপর কত অত্যাচার করে। পুরুষ বলবান হয়, স্ত্রী অবলা হয়। বাবা পুনরায় তোমাদের এই গুপ্ত লড়াই শেখাচ্ছেন, যার দ্বারা তোমরা রাবণের উপর বিজয়প্রাপ্ত করো। এই লড়াই কারোর বুদ্ধিতে নেই। তোমাদের মধ্যেও নম্বরের ক্রমানুসারেই বুঝতে পারে। এ হলো সম্পূর্ণ নতুন কথা। তোমরা এখন অধ্যয়ন করছো - সুখধামের জন্য। এটাও এখনই স্মরণে রয়েছে পরে ভুলে যাবে। মূল কথাই হলো স্মরণের যাত্রা। স্মরণের দ্বারাই আমরা পবিত্র হয়ে যাব। আচ্ছা।

মিষ্টি-মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত। আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মা-রূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-১ ) কিছু হলেও তা ভবিতব্য মনে করে শান্ত থাকতে হবে। ক্রোধ করা উচিত নয়। যতখানি সম্ভব নিজেই নিজেকে কন্ট্রোল করতে হবে। যুক্তি রচনা করে নিজ-সম তৈরী করার প্রচেষ্টা করতে হবে।

২ ) অত্যন্ত প্রেমপূর্বক এবং নম্রভাবে বাবার পরিচয় দিতে হবে। সকলকে এমন মিষ্টি-মধুর কথা শোনাও যে বাবা বলেছেন, নিজেকে আত্মা নিশ্চয় করে বাবাকে স্মরণ করো। এই দেহ থেকে (আকর্ষণ থেকে) নষ্টমোহ হয়ে যাও।

বরদান:-সকল আত্মাকে উদ্ভ্রান্ত হওয়া বা ভিখারী বৃত্তির থেকে বাঁচানাে নিষ্কাম দয়াবান ভব

যে বাচ্চারা নিষ্কাম দয়াবান হয় তাদের দয়ার সংকল্প থেকে অন্য আত্মাদেরকে নিজের আত্মিক রূপ বা আত্মার অন্তিম গন্তব্য সেকেন্ডে স্মৃতিতে এসে যায়। তাদের দয়ার সংকল্প থেকে ভিখারীর মধ্যে সর্ব খাজানার ঝিলিক দেখা যায়। উদ্ভ্রান্ত হওয়া আত্মারা মুক্তি বা জীবন্মুক্তির কিনারা বা গন্তব্য সামনে দেখতে পায়। তারা সকলের দুঃখ হরণ করে সুখ প্রদানের পার্ট প্লে করে, দুঃখীদেরকে সুখী করার যুক্তি বা সাধন সদা তাদের কাছে জাদুর চাবির মতো থাকে।

স্লোগান:-সেবাধারী হয়ে নিঃস্বার্থ সেবা করো তাহলে সেবার মেওয়া পাবেই।

অব্যক্ত ঈশারা :- অশরীরী বা বিদেহী স্থিতির অভ্যাস বাড়াও

অন্তিম সময়ে প্রকৃতির পাঁচ তত্ব ভালোভাবে নড়ানোর চেষ্টা করবে, কিন্তু বিদেহী অবস্থার অভ্যাসী আত্মা একদম এমন অচল-অনড় পাস উইদ অনার হবে যে সব কথাতে পাস হয়ে যাবে এমনকি তারা ব্রহ্মা বাবার সমান পাস উইথ অনার হওয়ার প্রমানও দেবে, এরজন্য সময় বের করে প্রকৃতির পাঁচ তত্বের সেবা করে, শুভ ভাবনার সাকাশ দিতে থাকো।

