"মিষ্টি বাচ্চারা - বাবা যেমন ভবিষ্যৎ ২১ জন্মের জন্য সুখ প্রদান করেন, তেমনই তোমরা বাচ্চারাও বাবার সাহায্যকারী হও, তোমরা প্রীত বুদ্ধির হও, দুঃখ দানের খেয়াল যেন কখনো না আসে"
প্রশ্নঃ
- তোমাদের
মতো রূপ - বসন্ত বাচ্চাদের কর্তব্য কি? তোমরা বাবার
কাছ থেকে কোন্ শিক্ষা
পেয়েছো?
উত্তরঃ
- তোমাদের
মতো রূপ - বসন্ত বাচ্চাদের কর্তব্য হলো, মুখ থেকে
সর্বদা রত্ন নির্গত হওয়া,
তোমাদের মুখ থেকে কখনোই
পাথর নির্গত হওয়া উচিত নয়
। সকল বাচ্চাদের প্রতি
বাবার শিক্ষা হলো - ১) নিজেদের মধ্যে
কখনোই কেউ কাউকে বিরক্ত
করবে না, রাগ করবে
না, এ হলো আসুরী
মানুষের কাজ । ২)
মনেও যেন কাউকে দুঃখ
দেওয়ার খেয়াল না আসে ।
৩) নিন্দা - স্তুতি, মান - অপমান সবকিছুই সহন করতে হবে
। কখনো যদি কেউ
কিছু বলে, তাহলে শান্ত
থাকো । নিজের হাতে
আইন তুলে নিও না
।
গীতঃ- তুমি
প্রেমের সাগর...
ওম শান্তি । জ্ঞান এবং
অজ্ঞান । বাচ্চারা, তোমাদের
মধ্যে এখন জ্ঞান আছে
। ভক্তরা কার মহিমা করে,
আর তোমরা বাচ্চারা, যারা এখানে বসে
আছো, তোমরা কার মহিমা শোনো?
এ হলো রাত দিনের
তফাৎ । ওরা তো
এমনিতেই মহিমা করতে থাকে ।
ওদের এতো প্রেম থাকে
না, কারণ ওরা চেনে
না । বাবা তোমাদের
পরিচয় দিয়েছেন যে, আমি হলাম
প্রেমের সাগর আর আমি
তোমাদের প্রেমের সাগর তৈরী করছি
। বাবা হলেন প্রেমের
সাগর, তাই সকলের তাঁকে
কতো প্রেমী মনে হয় ।
ওখানেও সবাই একে অপরকে
ভালোবাসে । তোমরা এখন
তা এখানে শেখো । তোমাদের
কারোর সঙ্গেই বিরোধ হওয়া উচিত নয়,
যাকে বাবা নুন জল
বলেন । তোমাদের অন্তরে
কারোর জন্যই ঘৃণা থাকা উচিত
নয় । যারা ঘৃণা
করে, তারা হলো কলিযুগী
নরকবাসী । তোমরা জানো
যে, আমরা সবাই ভাই
- বোন । শান্তিধামে থাকলে
সবাই ভাই - ভাই । এখানে
সবাই এই কর্মক্ষেত্রে অভিনয়
করে, তাই ভাই - বোন
। সকলেই ঈশ্বরীয় সন্তান । ঈশ্বরের মহিমা
হলো, তিনি হলেন জ্ঞানের
সাগর, প্রেমের সাগর, অর্থাৎ সবাইকে সুখ দান করেন
। তোমরা সবাই নিজের মনকে
জিজ্ঞেস করো - বাবা যেমন ২১
জন্মের জন্য সুখ প্রদান
করেন, আমরা কি তেমনই
সেই কার্য করি? আমরা যদি
বাবার সাহায্যকারী না হই, ভালো
না বাসতে পারি, একে অপরের প্রতি
প্রীতি যদি না থাকে,
যদি বিপরীত বুদ্ধির হয়ে থাকি, তাহলে
বিনশন্তি হয়ে যাবো ।
বিপরীত বুদ্ধির হওয়া হলো অসুরের
কাজ । নিজেদের ঈশ্বরীয়
সম্প্রদায়ের বলে তারপর একে
অপরকে দুঃখ দেওয়া, এদেরই
অসুর বলা হয় ।