Saturday, November 22, 2025

23.11.2025 BENGALI MURLI

 23-11-2025 প্রাতঃ মুরলি ওম্ শান্তি "অব্যক্ত বাপদাদা" রিভাইসঃ 31-12-2007 মধুবন

“নতুন বছরে অখণ্ড মহাদানী, অখণ্ড নির্বিঘ্ন, অখণ্ড যোগী এবং সদা সফলতা মূর্ত

আজ বাপদাদা নিজের সামনে ডবল সভা দেখছেন। এক তো সাকারে সমুখে বসে আছে আর দ্বিতীয়তঃ, দূরে বসেও হৃদয়ের নিকটে দেখা যাচ্ছে। উভয় সভার শ্রেষ্ঠ আত্মাদের মস্তকে আত্মদীপ ঝলমল করছে। কত সুন্দর অত্যুজ্জ্বল দৃশ্য। এত সবাই এক সংকল্প, একরস স্থিতিতে স্থিত পরমাত্ম ভালোবাসায় লাভলীন, একাগ্র বুদ্ধি দ্বারা স্নেহে সমাহিত, কত নিরুপম লাগছে। তোমরাও সবাই আজ বিশেষভাবে নতুন বছর উদযাপন করার জন্য এখানে পৌঁছে গেছো। বাপদাদাও সব বাচ্চার উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখে ঝলমলে আত্মদীপ দেখে প্রফুল্লিত হচ্ছেন।


আজকের দিন সঙ্গমের দিন। এক বছরের পুরাতনের বিদায় আর নতুন বছরের কল্যাণকারী ভাবনার উদযাপন। নতুন বছর অর্থাৎ নতুন উদ্যম আর উৎসাহ। স্ব পরিবর্তনের উদ্যম, স্ব-মধ্যে সর্বপ্রাপ্তি প্রাপ্ত হতে দেখে হৃদয়ে উৎসাহ থাকে। দুনিয়ার লোকেও এই উৎসব পালন করে, তাদের জন্য একদিনের উৎসব আর তোমরা লাকি লাভলী বাচ্চাদের জন্য সঙ্গম যুগের সব দিন উৎসব। কেননা, খুশির উৎসাহ বিদ্যমান। দুনিয়ার লোকে তো নিভে থাকা দীপ জ্বালিয়ে বার্ষিকী উদযাপন করে এবং বাপদাদা চতুর্দিকের তোমরা এত সব জাগ্রত দীপকের সাথে নতুন বছরের উৎসব উদযাপন করতে এসেছেন। উদযাপনের এই রীতি রেওয়াজ তো নামে মাত্র, কিন্তু তোমরা সবাই উদ্দীপ্ত দীপক। নিজের প্রজ্জ্বলিত দীপ প্রতীয়মান হয় তো না! যা অবিনাশী দীপ!