বাচ্চারা, তোমাদের কাউকে দুঃখ দেওয়া উচিত
নয় । তোমরা হলে
দুঃখ হর্তা, সুখ কর্তা বাবার
সন্তান । তাই তোমাদের
দুঃখ দেওয়ার খেয়াল আসাই উচিত নয়
। ওরা তো হলো
আসুরী সম্প্রদায়, নাকি ঈশ্বরীয় সম্প্রদায়,
কেননা ওরা দেহ - অভিমানী
। ওরা কখনোই স্মরণের
যাত্রায় থাকতে পারবে না । এই
স্মরণের যাত্রা ছাড়া কল্যাণ হবেই
না । উত্তরাধিকার প্রদানকারী
বাবাকে তো অবশ্যই স্মরণ
করতে হবে, তাহলেই বিকর্ম
বিনাশ হবে । তোমরা
অর্ধেক কল্প তো একে
অপরকে দুঃখ দিয়েই এসেছো
। একে অপরের সঙ্গে
যারা লড়াই - ঝগড়া করে, একে
অপরকে বিরক্ত করে, তাদের আসুরী
সম্প্রদায়ের মধ্যে গণনা করা হয়
। যদিও তোমরা পুরুষার্থী,
তবুও কতদিন পর্যন্ত দুঃখ দিতে থাকবে,
তাই বাবা বলেন, নিজেদের
চার্ট রাখো । এই
চার্ট রাখলে বুঝতে পারবে যে, আমাদের রেজিস্টার
শুধরে যাচ্ছে নাকি সেই আসুরী
চলনই আছে? বাবা সর্বদাই
বলেন, কখনো কাউকে দুঃখ
দিও না । নিন্দা
- স্তুতি, মান - অপমান, ঠান্ডা - গরম সবই সহন
করতে হবে । কেউ
যদি কিছু বলে, তাহলেও
শান্ত থাকা উচিত ।
এমন নয় যে, তাদেরকে
আরো দুটো কথা শুনিয়ে
দেওয়া উচিত । কেউ
যদি কাউকে দুঃখ দেয়, তাহলে
বাবা তো তাকে বোঝাবেন,
তাই না । বাচ্চারা
তো বাচ্চাদের বলতে পারে না
। নিজের হাতে আইন নেওয়া
উচিত নয় । কোনোকিছু
হলে বাবার কাছে আসা উচিত
। গভর্নমেন্টেরও নিয়ম আছে যে
- কেউই একে অপরকে ঘুসি
পর্যন্ত মারতে পারবে না । অভিযোগ
জানাতে পারে । আইনের
ব্যবহার করা গভর্নমেন্টের কাজ
। তোমরাও গভর্নমেন্টের কাছে যাও ।
নিজের হাতে আইন নিও
না । এ তো
হলো নিজেদের ঘর, তাই বাবা
বলেন যে, রোজ কাছারি
বসাও । এও বোঝে
না যে - শিববাবা নির্দেশ
দেন । বাবা বলেছেন
যে, সবসময় মনে করো, শিববাবাই
শোনাচ্ছেন । এমন মনে
করো না যে, ব্রহ্মা
শোনাচ্ছেন । সবসময় যদি
শিববাবার কথাই মনে করো,
তাহলে তাঁর স্মরণ থাকবে
। শিববাবা তোমাদের জ্ঞান শোনানোর জন্য এই রথ
নিয়েছেন । সতোপ্রধান হওয়ার
পথ বাবাই তোমাদের বুঝিয়ে বলছেন । তিনি হলেন
গুপ্ত । তোমরা হলে
প্রত্যক্ষ । যেই নির্দেশ
পাও, মনে করো তা
শিববাবার, তাহলে তোমরা সুরক্ষিত থাকবে । তোমরা শিবকেই
'বাবা - বাবা' বলে ডাকো ।
উত্তরাধিকারও তোমরা তাঁর থেকেই পাও
। তাঁকে কতো সম্মান দিয়ে
এবং রয়্যাল ভাবে চলা উচিত
। তোমরা বলো না যে
- বাবা, আমরা তো লক্ষ্মী
- নারায়ণ হবো । তারপর
সেকেণ্ড - থার্ড হবো, সূর্যবংশী যদি
না হই তাহলে চন্দ্রবংশী
হবো । এমন তো
নয় যে, আমরা দাস
- দাসী তৈরী হবো ।
প্রজা হওয়া তো ভালো
নয় । তোমাদের তো
এখানে দৈবী গুণই ধারণ
করতে হবে । আসুরী
চলন হওয়া তো উচিত
নয় । নিশ্চয় না
থাকলে বসে বসেই বলে
দেয় - এনার মধ্যে যে
শিববাবা আসেন, আমরা তো বুঝতে
পারি না । মায়ার
ভূত এলে নিজেরা এমন
কথা বলে দেয় ।
আসুরী স্বভাবের মানুষ যখন নিজেদের মধ্যে
মিলিত হয়, তখন এমন
কথা বলতে থাকে, মুখ
থেকে আসুরী কথাই নির্গত হয়
। বাবা বলেন যে,
তোমরা আত্মারা রূপ - বসন্ত তৈরী হও ।
তোমাদের মুখ দিয়ে রত্ন
নির্গত হওয়া উচিত ।
যদি পাথর নির্গত হয়,
তাহলে তো আসুরী বুদ্ধির
হয়ে গেলে ।
বাচ্চারা
গীতও শুনেছে । বাচ্চারা বলে
- বাবা প্রেমের সাগর, সুখের সাগর । শিববাবারই
মহিমা । বাবা বলেন,
তোমরা নিজেকে আত্মা মনে করে বাবাকে
স্মরণ করো । এতে
অনেক ভালো ভালো বাচ্চা
ফেল করে যায় ।
দেহী - অভিমানী স্থিতিতে টিকতে পারে না ।
দেহী - অভিমানী হবে, তবেই এতো
উঁচু পদ পাবে ।
অনেক বাচ্চা অপ্রয়োজনীয় কথায় সময় অপচয়
করে । জ্ঞানের কথাই
তাদের খেয়ালে আসে না ।
এমনও মহিমা আছে যে - ঘরের
গঙ্গার মানও রাখে না
। ঘরের জিনিসের এতো
মান করে না ।
যদিও তাদের ঘরে কৃষ্ণ আদি
দেবী - দেবতার চিত্র আছে, তবুও তারা
শ্রীনাথ দ্বার ইত্যাদি এতো দূরে দূরে
কেন যায় ! শিবের মন্দিরেও আছে পাথরের লিঙ্গ
। পাহাড় থেকে পাথর বের
করে তা ঘসে ঘসে
লিঙ্গ তৈরী করা হয,
সেখানে কোনো কোনো পাথরে
সোনাও লাগানো থাকে । বলা
হয় সোনার কৈলাস পর্বত । সোনা তো
পাহাড় থেকে বের হয়,
তাই না । তাই
অল্প সোনা লাগানো পাথরও
বের হয়, আর তা
খুব সুন্দর গোলাকার হয়ে যায়, সেইসব
তখন বিক্রি করে । মার্বেলেরও
সুন্দর লিঙ্গ তৈরী করে ।
এখন ভক্তিমার্গের মানুষদের যদি বলো যে,
তোমরা বাইরে - বাইরে কেন এতো বিভ্রান্ত
হও, তখন তারা বিগড়ে
যাবে । বাবা নিজে
বলেন - বাচ্চারা, তোমরা অনেক অর্থ অপচয়
করেছো । এও এই
ড্রামারই অংশ যে, তোমাদের
ধাক্কা খেতেই হয় । এ
হলো জ্ঞান আর ভক্তির খেলা
। বাচ্চারা, এখন তোমরা সম্পূর্ণ
জ্ঞান পেয়েছো । জ্ঞান হলো
সুখের রাস্তা । জ্ঞান থেকেই
সত্যযুগের রাজত্ব পাওয়া যায় । এই
সময় রাজা - রানী আর প্রজা,
সকলেই নরকের মালিক । যখন কেউ
মারা যায়, তখন বলে যে
স্বর্গবাসী হয়েছেন । এই কথা
এখন তোমরা বুঝতে পারো । তোমরা
এখন বলো, আমরা স্বর্গবাসী
হওয়ার জন্য স্বর্গের স্থাপনকারী
বাবার কাছে বসে আছি
। আমরা জ্ঞানের বিন্দু
পাই । অল্প জ্ঞানও