তো নতুন বছরে প্রত্যেকে হৃদয়ে স্ব-এর জন্য, বিশ্বের আত্মাদের জন্য কোনো নতুন প্ল্যান বানিয়েছো? ১২টার পর নতুন বছর শুরু হয়ে যাবে। তো এই বছর কোন বিশেষ রূপে উদযাপন করবে? যেমন পুরানো বছর বিদায় নেবে তো তেমনই তোমরাও সবাই পুরানো সঙ্কল্প, পুরানো সংস্কার এসব বিদায় দেওয়ার সঙ্কল্প করেছো? বছরের সাথে সাথে তোমরাও পুরানোর বিদায় দিয়ে নতুন উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্কল্প প্র্যাকটিক্যালে আনবে তো না! তো ভাবো নিজের মধ্যে কী নবীনত্ব আনবে? কোন রকমের উৎসাহ- উদ্দীপনার নতুন তরঙ্গ ছড়াবে, কোন রকম সঙ্কল্পের ভাইব্রেশন ছড়াবে ভেবেছো? কেননা, তোমরা সব ব্রাহ্মণ সমগ্র বিশ্বের আত্মাদের জন্য পরিবর্তন-নিমিত্ত আত্মা। বিশ্বের ফাউন্ডেশন তোমরা, পূর্বজ, পূজ্য। তো এই বছরে নিজের শ্রেষ্ঠ বৃত্তি দ্বারা কি ভাইব্রেশন ছড়াবে? ঠিক যেভাবে প্রকৃতি চতুর্দিকে কখনো গরমের, কখনো ঠাণ্ডার, কখনো বসন্তের ভাইব্রেশন ছড়ায়। তো তোমরা প্রকৃতির মালিক প্রকৃতিজিৎ কোন ধরণের ভাইব্রেশন ছড়াবে? যার দ্বারা অল্প সময়ের জন্য হলেও আত্মাদের সুখ- নিশ্চিন্ততার অনুভব হবে। তার জন্য বাপদাদা এই ইশারা দিচ্ছেন যে, যে ভাণ্ডারই প্রাপ্ত হয়েছে সেই সব ভাণ্ডার সময়োপযোগী করো আর সফলতা স্বরূপ হও। বিশেষভাবে, সময়ের ভাণ্ডার কখনো যেন ব্যর্থ না হয়। এক সেকেন্ডও যেন ব্যর্থ না হয়, বরং কার্যে প্রয়োগ করো। সময়কে সফল করো, প্রতিটা শ্বাসকে সফল করো, প্রতিটা সঙ্কল্প সফল করো, সব শক্তি সফল করো, সব গুণ সফল করো। সফলতা মূর্ত হওয়ার এই বিশেষ বর্ষ উদযাপন করো। কেননা, সফলতা তোমাদের জন্মসিদ্ধ অধিকার। সেই অধিকার কার্যে প্রয়োগ করে সফলতা মূর্ত হও। কেননা, এখনের সফলতার প্রালব্ধ পুরো সময়ই প্রাপ্ত হবে। শ্বাস সফল করায়, তোমাদের শ্বাসের সফলতার পরিণাম হিসেবে দেখ ভবিষ্যতেও সব আত্মা সম্পূর্ণ সময় সুস্থ থাকে। অসুস্থতার লেশমাত্র থাকে না। ডক্টরসের ডিপার্টমেন্টই থাকে না। কারণ ডক্টরস কি রাজা হয়ে যাবে? রাজা হয়ে যাবে না তো না! বিশ্বের মালিক হয়ে যাবে। কিন্তু এই সময় তোমরা শ্বাস সফল করে থাকো। আর সকল আত্মার সুস্থ থাকার প্রালব্ধ প্রাপ্ত হয় । এরকমই জ্ঞানের ভাণ্ডার, তার ফল স্বরূপ স্বর্গে তোমাদের নিজেদের রাজ্যে তোমরা এত বিচক্ষণ, শক্তিমান হয়ে যাও যে সেখানে কোনো উজিরের থেকে পরামর্শ নেওয়ার আবশ্যকতা থাকে না। নিজেরাই বিচক্ষণ শক্তিমান হয়। সমূহ শক্তি তোমরা সফল করে থাকো, তার প্রালব্ধ হিসেবে সব শক্তি বিশেষভাবে ধর্ম সত্ত্বা, রাজ্য সত্ত্বা দুই বিশেষ শক্তি ও সত্ত্বা ওখানে প্রাপ্ত হবে। গুণের ভাণ্ডার যখন সফল করছি তো তার প্রালব্ধ দেবতা পদের অর্থই হলো দিব্যগুণধারী এবং সেইসঙ্গে এখন লাস্ট জন্মে তারা তোমাদের জড় মূর্তির পূজন করে, তো কী মহিমা করে? সর্বগুণসম্পন্ন। তো এই সময়ের সফলতার প্রালব্ধ আপনা থেকেই প্রাপ্ত হয়ে যায়। সেইজন্য চেক করো ভাণ্ডার পেয়েছ, ভাণ্ডারে সম্পন্ন হয়েছ, কিন্তু স্ব-এর জন্য এবং বিশ্বের জন্য কতটা সফল করেছো? পুরানো বছর বিদায় দেবে, তো পুরানো বছরে জমা ভাণ্ডার সফল করেছ? কতটা করেছো? এটা চেক করো আর আগামী বছরেও এই সমুদয় ভাণ্ডার ব্যর্থ করার পরিবর্তে সফল করতেই হবে। এমনকি, এক সেকেন্ডও যেন আর কোনো ভাণ্ডার ব্যর্থ না হয়। আগে বলা হয়েছে যে সঙ্গম সময়ের সেকেন্ড, সেকেন্ড নয় বছরের সমান। এরকম ভেবো না এক সেকেন্ড, এক মিনিটই তো গেছে, ব্যর্থ যাওয়া - এটাকেই বলা হয় গড়িমসি ভাব। তোমাদের সবার লক্ষ্য হলো যে বাবাব্রহ্মা সমান সম্পন্ন আর সম্পূর্ন হতে হবে। তো ব্রহ্মা বাবা সমুদয় ভাণ্ডার আদি থেকে অন্তিম দিন পর্যন্ত সফল করেছেন, এর প্রত্যক্ষ প্রমাণ তোমরা দেখেছ। সম্পূর্ণ ফরিস্তা হয়ে গেছেন। নিজেদের প্রিয় দাদিকেও তোমরা দেখেছ তিনি সবকিছু সফল করেছেন এবং সফল করার জন্য অন্যদেরও সদা উৎসাহ-উদ্দীপনা বাড়িয়েছেন। তো ড্রামা অনুসারে বিশ্ব সেবার অলৌকিক পার্টের বিশেষ নিমিত্ত হয়েছেন।