যদি কিছু শোনো, তাহলেও
অবশ্যই স্বর্গে চলে আসবে, বাকি
পুরুষার্থের উপর নির্ভর করে
। মানুষ মনে করে এক
ঘটি গঙ্গাজল মুখে ঢাললে পতিত
থেকে পবিত্র হওয়া যায় ।
তারা ঘটি ভরে গঙ্গাজল
বাড়ীতে নিয়ে যায়, তারপর এক এক ফোঁটা
জলে মিলিয়ে স্নান করে । সে
যেন গঙ্গাস্নান হয়ে গেলো ।
বিলেতেও গঙ্গাজল ভরে নিয়ে যায়
। এ সবই হলো
ভক্তি ।
বাবা
বাচ্চাদের বোঝান - বাচ্চারা, মায়া অনেক জোরে
থাপ্পড় লাগায়, বিকর্ম করিয়ে দেয় তাই কাছারি
বসাও, নিজেই নিজের কাছারি করা ভালো ।
তোমরা নিজেদের নিজেই রাজতিলক দাও, তাই নিজেদের
পর্যবেক্ষণ করতে হবে ।
তমোপ্রধান থেকে সতোপ্রধান হতে
হবে । বাবা শ্রীমৎ
দেন যে, এমন - এমন
করো, দৈবীগুণ ধারণ করো ।
যা করবে, তাই পাবে ।
তোমাদের তো খুশীতে রোমাঞ্চিত
হয়ে যাওয়া উচিত । তোমরা
অসীম জগতের পিতাকে পেয়েছো, তাই তাঁর সেবায়
সাহায্যকারী হতে হবে ।
অন্ধের লাঠি হতে হবে
। যতো বেশী হতে
পারবে, ততই নিজের কল্যাণ
হবে । বাবাকে তো
প্রতি মুহূর্তে স্মরণ করতে হবে ।
নেষ্ঠাতে (ধ্যানে) এক জায়গায় বসার
কোনো কথা নয় ।
তোমাদের চলতে - ফিরতে স্মরণ করতে হবে ।
তোমরা ট্রেনেও সেবা করতে পারো
। তোমরা যে কোনো কাউকেই
জিজ্ঞেস করতে পারো যে,
উঁচুর থেকেও উঁচু কে? তাঁকেই
স্মরণ করো । তোমরা
তাঁর থেকেই উত্তরাধিকার পাবে । আত্মা
বাবার থেকে অসীম জগতের
উত্তরাধিকার পায় । কেউ
দান - পুণ্য করার কারণে রাজার
ঘরে জন্ম নেয়, তাও
অল্পকালের জন্য । সদা
তো রাজা থাকতে পারবে
না । বাবা তাই
বলেন, এখানে তো ২১ জন্মের
জন্য গ্যারেন্টি । ওখানে একথা
জানতেই পারবে না যে, অসীম
জগতের বাবার থেকে উত্তরাধিকার নিয়ে
এসেছি । এই জ্ঞান
যখন তোমরা এই সময় পাও
তাই কতো ভালোভাবে পুরুষার্থ
করা উচিত । পুরুষার্থ
যদি না করো তাহলে
নিজের পায়ে কুড়াল মারবে
। আর চার্ট যদি
লিখতে থাকো তাহলে ভয়
থাকবে । কেউ - কেউ
এমনও লেখে যে বাবা
দেখলে কি বলবে? চালচলনে
অনেক তফাৎ থাকে ।
তাই বাবা বলেন যে,
এই গাফিলতি ত্যাগ করো । নাহলে
অনেক অনুতাপ করতে হবে ।
পরের দিকে অবশ্যই নিজের
পুরুষার্থের সাক্ষাৎকার হবে, তখন অনেক
কাঁদতে হবে । কল্প
- কল্প এই উত্তরাধিকারই পাবে
যে, গিয়ে দাস-দাসী
হবে । আগে তো
ধ্যানে (সূক্ষ্ম লোকে) গিয়ে তোমরা শোনাতে
যে - অমুকে দাসী, অমুকে এই । তারপর
বাবা সব বন্ধ করে
দিয়েছেন । বাচ্চারা, ভবিষ্যতে
তোমাদের আবার সাক্ষাৎকার হবে
। সাক্ষাৎকার ছাড়া কিভাবে সাজা
ভোগ করবে । এমন
নিয়মই নেই ।
বাচ্চাদের
অনেক যুক্তি সহকারে বোঝানো হয় যে, তোমরা
তোমাদের পতিদের বলো যে, কাম
হলো মহাশত্রু । একে জয়
করো । মায়াজিৎ - জগৎজিৎ
হও । এখন আমি
স্বর্গের মালিক হবো, নাকি তোমাদের
কারণে অপবিত্র হয়ে নরকে যাবো
। অনেক ভালোবেসে এবং
নম্রতার সঙ্গে বোঝাও । আমাদের নরকে
কেন ধাক্কা দিচ্ছো? এমন অনেক বাচ্চা
আছে যারা বোঝাতে বোঝাতে
পতিকেও নিয়ে আসে । তখন
পতি বলে, এ আমার
গুরু, এ আমাকে খুব
ভালো পথ বলে দিয়েছে
। তখন বাবার সামনে
এসে তাঁর পায়ে পড়ে
। কখনো জিৎ, কখনো
আবার হারও হয়ে যায়
। তাই বাচ্চাদের খুবই
মিষ্টি হতে হবে ।
যারা সেবা করবে তারাই
প্রিয় হবে । ভগবান
বাবা বাচ্চাদের কাছে এসেছেন, তাই
তাঁর শ্রীমতে চলতে হবে ।
শ্রীমৎ অনুযায়ী যদি না চলে
তাহলে ঝড় এলে ভেঙ্গে
পড়ে যায় । এমনও
আছে - তারা আর কি
কাজের হবে । এই
পড়া কোনো সাধারণ পড়া
নয়, আর সব সৎসঙ্গ
আদিতে তো আছে - কানরস,
যাতে অল্পকালের সুখ পাওয়া যায়
। এই বাবার কাছে
তো ২১ জন্মের সুখ
পাওয়া যায় । বাবা
হলেন সুখ - শান্তির সাগর - আমাদেরও বাবার থেকে সেই উত্তরাধিকার
পেতে হবে । সেবা
করবে, তাহলেই তো পাবে, তাই
সর্বদা ব্যাজ পড়ে থাকো ।
আমাদের এমন সর্বগুণ সম্পন্ন
হতে হবে । আমাদের
পর্যবেক্ষণ করতে হবে যে,
আমরা কাউকে দুঃখ দিই না
তো? আসুরী চলনে চলি না
তো? মায়া এমন কাজ
করিয়ে দেয় যে, সেকথা
আর জিজ্ঞেস করো না ।
খুব ভালো ভালো ঘরের
যারা তারাও বলে যে - মায়া
এই বিকর্ম করিয়ে নিলো । কেউ
সত্য কথা বলে, আর
কেউ সত্য কথা না
বলার কারণে শতগুণ দণ্ড ভোগ করে
। এরপর এই অভ্যাসও
বৃদ্ধি পেতে থাকবে ।
বাবাকে শোনালে বাবা সাবধান করে
দেবেন । বাবা বলেন
যে, পাপ করে থাকলে
তা রেজিস্টারে লেখো, আর বলে দাও,
তাহলে তোমরা পাপ থেকে অর্ধেক
মুক্ত হয়ে যাবে ।
যদি না শোনাও আর
লুকাতে থাকো, তাহলে সেই পাপ করতেই
থাকবে । তখন অভিশপ্ত
হয়ে যায় । না
বললে একবারের বদলে একশো বার
করতে থাকবে । বাবা কতো
ভালো রায় দেন কিন্তু
কারোর - কারোর তো এতটুকুও প্রভাব
পড়ে না । নিজের
ভাগ্যকে যেন পদাঘাত করতে
থাকে । অনেক বেশী
ক্ষতি করে দেয় ।
অন্তিম সময় সকলের সাক্ষাৎকার
হবে যে, এই - এই
তৈরী হবে, ক্লাসে যখন
ট্রান্সফার হয় তখন তো
নম্বর বের হয় ।
ট্রান্সফার হওয়ার পূর্বে নম্বর বের হয় ।
তোমরাও যখন নিজের ক্লাসে
যাও, তখন রেজাল্টও জানতে
পারবে, তখন খুব জোরে
কাঁদতে থাকবে । তখন আর
কি করা যাবে? রেজাল্ট
তো বের হয়ে গেছে,