তো এই বছর, কাল থেকে প্রতিদিন নিজের চার্ট রাখো - সফল আর ব্যর্থ ... কী হয়েছে, কতটা হয়েছে! অমৃত বেলাতেই দৃঢ় সঙ্কল্প করো, স্মৃতিস্বরূপ হতে হবে - সফলতা আমার জন্মসিদ্ধ অধিকার। সফলতা আমার গলার হার। সফলতা স্বরূপ হওয়াই সমান হওয়া । ব্রহ্মা বাবার প্রতি তোমাদের ভালোবাসা আছে তো না! তো ব্রহ্মা বাবার কিসের প্রতি সর্বাধিক ভালোবাসা ছিল? জানো তোমরা? কিসের প্রতি ছিল? মুরলির সাথে। লাস্ট দিনও মুরলী পাঠ মিস করেননি। সমান হওয়ার ক্ষেত্রে এটা চেক করো - ব্রহ্মা বাবা যা ভালোবাসতেন। ব্রহ্মা বাবার প্রতি ভালোবাসার লক্ষণ হলো - যা কিছু বাবার ভালোবাসা ছিল তার প্রতি আমার ভালোবাসা আপনা থেকেই সহজ হওয়া উচিত। ব্রহ্মা বাবার অন্য বিশেষত্ব কী ছিল? সদা অ্যালার্ট, অসাবধানতা ছিল না। লাস্ট দিনেও কত অ্যালার্ট রূপে নিজের সেবার পার্ট প্লে করেছেন। শরীর দুর্বল হওয়া সত্ত্বেও কীভাবে অ্যালার্ট হয়ে, আধার নিয়ে বসেননি, বরঞ্চ অ্যালার্ট করে গেছেন। তিন বিষয়ের মন্ত্র দিয়ে গেছেন। স্মরণ আছে তো না সকলের! তো যত অ্যালার্ট থাকবে, ফলো করবে, অসাবধানতা শেষ হবে। অসাবধানতার বিশেষ বোল বাপদাদা অনেক শোনেন। তোমরা জানো তো না! যদি এই তিন শব্দকে (নিরাকারী, নির্বিকারী এবং নিরহঙ্কারী) সদা নিজের মনে রিভাইজ আর রিয়ালাইজ করে চলো তবে অটোমেটিক্যালি সহজ এবং সমান হয়ে যাবে আপনা থেকেই। তো একটা বিষয় সফল করো, সফলতা মূর্ত হও।


আরেকটা বিষয় - বাপদাদা বাচ্চাদের বছরের রেজাল্ট দেখেছেন। কী দেখেছেন? মহাদানী হয়েছ; কিন্তু অখণ্ড মহাদানী, অখণ্ড আন্ডারলাইন, অখণ্ড মহাদানী, অখণ্ড যোগী, অখণ্ড নির্বিঘ্ন - এখন এর আবশ্যকতা রয়েছে। অখণ্ড হতে পারে? হতে পারে? প্রথম লাইনের তোমরা, হতে পারে? যদি হতে পারে তবে হাত উঠাও। যারা করতে পারে, করতে পারো তোমরা? যারা মধুবনের তারাও হাত উঠাচ্ছে। যারা মধুবনের তাদেরকে বাপদাদা আগে দেখেন। মধুবনের প্রতি তাঁর ভালোবাসা আছে। শান্তিবন কিংবা পাণ্ডব ভবন কিংবা দাদির ভুজসকল, সবাইকে গুরুত্ব সহকারে দেখেন। যদি তোমরা অখণ্ড হও তবে মন্সা দ্বারা শক্তি ছড়িয়ে দেওয়ার সেবাতে বিজি থাকো। বাচা দ্বারা জ্ঞানের সেবা এবং কর্ম দ্বারা গুণ দান বা গুণের সহযোগ দেওয়ার সেবা করো।