তাই না । যা
ভাগ্যে ছিলো তাই নিয়ে
নিয়েছো । বাবা সমস্ত
বাচ্চাদেরই সাবধান করেন । তোমাদের
কর্মাতীত অবস্থা এখন হতে পারবে
না । কর্মাতীত অবস্থা
হয়ে গেলে তখন তো
শরীর ত্যাগ করতে হবে, এখন
কিছু না কিছু বিকর্ম
বাকি আছে, হিসাব - নিকাশ
আছে, তাই সম্পূর্ণ যোগ
লাগে না । এখন
কেউই বলবে না যে,
আমি কর্মাতীত অবস্থায় আছি । কর্মাতীত
অবস্থার কাছাকাছি গেলে অনেক নিদর্শন
দেখা যাবে । সমস্তকিছুই
তোমাদের অবস্থার উপর আর বিনাশের
উপর নির্ভর করে । তোমাদের
এই পাঠ সম্পূর্ণ হলে
দেখবে, লড়াই শিয়রে উপস্থিত
। আচ্ছা ।
মিষ্টি
- মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা - পিতা, বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত
। আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মারূপী
বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার ।
ধারণার
জন্যে মুখ্য সারঃ-
১ )
মায়ার বশীভূত হয়ে কোনো আসুরী
চলনে চলবে না ।
নিজের আচার-আচরণের রেজিস্টার
রাখতে হবে । এমন
কোনো কর্ম ক'রো
না, যাতে অনুতাপ করতে
হয় ।
২ )
অত্যন্ত ভালোবাসা আর নম্রতার সাথে
সেবা করতে হবে ।
তোমাদের মিষ্টি হতে হবে ।
মুখ থেকে কোনো আসুরী
কথা বের করবে না
। খুব ভালোভাবে সঙ্গের
সুরক্ষা রাখতে হবে । শ্রীমৎ
অনুসারে চলতে হবে ।
বরদানঃ-সংগঠিতরূপে একরস স্থিতির অভ্যাসের
দ্বারা বিজয়ের নাগাড়া বাজিয়ে এভারেডি ভব
বিশ্বে
বিজয়ের নাগাড়া তখন বাজবে যখন
সকলের সব সংকল্প এক
সংকল্পে সমাহিত হয়ে যাবে। সংগঠিতরূপে
যখন এক সেকেন্ডে সবাই
একরস স্থিতিতে স্থিত হয়ে যাবে তখন
বলা হবে এভারেডি। এক
সেকেন্ডে একমত, একরস স্থিতি আর
এক সংকল্পে স্থিত হওয়ার লক্ষণ আঙুল দেখানো হয়েছে,
যে আঙুলের দ্বারা কলিযুগী পর্বত উঠে যায়, এইজন্য
সংগঠিতরূপে একরস স্থিতি বানানোর
অভ্যাস করো তবেই বিশ্বে
শক্তিসেনার নাম সুপ্রসিদ্ধ হবে।
স্লোগানঃ-শ্রেষ্ঠ পুরুষার্থে ক্লান্তি আসা - এটাও হলো আলস্যের
লক্ষণ।
অব্যক্ত ঈশারা :- স্বয়ং আর সকলের প্রতি
মনের দ্বারা যোগের শক্তিগুলির প্রয়োগ করো
তোমরা
নিজেদের আত্মিক দৃষ্টির দ্বারা নিজের সংকল্পগুলিকে সিদ্ধ করতে পারো। লৌকিকের
ঋদ্ধি-সিদ্ধি হল অল্পসময়ের জন্য
আর স্মরণের বিধি দ্বারা সংকল্প
আর কর্মের সিদ্ধি হল অবিনাশী। তারা
ঋদ্ধি-সিদ্ধির ব্যবহার করে আর তোমরা
স্মরণের বিধি দ্বারা সংকল্প
আর কর্মের সিদ্ধি প্রাপ্ত করো।
No comments:
Post a Comment