আজকাল, অজ্ঞানী আত্মা হোক বা ব্রাহ্মণ আত্মা, সবাইকে গুণের দান, গুণের সহযোগ দেওয়া আবশ্যক। যদি নিজে সহজ সিম্পল রূপে স্যাম্পল হয়ে থাকো তবে অটোমেটিক্যালি তোমাদের গুণমূর্ত হওয়ার সহযোগ অন্যদের আপনা থেকেই প্রাপ্ত হবে। আজকাল ব্রাহ্মণ আত্মারাও স্যাম্পল দেখতে চায়, শুনতে চায় না। নিজেদের মধ্যেও তোমরা কী বলে থাকো? কে হয়েছে? তো তারা প্রত্যক্ষভাবে তোমাদের গুণমূর্ত রূপ দেখতে চায়। তো কর্ম দ্বারা বিশেষ গুণের সহযোগ, গুণের দান দেওয়ার আবশ্যকতা আছে। শুনতে কেউ চায় না, দেখতে চায়। সুতরাং এখন বিশেষভাবে এই খেয়াল রাখতে হবে যে, আমাকে জ্ঞান দ্বারা, বাচা দ্বারা তো সেবা করতেই হবে, নিরন্তর করতেই হবে, আমার এটা বন্ধ করা উচিত নয়। কিন্তু এখন মন্সা আর কর্ম দ্বারা ভাইব্রেশন ছড়িয়ে দাও। সকাশ ছড়িয়ে দাও। দূরে বসেও ভাইব্রেশন বা সকাশ পৌঁছাতে পারো। শুভ ভাবনা, শুভ কামনার দ্বারা কোনও আত্মাকে মন্সা সেবা দ্বারা ভাইব্রেশন বা সকাশ দিতে পারো। তো এখন এই বছর মন্সা শক্তির ভাইব্রেশন, শক্তি দ্বারা সকাশ আর কর্ম দ্বারা গুণের সহযোগ এবং আজ্ঞানী আত্মাদের গুণ দান দাও।


তুন বছরে তোমরা গিফ্টও দাও তো না! তো এই বছর স্বয়ং গুণমূর্ত হয়ে গুণের গিফ্ট দাও। গুণের টোলি খাওয়াও তো না! টোলি খাওয়ানোতে তারা খুশি হয়ে যায়, তাই না! অনেক আত্মা, এমনকি ভাগন্তিরাও টোলি স্মরণ করে। অন্য সবকিছু ভুলে যায়, কিন্তু টোলি স্মরণে আসে। তো এই বছর কোন টোলি খাওয়াবে? গুণের টোলি খাওয়াও। গুণের পিকনিক করো। কেননা, বাবা সমান সময়ের নৈকট্য অনুসারে এবং দাদির ইশারা অনুসারে সময়ের সম্পন্নতা আচম্বিতে যে কোনও কখনো হওয়া সম্ভব। সেইজন্য বাবা সমান হতে হবে অথবা দাদির ভালোবাসার রিটার্ন দিতে হবে, সুতরাং যা আবশ্যক সেটা হলো - মন্সা আর কর্ম দ্বারা সহযোগী হওয়ার, কে কেমন, এ' হলে আমি হবো সেটা ভেবো না। নম্বর ওয়ান হতে হ'লে যদি এ' হয় তবে হবো, এমন হ'লে তো প্রথম নম্বর তারাই হয়ে যাবে, আর তোমরা দ্বিতীয় হয়ে যাবে। তোমরা কি দ্বিতীয় নম্বর হতে চাও, নাকি প্রথম নম্বর হতে চাও? সাধারণত যদি কাউকে বলো তুমি দুই নম্বর নাও তবে নেবে? সবাই এটাই বলবে প্রথম নম্বর নেব। সুতরাং প্রথমে নিমিত্ত হতে হবে। অন্যকে কেন নিমিত্ত বানাও! নিজেকে নিমিত্ত বানাও না! ব্রহ্মা বাবা কী বলেছেন? সব বিষয়ে নিজে নিমিত্ত হয়ে নিমিত্ত বানিয়েছেন। হে অর্জুন হয়ে পার্ট প্লে করেছেন। আমাকে নিমিত্ত হতে হবে। আমাকে নিমিত্ত হতে হবে। আমাকে করতে হবে। অন্যে করবে, আমাকে দেখে অন্যরা করবে। অন্যকে দেখে আমি করবো, না। আমাকে দেখে অন্যরা করবে। এটা ব্রহ্মার প্রথম পাঠ। তো শুনেছ কী করতে হবে? সফলতা মূর্ত, সফল সফলতা মূর্ত, অখণ্ড দানী হতে হবে, তবে মায়ার আসার সাহসই হবে না। যখন অখণ্ড মহাদানী হয়ে যাবে, তখন নিরন্তর সেবাধারী হবে, বিজি থাকবে, মন বুদ্ধি সেবাধারী হবে, তাহলে মায়া কোথায় আসবে! তো এখন এই বছরে কী হতে হবে? সবার হৃদয় থেকে যেন একটাই আওয়াজ বের হয়, এটা বাপদাদা চান, সেটা কী? নো প্রবলেম, কমপ্লিট। প্রবলেম নেই, কিন্তু কমপ্লিট হতেই হবে। দৃঢ় নিশ্চয়বুদ্ধি, বিজয়মালায় কাছের দানা হতেই হবে। ঠিক আছে তো না! হতে হবে, তাই না! মধুবনের হতে হবে। নো কমপ্লেন? নো কমপ্লেন। হাত তোলো, যারা সাহস বজায় রাখো। নো প্রবলেম। বাহ্! অভিনন্দন, অভিনন্দন অভিনন্দন।


দেখো, নিশ্চয়ের প্রত্যক্ষ প্রমাণ হলো আধ্যাত্মিক নেশা। যদি আধ্যাত্মিক নেশা না থাকে তবে নিশ্চয়ও নেই। ফুল নিশ্চয় নেই, অল্প বিস্তর রয়েছে। তো নেশা রাখো, এমন কী বড় ব্যাপার! কত কল্প তোমরাই বাবা সমান হয়েছো, স্মরণে আছে? অগণিত বার হয়েছো। তো এই নেশা রাখো আমিই হয়েছিলাম, আমিই হয়েছি আর আমিই বারবার হতে থাকবো। এই নেশা সদাই যেন কর্মে দেখা যায়। সঙ্কল্পে নয়, বোলে নয়, কিন্তু কর্মে, কর্মের অর্থ আচার আচরণে, মুখমণ্ডলে যেন প্রতীয়মান হয়। তো হোম ওয়ার্ক পেয়ে গেছো, পেয়ে গেছো তো না? এবারে দেখা যাবে নম্বরক্রমে আসো, নাকি নম্বরক্রমে। আচ্ছা।


বাপদাদার কাছে অনেক কার্ড, পত্র, ইমেল, স্মরণের স্নেহ-সুমন কম্পিউটারের দ্বারাও এসেছে আর বাপদাদা প্রত্যেককে তাঁর সমুখে ইমার্জ ক'রে দূরে ব'সে থাকা হৃদয় সিংহাসনাসীন বাচ্চাদেরকে তাদের নামসহ বিশেষত্ব সহ স্মরণের স্নেহ আর হৃদয়ের আশীর্বাদ দিচ্ছেন। বাপদাদা জানেন যে সকলের স্মরণ-স্নেহ, ভালোবাসা থাকেই এবং বাপদাদা সদা বিশেষ করে অমৃতবেলায় ব্রাহ্মণ আত্মাদের স্মরণের স্নেহের রেসপন্স বিশেষভাবে করে থাকেন। সেইজন্য তোমরা খুব ভালো ভালো কার্ড বানিয়েছো, তোমরা তো কার্ড এখানে (স্টেজে) রাখো, কিন্তু বতনে বাপদাদার কাছে আগেই পৌঁছে যায়। আচ্ছা।

চতুর্দিকের ঝলমলে আত্মদীপক বাচ্চাদের, সদা সব কিছু সফল করে এমন সফলতা স্বরূপ বাচ্চাদের, সদা অখণ্ড মহাদানী, অখণ্ড নির্বিঘ্ন, অখণ্ড জ্ঞান আর যোগযুক্ত, সদা একই সময়ে তিন সেবা করে - মন্সা ভাইব্রেশন দ্বারা বায়ুমণ্ডলের, বাণী দ্বারা বাচা সেবার এবং আচরণ ও মুখমণ্ডলের মাধ্যমে কর্ম সেবা, তিন সেবা একই সময়ে একত্রে তখনই হবে যখন তোমাদের প্রভাব যারা ভালো বলবে তাদের উপরে নয়, বরং যারা ভালো হবে তাদের উপরে পড়বে। তো অনুভাবী মূর্ত হওয়ার দ্বারা অনুভব করায় এমন বাচ্চাদের নতুন বছরের জন্য বাপদাদার পদ্ম পদ্মগুন স্মরণের স্নেহ-সুমন, আশীর্বাদ। তাছাড়া, হৃদয়াসন সদা তোমাদের হৃদয় সিংহাসনাসীন বানায়, সেইজন্য চতুর্দিকের বাচ্চাদের যারা সমুখে আছে, দূরে বসেও হৃদয় সিংহাসনাসীন, তাদের সবাইকে নাম আর বিশেষত্ব সহ স্মরণের স্নেহ-সুমন আর নমস্কার।

আচ্ছা - যারা প্রথমবার এসেছো তারা উঠে দাঁড়াও। হাত নাড়াও। দেখো, অর্ধেক ক্লাস প্রথম বার এসেছে।যারা পিছনে রয়েছ তারা হাত নাড়াও। টিভিতে সব দেখা যাচ্ছে। অনেক আছ। আচ্ছা, প্রথমবার আগতদের বাপদাদার হৃদয়ের অনেক অনেক অভিনন্দনও, আর হৃদয়ের স্মরণ-স্নেহও। যেহেতু, তোমরা এখন এসেছ, তো এখনের আগতদের জন্য বাপদাদার বরদান রয়েছে - "অমর ভব।"

বরদান:-যারা বদনাম করে তাদেরকেও গুণ-মালা পরিয়ে ইষ্ট দেব, মহান আত্মা ভব

যেভাবে, আজকাল, তোমরা-বিশেষ আত্মাদের স্বাগত জানানোর সময় গলায় কোনো স্থূল মালা পরিয়ে দেওয়া হয়, তো তোমরা তাদের গলাতে রিটার্ন করে দাও, যারা পরিয়ে দেয়। সেভাবেই, যারা তোমাদের বদনাম করে তাদেরকে যদি তোমরা গুণ-মালা পরিয়ে দাও তো তারাও আপনা থেকেই তোমাদের গুণ-মালা রিটার্ন করবে। কেননা, যারা বদনাম করে তাদেরকে গুণ-মালা পরানো অর্থাৎ জন্ম-জন্মের জন্য ভক্ত নিশ্চিত করা। এই দেওয়াই অনেকবারের নেওয়া হয়ে যায়। এই বিশেষত্বই ইষ্ট দেব, মহান আত্মা বানিয়ে দেয়।

স্লোগান:-তোমাদের মন্সা বৃত্তি সুন্দর ও পাওয়ারফুল বানাও, তবে খারাপও ভালো হয়ে যাবে।

অব্যক্ত ইশারা :- অশরীরী বা বিদেহী স্থিতির অভ্যাস বাড়াও যে কোনও কার্য করার সময় চতুর্দিকের জটিল বা বিরূপ পরিস্থিতি যতই থাক না কেন, যদি তোমাদের বুদ্ধি সেবার কার্যে অতি বিজি থাকে, তখন এরকম টাইমে অশরীরী হওয়ার অভ্যাস করে দেখ। যথার্থ সেবার কোনো বন্ধন হয় না। কেননা, যোগযুক্ত, যুক্তিযুক্ত সেবাধারী সদা সেবা করতে করতেও উপরম থাকে। এমন নয় যে সেবা বেশি সেইজন্য অশরীরী হতে পারবে না। স্মরণে রাখো - আমার সেবা নয়, বাবা দিয়েছেন। তাহলেই নির্বন্ধন থাকবে।

https://bkrajyogpathshala.blogspot.com/

01-04-2026 Bengali Murli

 মিষ্টি বাচ্চারা - বাচ্চারা, বাবা যা, বাবা ঠিক যেমন, তোমরা বাচ্চারাও তাঁকে নম্বর ক্রমানুসারেই চিনেছো, যদি সকলেই তাঁকে চিনে গেলে তবে তো অত্যন...